Categories
Bangla Tradition

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার খেজুর রসের ঐতিহ্য।

শীতের সকালে গ্রাম বাংলায় এক দশক আগেও চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য। সাত সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন। শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন। গ্রামবাংলার এ দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ বিভিন্ন কারণে খেজুর গাছ নিধন। এতে দিনে দিনে গ্রাম বাংলায় কমছে খেজুরের গাছ। দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও।
সুস্বাদ ও পিঠাপুলির জন্য অতি আবশ্যক উপকরণ হওয়ায় এখনও খেজুর রসের চাহিদা রয়েছে। তবে আগের মত খেজুরের রস ও গুড় পাওয়া যায় না। পেলেও আগের চেয়ে ১০ গুন বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক এই মধুবৃক্ষ (খেজুর গাছ) ঘিরে গ্রামীণ জনপদে রয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তুলনামূলকভাবে বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে খেজুর গাছ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কিছু গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুর গাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না। সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যাবে না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েস তো খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের গ্রামাঞ্চলে রসের ক্ষীর, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। শুধু খেজুরের রসই নয়, এর থেকে তৈরি হয় গুড় ও প্রাকৃতিক ভিনেগার। রস আর গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায় না।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজারের কথা

হযরত শাহজালাল (র:) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর। তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি। সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে। সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বুরহান উদ্দিনের ওপর রাজা গৌর গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল(র:) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে সিলেটকে  ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।

দরগা শরীফটি সকলের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান, তাই পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এটি ব্যাবহার করা হয় না। এ কারনে দরগার হেফাজতকারিরাই ঠিক করে থাকেন দরগার অভ্যন্তরে কারা প্রবেশ করতে পারবে। অনেক সময় দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় শালীন পোশাক পরিধান না করার জন্য। তাই দরগায় প্রবেশের সময় অবশ্যই আপনার পোশাক পরিচ্ছেদের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

▪গজার গাছঃ
হযরত শাহজালাল (র:) এর দরগা (Dargah) চত্বরের উত্তর দিকে একটি পুকুর রয়েছে। এ পুকুরে রয়েছে অসংখ্য গজার মাছ। এসব মাছকে পবিত্র জ্ঞান করে দর্শনার্থীরা ছোট ছোট মাছ খেতে দেয়। পুকুরের পশ্চিম কোণে ছোট মাছ বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। পুকুরে অজুর ব্যবস্থাও আছে। ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর বিষ প্রয়োগে পুকুরের প্রায় ৭শ’রও বেশী গজার মাছ হত্যা করা হয়। ফলে পুকুরটি গজার মাছ শুন্য হয়ে পড়ে। মরে যাওয়া মাছগুলোকে মসজিদের পশ্চিম দিকের গোরস্থানে পুঁতে ফেলা হয়। পুকুরটি মাছ শুন্য হয়ে যাওয়ার পর হযরত শাহজালাল(র) এর অপর সফরসঙ্গী মৌলভীবাজারের শাহ মোস্তফা(র:) এর মাজার থেকে ২০০৪ সালের ১১ জানুয়ারি ২৪ টি গজার মাছ এনে পুকুরে ছাড়া হয়। বর্তমানে পুকুরের গজার মাছের সংখ্যা কয়েক শ’তে দাঁড়িয়েছে।

▪জালালী কবুতর ও নিজাম উদ্দিন আউলিয়াঃ
হযরত শাহজালাল (র:) এর আধ্যাত্নিক শক্তির পরিচয় পেয়ে হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (র:) তাকে সাদরে গ্রহণ করেন। প্রীতির নিদর্শন স্বরুপ তিনি তাকে এক জোড়া সুরমা রঙের কবুতর বা জালালী কবুতর উপহার দেন। সিলেট ও এর আশপাশের অঞ্চলে বর্তমানে যে সুরমা রঙের কবুতর দেখা যায় তা ওই কপোত যুগলের বংশধর এবং জালালী কবুতর নামে খ্যাত। সিলেটে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে কেউই এ কবুতর বধ করে না এবং খায় না। বরং অধিবাসীরা এদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে থাকে। শাহজালালের মাজার এলাকায় প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর উড়তে দেখা যায়। মাজার কর্তৃপক্ষ এসব কবুতরের খাবার সরবরাহ করে থাকে।

▪চিল্লাখানাঃ
মাজারের দক্ষিণ দিকে গ্রীলঘেরা তারকা খচিত ছোট্ট যে ঘরটি রয়েছে এটি হযরত শাহজালালের চিল্লাখানা। স্থানটি মাত্র দু’ফুট চওড়া। কথিত আছে যে, হযরত শাহজালাল এই চিল্লাখানায় জীবনের ২৩ টি বছর আরাধনায় কাটিয়েছেন।

▪শাহজালাল (রঃ) এর ব্যবহৃত দ্রব্যাদিঃ
হযরত শাহজালাল কেবল একজন পীর ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বীর মোজাহিদ। তার ব্যবহৃত তলোয়ার, খড়ম, প্লেট এবং বাটি দর্শনার্থীদের দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। দরগার দক্ষিণ দিকে দরগাহ মাদ্রাসা বিল্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে একটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এই পথ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার পর বাঁ দিকের বাড়িটি মুফতি নাজিমুদ্দিন আহমদের। এই বাড়িতে হযরত শাহজালালের তলোয়ার ও খড়ম সংরক্ষিত আছে। প্লেট ও বাটি সংরক্ষিত আছে দরগাহ’র মোতওয়াল্লির বাড়িতে। এগুলো দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভীড় জমে।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার বিখ্যাত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহ.) এর মাজার শরীফের কথা

বাংলায় মুসলিম রাজশক্তির অভ্যুদয়ের আগে দশম ও একাদশ শতাব্দী এবং দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে যারা বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন, সেসব নিবেদিতপ্রাণ, আত্মপ্রচারবিমুখ সুফি ও মুবাল্লিগের মধ্যে সর্বাগ্রে যার নাম উল্লেখ করা হয়, তিনি হলেন শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রহ.)। তার পুর্ণ নাম মির শাহ সৈয়দ সুলতান মাহমুদ বালখি মাহিসওয়ার (রহ.)। বগুড়া জেলার মহাস্থানে তার পবিত্র মাজার অবস্থিত। তিনি ৪৩৯ হিজরি মোতাবেক ১০৪৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় আগমন করেন। শাহ সুলতান বালখি মাহিসওয়ার ও পরবর্তীকালে আরও অনেক অলি-দরবেশের মাজার থাকায় পুণ্ড্রবর্ধনের পরিবর্তে মহাস্থানকে ‘মহাস্থানগড়’ অথবা ‘মহাস্থান’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

সুফি মাহিসওয়ার মৎস্যাকৃতির বাণিজ্য জাহাজে সমুদ্রপথ অতিক্রম করে বাংলায় আগমন করেন এবং সন্দ্বীপে অবস্থান নেন। অতঃপর কিছুকাল পর জনাকীর্ণ ঢাকার হরিরামপুর নগরে আসেন এবং হিন্দু রাজা বলরামকে (খ্রি. ১১ শতক) তিনি পরাস্ত করেন। তার অলৌকিকত্বে মুগ্ধ হয়ে রাজার মন্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মাহিসওয়ার কর্তৃক সিংহাসনে আরোহণ করেন। তারপর বগুড়ায় আসেন এবং রাজা পরশুরাম (খ্রি. ১১শতক) প্রদত্ত ভূমিতে আস্তানা গড়ে তোলেন। কিন্তু রাজা পরশুরাম সুফি মাহিসওয়ারের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন ও নিহত হন। মাহিসওয়ার তার অলৌকিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও অসীম সৎ সাহসের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে প্রবল ক্ষমতাধর, অত্যাচারী রাজাদের পরাস্ত করে বিজয় ছিনিয়ে এনে ইসলামের নিশান ওড়াতে পেরেছিলেন। তার সততা, ন্যায় ও ধর্মপরায়ণতা বিজয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তার সম্পর্কে অনেক জনশ্রুতি এখনও স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত।

বাংলায় আগমনকারী সুফি-দরবেশদের মধ্যে শাহ মোহাম্মদ সুলতান রুমি (খ্রি. ১১ শতক) অন্যতম। নেত্রকোনা জেলার মদনপুর ইউনিয়নের মদনপুর উপশহরে তার পবিত্র মাজার অবস্থিত। অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এ সুফি-দরবেশ ৪৪৫ হিজরি মোতাবেক ১০৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় আগমন করেন। তার সঙ্গে ১২০ সহচর ও শিষ্য আসেন। শাহ সুলতান রুমি মদনপুর এলাকার তদানীন্তন কোচ-রাজার দরবারে গিয়ে রাজার প্রদত্ত দুষ্পাচ্য মৃত্যু বিষ বিসমিল্লাহ বলে মুখে দিয়ে হাসিমুখে হজম করলে রাজা তার লোকাতীত শক্তি দেখে বিস্মিত হন এবং তার নামে মদনপুরসহ তথাকার এক বৃহত্তর এলাকা যথাবিধি ইজারা পাট্টা লিখে উপহার দেন। ফলে সেখানকার রাজাসহ উপজাতীয় লোকেরা দলে দলে এসে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে।

শাহ সুলতানের মাজার রক্ষণাবেক্ষণে যে নিস্কর সম্পত্তি রয়েছে তার স্বীকৃতি ১০৮২ হিজরিতে বাদশাহ শাহজাহানের পুত্র বাংলার সুবাদার শাহ সুজা ফারসি ভাষায় এক সনদ প্রদান করেছিলেন। এই শাহি সনদে তার মুর্শিদসহ ৪৪৫ হিজরিতে (১০৫৩ খ্রি.) মদনপুরে আগমন ও তথাকার কোচ-রাজার দেওয়া বিষ অনায়াসে গলাধঃকরণ এবং রাজা কর্তৃক প্রদত্ত সমগ্র গ্রাম উৎসর্গের ঐতিহাসিক বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। কথিত আছে, দরবেশ শাহ সুলতান রুমি মদনপুর গ্রামে আস্তানা গাড়েন এবং উক্ত অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। তদানীন্তন কোচ-রাজা তার নিকট ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাকে মদনপুর গ্রামের স্বত্ব দান করেন।

শাহ সুলতান রুমির মাজারের আশপাশে অর্থাৎ মদনপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে তার সঙ্গীদের মাজারও রয়েছে। তার সহযাত্রী হিসেবে ১২০ জন অলি ছিলেন। সারাজীবন ইসলামের দাওয়াত দিয়ে এ সুফি-দরবেশ এ অঞ্চলে অমর হয়ে আছেন। প্রতি বছর ফাল্কগ্দুন মাসে সপ্তাহব্যাপী তার মাজারে ওরস পালিত হয় আর তাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটে।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাট গম্বুজ মসজিদের কথা

▪ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোকিটার দুরে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের উত্তর পাসে ষাটগুম্বজ বাস স্টপেজ লাগোয়া সুন্দরঘোনা গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। তাই এটি কে কোন সময় নির্মাণ নির্মাণ করা হয়েছিলো সে সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান ই জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্পর্কে কারো কোনো সন্দেহ নেই। ধারণা করা হয় তিনি ১৫শত শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদটি বহু বছর ধরে এবং বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। এর পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে। এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মধ্যে একটি। মসজিদটি উত্তর দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট এবং ভিতরের
দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা আর পূর্ব পশ্চিমে বাইরের
দিকে প্রায় ১০৪ ফুট এবং ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া। দেওয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রাচীন এ মসজিদটিকে ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage Sites) হিসাবে মর্যাদা দেয়। মসজিদটি বাগেরহাট শহরকে
বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শহরের মধ্যে স্থান করে দিয়েছে।

▪মসজিদটির পূর্ব দিকে দেওয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলানযুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর তুলনায় বেশ বড়। উত্তর এবং দক্ষিণ দেওয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। আর মসজিদের ৪ কোণে ৪টি মিনারও আছে। এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে। এদের কার্ণিশের কাছে বলয়াকার ব্যান্ড এবং চূঁড়ায় গোলাকার গম্বুজ আছে। মিনারগুলোর উচ্চতা ছাদের কার্নিশের চেয়ে বেশি। সামনের দুটি মিনারে প্যাঁচানো সিঁড়ি আছে এবং এখান থেকে আযান দেবার ব্যবস্থাও ছিলো। এদের একটির নাম রওশন কোঠা, অপরটির নাম আন্ধার কোঠা। মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে। এগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬ সারিতে অবস্থিত এবং প্রত্যেক সারিতে ১০টি করে স্তম্ভ আছে। প্রতিটি স্তম্ভই পাথর কেটে বানানো শুধু ৫টি স্তম্ভ বাইরে থেকে ইট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এই ৬০টি স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের ওপর তৈরি করা হয়েছে গম্বুজ।

▪মসজিদটির নাম ৬০ গম্বুজ হলেও এখানে গম্বুজ মোটেও ৬০টি নয় বরং গম্বুজ সংখ্যা ৭৭টি । ৭৭টি গম্বুজের মধ্যে ৭০ টির উপরিভাগ গোলাকার এবং পূর্ব দেওয়ালের মাঝের দরজা এবং পশ্চিম দেয়ালের মাঝের মিহরাবের মধ্যবর্তি সারিতে যে সাতটি গম্বুজ সেগুলো দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের চৌচালা ঘরের চালের মতো। মিনারে গম্বুজের সংখ্যা ৪ টি এ হিসেবে গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ৮১ তে। তবুও এর নাম হয়েছে ষাটগম্বুজ। ঐতিহাসিকরা মনে করেন সাতটি সারিবদ্ধ গম্বুজ সারি আছে বলে এ মসজিদের সাত গম্বুজ এবং তা থেকে ষাটগম্বুজ নাম হয়েছে। আবার অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন গম্বুজগুলো ৬০ টি প্রস্তরনির্মিত স্তম্ভের ওপর অবস্থিত বলেই নাম ষাটগম্বুজ হয়েছে।

▪ভ্রমণ সুবিধার্থে বন্ধ-খোলার সময়সূচিঃ

গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কেল্লা খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্য শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা  ২.০০ থেকে খোলা থাকে।

➡ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া’ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

কুষ্টিয়ার বিখ্যাত রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির ঐতিহ্যের কথা

শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি অবস্থিত যা রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি নামে পরিচিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে কুমারখালি উপজেলার অর্ন্তগত শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরেশদপুরে ৩৩ বিঘা জমির মধ্যে আড়াই বিঘা জমির উপর তিনতলা কুঠিবাড়িটি অবস্থিত। রবীন্দ্রনাথের দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এ অঞ্চলের জমিদারি পান। পরবর্তিতে ১৮৮৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে জমিদার হয়ে আসেন। এখানে তিনি ১৯০১ সাল পর্যন্ত জমিদারী পরিচালনা করেন। এ সময় এখানে বসেই তিনি রচনা করেন তার সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালী,গীতাঞ্জলী  গ্রন্থগুলো।

কুঠি বাড়িতে রুম সংখ্যা আঠারো, দরজা সংখ্যা সতেরোটি, জানালার সংখ্যা ত্রিশটি। কুঠিবাড়ির তিন তলার কামরাটা ছিল কবি গুরুর লেখার ঘর। কবি এই ছাদের উপর বসে সুর্যোদয়, সূর্য্যাস্ত ও জ্যোৎস্না প্লাবিত প্রকৃতির শোভায় মুগ্ধ হতেন। এই খানে বসে কবির দু’চক্ষুকে যে সমস্ত দৃশ্য তন্ময় হতো। তা তিনি নিজেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে প্রকাশ করেছেন। এই ঘরের জানালা দিয়ে এখন শুধু পদ্মাকে দেখা যায়। আগে পদ্মা গড়াই দুটো নদীকে দেখা যেত। কবি রবীন্দ্রনাথ তখন ঘরে বসেই শুনতে পেতেন নদীর ডাক। নদী যেন কলকল ছলছল করে কবিকে ডাকতো। কবিও সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন পদ্মার বুকে, গড়াইয়ের বুকে। কখনো পদ্মার বুকে সাঁতরিয়ে তিনি আনন্দ উপভোগ করতেন।

১৯৫৮ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় শিলাইদহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়িটি গৌরবময় স্মৃতিরূপে সংরক্ষিত আছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কুঠিবাড়িটির গুরুত্ব অনুধাবন করে কবির বিভিন্ন শিল্পকর্ম সংগ্রহপূর্বক একে একটি জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুরো ভবনটি এখন জাদুঘর হিসেবে দর্শকদের জন্যে উম্মুক্ত। জাদুঘরের নীচ ও দ্বিতীয় তলায় ১৬টি কক্ষেই কবি রবীন্দ্রনাথ, শিল্পী রবীন্দ্রনাথ, জমিদার রবীন্দ্রনাথ, কৃষক বন্ধু রবীন্দ্রনাথ অর্থাৎ নানা বয়সের বিচিত্র ভঙ্গির রবীন্দ্রনাথের ছবি । বাল্যকাল থেকে মৃতু্শয্যার ছবি পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে । তাছাড়াও রয়েছে শিল্পকর্ম এবং তাঁর ব্যবহার্য আসবাবপত্র দিয়ে পরিপাটি দিয়ে সাজানো।

কবি ভবনে ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলোর মধ্যে আরো আছে চঞ্চলা ও চপলা নামের দুটো স্পিডবোট, পল্টুন, ৮বেহারা পালকি, কাঠের চেয়ার, টি টেবিল, সোফাসেট, আরাম চেয়ার, পালংক ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস।

বন্ধ–খোলার সময়সূচীঃ

গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুঠিবাড়ি খোলা থাকে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত আধ ঘণ্টার জন্যে বন্ধ থাকে। আর শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। আর সবসময়ের জন্যেই শুক্রবারে জুম্মার নামাযের জন্যে সাড়ে বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। রবিবার সাধারণ ছুটি এবং সোমবার বেলা  ২.০০ থেকে   খোলা থাকে। এছাড়াও সরকারী কোন বিশেষ দিবসে জাদুঘর থাকে ।

◻ ছবি ও কিছু তথ্য ‘উইকিপিডিয়া ‘ থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য পুতুল নাচের কথা

পুতুল নাচের সাথে বাঙালি হিসেবে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। কারো হয়তো কোনো গ্রামাঞ্চলে সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কেউ বা আবার লোকমুখে শুনে শুনে বা টিভির পর্দায় দেখেই বেশ কৌতুহল এবং রোমাঞ্চিত বোধ করেছে। যেই পুতুল নাচ-কে ঘিরে একসময় কৌতুহলের অব্দি ছিল না, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ রাত-বিরাতে পারি জমাতো পাশের গ্রামে, ভুলে যেত সারাদিনের কর্মব্যস্ততা; সেই পুতুল নাচ সময় ও সংস্কৃতির পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে শত শত বছরের সাংস্কৃতিক এ ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তপ্রায়। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে পুতুলনাচ যেন গল্পগাথা।

➡পুতুলনাচের উদ্ভব এবং ইতিহাসঃ
পুতুল নাচ-এর সঠিক ইতিহাস যতোদূর জানা যায়,
ভারতীয় উপ-মহাদেশে প্রথম পুতুল নাচের প্রচলন করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার তিতাস নদীর কূল ঘেঁষে গড়ে ওঠা জনপদে কৃষ্ণ নগর নামে পল্লীতে বিপিন পালের জন্ম। বিপিন পাল তৎসময়ে সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পৌরানিক কাহিনী অবলম্বন করে পুতুল নাচ করতেন বলে জানা যায়। এইকৃষ্ণনগরেই রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালীএকটি জমিদার বাড়ি। বিপিন পাল শুরুতেই তাদের পৃষ্ঠপােষকতা লাভ করেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,বিপিন পালের দলের নাম ছিল গােবিন্দ পুতুলনাচ। গােবিন্দ ছিল বিপিন পালের ছেলের নাম। বিপিন পালবিভিন্ন পূজা – পার্বণে পুতুল নাচের মাধ্যমে বিভিন্নধর্মীয় পালা পরিবেশন করতেন। দেশভাগের কিছুদিনপর বিপিন পাল মারা গেলে তার পুত্র গােবিন্দ পাল।সপরিবারে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। তাদের অনুপস্থিতিতে দল মারাত্মক সংকটে পড়ে।

➡পুতুল নাচ এবং এর ধরণঃ
নাটকের মতোই এতে ছোট বা মাঝারি আকারের একটি মঞ্চ আবশ্যক। এক বা একাধিক ব্যক্তি কখনও প্রকাশ্যে আবার কখনও নেপথ্যে থেকে হাতের নিপুণ কুশলতায় মানুষরূপী পুতুল বা প্রাণিকুলের ক্ষুদ্র প্রতিকৃতিকে পরিচালনার মাধ্যমে নাটকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

সেই পুতুলগুলো নাচে, গান গায়, তখন অন্যরকম আমেজ বয়ে আসে। রঙিন পুতুল, হাতে ও মাথায় সুতো বাঁধা। সুর ও ছন্দের তালে তালে নাচে মঞ্চে। বিনোদনপিয়াসী দর্শক পুতুলের হাসিতে যেমন হেসে ওঠেন, তেমনি পুতুলের কান্নায় কাঁদেন।

পুতুল নাচের পুতুলগুলি সাধারণত চার ধরণের হয়ে থাকে:

▪তারের পুতুল

▪লাঠিপুতুল

▪বেণীপুতুল

▪ছায়াপুতুল

তারের পুতুল সূক্ষ্ম তার বা সুতার সাহায্যে এবং লাঠিপুতুল লম্বা সরু লাঠির সাহায্যে নাচানো হয়; আর দুই বা ততোধিক পুতুল যখন একসঙ্গে বেঁধে হাত দিয়ে নাচানো হয় তখন তাকে বলে বেণীপুতুল।বাংলাদেশে তারের পুতুল ও লাঠিপুতুলের চর্চাই বেশি হয়। এক্ষেত্রে শিল্পী দুহাতে সর্বোচ্চ তিনটি পুতুল ধরে সংলাপ বা সুরের তালে তালে পুতুলকে নাচান।

সাধারণ নাটকে স্থানের সীমাবদ্ধতা থাকলেও পুতুলনাচে তার বিস্তৃতি অনেক। জলের প্রাণী, আকাশের পাখি, ডাঙ্গার মানুষ, বনের পশু সবই কাহিনীর প্রয়োজনে একমঞ্চে এক সঙ্গে অভিনয় করে। নির্বাক পুতুলসহ সব প্রাণীই নিজস্ব আচার-আচরণের পাশাপাশি মানুষের ভাষায় কথা বলে। ফলে পুতুলনাচ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আনন্দময় এবং সব বয়স ও শ্রেণীর দর্শকরা তা সানন্দে উপভোগ করে।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন নুহাশ পল্লীর (Nuhash Polli) কথা।

নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli) নন্দন কাননটি গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলােমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। নুহাশ পল্লীর বর্তমান আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা।।১৯৮৭ সালে ২২ বিঘা জমিতে হুমায়ূন আহমেদ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করেন। হুমায়ূন পুত্র নুহাশের নামানুসারে নুহাশ পল্লী নামকরণ করা হয়। নুহাশ পল্লীর প্রতিটি স্থাপনায় মিশে আছে গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের স্পর্শ এবং ভালােবাসা। বিভিন্ন নাটক, সিনেমার শুটিং এর পাশাপাশি নুহাশ পল্লীতেই হুমায়ূন আহমেদ তার জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় পরিবার বা প্রিয়জন নিয়ে একদিনেই ঘুরে দেখে আসতে পারবেন নুহাশ পল্লী।

নুহাশ পল্লীতে প্রবেশ পথের পরই হাতের বাম দিকে দৃষ্টিনন্দন সবুজ প্রান্তর চোখে পড়বে। এই প্রান্তরের বাম পাশের লিচু বাগানে শায়িত আছেন গল্পের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ। নুহাশ পল্লীর প্রবেশ পথ ধরে এগিয়ে গেলেই স্থানীয় স্থপতি আসাদুজ্জামান খানের ‘ মা ও শিশু ’ নামক ভাস্কর্যটি দেখেতে পাবেন। শিশুদের বিনােদনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ভুত ও ব্যাঙের আকারের ভাস্কর্য। এর পাশেই তৈরী করা হয়েছে আঁকাবাঁকা সুইমিং পুল। ভারতের প্রখ্যাত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ এই সুইমিং পুলেই সাঁতার কেটে ছিলেন।

সুইমিং পুল পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেলেই একে একে দেখতে পাওয়া যায় হুমায়ূন আহমেদের কটেজ, দাবা খেলার ঘর এবং নামাজ পড়ার স্থান। এরপরেই রয়েছে বিশাল টিনশেডের বারান্দাসহ ‘ বৃষ্টিবিলাস ’ কটেজ। এই কটেজের বারান্দাতে বসেই হুমায়ূন আহমেদ বৃষ্টি ও পূর্নিমা দেখতে পছন্দ করতেন। ঠিক উল্টো দিকে রয়েছে তার বিখ্যাত ট্রি হাউজ। নুহাশ পল্লীতে রয়েছে একটি ঔষধি গাছের বাগান, এছাড়াও রয়েছে প্রায় ৩০০ প্রজাতির বিভিন্ন গাছ।

ঔষধি গাছের বাগানের পেছনে রয়েছে টিন এবং কাদামাটি দিয়ে তৈরি করা শুটিং স্পট। আর বাগানের সামনের দিকে রয়েছে মৎস্য কন্যা রাক্ষসের মূর্তি। এর পাশে কনক্রিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ডাইনােসারের মূর্তি। নুহাশ পল্লীর সর্ব উত্তরে রয়েছে লীলাবতী দিঘি। এই দিঘির মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম দ্বীপ যা একটি কাঠের সেতুর সাথে যুক্ত। লীলাবতি দিঘির পাশেই রয়েছে ‘ ভুতবিলাস ’ নামক আরাে একটি ভবন। এছাড়াও সাজানাে গুছানাে নুহাশ পল্লীতে একটি দিন কাটানাের ক্ষণে ক্ষণেই আপনি সমস্ত নুহাশ পল্লীতে কবির অস্তিত্ব অনুভব করবেন।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

বাংলার অপরুপ নিদর্শন তাজহাট জমিদার বাড়ির কথা

রংপুর শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে তাজহাট গ্রামে অবস্থিত তাজহাট জমিদার বাড়িটি। রত্ন ব্যবসায়ী মান্নালাল ছিলেন তাজহাট জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা। ব্যবসায়িক কারণে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি রংপুরের মাহিগঞ্জে এসে বসবাস শুরু করেন এবং একটি ভবন নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে তার এ ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনি আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান। তার দত্তক পুত্র গোপাল লাল রায় বাহাদুর জমিদারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি প্রায় ২ হাজার রাজমিস্ত্রির সহায়তায় একটি জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। সেই জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে তাজহাট জমিদার বাড়ি হিসেবে সুপরিচিত। বাড়িটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। ১৯১৭ সালে ভবনটি সম্পূর্ণ হয়। প্রাসাদ চত্বরে রয়েছে বিশাল খালি মাঠ, গাছের সারি এবং প্রাসাদের দুই পাশে রয়েছে দুইটি পুকুর।

বাড়িটির চারদিকে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ শোভা, ফুলের বাগান, উত্তর ও দক্ষিণাংশে কামিনী, মেহগনি, কাঁঠাল ও আমবাগান। ঢাকার আহসান মঞ্জিলের মতো দেখতে এই জমিদার বাড়িটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় রয়েছে রাজা গোপালের ব্যবহৃত নানা জিনিস। তাজহাট জমিদার বাড়িটি লাল ইট, শ্বেত পাথর ও চুনা পাথর দ্বারা নির্মিত বিধায় দেখতে অতি চমৎকার। চারতলা বিশিষ্ট এই জমিদার বাড়িটির ভেতরে রয়েছে অসংখ্য কক্ষ, গোসলখানা ও অতিথি শয়নশালা। প্রাসাদটি প্রায় ২১০ ফুটের মত প্রশস্ত ও চার তলার সমান উঁচু। এর গঠনশৈলী প্রাচীন মুঘল স্থাপত্য থেকে অনুপ্রাণিত বলে মনে করা হয় যার প্রমাণ মেলে মধ্যভাগে বিশাল একটি গম্বুজ ও দুই পাশে তার ছড়িয়ে যাওয়া দালানগুলোর একটা মসজিদের অবয়ব থেকে। তবে রাজবাড়ী যেই দিক থেকে বাংলাদেশের অন্য সকল প্রাসাদের থেকে আলাদা তা হল এর সিঁড়িগুলো। সর্বমোট ৩১ টি সিড়ি আছে যার প্রতিটাই ইতালীয় ঘরানার মার্বেল পাথরে তৈরী। সিঁড়ি থেকে উঠে জাদুঘর পর্যন্ত মেঝের পুরোটাও একই পাথরে তৈরী। রাজবাড়ীর পশ্চাৎভাগে গুপ্ত সিঁড়ি রয়েছে। এই গুপ্ত সিঁড়ি কোন একটি সুড়ংগের সাথে যুক্ত যা সরাসরি ঘাঘট নদীর সাথে যুক্ত এমন একটা জনশ্রুতি শোনা যায় তবে সিড়ি টা এখন নিরাপত্তা জনিত কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাসাদের সুন্দর ফোয়ারাটি কালের বিবর্তনে শ্বেতশুভ্র মার্বেল ও তার সবুজাভ নকশা কিছুটা মলিন হলেও এখনো এর জৌলুষ বুঝা যায়। কথিত আছে রাণীর জন্যেই বিশেষ ক’রে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০০৫ সালের আগে জমিদার বাড়িটি তাজহাট রাজবাড়ি হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত।

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রাসাদটিকে একটি সংরক্ষিত স্থাপনা তথা স্থাপত্য হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকার এ স্থাপস্ত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবনে ২০০৫ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জাদুঘরকে সরিয়ে এ প্রসাদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আসে।মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে জাদুঘরে উঠলেই রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী কক্ষ যাতে রয়েছে দশম ও একাদশ শতাব্দীর টেরাকোটা শিল্পকর্ম। এখানে রয়েছে সংস্কৃত এবং আরবি ভাষায় লেখা বেশ কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। এর মধ্যে রয়েছে মুঘল সম্রাট আওরাঙ্গজেবের সময়ের কুরআন সহ মহাভারত ও রামায়ণ। পেছনের ঘরে রয়েছে বেশ কয়েকটা কাল পাথরের হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর প্রতিকৃতি। কিন্তু জাদুঘরের ভিতরে ছবি তোলার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ জাদুঘরে প্রায় তিনশটি মূল্যবান নিদর্শন রয়েছে।

➡ ছবিঃ ছবি ও কিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য শীতল পাটির কথা। ▪আবহমান বাংলার লোক-ঐতিহ্যের অনন্য স্মারক এই শীতল পাটি। লোক কবিদের কাব্যগানেও রয়েছে শীতল পাটির আলাদা স্থান। শীতল পাটির পরশে প্রাণ জুড়ানোর কাল হয়তো আমরা পেরিয়ে এসেছি, এসি বা ফ্যানের বাতাসেই এখন আমরা গরমে আরাম খুঁজি। তারপরও শীতল পাটির আবেদন আমাদের স্মৃতিকাতর মন থেকে হারাতে পারেনি। হস্তশিল্পের সাথে জড়িতরা কোনো ভৌগোলিক আয়তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের উপস্থিতি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এই শিল্প বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগসূত্র সৃষ্টি করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মও শিল্পীদের মধ্যে সংযোগ সাধনের কাজ করে। এ ধরনের একটি প্লাটফর্ম হলো ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ প্লাটফর্ম।

▪বাংলাদেশের কোনো কোনো স্থানে শীতল পাটি তৈরির কথা জানা গেলেও মূলত শীতল পাটি হলো মেঝেতে পাতা একধরনের আসন। এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প। মুর্তা বা পাটি, বেত বা মোস্তাক নামের গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের ছাল থেকে এ পাটি তৈরি হয়। হস্তশিল্প হিসেবেও এ পাটির যথেষ্ট কদর রয়েছে। শহরে শো-পিস এবং গ্রামে এটি মাদুর বা চাদরের পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ব্যবহত হয়। সাজসজ্জা দ্বারা সজ্জিত মাদুরকে আবার নকশি পাটিও বলা হয়। শীতল পাটি বোনা হয় বেত-জাতীয় গাছের আঁশ থেকে। এই গাছটি মোস্তাক, পাটিপাতা, পাটিবেত ও পৈতারা।

▪শীতল পাটি সত্যিকার অর্থেই একটি বিরাট শিল্পকর্ম। এই কাজে নারীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই শিল্পের সাথে জড়িতরা তাদের অঞ্চলের নক্সা ও মটিফকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে শুকনা মওসুমে মুর্তা থেকে বেত তৈরি হয়। বর্ষা মওসুমে দীর্ঘ সময় নিয়ে যতœসহকারে বোনা হয় শীতল পাটি। শীতল পাটিতে কারিগররা দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলেন গান, কবিতা, জীবজন্তুসহ প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি। নকশা করা শীতল পাটি শৌখিন অনেকে গৃহসজ্জার কাজেও ব্যবহার করেন। আর বর-কনেকে শীতল পাটিতে বসিয়ে আপ্যায়নের রীতিও পুরনো।

▪শীতল পাটির কাহিনি অনেক দীর্ঘ। ব্রিটিশ আমল থেকেই এর কদর। ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদে শীতল পাটি শোভা পেয়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি মোগল শাসনামলে সম্রাট আওরঙ্গজেব এবং ব্রিটিশ আমলে রানি ভিক্টোরিয়ার রাজদরবারে উপঢৌকন হিসেবে গিয়েছিল এবং রাজরাজারা যারপরনাই প্রীত হয়েছিলেন। জানা যায়, ১৯১৯ সালে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমন্ত্রিত হয়ে সিলেটে সেখানকার বেত ও বাঁশের বানানো চেয়ার টেবিল, ব্যাগ ইত্যাদি দেখে অভিভূত হয়ে কয়েক ফর্দ কিনে নিয়ে শান্তিনিকেতনে ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করার মতো এমন একটি পণ্য আজ অবহেলিত। এর সাথে জড়িত কারিগররাও ধুঁকে ধুঁকে শেষ হচ্ছে।

➡ ছবিগুলো সমকাল পত্রিকার ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

▪Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

▪পর্ব ২৩ ▪বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের কথা

▪ক্ষুদ্র পরিসরে বাড়ি-ঘরে অল্প পরিমাণে কোন পণ্য তৈরি করাকেই বলা হয়ে থাকে কুটির শিল্প। কুটির শিল্পের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস ফুটে উঠে। তাই এটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প। কুটির শিল্পকে হস্তশিল্প, কারুশিল্প, সৌখিন শিল্পকর্ম, গ্রামীণ শিল্পও বলা হয়ে থাকে।

▪বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর মতে- ‘যে শিল্প কারখানা একই পরিবারের সদস্য দ্বারা পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচালিত এবং পারিবারিক কারিগর খন্ডকালীন বা পূর্ণ সময়ের জন্য উৎপাদন কার্যে নিয়োজিত থাকেন এবং যে শিল্পে শক্তিচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হলে ১০ জনের বেশি এবং শক্তি চালিত যন্ত্র ব্যবহৃত না হলে ২০ জনের বেশি কারিগর উৎপাদন কার্যে নিয়োজিত থাকে না তাই কুটির শিল্প’। শিল্পনীতি ২০১০-এ বলা হয়েছে, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকার নীচে এবং পারিবারিক সদস্য সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জনবল ১০-এর অধিক নয় এরূপ শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে কুটির শিল্প।’

▪কুটির শিল্পের ইতিহাস

বঙ্গদেশে কুটির শিল্পের শুরু হয় পৃথিবীখ্যাত মসলিন কাপড় উৎপাদন দিয়ে। মুঘল যুগ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পর্যন্ত মূলত সুতিবস্ত্র উৎপাদনই ছিলো এই অঞ্চলের প্রধান কুটির শিল্প। দেশভাগের পর কুটির শিল্পের উৎপাদন এবং আমদানি-রপ্তানি কমে যায়। ১৯৫৭ সালে সরকারি আইনের মাধ্যমে ‘পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (ইপসিক)’ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থাকে পুনর্গঠন করে নতুন নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)’।

▪বিভিন্ন ধরনের কুটির শিল্প

মৃৎ শিল্পঃ মৃৎ শিল্পের মধ্যে মাটির তৈরি বিভিন্ন পুতুল, দেবদেবীর মুর্তি, গার্হস্থ্য দ্রব্যাদি, মাটির ভাস্কর্য, টালি, শখের হাঁড়ি, মনশাঘট ও ফুলদানি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য মৃৎ শিল্প পল্লী কুমিল্লার বিজয়পুর, পটুয়াখালীর মদনপুরা, ফেনীর চম্পকনগর, শরিয়তপুরের কার্ত্তিকপুর এবং ঢাকার রায়ের বাজারে অবস্থিত।

বস্ত্র শিল্পঃ দেশীয় বস্ত্র শিল্পের মধ্যে রয়েছে শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, গামছা, মশারি, তোয়ালে, ইত্যাদি। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- উপজাতীয় বস্ত্র, মসলিন, জামদানী, মলমল টরোয়ো শাড়ি, পাবনার শাড়ি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, কাতান, রেশমবস্ত্র, খদ্দর বস্ত্র ইত্যাদি।

পাটজাত শিল্পঃ পাট দিয়ে বিভিন্ন মোটিভের সিকা, টেবিলম্যাট, শতরঞ্জি, কার্পেট, সৌখিন হ্যান্ডব্যাগ, থলে ইত্যাদি তৈরি করা হয়। এসব পণ্য পাটজাত পণ্য হিসেবে পরিচিত।

বাঁশ-বেত শিল্পঃ বাংলাদেশের বাঁশ ও বেত শিল্পের মাধ্যমে সাধারণত বাঁশ বেত সামগ্রী, বেড়া, চাটাই, মাছধরার ফাঁদ, হাতপাখা, মোড়া, সোফাসেট, টেবিলম্যাট, ওয়ালম্যাট, ট্রে, ফুলদানি, ছাইদানি ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

শীতলপাটিঃ শীতলপাটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী একটি কারু শিল্প। মুলত এটি এক ধরণের চাটাই যেখানে আবহমান গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, রূপ এবং সৌন্দর্যকে কারুকাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়।

গহনা শিল্পঃ বাংলাদেশের নারীদের অন্যতম পছন্দ হাতে তৈরি বিভিন্ন গহনা সামগ্রী। এসবের মধ্যে রয়েছে সিঁথিতে ঝাপা, কানে কানপাশা, হীরাম মুল কুড়ি, ঝুমকা, নবরত্ন ও চক্রবালি, নাকে বেশর নথ, ফুরফুরি, গলায় পুষ্পহার, সীতাহার, সাতনরীহার, চম্পাকলি, মোহনমালা, হাতে তাগা, মাদুলি বাজার মান্তাশা, রত্নচূড়, আঙ্গুলে আঙ্গুষ্ঠার শাহনামী, অ্যানওয়ান, কোমরে বিছা, চন্দ্রহার কিন্ধিনী পায়ে, ঝাঝুরা পায়েল, তোড়া ইত্যাদি।

কাঁসা-পিতলজাত শিল্পঃ ঢাকার ধামরাই, সাভার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জামালপুরের ইসলামপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল ও শরিয়তপুরে পারিবারিক শিল্প হিসেবে বংশ পরম্পরায় কাঁসা ও পিতলের বিভিন্ন দৈনন্দিন ব্যবহার সামগ্রী তৈরি হয়ে আসছে।

নকশী কাঁথাঃ প্রাচীনকাল থেকে এদেশে বিভিন্ন ধরণের নকশী কাঁথা তৈরি হয়ে আসছে, যা এখন লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। মুলত তিন ধরনের নকশি কাঁথা এদেশে তৈরি হয়: চিত্রিত কাঁথা, মাটিকাঁথা ও পাইড় কাঁথা।

▪ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

▪ Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

▪পর্ব ২২ ▪গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ডাঙ্গুলি খেলার কথা

▪বাংলাদেশের সব জায়গাতেই অল্প বয়সি ছেলেদের জনপ্রিয় এই খেলাটি অঞ্চলভেদে ‘ডাংবাড়ি’, ‘গুটবাড়ি’, ‘ট্যামডাং’, ‘ভ্যাটাডান্ডা’ ইত্যাদি নামে পরিচিত। তবে ডাঙ্গুলি নামেই এটি বেশি পরিচিত।
▪আদতে ডাঙ্গুলি এখনকার জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের গ্রাম্য সংষ্করণ। ক্রিকেটের ব্যাট ও বলের মতো ডাঙ্গুলিতে আছে ডান্ডা ও গুলি। আরও মজার ব্যাপার যেটি তা হল, এখানেও ক্যাচ ধরা বা ডান্ডায় আঘাত করে আউট করার নিয়ম আছে। দুই থেকে পাঁচ-ছয়জন করে দুই দলে ভাগ হয়ে খেলতে পারে। খেলার উপকরণ প্রায় দেড় হাত লম্বা একটি লাঠি, একে বলে ডান্ডা। আরও লাগে তিন-চার ইঞ্চি সমান একটি শক্ত কাঠি যা ‘গুলি’, ‘ফুলুক’ বা ‘ফুত্তি’ নামে পরিচিত।খোলা মাঠে একটি ছোট্ট গর্ত করা হয় শুরুতেই। প্রথম দান পায় যে দল তাদের একজন গর্তের উপর ছোট কাঠিটি রেখে বড় লাঠির আগা দিয়ে সেটিকে যতদুর সম্ভব দুরে ছুঁড়ে মারে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা চারদিকে দাঁড়িয়ে সেটিকে লুফে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধরতে পারলেই খেলোয়াড় আউট। অন্যথায়, খেলোয়াড় বড় লাঠিটিকে আড়াআড়ি ভাবে রাখে।

অপরপক্ষ, ছোট কাঠিটি যে জায়গায় পড়েছে সেখান থেকে ছুঁড়ে মারে গর্তের দিকে। কাঠিটি যদি বড় লাঠিটিকে আঘাত করে তবে প্রথম খেলোয়াড় আউট হয়ে যায়। তা না হলে প্রথম খেলোয়াড় পড়ে থাকা কাঠির কাছে গিয়ে বড় লাঠি দিয়ে বিশেষ কায়দায় আঘাত করে সেটিকে শূন্যে তোলে। শূন্যে থাকা অবস্থায় বড় লাঠি দিয়ে আঘাত করে দুরে পাঠিয়ে দেয়। আগের মতোই অন্যেরা সেটা ক্যাচ ধরে আউট করার চেষ্টা করে ওই ক্রিকেটের নিয়মে। কেউ আউট না হলে প্রথম খেলোয়াড় বড় লাঠিটি গর্তের উপর রাখে আড়াআড়ি ভাবে। দুর থেকে অপরপক্ষ কাঠিটি ছুঁড়ে যদি বড় লাঠিকে আঘাত করতে পারে, তাহলেও মূল খেলোয়াড় আউট।

দ্বিতীয় দফায় যেখানে পড়লো ছোট কাঠিটি সেখান থেকে গর্তের দুরত্ব মাপা হয় লম্বা লাঠিটি দিয়ে – মুনা, ধুনা, তিনা, চারা, পাঁচা, ছৈ, গৈ। এভাবে কয়-লাঠি গোনা হলো এবং প্রতিপক্ষের খেলার সময় ও দুজনের গোনাগুনতির পরিমাণের ওপরই নির্ভর করে খেলার জয় পরাজয়।

▪ ছবি ও কিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।

▪ My Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

▪পর্ব ২১ ▪গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ঢেঁকির কথা।

▪একটা সময় ছিল যখন গ্রামবাংলায় ধান ভানার একমাত্র যন্ত্রই ছিল ঢেঁকি। গ্রামের কৃষাণী থেকে শুরু করে জমিদারবাড়ি পর্যন্ত সর্বত্রই ছিল এ ঢেঁকির প্রচলন।

▪প্রাচীন কাল থেকে এই উপমহাদেশে ঢেঁকি ব্যবহার হয়ে আসছে। তখন বাংলার ঘরে ঘরে চিড়া কোটা, চাল ও চালের গুড়া করার জন্য ঢেঁকিই ছিল একমাত্র মাধ্যম। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যর ধারক ঢেঁকি গৃহস্থের সচ্ছলতা ও সুখ সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে প্রচলিত ছিল। বাংলাদেশের শহর থেকে শুরু করে গ্রামে গঞ্জেও এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। ফলে দিন দিন একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ যন্ত্রটি (ঢেঁকি)।

▪মাছে ভাতে বাঙালির ঘরে এক সময় নবান্নের উৎসব হতো ঘটা করে। উৎসবের প্রতিপাদ্যটাই ছিল মাটির গন্ধ মাখা ধান। ছিল ঢেঁকিতে ছাঁটা ধানের চালের ভাত আর সুস্বাদু পিঠার আয়োজন। রাতের পর রাত জেগে শরীরটাকে ঘামে ভিজিয়ে ঢেঁকিতে ধান ভানার পর প্রাণখোলা হাসি হাসত গাঁয়ের বধূরা। গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই যন্ত্রটির সাথে কতো গল্প-কাহিনি যে জড়িয়ে আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। গাঁয়ের বধুরা রাত জেগে ধান ভানার সময় কতো আনন্দ, হাসি-ঠাট্টায় যে মেতে উঠত তারও কোন ইয়ত্তা নেই। ঢেঁকিতে ধান ভানতে গিয়ে তারা বিভিন্ন ধরনের হাসি-তামাশার কথা বলতো আর মনের সুখ-দুঃখের গান গাইতো। গ্রামের মেয়েরাও পালাক্রমে ঢেঁকিতে ধান থেকে চাল তৈরির সময় নানা গীত পরিবেশন করত। ঢেঁকির ঢেঁকুর ঢুঁকুর মিষ্টি মধুর শব্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মনের সুখে গান শুনতে শুনতে বৃদ্ধাদেরও চলতো পান খাওয়ার আড্ডা। আজকাল যা কেবলই স্মৃতি। কালের বিবর্তণে আর যান্ত্রিক সভ্যতার আগ্রাসনে গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে।

▪৭০ এর দশকের পর ইঞ্জিন চালিত ধান ভাঙা কল আমদানির পর গ্রাম অঞ্চল থেকে ঢেঁকি বিলীন হওয়া শুরু হয়েছে। ক্রমান্বয়ে ঐতিহ্য বাহী ঢেঁকি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে গ্রামের মানুষ ভুলে গেছেন ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের স্বাদ। যান্ত্রিক সভ্যতা গ্রাস করেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঢেঁকি শিল্পকে। ডিজিটাল যুগের আগামী প্রজন্ম ঢেঁকি কি তা চেনে না বললেই চলে। সব এলাকাতেই বর্তমান আধুনিক যুগে ঢেঁকির পরিবর্তে ধান ছাঁটাইসহ চালের গুঁড়া তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত মেশিনে। আর বিদ্যুৎচালিত মেশিনে ধান ছাঁটাই করার পর ওই চালগুলোতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইউরিয়া সার দিয়ে পালিশ করে তা চকচকে করে বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে জনমুখে। বাঙালির প্রধান খাদ্যবস্তু এই চালের সাথে রাসায়নিক মেশানোটা যে প্রযুক্তির আশির্বাদেই হচ্ছে তা বলা ঠিক হবে না। মুনাফালোভী এই কাজটা হচ্ছে আমাদের নৈতিক অধঃপতনের কারণে।

⏭ ছবিঃ ছবিটি পিন্টারেস্ট থেকে সংগৃহীত।

⏭ Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

পর্ব ২০. ⏯ বাংলার হারানো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা

➡ ঐতিহ্য শব্দটি প্রতিটি জাতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি জাতির কিছু নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থাকে যা তাকে পরিচয় করিয়ে দেয় বিশ্বের কাছে। এসব সংস্কৃতিই বলে দেয় এক একটি জাতির নিজস্বতা। প্রত্যেকটি জাতিকে ভিন্নতা দিয়েছে তাদের সংস্কৃতি। ভাষা, শিক্ষা, ও সংস্কৃতি হলো একটি জাতিসত্তার প্রাণ স্বরূপ। যেকোন জাতির সংস্কৃতিকে ধ্বংসের মাধ্যমে সে জাতির অস্তিত্বকে বিলীন করে দেয়া সম্ভব খুব সহজেই। একটি জাতির মধ্যে নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার মনোভাব নষ্ট হয়ে গেলেই হারাতে শুরু করে সে জাতির অস্তিত্ব।

আমরা আমাদের সংস্কৃতি ভুলে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে এত বেশি মগ্ন হয়ে গেছি যে আজ বাঙালি জাতির নিজস্বতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসব, পিঠা মেলা পহেলা ফাগুন বা বসন্ত উৎসব এগুলো ছিল আবহমান বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি। লাল পাড়ে সাদা শাড়ী, পান্তা ইলিশ, বসন্ত উৎসবে বাসন্তী শাড়ী আর গাঁধা ফুলের গহনায় বর্ষ ও বসন্ত বরণ ছিল বাঙালির চির চেনা এক উৎসব যা আজ প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। রাখালের বাঁশির সুরে ভাটিয়ালী গান, লোক গীতি, লালন গীতি বাঙালির স্বর্ণালী ঐতিহ্য। কালের বিবর্তনে এবং চর্চার অভাবে এসব আজ হারিয়ে গেছে। চর্চাহীনতায় ও অবহেলায় নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না আমাদের ঐতিহ্যেবাহি এইসব সংস্কৃতির সাথে।

আজ পহেলা বৈশাখের পরিবর্তে পালিত হয় থার্টি ফাস্ট নাইট বা নিউ ইয়ার, বসন্ত উৎসবের বদলে পালিত হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি বা ভ্যালেন্টাইন ডে যা আদৌ আমাদের সংস্কৃতি নয়। রবীন্দ্র, নজরুল, লোক, লালন সংগীতের পরিবর্তে বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়ে শুনছে রক, পপ, ওয়েস্টার্ন মিউজিক যার কোনটিই বাংলার সংস্কৃতির অংশ নয়। তাহলে কেন আমরা তা চর্চা করছি??? হ্যাঁ অনেকেই বলবেন বলবেন এটা আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব। নিজের অস্তিত্ব ভুলে পশ্চিমা সংস্কৃতির নামে বেহায়াপনার নাম আকাশ সংস্কৃতি হতে পারেনা এর নাম অপসংস্কৃতি। আর এই অপসংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা গলা টিপে হত্যা করছি আমাদের সংস্কৃতিকে, হুমকির সম্মুখীন করছি বাঙালি জাতি সত্তাকে। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে যদি আমরা জানতে চাই নবান্ন উৎসব বা পিঠা উৎসব কি তখন তারা অবাক দৃষ্টিতে তাকাবে আর বলবে এ আবার কি!!! অথচ এরাই রোজ ডে, হাগ ডে, টেডি ডে ফাদার্স ডে, মাদার্স্ ডে, ভ্যালেন্টাইন ডে কিংবা আরো হাজারো পশ্চিমা সংস্কৃতির নাম বলতে পারবে অবলিলায়। এরা জানেই না যে বাঙালিরও নিজস্ব কিছু সংস্কৃতি আছে, আছে ঐতিহ্য যা তাদের আলাদা করেছে অন্য জাতির কাছ থেকে, দিয়েছে নিজস্ব পরিচয়।

এ ব্যর্থতা কার বা কাদের??? হয়ত এটি আমি, আপনি কিংবা আমাদের ব্যর্থতা। আমরা পারিনি আমাদের সংস্কৃতিকে এ প্রজন্মের কাছে পৌছে দিতেদিতে, পারিনি চর্চার মাধ্যমে তা তাদের কাছে আকর্ষনীয় করে তুলতে।

➡ আমরাই পারি আমাদের হারানো ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে। পশ্চিমা সংস্কৃতি ভুলে নিজেদের সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারি এবং তাদের উৎসাহী করতে পারি নিজেদের সংস্কৃতি পালনে। পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাবে বিপথগামী প্রজন্ম রক্ষা পাক নিজস্ব সংস্কৃতি পালনের মধ্য দিয়ে। আর এই সংস্কৃতি রক্ষার যাত্রা শুরু হউক আপনার আমার হাত ধরেই। মনে রাখবেন আপনি আমি আমরাই কিন্তু এক এক খন্ড বাংলাদেশ🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩.

⏭ ছবিঃ অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

⏭ My Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

পর্ব ১৯ ➡ বাংলার ঐতিহ্য বহনকারী জামদানী কাপড়ের কথা

রূপ-বৈচিত্র্যে বাংলা যেমন মনোলোভা ও তেমনি অনন্য শিল্পে-ঐতিহ্যেও কিছুমাত্র কম যায়না। বাংলার শিল্প, ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সর্বোপরি কারিগরি সূচারুতার মেলবন্ধন বাংলাদেশের পোশাকশিল্প। বাংলাদেশী কাপড়ের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে যেমন ঐতিহ্যের ইতিবৃত্ত তেমনি ঠাস বুনটের জালে আটকে গেছে যেনো বাঙ্গালিয়ানার নিপুণ আবেগ ও স্বপ্নের মিশেল।
➡জামদানী প্রাচীন মসলিনের উত্তরাধিকারী যার জাম অর্থ ফুল এবং দানী অর্থ ধারণকারী পাত্র। প্রাচীনকালে নকশাদার মসলিন কেই জামদানী বলা হতো। জামদানী তার বাহারি নকশা ও চমৎকার কারুশৈলীর জন্য বিখ্যাত। বর্তমানে জামদানী নানা স্থানে তৈরী করা হলেও ঢাকাকেই জামদানির আদি জন্মস্থান বলে গণ্য করা হয়। জামদানী বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অনন্যসাধারণ ‘ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বনেদি ও আভিজাত্যের প্রতীক জামদানী সর্বদাই বাঙ্গালী নারীর নিকট আদরণীয়। জামদানী বলতে আমরা মূলত শাড়ি বুঝলেও এটি দিয়ে কুর্তি, পাগড়ী, রুমাল প্রভৃতি এবং ১৭০০ শতকে শেরওয়ানি তৈরির চল ছিলো। কারপাস তুলা থেকে বানানো সুতার নানান রঙের বুননে গড়ে ওঠা নকশাবাহী জামদানী শুধু আভিজাত্যই নির্দেশ করেনা বরং এটি বিয়ের কনের ক্ষেত্রেও পছন্দসই পোশাক বটে।

জামদানীর নকশাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক মূল্যবান হলো ‘পান্না হাজারী’ নকশা। যেখানে সোনালী-রুপোলী সুতোর দক্ষ চালনা ও সূচারু কারুকাজে কাপড়ে ফুটিয়ে তোলা হয় অনিন্দ্য সৌন্দর্য। শিল্পমন্ডিত নান্দনিক ঢাকাই জামদানীর নকশায় ফুটে ওঠে কলকি, ফুল, লতা কিংবা জ্যামিতিক কোন ধাঁচ যার অপূর্ব পরিস্ফুটন জামদানীকে করেছে বিপুল জনপ্রিয় ও স্বতন্ত্র। অন্যতম বয়নরীতি, বিন্যাস এবং সৌন্দর্যের জন্যই পুরো বিশ্বে জামদানী এক সমাদৃত নাম।

⏭ ছবিঃ ছবিটি উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।

⏭ My Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2

Categories
Bangla Tradition

পর্ব ১৮ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু দিয়ে ধান মাড়াই নিয়ে কিছু কথা……

আধুনিক সভ্যতার প্রচলনে গ্রাম বাংলায় বিলুপ্তির পথে এক সময়কার গ্রামবাংলার ঐহিত্য গরু দিয়ে ধান মাড়াই। কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকতার প্রচলনে এখন ধান বপন, রোপণ, ধান কাটা, মাড়াই করা এমনকি ধান থেকে চাল করা নেওয়াসহ প্রত্যেকটা কাজই সম্পন্ন হচ্ছে বিজ্ঞানের নতুন নতুন আবিষ্কার দ্বারা। গরু আর লাঙ্গল টানা সেই জরাজীর্ণ কৃষককে এখন আর দেখা যায় না। এতে কৃষকরা হালের গরু ছেড়ে চাষাবাদসহ সকল কৃষিকাজে এখন সাহায্য নেয় ট্রাক্টরের পাশাপাশি সকল আধুনিক যন্ত্রের।

এক সময়ে ধান কাটার পর প্রতিটি গ্রামে রাতভর চলতো হালের গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রচলনে কৃষিতে পুরানো এসব পদ্ধতি নেই বললেই চলে। এখন উন্নত মানের পাওয়ার টিলারের সাহায্যে পাঁচ মিনিটেই জমি প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে। আগের মত চাষাবাদে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা না করে পাম্পের সাহায্যে সেচ কাজ করে পানির চাহিদা মিটানো হচ্ছে। প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন সব কীটনাশক বাজারে আসছে। এখন আর কৃষককে রৌদ্র বৃষ্টিতে ভিজে ধানের বীজ তার শষ্যক্ষেতে ছিটিয়ে দিতে হয় না। জমিতে বীজ ছিটানোর জন্যে এখন আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। ধানের পাতা পরীক্ষা করে এ জমির উপযোগী কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। ধানের আগাছা পরিষ্কার করার জন্যেও ব্যবহার হচ্ছে এক ধরনের দাঁতালো যন্ত্র। ধান কাটার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে ধান কাটার যন্ত্র। দিনব্যাপী চাষাকে আর গায়ের ঘাম ঝরিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে না। আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রচলনে ধান রোপণ, কাটার পর হালের গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। তবে আধুনিক সভ্যতার ভিড়ে পুরানো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে অনেকটাই শখের বসে মাঝে মাঝে অনেকেই হালের গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের কাজ করে থাকেন।
বিজ্ঞানের নিত্যনতুন অবিষ্কার ও আধুনিক সভ্যতার প্রচলন এই দুইয়ের সমন্বয় কৃষিতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তবে এটাও ঠিক বিজ্ঞানের এই নব নব আবিষ্কারের ভিড়ে আমরা হারাতে বসেছি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে, আমাদের স্বকীয়তা ও আমাদের সত্তাকে। আগামী প্রজন্মের কাছে এক সময়কার এসব ঐতিহ্যকে পরিচিত করতে চাষাবাদে আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি এসব পুরানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার দরকার।

⏭ ছবিঃ করতোয়া পত্রিকা থেকে সংগৃহীত।

⏭ My Personal Kotha account⤵
🆔 HaBil
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bgf66x2