Categories
Science

ক্রায়োনিক্স (আধুনিক মমি)

ক্রায়োনিক্স হচ্ছে এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে মৃত মানুষকে সংরক্ষণ করা হয় এই আশায় যে ভবিষ্যৎ প্র‍যুক্তির সাহায্যে তাদেরকে জীবিত করা যাবে। এটি অনেকটা Hibernation বা শীতনিদ্রার মতো। এই পদ্ধতিতে মৃত ব্যক্তির দেহকে বা শুধু মাথাকে নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয় যার জন্য বহুদিন লাশ অবিকৃত থালে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্রায়োপ্রিজারভেশন। বর্তমানে জীবিত মানুষের শরীরে ক্রায়োনিক্স নিষিদ্ধ তাই ক্লিনিকাল ডেথ এর পর একজন মানুষকে ক্রায়োপ্রিজারভেশনে রাখা হয়।

ক্লিনিকাল ডেথ বলতে বুঝায় হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাওয়া। কিন্তু হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ মস্তিষ্কের কোষ জীবিত ও কর্মক্ষম থাকে। এমন অনেক নজির আছে যেখানে দেখা যায় কিছুক্ষণ হার্টবিট বন্ধ থাকার পর মানুষটি আবার বেঁচে ফিরেছে। তাই, ক্রায়োবিদরা মনে করেন যে মস্তিষ্ক যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত একজন মানুষকে মৃত দাবী করা করা যায়না। তাদের মতে ভবিষ্যৎ এ এমন প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হবে যার সাহায্যে তারা মস্তিষ্কে থাকা সকল তথ্য পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। Science Bee Family

ক্রায়োনিক্স এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেহের সব কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া বা সরাসরি বলতে গেলে মৃত্যুকে স্থগিত করে দেওয়া। ক্রায়োনিক্স প্রক্রিয়ায় কিছু কোষের ফাংশন সংরক্ষণ করা হয় যা থেকে থিওরেটিক্যালি তাদের আবার জীবিত করা সম্ভব। কোনো মানুষ মারা যাওয়ার পর তার শরীরকে স্থির অবস্থায় আনতে অক্সিজেন ও রক্ত সরবরাহ করা হয় যাতে শরীরের কিছু ক্রিয়া চলতে থাকে। তারপর শরীরে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট দেওয়া হয় যাতে রক্ত জমে না যায় এবং শরীরকে বরফে মুড়ে দেওয়া হয়।

মানুষের কোষের বেশিরভাগ অংশই পানি হওয়ায় শরীরের পানি সরিয়ে ক্রায়োপ্রোট্যাক্টট্যান্ট বা গ্লিসারল দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলে ভিট্রিফিকেশন। পানি না সরালে তা বরফ হওয়ার পর আয়তনে বেড়ে যাবে এবং সব কোষ নষ্ট হয়ে যাবে। ভিট্রিফিকেশন এর পর ড্রাই আইস দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা -২০২°F পর্যন্ত ঠান্ডা করা হয়, একে বলে প্রি-কুলিং। এরপর শরীরকে তরল নাইট্রোজেন এর ট্যাঙ্কে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা -৩২০°F এ নেমে আসে।

সবচেয়ে জটিল বিষয় হচ্ছে এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে এনে দেহ স্বাভাবিক করা। এখনো পর্যন্ত কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীকে এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনা যায়নি, কেবল কিছু নেমাটোডদের স্বাভাবিক করা গিয়েছে। আর ভবিষ্যৎকালে কোনো মানুষকে হিমায়িত অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনা গেলেও সে থাকবে মৃত এবং মৃত মানুষটিকে জীবনদান করা অসম্ভব ব্যাপার। তাই, বর্তমানে ক্রায়োনিক্সকে ছদ্মবিজ্ঞান বা Pseudoscience হিসেবে দেখা হয়। এই প্রক্রিয়ায় শরীর সংরক্ষণে খরচ হয় ২ লক্ষ ডলার, মস্তিষ্ক সংরক্ষণে খরচ হয় ৬০ হাজার ডলার।

© Nishat Tasnim
সোর্স: Science Bee Family

Categories
Science

গিরগিটির রঙ পরিবর্তন রহস্য ক্যাটাগরি: প্রাণী বিজ্ঞান

গিরগিটি-র ব্যাপারে আমাদের কাছে সবচে আকর্ষণীয় বিষয়ই হলো এর রঙ পরিবর্তনের ক্ষমতা। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি হতে উদ্ধার পাবার জন্য মানুষ যেমন ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে, ঠিক তেমনি গিরগিটি দেরও কেমোফ্লেজ বা ছদ্মবেশ নেবার নিদারুণ দক্ষতা রয়েছে। “ক্রোমাটোফোর” নামক এক প্রকার বিশেষ কোষ ত্বকের উপর অন্য রঙের আবরণ তৈরি করে বিধায় গিরগিটি তার গায়ের রঙ বদলে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে।

 

যদিও অক্টোপাস এবং ক্যাটলফিশও (সামুদ্রিক প্রাণী) তাদের ত্বকীয় কোষের পিগমেন্ট মুভিংয়ের মাধ্যমে গায়ের রঙ পরিবর্তন করতে পারে, অন্যদিকে ক্রোমাটোফোর ছাড়াও ত্বকে “ইরিডিয়োফোর” নামক বিশেষ কোষ থাকার কারণে গিরগিটিও গায়ের রঙ পরিবর্তন করতে পারে।

গিরগিটির জিহ্বা সাধারণত অনেক লম্বা হয় এবং ৩৬০° কোণে তার চোখ ঘুরাতে পারে বলে অনেকের কাছেই প্রাণিটি আকর্ষণীয়! তবে সবচে রোমাঞ্চকর ব্যাপার হলো গায়ের রঙ হুট করে পরিবর্তন যা বিজ্ঞানীদের সর্বদাই অবাক করে এসেছে। গিরগিটি সাধারণত যেকোনো রঙ তার ত্বকে ধারণ করতে পারে। তবে সবুজ, নীল, বাদামি ইত্যাদি খুবই পরিচিত এবং গোলাপি, কমলা ও লাল রঙ ধারণকৃত গিরগিটি খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়।

 

গিরগিটির ত্বকে ক্রোমাটোফোরের বিভিন্ন কোষ লেয়ার রয়েছে যা রঙ পরিবর্তনের পুরো প্রসেস নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও, ক্রোমাটোফোর বিভিন্ন ধরনের পিগমেন্ট কোষে ভর্তি। উক্ত পিগমেন্ট কোষের বাইরের স্তরটি সাধারণত স্বচ্ছ থাকে এবং ভেতরের স্তরটি “মেলানোফোর” -এর সমন্বয়ে গঠিত।

মেলানোফোরে “মেলানিন” থাকে যা গিরগিটির গায়ের সাধারণ বাদামী রঙকে প্রতিফলিত করে। ইরিডিয়োফোরের লেয়ার মেলানোফোরের ঠিক নিচেই অবস্থিত যা সবুজ এবং সাদা বর্ণকে প্রতিফলিত করে। এরিথ্রোপোরস এবং জ্যান্থোফোরস সমন্বিত সর্বাপেক্ষা উপরের স্তরটি যথাক্রমে লাল এবং হলুদ বর্ণকে প্রতিফলিত করে। উল্লেখ্য গিরগিটির ত্বকের প্রত্যেকটি লেয়ার বা স্তর পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো প্রতিফলিত করে থাকে।

 

গিরগিটির ত্বকীয় কোষে বিভিন্ন ন্যানোক্রিস্টাল রয়েছে যা মাইক্রোস্কোপিক প্রিজমের মতো কাজ করে আলোকে আরো ভালোভাবে প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ, এরিথ্রোপোর লাল রঙকে প্রতিফলিত করে; জ্যান্থোফোর হলুদ রঙকে; ইরিডিয়োফোর সবুজ, সাদা, নীল; আর মেলানোফোর বাদামি রঙকে প্রতিফলিত করে। এক্ষেত্রে অবাক করা ব্যাপার হলো মানবদেহেও মেলানোফোরের উপস্থিতি বিদ্যমান।

 

পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি গিরগিটি তার গায়ের রঙ ত্বকের নির্দিষ্ট কিছু ক্রোমাটোফোরের সংকোচন এবং প্রসারণের মাধ্যমে পরিবর্তন করে থাকে। সাধারণ অবস্থায় গিরগিটির ক্রোমাটোফোর প্রসারিত থাকে এবং ত্বকের ন্যানোক্রিস্টালগুলো একে অপরের নিকটে থাকে। ফলে নীল এবং সবুজ রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রতিফলন ঘটে। অন্যদিকে, একটি গিরগিটি যদি রাগান্বিত বা উত্তেজিত অবস্থায় থাকে তখন ক্রোমাটোফোর সংকুচিত হয় এবং ন্যানোক্রিস্টালগুলো ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। ফলে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রতিফলন ঘটে। তবে ব্যাতিক্রম হিসেবে ত্বকে লাল-সবুজ-নীল রঙের মিশ্রণও দেখা যেতে পারে।

গিরগিটি সম্পর্কে আমরা সর্বদাই একটি ভুল ধারণা পোষণ করি; তা হলো এরা সাধারণত শিকারকে বিভ্রান্ত করে নিজের কবলে আনতেই তাদের গায়ের রঙ পরিবর্তন করে থাকে। যদিও তাদের গায়ের রঙ পরিবর্তনের পুরো ব্যাপারটিই মূলত ছদ্মবেশ ধারণ করবার জন্যে উপযুক্ত। কিন্তু আসলে তারা পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতেই ছদ্মবেশ ধারণ করে থাকে।

 

আরো বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ; একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য কিংবা পুরুষদের মধ্যে সক্ষমতা বা দখলদারিত্বের পরিচয় দিতে সচরাচর তারা গায়ের রঙ পরিবর্তন করে থাকে। একটি পুরুষ গিরগিটি স্ত্রী গিরগিটির নিকট নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতেও রঙের প্রতিফলন করতে পারে; অন্যদিকে স্ত্রী গিরগিটিও প্রতিউত্তর হিসেবে তার ত্বক থেকে যেকোনো গাঢ় রঙের প্রতিফলন করে থাকে।

গিরগিটি মূলত গরম এবং ঠান্ডা উভয় পরিবেশেই নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে দেহের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। রাগান্বিত কোনো গিরগিটি পরিবেশের তাপ শোষণ করে গাঢ় বর্ণ ধারণ করে; অন্যদিকে স্বচ্ছন্দে থাকা কোনো গিরগিটি মলিন বর্ণ ধারণ করে এবং ক্রোমাটোফোরকে শিথিল করবার মাধ্যমে অন্য গিরগিটির কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

 

গিরগিটি সাধারণত এশিয়ার রেইন ফরেস্ট কিংবা কিছু নির্জন অঞ্চলে পাওয়া যায়। এছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর অ্যামেরিকাতে এরা পোষা প্রাণী হিসাবে অধিক বিখ্যাত।

 

লিখেছেন:হাসান সৈকত
সোর্স: sciencebee.com.bd

Categories
Science

লিথিয়াম ক্যাটাগরি:রসায়ন

লিথিয়াম একটি রাসায়নিক মৌল যার প্রতীক Li এবং পারমানবিক সংখ্যা ৩। গ্রিক শব্দ λιθoς লিথোস্ “পাথর” থেকে লিথিয়াম ধাতুর নাম হয়েছে।লিথিয়াম হলো নরম, রুপালি-সাদা ক্ষার ধাতু। পর্যায় সারণীতে এর অবস্থান ১ নং গ্রুপে ।আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে লিথিয়াম সবচেয়ে হালকা কঠিন পদার্থ ও সবচেয়ে হালকা ধাতু।অন্যান ক্ষার ধাতুর মতো লিথিয়াম হলো অত্যন্ত সক্রিয় ও দাহ্য পদার্থ, তাই একে অবশ্যই খনিজ তেলে সংরক্ষন করে রাখা উচিত।যখন একে কাটা হয় এটি ধাতব দীপ্তি প্রদর্শন করে, তবে আদ্র বায়ুর প্রভাবে জারিত হয়ে হালকা রুপালি ধূসর বর্ণে পরিণত হয়।এর আয়ন হিসেবে দ্রাব্যতার জন্য সমুদ্রের পানিতে এর উপস্থিতি আছে এবং সাধারণত ব্রাইন থেকে পাওয়া যায়।লিথিয়াম ক্লোরাইড ও পটাশিয়াম ক্লোরাইড এর মিশ্রণের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে লিথিয়াম ধাতু আলাদা করা হয়।
আবিষ্কার

১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাজিলিয়ান রসায়নবিদ জোস বনিফেকো ডি অ্যান্ড্রাডা ই সিলভা সুইডেনে প্রাপ্ত একটি মাইনে পেটালাইট আবিষ্কার করেন। ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে জোহান অগাস্টা আর্ফওয়েডসন ও ইয়নস জ্যাকব বার্জেলিয়াস পেটালাইট আকরিক বিশ্লেষণের সময় একটি নতুন মৌলেন অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন যা ছিল সোডিয়াম ও পটাসিয়াম এর সমগোত্রীয়। বার্জেলিয়াস মৌলটির নাম দেন Lithium (Greek lithos= পাথর)। আর্ফওয়েড পরবর্তীতে স্পডুমিন ও লেপিডোলাইটেও এর উপস্থিতি লক্ষ্য করেন। ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ন মেলিন দেখেন যে লিথিয়াম ক্লোরাইড পোড়ালে উজ্জ্বল লাল বর্ণ প্রদর্শন করে। তিনি ও আর্ফওয়েডসন বিশুদ্ধ লিথিয়াম পৃথক করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা ব্যার্থ হন। পরবর্তীতে ১৮২১ খ্রিষ্টাব্দে উইলিয়াম থমাস ব্র্যান্ডে লিথিয়াম অক্সাইডকে তড়িৎবিশ্লেষণের মাধ্যমে বিশুদ্ধ লিথিয়াম পৃথক করতে সমর্থ হলেও তা পরিমাপ করার মতো যথেষ্ট ছিল না। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান রসায়নবিদ রবার্ট বুনসেন ও ব্রিটিশ রসায়নবিদ অগাস্টাস মেটিসা লিথিয়াম ক্লোরাইডকে তড়িৎবিশ্লেষণ করে বিশুদ্ধ লিথিয়াম এর আয়তন নিরূপন করেন।
ব্যবহার
সবচেয়ে বেশি পরিমাণে লিথিয়াম ব্যবহার করা হয় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ডিজিটাল ও ইলেকট্রিক ডিভাইসের রিচার্জেবল ব্যাটারীতে। এছাড়াও হার্ট পেসমেকার, খেলনা, ঘড়ি ইত্যাদিতে নন-রিচার্জেবল ব্যাটারী হিসেবে লিথিয়াম ব্যবহৃত হয়। লিথিয়ামকে অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম এর সাথে সংকর ধাতু হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। ম্যাগনেসিয়াম-লিথিয়াম সংকর ধাতু আর্মার প্লেটিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অ্যালুমিনিয়াম-লিথিয়াম সংকর ধাতু বিমানপোতে, সাইকেলের ফ্রেমে এবং দ্রুতগতির ট্রেনে ব্যবহার করা হয়। কাঁচ শিল্পে লিথিয়াম অক্সাইড ব্যবহার করা হয়। লিথিয়াম ক্লোরাইড একটি তীব্রমাত্রার জলাকর্ষী পদার্থ এবং এটি এয়ার কন্ডিশনিং ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ড্রাইং সিস্টেমে বহুল প্রচলিত। লিথিয়াম স্টিয়ারেটকে উচ্চ তাপমাত্রার লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লিথিয়াম কার্বনেট ম্যানিক ডিপ্রেশন এর ওষধ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। হাইড্রোজেন ফুয়েল সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হয় লিথিয়াম হাইড্রাইড।

সোর্স: গুগল ও উইকিপিডিয়া

Categories
Science

হিলিয়াম ক্যাটাগরি: রসায়ন

(একটি গ্যাসীয় মৌলিক পদার্থ)

হিলিয়াম (ইংরেজি: Helium, গ্রিক ἥλιος হ্যালিওস্‌ “সূর্য” থেকে) পর্যায় সারণির ২য় মৌল। এর প্রতীক He। এটি পর্যায় সারণি ১ম পর্যায়ের শূন্য গ্রুপ-২ এ অবস্থিত। ভরের দিক দিয়ে এটি দ্বিতীয়; মৌলিক পদার্থের মধ্যে একমাত্র হাইড্রোজেনের চেয়ে হালকা। হিলিয়াম একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং স্বাদহীন নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এই মৌলিক পদার্থের পারমাণবিক সংখ্যা ২।
আবিষ্কার:
ফরাসি জ্যোতির্বিজ্ঞানী পিয়ের জানসেন ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দের একটি সূর্যগ্রহণের সময় সূর্যের জ্যোতির্বলয়ের বর্ণালীতে হিলিয়াম আবিষ্কার করেন। এর কিছুদিন পরেই এটি একটি মৌল হিসেবে চিহ্নিত হয়। ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যার এডওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যাণ্ড এবং স্যার জোসেফ নরম্যান লকইয়ার এটির নাম দেন হিলিয়াম। ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যারউইলিয়াম র‌্যামজি প্রথম পৃথিবীতে প্রাপ্ত পদার্থ থেকে এটি নিষ্কাশন করেন। তিনি ক্লিভাইট নামের একটি ইউরেনিয়ামধারক খনিজে হিলিয়াম শনাক্ত করেন। ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ স্যার আর্নেস্ট রাদারফোর্ড দেখান যে আলফা কণা হল হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস।

বৈশিষ্ট্য:
হিলিয়াম অণু একটি পরমাণুবিশিষ্ট। মৌলসমূহের মধ্যে কেবল হাইড্রোজেন এর চেয়ে হালকা। হিলিয়াম -২৭২.২ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ২৬ একক বায়ুমণ্ডলীয় চাপেরও বেশি চাপে জমে কঠিন হয়। এটি -২৬৮.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ফুটতে শুরু করে। এর ঘনত্ব ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসে ও একক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ০.১৬৬৪ গ্রাম/লিটার। হিলিয়ামের আণবিক ভর ৪.০০২৬।

সব গ্যাসের মধ্যে হিলিয়াম গ্যাসকে তরল করা সবচেয়ে কঠিন। স্বাভাবিক বায়ুচাপে একে কঠিনীভূত করা অসম্ভব। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে তরল হিলিয়াম হিমায়ক হিসেবে এবং পরীক্ষণে পরম শূন্যের কাছকাছি তাপমাত্রা উৎপাদনে ও পরিমাপে ব্যবহার করা হয়। তরল হিলিয়ামের উপরের বাষ্প দ্রুত সরিয়ে নিয়ে একে স্বাভাবিক বায়ুচাপে প্রায় পরম শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রায় শীতল করা সম্ভব। পরম শূন্যের সামান্য উপরের তাপমাত্রায় হিলিয়াম ২ বা অতিতরল হিলিয়ামে পরিণত হয়। এই অতিতরল হিলিয়ামের অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান; এর কোন হিমাংক নেই, এবং এর সান্দ্রতা শূন্য। এটি খুব সহজেই অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিদ্র ও ফাটলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যেতে পারে। হিলিয়াম-৩ নামের ৩ ভরবিশিষ্ট আইসোটোপটির স্ফুটনাংক সাধারণ হিলিয়ামের চেয়েও নিচে অবস্থিত এবং তরল অবস্থায় অত্যন্ত ভিন্ন রকম আচরণ করে।

হাইড্রোজেনের পরেই হিলিয়াম মহাবিশ্বের সবচেয়ে সহজলভ্য মৌল। কিন্তু পৃথিবীতে এর পরিমাণ অত্যন্ত কম। ভূগর্ভস্থ খোঁড়লে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে মিশ্র অবস্থায় একে পাওয়া যায়। অত্যন্ত হালকা বলে নিঃসরণের পর এটি বায়ুমণ্ডল ত্যাগ করে এবং আর ধরে রাখা যায় না। সমুদ্র সমতলে হিলিয়াম প্রতি মিলিয়নে ৫.৪ অনুপাতে পাওয়া যায়। উচ্চ উচ্চতায় এই পরিমাণ খানিকট বাড়ে। বায়ুমণ্ডলের প্রতি মিলিয়নে ১টি কণা হিলিয়াম-৩ মৌল। মনে করা হয় এটি ৩ ভরবিশিষ্ট ট্রিটিয়ামের তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে তৈরি হয়। হিলিয়ামের সাধারণ আইসোটোপ, হিলিয়াম-৪ সম্ভবত শিলাসমূহের তেজস্ক্রিয় আলফা নিঃসারক পদার্থ থেকে উদ্ভূত। প্রাকৃতিক গ্যাসে প্রায় ০.৪ শতাংশ হারে হিলিয়াম থাকে এবং এটিই হিলিয়ামের প্রধান বাণিজ্যিক উৎস।

ব্যবহার

হিলিয়াম অদাহ্য বলে বেলুনে হাইড্রোজেন গ্যাসের বদলে এটি ব্যবহার করা হয়। এর উত্তোলন ক্ষমতা হাইড্রোজেনের ৯২ শতাংশ, তবে এটি হাইড্রোজেন অপেক্ষা দ্বিগুণ ভারী।

যৌগসমূহ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া

অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মত হিলিয়ামও রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয়। এর একমাত্র ইলেকট্রন খোলসটি ইলেকট্রনে পূর্ণ, ফলে অন্যান্য রাসায়নিক মৌলের সাথে এর বিক্রিয়া সংঘটন অত্যন্ত দুরূহ। যদিও বা বিক্রিয়া ঘটে, তাতে উৎপাদ যৌগগুলি অস্থায়ী প্রকৃতির হয়ে থাকে। হিলিয়ামের সাথে নিয়ন এবং হাইড্রোজেনের যৌগের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। অন্যান্য যৌগও প্রস্তাবনা করা হয়েছে। মহাবিশ্বে হিলিয়াম অত্যন্ত সহজলভ্য বলে এই বিক্রিয়াগুলি মহাবিশ্ব তত্ত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সোর্স: উইকিপিডিয়া ও গুগল

Categories
Science

হাইড্রোজেন ক্যাটাগরি: রসায়ন হাইড্রোজেন বা উদজান সবচেয়ে হালকা মৌলিক পদার্থ। এটি পর্যায় সারণীর প্রথম উপাদান মৌল। এর পারমাণবিক সংখ্যা ১ ও প্রতীক H। প্রাচীন গ্রিক শব্দ ύδρο- ইদ্রো- অর্থ “জল” বা “পানি” (“উদ-“) ও γενης গেনেস অর্থ “উৎপাদক” (“জনক”) থেকে এর হুদ্রোগেন (ইংরেজিতে হাইড্রোজেন) নামকরণ।ল্যাটিনে এর নাম Hydrogenium(ইদ্রোজেনিউম) ।বাংলায় হাইড্রোজেনের পরিভাষা সৃৃৃষ্টির ক্ষেত্রে সংস্কৃত ভাষাকে ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্কৃতে উদ অর্থ জল আর জান প্রত্যয় “জন্+অ” যোগে গঠিত হয়েছে। হাইড্রোজেন হল পর্যায় সারণির সবচেয়ে হালকা মৌল।এটি মহাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এমন রাসায়নিক পদার্থ।এর কারণ এটি মহাবিশ্বের সৃষ্টির সময় তৈরি হওয়া ১ম মৌল।আদর্শ তাপমাত্রা ও চাপে হাইড্রোজেন রংহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন, অধাতব এবং খুবই দাহ্য দ্বিপরমাণুক গ্যাস (H2)। হাইড্রোজেনের ৩টি আইসোটোপ রয়েছে – ১.প্রোটিয়াম ২.ডিউটেরিয়াম ৩.ট্রিটিয়াম। হাইড্রোজেন পরমাণুতে ১টি মাত্র ইলেকট্রন থাকে, যা নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘোরে ।

সূর্যে ৫৫ ভাগ হাইড্রোজেন থাকে। এই হাইড্রোজেন আণবিক শক্তির দ্বারা হিলিয়ামে পরিণত হয় এবং সূর্যে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়।

আবিষ্কারের ইতিহাস

রুশ রসায়নবিদ দিমিত্রি মেন্ডেলিভ এক সময় হাইড্রোজেনকে পর্যায় সারণীর বৈশিষ্ট্যমূলক মৌলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। বৈশিষ্ট্যমূলক বলতে পর্যায় সারণির হ্রস্ব পর্যায়ের মৌলকে বুঝিয়েছিলেন। হাইড্রোজেন প্রস্তুত করা খুব সহজ। সাধারণ পরীক্ষাগারে দস্তার উপর সালফিউরিক এসিড ঢেলে এটি প্রস্তুত করা যায়। তাই এটি আবিষ্কার করতে বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। রসায়ন যখন বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি তখনও এটি তৈরির সকল উপাদান মানুষের জানা ছিল। যেমন, হাইড্রোক্লোরিক, সালফিউরিক ও নাইট্রিক এসিড এবং লোহা ও দস্তা সম্বন্ধে মানুষ অনেক আগে থেকেই জানত। কিমিয়াবিদ্যা|কিমিয়াবিদরা এগুলো নিয়ে গবেষণাও করতেন। কিন্তু ঠিক যেভাবে হাইড্রোজেন উৎপাদিত হবে তার জন্য একটি সুযোগের প্রয়োজন ছিল। ষোড়শ এবং অষ্টাদশ শতকের কিছু গবেষণার বিবরণ থেকে জানা যায় লোহার ছিল্কার উপর এসিড ঢেলে দিলে সেখান থেকে যে বাতাসের বুদ্বুদ বের হত তা তখনকার অনেকেই লক্ষ্য করেছিলেন। তারা একে বাতাসের একটি দাহ্য রূপ বলে মনে করতেন।

সতর্কভাবে যারা এটি লক্ষ্য করেছিলেন তাদের মধ্যে রুশ বিজ্ঞানী মিখাইল ভাসিলিয়েভিচ লোমোনোসোভ অন্যতম। ১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দে “ধাতুর ঔজ্জ্বল্যের প্রতি” নামক গবেষণাপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, “লোহার মত বিশেষ ধাতুগুলো অম্লীয় অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হওয়ার সময় ফ্লাস্কের মুখ দিয়ে জ্বলনশীল বাষ্প নির্গত হয়…”। তখনকার পরিভাষাতে অম্লীয় অ্যালকোহল বলতে এসিডকে বোঝানো হত। লোমোনোসোভ হাইড্রোজেনই লক্ষ্য করেছিলেন, কিন্তু তখনকার বিশ্বাসকে অনুসরণ করেই তিনি একে ফ্লোজিস্টন আখ্যা দেন। এসিডে ধাতু দ্রবীভূত হলে দাহ্য বাষ্প নির্গত হয় যা ফ্লোজিস্টন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি এবং এটি ফ্লোজিস্টন তত্ত্ব|ফ্লোজিস্টন তত্ত্বের সাথেও সুন্দর খাপ খেয়ে গিয়েছিল। রসায়নবিদরা কখন এই দাহ্য বাতাস পর্যবেক্ষণ শুরু করেন তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও ১৭৬৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রকে এর স্বাভাবিক সূচনা হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। জে ব্ল্যাকের অনুপ্রেরণায় প্রকাশিত সেই প্রবন্ধটির নাম ছিল “কৃত্রিম বাতাস নিয়ে পরীক্ষাসমূহ”। এ সময় ইংরেজ বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিশ আবদ্ধ গ্যাস নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা শুরু করেন। আবদ্ধ বলতে বিভিন্ন যৌগে আবদ্ধ বোঝানো হচ্ছে, বিক্রিয়ার মাধ্যমে যৌগ থেকে তাদের মুক্ত করা যায়। দাহ্য বাতাসের বিষয়টি ক্যাভেন্ডিশ জানতেন এবং তিনিও সেখান থেকেই গবেষণা শুরু করেন। লোহা, দস্তা ও টিনের সাথে হাইড্রোক্লোরিক বা সালফিউরিক এসিডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে বিভিন্ন সময় দাহ্য বাতাস প্রস্তুত করেন এবং সবগুলোর বৈশিষ্ট্যই এক বলে বুঝতে পারেন। তবে তিনিও এই গ্যাসগুলোকে ফ্রোজিস্টন বলে আখ্যায়িত করেন এবং সে তত্ত্বের অনুগামী থেকেই উৎপন্ন পদার্থের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেন। জে ব্ল্যাকের দাহ্য বাতাস ও ক্যাভেন্ডিশের বদ্ধ বাতাস, সবই আগে থেকে জানা ছিল। তবে তারা একটি সারমর্ম দাড় করাতে সক্ষম হন যা রসায়ন বিজ্ঞানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দাহ্য বাতাস ও বদ্ধ বাতাস উভয়ে সাধারণ বাতাস থেকে এবং একে অন্যের থেকে পৃথক ছিল। দাহ্য বাতাস অবিশ্বাস্য রকমের হালকা ছিল। আর ক্যাভেন্ডিশ আবিষ্কৃত বদ্ধ বাতাসের ভর ছিল। একে ক্যাভেন্ডিশ ফ্লোজিস্টন বলেছিলেন, অথচ ফ্লোজিস্টনের কোন ধনাত্মক ভর থাকতে পারেনা। এখানেই নিজের পূর্বতন গবেষণার সাথে তিনি বিরোধে লিপ্ত হন। ক্যাভেন্ডিশই প্রথম সাধারণ বাতাসের ঘনত্ব “১” ধরে নিয়ে দাহ্য বাতাস ও বদ্ধ বাতাসের ঘনত্ব বের করেন যাদের মান এসেছিল যথাক্রমে ০.০৯ ও ১.৫৭। আবার দাহ্য বাতাস হারানোর পর ধাতুগুলোও কিছু ভর হারায়। সেক্ষেত্রে এটিও ফ্লোজিস্টন হতে পারেনা। পরস্পর বিরোধী এসব তত্ত্বের সমাধানের জন্য ক্যাভেন্ডিশ বলেন, ফ্লোজিস্টন ও পানির মিলনের মাধ্যমে দাহ্য বাতাস উৎপন্ন হয়। বোঝাই যায়, তার সেই দাহ্য বাতাস গঠন করতে গিয়ে পরিশেষে হাইড্রোজেন উৎপাদিত হয়। ক্যাভেন্ডিশ মূলত বদ্ধ বাতাসের সাথে দাহ্য বাতাসকে যুক্ত করেছিলেন। এসবই ১৭৬৬ সালের কাহিনী।

অবস্থা/দশা

১. গ্যাসীয় হাইড্রোজেন

২. তরল হাইড্রোজেন

৩. স্লাশ হাইড্রোজেন

৪. কঠিন হাইড্রোজেন

৫. ধাতব হাইড্রোজেন

সোর্স: উইকিপিডিয়া

Categories
Science

বোবায় ধরা বা Sleep paralysis।

এটি এমন একটি অবস্থা যখন একজন ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়া বা ঘুম থেকে জেগে উঠার সময়ে শরীরের কোন অঙ্গ-প্রত্যংগ নাড়াতে না পারার একটি অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়। অন্যভাবে, যখন কাউকে বোবায় ধরে, তখন সে তার শরীরের কোন অঙ্গ-প্রত্যংগ নাড়াতে পারে না, অসাড়তা অনুভব করে। এটি ঘটে একজন ব্যক্তির ঘুমিয়ে পড়া বা জেগে উঠার আগমুহূর্তে।

বোবায় ধরা হচ্ছে ঘুমন্ত অবস্থা এবং জাগরণের মধ্যবর্তী একটি অবস্থান। এটি ঘুমোনর মুহূর্তে অথবা ঘুম থেকে জেগে উঠার আগমুহূর্তে হতে পারে। বোবায় ধরা ব্যক্তিটি প্রায়ই একটি ভয়ের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যায়, ভয়ের কোন দৃশ্য দেখতে পারে (যেমন, ঘরের ভেতরে কারো অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি)।এবং সেই মুহূর্তে বোবায় ধরা ব্যক্তিটি নড়তে পারে না।

ধরে নেওয়া হয় REM sleep এ বিঘ্ন ঘটার কারণে বোবায় ধরা ব্যপারটি ঘটে। বোবায় ধরার সাথে কিছু মানসিক রোগ যেমন narcolepsy, migraine, anxiety disorder, এবং obstructive sleep apnea এর যোগসুত্র আছে বলে ধরা হয়। তবে, এসব মানসিক রোগ না থাকলেও একজন ব্যক্তি বোবায় ধরা এ আক্রান্ত হতে পারে। যখন অন্য কোন রোগের সাথে যোগসূত্র থাকে, বোবায় ধরা সাধারণত স্নায়বিক ব্যাধি narcolepsy এর কারণে হতে পারে।

সোর্স: উইকিপিডিয়া

Categories
Science

বাইনারাল বিটস ক্যাটাগরি:নিউরোটেকনোলজি

(এইবার আপনার সব স্বপ্ন পূরণ হবে)
মানুষ হচ্ছে আল্লাহর তৈরী একটি পূর্ণাঙ্গ সুপার কম্পিউটার; আর এই কম্পিউটারের সিপিইউ হচ্ছে আমাদের ব্রেইন। একটি কম্পিউটার কতোটা সক্রিয় হবে কিংবা কতোটা দামী হবে সেটা যেমন অনেকাংশে নির্ভর করে তার সিপিইউ এর ওপর তেমনি একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ তার লাইফে কতোটা সফল হতে পারবে সেটা নির্ভর করে তার ব্রেইনের ওপর।
একটি কম্পিউটার’কে ডেভোলপ করতে সেটার সিপিইউ পাল্টানো যেতে পারে তবে মানুষের ক্ষেত্রে ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্টেশন এখন কার্যত সম্ভব নয়; পরিবর্তে আমরা আমাদের ব্রেইনকে ট্রেইন দিয়ে সুপার এক্টিভ করতে পারি যাতে লাইফে সাকসেস হতে পারি।

আজ আমি এমন একটি টেকনোলজির কথা বলবো যাতে “আপনার লাইফের প্রায় সকল সমস্যা” আপনি শুধু ব্রেইন দিয়েই সামাধান করে লাইফে সাকসেসফুল এবং স্যাটিসফাইড হতে পারবেন….ডু ইউ বিলিভ ইট?!

আসুন জটিল আলোচনার আগে সহজ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করি;
(১) মনে করুন আপনার গার্লফ্রেন্ড আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে; এখন আপনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন!
(২) জীবনে গভীর হতাশা আর দুঃখে আপনি ড্রাগ নিয়ে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছেন, নিজের লাইফকে নেশার ধুয়ায় অন্ধকার করে ফেলেছেন।

এখন “সমাধান” কি???!!!

নিশ্চয়ই নিছক মোটিভেশন কিংবা সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট অথবা বড়োজোর ঘুমের ঔষধ আপনার সমস্যার স্বার্থক সমাধান নয়; তাহলে কিভাবে মিলবে আপনার অসুখের কাঙ্খিত সেই মহাঔষধ??!!

সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তার আগে নির্ণয় করুন কোথা থেকে আপনার “সমস্যা” সৃষ্টি হয়েছে?
নিশ্চয়ই “মন” থেকে তাইতো??
না…আপনার সমস্যা সৃষ্টির আসল আতুরঘর হলো “ব্রেইন”; সুতরাং সমাধান পেতে হলে ব্রেইনটাকেই মেরামত করা আবশ্যক; নিছক মনের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া নির্বুদ্ধ-বোকামি ছাড়া আর কিছুই না!!!

আমাদের ব্রেইনের মাঝে আছে অসংখ্য অসংখ্য নিউরন; সেইসব নিউরনগুলো একটি সূক্ষ্ম নেটওয়ার্ক সিস্টেমে পরস্পর তথ্য আদান প্রদান করে। এই কমিউনিকেশন সিস্টেম আমাদের ব্রেইনে একটি ওয়্যেভ বা তরঙ্গ তৈরী করে যেটাকে ব্রেইন ওয়্যেভ বলে। আবার তরঙ্গ যেখানে-কম্পাংক সেখানে; তাই আমাদের ব্রেইনওয়্যেভেরও একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি আছে যেটার সীমা 0.1 Hz হতে 50 Hz পর্যন্ত [ এই ফ্রিকোয়েন্সি আবার পাঁচটি ভাগে বিভক্ত Delta, Theta, Alpha, Beta, Gamma ]।

আমাদের ব্রেইন বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রেঞ্জে ওয়্যেভ তৈরী করে যেমন Delta হলো 0.1-4 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যখন ব্রেইন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে কিংবা গভীর ঘুমে কোন স্বপ্ন দেখে।

Theta হলো 4-8 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যখন ব্রেইন ঘুমঘুম ভাবে থাকে; অনেকটা আধ-জাগরন আধ-ঘুম অবস্থা। এই অবস্থাটি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এমন অবস্থায় মানুষের অবচেতন মনে হিপ্নোসিসের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

Alpaha হলো 8-14 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যেখানে আমাদের মানসিকতা প্রশান্তিতে ব্রেইন শান্ত থাকে এবং আমরা রিলাক্স থাকি।

Beta হলো 14-30 Hz যখন আমরা কোন কাজ করি এবং আমাদের ব্রেইন ফোকাসড থাকে।

Gamma হলো 30- 50 Hz ফ্রিকোয়েন্সি যেখানে শরীর বা মানসিক উত্তেজনায় আমাদের ব্রেইন উদ্দীপ্ত থাকে।

ফ্রিকোয়েন্সি কি মানুষের সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে???

মনে করুন আপনার ঘুম আসছে না, এমন সময়ে আপনার ব্রেইনে যদি 4-8 Hz ফ্রিকোয়েন্সি অতঃপর ধীরে ধীরে তা কমিয়ে 4-0.1 Hz তে নিয়ে আসা যায় তাহলে নিশ্চয়ই আপনার ঘুম আসতে বাধ্য যেমন কঠিন টেনশনে স্লিপিং পিল খেলে আপনি ঘুমুতে বাধ্য হন; তো এই ফ্রিকোয়েন্সি কানের মাধ্যমে আপনার মধ্য ব্রেইনে পৌছাবে এবং এনালাইসিস করে আপনার শরীরকে সেভাবেই কমান্ড দিবে; অনেকটা ব্রেইনকে বোকা বানানো আরকি!

কিন্তু আমাদের স্বাভাবিক শ্রাব্যতার সীমা হলো 20 Hz থেকে 20 kHz; আমাদের কান এই ক্ষুদ্রতর 0.1 Hz এর মতোন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ গ্রহণ করে ব্রেইনে পাঠাতে পারে না।

তাহলে উপায়??
উপায় টা খুব সহজ!!!

ঠিক এখানে আসে Binaural beats নামক বিষয়টি; ধরুন আপনার ডানকানে 100 Hz ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ এবং বামকানে 105 Hz ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ ইনপুট হলে (105-100)Hz = 5Hz এর তৃতীয় ফ্রিকোয়েন্সির টোন আপনার ব্রেইন অনুলব্ধি করে।
এই Binaural beats এর সহায়তায় আমরা আমাদের ব্রেইনকে বিভিন্নভাবে ট্রেইন করতে পারি এবং সফলতা লাভ করতে পারি যেমন অনিদ্রা সমস্যা, ব্রেইনকে ধীর স্থীর করা, ফোকাস করানো, মনকে শান্ত- প্রফুল্ল করা ইত্যাদি।

Binaural beats এর সহায়তার ব্রেইনকে ট্রেইন করানোর জন্য আপনারা ইচ্ছাশক্তি এবং সময় প্রয়োজন; আপনি একদিনেই যে সবকিছুতে সফল হবেন এমনটা নয় বরং আপনাকে ধৈর্য্যশীল এবং নিয়মানুবর্তী হতে হবে। যেমন বেশ কিছু বছর আগে US national library of medicine এর আন্ডারে পাবলিশ হওয়া pubmed. gov এ একটি আর্টিকেল ছিল binaural waves ও anxiety disorder নিয়ে। যাতে গবেষণালব্ধ ফলাফল দেখানো হয়েছে, প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে ক্রমাগত চার সপ্তাহ binaural beats শোনা দলের anxiety লেভেল অন্যদের তুলনায় কমেছে। [ তথ্যসূত্র- altern ther health med. 2001. Jan;7(1) 58-63]

লেখার শুরুর দিকে আমি দুইটা সমস্যার কথা বলেছিলাম মনে আছে?
(১) গার্লফ্রেন্ড চলে যাওয়া এবং (২) ড্রাগ এডিকশন; এগুলার সমাধান কি Binaural beats দিতে পারে?

