Categories
Invention

প্রথম নোবেল জয়ী নারী ‘মারি ক্যুরি’ এবং রেডিয়াম আবিষ্কারের কথা।

রেডিয়াম হচ্ছে একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক মৌল পদার্থ। এই মৌলিক পদার্থের পারমানবিক সংখ্যা ৮৮। এর মাধ্যমে প্রথম পারমানবিক শক্তি সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে।

ফরাসি বৈজ্ঞানিক বেকেরেল একদিন ধাতু ইউরেনিয়ামের এ

Get the kotha app

রেডিয়াম হচ্ছে একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক মৌল পদার্থ। এই মৌলিক পদার্থের পারমানবিক সংখ্যা ৮৮। এর মাধ্যমে প্রথম পারমানবিক শক্তি সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে।

ফরাসি বৈজ্ঞানিক বেকেরেল একদিন ধাতু ইউরেনিয়ামের একটি অংশ লবণ দিয়ে পরীক্ষা করার সময় লক্ষ্য করলেন ওই লবণ থেকে এক প্রকার অদৃশ্য রশ্মি বের হয় যা অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করে যেতে পারে। তিনি দেখেছিলেন এই অদৃশ্য রশ্মি একটা কালো কাগজে মোড়া ফটোগ্রাফির প্লেটের উপরও বিক্রিয়া করে। কোনো রশ্মির ভেদ ক্ষমতা সম্পর্কে এটাই সম্ভবত প্রথম আবিষ্কার। এই ব্যাপারটি কুরি দম্পত্তির গোচরে আনলেন বেকেরেল। তাঁরা অন্য গবেষণা ছেড়ে এই সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করলেন। এসময় তাঁরা স্থিরও করলেন এই বিষয়টিকে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার কাজে গবেষণার বিষয় হিসেবে নিবেন।

গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন মারি কুরি। একসময় পিচব্লেডের ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় মেরি নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন মাস গবেষণাগার ছেড়ে বিশ্রাম নিলেন। ১৮৯৭ সালে মেরির প্রথম সন্তান আইরিনের জন্ম হল। সন্তান জন্মের পর কিছুদিন গবেষণা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখলেন। আবার আইরিনের বয়স কয়েক মাস হতেই গবেষণাগারে কাজে আবার স্বামীর সঙ্গী হলেন মারি। ১৮৯৮ থেকে ১৯০২ সাল এই ৪৫ মাস অমানসিক পরিশ্রম করলেন স্বামী-স্ত্রী। আট চালার নিচে তাঁর স্বামী নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিমগ্ন থাকলেন।

প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন পিচব্লেডের মধ্যে শতকরা একভাগ অন্তত অদৃশ্য বস্তুটি পাওয়া যাবে। এখন সে সব চিন্তা কোথায় হারিয়ে গেল। নতুন পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা এত বেশি যে অশোধিত আকারের মধ্যে তার অতি সামান্য পরিমাণে উপস্থিতিও সত্যিই বিস্ময় জাগাত। মূল আকারের সঙ্গে এমন অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে যে, সেই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জিনিসটি উদ্ধার করাই হল কঠিন কাজ। দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছর গড়িয়েই যেতে লাগল। কিন্তু পিয়ের-মেরি হতাশ হলেন না- সেই অদৃশ্য পদার্থ তাঁদের মুগ্ধ করেছে। শেষ পর্যন্ত সাধনায় জয়ী হলেন পিয়ের-মেরি দুজনে। একটির পরিবর্তে দুটি নতুন মৌল পদার্থ আবিষ্কার করলেন। একটি নিজের দেশ পোলান্ডের নাম অনুসারে পলেনিয়াম এবং অন্যটি নাম রাখা হল রেডিয়াম।

মারি ক্যুরি ১৯০২ সালের ২৮ মার্চ বিবরণ পেশ করে বলেন রেডিয়ামের পারমানবিক ভর ২২৫.৯ যা বর্তমান মান ২২৬.০২ থেকে খুব বেশি কম নয়। তারা এই ক্লোরাইড যৌগ থেকে রেডিয়াম পৃথক করেছিলেন। মারি ক্যুরি এবং তার সহগবেষক এ ডেবিয়ের্নে ০.১০৬ গ্রাম রেডিয়াম ক্লোরাইড বিশিষ্ট দ্রবণকে তড়িৎ বিশ্লেষণ করেন। এর ফলে পারদসঙ্কর হিসেবে পারদ ক্যাথোডে রেডিয়াম সঞ্চিত হয়। পারদসঙ্করটিকে লোহার পাত্রে নিয়ে হাইড্রোজেন। প্রবাহিত করা হয় এবং একই সাথে উত্তপ্ত করা হয়। এতে সঙ্কর ধাতু থেকে পারদ মুক্ত হয়ে পাত্রের তলায় রূপার ন্যায় সাদা চকচকে ধাতুর মত জমা হয়। আর বিশুদ্ধ রেডিয়াম পৃথক হিসেবে পাওয়া যায়।

এই রেডিয়ামের আবিষ্কার বিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য সাফল্যসমূহের একটি। পদার্থের ধর্ম এবং গঠন বিষয়ে মানুষের সম্যক ধারণা অর্জনে রেডিয়াম অগ্রগণ্য। তাছাড়া এই মৌলটি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই প্রথম পারমানবিক শক্তির ধারণা আসে।

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *