Categories
Bangla Tradition

ঐতিহ্যের অক্ষরে বোনা পোশাকের গল্প

ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি মানুষের দুর্বার আকর্ষণ মজ্জাগত। আর এই আকর্ষণ সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে। পরিধেয় পোশাক সংস্কৃতির একটি অংশ বিধায় এটি খুব সহজেই আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তাই ফ্যাশন

Get the kotha app

ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি মানুষের দুর্বার আকর্ষণ মজ্জাগত। আর এই আকর্ষণ সংস্কৃতির সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে। পরিধেয় পোশাক সংস্কৃতির একটি অংশ বিধায় এটি খুব সহজেই আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তাই ফ্যাশন ডিজাইনরাও বর্তমান সময়ের চাহিদা পূরণে ঝুঁকছেন অভিনব ও ভিন্নতায়। ফলশ্রুতিতে আধুনিক ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে তারা বেছে নিচ্ছেন আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন আদিবাসী পোশাককে। যার উজ্জ্বল রঙ ও বুনন কৌশল সহজেই সবার নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছে। বাংলাদেশের কয়েকটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলো-

◾ চাকমা পোশাক

দেশের সর্ববৃহত্ আদিবাসী চাকমা সম্প্রদায়ের মেয়েদের পরিধেয় পোশাক দুটি অংশে বিভক্ত। একটি ‘পিনন’ এবং অপরটি ‘খাদি’। শরীরের নিম্নাংশের পোশাককে বলে পিনন। যা দেখতে অনেকটা সেলাইবিহীন লুঙ্গির মতো। এটি সূক্ষ্ম সুতো ও কমর তাঁত দিয়ে তৈরি হয় এই পোশাক। এ পোশাকের বামদিকের নকশা সমৃদ্ধ অংশকে বলে ‘চাবুকি’। অন্যদিকে, শরীরের ওপরের অংশের বক্ষবন্ধনী পোশাকটি খাদি নামে পরিচিত। এ খাদি আবার দু-ধরনের ‘রাঙ্গাখাদি’ ও ‘চিবিকটানা খাদি’। রাঙ্গাখাদিতে বিভিন্নরকমের নকশা ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইন থাকলেও চিবিকটানা খাদিতে কোনো নকশা থাকে না।

চাকমা ছেলেদের পোশাকে তেমন কোনো বৈচিত্র্যতা নেই। ছেলেরা নিজস্ব বুননের শার্ট, ধুতি, ফতুয়া, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি পরে। আর বিয়ের সময় মাথায় এক ধরনের কাপড় পেঁচিয়ে রাখে। চাকমা ভাষায় যা ‘হবং’ নামে পরিচিত। তবে বর্তমানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আধুনিক পোশাক হিসেবে অনেকেই প্যান্ট, স্যুট, টাইও পরে।

◾ গারো পোশাক
গারো মহিলাদের প্রাচীন পোশাক ‘গেনা’। সেলাই বিহীন গেনা কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন রঙের সুতোয় ডোরাকাটা নকশায় সমৃদ্ধ। তবে বর্তমানে গারো মেয়েদের সচরাচর পরিধেয় পোশাক হচ্ছে ‘আনফেং’ ও ‘দকমান্দা’। দকমান্দার ওপরের অংশে ব্লাউজ বা টপস পরা হয় এবং তার সাথে ওড়না ব্যবহার করা হয়। বয়স্ক নারীরা দকমান্দার পাশাপাশি দকসারি পরে, যেখানে কোনো হাতের কাজ থাকে না এবং দেখতে সাদামাটা কাপড়ের। ছেলেরা লুঙ্গির মতো যে পোশাক পরে তার নাম ‘গেন্না’, তবে তা লুঙ্গি থেকে খাটো। অলঙ্কার হিসেবে গারোরা ‘রিকমাচু’ নামের এক ধরনের মালা পরে।

◾ মারমা পোশাক
মারমা মেয়েদের প্রধান পোশাক ‘থামি’ বা ‘থুবুই’। ‘বেদাই আঙ্গি’ নামের বক্ষবন্ধনীর নিচে এ থামি পরা হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক থামিতে কারুকার্যে রঙ ও নকশার বৈচিত্র্য থাকে। উত্সবে তারা পোশাকের সাথে সাজ-গোজ ও বিভিন্নরকমের খোপা বাঁধতে পছন্দ করে। তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘খাগ্রো’ ব্যবহার করে। তবে বর্তমানে মারমা মেয়েদের আরাকান পোশাকেও অভ্যস্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

মারমা পুরুষরা পকেটযুক্ত কলারবিহীন শার্টের সাথে মোটা কাপড়ের লুঙ্গিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর বিশেষ দিবসে লুঙ্গির ভেতর শার্ট ইন করে পরা হয়। বর্তমানে তারা ট্রাউজার, স্যুটও পরিধান করে।

◾ মণিপুরী পোশাক
মণিপুরী মেয়েদের পোশাকের দুটি অংশ। নিচের অংশ ‘লাঙৌ’ এবং ওপরেরট অংশ ‘ইন্নাফি’। হাতে বোনা পুরো পোশাকটিকে ‘আঙালুরি’ বলে। ইন্নাফিতে সূক্ষ্ম সুতোর কাজ করা থাকে। কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে লাঙৌয়ের পরিবর্তে ‘চাকচাবি’ পরা হয়, যাতে অপেক্ষাকৃত বেশি কারুকাজ থাকে। মণিপুরী নারীদের ব্যবহূত ব্লাউজ ‘ফুরিত’। মণিপুরীরা ব্লাউজের কাপড় নিজেরাই তাঁতে বুনে থাকে। বিয়ে বা উত্সবে ব্যবহূত পোশাক সূক্ষ্ম সুতোয় বোনা হয় এবং তাঁতে রেখেই কারুকাজ করা হয়। মণিপুরী বিয়ের পোশাকে থাকে ‘পল্লই’ ও ‘ইন্নাফি’। আর মাথায় থাকে ‘লেইতেরেং’। মেয়েদের নৃত্যে উজ্জ্বল রঙের কারুকাজময় যে পোশাক সেইটা ‘পল্লই’ নামে পরিচিত।

‘বাংলার ঐতিহ্যের কথা’কে কিছু জানাতে এবং জানতে পারসোনাল প্রোফাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *