Categories
Books

বই নিয়ে কথা “ত্রি”

রিভিউ নাম্বারঃ ২৫

ত্রি। তিনটে সায়েন্স ফিকশন। রিটেন বাই হুমায়ুন আহমেদ। ছোটবেলায় সায়েন্স ফিকশন বলতেই জাফর ইকবাল বুঝতাম। পড়ার নেশা হয়ে গিয়েছিল। একের পর এক গোগ্রাসে গিলেছিলাম জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন

Get the kotha app

রিভিউ নাম্বারঃ ২৫

ত্রি। তিনটে সায়েন্স ফিকশন। রিটেন বাই হুমায়ুন আহমেদ। ছোটবেলায় সায়েন্স ফিকশন বলতেই জাফর ইকবাল বুঝতাম। পড়ার নেশা হয়ে গিয়েছিল। একের পর এক গোগ্রাসে গিলেছিলাম জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন আর কিশোর উপন্যাসগুলো। যেকোনো কারণেই হোক, হুমায়ুন আহমেদকে আমি তুলনামূলক কমই পড়েছি। অন্তত জাফর ইকবালের চেয়ে কম তো বটেই। তাই প্রথমবার হুমায়ুনীয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীপাঠের অভিজ্ঞতা কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছে বৈকি!

ত্রি। “ইমা”, “ইরিনা”, “মানবী”__ হুমায়ুন স্যারের তিনটি সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থের সংকলন। ক্রিটিসাইজ করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা কোনোটাই আমার নেই। ইমা’র শুরুতে লেখক নিজেই একরকম ক্রিটিসাইজ করে দিয়েছেন :

“আমার ছোটভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফিরেই মহা-উৎসাহে সায়েন্স ফিকশন লেখা শুরু করেছে। বাধ্য হয়েই আমাকে এজাতীয় লেখা বন্ধ করতে হয়েছে কারণ তার মতো সুন্দর করে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আমি লিখতে পারি না। আমার সব বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী শেষপর্যন্ত মানবিক সম্পর্কের গল্প হয়ে দাঁড়ায়___ বিজ্ঞান খুঁজে পাওয়া যায় না।”

তিনটে বইই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর তিনটি কাল্পনিক সময়কে ঘিরে লেখা। যেখানে বিজ্ঞানের অস্বাভাবিক অগ্রযাত্রা মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহে নানাবিধ পরিবর্তনের জন্ম দিয়েছে।
এম্নিতেই হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসগুলোর মূল উপাদান হয়ে থাকে কল্পনা। তার কল্পনার তৈরি জগতেই গড়ে ওঠে একেকটা গল্প, একেকটা চরিত্র। কাল্পনিক সব চরিত্র আর কাহিনীতেই বুঁদ হয়ে থাকে পাঠকেরা। আর টপিকই যখন সায়েন্স ফিকশন, কল্পনার আরো অবাধ সুযোগ। তাই হুমায়ুন আহমেদের সেই কাল্পনিক সৃষ্টির স্বাদ এখানে আরো অধিক উৎকর্ষতা লাভ করেছে।

তিনটে বইয়ের কাহিনীর একটা কমন প্লট হল, মানবসৃষ্ট শক্তিশালী মহাকম্পিউটার “সিডিসি”র উপস্থিতি আর সিডিসিকতৃক সারাবিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।

“মানবী” এবং “ইরিনা” বই দুটাতেই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর দুইরকম কাল্পনিক আইন ও সরকারব্যবস্থা দেখানো হয়েছে।

সবচে ইন্টারেস্টিং ছিল “ইরিনা” বইটা। যারা পড়েছেন বুঝে থাকবেন, তিন স্তরের শহরব্যবস্থা এবং হাতেগোণা কয়েকজন অমর বিজ্ঞানীর নিজস্ব আইনে পৃথিবীর শাসন, জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা একটা বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমিতকরণ___ পড়ার শুরু থেকেই এই কনসেপ্ট টার রূপক বক্তব্য আমি অনুভব করছিলাম। আর বইয়ের শেষদিকে ধর্মগ্রন্থের কথা উঠে আসায় আমার ধারণা পুরোপুরি নিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয়।

সবশেষে বলব গতানুগতিক সাহিত্য সমালোচনায় হুমায়ুন আহমেদের লেখা নিয়ে বিতর্কের অন্ত না থাকলেও বাংলা সাহিত্যে তার গদ্যের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য। সাথে উপভোগ্যতা আর জনপ্রিয়তার হিসেবে হুমায়ুন আহমেদ আগে থেকেই সম্রাট।

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

#HappyReading

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *