Categories
Books

বই নিয়ে কথা “ত্রি”

রিভিউ নাম্বারঃ ২৫

ত্রি। তিনটে সায়েন্স ফিকশন। রিটেন বাই হুমায়ুন আহমেদ। ছোটবেলায় সায়েন্স ফিকশন বলতেই জাফর ইকবাল বুঝতাম। পড়ার নেশা হয়ে গিয়েছিল। একের পর এক গোগ্রাসে গিলেছিলাম জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন আর কিশোর উপন্যাসগুলো। যেকোনো কারণেই হোক, হুমায়ুন আহমেদকে আমি তুলনামূলক কমই পড়েছি। অন্তত জাফর ইকবালের চেয়ে কম তো বটেই। তাই প্রথমবার হুমায়ুনীয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীপাঠের অভিজ্ঞতা কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছে বৈকি!

ত্রি। “ইমা”, “ইরিনা”, “মানবী”__ হুমায়ুন স্যারের তিনটি সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থের সংকলন। ক্রিটিসাইজ করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা কোনোটাই আমার নেই। ইমা’র শুরুতে লেখক নিজেই একরকম ক্রিটিসাইজ করে দিয়েছেন :

“আমার ছোটভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফিরেই মহা-উৎসাহে সায়েন্স ফিকশন লেখা শুরু করেছে। বাধ্য হয়েই আমাকে এজাতীয় লেখা বন্ধ করতে হয়েছে কারণ তার মতো সুন্দর করে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আমি লিখতে পারি না। আমার সব বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী শেষপর্যন্ত মানবিক সম্পর্কের গল্প হয়ে দাঁড়ায়___ বিজ্ঞান খুঁজে পাওয়া যায় না।”

তিনটে বইই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর তিনটি কাল্পনিক সময়কে ঘিরে লেখা। যেখানে বিজ্ঞানের অস্বাভাবিক অগ্রযাত্রা মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহে নানাবিধ পরিবর্তনের জন্ম দিয়েছে।
এম্নিতেই হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসগুলোর মূল উপাদান হয়ে থাকে কল্পনা। তার কল্পনার তৈরি জগতেই গড়ে ওঠে একেকটা গল্প, একেকটা চরিত্র। কাল্পনিক সব চরিত্র আর কাহিনীতেই বুঁদ হয়ে থাকে পাঠকেরা। আর টপিকই যখন সায়েন্স ফিকশন, কল্পনার আরো অবাধ সুযোগ। তাই হুমায়ুন আহমেদের সেই কাল্পনিক সৃষ্টির স্বাদ এখানে আরো অধিক উৎকর্ষতা লাভ করেছে।

তিনটে বইয়ের কাহিনীর একটা কমন প্লট হল, মানবসৃষ্ট শক্তিশালী মহাকম্পিউটার “সিডিসি”র উপস্থিতি আর সিডিসিকতৃক সারাবিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।

“মানবী” এবং “ইরিনা” বই দুটাতেই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর দুইরকম কাল্পনিক আইন ও সরকারব্যবস্থা দেখানো হয়েছে।

সবচে ইন্টারেস্টিং ছিল “ইরিনা” বইটা। যারা পড়েছেন বুঝে থাকবেন, তিন স্তরের শহরব্যবস্থা এবং হাতেগোণা কয়েকজন অমর বিজ্ঞানীর নিজস্ব আইনে পৃথিবীর শাসন, জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা একটা বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমিতকরণ___ পড়ার শুরু থেকেই এই কনসেপ্ট টার রূপক বক্তব্য আমি অনুভব করছিলাম। আর বইয়ের শেষদিকে ধর্মগ্রন্থের কথা উঠে আসায় আমার ধারণা পুরোপুরি নিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয়।

সবশেষে বলব গতানুগতিক সাহিত্য সমালোচনায় হুমায়ুন আহমেদের লেখা নিয়ে বিতর্কের অন্ত না থাকলেও বাংলা সাহিত্যে তার গদ্যের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য। সাথে উপভোগ্যতা আর জনপ্রিয়তার হিসেবে হুমায়ুন আহমেদ আগে থেকেই সম্রাট।

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

#HappyReading

Categories
Books

বই নিয়ে কথা…

রিভিউ নাম্বারঃ ২৪

বই:- দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
লেখক:- হুমায়ূন আহমেদ
ধরন:- উপন্যাস
প্রকাশনি :- কাকলী
পৃষ্ঠা:- ৮৯
মুদ্রিত মূল্য:- ১৮০ টাকা
প্রচ্ছদ :- মাসুম রহমান
প্রকাশকাল :- ফেব্রুয়ারি ২০১২

” যদি ভালো না লাগে তো দিও না মন”

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র লিপি।দশম শ্রেণী পড়ুয়া লিপি লালমাটিয়া হাই স্কুলে পড়ে। ১৫ বছরের অদ্ভুত এক আবেগী তরুণী। তার মধ্যে বয়:সন্ধিকালীন জটিলতা লক্ষ করা যায়। উদ্ভট সব কর্মকান্ড করে সবসময়। অতি মেধাবী হলেও সবসময় আবেগের দ্বারা পরিচালিত হয়। লিপিদের পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। অনেকটা আশ্রিতের মত থাকে।তার বাবা তারই শৈশব বন্ধু আহসান সাহেবের অফিসের বিভিন্ন ফরমাশ খাটেন এবং অনেকটা আশ্রিতের মতো তার বাসায় ভাড়া থাকেন।

লিপি তার বাবার বন্ধু আহসান সাহেবের প্রতি ভয়ানক দূর্বল হয়ে পড়ে এবং এভাবেই গল্পের কাহিনী এগিয়ে চলে।পৌড় আহসান সাহেব নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হলেও তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। নিঃসঙ্গ এই মানুষটার প্রতি লিপি গভীর মমতা অনুভব করে। সামাজিক এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপারে সচেতন হলেও লিপি আহসান সাহেবের বিষয়ে অনেকটা খামখেয়ালি। বয়সের তুলনায় অনেক বেশি বুদ্ধিমতী লিপি ছোটো থেকে দুঃখ- দুর্দশার মাঝে বড় হলেও আহসান সাহেব তার জীবনে নিয়ে আসে জাঁকজমকতা। লিপির সকল চাওয়াকে বাস্তবায়ন করে।

বৃষ্টির দিনে গাড়ি পাঠিয়ে লিপিকে স্কুল থেকে নিয়ে আসা, তার বিশাল বাগান বাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। কখনোবা লিপির ঘরের সাজসজ্জার পরিবর্তন, ঘরে এসি লাগানো, লিপির জন্মদিনে দামী গিফট দেওয়া। এভাবেই লিপির সাদামাটা জীবনে আহসান সাহেব এক গভীর ছাপ ফেলে। তাদের বয়সের মধ্যে বিস্তর ফাড়াক হলেও সৃষ্টি হয় এক অসম প্রেম। এই গল্প লিপিকে কেন্দ্র করে হলেও কাহিনীর আবর্তে আসে লিপির মমতাময়ী বাবা-মা, কাজের বুয়া, লিপির মামা। লিপির মামা একজন ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো একদিন লিপিদের বাসায় হাজির হয় এবং একটি রুম দখল করে থাকতে শুরু করে।

লিপি লক্ষকরে তার মামা তার মায়ের সকল সম্পত্তি ছলেবলে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে। চরিত্রের অধপতনে জর্জরিত তার এই মামা তাদেরই কাজের বুয়ার সাথেও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে লিপি শুরু করে তার মামাকে শায়েস্তা করার উদ্ভট সব প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় লিপিকে সাহায্য করার জন্য লিপির বাবা কখনো তার সাথে সলাপরামর্শ করে, কখনোবা আহসান সাহেব আবার কখনো লিপির সম্পর্কে স্কুলের বাথরুমে কুৎসিত সব কথাবার্তা লেখা লিপির একমাত্র প্রিয় বান্ধবী প্রতিমা এগিয়ে আসে। লিপির এসব উদ্ভট কর্মকাণ্ডে তার মামা তাকে আহসান সাহেবের রক্ষিতা বললেও তার উচ্ছেদ অভিযান চলতে থাকে।

লিপি ঠিক করেন স্কুলের গরমের ছুটিতে তার এই সব কাহিনী নিয়ে সে একটা উপন্যাস লিখবে। উপন্যাসের নাম ” দাঁড়কাকের সংসার” তার উপন্যাসের কাহিনী হবে একজন বৃদ্ধ লোক ১৬ বছরের অসম্ভব এক রূপবতীর পড়ে। তারপর তাদের প্রেম সামাজিক বাধার সম্মুখীন হয়। এভাবেই লিপি কখনো উপন্যাস লেখার জন্য আহসান সাহেবের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য দেখা করে, কখনো একসাথে দাবা খেলে, কখনো বিকালে ছাদে গল্প করে তো কখনো মামাকে উচ্ছেদ করার ব্যাপারে পরিকল্পনা আটে। আপাতদৃষ্টিতে ” দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই” হাস্য রসাত্মক ধাঁচের মনে হলেও একই সাথে রয়েছে জীবনবোধ, মধ্যবিত্ত এক পরিবারের উপর ভয়ানক বিপর্যয় , সেই সাথে এক অসম প্রেমের অনিশ্চিত দোটানা। একজন মমতাময়ী মা,য়ের তার ভাইয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। সবকিছু মিলিয়ে দারুন কিছু সময় কাটানোর জন্য বইটা বেশ উপভোগ্য।

রিভিউয়েঃ সৈকত ভাই

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ২৩

বই :-শিশুমনে ঈমানের পরিচর্যা
লেখিকা : ড. আইশা হামদান
অনুবাদক: -আবু আবদুল্লাহ
সম্পাদক:-সাজিদ ইসলাম
প্রচ্ছদ :-শরিফুল আলম
পৃষ্ঠা সজ্জা :-আবদুল্লাহ আল মারুফ
শারঈ সম্পাদক:-হাফিজ আল মুনাদি
মূল্য:-৩০০ টাকা

#লেখিকার_পরিচয়
ড. আইশা উটজ হামদান।সাবেক নাম লরা মেরি হামদান।জম্ম-মৃত্যু (১৯৬৪-২০১৯)।তিনি ছিলেন একজন রিভার্টেড আমেরিকান মুসলিমাহ ও পাচ সন্তানের জননী।১৯৮৪ সালে তিনি ইসলাম গ্রহন করেন। Clinical psychology উপর পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন west virgina university of Morganatown হতে।American open university of falls church হতে Islamic studies এর উপর ব্যাচেলর ডিগ্রি করেন।

#বইয়ের_নামকরণ
প্রতিটা মানব শিশুর মধ্যে এক ধরনের যোগ্যতা রয়েছে যার নাম ফিতরাত। ফিতরাত হলো সহজাত, জম্মগত মানবিক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহকে চিনতে পারে, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে ও ঈমান অর্জন করতে পারে। প্রতিটি মানুষ আল্লাহ কে চিনতে পারে। প্রতিটি মানব শিশুর অন্তরে ঈমানের বীজ সৃষ্টিগত ভাবেই বপন করা থাকে। প্রয়োজন শুধু পরিচর্যা ও বিকাশ ঘটানো সেই বীজ থেকে আমরা কাংখিত ফলে –ফুলে শোভিত বৃক্ষ পেতে পারি। এই কারনে এই বইয়ের নামকরন করা হয় “শিশুমনে ঈমানের পরিচর্যা”(Nurturing Eeman in children) .

#বই_নিয়ে_কিছু_কথা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন ড.জসিম স্যার এই বইটা পড়তে বলেছিল কিন্তু স্যারের কথায় কোনো পাত্তা দেই নাই।আমার বন্ধু ওবায়দুল্লাহ দেখছি বইটা পড়ছে।তার থেকে বইটা ধার নিয়ে পড়ে ফেললাম।এই বইটি মুসলিম পিতামাতার জন্য একটি গাইড বই। ইসলামে জ্ঞান থাকা বাচ্চাদের শিক্ষিত করার পক্ষে যথেষ্ট না হলেও তাদের এমন একটি ইসলামী পরিবার সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত যা তাদের পিতামাতাকে তাদের প্রথম বয়সে ইসলামিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে সহ্য করতে হবে এবং পরিবেশগত কারণগুলি ভুলে যাবেন না। প্রায় সমস্ত বিষয় হাদীস এবং আলকুরান দ্বারা প্রশংসিত। সুতরাং এটি সত্যিই একটি ভাল অনুস্মারক।

সবশেষে একটি কথা না বললেই নয়, বইটি হতে উপকৃত হওয়া ছাড়া আর বিকল্প কিছুই থাকবে না ইনশা-আল্লাহ।

রিভিউয়েঃ মোঃ মিলন

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

ব্যাক্তিগত কারনে আগের মত আর রিভিউ আনতে পারছি না।
বিচলিত হবেন না, রিভিউ রেডি আছে শুধু পোস্ট করার সময় পাচ্ছি না।
উল্লেখ্যঃ আপনারা কি ধরনের রিভিউ চান কমেন্টে বা ইনবক্সে জানাতে পারেন।

Categories
Books

বক্সের ভিতর একজন জাদুকর ছিলেন।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা “হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম”

রিভিউ নাম্বারঃ ২২

#রিভিউ
বইঃ হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ
প্রকাশনীঃ দিব্যপ্রকাশ
প্রকাশকালঃ ১৯৯৬
মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০

ফ্ল্যাপে লিখা কিছু কথাঃ
————————-
‘যাবার আগে আপনি বলে যাবেন আপনি কে?
আমি বললাম,‘মারিয়া আমি কেউ না। I am Nobody.”
আমি আমার এক জীবনে অনেককে এই কথা বলেছি-কখনো আমার গরা ধরে যায়নি, বা চোখ ভিজে ওঠেনি। দু’টো ব্যাপারই এই প্রখম ঘটল।

First নীল পদ্মঃ
—————–
‘হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম’– বস্তুত এটি সেই উপন্যাস যেটি পড়ে আমার উপন্যাসের প্রতি আগ্রহ জন্মে ।
নন্দিত কথা সাহিত্যিক পরম শ্রদ্ধেয় হুমায়ন আহমেদের লেখা এ উপন্যাসটি আমার সবচেয়ে প্রিয়।
মূলত হুমায়ন আহমেদ এমন একজন মানুষ যিনি তাঁর প্রতিটি কর্মে সুনিপুণ দক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন, যার অন্যতম নমুনা হল হিমু।
তিনি হিমুর মাধ্যমে দেখিয়েছেন কিভাবে সমাজের বাধা-বিপত্তি, সীমাবদ্ধতা, মায়া মমতার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের জীবন কিভাবে গঠন করা যায়,কিভাবে ভিন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
আর সবচেয়ে বর কথা হল যে তিনি হিমুর মাধ্যমে আমাদেরকে জ্যোৎস্নাকে নতুনভাবে চিনতে শিখিয়েছেন।
আর তাই হিমু কে নিয়ে লেখা তাঁর প্রতিটি বই আমার অত্যন্ত প্রিয়।
কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রিয় ‘হিমুর হাতে নীল পদ্ম’ বইটি কারণ এর মাঝে হিমুর সবকিছু একীভূত হয়েছে ।।

“সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতি প্রতিটি ছেলেমেয়েকে পাঁচটি অদৃশ্য নীলপদ্ম দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান।এই নীলপদ্মগুলি হল – প্রেম-ভালবাসা।

একটি পুরনো বইয়ের দোকানে হিমুর সাথে পরিচয় হয় আসাদুল্লাহ সাহেবের। একটি বই কিনতে হিমু তাকে সাহায্য করেন।আসাদুল্লাহ সাহেবের বাড়িতে পরিচয় হয় তার ১৫ বছরের মেয়ে মারিয়ার। মারিয়া তার জীবনের ১ম প্রেমপত্র সাংকেতিক ভাষায় হিমুকে লিখে ফেলে।হিমু চিঠির মানে বের করতে পারেনি তাই তাদের সাথে আর যোগাযোগও রাখেনি।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মারিয়ার সাথে হিমুর দেখা হয়।মারিয়া তার কৈশোরের সেই ঘটনার জন্য লজ্জিত।
হিমু বাদলের সাহায্যে চিঠির অর্থ উদ্ধার করে আসগর সাহেবকে দিয়ে চিঠির উত্তর লিখে মারিয়াকে দেয়।কিন্তু মারিয়া চিঠিটা তাকে ফিরিয়ে দেয়।
আসাদুল্লাহ সাহেবের মতে মারিয়া তার সবগুলো নীলপদ্ম হিমুকে দিয়ে দিয়েছে তাই সে আর কাউকে ভালোবাসতে পারবে না।এদিকে হিমু নীলপদ্ম নিয়ে ঘুরছে কিন্তু কাউকে দিতে পারছে না।কারণ হিমুরা কাউকে নীলপদ্ম দিতে পারে না।

বই থেকে নেওয়া কিছু কথাঃ
—————————–
🍁শিশুরা জানে বয়স্ক মানুষরা ভুল করে,জেনেশুনে ভুল করে। শিশুরাই শুধু জেনেশুনে কোন ভুল করে না।
🍁কোন মেয়েকেই আসলে পাওয়া যায় না।তারা অভিনয় করে সঙ্গে আছে এই পর্যন্তই। অভিনয় শুধু যে অতি প্রিয়জনদের সঙ্গে করে তা না, নিজের সঙ্গেও করে।নিজেরা সেটা বুঝতে পারে না।
🍁যে সব মানুষ সীমাহীন আবেগ নিয়ে জন্মেছেন তাঁরা কখনো তাঁদের আবেগ প্রকাশ করেন না।তাঁদের আচার-আচরণ রোবটধর্মী। যাঁরা পৃথিবীতে এসেছেন মধ্যম শ্রেণীর আবেগ নিয়ে, তাঁদের আবেগের প্রকাশ অতি তীব্র। এঁরা প্রিয়জনদের দেখামাত্র জড়িয়ে ধরে কেঁদেকেটে হুলস্থুল বাঁধিয়ে দেন।
🍁মানুষ তার এক জীবনে যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি শোনে তা হচ্ছে তার নিজের নাম।যতবারই শোনে ততবারই তার ভাল লাগে।পৃথিবীর মধুরতম শব্দ হচ্ছে নিজের নাম।পৃথিবীর দ্বিতীয় মধুরতম শব্দ খুব সম্ভব “ভালোবাসি”।

ছবিঃ ফেসবুক থেকে নেওয়া

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

🖐🖐
হুমায়ুন আহমের অষ্টম প্রয়াণ দিবস আজ।
আট বছর আগে এইদিনে আমাদের ছেড়ে চলে যান গল্পের জাদুকর।
বিনম্র শ্রদ্ধা
ভালোবাসা অবিরাম
ওপারে তুমি ভালো থেকো প্রিয়ো লেখক।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ২১

#রিভিউ
বইঃ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ
লেখকঃ আরিফ আজাদ
প্রকাশনীঃ গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
প্রকাশকালঃ বইমেলা-১৭
পৃষ্ঠাঃ ১৭৬
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা

বইয়ের আলোচনাঃ
মূল চরিত্র- সাজিদ। সাজিদ প্রথমে নাস্তিক ছিল। কিন্তু যখন স্রষ্টার অস্তিত্বের এবং অদেখা জিনিসের প্রতি বিশ্বাসের প্রমাণ দেখালো, তখন বিশ্বাসের পথে ফিরে এলো। এদিকে সাজিদের প্রত্যাবর্তন নাস্তিকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। সাজিদের এই জ্ঞান, যোগ্যতা বুদ্ধিমত্তা সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী, পরিচিত অপরিচিতদের মধ্যে যারা নাস্তিক ছিল, তাদের প্রতিটি প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উত্তর দিতো কোরআন ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে। তাঁর তত্ত্ববহুল উত্তরে নাস্তিকরা ‘থ’ হয়ে যায়। সাজিদের অভূতপূর্ব সাক্ষী নাস্তিকদের রীতিমতো গাত্রদাহ শুরু হয়।

নাস্তিকদের উত্থিত প্রশ্ন থেকে কিছু এমন-
*স্রষ্টা খারাপ কাজের দায় নেন না কেন?
*মুশরিকদের যেখানেই পাও, হত্যা করো! *কোরআনের এই আয়াত কি জঙ্গিবাদের দিকে উস্কে দেয় না?
*স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল?
*কোরআন কি মুহাম্মদ (সা.) এর বানানো গ্রন্থ? *আয়েশা (রা.) ও মুহাম্মদ (সা.) এর বিয়ে এবং কথিত নাস্তিকদের কানাঘুষা!
*কোরআনে বিজ্ঞান- কাকতালীয় না বাস্তবতা?“
এমন আরো অনেকগুলো প্রশ্নের সাবলীল উত্তর দিয়ে অজস্র মানুষের প্রিয়ভাজন হয়েছে সাজিদ।

রাসূল (সা) আয়েশা (রা)কে ৯ বছর বয়সে বিবাহের প্রসঙ্গ নিয়ে নাস্তিকদের কানাঘুষার এক চমকপ্রদ জবাব দেয়া হয়েছে বইটিতে।
বঙ্গবন্ধুর বিয়ের সময় স্ত্রীর বয়স ছিল ৮ বছর। কিন্তু এটা নিয়ে তো মুক্তমনার কোন মুক্তচিন্তক এখন পর্যন্ত আওয়াজ তোলেনি!
তাহলে রাসূল (সা.)’র বিবাহ নিয়ে নাস্তিকদের এতো কানাঘুষা কেন?
এজাতীয় আরো প্রশ্নের উত্তর জানতে বইটি অদ্যপান্ত পড়ুন।
ভালোলাগাঃ বইয়ের প্রচ্ছদ, বাধাইয়ের প্রতি মুগ্ধ হয়েছি। পাশাপাশি অজানা অনেক বিষয় জানতে পেরেছি।
কেন পড়বেনঃ
১. অবিশ্বাসীদের বিশ্বাসের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য।
২. অবিশ্বাসীদের কতিপয় প্রশ্নের উত্তর কুরআন হাদীসের মাধ্যমে জানার জন্য।

ছবিঃ ফেসবুক থেকে নেওয়া
রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে আলোচনা “সবিনয় নিবেদন”

রিভিউ নাম্বারঃ ২০

সবসময় তো বই নিয়ে কথা বলি, তবে চলুন আজকে চিঠি নিয়ে কথা বলবো।

চিঠি। অনুভূতি, ভালোবাসা কিংবা বিষন্নতাকে কলমের কালো অন্ধকার কালিতে বন্দি করে নিজের প্রিয় কিংবা অপ্রিয় মানুষটার কাছে ডাকের মাধ্যমে পৌছে দেওয়াকেই বোধহয় চিঠি বলে। আর একটা সময় যোগাযোগের অনেকটা অংশই নির্ভর করতো সেসব চিঠির উপর৷

এই বইটাকে উপন্যাস না বলে নাহয় আমি অনেক অনেক গুলো চিঠির একটা সমষ্টি বলবো৷ একটার পর একটা চিঠি, তার উত্তরে আবার আরেকটা চিঠি৷ এভাবেই চিঠির পর চিঠি এসে বলে গেছে পুরোটা গল্প৷ চিঠির পর চিঠি যুক্ত হয়েই গড়ে উঠেছে পুরো একটা উপন্যাস৷ চিঠির মাধ্যমেই উঠে এসেছে একটা অনিন্দ্য সুন্দর প্রেমের গল্প। উঠে এসেছে পাহাড় আর অরণ্যের অনন্য সুন্দর মুগ্ধ করা বর্ণনা, যা আপনাকে এই বইয়ের পাতায় আটকে রেখেই ঘুরিয়ে আনবে পালামৌ এর পাহাড়ি জঙ্গল থেকে৷

গল্পের নায়ক রাজর্ষী সাহেব৷ যিনি কিনা পালামৌ এর বেতলার টাইগার প্রজেক্টে কর্মরত একজন৷ বেড়ে উঠার পর থেকেই যার জীবনের সবটা কেঁটেছে পাহাড়ি জঙ্গলে। নিজেকে সাক্ষাত জঙ্গলের উপযুক্ত আর সভ্যতায় ভরা শহরের থেকে দূরের মানুষ বলেই ভেবে এসেছেন৷ সেই রাজর্ষী বসুর সাথে এক রাতে হুট করেই একপলকের দেখা হয় কলকাতার মেয়ে ঋতি রায় এর।

নিজের কাকা আর কাকির সাথে পালামৌ বেড়াতে এসে হুট করেই রাতের অন্ধকারে হাতির কবলে পড়েন ঋতি’রা। তখন সেই হাতির দলের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের বেতলা পর্যন্ত পৌছে দেন রাজর্ষী বসু৷ সেখানেই ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় এক পলক দেখে নেন ঋতি রায় রাজর্ষী বসুকে৷ তারপর অনেকটা অনুমানের উপর ভিত্তি করেই সেই রাতের জন্য ধন্যবাদ সূচক একটা চিঠি লিখে পাঠান রাজর্ষী বসুর ঠিকানায়। সেখান থেকেই শুরু৷ একটার পর একটা চিঠি আদান প্রদান হতে থাকে, আর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর গভীরতায় বাড়তে থাকে গল্প।

একদিকে ঋতি রায়ের জীবনে থাকে অশোক, যার সাথে বহু বছর ধরেই সম্পর্কে আবদ্ধ ঋতি রায়। অন্যদিকে ধীরে ধীরে রাজর্ষি বসুর সাথে সম্পর্ক বন্ধুত্ব ছাড়িয়ে জটিলতার দিকে যেতে থাকে। অনেকবার দেখা করবে করবে বলেও দেখা হয়না তাদের। চিঠির মাধ্যমেই চলতে থাকে তাদের একজন আরেকজনকে জানা শোনা। বাকিটা জানতে হলে পড়তে হবে এই পত্রোপন্যাস টি৷

আমার যখন পাহাড় কিংবা জঙ্গল নিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে তখনই আমি বুদ্ধদেব গুহের বই নিয়ে বসে যাই। পাহাড় আর জঙ্গলের এতো সুন্দর বর্ণনা তিনি তার প্রতিটা বইয়ে দেন যে আমি মুগ্ধ না হয়ে পারিনা। চিঠি নির্ভর প্রেমের গল্পের পাশাপাশি এই বইতে তিনি পাহাড় আর জঙ্গলের অনিন্দ্য সুন্দর বর্ণনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক দিক, জীবন ধারা, বিভিন্ন ইতিহাস কিংবা বিভিন্ন ঘটনাকে দারুন ভাবে তুলে এনেছেন। যার ফলে বইটি প্রেমের উপন্যাস ছাপিয়েও হয়ে উঠেছে এক দারুন সৃষ্টি। সবকিছু মিলিয়ে দারুন একটা বই৷ ইচ্ছে হলে পড়ে নিতে পারেন।

পিডিএফ লিংক লাগলে অবশ্যই বলবেন। আমি পিডিএফ পড়েছি। ছবিটা সংগৃহীত।

বইঃ- সবিনয় নিবেদন
লেখকঃ- বুদ্ধদেব গুহ
পৃষ্ঠাঃ- ১৫৫

পার্সোনাল রেটিংঃ- ৪.৫/৫

Categories
Books

বই নিয়ে কথা “বেলা ফুরাবার আগে”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৯

#বুক_রিভিউ

বেলা ফুরাবার আগে
লেখকঃআরিফ আজাদ
প্রকাশনাঃ সমকালীন প্রকাশন
পৃষ্ঠাঃ ১৮৭
মুদ্রণ মূল্যঃ২৮৭ টাকা।

লেখক আরিফ আজাদ পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে থাকছেন ঢাকায়। ২০১৭ সালে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ দিয়ে লেখকের ‘লেখকজীবন’ শুরু। এ পর্যন্ত মৌলিক, যৌথ, সম্পাদনা, ভূমিকা মিলে লেখকের ৮টি বই বেরিয়েছে।

[ একটা জীবন অবলীলায় অবহেলায় কেটে যাবে
ভুল আর ভ্রান্তির বেড়াজালে
একটা জীবন আমগ্ন ডুবে রবে
এমনটা হতে দেওয়া যায় না।
জীবনের গতিপথ ভুলে
একটা জীবন ভীষন বেপরোয়া হয়ে
ভুল স্রোতে ভুল পথে বাঁক নেবে
এমনটা হতে দেওয়া যায় না।

বেলা ফুরাবার আগে
আজ তবে ফেরা হোক নীড়ে… ]

বইয়ের প্রথমে লেখকের দেওয়া কবিতার এ টুকরো অংশটুকু পড়লে বইটা পড়ার গুরুত্ব বাড়বে। উপলব্ধি হবে বইয়ের ভেতরের কন্টেন্ট নিয়ে। বইটা যে জীবনের কথা বলবে, সেটা কবিতাংশ থেকে প্রতীয়মাণ!

যারা বইটি পড়ার জন্য কিনেছেন, কিন্তু পড়েন নি, তারা ধীরস্থির ভাবে, সময় নিয়ে বইটা পড়ুন। হাতে সময় নিয়ে বইটা পড়ুন। নীরবে, কোলাহল মুক্ত পরিবেশে বইটা পড়ুন।পড়ার পর মনে হবে,ইশ্ আগে কেন বইটা পড়লাম না!

ছোট বেলায় কাজী নজরুল ইসলামের, ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ কবিতাটি কতশতবার পড়েছি মনে আছে?
‘আমি যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে।কিংবা সূয্যিমামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে’ কথাগুলোর মানে কি একবারও বুঝেছিলাম!
সূয্যিমামার আগে উঠে আমাদের সালাত আদায় করতে হয়।সুবহে সাদিকের আগে উঠে রাব্বুল আলামিনের দারস্থ হতে হয়।এসব আজও কেউ আমাদের মাথায় ঢুকিয়েছিল!

আরো বলেছেন আমার প্রিয়,বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র,’হুমায়ূন আহমেদ’ এর কথা।লিখেছেন নুহাশপল্লীর নিজের অভিজ্ঞতার কথা।হুমায়ূন আহমেদ যেন এক ছোটখাটো সর্গ নিজের জন্য তৈরি করে রেখে গিয়েছেন,নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী লিচু বাগানের শ্বেত পাথরের গাথায় চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। কি পান নি তিনি!
এতো সুন্দর দুনিয়ায় সর্গন্যায় নুহাশপল্লী যদি এতো সুন্দর হয়,তবে আপনার আমার মালিক,আসমান-জমিন, সমস্ত ভ্রম্মান্ডের মালিক যে জান্নাতের কথা বলেছেন, সে জান্নাত কত সুন্দর হতে পারে! ভেবেছি কি কখনো!

এসব পড়ে আমার মনে হয়েছিল,একঘেয়েমি বইগুলা যেন পড়ছিনা,আমি একসাথে বাংলা সাহিত্য,ইসলামিক ইতিহাস, আল্লাহর কথা সবটায় পড়ছি।কি নেই এই বইতে!

আরিফ ভাই ‘সাজিদ’ দিয়ে ইসলামি সাহিত্যে বিপ্লবের সূচনা করেছেন। বিপ্লবটা ছিল ইসলামের উপর আরোপিত অভিযোগ এবং ভ্রান্ত অপবাদের নিরসনে উপযুক্ত দালিলিক জবাব। এরপর সে পথে হেঁটেছেন ডা. শামছুল আরেফিন, আরিফুল ভাই, জাকারিয়া মাসূদ ভাই, শাকিল হোসাইন ভাই, মিনার ভাই সহ আরো কয়েকজন ভাই। আল্লাহ সেই পথে বারাকাহ ঢেলে দিয়েছেন। এখন তো দেশের সাহিত্যঙ্গনে রাজত্ব করছে ইসলামপন্থী লেখকরা। আল্লাহ এদের লেখনীতে বারাকাহ দান করুক, অন্তরে খুলসিয়্যাত দান করুক। (১)

আরিফ ভাইয়ের মৌলিক বইগুলো ছিল ভ্রান্ত অভিযোগ নিরসনে উপযুক্ত জবাব। কিন্তু এবারের বইটা ভিন্ন। এটা পুরোদমে প্রবন্ধ স্টাইলে ‘আত্ম উন্নয়নমূলক’ বই। কোন গল্পের বই না, ‘সাজিদ’ সিরিজের মত বই না। ‘সাজিদ’ হওয়ার খসড়া পত্র এটা। (২)

বইয়ের অধ্যায়গুলোতে প্রথমে জগতে বিদ্যমান কিছু সমস্যার উদাহরণ টানা হয়েছে, তারপর নবী জীবন, সাহাবাজীবন, তাবেঈদের জীবন এবং সালাফদের জীবন থেকে শিক্ষনীয় ঘটনা টানা হয়েছে জাগতিক সমস্যাগুলোর সাথে মিল রেখে। এরপর জাগতিক সমস্যা এবং ইতিহাস থেকে নেওয়া উদাহরণগুলোর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে আলোচনা করা হয়েছে সমস্যা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে। একজন যুবকের হতাশা থেকে বেরিয়ে, তার রবের দিকে ফিরে যাবার আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে প্রাসঙ্গিক কোরআনের আয়াত থেকে।

পুরো বই পড়ে আমার সামনে বইয়ের কিছু আলোচ্য বিষয় এসেছে। যেমন ধরুনঃ
১. বইয়ের প্রথমে ‘সাবরে জামিলের’ প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

২. হতাশ না হয়ে তওবা করা,’কেননা,বেলা এখনো ফুরিয়ে যায়নি’।

৩. ‘সালাত’ সচেতনতা এবং সালাতের গুরুত্ব উপলদ্বি। সালাতের হেয়ালিপনা থেকে জাগ্রত হবার উল্লেখ আছে।

৪. অধিকভাবে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া, তার কাছে সবসময় মিনতি করা।নবী রাসুলগণ সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন।আমরা কেন করিনা! আমরা কেন মুহুর্তেই হতাশ হয়ে পরি।কেন রাব্বুল আলামিনের কাছে মন খুলে আমরা চাইতে পারিনা।
কি কি চাইতে হবে লিস্ট করে আজকেই তার কাছে চাওয়ার যে বাসনা তা খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে।যা একটি মানুষের জন্য যথেষ্ট।

৫. শত ব্যস্ততায় আমরা বিভোর।জাগতিক সব কিছুর রুটিন আমরা করি, সকল রুটিনের মধ্যে মৃত্যুর কোন রুটিন নেই। আমাদেরকে ‘মৃত্যুপ্রস্তুতি’ এবং ‘বিচারদিবসের’ প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রস্তুতির জন্য কি কি প্রয়োজন তা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৬.এতো বছর শুনে এসেছি,আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) এর জান্নাত থেকে বের করে দেয়ার।এখানে যথাযথ তথ্য দিয়ে সে ঘটনা উল্লেখ করা আছে।

৭.আপনার জীবনে এমন এক শত্রুর সাথে,যার চাইতে বড় শত্রু আপনার জন্য আর কেউ নেই।
সেই শত্রু, ‘শয়তান’কে আপনার সামনে তুলে ধরা হয়েছে’।তার থেকে কিভাবে বাঁচবেন তা উল্যেখ করা হয়েছে।

৮. সবমিলিয়ে নিজেকে প্র্যাক্টেসিং, প্রোডাক্টিভ এবং নবী আদর্শের আলোকে নিজেকে প্রমান করাই ছিল বইয়ের মূল মেসেজ এবং লেখকের উদ্দেশ্য।

বইটা আমার কাছে সুখপাঠ্য হওয়ার আরেকটা কারন হলো, লেখক লেখাগুলোতেঃ
– বানান ভুল নেই বললেই চলে
– খুব সুন্দর,সাবলীলভাবে উপস্থাপন
– প্রমিত বানানরীতি অনুসরন
– সাধুভাষা অনুসরন এবং
– বাংলা শব্দের যথাযথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। যা বইটিকে অনন্য উচ্চতায় তুলে নিয়েছে।
যেখানে আজ বড় বড় কথিত লেখকদের বইয়ে বানান ভুল চোখে পড়ার মতো সেখানে,’বেলা ফুরাবার আগে’ বইটিতে বানান ভুল নেই বললেই চলে।

কিছু অধ্যায় আমার কাছে মনে হয়েছে বার বার পড়ার মতোঃ “আমার এত দুঃখ কেন, বলো সুখ কোথা পাই, জীবনের ইঁদুর-দৌড় কাহিনি,চোখের রোগ,বেলা ফুরাবার আগে, সালাতে আমার মন বসেনা,তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো, যুদ্ব মানে শক্রু-শত্রু খেলা, মেঘের ওপার বাড়ি, আমি হব সকাল বেলার পাখি, তুলি দুই হাত করি মোনাজাত,”।

যে একটা জিনিস খারাপ লেগেছে,
🔴বইটা ‘পেপারব্যাক’ কোয়ালিটির।বইয়ের প্রচ্ছদ ‘হার্ডকভার’ হওয়া উচিত ছিল। কারণ বইটি পাঠকদের বারবার পড়তে হবে।একবার পড়ে রেখে দেয়ার মতো বই অন্তত এটা না। পরবর্তীতে প্রকাশক এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখবেন বলে আমার আশাবাদ।

বইটা আমার কাছে লেখকের দিক থেকে পরিপূর্ণ মনে হয়েছে। লেখক নিজের শ্রমের, মেধার, গবেষণার কোন কমতি রাখেন নি। এ জন্যেই বইটি সর্বমহলে এতো প্রশংসা কুড়িয়েছে।

(নোটঃ১.২ কালেক্ট)

*আমি মনে করি,বইয়ের নামকরন ‘বেলা ফুরাবার আগে’ সার্থক হয়েছে। কেন সার্থক হয়েছে, সেটা বইটি পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন। আমার ইচ্ছে তো করছে পুরো বইটিই পারলে লিখে দিই। সর্বপরি,আপনি রিভিউ ও বলতে পারেন কিংবা আলোচনা!

ব্যক্তিগত রেটিং ৯.৯/১০

ব্যক্তিগত অভিমতঃ বইটি পড়ে আপনার মাঝে এক আমুল পরিবর্তন হবে তা নিশ্চিত বলে দিতে পারি। যদি না হয়,তবে আপনি সেসব মানুষদের অন্তর্ভুক্ত, যারা ‘অন্ধকার নিকষকালো এক গুহায় তলিয়ে গেছে,দূরে এক আলো ঝলমল করছে অথচ সেই আলোর দিকে যাচ্ছেনা।তারা একঘেয়েমি করে মিথ্যে সেই অন্ধকারের দিকেই যাচ্ছে।আনছে ডেকে নিজের বিপদ’।চলুন বদলায়.. আলোর দিকে ফিরে যাই।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আরিফ আজাদ ভাইকে উত্তম জাজাকাল্লাহ দান করেন। আল্লাহ যেন তাকে কবুল করেন।

হ্যাপি রিডিং!

📝 Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে কথা “ভাল্লাগে না”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৮

বইয়ের নাম : ভাল্লাগে না

লেখক : Ayman Sadiq & Antik Mahmud Ank

প্রকাশনা : আদর্শ

প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১৯

গায়ের মূল্য : ৩০০টাকা

যদি এক কথায় বইটি সম্পর্কে বলতে চাই তাহলে বলবো, এটি হচ্ছে নতুন প্রেমের সম্পর্কের মতো “যেখানে শুরুতে সব ভালো লাগে কিন্ত আস্তে আস্তে ভালোলাগা কমে যায়”।

প্রথম দিকে তো পড়তে বেশ ভালো লেগেছে সাথে অন্তিক মাহমুদের কার্টুন গুলো তো এককথায় অসাধারণ এবং সেই মজার।

বইটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে বিশেষকরে রকমারির সেরা ৫ এ থাকার কারণে তবে আমি এই বিষয়ে কিছু বলবো না, আমরা যখন বাইরের দেশের নন-ফিকশন বই পড়ি তখন দেখা যায় বইগুলো তাদের প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতি নিয়ে লিখা যার ফলে সেই লিখার সাথে রিলেট করা একটু কষ্টকর হয়ে যায় কিন্ত সেই দিক দিয়ে “ভাল্লাগে না” বইটি আমাদের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে লিখা যার ফলে পাঠকেরা খুব সহজেই বইয়ের সাথে রিলেট করতে পারবেন।

আপনার অবস্থা কিরকম আছে তা জানার জন্য বইয়ের মধ্যেই অনেক অনুশীলনী দেওয়া আছে যা পূরণ করলে আপনার নিজের বিষয়ে ভালো একটি ধারণা হবে আর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভালো ধারণা পাবেন।

বইটি থেকে আমার প্রিয় উক্তি আপনাদের জন্য পেশ করছি :

১. নিজের পরিবর্তনের জার্নিটা আজীবনের

২. শুধু মৃত মানুষ হতাশ হয় না, মৃত মানুষ কষ্ট পায় না

৩. আমাদের কথাবার্তা ও কার্যকলাপই আমাদের ব্যাক্তিত্বের নির্দেশক

৪. পৃথিবীর সবকিছুই অসম্ভব লাগে যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা কেউ করে না দেখায়

৫. স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, চেষ্টা আর পরিশ্রম

৬. আমরা যতবেশি ভাল্লাগে না-র মধ্যে থাকি আমাদের মধ্যে তত বেশি ঢিলেমি কাজ করে

৭. যে মানুষের সফলতার পেছনে যত বেশি ব্যর্থতা থাকবে এবং ধাক্কা থাকবে সে আসলে তত বেশি সফল

৮. পারব না! বলে প্রকৃত অর্থে কিছু নেই, সমস্যাটা হলো আমরা হারার আগেই হেরে বসে থাকি

৯. আত্ননির্ভরশীল হও। পরনির্ভরশীলতা সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা

১০. আমরা বাঙালিরা পাশ কাটিয়ে বা দায় এড়িয়ে গিয়ে অভিযোগ আর একে-অপরকে দোষারোপ করার বেলায় বিশেষ পারদর্শিতা রাখি

১১. দেশটা যদি আমাদের হয় তাহলে সে সমস্যাগুলোও আমাদের। আর সমস্যাগুলোকে সমাধানের দায়ও তো দিনশেষে আমাদের ওপরই বর্তায়

১২. আমাদের ছোট ছোট শখ থেকে শুরু করে আমাদের বড় বড় স্বপ্ন “লোকে কি বলবে” নামক ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে

১৩. জীবনে চলার পথে যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্যর পরামর্শ নিতে লজ্জার বালাই করবে না

১৪. কথিত আছে, বাঙালির নাকি তিন হাত। বাম হাত,ডান হাত আর হলো গিয়ে অজুহাত। সময়ই তো পাই না – আমাদের সবচেয়ে প্রিয় এবং ভরসাযোগ্য অজুহাত

১৫. অভ্যাসের পরিবর্তন থেকেই আমাদের জীবনের পরিবর্তন আসে এবং এই অভ্যাসের পরিবর্তনগুলোই আমাদের জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে

=> এই ছিল বইটি নিয়ে আমার মতামত..ইচ্ছা হলে পড়ে দেখতে পারেন..কিছু না কিছু তো অবশ্যই শিখবেন..

আসুন নিজে বই পড়ি অন্যকেও পড়তে বলি।
পড়বে সারা দেশ,তাহলেইতো এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

রিভিউতেঃ Nazmul Islam Shohan (💛হিমু💛)

Categories
Books

বই নিয়ে কথা ষোলো আনা”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৭

বুক রিভিউ

বইয়ের নামঃষোলো আনা
বইয়ের ধরনঃউপন্যাস
লেখকঃ আরিফ খন্দকার
রিভিউ লেখকঃ Shafayet Shawon
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০টাকা

★চরিত্রসমূহঃ নিয়াজ চৌধুরী, রেজাউল চৌধুরী, রিয়াজ চৌধুরী, আমিনা বেগম,রাশিদা বানু, আজিজ মাস্টার,
আরো অনেক উল্লেখযোগ্য চরিত্র রয়েছে যা একটা গল্পকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুরতে সাহায্য করছে।

★গঞ্জে নিয়াজ চৌধুরীর পুরোনো একটা চালের আড়ত আছে। বাব দাদার আমলের আড়ত।এর মাধ্যমেই তিনি রাজার হালে চলেন। তার ছোট ছেলে রিয়াজ মদ,সিগারেট, গাঁজা এবং জুয়া খেলে তার বাবার রাজার হালকে ভিক্ষুকের হাল বানিয়ে দিয়েছে। রিয়াজ চৌধুরী প্রতিদিন জুয়া খেলে আর প্রতিদিন তার বাবার কেশ থেকে টাকা চুরি করে। জুয়া খেলে সে কোনদিন জিততে পারে নি। আর এভাবেই সে তার বাবার আড়তটিকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেয়।

রিয়াজ চৌধুরী তিন তিনবার এসএসসি পরিক্ষা দেয় এবং কোনোবারই পাশ করতে পারে নি। অন্যদিকে তার ছোটবোন প্রথমবারেই তাকে টপকে পাশ করে যায়।তার বড়ো ভাই রেজাউল ছিলেন সেই স্কুলের শিক্ষক।রিয়াজ তার বড়ো ভাইয়ের জমানো টাকা দিয়েও সে জুয়া খেলে শেষ করে দেয়।

আমেনা বেগমের তথা নিয়াজ চৌধুরীর স্ত্রীর ক্যান্সার দেখা দেয়। তার চিকিৎসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। যার জন্য নিয়াজ চৌধুরী তার মাছের আড়ত বিক্রি করে দেন। তারপরও তাকে বাঁচাতে পারলেন না। আমেনা বেগমের মৃত্যুর পর নিয়াজ চৌধুরী একা হয়ে যান এবং কিছুদিন পর তিনিও মারা যান।

রিয়াজ চৌধুরী তার বড়ো ভাই রেজাউল চৌধুরীকে স্ত্রী সহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। তারা বাড়ি ছেড়ে দিয়ে গিয়ে উঠেন আজিজ মাস্টারের বাড়িতে। কিছুদিন পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। সন্তান জন্ম দেবার পরপরই রাশিদা বানু মারা যায়। সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানকে আজিজ মাস্টারের কাছে তুলে দিয়ে রেজাউল চৌধুরী কোথায় যেনো চলে যায়।

কন্যা বড়ো হবার পর তার বিয়ের ব্যাবস্থা করেন আজিজ মাস্টার এবং বিয়ের আগেই বরকে সব সত্যি কথা খুলে বলেন তিনি। এই সব কথাই শুনতে পায় তার মেয়ে এবং এসব কথা শুনে সে বাড়ি ছেলে বের হয়ে যায় বাবার খুজে।

গল্পের শেষে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় হামিদা কি তার বাবাকে আদোও খুঁজে পাবে না কি?
আসলে মানব জীবনে কখনো কেউ কোনো দিক দিয়ে পূর্ণতা পায় না কোথাও না কোথাও অপূর্ণ থেকেই যায়।
ষোলো আনা কখনোই পূর্ণ হয় না।

★ উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তিঃ

★ যে মানুষ নিজেকে পড়তে পারে না সে মানুষকে পড়তে পারে না
★মনের সম্পর্ক মনের সাথে হয়, আর কায়ার সম্পর্ক হয় কায়ার সাথে।
★এই জগতে কখনো ঘরের অভাব হয় না, মানুষের অভাব হয় না কিন্তু অভাব হয় মনের।
★ নারীর মন হলো জলের মতো আর পুরুষের মন পাথরের মতো।

★ পাঠকদের উদ্দেশ্য করে বলছি যে, বইটা আপনারাও পড়তে পারেন। আশা করি বইটা পরে আপনাদেরও ভালো লাগবে।

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে আলোচনা “প্রিয়তমেষু”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৬

বই: প্রিয়তমেষু
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশনী: মাওলা ব্রাদার্স
পৃষ্ঠা: ৮৮
মুদ্রিত মূল্য: ১৬০ টাকা
প্রথম প্রকাশ: জুন ১৯৮৮

“ফাগুনের ফুল যায় ঝরিয়া ফাগুনের অবসানে,
ক্ষনিকের মুঠি দেয় ভরিয়া, আর কিছু নাহি জানে” ৷

#কাহিনী_সংক্ষেপ: গল্পটা পুষ্প নামের এক ধর্ষিতা নারীর কাহিনী ৷ স্বামী রাকিব একমাত্র ছেলে পল্টুকে নিয়ে তার সংসার ৷ রাকিবের বন্ধু মিজান অসময়ে যখন রাকিব থাকতো না তখনই আসতো ৷ রাকিব তাকে কখনোই বাধা দিতো না কারণ প্রায় সময়ই তাকে জানিয়ে মিজান বাসায় আসতো ৷ এমনি একদিন নির্জন দুপুরে মিজান পুষ্পের কাছে যায় আর তখনই সে সমস্ত শক্তি হারিয়ে জ্ঞান হারায় ৷
পুষ্পের স্বামী রাকিব সব জেনেও লোক লজ্জার ভয়ে তাকে থানায় নিতে রাজি হয়না ৷ তাকে বুদ্ধি দেয় কেস করে কোনো লাভ নেই ৷ শুধু লোক জানাজানি ৷ তোমারই সম্মানহানি হবে ইত্যাদি ৷
এদিকে পাশের ফ্ল্যাটের নিশাতের সাথে খুব অল্প দিনে বেশ সখ্যতা তৈরি করে নেয় পুষ্প ৷ তারই হাত ধরে সে থানায় যায় ৷ অপরদিকে নিশাতের স্বামী আর বাবা তাকে এসবে জড়াতে না করে ৷ কিন্তু সে এই না কে উপেক্ষা করে থানা পুলিশ মামলা আদলত সবকিছুতেই নিজেকে ইনভলবড করে ৷
শেষ পর্যন্ত কি হয়? মিজান কি তার পাপের শাস্তি পায়? আর কেনইবা অল্প দিনের পরিচয় নিশাত নিজেকে এসবে এতটা ইনভলবড করলো? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে পড়ে ফেলুন কথার যাদুকর হুমায়ূন স্যারের অসাধারণ বই প্রিয়তমেষু ৷

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: স্যারের বইয়ের রিভিউ লেখার দুঃসাহস করিনি কখনো ৷ তাই এই দুঃসাহসকে সাহসে পরিনত করতে লিখে ফেললাম ছোট্ট করে কিছু কথা ৷
এখনো পর্যন্ত স্যারের কোনো বইয়ে বিরক্তি আসেনি ৷ আশা করি কখনো আসবে না ৷ যিনি কথা দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করেন তার বইয়ে কখনো বিরক্তি আসবে না বলেই আমার ধারনা ৷ যাকে এক কথায় বলা হয় কথার যাদুকর ৷ প্রিয়তমেষু বইটিও বিরক্তি, ক্লান্তি ছাড়াই এক নিঃশ্বাষে পড়ে ফেলার মত একটি বই ৷ যেখানে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের সমাজের নির্মম এক বাস্তব ঘটনা ৷
স্যারের বইতে সর্বপ্রথম আকৃষ্ট হই উৎসর্গ পত্রে ৷ এরপর আকৃষ্ট করে প্রতিটা বইয়ের শুরুর লাইন ৷ এরপর যেটাতে আকৃষ্ট হই তা হলো স্যারের প্রতিটা বইয়ে বেশ কিছু ভালোলাগার উক্তি/লাইন থাকে ৷ তেমনি একটা ভালোলাগার উক্তি/লাইন তুলে ধরলাম:
★ অন্ধকারে একটা সুন্দরী মেয়েও যেমন অসুন্দরী মেয়েও তেমন ৷ পার্থক্যটা হচ্ছে আলোতে ৷

#বইয়ের_রেটিং: ৫/৫

রিভিউয়েঃ Milon Islam (বন্ধু)

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

বিঃদ্রঃ- নিজে ব্যাস্ত থাকার কারেনে লিখতে পারছি।

Categories
Books

#borsha

প্রতিযোগিতার জন্য এর থেকে ভালো ছবি হয়তো আমি আর পাব না!

Categories
Books

#borsha

জীবনী থেকে নেওয়া

Categories
Books

বই পর্যালোচনা “আর কতদিন”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৫

বইয়ের নামঃ আর কতদিন
লেখকঃ জহির রায়হান
ভাষাঃ বাংলা
ঘরনাঃ চিরায়ত উপন্যাস
বইয়ের পৃষ্ঠাঃ ২৮
মূল্যঃ ৫৪ টাকা
প্রকাশনীঃ অনুপম
ব্যক্তিগত অনুযোগ (রেটিং): ৪.৬/৫

“বাতি নিভে গেলো।
কাচের টুকরোগুলো ছিটকে গেলো নিচে।
আরেকটা বাতি নিভে গেলো।
এক নতুন খেলায় মেতেছে ওরা।”

লেখক হিসেবে সার্থকতা তখন ই আসে যখন সেই লেখাটি পাঠকদের মস্তিষ্কে কয়েক ঘন্টা খেলতে থাকে, ভাবনার রাজ্যে সেই গল্পকে নিয়ে খুঁটিনাঁটি করে, মননে স্বপ্ন বুনতে থাকে।

আঠাশ পৃষ্ঠার এক বই আপনাকে কতখানি ভাবাতে পারে, কতটুকু গভীর দাগ দিতে পারে হৃদয়ে…. প্রিয় লেখক, ব্যক্তিত্ব জহির রায়হানের আর কতদিন উপন্যাস এটির একমাত্র উদাহরণ। উপরের লেখাগুলো লেখকের আর কতদিন উপন্যাস থেকে সংগৃহীত।

আর কতদিন জহির রায়হানের একটি বড় গল্প, এক অর্থে উপন্যাসিকাও। এর প্রেক্ষাপট যে ঠিক কি তা বলে মুশকিল। আপাত দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বলা গল্প বলে মনে হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের গল্পে চির চেনা যেসব চিত্র আমরা ফুটে উঠতে দেখি, সেসবের উপস্থিতি আছে এই গল্পেও।

এই গল্পটি শুধু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেনি, শুধু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরে নি। এই গল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যে যুদ্ধ বিগ্রহ হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে সেটিকে তুলে ধরেছে।

তোমার আমার দেশ আলাদা, চল তবে যুদ্ধ করি। ধর্ম আলাদা, চল দাঙ্গায় নামি। বর্ণ আলাদা, তোমার রক্ষে নেই। যুগে যুগে, দেশে দেশে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম, বর্ণ, জাতের নামে যত অন্যায়, খুনোখুনি হয়েছে তার একটা সামগ্রিক চেহারা উঠে এসেছে এই বইটিতে।

একটা বাক্সে বন্দী কতগুলো মানুষকে ছেলেমেয়ের বাধা তুচ্ছ করে দিনের পর দিন বাঁচিয়ে রাখেন এক মা, খুঁজে ফেরেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া ছেলে তপুকে। এখানটায় মনে হবে, আপনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোন গল্প পড়ছেন। কিন্তু তাড়া খেয়ে পাগলের মত ছোটা তপুর সাথে যখন একই ভাবে তাড়া খেয়ে পালানো লোকদের দেখা হয়ে যায়, আর তাদের বলতে শোনা যায়, “ওরা আমার ছেলেটাকে হত্যা করেছে হিরোশিমায়। ওরা আমার মাকে খুন করেছে জেরুজালেমের রাস্তায়। আমার বোনটাকে ধর্ষণ করে মেরেছে আফ্রিকাতে। আমার বাবাকে মেরেছে বুখেনওয়াল্ডে গুলি করে।”

ভুল ভেঙ্গে যায়।

খুনি, ধর্ষকের আলাদা কোন চেহারা, দেশ, ধর্ম, জাত নেই।
তবুও মানুষ ভুলে যায়, ভুল করে।

আর, তাই তপুর মা ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মূহুর্তে বদলে যান। ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাক্সবন্দী মানুষগুলোর উপর চড়াও হতে যান দা, ছুরি, লোহার শিক নিয়ে। কারণ? যারা তপুকে খুন করেছে তাদের আর এদের আশ্রয়ে নির্ভয়ে ঘুমন্ত মানুষগুলোর ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, ভাষা এক। অতএব, প্রতিশোধ অনিবার্য!

নিজের ব্যক্তিগত পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে ভরাক্রান্ত মন হয়ে উঠেছিলো! এই গল্পের মাধ্যমে খোঁজা হয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর যে পৃথিবীব্যাপি হয়ে চলা এই যুদ্ধ থামবে কবে, আর কতদিন নিরীহ মানবপ্রেমী মানুষেরা নির্যাতিত হতে থাকবে।

কিন্তু, অপেক্ষার পালা যেন আর শেষ ই হয় না! সেই সাথে গড়ে ওঠা ধর্ষিত আর খুন হয়ে যাওয়া মানুষগুলো, তাড়া খেয়ে পালানো মানুষগুলোরও আলাদা কোন জাত নেই। মনে হয়, যেন দুটো জাত আছে। একটা জাত মার খায়, আরেকটা জাত মার দেয়!

জীবন কি এভাবে চলে যাবে নাকি একসময় থমকে যাবে?

জানার কৌতূহলে মিটিয়ে দেবার জন্য পাঠককে বুকলিস্টে বইটি পড়ার আহবান জানাচ্ছি…..

রিভিউয়েঃ Nubaisa Nill

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)