Categories
Sports

স্টিফেন অ্যান্থনি বাকনর।

৩১ মে, ১৯৪৬ সালে জ্যামাইকার মন্টেগো বে এলাকার জন্মগ্রহণকারী সাবেক ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আম্পায়ার। ক্রিকেট জগতে তিনি স্টিভ বাকনর নামেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক থেক

Get the kotha app

৩১ মে, ১৯৪৬ সালে জ্যামাইকার মন্টেগো বে এলাকার জন্মগ্রহণকারী সাবেক ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আম্পায়ার। ক্রিকেট জগতে তিনি স্টিভ বাকনর নামেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক থেকে ক্রীড়াজগতে কোচ হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবল রেফারী এবং ক্রিকেট আম্পায়ার ছিলেন। ব্যাপকভাবে সম্মানিত এই আম্পায়ার ভয়ঙ্কর আঙুল উত্থাপনের আগে আলতোভাবে মাথা ঘোরানোর বৈশিষ্ট্য’র কারণে, “স্লো ডেথ বাকনর” নিকনেইম পেয়েছিলেন। তিনি ২০০২ সালে ডিকি বার্ডের ৬৬টেস্টে আম্পায়ারিংয়ের রেকর্ড ভাঙ্গার পর ২০০৫ সালে প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ১০০ টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের রেকর্ডও নিজের করে করেন।

বাকনর আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৭৮ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে। ২২১টি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট ম্যাচে আম্পায়ারিং করার পর ১৯৮৮ সালে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে আম্পায়ারিং শুরু করেন এবং এর একবছর পর স্টিভ বাকনরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক ঘটে ১৮ মার্চ, ১৯৮৯ সালে এন্টিগায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা পরিচালনার মাধ্যমে। এরপর ২৮ এপ্রিল-৩ মে, ১৯৮৯ সালে জ্যামাইকার কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে টেস্ট আম্পায়ারিংয়ে অভিষিক্ত হন । মাত্র ৪টেস্ট ও ১ ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারিং করার পরই অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আম্পায়াররূপে মনোনীত হন। তেমন অভিজ্ঞতা না থাকা স্বত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের ব্রায়ান অলড্রিজকে সাথে নিয়ে মূল ম্যাচে আম্পায়ারের গুরুদায়িত্ব পালন করেন।। এছাড়াও তিনি ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আম্পায়ার ছিলেন। তন্মধ্যে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিজ দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সবকটি বিশ্বকাপের ফাইনালেই তিনি আম্পায়ারিং করেছিলেন।

২০১১ সাল অবধি অবসর নেওয়ার কথা না থাকায় তাঁর ক্যারিয়ার আরও বাড়ানো যেত, তবে তাঁর শেষ বছরগুলিতে শাস্তিযুক্ত কাজের চাপ তার অবসরের পদক্ষেপ নিতে শুরু করে এবং কয়েকটি বড় ধরনের ত্রুটির মাধ্যমে নিজের নির্দোষ খ্যাতিকে কলঙ্কিত করেছিল। ভুল ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কম নয়, যার কারণে এপ্রিল ২০০৭ এ বিশ্বকাপের ফাইনালে আম্পায়ারিং করার পর তার ক্যারিয়ার শেষের পথে এসে দাঁড়ায় এবং সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তাকে স্থগিত করে দেয় আইসিসি । পরের মাসগুলিতে বিষয়গুলি ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে দ্বিতীয় টেস্টে ভারতকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরে পার্থে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার তৃতীয় টেস্টে তাকে আইসিসি কর্তৃক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেন যে, মার্চ ২০০৯ থেকে স্টিভ বাকনর আম্পায়ার হিসেবে আর মাঠে উপস্থিত থাকবেন না অর্থাৎ খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। তার সর্বশেষ আম্পায়ারিং টেস্ট ম্যাচ ছিল কেপ টাউনে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ৩য় টেস্টটি। একদিনের আন্তর্জাতিকে তার সর্বশেষ পদচারণা ঘটেছে ২৯ মার্চ, ২০০৯ তারিখে বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ৪র্থ ওডিআইয়ে। এর মাধ্যমেই তার বর্ণাঢ্য ২০ বছরের আম্পায়ারিং জীবনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। তার চূড়ান্ত আম্পায়ারিং টেস্ট খেলা শুরুর পূর্বে আইসিসি কতৃক পুরস্কার প্রদান করা হয়। খেলার শুরুতে সকল স্তরের দর্শক এবং খেলোয়াড়গণ দাঁড়িয়ে তার প্রতি সশ্রদ্ধ অভিনন্দন ও সম্মাননা প্রদান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সর্বশেষ আম্পায়ারিং ম্যাচে তার সুদীর্ঘ ২০ বছরের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের স্মরণীকা বিশাল টেলিভিশনের পর্দায় উপস্থাপন করা হয়।

ক্যারিয়ারঃ 
বাকনর ১৯৮৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ১২৮টি টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন। 
এই সময়ে তিনি সর্বমোট ১৮১টি ওয়ানডে ম্যাচেও আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯২ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৫টি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বমোট ৪৪টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আম্পায়ার, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি বিশ্বকাপ ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের বিরল রেকর্ড!
আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংয়ে অভিষেকের আগে ১৯৮৮ সাল থেকে মোট ১৭২টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন তিনি৷ 
এছাড়াও ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি সর্বমোট ২২১টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন।

এর আগে ষাটের দশকে জ্যামাইকান পারিশ লীগে ফুটবল গোলকিপিং করতেন। এছাড়াও ১৯৮৮ সালে তিনি ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের একটি ম্যাচে মূল রেফারির দায়িত্ব পালন করেন।

অর্জনসমূহঃ
স্টিভ বাকনরের রয়েছে প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ৫টি বিশ্বকাপে আম্পায়ারিংয়ের বিরল রেকর্ড, যার মধ্যে সবকটি বিশ্বকাপেরই ফাইনালে তিনি আম্পায়ার ছিলেন!
স্টিভ বাকনর প্রথম আম্পায়ার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে শত ম্যাচ আম্পায়ারিং করার রেকর্ড করেন।
আলীম দার নিজের করে নেয়ার আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আম্পায়ার হিসেবে সর্বোচ্চ টেস্ট ম্যাচে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড তার দখলে ছিলো।
২০০২ সালে আইসিসির আম্পায়ারিং এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেন এই আম্পায়ার। 
২০০৭ সালে, বছরের সেরা আম্পায়ার লিস্টে নাম মনোনীত হয়েছিলো বাকনরের।
১০০ ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের জন্য তিনি আইসিসির পক্ষ থেকে ‘ব্রোঞ্জ বেইলস এওয়ার্ড’ লাভ করেন।
এরপর ১০০টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের জন্য তিনি আইসিসির পক্ষ থেকে ‘গোল্ডেন বেইলস এওয়ার্ড ‘ লাভ করেন। 
এছাড়াও ২০০৭ সালের অক্টোবরে ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘কমান্ডার ক্লাসে’ ‘অর্ডার অফ জ্যামাইকা ‘ বা ‘ওজে’ পদকে ভূষিত হন।

৬ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক সফল ও প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ার আজ পা দিলেন ৭৪ বছরে।
৭৪তম জন্মদিনে রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।

শুভ জন্মদিন স্টিভ বাকনর।

Reviewer : Argha Majumder.

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *