Categories
Sports

বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেক ম্যাচ

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার দুই দশক মানে ২০ বছর পূর্ন হলো।
২০ বছর ধরে টেস্ট খেলা বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত ১১৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে! যার মধ্যে জয় পেয়েছে ১৪টি টেস্ট ম্যাচে যার ৭টিই জিতেছে জিম্

Get the kotha app

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার দুই দশক মানে ২০ বছর পূর্ন হলো।
২০ বছর ধরে টেস্ট খেলা বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত ১১৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে! যার মধ্যে জয় পেয়েছে ১৪টি টেস্ট ম্যাচে যার ৭টিই জিতেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে! ড্র হয়েছে ১৬টি, হেরেছে ৮৯টি ম্যাচে।

টেস্টে বাংলাদেশের বড় অর্জন যদি বলেন তাহলে বলবো ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয়, একই সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়টি আমাদের বড় অর্জন টেস্ট ক্রিকেটে। ২০১৭ সালে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে জয় পেয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। টেস্ট এটাও আমাদের বড় প্রাপ্তি ছিল।

২৬ জুন ২০০০, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অভিষেক টেস্টে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলপতি নাইমুর রহমান দূর্জয়। অভিষেক টেস্টের এক্সাইটনেস থেকেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলপতি। তবে তার এই সিদ্ধান্ত যে খারাপ ছিল না বরং দুর্দান্তই ছিল সেটা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং দেখলেই বেশ বুঝা যায়।

বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংসের উদ্ভোদন করতে নামেন শাহরিয়ার হুসাইন ও মেহরাব হুসাইন! তবে দুই ওপেনার ক্রিজে থাকতে পারেন নি বেশীক্ষন! ৫০ রানের আগে দুইজনই ডাগআউটে চলে যান! তারপর হাবিবুল বাশার সুমন ও আমিনুল ইসলাম মিলে গড়েন ৬৬ রানের পার্টনারশিপ! ব্যাক্তিগত ৭১ রানে জাহির খানের দ্বিতীয় শিকার হোন হাবিবুল বাশার! বাশার ওই ম্যাচে দুর্দান্তই খেলছিলেন!আরো কিছুক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারলে তিনিই হয়তো হতে পারতেন দেশের ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।

বাশারের চলে যাওয়ার পর আকরাম খান! ব্যাক্তিগত ৩৫ রান করে আকরাম চলে যান প্যাভিলিয়নে! তারপর নতুন ব্যাটসম্যান আল শাহরিয়ার রুকনও টিকতে পারেন নি বেশীক্ষন ব্যাক্তিগত ১৫ রান করেই তিনি প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।

সুনিল জসির বলে একে একে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ক্যাপ্টেন নাইমুর রহমান দূর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট, রনজন দাসরা! তবে উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন আমিনুল ইসলাম! অজিত আগারকারের বলে আউট হওয়ার আগে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করে নেন আমিনুল ইসলাম। দেশের অভিষেক টেস্টেই তিনি হয়ে যান প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান! বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে ৪০০ রানে অলআউট হয়! আমিনুল ইসলাম করেন ১৪৫ রান।ভারতের সুনিল জুসি নেন ৫ উইকেট।।

ভারত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৯ রান! ভারতের পক্ষে কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির দেখা না পেলেও পঞ্চাশোর্ধ রান সৌরভ গাঙুলি, সুনিল জুসি ও সাদাগোপ্পান রামেশ! বাংলাদেশের পক্ষে ৬টি উইকেট নেন ক্যাপ্টেন নাইমুর রহমান দূর্জয়! মোহাম্মদ রফিক নিয়েছিলেন ৩টি উইকেট আর রনজন দাস ১টি উইকেট নেন।

বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে জাভাগাল শ্রীনাথ, সুনিল জুসি ও অজিত আগারকারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ! বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয়ে যায়! দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন। ভারতের শ্রীনাথ আর জসি নিয়েছিলেন ৩টি করে উইকেট! অজিত আগারকার ২ উইকেট ও জাহির খান নিয়েছিলেন ১টি উইকেট।

জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল মাত্র ৬৩ রান! দলীয় ১১ রানের মাথায় হাসিবুল ইসলাম শান্ত ভারতের প্রথম উইকেট নিলেও আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ৷ রাহুল দ্রাবিড় ৪১(৪৯)* রান ও শিব সংকর দাস ২২(৩৮) রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশ তাদের অভিষেক টেস্ট ম্যাচটি ৯ উইকেটের বিশাল ব্যাবধানে হেরেছিল! অভিষেক টেস্টে দলের প্রাপ্তি ছিল আমিনুল ইসলামের সেঞ্চুরি ও ক্যাপ্টেন নাইমুর রহমান দূর্জয়ের ৬ উইকেট।

ভারতের পক্ষে দুই ইনিংসে বল হাতে ৮ উইকেট ব্যাট হাতে ৯২ রান করে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছিলেন সুনিল জুসি।

অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশ একাদশঃ- শাহরিয়ার হুসাইন বিদ্যুৎ, মেহরাব হুসাইন, হাবিবুল বাশার সুমন, আমিনুল ইসলাম, আল শাহরিয়ার রুকন, আকরাম খান, খালেদ মাসুদ পাইলট, নাইমুর রহমান দূর্জয়(ক্যাপ্টেন), মোহাম্মদ রফিক, হাসিবুল ইসলাম শান্ত ও রনজন দাস। 

Reviewer: Argha Majumder.

Kotha : https://link.kotha.app/app/user/preview/34bh5smnf

Instagram: https://instagram.com/argha_majumder_?igshid=wdz8tvrovx0

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *