Categories
History

বর্গী।

“খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো, বর্গি এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিব কিসে?”

বর্গির আক্রমণে তটস্থ ছিল বাংলা, সেই আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে। বর্গী বলতে সেই মারাঠারা, লুটতরাজ আর হত্যার ধ্বংসযজ্ঞে এই

Get the kotha app

“খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো, বর্গি এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিব কিসে?”

বর্গির আক্রমণে তটস্থ ছিল বাংলা, সেই আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে। বর্গী বলতে সেই মারাঠারা, লুটতরাজ আর হত্যার ধ্বংসযজ্ঞে এই বাংলাকে পরিণত করেছিল এক মৃত্যুপুরীতে। নবাব আলীবর্দি খানের সময়ে, টানা দশটা বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছে এই মারাঠারা, নবাবের বাহিনী যে ঠিক কতটা অসহায় ছিল বর্গিদের দ্রুততা ও নিষ্ঠুরতার সামনে, শেষে কিনা সন্ধি করে মেলে মুক্তি।
তো সেই বর্গীদের সময়। বাংলার ধনাঢ্য পরিবারগুলো বাড়িঘর ফেলে জানমাল নিয়ে সরে আসছে দক্ষিণে, জঙ্গলের দিকে। জঙ্গল বলতে, সুন্দরবন। আশ্রয় নিল জমিদার নীলকন্ঠের কাছে।

যশোরের চাঁচড়ার এই জমিদার দেখল, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ছাড়া এই আপদ থেকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না আসলে। এর জন্যে ভৈরব নদের তীরে বারোটা শিবমন্দির তৈরী হল, তাও এর কৃপায় যদি মুক্তি মেলে। অথচ মেলে নি। আগ্রাসী বর্গির থাবা থেকে বাঁচে নি কেউই।

অথচ মন্দির তো রইল, বারোটা, ভৈরবের তীর ঘেঁষে। বর্গি গেলে কি হবে? প্রমত্তা ভৈরব তো আছেই, একে একে এর গর্ভে নিল এগারোটা শিবমন্দির, শুধু রইলো বাকি। ধুলগ্রামের মন্দির। আজ গেছিলাম সেখানে। খুলনা ফুলতলা থেকে নদী পার হয়ে একটু ভেতরে।
কালী আর দুর্গা মন্দির দেখলাম নতুন, আর একটা জগন্নাথ মন্দির, বেশ পুরানো, খুব সুন্দর টেরাকোটা করা। শিবমন্দির পেলাম না, তবে একখানা ভেঙে পড়া মন্দির পেলাম। সেটিই কিনা, জানি না।

টেরাকোটার সেই জগন্নাথ মন্দির এত সুন্দর, এর ছাতে শিউলির গাছ অনেকগুলো। শিউলিকে এভাবে আগাছা হতে তো দেখিনি কখনো। টেরাকোটা খুঁটিয়ে দেখলাম, উটের অবয়ব পেলাম। তখনকার এই ভাটির অঞ্চলে উটের দেখা কিভাবে পেল, জানি না। একখানে দেখে মুঘল সৈন্য মনে হল, রণতূর্য, যুদ্ধের আবহ। শিকার, হুঁকোর নলে মুখ দিয়ে বিশ্রাম রাজার, গাভী থেকে দুধ দোয়ানো, কি নেই? তখনকার পরে আর হাত পড়েনি, অনেকখানিই ক্ষয়ে গেছে, তবু কি নিখুঁত আর সুন্দর! অবাক হয়ে তাকিয়ে রই।

এভাবে একটা অখ্যাত গ্রামে পড়ে আছে এত জাঁকালো এক স্থাপত্য, বিস্ময় কাজ করে। পাশে বহমান ভৈরব, সন্ধ্যের সময় যে কাউকে মুগ্ধ করে এর পাশে টেনে আনতে কি মোহই না তার! আকাশের রঙে এর জলে কি অদ্ভুত খেলা! স্রোত আর দিগন্ত ঝাপসা হয়ে পড়ে অঘ্রাণের কুয়াশার ভেতর।

রিভিউয়ার : মাহিম।
ছবি : ফেসবুক থেকে নেয়া।

আমাদের সাথে জয়েন হতে পারেন টেলিগ্রামে.

Telegram Channel link : t.me/itihasherkotha
Telegram Group Link : t.me/itihasherkothagroup

Personal Account :
Instagram :
www.instagram.com/_vipermahim_
Kotha : https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

Get the kotha app

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *