Categories
Invention

বাংলাদেশ থেকে নতুন চারটি উদ্ভিদ পেল বিশ্ব।

বিশ্বের উদ্ভিদকুলে চারটি নতুন নাম যোগ করেছে বাংলাদেশ। এর দুটি পাওয়া গেছে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া বনে। বাকি দুটির একটি বান্দরবানে, অন্যটি শেরপুরের বনভূমিতে আবিষ্কৃত হয়। চারটি উদ্ভিদই কচুজাতীয়।

বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা গত চার বছরে এই চার উদ্ভিদ আবিষ্কার করেন। এর বাইরে চার বছরে দেশের উদ্ভিদ প্রজাতির তালিকায়ও ১৫০টি নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দেশে সরাসরি জরিপের মাধ্যমে পাওয়া গেছে ৭৯টি। আর বাকি ৭১টির নাম পাওয়া যায় যুক্তরাজ্যের রয়েল বোটানিক গার্ডেনের সংগ্রহশালায়, যেটি কিউ হারবেরিয়াম নামে পরিচিত।

চার উদ্ভিদ আবিষ্কারে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের সাবেক পরিচালক হোসনে আরা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল হাসান। তাঁদের জরিপের ফল ২০১৮ সালে ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) হিসাবে, বিশ্বে প্রায় পাঁচ লাখ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার উদ্ভিদকে শনাক্ত করেছে কিউ হারবেরিয়াম। উদ্ভিদের প্রজাতি সংরক্ষণবিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের হিসাবে, দেশে ২০১৯ সাল পর্যন্ত উদ্ভিদের প্রজাতি ছিল ৩ হাজার ৮৪০টি। যদিও পরে আরও ১০টি উদ্ভিদ প্রজাতি আবিষ্কৃত হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশের উদ্ভিদের বৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নতুন উদ্ভিদগুলো আবিষ্কারে জরিপ দলের প্রধান সরদার নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বের খুব কম দেশেই এত অল্প স্থানে এত প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এর কারণ, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পলিবাহিত সমতল ভূমি, মিষ্টিপানির প্রবাহ, সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকা এবং পাহাড়ি এলাকার প্রতিবেশব্যবস্থা নিবিড়ভাবে রয়েছে। এর ফলে এখানে নানা ধরনের উদ্ভিদ জন্মে।

নতুন চার উদ্ভিদের একটির নাম রাখা হয়েছে আলোকেসিয়া হারাগানজেসিস। মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়ার হারাগঞ্জ সংরক্ষিত বনে এটি পাওয়া যায়। তাই ওই বনের নামেই উদ্ভিদটির নামকরণ করা হয়। অবশ্য হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বনেও এই উদ্ভিদ দেখতে পেয়েছেন গবেষকেরা। উদ্ভিদটির কয়েকটি চারা ঢাকার চিড়িয়াখানা সড়কে ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের বাগানে রোপণ করা হয়েছিল। কিন্তু বেশি দিন বাঁচেনি।

নতুন আবিষ্কৃত দ্বিতীয় উদ্ভিদটির নাম রাখা হয়েছে আলোকাসিয়া সালারখানি। এটিও মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া বনভূমি থেকে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস চর্চা, অর্থাৎ কোন উদ্ভিদ কোন প্রজাতির, তা নির্বাচন করার বিদ্যার জনক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মোহাম্মদ সালার খানের নামে এই উদ্ভিদটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশের এই বিজ্ঞানী ১৯৯৭ সালে মারা যান।

তৃতীয় উদ্ভিদটির নাম রাখা হয়েছে টাইফোনিয়াম ইলাটাম। এটি সংগ্রহ করা হয়েছে শেরপুর জেলার বনভূমি থেকে। বিজ্ঞানীরা চতুর্থ উদ্ভিদটির নাম দিয়েছেন কলোকাসিয়া হাসানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক আবুল হাসানের নামে এটির নামকরণ করা হয়, যিনি উদ্ভিদটি আবিষ্কারে থাকা গবেষক দলের অন্যতম সদস্য। এটিকে স্থানীয় ভাবে বলা হয়ে থাকে তিতা কচু। উদ্ভিদটি সংগ্রহ করা হয় বান্দরবান জেলার বনভূমি থেকে। তবে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে এই প্রজাতিটি দেখা গেছে। নতুন আবিষ্কৃত কচুজাতীয় চারটি উদ্ভিদই স্থানীয়ভাবে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বনভূমি ছাড়া নদী ও সাগরে প্রচুর উদ্ভিদ রয়েছে। সেখানে ভালো কোনো জরিপ হয়নি। ফলে দেশে প্রকৃতপক্ষে কত উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে, তা এখনো অজানা।

ঔপনিবেশিক আমলে বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ভিদ প্রজাতি সংগ্রহ করে ব্রিটিশরা বিরাট সংগ্রহশালা গড়ে তোলে। দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের কিউ হারবেরিয়ামের ভারতবর্ষ থেকে সংগ্রহ করা ২৫ হাজার প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গেছে সাত হাজার প্রজাতির বৃক্ষ।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের বিজ্ঞানীরা কিউ হারবেরিয়ামে বাংলাদেশ থেকে সংগৃহীত উদ্ভিদগুলোর একটি অংশ পরীক্ষা করতে পেরেছেন। এর মধ্যে তাঁরা ৭১টি উদ্ভিদ খুঁজে পেয়েছেন, যেগুলো সম্পর্কে কোনো তথ্য দেশের আগের কোনো জরিপ বা গবেষণায় পাওয়া যায়নি। এসব উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম রয়েছে। তবে কোনো স্থানীয় বা বাংলা নাম দেওয়া হয়নি। এই উদ্ভিদ আদৌ বাংলাদেশে রয়েছে কি না, না বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেই সমীক্ষা এখনো হয়নি। যুক্তরাজ্যের ওই সংগ্রহশালার পুরোটা অনুসন্ধান করলে আরও শতাধিক প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

অন্যদিকে দেশে ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের গবেষক দলটি দেশে জরিপ চালিয়ে যে ৭৯টি প্রজাতি খুঁজে পেয়েছে, তা ১৮টি উদ্ভিদ পরিবারের। এসব উদ্ভিদের ৭৫টি প্রজাতি দেশের তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পাওয়া যায়। বেশি (৮টি) প্রজাতি পাওয়া গেছে একানটেসেই বা বাসক পরিবারভুক্ত। এটি মূলত ঔষধি বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। এর পরেই রয়েছে ইউফরবিয়াসিস প্রজাতির। এই পরিবারের ছয়টি প্রজাতি পাওয়া গেছে।

বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসেন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া বনভূমি এমনিতেই সংরক্ষিত বন হিসেবে চিহ্নিত। সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের আমরা সংরক্ষণ করে থাকি। দেশে পাওয়া নতুন প্রজাতির উদ্ভিদগুলোর এলাকা চিহ্নিত করেও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের হিসাবে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩ হাজার ৮৩০টি উদ্ভিদের প্রজাতি ছিল। চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আরও দুটি প্রজাতির উদ্ভিদ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর বাইরে আরও কমপক্ষে আট প্রজাতির উদ্ভিদ আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। সেই হিসেবে বর্তমানে দেশে উদ্ভিদের প্রজাতি দাঁড়াবে ৩ হাজার ৮৪০টি।

অধ্যাপক জসিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সালার খান যে পাঁচ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদের কথা বলেছিলেন, তা বিস্তারিত জরিপ করলে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে সিলেটের উত্তরাঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সুন্দরবনে নিবিড় জরিপ চালাতে হবে। পাশাপাশি এসব উদ্ভিদ যাতে টিকে থাকে, সে জন্য প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণ করা জরুরি।

⚠️ তথ্যঃ প্রথম আলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

Categories
Invention

বৈদ‌্যুতিক গাড়ীর ব‌্যবসায়ী পৃ‌থিবীর নাম্বর ওয়ান ধনী!

বাংলা‌দে‌শের শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ ম‌নে ক‌রে বিদ‌্যুৎ চা‌লিত প্রাই‌ভেট কার প্রচলন কোন অবস্থায় সম্ভব নয়। আগামী ৫০ বছ‌রে হ‌বে কিনা তার উপরও সবার সংশয় আ‌ছে। তাহ‌লে বৈদ‌্যুৎ‌তিক কা‌রের ব‌্যবসায়ী এক নম্বর ধনী কিভা‌বে সম্ভব।

গত বছর ক‌রোনা কা‌লে জানা গেল ভার‌তের প্রথম ধনী মু‌কেশ আম্বানীকে ইলন মাস্ক না‌মের টেসলা কার ব‌্যবসায়ী অ‌তিক্রম ক‌রে‌ছে। তারপর শোনা গেল বিল গেটস‌কে অ‌তিক্রম ক‌রে‌ছে। জানুয়ারী ২০২১ সা‌লের প্রথ‌মে এ‌সে অ‌বিশ্বাস‌্য ঘটনা ঘটল ইলন মাস্ক না‌কি এক নম্বর ধনী। ৫ বছর আ‌গে এক বছ‌রে এক‌টি কোম্পানীর মাত্র ৬০০ ইউ‌নিট টেসলা কার বি‌ক্রি হয়। ৫ বছর আ‌গে ১০ জন ধনীর কাতা‌রেও ছিল না ইলন মাস্ক মাত্র ৫ বছর পর এক নম্বর ধনী।

একজন কার ব‌্যবসায়ী ২০২০ সা‌লে ঘোষণা ক‌রে সে পাঁচ লাখ বা অর্ধ মি‌লিয়ন ব‌ৈদ‌্যু‌তিক কার বানা‌বে। সবাই ভে‌বে‌ছিল এটা অসম্ভব। তে‌লের গাড়ীর ভালোবাসা ছে‌ড়ে ব‌্যাটারীর গাড়ী মানুষ কিন‌বে পাগ‌লের প্রলাপ সেটা সে বাস্তব ক‌রে‌ছে। তার স্বপ্ন ২০২৩ সা‌লে বিশ মি‌লিয়ন বা বছরে দুই কো‌টি কার ত‌ৈরি। স্বপ্ন‌কে স‌ত্যি কর‌তে চায়না, জার্মানী‌তে, টেক্সা‌সে ও ভার‌তে গিগা ফ‌্যাক্টরী ত‌ৈরি কর‌ছে। সাইবার ট্রাক বাজা‌রে না আস‌তেই এক নম্বর ধনী? সাইবার ট্রা‌কের আড়াই লা‌খের প্রি অর্ডার বাস্তবায়ন কর‌তে লে‌গে যা‌বে আ‌রো দুই বছর। মি‌লিয়ন মাইল ব‌্যাটারী টেক‌নোলজিও সম্পূর্ণ হয়নি তারপরও নম্বর ওয়ান ধনী?
সারা পৃ‌থিবীর সমস্ত গ্রি‌ডের গ‌িগা ব‌্যাটারী স্টো‌রেজ হ‌লে এবং ইউ‌রোপ ও আমে‌রিকার বেশিরভাগ বাড়ীর রু‌ফে টেসলা সোলার প‌্যা‌নেল আর বাড়ী‌তে বাড়ী‌তে টেসলা পাওয়ারওয়াল লাগা‌নো হ‌লে ইলন মা‌স্কে সম্পদ কোথায় পৌঁছা‌বে আল্লাহ মালুম।

আমার বিশ্বাস হ‌চ্ছে এক‌দিন স‌ত্যিই ইলন মাস্ক স্টার লিং‌কের মাধ‌্যমে সাড়া পৃ‌থিবীর সবাই‌কে সস্তায় স‌্যা‌টেলাইট ইন্টার‌নেট দিতে পার‌বে। স্পেসএক্স র‌কে‌টের মাধ‌্যমে মঙ্গলগ্রহে ৮০ হাজার মানু‌ষের কলোনীও বানা‌তে পার‌বে।

Categories
Invention

যন্ত্রণামুক্ত আত্মহত্যার যন্ত্র আবিষ্কার।

আত্মহত্যার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য বিশেষ যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন এক বিজ্ঞানী। যন্ত্রটির নাম ‘সার্কো’। যন্ত্রটি তৈরি করেছেন ৭২ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় উদ্ভাবক এবং চিকিৎসক ড. ফিলিপ নিৎশকে।

থ্রি-ডি প্রিন্টারে তৈরি এই যন্ত্রটি স্বেচ্ছামৃত্যুর ধরন পাল্টে দেবে বলে তিনি আশা করেন। এই যন্ত্রের সাহায্য কোনো কষ্ট ছাড়াই একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করতে পারবেন। যন্ত্রটি মূলত একটি সেলফ অপারেটেড গ্যাস চেম্বার।

নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডামে ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ‘ফিউনারেল ফেয়ার’ মেলায় আত্মহত্যা বা স্বেচ্ছামৃত্যুর সুযোগ করে দেবে এমন একটি যন্ত্র প্রকাশ করা হয়।

‘সার্কো’ নামটি এসেছে ‘সার্কোফ্যাগাস’ শব্দটি থেকে। পাথরের তৈরি অলঙ্কৃত কফিনকে সার্কোফ্যাগাস বলা হয়। কফিনের মতো এই যন্ত্রটি একটি স্ট্যান্ডের ওপর দাঁড় করানো আছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত আছে নাইট্রোজেনের একটি ক্যান।

ফিলিপ নিৎশকে জানিয়েছেন, স্বেচ্ছামৃত্যু চাইলে এই কফিনের ভেতরে শুয়ে একটি বোতাম চাপতে হবে। এতে কফিনের ভেতরটা নাইট্রোজেনে ভরে যাবে। প্রথমে একটু মাথা ঘোরার ভাব হবে। এরপর ঐ ব্যক্তি অচেতন হয়ে যাবেন এবং কিছু সময় পর মারা যাবেন।

তবে কেউ যদি শেষ মুহূর্তে কেউ যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন, তার জন্য একটি ইমার্জেন্সি এক্সিট উইন্ডোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উইন্ডোর গায়ে একটি বোতাম আছে যাতে চাপ দিলে উইন্ডো টি খুলে যাবে এবং ভেতরের ব্যক্তি বের হয়ে আসতে পারবেন।

ফিলিপ নিৎশকে নিজেকে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু এবং ‘যুক্তিযুক্ত আত্মহত্যার’ পক্ষে একজন কর্মী মনে করেন। ‘এক্সিট ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। যেখানে বলা হয় অসুস্থ এবং মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষের অধিকার রয়েছে নিজের মৃত্যু বেছে নেওয়ার। তিনি মনে করেন, স্বেচ্ছামৃত্যু এবং আত্মহত্যা দুটোই মানুষের অধিকার। এ কারণেই সার্কো তৈরি করেছেন তিনি।

সার্কো ইতিমধ্যে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। একে বাজে উদ্ভাবন আখ্যায়িত করে বিশেষজ্ঞরা বলেন এটি আত্মহত্যাকে প্ররোচিত করবে।

Categories
Invention

হঠাৎ কেন এতো জনপ্রিয় ‘বিপ’?

তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে ভাবেন বা নিত্যকার অ্যাপ সমন্ধে আপডেটেড থাকেন এমন মানুষ মাত্রই বাংলাদেশে ‘বিপ’ অ্যাপ ডাউনলোডের হিড়িকের কথা জানেন। ‘বিপ’ নিয়ে এখন নানা প্রকার আলোচনায় মুখর তরুণ প্রজন্ম।
বিভিন্ন তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে তুরস্কের অ্যাপ ‘বিপ’ এখন অনেকে দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তুরস্কের ম্যাসেজিং অ্যাপ বিপ। বিভিন্ন তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় হঠাৎ বিপ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বাংলাদেশে এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।

‘বিপ’র জনপ্রিয়তার কারণঃ
দুটি কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিপ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে থাকতে পারে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, প্রাইভেসি নিয়ে মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন। বাংলাদেশেও প্রাইভেসি গুরত্ব দেওয়া হয়। সেজন্য অনেকে বিপ ডাউনলোড করে থাকতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান হোয়াটসঅ্যাপ ছেড়ে বিপ ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়ার কারণে একটা প্রভাব পড়তে পারে। এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে।

অ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এখানে সিক্রেট চ্যাট করার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোন ব্যবহারকারী যদি নির্দিষ্ট সময় পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ মুছে দিতে চান, তাহলে সে অনুযায়ী সময় সেট করা যাবে।
তুরস্কের পত্রিকা ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে, হোয়াটস অ্যাপ প্রাইভেসি পলিসি পরিবর্তন করার কথা ঘোষণা করার পর থেকে প্রতিদিন ২০ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে বিপ।

Categories
Invention

নিজের ফোনটিই বানিয়ে ফেলুন সিসিটিভি ক্যামেরা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিজেদের সুরক্ষায় সিসি ক্যামেরা ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার সিসি ক্যমেরা ব্যবহার অনেকের জন্য বেশ ব্যয়বহুল বিষয়ও। কিন্তু আপনি চাইলেই নিজের অফিস, বাসা বা অন্য যে কোনো জায়গার সুরক্ষা বাড়িয়ে তুলতে পারেন একটি এন্ড্রয়েড অ্যাপসের মাধ্যমে। এজন্য প্রয়োজন একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি কম্পিউটার। এন্ড্রয়েড ফোনটি ব্যবহৃত হবে সিসি ক্যামেরা হিসেবে আর কম্পিউটারটি ব্যবহৃত হবে টিভি হিসেবে।

এটি দুইভাবে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমত: ইন্টারনেটের মাধ্যমে আর দ্বিতীয়ত: ইন্টারনেট ছাড়া। ইন্টারনেট সহকারে ব্যবহার করলে আপনি পৃথিবীর যে কোন জায়গা থেকে মনিটরিং করতে পারবেন। আর যদি ইন্টারনেট ছাড়া ব্যবহার করেন তবে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের হটস্পট যতদূর কানেকশন পায় ততদূর মনিটরিং করতে পারবেন।

যেভাবে বানাবেন:
প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘Ip Webcam’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে ফোনে ইনস্টল করুন।
দুটি পদ্ধতিতে এটি তৈরি করা যায়:
পদ্ধতি-১: এই পদ্ধতিতে আপনার মোবাইল ও কম্পিউটার উভয় স্থানেই ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। এবার অ্যাপটি ওপেন করুন। যে পেজটি আসবে তার শেষ মাথায় ‘Start server’ অপশনে ক্লিক করুন। তারপর নিচের মত আসলে Yes- এ ক্লিক করুন। এবার ক্যামেরা চালু হলে তার নিচের দিকে একটি আইপি নম্বর দেখতে পাবেন। আইপি নম্বরটি আপনার কম্পিউটারের ব্রাউজারের এড্রেস বারে ইনপুট করে এন্টার চাপুন। এখানে একটি পেজ আসবে। এখানে থেকে ‘ব্রাউজার’ বা ‘ফ্লাশ’ বাটন চাপবেন। ব্যাস মনিটরিং চালু হয়ে গেল।
পদ্ধতি-২: এই পদ্ধতিতে মোবাইল বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও চলবে। তবে মোবাইল আর কম্পিউটার কাছাকাছি থাকতে হবে, যেন মোবাইল হটস্পট কম্পিউটারে কানেকশন পায়। এবার মোবাইলের হটস্পটটি চালু করে কম্পিউটারে Wifi এর মাধ্যমে কানেক্ট করুন। এবার আবার ১নং এর পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করুন। আর মনিটরিং করতে থাকুন।

এভাবে মনিটরিং এর পাশাপাশি আপনি আপনার কম্পিউটারের এডভান্স অপশন ব্যবহার করে দূর থেকে মোবাইলের ক্যামেরা নিজের সুবিধামত সেটিং করে নিতে পারবেন। তাছাড়াও আপনি চাইলে ভিডিও ফুটেজটি রেকর্ডও করে রাখতে পারবেন।

Categories
Invention

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য টিকা তৈরির অনুমোদন পেল গ্লোব বায়োটেক।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা উৎপাদন করার অনুমোদন পেয়েছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ডা. আসিফ মাহমুদ এ তথ্য জানান।

ডা. আসিফ মাহমুদ জানান, তাঁরা এই টিকার নাম দিয়েছেন ‘বঙ্গভ্যাক্স’।

যেকোনো ওষুধ উৎপাদনের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন হয়। অধিদপ্তর গ্লোব বায়োটেককে এই টিকা উৎপাদনে অনুমতি দিয়েছে।
টিকা উৎপাদনের পর গ্লোব বায়োটেক টিকার ট্রায়ালের অনুমোদনের জন্য চেষ্টা চালাবে বলে আসিফ মাহমুদ জানান।

গত বছরের ২ জুলাই নতুন করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা উদ্ভাবনের দাবি করেছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান এই টিকা উদ্ভাবনের দাবি করল। প্রতিষ্ঠানটি গত ৮ মার্চ এই টিকা তৈরির কাজ শুরু করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের নাম আছে। যে ১৫৬টি টিকা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পূর্বাবস্থায় আছে, তার মধ্যে গ্লোবের তিনটি টিকা আছে। গত বছরের ১৮ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেকের গবেষণা ও উন্নয়ন শাখার প্রধান আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, প্রাণীর ওপর তাদের টিকার সফল পরীক্ষা হয়েছে। তারা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই সময় গ্লোব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা তিনটি টিকা উদ্ভাবন করেছে। এগুলো হলো ডি৬১৪ ভেরিয়েন্ট এমআরএনএ, ডিএনএ প্লাজমিড ও এডিনোভাইরাস টাইপ-৫ ভেক্টর।

করোনার টিকা প্রাপ্তি নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে আজ গ্লোব এ অনুমোদন পেল।।বিশ্বের এগিয়ে থাকা টিকাগুলোর মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা উৎপাদন করছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে টিকা কিনছে বাংলাদেশ সরকার। এই টিকা সরবরাহ করবে বেক্সিমকো ফার্মা। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বেক্সিমকো ফার্মা ও সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

©️ তথ্যঃ প্রথম আলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

Categories
Invention

Proud 💝 💝 🇧🇩

https://link.kotha.app/app/feed/preview/5fe8834294412d00122c6270

Categories
Invention

চলে এসেছে বায়োনিক আই! তবে কি দেখতে পারবে অন্ধরাও?

হংকংয়ের একদল গবেষক মানুষের চোখের চেয়ে অধিক দৃষ্টি ক্ষমতাসম্পন্ন বায়োনিক চোখ তৈরি করেছেন। এ উদ্ভাবিত চোখ ব্যবহার উপযোগী হবে আগামী ৫ বছরের মধ্যেই।

এতে করে দৃষ্টিহীন মানুষেরা দৃষ্টিক্ষমতা ফিরে পাবে এই ইলেকট্রো কেমিক্যাল ডিভাইসটির মাধ্যমে।

দ্য সানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিভাইসটি মানুষের চোখের আদলেই তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য কাঠামোগত যত নিখুঁত নকশা প্রয়োজন তা যুক্ত করেছেন গবেষকেরা। একে বিশ্বের প্রথম থ্রিডি আর্টিফিশিয়াল আইবল বলা হচ্ছে। মানুষের চোখের কার্যক্ষমতার সব কাজকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম ডিভাইসটি।

হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকেরা বলছেন, যাদের চোখের দৃষ্টি আংশিক বা পুরোপুরি দৃষ্টিহীন তাদের সবার কাজে আসবে এটি।

‘নেচার’ সাময়িকীতে এ গবেষণা বিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। নিবন্ধে বলা হয়, মানুষের চোখের মতোই কার্যক্ষম ডিভাইসটি উচ্চ রেজুলেশন ধারণ করতে পারে। এতে থাকা ক্ষুদ্র সেন্সর ছবিকে রূপান্তর করতে পারে, যা মানুষের চোখের আলোকসংবেদী কোষের অনুরূপ। এই সেন্সরগুলো অ্যালুমিনিয়াম এবং টাংস্টেন দিয়ে তৈরি একটি ঝিল্লির মধ্যে থাকে, যা মানুষের রেটিনা নকল করার উদ্দেশ্যে অর্ধ গোলকের আকারে তৈরি।

বায়োনিক আই বা বায়োনিক চোখকে মূলত ভিজুয়াল প্রোস্থেসিস বলা হয়, যা পরীক্ষামূলক যন্ত্র হিসেবে দৃষ্টিহীনদের কাজে ব্যবহার করার লক্ষে তৈরি করা হয়।

উল্লেখ্য, আগে এ ধরনের ডিভাইস তৈরি অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে হংকং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝিয়ং ফ্যান বলেন, বর্তমান গবেষণা একটি পূর্ণাঙ্গ বায়োনিক চোখ তৈরির দিকে নিয়ে যাবে। আগামী ৫ বছরে এ প্রযুক্তি বাস্তব ও প্রায়োগিক হবে। গবেষকেরা প্রাণী ও মানুষের ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার পরিকল্পনা করছেন।

Categories
Invention

Huawei Harmony OS 2.0 Developer Beta for Smartphones to be Officially Announced Today!

Source : QQ

Categories
Invention

রামসে সংখ্যার সমাধান দিলেন ভারতীয় তরুণ!

পেরিয়ে গেছে ৯০ বছর। তবুও সমাধান মেলেনি গাণিতিক ধাঁধাঁর। অথচ সেই গাণিতিক কোডটির ওপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রযুক্তিবিদ্যার বিকাশের একটি বড়ো স্তম্ভ। সম্প্রতি সেই অসমাধিত প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে বার করলেন এক ভারতীয় যুবক। রামসে সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে কম্বিনেটরিক্সের সমাধান দিলেন ২১ বর্ষীয় অশ্বিন শাহ।

কিন্তু কী এই রামসে নাম্বার বা রামসে সংখ্যা? এই বিশেষ সংখ্যার সংশ্লেষ এবং সংমিশ্রণের মাধ্যমে যে কোনো গ্রাফের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ধরণের কাঠামোর উপস্থিতি নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারণ করা যায় তার পরিসরকেও। কিন্তু রামসে সংখ্যার ঊর্ধ্ব এবং নিম্ন সীমা ঠিক কত, তা জানা ছিল না এতদিন। ১৯৩০-এর দশকে বিজ্ঞানীপল এরদোস এবং জর্জ সেকেকেরেস শুরু করেছিলেন এই গবেষণা। তবে সমাধান বার করতে পারেননি তাঁরা। পরবর্তীকালে আরও অনেক তাবড় বিজ্ঞানীরাও হাত লাগিয়েছিলেন এই সমস্যায়। প্রতিবারই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে অনুসন্ধান। এই গাণিতিক সমস্যাকে বিংশ শতকের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ধাঁধাঁ হিসাবেই অভিহিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

অশ্বিন শাহের গাণিতিক প্রমাণের মাধ্যমে দ্বি-বর্ণের রামসে সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমার পুঙ্খানুপুঙ্খ সমাধান নির্ণয় সম্ভব হয়েছে। অশ্বিনের গবেষণা প্রমাণ করে কোনো একটি গ্রাফ নির্দিষ্ট আকার ধারণ করলে, তার আনুমানিক ক্ষেত্রবিস্তার একটি নির্দিষ্ট চক্রের আকারে আবর্তিত হয়। সম্প্রতি এই গবেষণার কথা প্রকাশিত হয় ‘কোয়ান্টাম’ বিজ্ঞান পত্রিকায়।

তবে এটাই প্রথমবারের জন্য চমক নয়। এর আগে মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক গণিত অলম্পিয়াড হংকংয়ে স্বর্ণপদক ছিনিয়ে এনেছিলেন অশ্বিন। ১৭ বছর বয়সে ভর্তি হয়েছিলেন খ্যাতনামা মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমআইটিতে। মাত্র আড়াই বছরের মধ্যেই স্নাতক সম্পূর্ণ করেন তিনি। সেইসময় আরও বেশ কিছু জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান খুঁজে বার করেছিলেন তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষক ডেভিড কনলন কোয়ান্টাম পত্রিকায় উল্লেখ করেন, স্নাতকোত্তরের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও একজন শিক্ষক হিসাবে বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর যোগ্যতা রয়েছে অশ্বিনের। তবে নিজের সাফল্য নিয়ে খুব বেশি ভাবিত নন তিনি। বরং প্রত্যাশা, আগামীতে আরও নতুন কিছু করে দেখানোর…

সূত্রঃ প্রহর ডেস্ক

Categories
Invention

ক্যালেন্ডার এলো যেভাবে!

একটা বছরের পর আরেকটা বছর আসে, সেই সাথে আমাদের দেয়াল দখল করে নেয় নতুন ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জি। শুধুই কী দেয়াল? ক্যালেন্ডার থাকে আমাদের ফোনে, টেবিলে এমনকি পকেটেও! ক্যালেন্ডারে তারিখ দেখা ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। কিন্তু কখনো কি আমাদের এই ক্যালেন্ডারের উৎপত্তি সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে করে না? চলো আজকে তাহলে আমাদের এই বন্ধু ক্যালেন্ডারের কেচ্ছা-কাহিনী জেনে আসা যাক!

একটু ফিরে দেখা:

আমরা ইংরেজি সাল বা খ্রিষ্টাব্দ বলতে যা জানি, আসলে তা হলো গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আর ১লা জানুয়ারিতে আমরা যেই নববর্ষ পালন করি, তাও পালন করা হয় এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে৷ কিন্তু এই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারটা এলো কোত্থেকে? এর পেছনে রয়েছে এক বি-শা-ল ল-ম্বা ইতিহাস। উফফ… দেখো কান্ড! ক্যালেন্ডারের কাহিনী তোমাদের জানাতে যেয়ে সেই কোন আমলে চলে যাচ্ছি! কিন্তু জানতে হলে যে একটু পেছনে ফিরে তাকাতেই হবে।

ক্যালেন্ডার যখন ছিল না, তখন দিনক্ষণ নির্ধারণ করা বেশ কঠিন একটা কাজ ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মিশরীয় জ্যোতির্বিদরা একটি বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে দিনকে ১২ ঘন্টা ও রাতকে ১২ ঘন্টা হিসেবে ভাগ করে ২৪ ঘন্টায় একটি পূর্ণ দিন ধার্য করা হয়৷ গ্রিক দার্শনিক প্লেটো একটি বিশেষ পানির ঘড়ি তৈরি করে তাঁর আশ্রমের ছেলেদের পাঠ দিতেন।

গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মূল কাঠামোটা আসলে সৌর বর্ষের উপর নির্ভরশীল। এর বর্তমান যেই কাঠামোটা আমরা দেখতে পাই, এখানে পৌঁছাতে সময় লেগেছে কয়েকশো বছর! সেই সাথে করা হয়েছে নানান পরিবর্তন ও পরিমার্জন।

চাঁদ নাকি সূর্য?:

একটু ইতিহাস ঘাটাঘাটি করে জানতে পারলাম, মানুষ যেদিন বছর কীভাবে গুনতে হয় তা শিখলো, সেদিন চাঁদের হিসেবেই শুরু করেছিল বছর গোনার কাজ। সৌর গণনার ব্যাপারটা শুরু হয় আরো পরে। তবে তার মানে এই না যে সৌর ও চন্দ্রের সাপেক্ষে গণনার নিয়ম একই। সৌর গণনার সাথে ঋতুর যোগসদৃশ থাকলে, চাঁদের গণনার সাথে ঋতুর কোনো সম্পর্ক নেই।

সুমেরীয় সভ্যতায়, সর্বপ্রথম ক্যালেন্ডারের মতন এক বস্তু লক্ষ করা যায়৷ আগেকার দিনে মিশরীয়রা জ্যোতির্বিজ্ঞানের দিক দিয়ে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর থেকে অনেক এগিয়ে ছিল। ধারণা করা হয়, এই সভ্যতাতেই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার আবিষ্কৃত হয়৷ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেন যে, খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দ থেকে মিশরীয়রা ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে।

দরকারটা যখন কৃষকদের:

কৃষকেরা তাদের ফসল উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময় নির্ণয় করার জন্য কালেন্ডারের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভব করতো৷ যেহেতু আগেকার দিনে চন্দ্রের উপর নির্ভর করে দিন-তারিখ নির্ধারণ কর‍তে হতো, আর এর সাথে ঋতুর কোনো যোগসদৃশই ছিল না, তাই তাদের ফসল উৎপাদন করতে বেশ অসুবিধায় পড়তে হতো। পন্ডিত পন্ডিফোরাই ৭৫৬ অব্দে সর্বপ্রথম ক্যালেন্ডারের মতনই একটা জিনিসের আবিষ্কার করেন। চাষাবাদের উপর ভিত্তি করেই এটি তৈরি করা হয়৷ মাস সংখ্যা ছিল ১০। প্রবল শীতে ইউরোপে চাষাবাদ বন্ধ থাকতো দেখে শীতের দুই মাস এইখানে যোগ করা হতো না৷ এর নাম দেওয়া হয় ‘ক্যালেন্দি’। এখান থেকেই ‘ক্যালেন্ডার’ শব্দটির উৎপত্তি৷ তবে বছর গণনা শুরু হতো সেদিন থেকে, যেদিন দিন ও রাত সমান হতো৷ তখনকার মতে মার্চের ২৫ তারিখ থেকে। তবে বর্তমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর দিন ও রাত সমান হয়৷

মাস যখন ১০টিঃ

সভ্যতার সব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের দিক দিয়ে অন্যদের থেকে অনেক অনেক বেশি এগিয়ে ছিল গ্রিক ও রোমানরা। গ্রিকদের ক্যালেন্ডার তৈরির আইডিয়াটা নেওয়া ব্যবলিয়ান ক্যালেন্ডার থেকে। অবশ্য রোমানরা তাদের ক্যালেন্ডারের ধারণা নেয় গ্রিকদের কাছ থেকেই৷ তবে তাদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল ১০টি আর বছর গণনা করা হতো ৩০৪ দিনে। সেই হিসেবে মাসে সপ্তাহ থাকতো ৩টা করে আর সপ্তাহে দিন থাকতো ১০টি করে।

মজার ব্যাপার হলো শীতের দুই মাস তারা তাদের বর্ষ গণনার হিসেবের মধ্যেই ধরতো না! আর তাদের বছর শুরু হতো মার্চ মাস থেকে৷ অর্থাৎ তারা বর্ষবরণ করতো ১লা মার্চে৷ তবে বছর গণনা করতে যেয়ে যে মাঝের ৬০ দিন বাদ পরে যেত, এইটা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যাথাই নেই!

রোমের প্রথম সম্রাট ছিলেন রমুলাম। একই সাথে ছিলেন বেশ বিখ্যাতও। তিনিই আনুমানিক ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে রোমান ক্যালেন্ডার প্রচলন করার চেষ্টা করেন।

লিপ ইয়ারের সূচনা:

কিন্তু সেই যে ২ মাস বাদ পরে যায়, তার কথা কি মনে আছে? ৭১৩ অব্দে আগের ১০ মাসের সঙ্গে নতুন করে সেই দুই মাস যোগ করেন রোমান সম্রাট নুম পামপিলিয়াস৷ আর সেই দুটো মাস হচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। তিনিই জানুয়ারিকে প্রথম মাস হিসেবে ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন। প্রথম দিকে জানুয়ারি মাস ২৯ দিনে এবং ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিনে ধার্য করা হয়। এই ১২টা মাসের বাইরে আরো একটা মাস যুক্ত করা হয়, যার নাম ছিল মারসিডানাস। এই মাস আবার ছিল ২২ দিনের৷ মজার ব্যাপার হলো এই মাস গণনা করা হতো এক বছর পর পর৷ তাও আবার ফেব্রুয়ারির ২৩ ও ২৪ তারিখের মাঝখানে! এই মাসের হিসাব পরিবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩২ অব্দে৷ চার বছর পর পর আমরা যে লিপ ইয়ার পালন করি, তার প্রবর্তকও এই রোমানরাই।

৪৫১ অব্দে রোমের শাসনভার পরিচালনা করতেন ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের একটি পরিষদ দ্বারা, যা ‘দিসেসভিরস’ নামে পরিচিত ছিল। এই পরিষদই প্রথম মার্চের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে বছর গণনার নির্দেশ দেন।

জুলিয়াস ক্যালেন্ডার:

বিখ্যাত রোমান সম্রাটদের কথা যদি বলতে হয়, তাহলে সবার আগে আসে জুলিয়াস সিজারের নাম। তিনি তার আমলে চালু করলেন নতুন ক্যালেন্ডার। জুলিয়াস সিজারই মিশরীয় ক্যালেন্ডার এখানে আনেন। জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সেই বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝখানে ৬৭ দিন ও ফেব্রুয়ারির শেষ ২৩ দিনসহ মোট ৯০ দিন যুক্ত করে আগের ক্যালেন্ডারটা পরিমার্জন করেন৷ আর সেই ক্যালেন্ডারটাই জুলিয়ান ক্যালেন্ডার হিসেবে পরিচিত।

➡️ তথ্যঃ ‘টেন_মিনিট_স্কুল’ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

Categories
Invention

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জন্ম রহস্য

মহাবিশ্বের জন্ম নিয়ে একটি তত্ত্ব হচ্ছে ‘বিগ ব্যাঙ থিওরি’। এই তত্ত্বে বলা হয়- প্রচণ্ড এক বিস্ফোরণের পর, ছোট্ট একটা বল থেকে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছিলো।

এর পক্ষে বিপক্ষে এখনও বিভিন্ন রকমের মতামত আছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, তারা এমন কিছু নতুন তথ্য প্রমাণ পেয়েছেন যা এই বিগ ব্যাঙ তত্ত্বকে সমর্থন করছে।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করছেন, মহাজগতের সবকিছু সৃষ্টি হওয়ার আগে, যে অসম্ভব রকমের দ্রুত গতিতে মহাকাশ সম্প্রসারিত হয়েছিলো, তার কিছু নমুনা চিহ্ন তারা খুঁজে পেয়েছেন।

আর এই সবকিছুই হয়েছিলো এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে। আর কোটি কোটি বছর আগের সেই ঘটনায় যে আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিলো, বিজ্ঞানীরা বলছেন যে তারা সেই আলোর কিছু তরঙ্গ টেলিস্কোপের সাহায্যে ধরতে পেরেছেন।

বিজ্ঞানের এই আবিষ্কার নিয়ে ইতোমধ্যেই বহু কথাবার্তা শুরু হয়েছে। কোনো কোনো গবেষক বলছেন, এটা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার যে এর জন্যে বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কারও পেতে পারেন।

অ্যামেরিকার একদল বিজ্ঞানী এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন, যার নাম বাইসেপ –টু। পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুতে আকাশের ছোট্ট একটা অংশে তারা টেলিস্কোপের সাহায্যে নজর রাখছেন।

তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মহাজগতের সেই সম্প্রসারণের সময়কার অবশিষ্ট কিছু চিহ্ন খুঁজে বের করা। এই সম্প্রসারণের ঘটনা ঘটেছিলো এক সেকেন্ডের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ভাগেরও কম সময়ের মধ্যে।

বিবিসির বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদদাতা ডেভিড সুকমান এই প্রকল্প ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলছেন, এটা একটা যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি বলেন, মহাজগতের জন্ম সম্পর্কে বিগ ব্যাঙ ধারণার কথা বলা হচ্ছে গত কয়েক দশক ধরেই। কিন্তু এটা ঠিক কিভাবে হয়েছিলো সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রমাণ ছিলো না। অ্যামেরিকার বিজ্ঞানীরা এখন এই বিশ্বের আলোক শক্তিতে এমন একটি প্যাটার্ন আবিষ্কার করেছেন যা এই মহাবিশ্বের জন্মের শুরুর দিকের চিহ্ন বহন করছে।

“আলোর এই ঢেউ সেসময় তৈরি হয়েছিলো। প্রাথমিক সেই বিগ ব্যাঙ বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়ে এই আলোক তরঙ্গ। এ কারণেই সৃষ্টি মহাকর্ষণের, যার ফলে এই সৌরজগতে নক্ষত্র, গ্রহ সবকিছু একটা আরেকটাকে টেনে ধরে রাখছে। এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড কিভাবে তৈরি হয়েছে, আমরা কিভাবে বর্তমান অবস্থায় এসেছি- এই গবেষণা সেটা বুঝতে আমাদের সাহায্য করবে।” বলেন তিনি।

মহাজগতের এই সম্প্রসারিত হওয়ার ধারণা প্রথম আলোচনায় আসে আশির দশকের শুরুতে।

©️ সংগৃহীত.

Categories
Invention

হ্যান্ডশেক কীভাবে এলো আর কীভাবে বিদায় নিল!

খেলার মাঠের কথাই ধরা যাক। ক্রিকেটে টসের পর দুই দলের অধিনায়কের করমর্দন, কিংবা ফুটবলে ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলানো ছিল চিরচেনা দৃশ্য। করোনাকাল বদলে দিয়েছে সেই রীতি। ইদানীং মাঠে হাত মেলানোর বদলে মুষ্টি বা কনুই মেলানোর চল হয়েছে। অনেকে আজকাল সাক্ষাতেও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়ে পরস্পরের মুষ্টিবদ্ধ হাতে আলতো করে ঘুষিও দিচ্ছেন। নতুন করে জনপ্রিয় হওয়া এই পদ্ধতিকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘ফিস্ট বাম্প’। বাংলায় আপাতত চাইলে ‘মুষ্ঠি মিলন’ বলে চালাতে পারেন। তরুণদের মধ্যেই মূলত এই পদ্ধতি বেশি জনপ্রিয়।

পৃথিবীর ইতিহাসে ২০২০ সাল যে অজস্র পরিবর্তন এনেছে, শুভেচ্ছা বিনিময়ের ধরনও নিশ্চয়ই তার মধ্যে জায়গা পাবে। হাত মেলানোর রীতি বহুল প্রচলিত হলেও সব দেশে যে একই নিয়ম, তা নয়। নিউজিল্যান্ডের মাওরি জনগোষ্ঠী যেমন নাকে নাক ছুঁইয়ে পরস্পরকে সম্ভাষণ জানান। ইথিওপিয়ার মানুষ কাঁধে কাঁধ ছোঁয়ান। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পুরুষেরা একে অপরের কপালে কপাল ছুঁয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে জাপানের মতো এশিয়ার কিছু কিছু দেশের সম্ভাষণরীতি আগে থেকেই বেশ ‘স্বাস্থ্যসম্মত’—হালকা মাথা নুইয়ে অভিবাদন জানান তাঁরা। ইউরোপের কিছু কিছু দেশে গালে চুমু খাওয়াও সম্ভাষণের অংশ।

কিন্তু হাত মেলানোর চল কীভাবে শুরু হয়েছিল, জেনে হয়তো বিস্মিতই হবেন। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে করমর্দন শুরু হয়েছিল শান্তি স্থাপনের সংকেত হিসেবে এর মাধ্যমে বোঝানো হতো, দুজনের কারও হাতেই কোনো অস্ত্র নেই। রোমান সভ্যতায় হাত মেলানোর পরিসর ছিল আরেকটু বড়। পরস্পরের সঙ্গে বাহু মিলিয়ে সম্ভাষণ করত তারা। উদ্দেশ্য একই—জামার আস্তিনের নিচে কোনো অস্ত্র লুকানো নেই, তা জানান দেওয়া। আজকের দিনে অবশ্য যতই কনুই মেলান বা ‘মুষ্ঠি মিলন’ করুন, হাতে অস্ত্র (ভাইরাস) নেই—তা নিশ্চিত করতে পারবেন না।

⛔ সূত্র: হিস্ট্রি ডটকম ও ডিপ ইংলিশ ডটকম

Categories
Invention

যেভাবে আবিষ্কার হলো স্টেথোস্কোপ!

ডাক্তার শব্দটা শুনলেই আমাদের মাথায় আসে গলায় ইয়ারফোনের মতো একটা জিনিস ঝুলিয়ে কেউ একজন আসছে। যেটা বুকে লাগিয়ে শব্দ শুনে ডাক্তাররা অনেক কিছু বুঝতে পারে। এই জিনিসটার নামই স্টেথোস্কোপ । এটা যন্ত্রটা কোত্থেকে, কীভাবে আসলো! এটা জানার ইচ্ছা হয় না?

এটা যদি জানতে চান, তাহলে আমাদের ঘুরে আসতে হবে ১৮১৬ সাল থেকে। হ্যাঁ! ১৮১৬ সালে ফরাসি ডাক্তার রেনে থিওফাইল হায়াসিন্থে লেনেক এক রোগীর হৃৎস্পন্দন পরীক্ষা করতে গিয়ে অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। রোগী অত্যাধিক স্থূল হওয়ায় রেনে হাত দিয়ে নাড়ী পরীক্ষা করতে পারছিলেন না। আবার রোগী একজন তরুণী বলে রেনে তার বুকে কান পেতেও পরীক্ষাটি করতে পারছিলেন না। ফলে সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি একটা পদ্ধতির আশ্রয় নেন। উল্লেখ্য সেই সময় রোগীর বুকে কান দিয়ে ডাক্তাররা পরীক্ষা করতেন।

সেই সময় তার মনে আসলো বাচ্চাদের একটা খেলার কথা। কাঠের টুকরার এক পাশে কান রেখে অন্য পাশে টোকা দিলে সেই শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যায়। সাথে সাথে তিনি এক দিস্তা কাগজ রোল করে সিলিন্ডারের মতো বানান এবং সেটার এক পাশ রোগীর বুকে রেখে অপর পাশে নিজের কান লাগান। বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন, এতে করে হৃৎস্পন্দন যতটা স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে, বুকের উপর সরাসরি কান পেতেও ততটা স্পষ্ট কখনো শোনা যায়নি! কারণ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ বেশি। আর এই যে বুকের উপর সরাসরি কান না পেতে বা হাত দিয়ে স্পর্শ না করে, মাঝখানে একটা মিডিয়া ব্যবহার করে হৃৎস্পন্দন শোনার প্রক্রিয়া, একে বলা হয় Mediate auscultation.
©️

Categories
Invention

সিগারেট আবিষ্কারের ইতিহাস এবং মানুষ কেন সিগারেট খায়?

⛔ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক!
মানুষ কেন সিগারেট খায়? আজব প্রশ্ন! এ প্রশ্নের উত্তর নিজের মত করে দেবো। আগে সিগারেটের ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেয়া আবশ্যক!

ইউরোপিয়ানদের মধ্যে বিখ্যাত নাবিক এবং আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাসই প্রথম তামাক গাছ দেখেন। ১৪৪২ সালে কলম্বাস যখন সান সালভাদরে গিয়ে পৌঁছান তখন সেখানকার আদিবাসীরা মনে করেছিলো কলম্বাস ঈশ্বর প্রেরিত স্বর্গীয় জীব! তারা কলম্বাসকে উপহার স্বরূপ কাঠের তৈরি যুদ্ধাস্ত্র, বন্য ফলমূল এবং শুকনো তামাক পাতা দিয়েছিলো। অন্যান্য উপহার গুলো নিলেও কলম্বাস ধূমপান না করে তামাক পাতা গুলো ফেলে দিয়েছিলো।

ঠিক ঐ বছরই আরেকজন ইউরোপিয়ান রডরিগো ডি যেরেয (Rodrigo de Jerez) কিউবায় গিয়ে পৌঁছান এবং ইউরোপিয়ান হিসাবে তিনিই প্রথম ধূমপান করেছিলেন। রডরিগো ডি যেরেয ছিলেন স্পেনের নাগরিক। পরবর্তীতে স্পেনে ফিরে গিয়ে তিনি জনসম্মুখে ধূমপান করে মানুষজনকে চমকে দিতেন। এক জন মানুষের নাক এবং মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে এটা দেখে সাধারন মানুষ ভড়কে যেত। একটা সময় অনেকেই ভাবতে শুরু করে যে রডরিগো ডি যেরেযের উপর শয়তান ভর করেছে। তাই রডরিগোকে ৭ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়! কারাগারে রডরিগোর সাথে থেকে অনেকেই ধূমপান শুরু করেন।
তামাক এবং পাইপের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। একসময় জন্ম হয় সিগারেটের। সিগারেট আস্তে আস্তে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠে।

১৮১৫ সালে সিগারেট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়। এমনকি দি হাউস অফ পার্লামেন্টেও সিগারেট খাওয়ার জন্য আলাদা রুম করা হয়। ১৮২৮ সালে নিকোটিনের পিওর ফর্ম আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানীরা। কিছুদিনের মধ্যেই সবাই বুঝতে পারে এটা মারাত্মক বিষ! ১৮৫২ সাল থেকেই ধূমপান করার সুবিধার্থে ম্যাচ বা দিয়াশলাই এর প্রচলন হয়।১৮৫৬ সালে ক্রিমিয়ান যুদ্ধ ফেরত সৈন্যরা তুর্কি থেকে সিগারেট নিয়ে আসে। সৈনিকদের মাঝে সিগারেট অনেক জনপ্রিয় হয়ে পড়ে। অলসতা এবং বিষাদ দূর করার জন্য তখন সৈন্যদেরকে নিয়মিত সিগারেট সরবরাহ করা হতো। ১৮৬৫ সালে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার ওয়াশিংটন ডিউক নামের এক ব্যাক্তি প্রথম সিগারেট রোল করে বিক্রি করা শুরু করে।

১৮৮৩ সালেজেমস বনস্যাক প্রথম সিগারেট রোল করার মেশিন আবিষ্কার করেন। এই মেশিন দিয়ে দিনে ১০০০ সিগারেট তৈরী করা যেত। বনস্যাক একটা সিগারেট কোম্পানী শুরু করেন যার নাম ছিলো আমেরিকান টোবাকো কোম্পানী। বনস্যাকের মেশিন সিগারেট শিল্পে বিপ্লবের সূচনা করে। তামাক চাষ এবং সিগারেট প্রস্তুত প্রক্রিয়ার উন্নতির সাথে সাথে সিগারেট ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় আর্মিদের রেশনের সাথে সিগারেটও যুক্ত করা হয়। ১৯৫০ সালে সিগারেটের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে প্রথম প্রচারনা শুরু হয়। এই সময়ই ধূমপান এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক আবিষ্কার করা হয়। ড. ওয়াইন্ডার এবং ড. গ্রাহাম একটি গবেষণায় দেখান যে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯৫% মানুষই ২৫ বছর বা তার বেশী সময় ধরে ধূমপানে আসক্ত।

এবার আশা যাক কেন মানুষ সিগারেট খায় এ প্রসঙ্গে! বেশিরভাগ কিশোর বা যুবক সিগারেট খায় হতাশার কারনে। নিজেকে কষ্ট দিয়ে তারা আনন্দ পেতে চায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা নিয়মিত সিগারেট খায় , তাদের জীবনে একটা খারাপ অতীত থাকে। অতীতের কষ্ট বাষ্প করে দিতে সিগারেটে টান ধরায়। আদৌ কি কষ্ট লাঘব হয়? সম্ভবত না। আবার এক ধরনের মানুষ সিগারেট খায় শখের বশে! তাদের ধারনা সিগারেট না খেলে স্মার্ট হওয়া যায় না। যাই হোক, যারা সিগারেট খায় তারা এক সময় আফসোস করে। যদি আপনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে বলব হতাশা কাটাতে বই পড়েন , ঘুরতে যান, ধর্মীয় কাজে লিপ্ত হন। সিগারেট খাবার দরকার কি! আর যদি আপনি শখের বশে সিগারেট খান, তবে বলব আপনি ভুলের জগতে আছেন। কিছু কিছু লোক আছেন যারা এ খারাপ ত্যাগ করতে চাচ্ছেন কিন্তু পারছেন না। তাদের উচিত হবে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা।

আমাদের সমাজেরও কিছু সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি। কোন কিশোর সিগারেট খেলে তাকে ঠেলে দেয় নষ্টের কাতারে। সিগারেট খেলে ফুসফুসের ক্ষতি হয় , চরিত্রের কি হয় ! এ দেশে একজন লম্পট চরিত্রের ছেলের থেকে একজন সিগারেটখোর ছেলেকে বেশি ঘৃণার চোখে দেখা হয়। প্রকৃতপক্ষে এই মনোভাবও তাদের সিগারেট খেতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি সিগারেট খাওয়াকে সমর্থন করি না। মাত্র অল্প কটাদিন আমরা বাচিঁ। দুঃখ কষ্ট তো থাকবেই! সিগারেট কখনই দুঃখ লাঘবের হাতিয়ার হিসেবে গন্য হতে পারে না। আরেকবার ভাবুন! আপনার জীবনের গল্প আপনার হাতে। সুন্দর করে গড়ুন জীবনটা। বেদনাকে এত গাঢ় করে কি লাভ! জীবনানন্দ দাসের এই কবিতাটা পড়েছেন, ‘ কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট.