Categories
Career

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

শিল্পায়ননির্ভর এ সময়ে যে কয়েকটি পেশাকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ধরা হয়, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তাদের মধ্যে একটি। একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রের ডিজাইন, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে

Get the kotha app

শিল্পায়ননির্ভর এ সময়ে যে কয়েকটি পেশাকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ধরা হয়, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তাদের মধ্যে একটি। একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রের ডিজাইন, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকেন।

এক নজরে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

সাধারণ পদবী: মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
বিভাগ: ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳৩০,০০০ – কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২৫ বছর
মূল স্কিল: যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান, সিস্টেম ডিজাইনে পারদর্শিতা
বিশেষ স্কিল: প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কোথায় কাজ করেন?

বিদ্যুৎ খাত থেকে শুরু করে গ্যাসকূপ খনন, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, রড-সিমেন্টের কারখানা, এমনকি পানিশোধনাগারগুলোতে পর্যন্ত একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কাজ করতে পারেন।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা মূলত বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের টারবাইন, অল্টারনেটর ও জেনারেটরের নকশা, সংযোজন, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকেন। এছাড়া তারা বিমানের ইঞ্জিন, কমবাশ্চন ইঞ্জিন, এয়ারকন্ডিশনিং মেশিন ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদন কারখানার মান নিয়ন্ত্রণ ও কমিশনিংয়ের কাজ করেন।

বড় ছাপাখানা, সমরাস্ত্র কারখানা, টাকশাল, গ্যাস ও তেল খনন কূপের জন্য নিয়োজিত কিংবা শোধনের জন্য ব্যবহৃত ভারি যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কী ধরনের কাজ করেন?

যে কোন খাতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সাধারণ দায়িত্বের মধ্যে পড়েঃ

যন্ত্রপাতির নকশা বানানো;

কারখানার চাহিদা অনুসারে স্বল্প খরচে সর্বাধিক কর্মদক্ষতার যন্ত্রাংশ নির্মাণ করা;

ভারী যন্ত্র স্থাপন (Installation), কমিশনিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করা;

প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাব ও বাজেট প্রণয়নে সহায়তা করা।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ১-২ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

চাকরিদাতারা আশা করেন যে, একজন এন্ট্রি লেভেলের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ভালোভাবে জানবেন। সে লক্ষ্যে আপনার থার্মোডিনামিক্স, সলিড মেকানিক্স, ফ্লুইড মেকানিক্স, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এবং কন্ট্রোল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এতে আপনি সিস্টেম ডিজাইনে পারদর্শী হয়ে উঠবেন।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনার বেসিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যবহৃত গণিত আর পরিসংখ্যানে দক্ষতা থাকা উচিত। পাশাপাশি কিছু সফটওয়্যারের (যেমনঃ SolidWorks, AutoCAD, MATLAB) কাজ জানা থাকলে আপনি চাকরির বাজারে আরো গ্রহণযোগ্যতা পাবেন। এখানে উল্লেখ্যযোগ্য আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, আপনি যদি ছাত্র থাকা অবস্থায় কোন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করতে পারেন, তাহলে তা চাকরিদাতাকে আপনার ব্যাপারে আরো আগ্রহী করে তুলবে। এর কারণ হলো, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কিছুটা হ্যান্ড-অন এক্সপেরিয়েন্স ব্যবহারিক কাজের জ্ঞান থাকা জরুরি।

নন-টেকনিক্যাল জ্ঞানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –

সৃজনশীল উপায়ে ও যৌক্তিকভাবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা;

বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে সাহায্য করতে পারে;

অন্যদের সাথে কাজ করার মানসিকতা থাকা;

বিভিন্ন ধরনের কাজ একসাথে সামলানোর দক্ষতা;

বড় কারখানায় ভারি যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকা।

কোথায় পড়বেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং?

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর বিএসসি ডিগ্রি নিতে পারেন। আবার ডিপ্লোমা কোর্সেও পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া বাংলাদেশে বহু সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে, যেখানকার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু কারখানা ও শিল্পাঞ্চলে কাজ পেতে সাহায্য করবে।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয় কেমন?

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলীদের বেতন শুরু হয় ৳৩২,০০০ থেকে। পদোন্নতির সাথে এর পরিমাণ সাথে বাড়তে থাকে। তবে অধিকাংশ বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান সরকারি মালিকানাধীন লিমিটেড কোম্পানি হয়ে যাওয়াতে সেখানে সম্পূর্ণ নিজস্ব স্কেলে বেতন দেয়া হয়, যা ৳৫২,০০০ থেকে শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, বিনা অভিজ্ঞতায় এসব চাকরিতে যোগ দেয়া গেলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

বিনা অভিজ্ঞতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চিনি, তামাক, চামড়া, খাদ্য উৎপাদন কারখানা, ব্যাংক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৳৩৫০০০- ৳৪০,০০০ মাসিক বেতনে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ আছে।

অভিজ্ঞতা, কারিগরি যোগ্যতা আর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের বেসরকারি খাতে ২ লক্ষ টাকা আয় করারও নজির আছে। পাশাপাশি সরকারি প্রকৌশলীদের জন্য কনসাল্টেন্সি করে বৈধ পন্থায় মাসে লক্ষাধিক টাকা আয়ের সুযোগ আছে এ পেশায়।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলে দক্ষতা অনুসারে নির্দিষ্ট সময় পর পদোন্নতি পেয়ে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আরোহণ করা সম্ভব।

সরকারি খাতে সহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে প্রধান প্রকৌশলী কিংবা বেসরকারি খাতে হেড অফ অপারেশন বা চিফ অপারেটিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পাওয়া মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ক্যারিয়ার লক্ষ্য হতে পারে। এছাড়া বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, ব্যাংক আর সিভিল সার্ভিসেও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *