Categories
Books

বই নিয়ে কথা “বেলা ফুরাবার আগে”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৯

#বুক_রিভিউ

বেলা ফুরাবার আগে
লেখকঃআরিফ আজাদ
প্রকাশনাঃ সমকালীন প্রকাশন
পৃষ্ঠাঃ ১৮৭
মুদ্রণ মূল্যঃ২৮৭ টাকা।

লেখক আরিফ আজাদ পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে থাক

Get the kotha app

রিভিউ নাম্বারঃ ১৯

#বুক_রিভিউ

বেলা ফুরাবার আগে
লেখকঃআরিফ আজাদ
প্রকাশনাঃ সমকালীন প্রকাশন
পৃষ্ঠাঃ ১৮৭
মুদ্রণ মূল্যঃ২৮৭ টাকা।

লেখক আরিফ আজাদ পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে থাকছেন ঢাকায়। ২০১৭ সালে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ দিয়ে লেখকের ‘লেখকজীবন’ শুরু। এ পর্যন্ত মৌলিক, যৌথ, সম্পাদনা, ভূমিকা মিলে লেখকের ৮টি বই বেরিয়েছে।

[ একটা জীবন অবলীলায় অবহেলায় কেটে যাবে
ভুল আর ভ্রান্তির বেড়াজালে
একটা জীবন আমগ্ন ডুবে রবে
এমনটা হতে দেওয়া যায় না।
জীবনের গতিপথ ভুলে
একটা জীবন ভীষন বেপরোয়া হয়ে
ভুল স্রোতে ভুল পথে বাঁক নেবে
এমনটা হতে দেওয়া যায় না।

বেলা ফুরাবার আগে
আজ তবে ফেরা হোক নীড়ে… ]

বইয়ের প্রথমে লেখকের দেওয়া কবিতার এ টুকরো অংশটুকু পড়লে বইটা পড়ার গুরুত্ব বাড়বে। উপলব্ধি হবে বইয়ের ভেতরের কন্টেন্ট নিয়ে। বইটা যে জীবনের কথা বলবে, সেটা কবিতাংশ থেকে প্রতীয়মাণ!

যারা বইটি পড়ার জন্য কিনেছেন, কিন্তু পড়েন নি, তারা ধীরস্থির ভাবে, সময় নিয়ে বইটা পড়ুন। হাতে সময় নিয়ে বইটা পড়ুন। নীরবে, কোলাহল মুক্ত পরিবেশে বইটা পড়ুন।পড়ার পর মনে হবে,ইশ্ আগে কেন বইটা পড়লাম না!

ছোট বেলায় কাজী নজরুল ইসলামের, ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ কবিতাটি কতশতবার পড়েছি মনে আছে?
‘আমি যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে।কিংবা সূয্যিমামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে’ কথাগুলোর মানে কি একবারও বুঝেছিলাম!
সূয্যিমামার আগে উঠে আমাদের সালাত আদায় করতে হয়।সুবহে সাদিকের আগে উঠে রাব্বুল আলামিনের দারস্থ হতে হয়।এসব আজও কেউ আমাদের মাথায় ঢুকিয়েছিল!

আরো বলেছেন আমার প্রিয়,বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র,’হুমায়ূন আহমেদ’ এর কথা।লিখেছেন নুহাশপল্লীর নিজের অভিজ্ঞতার কথা।হুমায়ূন আহমেদ যেন এক ছোটখাটো সর্গ নিজের জন্য তৈরি করে রেখে গিয়েছেন,নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী লিচু বাগানের শ্বেত পাথরের গাথায় চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। কি পান নি তিনি!
এতো সুন্দর দুনিয়ায় সর্গন্যায় নুহাশপল্লী যদি এতো সুন্দর হয়,তবে আপনার আমার মালিক,আসমান-জমিন, সমস্ত ভ্রম্মান্ডের মালিক যে জান্নাতের কথা বলেছেন, সে জান্নাত কত সুন্দর হতে পারে! ভেবেছি কি কখনো!

এসব পড়ে আমার মনে হয়েছিল,একঘেয়েমি বইগুলা যেন পড়ছিনা,আমি একসাথে বাংলা সাহিত্য,ইসলামিক ইতিহাস, আল্লাহর কথা সবটায় পড়ছি।কি নেই এই বইতে!

আরিফ ভাই ‘সাজিদ’ দিয়ে ইসলামি সাহিত্যে বিপ্লবের সূচনা করেছেন। বিপ্লবটা ছিল ইসলামের উপর আরোপিত অভিযোগ এবং ভ্রান্ত অপবাদের নিরসনে উপযুক্ত দালিলিক জবাব। এরপর সে পথে হেঁটেছেন ডা. শামছুল আরেফিন, আরিফুল ভাই, জাকারিয়া মাসূদ ভাই, শাকিল হোসাইন ভাই, মিনার ভাই সহ আরো কয়েকজন ভাই। আল্লাহ সেই পথে বারাকাহ ঢেলে দিয়েছেন। এখন তো দেশের সাহিত্যঙ্গনে রাজত্ব করছে ইসলামপন্থী লেখকরা। আল্লাহ এদের লেখনীতে বারাকাহ দান করুক, অন্তরে খুলসিয়্যাত দান করুক। (১)

আরিফ ভাইয়ের মৌলিক বইগুলো ছিল ভ্রান্ত অভিযোগ নিরসনে উপযুক্ত জবাব। কিন্তু এবারের বইটা ভিন্ন। এটা পুরোদমে প্রবন্ধ স্টাইলে ‘আত্ম উন্নয়নমূলক’ বই। কোন গল্পের বই না, ‘সাজিদ’ সিরিজের মত বই না। ‘সাজিদ’ হওয়ার খসড়া পত্র এটা। (২)

বইয়ের অধ্যায়গুলোতে প্রথমে জগতে বিদ্যমান কিছু সমস্যার উদাহরণ টানা হয়েছে, তারপর নবী জীবন, সাহাবাজীবন, তাবেঈদের জীবন এবং সালাফদের জীবন থেকে শিক্ষনীয় ঘটনা টানা হয়েছে জাগতিক সমস্যাগুলোর সাথে মিল রেখে। এরপর জাগতিক সমস্যা এবং ইতিহাস থেকে নেওয়া উদাহরণগুলোর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে আলোচনা করা হয়েছে সমস্যা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে। একজন যুবকের হতাশা থেকে বেরিয়ে, তার রবের দিকে ফিরে যাবার আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে প্রাসঙ্গিক কোরআনের আয়াত থেকে।

পুরো বই পড়ে আমার সামনে বইয়ের কিছু আলোচ্য বিষয় এসেছে। যেমন ধরুনঃ
১. বইয়ের প্রথমে ‘সাবরে জামিলের’ প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

২. হতাশ না হয়ে তওবা করা,’কেননা,বেলা এখনো ফুরিয়ে যায়নি’।

৩. ‘সালাত’ সচেতনতা এবং সালাতের গুরুত্ব উপলদ্বি। সালাতের হেয়ালিপনা থেকে জাগ্রত হবার উল্লেখ আছে।

৪. অধিকভাবে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া, তার কাছে সবসময় মিনতি করা।নবী রাসুলগণ সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন।আমরা কেন করিনা! আমরা কেন মুহুর্তেই হতাশ হয়ে পরি।কেন রাব্বুল আলামিনের কাছে মন খুলে আমরা চাইতে পারিনা।
কি কি চাইতে হবে লিস্ট করে আজকেই তার কাছে চাওয়ার যে বাসনা তা খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে।যা একটি মানুষের জন্য যথেষ্ট।

৫. শত ব্যস্ততায় আমরা বিভোর।জাগতিক সব কিছুর রুটিন আমরা করি, সকল রুটিনের মধ্যে মৃত্যুর কোন রুটিন নেই। আমাদেরকে ‘মৃত্যুপ্রস্তুতি’ এবং ‘বিচারদিবসের’ প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রস্তুতির জন্য কি কি প্রয়োজন তা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৬.এতো বছর শুনে এসেছি,আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) এর জান্নাত থেকে বের করে দেয়ার।এখানে যথাযথ তথ্য দিয়ে সে ঘটনা উল্লেখ করা আছে।

৭.আপনার জীবনে এমন এক শত্রুর সাথে,যার চাইতে বড় শত্রু আপনার জন্য আর কেউ নেই।
সেই শত্রু, ‘শয়তান’কে আপনার সামনে তুলে ধরা হয়েছে’।তার থেকে কিভাবে বাঁচবেন তা উল্যেখ করা হয়েছে।

৮. সবমিলিয়ে নিজেকে প্র্যাক্টেসিং, প্রোডাক্টিভ এবং নবী আদর্শের আলোকে নিজেকে প্রমান করাই ছিল বইয়ের মূল মেসেজ এবং লেখকের উদ্দেশ্য।

বইটা আমার কাছে সুখপাঠ্য হওয়ার আরেকটা কারন হলো, লেখক লেখাগুলোতেঃ
– বানান ভুল নেই বললেই চলে
– খুব সুন্দর,সাবলীলভাবে উপস্থাপন
– প্রমিত বানানরীতি অনুসরন
– সাধুভাষা অনুসরন এবং
– বাংলা শব্দের যথাযথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। যা বইটিকে অনন্য উচ্চতায় তুলে নিয়েছে।
যেখানে আজ বড় বড় কথিত লেখকদের বইয়ে বানান ভুল চোখে পড়ার মতো সেখানে,’বেলা ফুরাবার আগে’ বইটিতে বানান ভুল নেই বললেই চলে।

কিছু অধ্যায় আমার কাছে মনে হয়েছে বার বার পড়ার মতোঃ “আমার এত দুঃখ কেন, বলো সুখ কোথা পাই, জীবনের ইঁদুর-দৌড় কাহিনি,চোখের রোগ,বেলা ফুরাবার আগে, সালাতে আমার মন বসেনা,তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো, যুদ্ব মানে শক্রু-শত্রু খেলা, মেঘের ওপার বাড়ি, আমি হব সকাল বেলার পাখি, তুলি দুই হাত করি মোনাজাত,”।

যে একটা জিনিস খারাপ লেগেছে,
🔴বইটা ‘পেপারব্যাক’ কোয়ালিটির।বইয়ের প্রচ্ছদ ‘হার্ডকভার’ হওয়া উচিত ছিল। কারণ বইটি পাঠকদের বারবার পড়তে হবে।একবার পড়ে রেখে দেয়ার মতো বই অন্তত এটা না। পরবর্তীতে প্রকাশক এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখবেন বলে আমার আশাবাদ।

বইটা আমার কাছে লেখকের দিক থেকে পরিপূর্ণ মনে হয়েছে। লেখক নিজের শ্রমের, মেধার, গবেষণার কোন কমতি রাখেন নি। এ জন্যেই বইটি সর্বমহলে এতো প্রশংসা কুড়িয়েছে।

(নোটঃ১.২ কালেক্ট)

*আমি মনে করি,বইয়ের নামকরন ‘বেলা ফুরাবার আগে’ সার্থক হয়েছে। কেন সার্থক হয়েছে, সেটা বইটি পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন। আমার ইচ্ছে তো করছে পুরো বইটিই পারলে লিখে দিই। সর্বপরি,আপনি রিভিউ ও বলতে পারেন কিংবা আলোচনা!

ব্যক্তিগত রেটিং ৯.৯/১০

ব্যক্তিগত অভিমতঃ বইটি পড়ে আপনার মাঝে এক আমুল পরিবর্তন হবে তা নিশ্চিত বলে দিতে পারি। যদি না হয়,তবে আপনি সেসব মানুষদের অন্তর্ভুক্ত, যারা ‘অন্ধকার নিকষকালো এক গুহায় তলিয়ে গেছে,দূরে এক আলো ঝলমল করছে অথচ সেই আলোর দিকে যাচ্ছেনা।তারা একঘেয়েমি করে মিথ্যে সেই অন্ধকারের দিকেই যাচ্ছে।আনছে ডেকে নিজের বিপদ’।চলুন বদলায়.. আলোর দিকে ফিরে যাই।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আরিফ আজাদ ভাইকে উত্তম জাজাকাল্লাহ দান করেন। আল্লাহ যেন তাকে কবুল করেন।

হ্যাপি রিডিং!

📝 Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *