Categories
Bangla Tradition

আবহমান বাংলার লোকজ ঐতিহ্য বলী খেলা।

বলীর আভিধানিক অর্থ পরাক্রমশালী বীর পুরুষ। দ্বৈরথ যুদ্ধ যা দু’জন মল্লবীরের শারীরিক শক্তির পরীক্ষা বিশেষ। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে খেলাটি ‘কুস্তি’ নামে পরিচিত। কুস্তি ফারসি শব্দ। শক্তি, সাহস ও কৌশলই বলীদের বিজয়ী হবার প্রধান মন্ত্র। তবে বিখ্যাত বলীদের সেকালে মাল বা মল্ল নামে অভিহিত করা হতো। সমাজে এরা ছিলেন সম্মানের পাত্র। কোথাও কোথাও পাড়া-মহল্লা বা বাড়ির নাম মাল-মল্ল এবং বলীদের নামে নামকরণ হতে দেখা যায়।

একসময় বলী খেলাই ছিল গ্রামীণ জনসাধারণের অবসরযাপন ও চিত্তবিনোদনের অন্যতম খোরাক। গ্রামীণ জনপদে অনেক খেলাই ছিল; কালের বিবর্তনে অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। অনেক নতুন নতুন খেলার উৎপত্তি হয়েছে। কিন্তু লৌকিক খেলাধুলার অংশ হিসেবে বলীখেলা সীমিত পরিসরে হলেও টিকে রয়েছে। আগের দিনে প্রায় প্রতিটি গ্রাম-ইউনিয়ন পর্যায়ে বড় আয়োজনে বলীখেলা হতো, দেশের এক স্থানের বলী অন্য স্থানে গিয়ে খেলতেন ও বিজয়ী হয়ে বীরের বেশে ঘরে ফিরতেন। সঙ্গে আনতেন পুরস্কার হিসেবে অর্থ ও মেডেল। পরিবারের সঙ্গে গ্রামবাসী আনন্দে শরীক হতেন। কেউ কেউ দূর-দূরান্তে সঙ্গী হয়ে চলে যেতেন ও নিজেদের বলীদের উৎসাহ দিতেন। সমাজে বলী খেলা ছিল একাধারে অনাবিল আনন্দের উৎস, অপরদিকে দৈহিক ও মানসিক প্রশান্তি।

‘বাংলার ঐতিহ্যের কথা’কে কিছু জানাতে এবং জানতে পারসোনাল প্রোফাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি নারীদের কোমর তাঁতের কথা।

পাহাড়ি নারীদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোমর তাঁত। নিজেদের পরিধেয় বস্ত্র নিজেরাই তৈরি করেন কোমর তাঁতের মাধ্যমে। এ কোমর তাঁতকে আবার অনেকে কিছুটা হলেও বাণিজ্যিক ভাবেও নিয়েছেন। অবসর সময়ে নিজ উদ্যোগে নিজ ঘরে বসে কোমর তাঁতের মাধ্যমে বস্ত্র তৈরি করেন। যা চাহিদা অনুযায়ী বিক্রিও করা হয়।

পাহাড়ের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে রয়েছে কম-বেশি কোমর তাঁত। প্রত্যেক ঘরেই নারীরা কোমর তাঁতের মাধ্যমে তৈরি করছেন নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। এসবের মধ্যে রয়েছে থামি, পিনন, ওড়না, রুমাল, ব্যাগসহ নানা কিছু। স্থানীয় গ্রাম এবং বাজারে এসব বিক্রি করে আয়ও করেন অনেক নারী।

পাহাড়ের জুম অধ্যুষিত দরিদ্র এলাকায় জুমচাষ শেষ হওয়ার পর বেশির ভাগ নারী বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁরা ঘরে অলস সময় না কাটিয়ে কোমর তাঁতে কাপড় তৈরি করেন। বাজারে ভালো দাম থাকায় কোমর তাঁতে কাপড় তৈরির মাধ্যমে সংসারের চাহিদার একটি অংশের জোগান হয় নারীদের এ ক্ষুদ্র শিল্প থেকে।

‘বাংলার ঐতিহ্যের কথা’কে কিছু জানাতে এবং জানতে পারসোনাল প্রোফাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য তেলের ঘানি

সময় পরিবর্তনের সাথে আর আধুনিক যন্ত্রপাতির আদলে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন যাত্রা। সেই সাথে এই বাংলা থেকে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য তেলের ঘানি। এক সময় মানুষের রান্না বান্না ও গায়ে মাখার জন্য যে তেল ব্যবহৃত হতো। তার একমাত্র অবলম্বন ছিল কাঠের তৈরী ও গরুর কাঁধে ঘুরানো ঘাঁনি। আজ কালের আবর্তনে গ্রাম-বাংলার চিরায়িত সেই ঘাঁনি মেশিন এখন বিলিনের পথে।
বাংলাদেশ এক রুপ ও বৈচিত্রময় দেশ। এদেশে হাজার রকমের সংস্কৃতি ও গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধারণ করা হয়। তেলের ঘাঁনি তার মধ্যে অন্যতম একটি গ্রাম-বাংলার প্রচীন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। 

কিন্তু আধুনিক যান্ত্রিকয়তার অগ্রাসনে গ্রামগঞ্জের এ যুগের প্রজন্মের কাছে কাঁঠের তৈরী ঘানি এখন শুধুই যেন রূপকথার গল্প। এখন সরিষা ও নারকেল মাড়াইসহ ঘানি মেশিনের যাবতীয় কাজ করছে ইঞ্জিনচালিত মেশিন। তাই গ্রাম-বাংলার প্রচীন ঐতিহ্য কঠের তৈরী ঘানি আজ অসহায় আধুনিক মেশিনের কাছে।
প্রযুক্তির এই যুগে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে উন্নত প্রযুক্তির মেশিন। বিদ্যুৎ চালিত এ প্রযুক্তিতে অল্প সময়ে অনেক কাজ করা যায়। উন্নত প্রযুক্তির মেশিন তৈরীর ফলে সুখ প্রিয় বাঙালী পরিবার আর সময় নষ্ট করে, সারাদিন বসে থেকে, ঘানি দিয়ে সরিষা ও নারকেল মাড়াই করে তেল তৈরী করতে চায় না। আর তাই কালের বিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির কাছে হার মেনে কাঁঠের তৈরী এই ঘানি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

বাংলার ঐতিহ্যের কথা’কে কিছু জানাতে এবং জানতে পারসোনাল প্রোফাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী সেচযন্ত্র ‘দোন’।

শত শত বছর আগে থেকেই মানুষ কৃষিকাজে পানি সেচের জন্য নানা কৌশল ব্যবহার করে আসছে। এর মধ্যে অন্যতম পদ্ধতি ছিল ‘দোন’-এর সাহায্যে ফসলের ক্ষেতে পানি সরবরাহ করা। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির সেচযন্ত্রের ভিড়ে প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে সনাতনী সেচযন্ত্র ‘দোন’। এ যন্ত্রটি মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও তা কেবল স্বল্প পরিসরের জমি সেচ কাজে ব্যবহার করেন কৃষকরা।
আগেকার দিনে ফসলি জমিতে পানি সেচের জন্য টিন বা বাঁশের তৈরি সেঁউতি ও কাঠের দোন ব্যবহার করা হতো। নদী, খালবিল বা জলাশয় থেকে টিন বা বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি সেঁউতি দিয়ে পানি সরবরাহ করা হতো। আর উঁচু-নিচু জমিতে পানি সেচ দিতে ‘দোন’ ছিল অতুলনীয়। গ্রামবাংলার কৃষকের আদি চিন্তা-চেতনার ফল ছিল এ কাঠের দোন আবিষ্কার।
আম অথবা কাঁঠালজাতীয় গাছের মাঝের অংশের কাঠ কেটে নিয়ে তার মাঝখানে খোদাই করে ড্রেন তৈরি করে পানি সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কোনো কোনো স্থানে নারিকেল, তাল, জিগা, সুপারি ও পাইন গাছ দিয়েও এ দোন তৈরি করা হতো। তবে বর্তমানে কাঠের তক্তা দিয়েও এ দোন তৈরি করা হয়। এতে পানি সেচ দিতে শ্রমিক ছাড়া অন্য কোনো খরচ হয় না।
ক্রস আকারে দুটি বাঁশের শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে তার সঙ্গে লম্বা অন্য একটি বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়। এক অংশে দোনের মাথা অন্য অংশে মাটির ভরা (ওজন) তুলে দিয়ে পানিতে চুবিয়ে তুললে একসঙ্গে অনেক পানি উঠে আসে। এভাবে অনবরত পানি সেচ দিলে দ্রুত সেচের কাজ হয়ে যায়। আধুনিক শ্যালো, ডিপ, এলএলপি প্রভৃতি সেচযন্ত্র আসায় দোনের ব্যবহার এখন নেই বললেই চলে। যেসব জায়গায় ভূপৃষ্ঠের পানি সহজলভ্য সেরকম কিছু এলাকায় শুকনো মৌসুমে দোনের ব্যবহার মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে।

গ্রাম বাংলার নদীগুলোতে একসময় সারা বছর পানি থাকত। এ নদী থেকে দোনের সাহায্যে ফসলের ক্ষেতে পানি দেওয়া হতো। এখন নদী হয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত। তবে যখন পানি থাকে তখন দোন ব্যবহার করে বোরো ফসলের জমিতে স্বল্প পরিসরে সেচ দেওয়া হয়।
দেশে বর্তমানে সব জমি শতভাগ সেচের আওতায় আসায় সনাতনী ‘দোন’-এর সাহায্যে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে কৃষকরা এখন আর দোন ব্যবহার করে না। তবে কালেভদ্রে কিছু ‘দোন’ চোখে পড়ে। পানি শুকিয়ে গেলে ‘দোন’ অকেজো হয়ে পড়ে।

বাংলার ঐতিহ্যের কথা’কে কিছু জানাতে এবং জানতে পারসোনাল প্রোফাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

গ্রামাঞ্চল থেকে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের তালগাছ।

তালগাছ বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলেরই জনপ্রিয় গাছ। কারণ এর প্রায় সব অঙ্গ থেকেই কিছু না কিছু কাজের জিনিস তৈরী হয়, কিছুই ফেলা যায় না। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ বান্ধব তালগাছ। তাল পাতা দিয়ে ঘর ছাওয়া, হাতপাখা, তালপাতার চাটাই, মাদুর ইত্যাদি বহুবিধ সামগ্রী তৈরী হয় এমনকি তালের কাঠ দিয়ে নৌকা, হাউস বোট ইত্যাদি তৈরি হয়। কিন্তু কালের আবর্তে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের এ তালগাছ।

▪তালের ফল এবং বীজ দুই-ই বাঙালির জন্য সুস্বাধু খাদ্য। তাল গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি, ইত্যাদি তৈরি যায়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ অনেক খনিজ উপাদান। তালগাছকে নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “তালগাছ, এক পায়ে দাড়িয়ে, ঊকি মারে আঁকাশে, সব গাছ ছাড়িয়ে,।” রবীন্দ্রনাথ তাল গাছকে একাকী এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ধ্যানী বলে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাল গাছকে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে, ক্লাসে পড়া না পারা ছাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। আমাদের দেশের পরিবেশ বান্ধব এই তাল গাছ আজ বিলুপ্ত প্রায়। এক সময় সারা বাংলার গ্রামগঞ্জে প্রায় প্রতিটি ভিটা বাড়ি থেকে শুরু করে আনাচে কানাচে, রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো তাল গাছের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখে পরতো। কালের পরিক্রমায় বাংলার ঐতিহ্যের অংশ তাল গাছের অস্তিত্ব আজ সংকটাপূর্ণ।

▪দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাল গাছ আস্তে আস্তে  হারিয়ে যাওয়ার কারণে এ প্রজন্ম অনেকটা তাল গাছের বৈশিষ্ট, উপকারিতা ও তাল ফলের স্বাদ ভুলতে বসেছে। জৈষ্ঠ, আষাঢ় মাসে কাঁচা তাল ফলের শাস খেতে চারিদিকে ডাক পরে যেত। চলতো শাঁস খাওয়ার প্রতিযোগিতা। কে কত খেতে পারে। শ্রাবণ ভাদ্র মাসে পাকা তালের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠতো প্রতিটি পাড়া মহল্লা। শ্রাবণ মাসে কলাপাতায় তালের পিঠা তৈরীতে ধুম পরে যেত। শুধু তালের পিঠাই নয়, তালের রুটি, তালের বড়াও তালসত্বসহ আরও বাহারী অনেক রকম পিঠা। মেহমানদারীতে সকল পিঠা ছিল স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। তাল গাছের পাতার সাথে সুপরিচিত বাবুই পাখির সুনিপুণভাবে তৈরী পাতার সাথে ঝুলাানো বাসা (আশ্রয়স্থল) সকলের পরিচিত।

▪আজকাল হাজার হাজার পাখির কিচির-মিচির ডাক আর মনোরম দৃশ্য চোখে পরে না। তাল গাছ এক বীজ পত্রী উদ্ভিদ। শাখা প্রশাখাবিহীন এক পায়ে দাড়িয়ে থাকা অন্যতম দীর্ঘ এই গাছের মাধ্যমে পাড়া, মহল্লা ও বাড়ির পরিচয় পাওয়া যেত। তাল গাছ ৬০-৭০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর জীবন কাল প্রায় ১০০-১৫০ বছর। গ্রাম বাংলার মাটি তাল গাছের উপযোগী।  গ্রাম-গঞ্জে এমনও একটি প্রচলিত কাব্য আছে শালিস মানি কিন্তু বড় তাল গাছটা আমার। এ কথার মাধ্যমে তাল গাছের গুরুত্বকেই বুঝানো হয়েছে। জনশ্রুতি আছে যে, তাল গাছের মত বড় বড় গাছে বজ্রপাত হতো। ফলে মাঠ-ঘাটে প্রাণিকুলের জীবন রক্ষা পেতো। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতি হয়ে উঠছে বিরাগভাজন।
তাল গাছের সকল অংশই মানুষের উপকারে আসে। এ গাছ রোপন করলে তাতে বেশী জমি দখল করেনা তাই জমিও নষ্ট হয় না। কোন সার ঔষধ ব্যবহার করতে হয়না। কোন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। রোপন করার ১০ থেকে ১৫ বছর পরে তাল গাছে ফল ধরে। এ গাছ খুব শক্ত-পোক্ত হওয়ায় ঝড় বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকেনা।

ℹ পরিশেষে বলতে চাই, আসুন আমরা সবাই মিলে পরিবেশ বান্ধব গাছ লাগাই, পরিবেশ দুষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।

▪বাংলার ঐতিহ্যের কথা’কে কিছু জানাতে এবং জানতে পারসোনাল প্রোফাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
➡Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য কুপিবাতির কথা।

আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে আবহমান গ্রাম বাংলার এক সময়ের কুপিবাতি এখন শুধুই স্মৃতি। মাত্র ৮/১০ বছর আগেও গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে অতি প্রয়োজনীয় কুপিবাতি আজ বিলুপ্তির পথে।

সন্ধ্যা হলেই গ্রাম ও গ্রাম্য বাজারে কুপির মিটমিট আলোয় চেনা যেত হাট-বাজারসহ গ্রামের সেই চিরচেনা রুপ। আগের দিনের মানুষের ছিল নানা ধরনের বাহারি কুপি। সেই কুপই ছিল মানুষের অন্ধকার নিবারণের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু কালের আবর্তে আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে সেই কুপিবাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বাহারী বৈদ্যুতিক বাল্ব, চার্জার লাইট, র্টচ লাইট, মোবাইল লাইটসহ আরো অনকে কিছু। ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শনটি।

তৎকালীন সময়ে মানুষ মাটি, বাঁশ, লোহা ও কাঁচ দিয়ে তৈরী করতো কপিবাতি। সার্মথ্য অনুযায়ী লোকজন কুপি কিনে সেগুলো ব্যবহার করত। শৈলকুপা বাজার সহ সাধারণত উপজেলার ছোট বড় বাজারের দোকানে বিভিন্ন ধরনের কুপি পাওয়া যেত। কুপি হতে বেশি আলো পাওয়ার জন্য ছোট কুপি গুলোর জন্য কাঠ, মাটি বা কাঁচের তৈরি গজা বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হতো। এই গজা বা স্ট্যান্ড গুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের। কিন্তু বর্তমানে গ্রামে গ্রামে বৈদ্যুতের ছোঁয়ায় সেই কুপিবাতি হারিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও অবশিষ্ট সময় মানুষ বর্তমানে ব্যবহার করছে বিভিন্ন ধরনের চার্জার লাইট ও মোমবাতি।

এমন সময় আসবে যখন ভবিষৎ প্রজন্মদের কুপিবাতি চেনানোর জন্য জাদু ঘরে নিয়ে যেতে হবে। গ্রামের অধিকাংশ লোকের কাছে কুপরি কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেক লোক আছে যারা আঁকড়ে ধরে আছেন কুপরি সেই স্মৃতি। গ্রামের সৌখিন গৃহস্ত বাড়ি ও অনেকে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বযত্নে কুপিবাতি সংরক্ষন করে রেখেছেন নিদর্শন হিসেবে।

বাংলার ঐতিহ্যের কথা’কে কিছু জানাতে এবং জানতে পারসোনাল প্রোফাইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির বাড়ি।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মাটি দিয়ে তৈরি ঘর ইট পাথরের নির্মাণ আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে।।🌺

আমরা দেশ মাটি ও মানুষের কথা বলি💞💞

Categories
Bangla Tradition

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার খেজুর রসের ঐতিহ্য।

শীতের সকালে গ্রাম বাংলায় এক দশক আগেও চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য। সাত সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন। শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন। গ্রামবাংলার এ দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ নিধন। এতে দিনে দিনে গ্রাম বাংলায় কমছে খেজুরের গাছ। দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও।
সুস্বাদ ও পিঠাপুলির জন্য অতি আবশ্যক উপকরণ হওয়ায় এখনও খেজুর রসের চাহিদা রয়েছে। তবে আগের মত খেজুরের রস ও গুড় পাওয়া যায় না। পেলেও আগের চেয়ে ১০ গুন বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক এই মধুবৃক্ষ (খেজুর গাছ) ঘিরে গ্রামীণ জনপদে রয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তুলনামূলকভাবে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে খেজুর গাছ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কিছু গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুর গাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না। সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যাবে না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েস তো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের গ্রামাঞ্চলে রসের ক্ষীর, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শুধু খেজুরের রসই নয়, এর থেকে তৈরি হয় গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। রস আর গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজারের কথা

হযরত শাহজালাল (র:) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল(র:) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে  ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।

দরগা শরীফটি সকলের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান, তাই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এটি ব্যাবহার করা হয় না। এ কারনে দরগার হেফাজতকারিরাই ঠিক করে থাকেন দরগার অভ্যন্তরে কারা প্রবেশ করতে পারবে। অনেক সময় দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় শালীন পোশাক পরিধান না করার জন্য। তাই দরগায় প্রবেশের সময় অবশ্যই আপনার পোশাক পরিচ্ছেদের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

▪গজার গাছঃ
হযরত শাহজালাল (র:) এর দরগা (Dargah) চত্বরের উত্তর দিকে একটি পুকুর রয়েছে। এ পুকুরে রয়েছে অসংখ্য গজার মাছ। এসব মাছকে পবিত্র জ্ঞান করে দর্শনার্থীরা ছোট ছোট মাছ খেতে দেয়। পুকুরের পশ্চিম কোণে ছোট মাছ বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। পুকুরে অজুর ব্যবস্থাও আছে। ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বিষ প্রয়োগে পুকুরের প্রায় ৭শ’রও বেশী গজার মাছ হত্যা করা হয়। ফলে পুকুরটি গজার মাছ শুন্য হয়ে পড়ে। মরে যাওয়া মাছগুলোকে মসজিদের পশ্চিম দিকের গোরস্থানে পুঁতে ফেলা হয়। পুকুরটি মাছ শুন্য হয়ে যাওয়ার পর হযরত শাহজালাল(র) এর অপর সফরসঙ্গী মৌলভীবাজারের শাহ মোস্তফা(র:) এর মাজার থেকে ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি ২৪ টি গজার মাছ এনে পুকুরে ছাড়া হয়। বর্তমানে পুকুরের গজার মাছের সংখ্যা কয়েক শ’তে দাঁড়িয়েছে।

▪জালালী কবুতর ও নিজাম উদ্দিন আউলিয়াঃ
হযরত শাহজালাল (র:) এর আধ্যাত্নিক শক্তির পরিচয় পেয়ে হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (র:) তাকে সাদরে গ্রহণ করেন। প্রীতির নিদর্শন স্বরুপ তিনি তাকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর বা জালালী কবুতর উপহার দেন। সিলেট ও এর আশপাশের অঞ্চলে বর্তমানে যে সুরমা রঙের কবুতর দেখা যায় তা ওই কপোত যুগলের বংশধর এবং জালালী কবুতর নামে খ্যাত। সিলেটে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কেউই এ কবুতর বধ করে না এবং খায় না। বরং অধিবাসীরা এদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে থাকে। শাহজালালের মাজার এলাকায় প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর উড়তে দেখা যায়। মাজার কর্তৃপক্ষ এসব কবুতরের খাবার সরবরাহ করে থাকে।

▪চিল্লাখানাঃ
মাজারের দক্ষিণ দিকে গ্রীলঘেরা তারকা খচিত ছোট্ট যে ঘরটি রয়েছে এটি হযরত শাহজালালের চিল্লাখানা। স্থানটি মাত্র দু’ফুট চওড়া। কথিত আছে যে, হযরত শাহজালাল এই চিল্লাখানায় জীবনের ২৩ টি বছর আরাধনায় কাটিয়েছেন।

▪শাহজালাল (রঃ) এর ব্যবহৃত দ্রব্যাদিঃ
হযরত শাহজালাল কেবল একজন পীর ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বীর মোজাহিদ। তার ব্যবহৃত তলোয়ার, খড়ম, প্লেট এবং বাটি দর্শনার্থীদের দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। দরগার দক্ষিণ দিকে দরগাহ মাদ্রাসা বিল্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে একটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এই পথ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার পর বাঁ দিকের বাড়িটি মুফতি নাজিমুদ্দিন আহমদের। এই বাড়িতে হযরত শাহজালালের তলোয়ার ও খড়ম সংরক্ষিত আছে। প্লেট ও বাটি সংরক্ষিত আছে দরগাহ’র মোতওয়াল্লির বাড়িতে। এগুলো দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভীড় জমে।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার বিখ্যাত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) এর মাজার শরীফের কথা

বাংলায় মুসলিম রাজশক্তির অভ্যুদয়ের আগে দশম ও একাদশ শতাব্দী এবং দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে যারা বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন, সেসব নিবেদিতপ্রাণ, আত্মপ্রচারবিমুখ সুফি ও মুবাল্লিগের মধ্যে সর্বাগ্রে যার নাম উল্লেখ করা হয়, তিনি হলেন শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রহ.)। তার পুর্ণ নাম মির শাহ সৈয়দ সুলতান মাহমুদ বালখি মাহিসওয়ার (রহ.)। বগুড়া জেলার মহাস্থানে তার পবিত্র মাজার অবস্থিত। তিনি ৪৩৯ হিজরি মোতাবেক ১০৪৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় আগমন করেন। শাহ সুলতান বালখি মাহিসওয়ার ও পরবর্তীকালে আরও অনেক অলি-দরবেশের মাজার থাকায় পুণ্ড্রবর্ধনের পরিবর্তে মহাস্থানকে ‘মহাস্থানগড়’ অথবা ‘মহাস্থান’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

সুফি মাহিসওয়ার মৎস্যাকৃতির বাণিজ্য জাহাজে সমুদ্রপথ অতিক্রম করে বাংলায় আগমন করেন এবং সন্দ্বীপে অবস্থান নেন। অতঃপর কিছুকাল পর জনাকীর্ণ ঢাকার হরিরামপুর নগরে আসেন এবং হিন্দু রাজা বলরামকে (খ্রি. ১১ শতক) তিনি পরাস্ত করেন। তার অলৌকিকত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজার মন্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মাহিসওয়ার কর্তৃক সিংহাসনে আরোহণ করেন। তারপর বগুড়ায় আসেন এবং রাজা পরশুরাম (খ্রি. ১১শতক) প্রদত্ত ভূমিতে আস্তানা গড়ে তোলেন। কিন্তু রাজা পরশুরাম সুফি মাহিসওয়ারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন ও নিহত হন। মাহিসওয়ার তার অলৌকিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও অসীম সৎ সাহসের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে প্রবল ক্ষমতাধর, অত্যাচারী রাজাদের পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে এনে ইসলামের নিশান ওড়াতে পেরেছিলেন। তার সততা, ন্যায় ও ধর্মপরায়ণতা বিজয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তার সম্পর্কে অনেক জনশ্রুতি এখনও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত।

বাংলায় আগমনকারী সুফি-দরবেশদের মধ্যে শাহ মোহাম্মদ সুলতান রুমি (খ্রি. ১১ শতক) অন্যতম। নেত্রকোনা জেলার মদনপুর ইউনিয়নের মদনপুর উপশহরে তার পবিত্র মাজার অবস্থিত। অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এ সুফি-দরবেশ ৪৪৫ হিজরি মোতাবেক ১০৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় আগমন করেন। তার সঙ্গে ১২০ সহচর ও শিষ্য আসেন। শাহ সুলতান রুমি মদনপুর এলাকার তদানীন্তন কোচ-রাজার দরবারে গিয়ে রাজার প্রদত্ত দুষ্পাচ্য মৃত্যু বিষ বিসমিল্লাহ বলে মুখে দিয়ে হাসিমুখে হজম করলে রাজা তার লোকাতীত শক্তি দেখে বিস্মিত হন এবং তার নামে মদনপুরসহ তথাকার এক বৃহত্তর এলাকা যথাবিধি ইজারা পাট্টা লিখে উপহার দেন। ফলে সেখানকার রাজাসহ উপজাতীয় লোকেরা দলে দলে এসে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

শাহ সুলতানের মাজার রক্ষণাবেক্ষণে যে নিস্কর সম্পত্তি রয়েছে তার স্বীকৃতি ১০৮২ হিজরিতে বাদশাহ শাহজাহানের পুত্র বাংলার সুবাদার শাহ সুজা ফারসি ভাষায় এক সনদ প্রদান করেছিলেন। এই শাহি সনদে তার মুর্শিদসহ ৪৪৫ হিজরিতে (১০৫৩ খ্রি.) মদনপুরে আগমন ও তথাকার কোচ-রাজার দেওয়া বিষ অনায়াসে গলাধঃকরণ এবং রাজা কর্তৃক প্রদত্ত সমগ্র গ্রাম উৎসর্গের ঐতিহাসিক বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। কথিত আছে, দরবেশ শাহ সুলতান রুমি মদনপুর গ্রামে আস্তানা গাড়েন এবং উক্ত অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। তদানীন্তন কোচ-রাজা তার নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাকে মদনপুর গ্রামের স্বত্ব দান করেন।

শাহ সুলতান রুমির মাজারের আশপাশে অর্থাৎ মদনপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে তার সঙ্গীদের মাজারও রয়েছে। তার সহযাত্রী হিসেবে ১২০ জন অলি ছিলেন। সারাজীবন ইসলামের দাওয়াত দিয়ে এ সুফি-দরবেশ এ অঞ্চলে অমর হয়ে আছেন। প্রতি বছর ফাল্কগ্দুন মাসে সপ্তাহব্যাপী তার মাজারে ওরস পালিত হয় আর তাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটে।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাট গম্বুজ মসজিদের কথা

▪ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোকিটার দুরে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাসে ষাটগুম্বজ বাস স্টপেজ লাগোয়া সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে কোন সময় নির্মাণ নির্মাণ করা হয়েছিলো সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান ই জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্পর্কে কারো কোনো সন্দেহ নেই। ধারণা করা হয় তিনি ১৫শত শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদটি বহু বছর ধরে এবং বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এর পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে। এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্যে একটি। মসজিদটি উত্তর দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট এবং ভিতরের
দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা আর পূর্ব পশ্চিমে বাইরের
দিকে প্রায় ১০৪ ফুট এবং ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেওয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রাচীন এ মসজিদটিকে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage Sites) হিসাবে মর্যাদা দেয়। মসজিদটি বাগেরহাট শহরকে
বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শহরের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে।

▪মসজিদটির পূর্ব দিকে দেওয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর তুলনায় বেশ বড়। উত্তর এবং দক্ষিণ দেওয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। আর মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনারও আছে। এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে। এদের কার্ণিশের কাছে বলয়াকার ব্যান্ড এবং চূঁড়ায় গোলাকার গম্বুজ আছে। মিনারগুলোর উচ্চতা ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিঁড়ি আছে এবং এখান থেকে আযান দেবার ব্যবস্থাও ছিলো। এদের একটির নাম রওশন কোঠা, অপরটির নাম আন্ধার কোঠা। মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে। এগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬ সারিতে অবস্থিত এবং প্রত্যেক সারিতে ১০টি করে স্তম্ভ আছে। প্রতিটি স্তম্ভই পাথর কেটে বানানো শুধু ৫টি স্তম্ভ বাইরে থেকে ইট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এই ৬০টি স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের ওপর তৈরি করা হয়েছে গম্বুজ।

▪মসজিদটির নাম ৬০ গম্বুজ হলেও এখানে গম্বুজ মোটেও ৬০টি নয় বরং গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি । ৭৭টি গম্বুজের মধ্যে ৭০ টির উপরিভাগ গোলাকার এবং পূর্ব দেওয়ালের মাঝের দরজা এবং পশ্চিম দেয়ালের মাঝের মিহরাবের মধ্যবর্তি সারিতে যে সাতটি গম্বুজ সেগুলো দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের চৌচালা ঘরের চালের মতো। মিনারে গম্বুজের সংখ্যা ৪ টি এ হিসেবে গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ৮১ তে। তবুও এর নাম হয়েছে ষাটগম্বুজ। ঐতিহাসিকরা মনে করেন সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ সারি আছে বলে এ মসজিদের সাত গম্বুজ এবং তা থেকে ষাটগম্বুজ নাম হয়েছে। আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন গম্বুজগুলো ৬০ টি প্রস্তরনির্মিত স্তম্ভের ওপর অবস্থিত বলেই নাম ষাটগম্বুজ হয়েছে।

▪ভ্রমণ সুবিধার্থে বন্ধ-খোলার সময়সূচিঃ

গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্য শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা  ২.০০ থেকে খোলা থাকে।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

কুষ্টিয়ার বিখ্যাত রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির ঐতিহ্যের কথা

শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি অবস্থিত যা রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি নামে পরিচিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে কুমারখালি উপজেলার অর্ন্তগত শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরেশদপুরে ৩৩ বিঘা জমির মধ্যে আড়াই বিঘা জমির উপর তিনতলা কুঠিবাড়িটি অবস্থিত। রবীন্দ্রনাথের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এ অঞ্চলের জমিদারি পান। পরবর্তিতে ১৮৮৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে জমিদার হয়ে আসেন। এখানে তিনি ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারী পরিচালনা করেন। এ সময় এখানে বসেই তিনি রচনা করেন তার সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী,গীতাঞ্জলী  গ্রন্থগুলো।

কুঠি বাড়িতে রুম সংখ্যা আঠারো, দরজা সংখ্যা সতেরোটি, জানালার সংখ্যা ত্রিশটি। কুঠিবাড়ির তিন তলার কামরাটা ছিল কবি গুরুর লেখার ঘর। কবি এই ছাদের উপর বসে সুর্যোদয়, সূর্য্যাস্ত ও জ্যোৎস্না প্লাবিত প্রকৃতির শোভায় মুগ্ধ হতেন। এই খানে বসে কবির দু’চক্ষুকে যে সমস্ত দৃশ্য তন্ময় হতো। তা তিনি নিজেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করেছেন। এই ঘরের জানালা দিয়ে এখন শুধু পদ্মাকে দেখা যায়। আগে পদ্মা গড়াই দুটো নদীকে দেখা যেত। কবি রবীন্দ্রনাথ তখন ঘরে বসেই শুনতে পেতেন নদীর ডাক। নদী যেন কলকল ছলছল করে কবিকে ডাকতো। কবিও সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন পদ্মার বুকে, গড়াইয়ের বুকে। কখনো পদ্মার বুকে সাঁতরিয়ে তিনি আনন্দ উপভোগ করতেন।

১৯৫৮ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িটি গৌরবময় স্মৃতিরূপে সংরক্ষিত আছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুঠিবাড়িটির গুরুত্ব অনুধাবন করে কবির বিভিন্ন শিল্পকর্ম সংগ্রহপূর্বক একে একটি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুরো ভবনটি এখন জাদুঘর হিসেবে দর্শকদের জন্যে উম্মুক্ত। জাদুঘরের নীচ ও দ্বিতীয় তলায় ১৬টি কক্ষেই কবি রবীন্দ্রনাথ, শিল্পী রবীন্দ্রনাথ, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, কৃষক বন্ধু রবীন্দ্রনাথ অর্থাৎ নানা বয়সের বিচিত্র ভঙ্গির রবীন্দ্রনাথের ছবি । বাল্যকাল থেকে মৃতু্শয্যার ছবি পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে । তাছাড়াও রয়েছে শিল্পকর্ম এবং তাঁর ব্যবহার্য আসবাবপত্র দিয়ে পরিপাটি দিয়ে সাজানো।

কবি ভবনে ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে আরো আছে চঞ্চলা ও চপলা নামের দুটো স্পিডবোট, পল্টুন, ৮বেহারা পালকি, কাঠের চেয়ার, টি টেবিল, সোফাসেট, আরাম চেয়ার, পালংক ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস।

বন্ধ–খোলার সময়সূচীঃ

গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুঠিবাড়ি খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা  ২.০০ থেকে   খোলা থাকে। এছাড়াও সরকারী কোন বিশেষ দিবসে জাদুঘর থাকে ।

◻ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া ‘ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য পুতুল নাচের কথা

পুতুল নাচের সাথে বাঙালি হিসেবে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। কারো হয়তো কোনো গ্রামাঞ্চলে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কেউ বা আবার লোকমুখে শুনে শুনে বা টিভির পর্দায় দেখেই বেশ কৌতুহল এবং রোমাঞ্চিত বোধ করেছে। যেই পুতুল নাচ-কে ঘিরে একসময় কৌতুহলের অব্দি ছিল না, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ রাত-বিরাতে পারি জমাতো পাশের গ্রামে, ভুলে যেত সারাদিনের কর্মব্যস্ততা; সেই পুতুল নাচ সময় ও সংস্কৃতির পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে শত শত বছরের সাংস্কৃতিক এ ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তপ্রায়। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে পুতুলনাচ যেন গল্পগাথা।

➡পুতুলনাচের উদ্ভব এবং ইতিহাসঃ
পুতুল নাচ-এর সঠিক ইতিহাস যতোদূর জানা যায়,
ভারতীয় উপ-মহাদেশে প্রথম পুতুল নাচের প্রচলন করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার তিতাস নদীর কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা জনপদে কৃষ্ণ নগর নামে পল্লীতে বিপিন পালের জন্ম। বিপিন পাল তৎসময়ে সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পৌরানিক কাহিনী অবলম্বন করে পুতুল নাচ করতেন বলে জানা যায়। এইকৃষ্ণনগরেই রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালীএকটি জমিদার বাড়ি। বিপিন পাল শুরুতেই তাদের পৃষ্ঠপােষকতা লাভ করেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,বিপিন পালের দলের নাম ছিল গােবিন্দ পুতুলনাচ। গােবিন্দ ছিল বিপিন পালের ছেলের নাম। বিপিন পালবিভিন্ন পূজা – পার্বণে পুতুল নাচের মাধ্যমে বিভিন্নধর্মীয় পালা পরিবেশন করতেন। দেশভাগের কিছুদিনপর বিপিন পাল মারা গেলে তার পুত্র গােবিন্দ পাল।সপরিবারে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। তাদের অনুপস্থিতিতে দল মারাত্মক সংকটে পড়ে।

➡পুতুল নাচ এবং এর ধরণঃ
নাটকের মতোই এতে ছোট বা মাঝারি আকারের একটি মঞ্চ আবশ্যক। এক বা একাধিক ব্যক্তি কখনও প্রকাশ্যে আবার কখনও নেপথ্যে থেকে হাতের নিপুণ কুশলতায় মানুষরূপী পুতুল বা প্রাণিকুলের ক্ষুদ্র প্রতিকৃতিকে পরিচালনার মাধ্যমে নাটকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

সেই পুতুলগুলো নাচে, গান গায়, তখন অন্যরকম আমেজ বয়ে আসে। রঙিন পুতুল, হাতে ও মাথায় সুতো বাঁধা। সুর ও ছন্দের তালে তালে নাচে মঞ্চে। বিনোদনপিয়াসী দর্শক পুতুলের হাসিতে যেমন হেসে ওঠেন, তেমনি পুতুলের কান্নায় কাঁদেন।

পুতুল নাচের পুতুলগুলি সাধারণত চার ধরণের হয়ে থাকে:

▪তারের পুতুল

▪লাঠিপুতুল

▪বেণীপুতুল

▪ছায়াপুতুল

তারের পুতুল সূক্ষ্ম তার বা সুতার সাহায্যে এবং লাঠিপুতুল লম্বা সরু লাঠির সাহায্যে নাচানো হয়; আর দুই বা ততোধিক পুতুল যখন একসঙ্গে বেঁধে হাত দিয়ে নাচানো হয় তখন তাকে বলে বেণীপুতুল।বাংলাদেশে তারের পুতুল ও লাঠিপুতুলের চর্চাই বেশি হয়। এক্ষেত্রে শিল্পী দুহাতে সর্বোচ্চ তিনটি পুতুল ধরে সংলাপ বা সুরের তালে তালে পুতুলকে নাচান।

সাধারণ নাটকে স্থানের সীমাবদ্ধতা থাকলেও পুতুলনাচে তার বিস্তৃতি অনেক। জলের প্রাণী, আকাশের পাখি, ডাঙ্গার মানুষ, বনের পশু সবই কাহিনীর প্রয়োজনে একমঞ্চে এক সঙ্গে অভিনয় করে। নির্বাক পুতুলসহ সব প্রাণীই নিজস্ব আচার-আচরণের পাশাপাশি মানুষের ভাষায় কথা বলে। ফলে পুতুলনাচ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় এবং সব বয়স ও শ্রেণীর দর্শকরা তা সানন্দে উপভোগ করে।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন নুহাশ পল্লীর (Nuhash Polli) কথা।

নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli) নন্দন কাননটি গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলােমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। নুহাশ পল্লীর বর্তমান আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা।।১৯৮৭ সালে ২২ বিঘা জমিতে হুমায়ূন আহমেদ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করেন। হুমায়ূন পুত্র নুহাশের নামানুসারে নুহাশ পল্লী নামকরণ করা হয়। নুহাশ পল্লীর প্রতিটি স্থাপনায় মিশে আছে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ এবং ভালােবাসা। বিভিন্ন নাটক, সিনেমার শুটিং এর পাশাপাশি নুহাশ পল্লীতেই হুমায়ূন আহমেদ তার জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় পরিবার বা প্রিয়জন নিয়ে একদিনেই ঘুরে দেখে আসতে পারবেন নুহাশ পল্লী।

নুহাশ পল্লীতে প্রবেশ পথের পরই হাতের বাম দিকে দৃষ্টিনন্দন সবুজ প্রান্তর চোখে পড়বে। এই প্রান্তরের বাম পাশের লিচু বাগানে শায়িত আছেন গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। নুহাশ পল্লীর প্রবেশ পথ ধরে এগিয়ে গেলেই স্থানীয় স্থপতি আসাদুজ্জামান খানের ‘ মা ও শিশু ’ নামক ভাস্কর্যটি দেখেতে পাবেন। শিশুদের বিনােদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ভুত ও ব্যাঙের আকারের ভাস্কর্য। এর পাশেই তৈরী করা হয়েছে আঁকাবাঁকা সুইমিং পুল। ভারতের প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ এই সুইমিং পুলেই সাঁতার কেটে ছিলেন।

সুইমিং পুল পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেই একে একে দেখতে পাওয়া যায় হুমায়ূন আহমেদের কটেজ, দাবা খেলার ঘর এবং নামাজ পড়ার স্থান। এরপরেই রয়েছে বিশাল টিনশেডের বারান্দাসহ ‘ বৃষ্টিবিলাস ’ কটেজ। এই কটেজের বারান্দাতে বসেই হুমায়ূন আহমেদ বৃষ্টি ও পূর্নিমা দেখতে পছন্দ করতেন। ঠিক উল্টো দিকে রয়েছে তার বিখ্যাত ট্রি হাউজ। নুহাশ পল্লীতে রয়েছে একটি ঔষধি গাছের বাগান, এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছ।

ঔষধি গাছের বাগানের পেছনে রয়েছে টিন এবং কাদামাটি দিয়ে তৈরি করা শুটিং স্পট। আর বাগানের সামনের দিকে রয়েছে মৎস্য কন্যা রাক্ষসের মূর্তি। এর পাশে কনক্রিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ডাইনােসারের মূর্তি। নুহাশ পল্লীর সর্ব উত্তরে রয়েছে লীলাবতী দিঘি। এই দিঘির মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম দ্বীপ যা একটি কাঠের সেতুর সাথে যুক্ত। লীলাবতি দিঘির পাশেই রয়েছে ‘ ভুতবিলাস ’ নামক আরাে একটি ভবন। এছাড়াও সাজানাে গুছানাে নুহাশ পল্লীতে একটি দিন কাটানাের ক্ষণে ক্ষণেই আপনি সমস্ত নুহাশ পল্লীতে কবির অস্তিত্ব অনুভব করবেন।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার অপরুপ নিদর্শন তাজহাট জমিদার বাড়ির কথা

রংপুর শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে তাজহাট গ্রামে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়িটি। রত্ন ব্যবসায়ী মান্নালাল ছিলেন তাজহাট জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা। ব্যবসায়িক কারণে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি রংপুরের মাহিগঞ্জে এসে বসবাস শুরু করেন এবং একটি ভবন নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে তার এ ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনি আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান। তার দত্তক পুত্র গোপাল লাল রায় বাহাদুর জমিদারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রায় ২ হাজার রাজমিস্ত্রির সহায়তায় একটি জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। সেই জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে তাজহাট জমিদার বাড়ি হিসেবে সুপরিচিত। বাড়িটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। ১৯১৭ সালে ভবনটি সম্পূর্ণ হয়। প্রাসাদ চত্বরে রয়েছে বিশাল খালি মাঠ, গাছের সারি এবং প্রাসাদের দুই পাশে রয়েছে দুইটি পুকুর।

বাড়িটির চারদিকে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ শোভা, ফুলের বাগান, উত্তর ও দক্ষিণাংশে কামিনী, মেহগনি, কাঁঠাল ও আমবাগান। ঢাকার আহসান মঞ্জিলের মতো দেখতে এই জমিদার বাড়িটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রয়েছে রাজা গোপালের ব্যবহৃত নানা জিনিস। তাজহাট জমিদার বাড়িটি লাল ইট, শ্বেত পাথর ও চুনা পাথর দ্বারা নির্মিত বিধায় দেখতে অতি চমৎকার। চারতলা বিশিষ্ট এই জমিদার বাড়িটির ভেতরে রয়েছে অসংখ্য কক্ষ, গোসলখানা ও অতিথি শয়নশালা। প্রাসাদটি প্রায় ২১০ ফুটের মত প্রশস্ত ও চার তলার সমান উঁচু। এর গঠনশৈলী প্রাচীন মুঘল স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হয় যার প্রমাণ মেলে মধ্যভাগে বিশাল একটি গম্বুজ ও দুই পাশে তার ছড়িয়ে যাওয়া দালানগুলোর একটা মসজিদের অবয়ব থেকে। তবে রাজবাড়ী যেই দিক থেকে বাংলাদেশের অন্য সকল প্রাসাদের থেকে আলাদা তা হল এর সিঁড়িগুলো। সর্বমোট ৩১ টি সিড়ি আছে যার প্রতিটাই ইতালীয় ঘরানার মার্বেল পাথরে তৈরী। সিঁড়ি থেকে উঠে জাদুঘর পর্যন্ত মেঝের পুরোটাও একই পাথরে তৈরী। রাজবাড়ীর পশ্চাৎভাগে গুপ্ত সিঁড়ি রয়েছে। এই গুপ্ত সিঁড়ি কোন একটি সুড়ংগের সাথে যুক্ত যা সরাসরি ঘাঘট নদীর সাথে যুক্ত এমন একটা জনশ্রুতি শোনা যায় তবে সিড়ি টা এখন নিরাপত্তা জনিত কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাসাদের সুন্দর ফোয়ারাটি কালের বিবর্তনে শ্বেতশুভ্র মার্বেল ও তার সবুজাভ নকশা কিছুটা মলিন হলেও এখনো এর জৌলুষ বুঝা যায়। কথিত আছে রাণীর জন্যেই বিশেষ ক’রে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৫ সালের আগে জমিদার বাড়িটি তাজহাট রাজবাড়ি হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত।

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রাসাদটিকে একটি সংরক্ষিত স্থাপনা তথা স্থাপত্য হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকার এ স্থাপস্ত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবনে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জাদুঘরকে সরিয়ে এ প্রসাদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আসে।মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে জাদুঘরে উঠলেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী কক্ষ যাতে রয়েছে দশম ও একাদশ শতাব্দীর টেরাকোটা শিল্পকর্ম। এখানে রয়েছে সংস্কৃত এবং আরবি ভাষায় লেখা বেশ কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। এর মধ্যে রয়েছে মুঘল সম্রাট আওরাঙ্গজেবের সময়ের কুরআন সহ মহাভারত ও রামায়ণ। পেছনের ঘরে রয়েছে বেশ কয়েকটা কাল পাথরের হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর প্রতিকৃতি। কিন্তু জাদুঘরের ভিতরে ছবি তোলার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ জাদুঘরে প্রায় তিনশটি মূল্যবান নিদর্শন রয়েছে।

➡ ছবিঃ ছবি ও কিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2