অবশ্যই পারে…
আপনার প্রয়াত জিএফের নিয়ন ফোকাস থাকা Gamma ফ্রিকোয়েন্সি’কে Beta ফ্রিকোয়েন্সি এবং Beta ফ্রিকোয়েন্সিকে Alpaha তে নিয়ে আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দেওয়া যেতে পারে; এমনকি Theta ফ্রিকোয়েন্সিতে আপনার অবচেতন মন’কে বিভিন্ন কমান্ড দিয়ে মোডিফাই করা যেতে পারে যেমনটা সাইকোলজিক্যাল সমস্যাতে সাইকিয়াটিস্ট আমাদের মোটিভেট করে থাকেন।
আর ড্রাগ এডিশনের বিষয়ে শুধু এতোটুকু বলায় এনাফ হবে যে একটি স্পেসিফিক 30 Hz ফ্রিকোয়েন্সি মারিজুয়ানার মতোন কঠিন নেশার মতোই আমাদের ব্রেইনকে উদ্দীপিত করে; আবার এই ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারাই নেশার এডিশন হতে মুক্তি পসিবল।
নিতান্তপক্ষে হাস্যকর শোনালেও ড্রাই অর্গাজমের বিষয়টিও ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারাই আপনার ব্রেইনে সেক্সুয়াল স্যাটিসফেকশন তৈরী করতে পারে।

আবার পড়াশোনাতে অমনোযোগীতার জন্য পড়ার টেবিললে বসার আগেই আপনার ব্রেইনকে ফ্রিকোয়েন্সি দ্বারা সর্বোচ্চ ফোকাস করে নিতে পারেন।
মোদ্দকথা আপনার লাইফে সবসময় একজন ইনভিজিবল-ইন্ডিভিজ্যুয়াল-ভার্চুয়াল পার্টনার হিসাবে ফ্রিকোয়েন্সিকে ব্যবহার করতে পারেন যাতে আপনি আপনার লাইফের সকল সমস্যার সলুউশন নিজেই ব্রেইনের মাধ্যমে করে নিতে পারবেন।

শেষটাই শুধু এতোটুকু বলবো যে আপনার যদি এখনো ব্রেইন ওয়্যেভ-ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে সন্দেহ থাকে তাহলে বাজার থেকে একটা পিয়াজো ডিস্ক কিনে টেপাটেপি করে দেখুন….আপনার হাতের নীল এলইডি লাইট ঠিকই মিটিমিটি করে জ্বলবে!!!

লেখনীতে: নিশান আহমেদ নিয়ন

Categories
Science

অ্যাসিড বৃষ্টি

ক্যাটাগরি: রসায়ন

এসিড বৃষ্টি বা অম্ল বৃষ্টি হলো একধরণের বৃষ্টিপাত যেক্ষেত্রে পানি অম্লীয় প্রকৃতির হয়। এক্ষেত্রে পানির পি.এইচ ৭ এর চেয়ে কম হয়ে থাকে। এটি এমন এক ধরনের বৃষ্টি যাতে এসিড উপস্থিত থাকে।

নানাবিধ অম্লধর্মীয় অক্সাইড বা এসিড মিশ্রিত থাকার কারণে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি হয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বৃষ্টির পানির pH ৫.৬ এর সমান বা কম হয়ে থাকে। এই বৃষ্টির ফলে গাছপালা, পশু-পাখি, জলজ প্রাণী,  জীব-জন্তু,  দালান-কোঠা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নানা ধরনের কল-কারখানা থেকে নির্গত সালফার-ডাই-অক্সাইড (SO2), সালফার-ট্রাই-অক্সাইড(NO3),  নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইড (NO2) সহ আরও নানা ধরনের গ্যাস বাতাসের জলীয়বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যাসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এসিড বৃষ্টির হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষার্থে বিভিন্ন দেশের  সরকার ১৯৭০ সালের দিকে কারখানা থেকে এইসব গ্যাসের নির্গমণ রোধ করতে নানা ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এছাড়াও নানাবিধ প্রাকৃতিক কারণেও (যেমন বজ্রপাত, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বনে আগুন ইত্যাদি) অ্যাসিড বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। ফলে বর্তমান পৃথিবীতে এসিড বৃষ্টি অন্যতম সমস্যার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

১৮৫২ সালে রবার্ট অ্যাঙ্গুস স্মিথ (১৮১৭-১৮৮৪ ) নামের স্কটিশ রসায়নবিদ ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের কিছু শিল্প-নগরীতে বৃষ্টির পানি নিয়ে প্রথম কাজ করার সময় “এসিড বৃষ্টি” শব্দটি ব্যবহার করেন । তার বই Air and Rain: The Beginnings of a Chemical Climatology (১৮৭২) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই এসিড বৃষ্টি। কিন্তু এসিড বৃষ্টি ১৯৬০ এর শেষের দিকে এবং ১৯৭০ এর প্রথম দিকে প্রথম দেখা যায় পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার পূর্ব দিকে। তবে এসিড বৃষ্টি এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও দেখতে পাওয়া যায়।

যেসব এলাকায় বা অঞ্চলে শিল্প-কারখানা বেশি ও বায়ু দূষণ বেশি সেসব স্থানে এসিড বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের ফল হিসেবে এসিড বৃষ্টিকে চিন্তা করা যায়। কেবল পৃথিবীতে নয়, আমরা এসিড বৃষ্টি দেখি তা নয় বরং শুক্র গ্রহের মধ্যে ব্যাপক হারেই এই এসিড বৃষ্টি হওয়ার খবর জানা যায়।

সোর্স: উইকিপিডিয়া

Categories
Science

ডিএনএ ক্যাটাগরি: বায়োলজি

ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ইংরেজি: DNA) একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। সকল জীবের ডিএনএ জিনোম থাকে। একটি সম্ভাব্য ব্যতিক্রম হচ্ছে কিছু ভাইরাস গ্রুপ যাদের আরএনএ জিনোম রয়েছে, তবে ভাইরাসকে সাধারণত জীবন্ত প্রাণ হিসেবে ধরা হয় না। কোষে ডিএনএর প্রধান কাজ দীর্ঘকালের জন্য তথ্য সংরক্ষন। জিনোমকে কখনও নীলনকশার সাথে তুলনা করা হয় কারণ, এতে কোষের বিভিন্ন অংশে যেমনঃ প্রোটিন ও আরএনএ অণু, গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী থাকে। ডিএনএর যে অংশ এ জিনগত তথ্য বহন করে তাদের বলে জিন, কিন্তু অন্যান্য ডিএনএ ক্রমের গঠনগত তাৎপর্য রয়েছে অথবা তারা জিনগত তথ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।

ইউক্যারিয়ট যেমন প্রাণী ও উদ্ভিদে, ডিএনএ নিউক্লিয়াসের ভিতরে থাকে, তবে প্রোক্যারিয়ট যেমন ব্যাকটেরিয়াতে, ডিএনএ কোষের সাইটোপ্লাজমে থাকে। উৎসেচকের মত ডিএনএ অধিকাংশ জৈবরসায়ন বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নেয় না; মূলত, বিভিন্ন উৎসেচক ডিএনএর উপর কাজ করে এর তথ্য নকল করে রেপ্লিকেশনের মাধ্যমে আরো ডিএনএ তৈরি করে, অথবা অনুলিপি তৈরি ও রুপান্তর ঘটিয়ে একে প্রোটিনে পরিনত করে। ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিন প্রোটিন যেমন হিস্টোন ডিএনএকে ঘনসন্নিবেশিত ও সংগঠিত করে, যা নিউক্লিয়াসের অন্যান্য প্রোটিনের সাথে এর আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ডিএনএ নিউক্লিওটাইড নামক অণু সরল দিয়ে গঠিত একটি লম্বা পলিমার যা চিনি ও ফসফেট গ্রুপ দিয়ে গঠিত মেরুদন্ডের সাথে যুক্ত। এই মেরুদন্ডে চার ধরনের অণু থাকে যাদের বলে ক্ষার, এই চারটি ক্ষারের ক্রমই তথ্য ধারণ করে। ডিএনএর প্রধান কাজ জিনগত কোড ব্যবহার করে প্রোটিন থেকে অ্যামিনো অ্যাসিড এর ক্রম তৈরি করা। জিনগত কোড পড়ার জন্য কোষ নিউক্লিক অ্যাসিড আরএনএতে ডিএনএর কিছু অংশের নকল তৈরি করে। কিছু আরএনএ নকল প্রোটিন জৈবসংশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়, বাকীগুলো সরাসরি রাইবোজোম অথবা স্প্লাইসোজোম এর উপাদান হিসেবে থাকে।

ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম
ডিএনএ নিউক্লিওটাইড অণুর সমন্বয়ে গড়া একটি লম্বা পলিমার। ডিএনএ শৃংখল ২২ থেকে ২৪ Å চওড়া, এবং একটি নিউক্লিওটাইড অণু ৩.৩ Å দীর্ঘ। যদিও এসব অণু খুব ছোট, ডিএনএ পলিমার কয়েক মিলিয়ন নিউক্লিওটাইড নিয়ে অনেক বড় হতে পারে। উদাহরণস্বরুপ, সবচেয়ে বড় মানব ক্রোমোজোম, ক্রোমোজোম নং ১, ২২০ মিলিয়ন ক্ষার জোড়ার সমান দীর্ঘ।

জীবদেহে ডিএনএ একটি একক অণু হিসেবে থাকে না, বরং চাপাচাপি করে জোড়া-অণু হিসেবে থাকে।  এই লম্বা সূত্র দুইটি আঙ্গুরের মত প্যাচানো থাকে, যা দ্বৈত হেলিক্সের মত হয়। একটি ডিএনএ সূত্রে থাকে নিউক্লিওটাইড যা ডিএনএ মেরুদন্ডকে ধরে রাখে, এবং একটি ক্ষার যা অন্য ডিএনএ সূত্রের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এই নিউক্লিওটাইড ও ক্ষারের পুনরাবৃত্তিতেই ডিএনএ সূত্র গঠিত। সাধারনভাবে একটি ক্ষার যদি একটি চিনি অণুর সাথে যুক্ত থাকে তাকে বলে নিউক্লিওসাইড এবং একটি ক্ষার যদি একটি চিনি ও এক বা একাধিক ফসফেট অণুর সাথে যুক্ত থাকে তাকে বলে নিউক্লিওটাইড। যদি একাধিক নিউক্লিওটাইড একসাথে যুক্ত থাকে, যেমন ডিএনএতে, তবে এই পলিমার কে বলে পলিনিউক্লিওটাইড।

ডিএনএ সূত্রের মেরুদন্ড ফসফেট ও চিনি অণুর পুনরাবৃত্তিতে গঠিত। ডিএনএর চিনি হচ্ছে পেন্টোজ (পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট) ২-ডিঅক্সিরাইবোজ। এই চিনি ফসফেট গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে পাশাপাশি চিনির অণুর মধ্যে তৃতীয় ও পঞ্চম কার্বন পরমাণুর স্থানে ফসফোডিয়েসটার বন্ধন গঠন করে। এই অপ্রতিসম বন্ধন বোঝায় যে ডিএনএ অণুর মেরু বা দিক আছে। দ্বৈত হেলিক্সে এক সূত্রের নিউক্লিওটাইডের দিক অন্য সূত্রের ঠিক বিপরীত দিকে থাকে। ডিএনএ সূত্রের এই ধরনের বিন্যাসকে প্রতিসমান্তরাল। ডিএনএর অপ্রতিসম প্রান্তকে বলে ৫’ (ফাইভ প্রাইম) এবং ৩’ (থ্রি প্রাইম) প্রান্ত। ডিএনএ ও আরএনএর মধ্যকার একটি প্রধান পার্থক্য হলো চিনিতে, যেখানে ডিএনএতে ২-ডিঅক্সিরাইবোজ ব্যবহৃত হয় সেখানে আরএনএতে আরেকটি পেন্টোজ চিনি রাইবোজ ব্যবহৃত হয়।

ডিএনএর দ্বৈত হেলিক্স হাইড্রোজেন বন্ধনের মাধ্যমে স্থির থাকে, যা দুটি সূত্রের মধ্যে সংযুক্ত থাকে। ডিএনএতে যে চারটি ক্ষার পাওয়া যায় তা হল এডেনিন (সংক্ষেপে A), সাইটোসিন (C), গুয়ানিন (G) এবং থাইমিন (T)। এরা পরস্পরের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় এডেনিন (A) শুধুমাত্র থাইমিনের(T) সাথে এবং গুয়ানিন(G) শুধুমাত্র সাইটোসিনের(C) সাথে যুক্ত হয়। নিম্নে এই চারটি ক্ষার দেখানো হয়েছে যারা চিনি/ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিউক্লিওটাইড গঠন করে, যেমনঃ এডিনোসিন মনোফসফেট

ডিএনএতে প্রাপ্ত চারটি ক্ষারের রাসায়নিক গঠন এবং এডিনোসিন মনোফসফেট নিউক্লিওটাইড

এই ক্ষারগুলো দুই ভাগে ভাগ করা যায়; এডেনিন ও গুয়ানিন হল পিউরিন নামক ৫- ও ৬- কার্বনচক্রের হেটারোসাইক্লিক যৌগ এবং সাইটোসিন ও থাইমিন হল পাইরিমিডিন নামক কার্বনচক্রের যৌগ। ইউরাসিল (U) নামে পঞ্চম আরেকটি পাইরিমিডিন ক্ষার আছে যা সাধারণত আরএনএতে থাইমিনের বদলে থাকে। থাইমিনের সাথে এর পার্থক্য হচ্ছে কেবল একটি মিথাইল গ্রুপের অনুপস্থিতি। ডিএনএতে কেবল সাইটোসিনের ভাঙ্গনের ফলে উপজাত হিসেবে ইউরাসিল পাওয়া যেতে পারে, তবে ব্যতিক্রম হচ্ছে পিবিএস-১ নামের একটি ব্যাকটেরিয়াল ভাইরাস যার ডিএনএতে ইউরাসিল রয়েছে। কিন্তু আরএনএ সংশ্লেষনের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরাসিল এনজাইমের প্রভাবে একটি মিথাইল গ্রুপ যুক্ত হয়ে থাইমিনে পরিনত হয়। মূলত গাঠনিক ও এনজাইম আরএনএ যেমনঃ ট্রান্সফার আরএনএ ও রাইবোজোমাল আরএনএতেই এই ঘটনা ঘটে।
ডিএনএর দ্বৈত হেলিক্স ডান-হাতি সর্পিলাকার হয়ে থাকে। ডিএনএ সূত্রগুলো যখন প্যাঁচানো থাকে তখন তাদের ফসফেটের মেরুদন্ডের মাঝে জায়গা রাখা থাকে। এই জায়গাতে ক্ষারগুলো যুক্ত হয় (এনিমেশন দেখুন)। দ্বৈত হেলিক্সের তলে দুই জায়গায় এরকম প্যাঁচানো খাঁজ (groove) থাকে। একটি খাঁজ ২২ Å প্রশস্ত ও অন্যটি ১২ Å প্রশস্ত। বৃহত্তর খাঁজটিকে বলে মেজর গ্রুভ ছোটটিকে বলে মাইনর গ্রুভ। মাইনর গ্রুভের সরুতার অর্থ হলো ক্ষারের প্রান্তগুলো মেজর গ্রুভে তুলনামুলক বেশি সহজে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে কিছু প্রোটিন যা ডিএনএতে কিছু নির্দিষ্ট ক্রমে যুক্ত হতে পারে, তারা ডিএনএতে মেজর গ্রুভের ক্ষারের সংস্পর্শে এসে কাঙ্খিত ক্রম খুঁজে নেয়।

সোর্স: উইকিপিডিয়া

Categories
Science

বজ্রপাত কি? কেন এবং কীভাবে হয়?

 ক্যাটাগরি: ফিজিক্স।

বজ্রপাতের কারন কী?

আসলে বজ্র সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশের ধারণাতেই ভুল আছে । ছোটবেলা থেকে আমরা শিখে এসেছি মেঘে মেঘে ঘর্ষণে বজ্রপাত হয় । কিন্তু বিষয়টি ঠিক তা নয় । এটি মূলত চার্জ বা আধান। বজ্রপাত আসলে আয়নিত জলকণার ফলে ঘটে । তবে জলকণার আয়নিত হওয়ার কারণ বিষয়ে বিজ্ঞানী মহলে নানা মতবাদ আছে ।

বজ্রপাত সম্পর্কে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য মতবাদঃ  

পানি যখন বাষ্প হয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে তখন মেঘের নিচের দিকে ভারী অংশের সাথে জলীয়বাষ্পের সংঘর্ষ হওয়ায় অনেক জলকণার ইলেকট্রন ত্যাগ কৃত হয়ে ধনাত্মক চার্জ এ পরিণত হয় এবং অনেক জলকণা সে ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জে পরিণত হয় । 

ডিসচার্জ প্রক্রিয়া ৩ ভাবে হয়ে থাকে । যথা:

 একই মেঘের ধনাত্মক ও ঋণাত্মক চার্জ এর মধ্যে

 একটি মেঘের ধনাত্মক চার্জ এর সাথে অন্য মেঘের ঋণাত্মক আবার অন্য মেঘের ধনাত্মক চার্জ এর সাথে ওই মেঘের ঋণাত্মক চার্জ এর মধ্যে ।

 মেঘের পজেটিভ আধানের ও ভূমির মধ্যে । একে ক্লাউড টু গ্রাউন্ড ডিসচার্জিং বলে ।

জলকণার আয়নিত হওয়া

এ চার্জিত জলীয় বাষ্প মেঘে পরিণত হলে মেঘে বিপুল পরিমাণ স্থির তড়িৎ উৎপন্ন হয় । এ সময় অপেক্ষাকৃত হালকা ধনাত্মক আধান মেঘের উপরে এবং অপেক্ষাকৃত ভারী ঋণাত্মক চার্জ নিচে অবস্থান করে । মেঘে এই ২ বিপরীত চার্জের পরিমাণ যথেষ্ট হলে ডিসচার্জ প্রক্রিয়া শুরু হয় । 

ডিসচার্জিং এর ফলে বাতাসের মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক স্পার্ক প্রবাহিত হয় । এ বৈদ্যুতিক স্পার্ক এর প্রবাহ – ই বজ্রপাত । কিন্তু সব বজ্র কিন্তু ভূপৃষ্ঠে পড়ে না । শুধু ক্লাউড টু গ্রাউন্ড ডিসচার্জিং এর ফলে সৃষ্ট বজ্র-ই ভূপৃষ্ঠে পড়ে ।”

বায়ু তো বিদ্যুৎ অপরিবাহী । তাহলে বৈদ্যুতিক স্পার্ক এর ভিতর দিয়ে কিভাবে প্রবাহিত হয় ?

বাতাস বিদ্যুৎ অপরিবাহী এটা ঠিক । তবে মেঘে থাকা স্থির তড়িৎ প্রায় ১০ মিলিয়ন ভোল্ট পর্যন্ত শক্তি উৎপন্ন করে , যা বাতাসের একটি অংশকে আয়নিত করে । এই আয়নিত পরিবাহী অংশ দিয়ে চার্জ প্রবাহিত হয় ।

বজ্রপাতের সময় আলো ও শব্দ হওয়ার কারন কী? 

বজ্রপাতের সময় আমরা যে আলো দেখতে পাই তা মূলত এই সরু চ্যানেলের আয়নিত পরমাণু থেকে বিকীর্ণ শক্তির তীব্র আলোক ছটা। এই সরু ,আয়নিত ও বিদ্যুৎ পরিবাহী চ্যানেল তৈরীর সময় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ২৭০০০° c এবং চাপ প্রায় ১০-১০০ গুন পর্যন্ত বেড়ে যায় । কিন্তু এই পুরো ঘটনাটি ঘটে এক সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ে । এ পরিবর্তন আশপাশের বাতাস কে প্রচন্ড গতিতে বিস্ফোরণের মতো সম্প্রসারিত করে । এর ফলে প্রবল শব্দ উৎপন্ন হয় । এই শব্দকেই আমরা বজ্রপাতের শব্দ হিসেবে শুনি ।

পৃথিবী তো চার্জ নিরপেক্ষ তাহলে ধনাত্মক চার্জ যুক্ত বজ্র ভূপৃষ্ঠে পরে কেনো? আর পড়লেও শুধু ধনাত্মক চার্জ যুক্ত বজ্র-ই পরে কেনো?

পৃথিবীর সম্মিলিত চার্জ শূন্য (০) হলেও পৃথিবীর পৃষ্ঠে ও কেন্দ্রে ভিন্ন ভিন্ন চার্জ থাকে বলে ধারণা করা হয় । পৃথিবীর কেন্দ্রে তীব্র চাপ ও তাপ থাকে ফলে কেন্দ্রে থাকে । আমরা জানি কোনো পদার্থের পরমাণুতে থাকা ইলেকট্রন তাপ গ্রহণ করে নিম্ন শক্তিস্তর থেকে উচ্চ শক্তিস্তরে যায় । এবং তাপ অনেক বেশি হলে তা কক্ষপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে । ফলে পরমাণু টি ধনাত্মক আধানে পরিণত হয় ।
পৃথিবীর কেন্দ্রে তাপমাত্রা অনেক বেশি থাকায় অনুরূপ ঘটে । ফলে পৃথিবীর কেন্দ্র ধনাত্মক চার্জ এবং ভূপৃষ্ঠে বা তার সামান্য নিচে থাকা বস্তুর পরমাণু ওই ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক চার্জ এ পরিনত হয় । এই ঋণাত্মক চার্জ এর সাথে ডিসচার্জ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মেঘের উপরের পৃষ্ঠের ধনাত্মক চার্জ-ই ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে ।

বজ্রপাতের সময় কতটুকু শক্তি উৎপন্ন হয়?

ভূমি থেকে ৩ মাইল দূরত্বের বজ্রপাত ১ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন জুল শক্তি উৎপন্ন করে। বৈদ্যুতিক শক্তি পরিমাপক একক “কিলোওয়াট / আওয়ার” । এ হিসেবে এ শক্তি ২৭,৮৪০ কিলোওয়াট / আওয়ার ।
বাংলাদেশে একটি পরিবার গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০০- ১৫০ ইউনিট (কিলোওয়াট-আওয়ার) বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে। তার মানে একটি বজ্রপাতের বিদ্যুৎ শক্তি জমা করতে পারলে একটি পরিবার ১৮৫ মাস বা, প্রায়  ১৫ বছর বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যাবহার করতে পারবেন ।
চাইলে আপনিও বজ্রপাতকে ট্র্যাপে ফেলে বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ ব্যাবহারের সুযোগ লুফে নিতে পারেন।
তবে সে ক্ষেত্রে বজ্রপাত ঘায়েল করতে আপনি সময় পাবেন এক সেকেন্ডেরও কম । কারণ , বজ্রপাতের পুরো প্রক্রিয়াটি ঘটে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে।
তবে বিজ্ঞানীরা থেমে নেই । বজ্রপাত থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ তড়িৎ শক্তিকে ধারণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের বিষয়ে বিজ্ঞানীরা উৎসাহী হয়ে উঠেছেন এবং তা বাস্তবায়িত করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সোর্স: বিচিত্র বিজ্ঞান

Categories
Science

আয়নার রঙ কেমন

আমরা প্রতিদিন আয়নায় নিজেদের দেখি।
আয়নার সামনে যা রাখা হয় হুবহু তারই প্রতিবিম্ব গঠন করে। কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি আয়নার রঙ কি??আয়নার সামনে যে বস্তুই রাখি সেই বস্তুর রঙ আমরা আয়নায় দেখতে পাই।কিন্তু আয়নার রঙ কেমন হতে পারে তা আমরা কখনও ভাবি না।আজকে আমরা জানবো আয়নার রঙ কেমন।আয়নার রঙ জানার আগে আমরা জেনে নিই আদর্শ আয়না (আদর্শ দর্পন) এর বৈশিষ্ট্য কি। আদর্শ আয়না সাধারনত কোন আলোই প্রতিফলিত করবে না। সম্পূর্ন আলোটাই শোষন করবে।

কিন্তু আমাদের পৃথিবীতে একেবারে আদর্শ আয়না কোথাও নেই। সাধারন আয়নাগুলো কিছু আলোক রশ্মি শোষন করে থাকে। পরীক্ষা করে দেখা যায় আয়না যে আলো প্রতিফলিত করে তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৫১০ ন্যানোমিটার। যা দৃশ্যমান সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য। সুতরাং পদার্থবিজ্ঞানের তথ্য থেকে বলা যায়, আয়নার রঙ সবুজ।কেননা আমরা জানি পদার্থবিজ্ঞানের মতে “যে বস্তু থেকে যে রঙের আলো প্রতিফলিত হয়, সে বস্তুর রঙ তাই হয়”
বায়ুমন্ডল থেকে নীল আলো প্রতিফলিত হয় বলে বায়ুমন্ডলের রঙ নীল।ব্লাকহোল থেকে কোন আলোই প্রতিফলিত হয়( ব্লাকহোল সবধরনের আলো তার নিজের কেন্দ্রে টেনে নেয়) না বলে ব্লাকহোলের রঙ কালো,আবার সূর্য থেকে সব রঙের আলো প্রতিফলিত হয় বলে সূর্যের রঙ( আলো) সাদা।
সোর্স: গুগল ও উইকিপিডিয়া

Categories
Science

লুসিড ড্রিম

“লুসিড ড্রিম” এর “লুসিড” শব্দটার অর্থ হলো “স্পষ্ট বা পরিস্কার” আর “ড্রিম” মানে যে “স্বপ্ন” এটা আমরা সবাই জানি। লুসিড ড্রিম হলো সেই স্বপ্ন যেটা আপনার স্পষ্টত মনে থাকে (এমনকি স্বপ্নের মাঝে অন্ততপক্ষে এতোটুকু উপলব্ধি করতে পারবেন যে আপনি সত্যিই স্বপ্ন দেখছেন) এবং আপনি আপনার স্বপ্নটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

কি বিষয়টা মাথায় ঢুকলো না তাইতো??

আচ্ছা মনে করুন আপনি রাতে স্বপ্ন দেখছেন যে আপনি দশতলা বিল্ডিং হতে লাফ দিয়ে পড়ে যাচ্ছেন (ওহ মাই গড…দশতলা হতে মাটিতে পড়লে তো আপনি এমনিই মারা যাবেন) এবার আপনি যদি আপনার এই স্বপ্নটাকেই মোডিফাই করে একটা গদির ওপর পড়েন তাহলে কেমন হবে ভাবুন তো?!
হুমমম….এমনি স্বপ্নের মাঝে নিজের ইচ্ছায় স্বপ্নটাকে নিয়ন্ত্রণ করায় হলো লুসিড ড্রিম!

লুসিড ড্রিম কিভাবে হয়?

মূলত আমাদের ঘুমের সময় REM Sleep এর সময়ই হতেই লুসিড ড্রিম এর সূত্রপাত হয়, REM sleep হলো Rapid Eye Movement অর্থাৎ ঘুমের মাঝেই চোখের পাতার নড়নচড়ন।

সাধারণত আমাদের মনের দুইটা অংশ থাকে (১) সচেতন মন (২) অবচেতন মন; আমরা স্বপ্ন দেখি অবচেতন মনে কিন্তু স্বপ্নের মাঝে সচেতন মন খানিকটা সক্রিয় হলেই এই লুসিড ড্রিম হয়।

আচ্ছা লুসিড ড্রিম দিয়ে কি হয়?!

আমরা সাধারণত ঘুমের মাঝে যেসব স্বপ্ন দেখি সেগুলির বাস্তব জীবনে মূল্যায়ন বা প্রয়োগ তথা প্রভাব তেমন একটা থাকে না; অন্যদিকে লুসিড ড্রিম আপনার পুরো লাইফটাই পাল্টে দিতে পারে।

মনে করুন আপনি স্বপ্নের মাঝে প্রতিদিন সাপের দৌড়ানি খাচ্ছেন কিংবা একটা অশরীরী আত্মা এসে বারবার আপনাকে ভয় দেখাচ্ছে, এভাবে কয়দিন আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন?
দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমন ভয়ংকর স্বপ্ন আপনার পুরো লাইফটাই ডিস্ট্রয় করে দেওয়ার জন্য এনাফ, একটা সময় হয়তো আপনি ঘুমুতে যেতেই ভয় পাবেন তাইনা??!

আর আপনি যদি লুসিড ড্রিম করতে পারেন তাহলে সাপকে লাঠি দিয়ে মেরে মনের শক্তি বাড়াতে পারেন,অন্যদিকে সচেতন মাইন্ড “ভূত বলতে কিচ্ছু নেই” বলে অশরীরী’টাকে তাড়াতে পারেন…..কত্তো মজার লুসিড ড্রিম তাইনা?

লুসিড ড্রিম আপনার দুঃস্বপ্নকে সুন্দর স্বপ্নে রূপান্তরিত করাতে সক্ষম, স্বপ্ন বিষয়টাকে আপনার লাইফে বেস্ট মোটিভেশন হিসেবে তুলে ধরবে এবং সর্বোপরি আপনার লাইফে সফলতা বয়ে নিয়ে আসবে।

ধারনা করা হয় লুসিড ড্রিম এর মাধ্যমে আপনার অবচেতন মনকে সচেতন মন স্পেসিফিক ইন্ডিকেশনে পরিচালিত করে অন্যের মনের গোপন কথা জানতে সহায়তা করে কিংবা আপনার মনের আবেগ অনুভূতি অন্যের মনের মাঝে ঢুকিয়ে দিতে পারে ফলে আপনি চাইলেই সহজেই লুসিড ড্রিম এর সাহায্যে আপনার স্বার্থসিদ্ধি করতে পারেন (বিষয়টা আপনি হিপ্নোসিস এর সাথে তুলনা করলে এখনে পাত্র আপনি নিজেই এবং সম্মোহক মানুষটাও আপনি নিজেই….মোদ্দকথা বিষয়টাকে হয়তো সেল্ফ হিপ্নোসিস এর সাহায্যে ব্যখ্যা করা সম্ভব)।

লুসিড ড্রিম কিভাবে করবেন?

আপনি চাইলেই কিন্তু লুসিড ড্রিম বিষয়টাকে আয়ত্তাধীন করতে পারেন; এমনি লুসিড ড্রিমের জন্য যে রাতের বেলায় ঘুমুতে হবে এমনটাও নয়।
লুসিড ড্রিম এর জন্য মেডিসিন থেকে শুরু করে মেডিটেশন পর্যন্ত বিভিন্ন পদ্ধতি আছে; আমি আপনাকে সবচেয়ে সহজ উপায়টাই শিখিয়ে দিচ্ছি….

আপনি প্রতিদিন রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে আপনার মনকে বলুন ” আজ আমি লুসিড ড্রিম করবো” ব্যাস এতোটুকুই এনাফ!

ভাবছেন মজা করছি… উহু আমি কিন্তু সত্যিই সিরিয়াস!!

আপনি যখন সচেতন মনে আপনার অবচেতন মনকে কমান্ড দিচ্ছেন “লুসিড ড্রিম” করতে চান তখন আপনার অবচেতন মন এমনিতেই স্বপ্ন দেখার সময় আপনার ব্রেইনের সচেতন মনটাকে জাগ্রত করবে এবং আপনি আপনার স্বপ্নের কনট্রোল করতে পারবেন।

কি বিশ্বাস হচ্ছে না…তাহলে পরীক্ষার আগের রাতে ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রাখলেও এলার্ম বাজার আগেই আপনার ঘুম ভেঙ্গে যায় ক্যামনে – এইটা ভাবুন তো?!

এছাড়াও আপনি চাইলে একটা ড্রিম ডায়েরী রাখতে পারেন যাতে আপনার যাবতীয় স্বপ্ন ভোরবেলা উঠে লিখে রাখবেন, এতে করেও আপনার লুডিস ড্রিম তথা স্বপ্নের এক্সেস করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

লুসিড ড্রিমের কোন সাইড ইফেক্ট আছে?

হুমম…আপনি যদি “যখন মন চাই তখনই লুসিড ড্রিম করতে পারেন” তাহলে স্বপ্ন এবং বাস্তব গুলিয়ে ফেলার আশংকা থাকে এবং হ্যালুসিনেশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; সুতরাং অতিরিক্ত লুসিড ড্রিম আপনার লাইফে ক্ষতির কারণ হতে পারে; ব্রেইনের ওপর জোরাজুরি করা তো লক্ষী ছেলের কাজ নহে!!!

সবিশেষ শুধু একটা কথায় বলবো “আপনারা যদি জানতেন যে শুধুমাত্র ব্রেইন দিয়েই লাইফে সফলতা আনা সম্ভব তাহলে হয়তো বোকার মতোন কখনোই মন খারাপ করে হতাশ হতেন না”।

সোর্স:সাইন্স বী
লিখেছেন : নিশান আহম্মেদ নিয়ন

Categories
Science

গ্লো স্টিক ললিপপ কীভাবে জ্বলে??

আজকাল শহর কিংবা গ্রামে গ্লো স্টিক ললিপপ কিনতে পাওয়া যায়, যা বাচ্চাদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি চকলেট হয়ে উঠেছে। মূল ললিপপটি বাচ্চারা মুখে খাচ্ছে আর বাইরের যে স্টিকটি আছে তা জ্বলছে। দেখতেই অসাধারণ লাগে। বিশেষ করে সন্ধ্যা বা রাতের বেলায়।
আসুন জেনে নিই এই ব্যাপারে। কীভাবে এই স্টিক জ্বলে??গ্লো স্টিকের ভেতরে থাকে কাঁচের ক্যাপসুল। এই কাঁচের ক্যাপচুলের মধ্যে থাকে ডাইবিউটাইল ফ্যালেইট বা হাইড্রোজেন পারক্সাইড আর ফ্যালেইক এস্টার । আর বাইরে থাকে ফিনাইল অক্সালেট যা কাঁচের ক্যাপসুল ভেঙ্গে দ্রবণের প্রভাবে গ্লো করে অর্থাৎ তখন এটি উজ্জ্বল দেখায়।

সতর্কতা:
তবে, কোন বাচ্চা যদি খেলার ছলে কিংবা কৌতুহল বশত কামড় দিয়ে কিংবা অন্য কোনভাবে গ্লো স্টিকটি ভেঙ্গে ফেলে তাহল সেই স্টিকটির ভেতরে থাকা উপাদানগুলো চামড়ায় লাগলে চামড়া পুড়ে যেতে পারে। এমনকি মুখে গেলে মুখ পুড়ে যেতে পারে। আর চোখে গেলে চোখের অনেক বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারে। তাই, এটা বিপদজনক।

এই ধরণের ললিপপ আপনাদের বাচ্চাকে দিতে চাইলে সতর্কতা অবলম্বন করুন।

Categories
Science

বিজ্ঞানের মজার পরীক্ষা

ডিম ভাসাও পানিতে:
একটা ডিমকে পানিতে ছেড়ে দিলে কী হবে বলো তো? অবশ্যই ডুবে যাবে পানিতে। যদি বলি একটা ডিমকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে, পারবে?
যা যা লাগবে:
l একটি ডিম l পানি l লবণ l একটি বড় গ্লাস
যেভাবে করবে:
প্রথমে গ্লাসের অর্ধেক পানিতে পূর্ণ করো। এর মধ্যে ছয়-সাত চামচ লবণ মেশাও। লবণ পানিতে পুরোপুরি মিশে না যাওয়া পর্যন্ত চামচ দিয়ে নাড়তে থাকো। এরপর ডিমটিকে আস্তে করে সেই পানিতে ছেড়ে দাও। কী, ভাসছে তো?
যা ঘটল:
হুম্‌, ডিম পানিতে ডুবে না গিয়ে ভেসে আছে। আসলে পানিতে লবণ মেশানোর ফলে পানির ঘনত্ব বেড়ে যায়। এভাবেই বেশি ঘনত্বের পানি সহজে কোনো বস্তুকে ভাসিয়ে রাখতে পারে। 

সুতা দিয়ে তোলো বরফ:
এক টুকরা বরফ একটি গ্লাসের পানিতে ছেড়ে দিলাম। কোনো চামচ বা কাঠি ছাড়াই সুতা দিয়ে তোমাকে বরফের টুকরা গ্লাস থেকে তুলে ফেলতে হবে। সুতা দিয়ে বরফের টুকরাকে বাঁধতে পারবে না কিন্তু। তাহলে তুলবে কীভাবে?
যা যা লাগবে:
l বরফের টুকরা l একটি গ্লাস l পানি l লবণ l সুতা
যেভাবে করবে:
প্রথমে লম্বা এক টুকরা সুতা কেটে নাও। একটি গ্লাসের পুরোটা পানি দিয়ে পূর্ণ করে বরফের টুকরা ছেড়ে দাও। বরফ পানিতে ভেসে থাকবে। এবার বরফের ওপর সুতার একটি প্রান্ত আড়াআড়ি করে রেখে দিয়ে সুতা ও বরফের টুকরার ওপর অল্প একটু লবণ দিয়ে ঢেকে দাও। এক মিনিটে অপেক্ষা করে সুতার অপর প্রান্ত ধরে টান দাও। মজা দেখতে পাচ্ছ?

যা ঘটল:

বরফ সুতার মাথায় ঝুলছে। লবণ ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে বরফের হিমাঙ্ক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে কিছুটা কমে আসে এবং তা গলতে শুরু করে। ফলে সুতাটি বরফের ভেতরে ঢুকতে শুরু করে। যখন লবণের ক্রিয়া শেষ হয়ে যায়, তখন আবার হিমাঙ্ক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় চলে আসে এবং সুতার চারপাশের বরফ আবার জমতে শুরু করে। জমাট বেঁধে যাওয়ায় সুতাকে ওপরে তুললে বরফও সুতার সঙ্গে উঠে আসে।

সোর্স: প্রথম আলো

Categories
Science

চোখ উঠা

চোখ উঠা (ইংরেজি: Conjunctivitis, কন্‌জাঙ্কটিভাইটিস) হচ্ছে চোখের ভাইরাসজনিত ইনফেকশন। সাধারণভাবে প্রচলিত কথা ‘চোখ ওঠা’ বলতে চোখ লাল হওয়া বুঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু চোখ লাল হওয়া একটি উপসর্গ মাত্র। বিভিন্ন কারণে চোখ লাল হতে পারে। যেমন-জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, এডিনো ভাইরাসজনিত কারণে, হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসজনিত কারণে, স্কেলেরার ইনফেকশনজনিত কারণে, ইউভিয়াল টিস্যু ইনফেকশনজনিত কারণ ইত্যাদি। তবে ভাইরাস কেরাটাইটিস বা হারপেম সিমপেক্স ভাইরাসজনিত ইনফেকশনই মুলত ভাইরাসজনিত ইনফেকশন। এ ধরনের ইনফেকশনে সাধারণত এক চোখ আক্রান্ত হয়ে থাকে।

লক্ষণ:
চোখ জ্বলবে, চোখের ভেতর অস্বস্থি শুরু হয়, সামান্য ব্যথা হয়। রোদে বা আলোতে তাকাতে কষ্ট হয় ও অতিমাত্রায় পানি পড়ে। চোখ লাল হয়ে ফুলে উঠে। ঘুম থেকে উঠার পর চোখের পাতা দুটি একত্রে লেগে থাকে। চোখ থেকে শ্লেষ্মাজাতীয় পদার্থ বের হতে থাকে ও হলুদ রঙের পুঁজ সৃষ্টি হয়। সাধারণত ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে উপসর্গগুলো কমে আসে। কিন্তু দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। মণি বা কর্নিয়াতে সাদা দাগ পড়ে যায়। খালি চোখে দেখে বোঝা যায় না। এতগুলো উপসর্গ রোগীর ক্ষেত্রে একসাথে দেখা নাও যেতে পারে।

এটি একটি জটিল রোগ। দেরি করে চিকিৎসা করালে সম্পুর্ণ আরোগ্য লাভ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। তবে প্রাথমিক অবস্হায় চিকিৎসা নিলে খুব সহজেই সেরে যায়।

সতর্কতা:
যেসব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে তা হলো-ধুলাবালি, আগুন-আলো-রোদে কম যাওয়া, ময়লা-আবর্জনাযুক্ত স্যাতসেঁতে জায়গায় না যাওয়া, পুকুর বা নদী-নালায় গোসল না করা, চোখে কালো চশমা ব্যবহার করা, টিভি না দেখা। সম্ভব হলে ১০ থেকে ১৫ দিন সম্পুর্ণ বিশ্রাম নেয়া এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া।

সোর্স:উইকিপিডিয়া ও গুগল