Categories
Sports

“সনাৎ জয়সুরিয়া” ওয়ানডে ইতিহাসের বিধ্বংসী একজন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের নাম।

১৯৯৬ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে জয়সুরিয়ার অবদান ছিল অনবদ্য। টুর্নামেন্টে ২২১ রানের পাশাপাশি ৭ উইকেট নিয়ে “মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট” নির্বাচিত হয়েছিলেন জয়সুরিয়া

Get the kotha app

১৯৯৬ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে জয়সুরিয়ার অবদান ছিল অনবদ্য। টুর্নামেন্টে ২২১ রানের পাশাপাশি ৭ উইকেট নিয়ে “মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট প্লেয়ার অব দ্যা টুর্নামেন্ট” নির্বাচিত হয়েছিলেন জয়সুরিয়া।

১৯৮৯ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে অভিষেক হওয়া জয়সুরিয়া শ্রীলঙ্কার হয়ে ১১০ টেস্ট, ৪৪৫ ওয়ানডে এবং ৩১ টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলে সর্বমোট ২১,০৩১ রানের পাশাপাশি ৪৪০ উইকেট শিকার করেন। শুধুমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩,৪৩০ রান করেন জয়সুরিয়া। ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে শচীন, সাঙ্গাকারা এবং পন্টিংয়ের পর চতুর্থ সর্বোচ্চ রান এটি। আমার দেখা একজন সেরা ফিল্ডার ছিলেন জয়সুরিয়া। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সর্বমোট ২০৫টি ক্যাচ নিয়েছেন এই লংকান কিংবদন্তি।

এছাড়া শ্রীলঙ্কার হয়ে ১৫৬ ম্যাচে (৩৮ টেস্ট, ১১৮ ওয়ানডে) অধিনায়কত্বও করেছেন এই সাবেক অল-রাউন্ডার। তার ক্যাপ্টেন্সির আন্ডারে শ্রীলঙ্কার সেরা সাফল্য আসে ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির এই ইভেন্টে ভারতের সাথে যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয় শ্রীলঙ্কা।

জয়সুরিয়ার অনবদ্য কয়েকটি রেকর্ডঃ

★রোশন মহানামার সাথে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপের রেকর্ডধারক হলেন সনাৎ জয়সুরিয়া। ১৯৯৭ সালের আগস্টে কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে রোশনের সাথে ৫৭৬ রানের এই জুটি গড়েন জয়সুরিয়া।

★শ্রীলঙ্কার হয়ে একদিনের ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও তার দখলে। ২০০০ সালের ২৯শে অক্টোবর শারজায় ভারতের বিপক্ষে ১৮৯ রানের এক ম্যারাথন ইনিংস খেলে এই রেকর্ড গড়েন জয়সুরিয়া।

★ওয়ানডে ইতিহাসে রোহিত, গেইল, গাপটিলরা ডাবল সেঞ্চুরি করলেও, পরপর দুই ইনিংসে ১৫০+ রানের রেকর্ড এখনও জয়সুরিয়ার দখলে। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে লিডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৯ বলে ১৫২ এবং আমস্টারডামে হল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৪ বলে ১৫৭ রানের ইনিংস দু’টি খেলে এই রেকর্ড গড়েন জয়সুরিয়া।

★জয়সুরিয়া চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে এক ওভারে ৬টি চারের মারের রেকর্ড গড়েন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ক্যান্ডিতে ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসে জিমি এ্যান্ডারসনের ওভারে এই রেকর্ড গড়েন জয়সুরিয়া।

★একদিনের ক্রিকেটে উদ্বোধনী জুটিতে চতুর্থ সর্বোচ্চ পার্টনারশিপের রেকর্ড রয়েছে জয়সুরিয়া এবং উপুল থারাঙ্গার। ২০০০ সালের ১লা জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী উইকেটে ২৮৬ রানের জুটি গড়েন এই দু’জন।

★একদিনের ক্রিকেট ইতিহাসে ১০,০০০ রান এবং ৩০০ উইকেট নেয়া একমাত্র ক্রিকেটার জয়সুরিয়া।

★একদিনের ক্রিকেটে ৪ বার ১৫০+ রান এবং ৪ বার ৫ উইকেট শিকারীর তালিকায় একমাত্র ক্রিকেটার জয়সুরিয়া।

★একদিনের ক্রিকেটে ডি ভিলিয়ার্সের পর দ্রুততম অর্ধশত রান করেন শ্রীলঙ্কান এই সাবেক ওপেনার। সিঙ্গাপুরে ১৯৯৬ সালের ৭ই এপ্রিল, সিঙ্গার কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বলে অর্ধশত করে রেকর্ড গড়েন জয়সুরিয়া। সেদিন মাত্র ২৮ বলে ৭১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি।

★টেস্ট ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড জয়সুরিয়ার। ২০০১ সালে কলম্বোতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮১ বলে সেঞ্চুরি করে এই রেকর্ড গড়েন জয়সুরিয়া।

★একদিনের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কার হয়ে দ্রুততম ১৫০ রানের রেকর্ডটিও তারই দখলে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে ৯৫ বলে ১৫০ রান পূর্ণ করেন তিনি।

সনাৎ জয়সুরিয়া ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও, ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে থাকেন। এরই মাঝে ২০১০ সালে মাতারার জন্য শ্রীলঙ্কার সংসদ সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হলে ভক্তদের কাছে কিছুটা সমালোচিত হন।

অবসরের পর ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে জয়সুরিয়া শ্রীলঙ্কা টিমের সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্ত হন। তারই নির্বাচিত শ্রীলঙ্কান দল বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৪ আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়।

৫১ বছর আগে আজকের এই দিনটিতে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-উপকূলের নিকটবর্তী শহর মাতারায় জন্মগ্রহন করেন বাঁহাতি অন্যতম সেরা এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।

“হ্যাপি বার্থডে লিজেন্ড”

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *