Categories
Invention

বেতার (রেডিও) আবিষ্কারের কথা।

বিনা তারেই এক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ ও তথ্য গ্রহণ করা যায়। এই প্রযুক্তি পূর্বে ব্যবহার করা হতো কেবলমাত্র রেডিওতে। তবে বর্তমানে এই প্রযুক্তির বিস্তৃতি ঘটেছে। কিভাবে এই বেতার প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়। এবার আমরা জানবো আবিষ্কারের কথা- বেতার (রেডিও) সম্পর্কে।

 

অনেকেই এই বেতার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। এর মধ্যে থমসন এডিসন এবং স্যার বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু অন্যতম। থমাস এডিসন বেতার প্রযুক্তি বিষয়ে যে গবেষণা চালিয়ে যান তাতে অনেকাংশে সফল হন। ১৮৮৫ সালে থমসন আমেরিকার পেটেন্ট অফিসে তার পেটেন্টের জন্য আবেদন করেন। ১৮৯১ সালে ২৯ ডিসেম্বরে এই পেটেন্ট অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে মার্কনি প্রতিষ্ঠান এই স্বত্ত্ব কিনে নেয়। আইনগতভাবে তা সুরক্ষা করেন। ফলে গুগলিয়েলমো মার্কনী ১৮৯৬ সালে এই স্বত্ত্ব লাভ করতে সক্ষম হন।

বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসু সম্পর্কে না বললেই নয়। উল্লেখ্য, তিনি গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই ইলেকট্রিক রেডিয়েশন বিষয়ে গবেষণা করতেন। বিদ্যুৎ উৎপাদক ইথার তরঙ্গের কম্পনের দিকে পরিবর্তন বিষয়ক প্রবন্ধটি (যা তাঁর প্রথম প্রবন্ধ) তিনি এশিয়াটিক সোসাইটিতে পেশ করেছিলেন। পরের প্রবন্ধগুলো ইংল্যান্ডের বেশ কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এসময় বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বিনা তারে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে শব্দকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কিভাবে পাঠানো যায় সে বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। ১৮৯৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন। বেতার যন্ত্র তখনও আবিষ্কৃত হয় নি। কলকাতার টাউন হল। সাঁইত্রিশ বছরের যুবক জগদীশ যন্ত্রপাতি নিয়ে তৈরি হয়ে আমন্ত্রিত শ্রোতাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন, সর্বসমক্ষে তা পরীক্ষা করে দেখাতে চান। এর পরেই তিনি বিনাতারে তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্রের মাধ্যমে নিজের বাসা থেকে এক মাইল দূরে কলেজে সঙ্কেত আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করলেন। ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি সন্বন্ধে তাঁর আবিষ্কার ইংল্যান্ডে সাড়া পড়ে গিয়েছিল। একটি বিখ্যাত ইলেকট্রিক কোম্পানী তাঁর পরামর্শ মত কাজ করে ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি বিষয়ে প্রভূত উন্নতি করতে সক্ষম হয়। অর্থনৈতিক কারণে জগদীশচন্দ্রের গবেষণা ব্যাহত হয়েছিল।

Categories
Invention

উচ্চ ক্ষমতার সোলার সেল আবিষ্কার, বিদ্যুতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।

দেশে দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু যে সোলার সেল বা সৌরকোষের মাধ্যমে সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হয়, তার কার্যক্ষমতা এত দিন অনেক কম ছিল। এখন আরও বেশি কার্যক্ষমতাসম্পন্ন সোলার সেল তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি ল্যাবরেটরির (এনআরইএল) বিজ্ঞানীরা নতুন অধিক কার্যক্ষমতা সম্পন্ন এই সোলার সেল তৈরি করেছেন। এই সোলার সেলের কার্যক্ষমতা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি।

আগে গড়পড়তা সোলার সেলের কার্যক্ষমতার হার সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ছিল। এর অর্থ হলো, আগে সোলার সেল বা সৌরকোষ শোষিত সৌরশক্তির সামান্য অংশকে বিদ্যুতে রূপান্তর করতে পারত। এখন এই ক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

নতুন আবিষ্কৃত ছয়টি সক্রিয় ফটো অ্যাকটিভ স্তরের (সিক্স জংশন) সোলার সেলের কার্যক্ষমতা অনেক বেশি। এই সোলার সেলের রূপান্তর ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ। এটা একটা বিশ্ব রেকর্ড।

গবেষণা প্রকল্পের মুখ্য বিজ্ঞানী ও গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক জন গেইজ বলেন, নতুন আবিষ্কৃত সোলার সেল সত্যিই অসাধারণ কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করছে।

প্রকল্পের বিজ্ঞানী ও গবেষণাপত্রের সহলেখক রায়ান ফ্রান্স বলেন, তাঁদের আবিষ্কৃত সোলার সেলের কার্যক্ষমতা ৫০ শতাংশ অতিক্রম করার সম্ভাবনা আছে। আর এই লক্ষ্য অর্জন করা খুবই সম্ভব।

তবে মৌলিক সীমাবদ্ধতার কারণে ১০০ শতাংশ কার্যক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে জানান রায়ান ফ্রান্স।

বিজ্ঞানী জন গেইজ জানান, তাঁরা সোলার সেলের উৎপাদন খরচ কমানোর বিষয়ে কাজ করছেন। সেটা করা গেলে উচ্চ কার্যক্ষমতার সোলার সেলের ডিভাইসের নতুন বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

এটা হলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিরাট পরিবর্তনের আসবে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার আরও কমানো সম্ভব হবে।

ℹ তথ্যঃ প্রথম আলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

Categories
Invention

অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের কথা।

ছোট জিনিসকে বড় আকারে দেখার জন্য লেন্সের ব্যবহার শুরু হয় বহু আগ থেকেই। যত দূর জানা যায়, এ ধরনের লেন্স প্রথম আবিষ্কার হয় আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ অব্দের দিকে। তবে ওই লেন্স নাকি ছিল খুব ঘোলাটে। প্রথম লেন্স কে আবিষ্কার করেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মোটামুটি ১০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এসে আরেকটু ভালো লেন্স তৈরি হয়। এ সময় লেন্সের উপরিভাগকে গোলাকার করা হয়। রোমানরা এ ধরনের লেন্স ব্যবহার করত।

কাছের জিনিস বড় করে দেখার জন্য চশমা তৈরি শুরু হয় চীনে। তবে ওইগুলো মানের দিক থেকে খুব একটা ভালো না হওয়ায় জনপ্রিয়তা পায়নি। ১২৮০ সালের দিকে এসে ইতালির ফ্লোরেন্সে চশমা ও লেন্সের বেশ বিকাশ ঘটে। কারো কারো ধারণা, আমাটি নামের এক গবেষক এই লেন্স ও চশমা তৈরি করেন।

ধীরে ধীরে চশমার পাশাপাশি এমন ধরনের আতশ কাচ তৈরি হতে থাকে যেগুলো চোখে না লাগিয়েই বস্তুকে বড় দেখা সম্ভব হয়। এর ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র। ১৫৯০ সাল কিংবা এর কিছু পরে ডাচ লেন্স প্রস্তুতকারক হ্যান্স এবং তাঁর ছেলে জ্যাকারিয়াস জ্যানসেন এক জোড়া লেন্স ব্যবহার করে তৈরি করেন জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্র। এই যন্ত্রটায় বাপ-বেটা দুজনের ভূমিকা থাকলেও পরে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ব্যাপক উন্নয়ন করেন জ্যাকারিয়াস। তাই আধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের জনক বলা হয় জ্যাকারিয়াসকেই।

পরে গ্যালিলিও অণুবীক্ষণ ও দূরবীক্ষণ যন্ত্রের বেশ উন্নয়ন করেন। হল্যান্ডের লিউ ওয়েনহোকও বেশ শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপ তৈরিতে সফল হন। রবার্ট হুক নামের এক ইংরেজও অণুবীক্ষণ যন্ত্র নিয়ে ওই সময় বেশ কাজ করেন। এখনকার আধুনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রগুলোর বেশির ভাগ তৈরি হয় জার্মানি, জাপান ও চীনে।

Categories
Invention

ফারেনহাইট স্কেল আবিষ্কারের কথা।

ফারেনহাইট হচ্ছে তাপমাত্রা পরিমাপের একটি স্কেল। জার্মান বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট এই তাপমাত্রা পরিমাপের স্কেল আবিষ্কার করেন এবং তাঁর নামানুসারে ফারেনহাইট নামকরণ করা হয়। কিন্তু কিভাবে এই ফারেনহাইট আবিষ্কৃত হলো?

বিজ্ঞানী ফারেনহাইট স্কুল-কলেজের পাঠ সমাপ্ত করে সদ্য গবেষণার প্রতি মনোযোগী হলেন। তিনি স্বদেশের বিভিন্ন গবেষণাগারে গবেষণার পর উন্নততর গবেষণার জন্য ইংল্যান্ড, হল্যান্ড প্রভৃতি দেশ পরিভ্রমণ করেন। সেখানে অনেক খ্যাতিমান বিজ্ঞানীর সান্নিধ্য আসেন।

তিনি বিদেশ থাকাকালীন সময়ে প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলেন। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা পরিমাপ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি স্বদেশে এসে থার্মোমিটারের প্রতি আকর্ষণবোধ করেন। সেই সময় পর্যন্ত থার্মোমিটারে পারদ ব্যবহারের রীতি প্রচলন হয়নি। তখন তরল হিসেবে থার্মোমিটারে অ্যালকোহলকেই ব্যবহার করা হতো। ফারেনহাইট বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর স্থির করলেন, থার্মোমিটার পারদ ব্যবহার করলেই বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। আর এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৭১৪ খ্রিস্টাব্দে পারদ থার্মোমিটার ব্যবহারের প্রথা প্রবর্তন করেন। তিনি যে স্কেলটির প্রবর্তন করেন সেই স্কেলটির নাম ‘ফারেনহাইট স্কেল’। এই স্কেল প্রবর্তনের মূলে তিনি একটি ধারনায় উপনীত হলেন। সেটি হচ্ছে মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৬ ডিগ্রী। এই হিসেবে তিনি বরফের গলনাংক ৩২ ডিগ্রী নির্ণয় করেছিলেন।

এই ফারেনহাইট স্কেলে পানির হিমাঙ্ক কে বিবেচনা করা হয় ৩২ ডিগ্রী ফারেনহাইট (°F) এবং স্ফুটনাঙ্ক কে বিবেচনা করা হয় ২১২ °F। আর এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অংশ কে ১৮০ ক্ষুদ্র ভাগে ভাগ করা হয়। প্রতিটি ক্ষুদ্র ভাগ হচ্ছে ১ ডিগ্রী ফারেনহাইট। তিনি তাপমাত্রার হিমাঙ্ক হিসাবে 0° প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Categories
Invention

পটেটো চিপস আবিষ্কারের কথা।

লেখার খাতা খুলে বসেছিলাম বিজ্ঞানের বিখ্যাত আবিষ্কারের কথাগুলো লিখে রাখার জন্য। সেখানে পটেটো চিপসের আবিষ্কার কি লেখার মত কোন বিষয়! হঠাৎ মনে হলো কোন আবিষ্কার ছোট নয়। নাট-বোল্ট স্ক্রু আবিষ্কার হয়েছিলো বলে আজ আমরা বিশাল কাঠামো স্বাচ্ছন্দে দাড় করাতে পারছি। আমার আজকের বিষয় মানুষ প্রথম কিভাবে পটেটো চিপসের সন্ধান পেলো।

বেশী বেশী আলু খান, ভাতের উপর চাপ কমান। আলু বাঙালী জীবনের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িয়ে আছে। আলু আমাদের মাছের বিকল্প, মাংসের বিকল্প, নিরামিশে মিলেমিশে আছে। ঝালে, ঝোলে, ভাজিতে কোথায় আলুর ব্যবহার নেই। পৃথিবীতে চালের পর দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য শষ্য হচ্ছে আলু। আলু থেকেই তৈরী হয় পটেটো চিপস। আপনি বলতে পারেন, দ্যাখো গাধাটা বলে কি? পটেটো চিপস আলু থেকে হবে নাতো কি ধানের খড় থেকে হবে!

১৭০০ সালের দিলে ফ্রান্সে মোটা করে কাটা আলু ভাজা বেশ জনপ্রিয় হয়। ফ্রান্সে তখন আমেরিকার রাষ্ট্রদূত থমাস জেফারসন, তিনি ফেন্স ফ্রাই এর প্রেমে পড়ে যান। দেশে ফেরার সময়ে তিনি ফ্রেন্স ফ্রাই এর রেসিপি বা প্রস্তুত প্রণালী সাথে করে নিয়ে যান। মন্টিসেল্লোর অতিথিদের তিনি ফ্রেন্স ফ্রাই খাইয়ে মুগ্ধ করেন। এরপর পুরো আমেরিকায় ফ্রেন্স ফ্রাই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ১৮৫৩ সালের বসন্তের এক সন্ধ্যা। নিউ ইয়র্কের সারাগোটা স্প্রিংসের অভিজাত রিসোর্ট
গুলোতে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড়। মুন লেক লজ রেস্টুর্যারন্টে ডিনারের টেবিলে একজন গেস্ট ফ্রেন্স ফ্রাই এর টুকরা অতিরিক্ত পুরো বলে অভিযোগ করে অর্ডার বাতিল করেন। রেস্তোরায় তখন শেফের দ্বায়িত্বে ছিলে জর্জ ক্রাম নামের একজন নেটিভ আমেরিকান। ক্রাম আরো পাতলা করে কেটে ভেজে ফ্রেন্স ফ্রাই তৈরী করে আনলেন। কিন্তু তাতেও সেই গেস্টের মন ভরলো না। সে ফিরিয়ে দিলো। ক্রাম কিচেনে ফিরে গেলো। যতটা সম্ভব পাতলা করে আলুর স্লাইস কাটলো। তারপর সেটা ভেজে তাতে লবন ছিটিয়ে দিলো। এত পাতলা করলো যাতে গেস্ট ফর্ক দিয়ে এটা তুলতে না পারে। তাতে হিতে বিপরীত হলো। গেস্ট এই নতুন আইটেম খুব পছন্দ করলো এবং পরের দিন আবার অর্ডার দিলো এই বিশেষ আলু ভাজা খাওয়ার জন্য। অনেক অনুরোধ আসতে থাকলো ক্রামের পটেটো চিপসের জন্য। এরপর রেস্তোরার মেনু কার্ডে সারাগোটা চিপস বলে স্পেশাল একটা আইটেম যুক্ত হলো।

১৮৬০ সালে ক্রাম সারাগোটা লেকের কাছেই মাল্টা এভিনিউয়ে তার নিজের রেস্তোরা চালু করলেন। তখনকার সময়ের বিত্তশালী ব্যক্তি বর্গ যেমন উইলিয়াম ভ্যান্ডারবিল্ট, কর্নেলিয়াস ভ্যান্ডারবিল্ট, জয় গোল্ড, হেনরি হিলটন ছিলো তার নিয়মিত খদ্দের। ত্রিশ বছর রেস্তোরা চালানোর পর ১৮৯০ সালে রেস্টোরাটি বন্ধ করে দেন। ৯২ বছর বয়সে ১৯১৪ সালে জর্জ ক্রাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজকের দিনে আমরা কুড়কুড়ে মুড়মুড়ে প্রান পটেটো চিপস খাচ্ছি অথচ জর্জ ক্রামের নাম আমরা কজনই বা জানি। সময়ের নায়কেরা এভাবেই বিস্মৃত হয়ে যায়।

১৮৯৫ সালে ক্লিভল্যান্ডের উইলিয়াম ট্যাপেনডন প্রথম বাসায় পটেটো চিপস তৈরী করে পার্শ্ববর্তী মুদি দোকানগুলোতে বিক্রির জন্য সরবরাহ করতেন। তার বাসাতেই তৈরী হয় পৃথিবীর প্রথম পটেটো ফ্যাক্টরি। ১৮৫৩ সালে জর্জ ক্রামের হাতে আবিষ্কৃত হওয়া পটেটো চিপস এখনো আমেরিকানদের প্রিয় স্ন্যাকস। অতলান্তিকের জলরাশি পেরিয়ে পটেটো চিপস এখন বাঙালী শিশু কিশোরের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। আপনি কি কখনো পটেটো চিপস খেয়েছেন?

Categories
Invention

কম্পাস আবিষ্কারের কথা।

কম্পাস অর্থাৎ দিক নির্দেশক যন্ত্র সম্পর্কে সবারই কম বেশি জানা আছে। সূচালো শলার উপর সরু চুম্বকের পাত বসিয়ে কম্পাস তৈরি করা হয় যেখানে চুম্বক পাতের প্রান্ত দুটি সর্বদা উত্তর-দক্ষিণ দিক নির্দেশ করে থাকে। বর্তমানে কম্পাস আর একটি প্রকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তৈরি হচ্ছে নানা রকম কম্পাস। যেমন: সাধারণ ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত হয় পকেট কম্পাস, আকাশপথে ব্যবহৃত হয় জাইরো কম্পাস আবার নৌপথে ব্যবহৃত হয় নৌকম্পাস। আর এই কম্পাস আবিষ্কারের পেছনেও রয়েছে বিশাল ইতিহাস।

ইউরোপিয়ানরা যখন প্রথম আমেরিকায় যাবার পরিকল্পনা শুরু করে তখনই তারা একটা দিক নির্দেশক যন্ত্রের অভাব অনুভব করে। তারা পরিস্কার দিনের আকাশের সূর্য কিংবা রাতের আকাশের নক্ষত্র বিশেষ করে নর্থ স্টার বা উত্তর নক্ষত্রের অবস্থান দেখে দিক নির্ণয় করতেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আকাশ পরিস্কার না থাকলে কিংবা ঝড় বা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দিক নির্ণয় করা শুধু কষ্টসাধ্যই নয়, অনেকটা অসম্ভব ছিল যা তাদেরকে কম্পাস আবিষ্কারে আরও উদ্বুদ্ধ করে। তার আগেই প্রাচীনকালের মানুষেরা ম্যাগনেট বা চুম্বকের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছিল যে ম্যাগনেট কে ঝুলিয়ে রাখলে এর এক প্রান্ত সর্বদা নর্থ স্টারের দিকে মুখ করে থাকে অর্থাৎ নর্থ স্টারকে নির্দেশ করে।

খ্রিষ্ট-পূর্ব ২০৬ সালের হ্যান রাজত্বকালে প্রাচীন চীনারা ভবিষ্যৎবাণী করার জন্যে প্রথম কম্পাস আবিষ্কার করেছিল বলে ধারনা করা হয়। বড় ধরনের চামচের ন্যায় চুম্বকজাতীয় পদার্থের সাহায্যে বর্গাকৃতি ব্রোঞ্জ প্লেটে এটিকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১০৪০-১০৪৪ সাল পর্যন্ত সং রাজত্বকালে সামরিকবাহিনীর মাধ্যমে নৌপথ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করতো। এছাড়াও, ১১১১-১১১৭ সাল পর্যন্ত নৌপথ নজরদারীতে এর প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপে সর্বপ্রথম কম্পাসের ব্যবহারের প্রামাণ্য দলিল চিত্রিত রয়েছে ১১৮৭ থেকে ১২০২ সালের মধ্যে। পারস্যে ১২৩২ সালে কম্পাস ব্যবহার করা হয়েছিল। ইউরোপে ১৩০০ সালে শুষ্ক কম্পাস আবিষ্কৃত হয়। বিংশ শতকের প্রথমার্থে এর পরিবর্তে তরল পদার্থে পরিপূর্ণ চৌম্বকীয় কম্পাসের প্রচলন ঘটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও কম্পাস ব্যবহৃত হয়েছিল।

বর্তমান বিজ্ঞান দিক নির্দেশনার জন্য হাজারো প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে, জিপিএস এর কথায় হয়তো আপনাদের অনেকেরই জানা। তারহীন প্রযুক্তি দিক নির্দেশনাকে একটা ছেলেখেলাই বানিয়ে ফেলেছে কিন্তু এসবকিছুর শুরুটা কিন্তু হয়েছিল এই সাধারণ একটা কম্পাসের মাধ্যমেই। এই কম্পাস ব্যবহার করেই ইউরোপিয়ানরা প্রথম আমেরিকা সফর করতে সক্ষম হন।

Categories
Invention

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ও বিদ্যুতের আবিষ্কারের ইতিহাস

বিদ্যুৎ আবিষ্কারের পিছনে অনেক ব্যক্তির অবদান রয়েছে। বিদ্যুৎ শক্তির একটি ফর্ম এ বিষয়টি কারও মাথায় শুরুতে আসেনি। এটি প্রকৃতিতে ঘটে। তাই বিদ্যুৎকে ‘উদ্ভাবিত’ বলা হয় না। এ আবিষ্কার নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। ইল গাছের শক সম্পর্কে মানুষ অনেক আগে থেকেই জানত। অনেকে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনকে বিদ্যুতের আবিষ্কারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার পরীক্ষাগুলো বজ্রপাত এবং বিদ্যুতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। আসলে দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে আবিষ্কৃত হয়েছিল বিদ্যুৎ। প্রায় ৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন গ্রিকরা আবিষ্কার করেছিলেন যে অ্যাম্বারের ওপর পশম পেষণ করলে দুটির মধ্যে একটি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তাদের আবিষ্কৃত বিষয়টি আসলে স্ট্যাটিক বিদ্যুৎ ছিল। উইলিয়াম থগিলবার্ট একমুখী বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন। নিকোলা টেসলা অল্টারনেটিভ বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন। মাইকেল ফ্যারাডে সংজ্ঞায়িত করেন, ইলেকট্রন, ভোল্টেজ এবং রেজিসটেন্স মধ্যে সম্পর্ক। টমাস আলভা এডিসন সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেন। আর বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন সর্বপ্রথম বিদ্যুৎ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের বিদ্যুৎ আবিষ্কার নিয়ে একটি মজার গল্প আছে। আকাশের চমকানো বিদ্যুৎ আর আমাদের ঘরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যে একই জিনিস তা জানতেন না তখনকার বিজ্ঞানীরা। বেঞ্জামিন প্রমাণ করে দেখান যে, আকাশের চমকানো বিদ্যুৎ আর ঘরে তৈরি করা বিদ্যুৎ একই জিনিস। ১৭৫২ সালের ১৫ জুন তিনি প্রচন্ড এক ঝড়ো বাতাসে বিপজ্জনক এক পরীক্ষা করে বসেছিলেন। বজ্রপাতও যে বিদ্যুৎ তা দেখানোর জন্য তিনি বজ্রধ্বনির সময় একটি ঘুড়ি উড়িয়ে যাচ্ছিলেন। বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের জন্য তিনি কিট স্ট্রিংয়ের একটি মেটাল ‘কি’ বেঁধে দেন। তিনি ঠিকই ভেবেছিলেন। মেঘ থেকে বিদ্যুৎ নিচে প্রবাহিত হয়। তিনি ভাগ্যবান ছিলেন যে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হননি। ফ্রাঙ্কলিন জানতেন না কত বড় বিপদের কাজ করছেন তিনি। তার মেটাল ‘কি’-এর মধ্যে বয়ে যায় প্রবল বিদ্যুতের ঝলক। কারণ এ কাজে দুজন মারা গিয়েছিল। আর এভাবেই বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন প্রমাণ করেন বাজ তথা বজ্রপাত এবং ক্ষুদ্র ইলেকট্রিক স্পার্ক একই জিনিস। ফ্র্যাংকলিনের এ কাজ থেকে অনেক বিজ্ঞানী বিদ্যুৎ অধ্যয়ন করেছেন এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে আরও বুঝতে শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৭৯ সালে টমাস এডিসন বৈদ্যুতিক বাল্ব উদ্ভাবন করেন। সেই সঙ্গে আলোকিত হয় বিশ্ব।

Categories
Invention

ইমেইল আবিষ্কারের কথা।

মেইল তথা ইলেক্ট্রনিক মেইল হল ডিজিটাল বার্তা যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়। আমরা
কি জানি কিভাবে ই-মেইল আবিষ্কার হলো? হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। এখানে আমরা জানবো আবিষ্কারের কথা- ই-মেইল সম্পর্কে।

ইলেকট্রনিক মেইল সংক্ষেপে ই-মেইল বলা হয়। এই ই-মেইল হচ্ছে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি। ই-মেইল পেতে প্রথম দিকের ই-মেইল ব্যবস্থায় প্রেরক এবং প্রাপক দুজনকেই অনলাইনে থাকতে হত। এখনকার ই-মেইলগুলোতে এই সমস্যা নেই। ই-মেইল সার্ভারগুলো মেইল গ্রহণ করে এবং সংরক্ষণ করে পরে পাঠায়। ব্যবহারকারী বা প্রাপককে অথবা কম্পিউটারকে অনলাইনে থাকার প্রয়োজন হয় না শুধু মাত্র কোন ই-মেইল সার্ভারে থাকলেই সচল ই-মেইল ঠিকানা থাকলেই হয়।

প্রথম ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল দুটি কম্পিউটারের মধ্যে। এতে আরপানেট (ARPANET) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে প্রথম বার্তা ছিল “QWERTYUIOP”।

টাইম শেয়ারিং কম্পিউটার- ১৯৬০ সালের প্রথম দিকে এ ধরনের কম্পিউটার উন্নয়ন করা হয় যা একের অধিক প্রোগ্রাম নির্বাহ করতে সক্ষম। এতে অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এতে প্রোগ্রাম লিখেছিল বার্তা আদান-প্রদান করার জন্য। এমনকি এতে বিভিন্ন টার্মিনালের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে চ্যাট করাও যেতো। এটির প্রধান সীমাবদ্ধতা একদল ব্যবহারকারী একটি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে।

ই-মেইলে বার্তা পাঠানো ও বার্তা পড়া- ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে রে টমলিনসন একটি ছোট দল নিয়ে ট্যানেক্স অপারেটিং সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করছিলেন। এতে ছিল লোকাল ই-মেইল প্রোগ্রাম যাকে বলা হতো SNDMSG এবং READMAIL। ১৯৭১ সালের শেষের দিকে টমলিনসন প্রথম আরপানেটে (ARPANET) ই-মেইল এপ্লিকেশন উন্নয়ন করিছিলেন যার মাধ্যমে এই পদ্ধতির হালনাগাদ করা হয়। পরে বাণিজ্যিক চিন্তা-ভাবনা করা হয়েছিল। এতে ই-মেইল এড্রেস বা ঠিকানা হিসেবে ব্যবহারকারীর নাম@হোস্ট ব্যবহার ([email protected]) করা হয়। এর পরে এই ই-মেইল পদ্ধতির আরো উন্নয়ন সাধিত হতে থাকে।

Categories
Invention

প্রথম নোবেল জয়ী নারী ‘মারি ক্যুরি’ এবং রেডিয়াম আবিষ্কারের কথা।

রেডিয়াম হচ্ছে একটি তেজস্ক্রিয় রাসায়নিক মৌল পদার্থ। এই মৌলিক পদার্থের পারমানবিক সংখ্যা ৮৮। এর মাধ্যমে প্রথম পারমানবিক শক্তি সম্পর্কে মানুষ জানতে পারে।

ফরাসি বৈজ্ঞানিক বেকেরেল একদিন ধাতু ইউরেনিয়ামের একটি অংশ লবণ দিয়ে পরীক্ষা করার সময় লক্ষ্য করলেন ওই লবণ থেকে এক প্রকার অদৃশ্য রশ্মি বের হয় যা অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করে যেতে পারে। তিনি দেখেছিলেন এই অদৃশ্য রশ্মি একটা কালো কাগজে মোড়া ফটোগ্রাফির প্লেটের উপরও বিক্রিয়া করে। কোনো রশ্মির ভেদ ক্ষমতা সম্পর্কে এটাই সম্ভবত প্রথম আবিষ্কার। এই ব্যাপারটি কুরি দম্পত্তির গোচরে আনলেন বেকেরেল। তাঁরা অন্য গবেষণা ছেড়ে এই সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করলেন। এসময় তাঁরা স্থিরও করলেন এই বিষয়টিকে ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার কাজে গবেষণার বিষয় হিসেবে নিবেন।

গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন মারি কুরি। একসময় পিচব্লেডের ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় মেরি নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন মাস গবেষণাগার ছেড়ে বিশ্রাম নিলেন। ১৮৯৭ সালে মেরির প্রথম সন্তান আইরিনের জন্ম হল। সন্তান জন্মের পর কিছুদিন গবেষণা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখলেন। আবার আইরিনের বয়স কয়েক মাস হতেই গবেষণাগারে কাজে আবার স্বামীর সঙ্গী হলেন মারি। ১৮৯৮ থেকে ১৯০২ সাল এই ৪৫ মাস অমানসিক পরিশ্রম করলেন স্বামী-স্ত্রী। আট চালার নিচে তাঁর স্বামী নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিমগ্ন থাকলেন।

প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন পিচব্লেডের মধ্যে শতকরা একভাগ অন্তত অদৃশ্য বস্তুটি পাওয়া যাবে। এখন সে সব চিন্তা কোথায় হারিয়ে গেল। নতুন পদার্থের তেজস্ক্রিয়তা এত বেশি যে অশোধিত আকারের মধ্যে তার অতি সামান্য পরিমাণে উপস্থিতিও সত্যিই বিস্ময় জাগাত। মূল আকারের সঙ্গে এমন অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে যে, সেই ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র জিনিসটি উদ্ধার করাই হল কঠিন কাজ। দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছর গড়িয়েই যেতে লাগল। কিন্তু পিয়ের-মেরি হতাশ হলেন না- সেই অদৃশ্য পদার্থ তাঁদের মুগ্ধ করেছে। শেষ পর্যন্ত সাধনায় জয়ী হলেন পিয়ের-মেরি দুজনে। একটির পরিবর্তে দুটি নতুন মৌল পদার্থ আবিষ্কার করলেন। একটি নিজের দেশ পোলান্ডের নাম অনুসারে পলেনিয়াম এবং অন্যটি নাম রাখা হল রেডিয়াম।

মারি ক্যুরি ১৯০২ সালের ২৮ মার্চ বিবরণ পেশ করে বলেন রেডিয়ামের পারমানবিক ভর ২২৫.৯ যা বর্তমান মান ২২৬.০২ থেকে খুব বেশি কম নয়। তারা এই ক্লোরাইড যৌগ থেকে রেডিয়াম পৃথক করেছিলেন। মারি ক্যুরি এবং তার সহগবেষক এ ডেবিয়ের্নে ০.১০৬ গ্রাম রেডিয়াম ক্লোরাইড বিশিষ্ট দ্রবণকে তড়িৎ বিশ্লেষণ করেন। এর ফলে পারদসঙ্কর হিসেবে পারদ ক্যাথোডে রেডিয়াম সঞ্চিত হয়। পারদসঙ্করটিকে লোহার পাত্রে নিয়ে হাইড্রোজেন। প্রবাহিত করা হয় এবং একই সাথে উত্তপ্ত করা হয়। এতে সঙ্কর ধাতু থেকে পারদ মুক্ত হয়ে পাত্রের তলায় রূপার ন্যায় সাদা চকচকে ধাতুর মত জমা হয়। আর বিশুদ্ধ রেডিয়াম পৃথক হিসেবে পাওয়া যায়।

এই রেডিয়ামের আবিষ্কার বিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য সাফল্যসমূহের একটি। পদার্থের ধর্ম এবং গঠন বিষয়ে মানুষের সম্যক ধারণা অর্জনে রেডিয়াম অগ্রগণ্য। তাছাড়া এই মৌলটি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই প্রথম পারমানবিক শক্তির ধারণা আসে।

Categories
Invention

লেজার রশ্মি আবিষ্কার এবং লেজার রশ্মির নানা প্রয়োগ।

লেজার আজ আর কল্পবিজ্ঞান ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই – আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে৷ এই প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে চলেছে।

লেজার আজকাল আর বিস্ময়কর কোনো বিষয় নয়৷ প্রেজেন্টেশনের সময় লেজার পয়েন্টার দেখা যায়৷ অনেক অনুষ্ঠানে লেজার দিয়ে আকাশে রঙিন নক্সা ফুটিয়ে তোলা হয়৷ তা সত্ত্বেও লেজারের উপর এখনো কল্পবিজ্ঞানের একটা ছাপ রয়েছে৷ ইস্পাতের মতো শক্ত বস্তুকে আলোর রশ্মি কেটে ফেলছে – এটা দেখলে সত্যি বিস্ময়কর লাগে৷

চার্লস হার্ড টাউনস ও আর্থার লিওনার্ড শলো এর তাত্ত্বিক কাজের ভিত্তিতে ১৯৬০ সালে থিওডোর হ্যারল্ড মাইম্যান হিউজেস রিসার্চ ল্যাবটরিস এ প্রথম লেজার তৈরী করেন। সাধারন আলোতে বিভিন্ন মাপের তরঙ্গ থাকে। একই বর্ণের। আলোতে একই মাপের তরঙ্গ থাকলেও তারা বিভিন্ন তলে চলে। কিন্ত লেজারে সব তরঙ্গই হয় একই মাপের এবং তারা চলে একই তলে অর্থাৎ লেজার রশ্মি সংসক্ত। এ রশ্মি অত্যন্ত ঘন সংবদ্ধ একমুখী বলে তা অনেক পথ অতিক্রম করতে পারে এবং এরা মাত্র কয়েক মাইক্রন (১ মাইক্রন = ১০-৩ মি. মি.) চওড়া। এজন্য এতে প্রচণ্ড তাপশক্তি সঞ্চার করা সম্ভব হয় এবং
তাপমাত্রা সূর্য পৃষ্ঠের তাপমাত্রার চেয়েও বেশি হয়।

ইলেকট্রিক বাল্বের মতো লেজারও আলো বিকিরণ করে৷ তবে এখানেই মিল শেষ৷ সাধারণ বাল্ব চারিদিকে বিস্তারিত স্পেকট্রামে নানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিকিরণ করে৷ এই সব তরঙ্গ দৈর্ঘ্য মিলে আমরা শুধু সাদা আলোই দেখি৷ লেজার কিন্তু নির্দিষ্ট একটি তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আলো বিকিরণ করে৷ সে জন্য লেজার রশ্মি সবসময়ে এক রংয়ের হয়৷ এই আলো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত হয়৷ চারিদিকে নয় – নির্দিষ্ট একটি বিন্দুর উপর তার ফোকাস থাকে।

১৯৬০-এর দশকে উদ্ভাবনের পর লেজার প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি হয়ে চলেছে৷ লেজার অত্যন্ত নিপুণভাবে দূরত্ব মাপতে পারে৷ তা দিয়ে কাটা যায়, জোড়া যায়৷ লেজার দিয়ে চোখের এমন অপারেশন করা হয়, যা এককালে অসম্ভব মনে হতো৷

লেজার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে পড়েছে৷ দোকানের কাউন্টারের স্ক্যানার থেকে শুরু করে ডিভিডি প্লেয়ার – সব জায়গায় তার প্রয়োগ ঘটছে৷ উচ্চ মানের গ্লাস-ফাইবার নেটওয়ার্কে লেজার টেলিফোন সংলাপ, টেলিভিশনের ছবি, ইন্টারনেট তথ্য আদান-প্রদান করছে৷

Categories
Invention

ইউরেনিয়াম আবিষ্কারের কথা।

ইউরেনিয়ামের একই দেহে দুটি রূপ, একটি হলো মানুষের কল্যাণকারী আর জীবনদায়ী, অপরটি মহাবিধ্বংসকারী দানবিক মহাশক্তি। আর মজার ব্যাপার হলো আসলে এ দুটিরই রূপ এক : ইউরেনিয়াম থেকে উদ্ভূত তেজস্ক্রিয় বিচ্ছুরণ।

রুপালি-ধূসর বর্ণের তেজস্ক্রিয় ধাতু ইউরেনিয়াম। এটি একটি মৌল। এটি মূলত পারমাণবিক শক্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার হয়ে থাকে। সর্বপ্রথম ইউরেনিয়াম আবিষ্কার করেন জার্মান রসায়নবিদ মার্টিন হাইনরিখ ক্ল্যাপরথ ১৭৮৯ সালে। তিনি ইউরেনাস গ্রহের নামে এর নাম রাখেন ‘ইউরেনিয়াম’। ১৮৬৯ সালে রুশ রসায়নবিদ দিমিত্রি মেন্ডেলিভ ও জার্মান বিজ্ঞানী লুথার মেয়র মিলে আধুনিক পর্যায় সারণি প্রকাশ করেন। এই পর্যায় সারণিতে ইউরেনিয়াম ৯২তম মৌল। ১৮৯৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়া আবিষ্কার করেন। ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী সর্ববৃহৎ ইউরেনিয়াম উৎপাদনকারী দেশ কাজাখস্তান। এর পরই আছে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া।

ইউরেনিয়াম বেশি ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ইউরেনিয়াম থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কলকারখানা চালনাসহ নগর-বন্দর আলোকিত করা হয়।

ভয়াবহ মারণাস্ত্র পারমাণবিক বোমা ও হাইড্রোজেন বোমা তৈরির অন্যতম উপকরণ এই ইউরেনিয়াম। পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় ইউরেনিয়াম-২৩৫। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান নামে দুটি বোমা নিক্ষেপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই দুটি বোমা তৈরিতে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউরেনিয়ামের খনি ও কারখানায় কাজ করলে এর তেজস্ক্রিয়ায় যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মানুষের কিডনি, মস্তিষ্ক, যকৃত, হৃৎপিণ্ডসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়ার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়ার কারণে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

Categories
Invention

‘সাদা সোনা’ আবিষ্কার করলো জার্মানি।

অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ হলেও জার্মানি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়৷ আধুনিক প্রযুক্তির অনেকটাই এখন ‘সাদা সোনা’, অর্থাৎ লিথিয়াম-নির্ভর৷ তবে বিজ্ঞানীদের সাফল্যে এখন লিথিয়াম রপ্তানির স্বপ্নও দেখছে জার্মানি৷

মোবাইল ফোন, ট্যাব, ঘড়িসহ অনেক কিছুই লিথিয়াম ব্যাটারি ছাড়া চলে না৷ এই লিথিয়াম সব দেশে হয় না৷ বিশ্বের প্রায় ৮০ ভাগ লিথিয়াম হয় খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ চিলি, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায়৷ এ কারণে জার্মানির তৈরি লিথিয়াম ব্যাটারিতেও থাকে আমদানি করা লিথিয়াম৷ তবে সেই দিন ফুরাতে চলেছে৷

সম্প্রতি থার্মাল ওয়াটার থেকে লিথিয়াম আহরণের উপায় উদ্ভাবন করেছেন জার্মানির কার্ল্সিগফ্রুহে ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (কেটিটি)-র বিজ্ঞানীরা৷

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা প্রতি লিটার (থার্মাল ওয়াটার) থেকে ২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লিথিয়াম বের করতে পেরেছি৷ কেটিটি-র গবেষক ইয়েন্স গ্রিমার মনে করেন, মাটির নিজে যে পরিমাণ লিথিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে, তার পুরোটা উত্তোলন করা হলে তা দিয়ে জার্মানির চাহিদার অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে৷

মাটির নীচ থেকে লিথিয়াম উত্তোলনের সহজ একটা প্রযুক্তিও উদ্ভাবন করেছেন ইয়েন্স গ্রিমার ও তার সহকর্মী ফ্লোরেন্সিয়া সারাভিয়া৷ গ্রিমার-সারাভিয়া নামে পেটেন্টও করা হয়েছে ৷ জার্মান দুই বিজ্ঞানীর উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সহায়তায় প্রচলিত প্রযুক্তির তুলনায় অনেক সহজে এবং কম সময়ে, বেশি লিথিয়াম তোলা যাবে৷

ℹ সুত্রঃ “ডেইলি বাংলাদেশ” এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

Categories
Invention

ট্যাংক আবিষ্কারের কথা।

যুদ্ধক্ষেত্রের সবথেকে শক্তিশালী একটি যুদ্ধযান। একে যুদ্ধক্ষত্রের রাজা বলা হয়। একটি ট্যাংক মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর সমস্ত শরীর অত্যন্ত পুরু বর্ম দ্বারা আবৃত থাকে। ক্যাটারপিলার ট্র্যাক থাকায় একটি ট্যাংক দুর্গম জায়গাতেও সহজেই চলতে পারে। এর সব থেকে ভয়ংকর অস্ত্রটি হচ্ছে এর প্রচন্ড ক্ষমতাশালী কামান যা দিয়ে একটি ট্যাংক অনেক দূর পর্যন্ত গোলা ছুঁড়তে পারে বা প্রতিপক্ষের যুদ্ধাযানকে ধ্বংস করতে পারে। কামান ছাড়াও এই যুদ্ধযানে মেশিনগান, স্মোকবম্ব লঞ্চার অথবা ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল থাকে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে আগে করে ট্যাংকের ব্যবহার শুরু করে সামরিক বাহিনীগুলো। এক্ষেত্রে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করে ফরাসী এবং ইংরেজরা। ১৯১৫ সালে ইংল্যান্ডের লিঙ্কনে অবস্থিত উইলিয়াম ফস্টার এন্ড কোং প্রথম ট্যাংকের প্রোটোটাইপ বানায় যার নাম রাখা হয়েছিল “লিটল উইলি”। এই প্রোটোটাইপ থেকে ১৯১৬ সালে বানানো হল প্রথম যুদ্ধ ট্যাংক ব্রিটিশ মার্ক ১ এবং সেই বছরের সেপ্টেম্বরে সোমের যুদ্ধে প্রথমবারের মতন ট্যাংকের ব্যবহার হল।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীতেও ট্যাংক আছে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে পরিচিত ও আধুনিক ট্যাংক হচ্ছে দুর্জয় ট্যাংক। এটি রাশান টি-৭২ এবং পাকিস্তানি আল জারার ট্যাংকের চেয়েও উন্নত।

যুদ্ধযান হিসেবে ট্যাংকের ব্যবহার শতবর্ষ পার করে ফেলেছে। ট্যাংক শব্দটি এসেছে একটি সাংকেতিক নাম হিসেবে। মূলত যে কারখানায় ট্যাংক বানানো হচ্ছিল সেই কারখানার শ্রমিকরা এই যানকে প্রথমে ডাকতো স্থল জাহাজ বা ক্যাটারপিলার মেশিনগান ধ্বংসকারী যান নামে। পরে এই যুদ্ধযান সম্পর্কিত কমিটিতে এর উদ্দেশ্য গোপন করার জন্য যন্ত্রটিকে “ট্যাংক” নামকরণ করা হয়।

Categories
Invention

চাকা আবিষ্কারের কথা।

আজকের আধুনিক সময়ে এসে যদি প্রশ্ন করা হয়, মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন কোনটি? সেক্ষেত্রে কী হবে আপনার উত্তর? আপনি হয়তো ভাবতে বসবেন, কম্পিউটার নাকি মোবাইল- কোনটিকে এগিয়ে রাখা যায়। কিংবা আরেকটু এগিয়ে গিয়ে আপনি হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির কথাও ভাবতে পারেন।

কিন্তু না, এগুলো হয়তো দূর ভবিষ্যতে কোনো এক সময় মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এখন পর্যন্ত, এই ২০১৯ সালে দাঁড়িয়েও, যেই উদ্ভাবনটিকে শীর্ষস্থানে রাখতেই হবে, তা হলো চাকা।

তবে এত কিছু থাকতে চাকা কেন? কারণ- চাকাই হলো সেই জিনিস, যা মানুষের মন্থর জীবনে প্রথম সত্যিকারের গতি সঞ্চার করেছে। একটা সময় পর্যন্ত মানুষের বিচরণক্ষেত্র ছিল খুবই সীমিত। খুব দূরে কোথাও যাওয়া, নতুন কোনো দেশ আবিষ্কার করা, কিংবা নতুন কোনো সম্প্রদায়ের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদেরকে আরও সমৃদ্ধ করার উপায় অনেকদিন তাদের ছিল না। চাকার মাধ্যমে তাদের সেই অপূর্ণতা দূর হয়। আর আজ মানুষ খুব কম সময়ের মধ্যেই কোনো দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে, এমনকি বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছে।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের দিকে প্রাচীন মেসোপটেমিয়াতে চাকা আবিষ্কৃত হয়। শুরুতে কুমোরদের কাজে এটির ব্যবহার ছিলো। ককেশাসের উত্তর দিকে বেশ কিছু কবর পাওয়া গেছে যাতে ৩৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ হতে ঠেলাগাড়িতে করে মৃতদেহ কবর দেয়া হয়েছে। ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি সময়ে তৈরি করা একটি মাটির পাত্র দক্ষিণ পোল্যান্ডে পাওয়া গেছে, যাতে চার চাকার একটি গাড়ির ছবি আছে। এটিই এ পর্যন্ত প্রাপ্ত চাকাযুক্ত গাড়ির ছবির সবচেয়ে পুরানো নিদর্শন।

শুরুতে চাকা নির্মাণ করা হতো কাঠের চাকতি দিয়ে, যার কেন্দ্রে অক্ষদণ্ডের জন্য একটি গর্ত করা হতো। স্পোকযুক্ত চাকা অনেক পরে উদ্ভাবিত হয়। এই রকমের চাকার ব্যবহার গাড়ির ওজন কমিয়ে আনে, যার ফলে দ্রুতগতির বাহন তৈরি করা সম্ভব হয়। প্রায় ২০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের সমকালীন আন্দ্রোনভ সংস্কৃতিতে স্পোকযুক্ত চাকার ব্যবহার পাওয়া যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ১ম সহস্রাব্দ নাগাদ কেল্টিকদের রথগুলোতে এমন চাকা ব্যবহার করা যেতো, যার পরিধি বরাবর লোহার বেষ্টনি দেয়া থাকতো। ফলে এ ধরনের চাকাগুলো অনেক মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হতো। স্পোকযুক্ত চাকা এভাবেই প্রায় অপরিবপর্তিত অবস্থাতে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ব্যবহৃত হয়ে আসে। ১৮৭০ খ্রিঃ এর দিকে চাকায় নিউম্যাটিক টায়ার ব্যবহার করা শুরু হয়।

Categories
Invention

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল আবিস্কারের কথা

স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এমন একজন মানুষও হয়ত পাওয়া যাবে না যে অ্যান্ড্রয়েড শব্দটির সাথে পরিচিত নয়। তবে প্রকৃতপক্ষে অ্যান্ড্রয়েড বলতে কি বোঝায় আর কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে ধারনা বেশীর ভাগ মানুষেরই নেই। সহজ ভাষায় অ্যান্ড্রয়েড হল একগুচ্ছ সফটওয়্যারের সমষ্টি যেখানে মোবাইলের ওপারেটিং সিস্টেম এবং এপ্লিকেশন সমুহ এক সাথে থাকে। এটি মোবাইলের একটি অপারেটিং সিস্টেমের নাম, একে তৈরি করা হয়েছে মূলত লিনাক্স কার্নেলের উপর নির্ভর করে। বর্তমানে একে তৈরি এবং এর উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছে গুগল। ২০০৫ সালে অ্যান্ড্রয়েড ইনকর্পোরেটকে গুগল ইনকর্পোরেট কিনে নেয়। গুগলের সাথে আরো অনেকগুলো ডেভেলপার বা উন্নয়নকারী একত্রে কাজ করে।

২০০৩ সাল, মাসটা ছিল অক্টোবর। এই মাসেই ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যান্ড্রয়েড ইনকর্পোরেট এর জন্ম হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এন্ডি রুবিন, রিচ মাইনার, নিক সিয়ারস এবং ক্রিস হোয়াইট। ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতাগণ যার কারনে অনেকটা গোপনে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালাতে হত।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তারা শুধু এটাই বলতেন যে, তারা মোবাইলের জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছেন। তারা মূলত ডিজিটাল ক্যামেরায় কাজ করবে এমন একটি ভালো মানের অপারেটিং সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করছিলেন।

তারিখটা ছিল ২২ অক্টোবার, ২০০৮ সাল। এই দিনে প্রথম এইচটিসি ড্রিম স্মার্ট  ফোনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে ছাড়া হয়। ২০০৮ সালের ৯ ডিসেম্বারে ১৪ টি সদস্যের আরো একটি দল যোগ দেয় এর সাথে। এই দলে যেসব কোম্পানী ছিল সেগুলো হল, এআরএম হোল্ডিংস, তোষিবা কর্পোরেশন, এথিরস কমিউনিকেশন, সনি এরিকসন, আসুসটেক কম্পিউটার ইনকর্পোরেট, সফটব্যাংক, জারমিন লিমিটেড, প্যাকেটভিডিও, হাওয়াই টেকনোলজিস এবং ভোডাফোন।  

২০১০ সালে অ্যান্ড্রয়েড দিয়ে চালানো স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট বের করে গুগল। গুগল নেক্সাস নামের এই ডিভাইস গুলো মূলত তৈরি হয় এর পার্টনারদের সহযোগীতায়। “নেক্সাস ওয়ান” নাম দিয়ে এইচটিসি গুগলের সাথে মিলে সর্বপ্রথম নেক্সাস স্মার্টফোন তৈরি করে। এর পর থেকে গুগলের এমন ধারার ডিভাইসের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে যেমনঃ এলজি তৈরি করেছে নেক্সাস ৫, এসস এর তৈরি করা ট্যাবলেট হল নেক্সাস ৭ ইত্যাদি। 

অ্যান্ড্রয়েডের মুল পন্য হিসেবে নেক্সাস ডিভাইসটি কে বাজারে আনে গুগল। কারন এটি ছিল একেবারে আপডেট, নতুন এবং উন্নত অপারেটিং সিস্টেমের। এর সাথে কিছু হার্ডওয়্যার এবং কিছু সফটওয়্যারের বৈশিষ্ঠ্যও সংযোজন করা হয়েছিল।

২০১৩ সালে খবর বেরোয় যে, অ্যান্ড্রয়েড এর প্রধান অর্থাৎ এন্ডি রুবিন আর অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কাজ করছেন না, তিনি গুগলের ভিন্ন এক প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন। তার স্থানে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছেন সুন্দর পিচাই যিনি পূর্বে গুগল ক্রোম এর বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।