Categories
Books

মায়ের বেদননাগাঁথা

“১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সন্তান হারানো এক দুঃখিনী মায়ের বেদনাগাঁথা”

আজাদ ছিল তার মায়ের একমাত্র সন্তান। আজাদের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় বালক আজাদকে নিয়ে তার মা স্বামীর গৃহ-অর্থ-বিত্ত ত্যাগ করে আলাদা হয়ে যান। মা বড় কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করান।আজাদ এমএ পাস করে। এই সময় দেশে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। আজাদের বন্ধুরা যোগ দেয় ঢাকার আরাবান গেরিলা দলে। আজাদ মাকে বলে,আমিও যুদ্ধে যাব। মা তাকে অনুমতি দেন।ছেলে যুদ্ধে যায়। ১৯৭১ সালের ৩০আগস্ট একরাতে ঢাকার অনেক ক’টা মুক্তিযোদ্ধা-নিবাসে হামলা চালায় পাকিস্তানী সৈন্যরা,আরো অনেকের সঙ্গে ধরা পড়ে রুমী,বদি,আলতাফ মাহমুদ,জুয়েল এবং আজাদ।
আজাদের ওপর পাকিস্তানীরা প্রচন্ড অত্যাচার চালিয়েও কথা বের করতে পারে না। তখন তার মাকে বলা হয়,ছেলে যদি সবার নাম-ধাম ইত্যাদি বলে দেয়,তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আজাদের মা ছেলের সঙ্গে দেখা করেন এবং বলেন,শক্ত হয়ে থেকো,কারো নাম বলে দিও না। আজাদ বলে,মা দুদিন ভাত খাই না,ভাত নিয়ে এসো। মা পরের দিন ভাত নিয়ে হাজির হন বন্দিশিবিরে,কিন্তু ছেলের দেখা আর মেলে না আর কোনোদিন ছেলে তাঁর ফিরে আসে নাই। আর এই মা আর কোনোদিনও জীবনে ভাত খান নাই। যুদ্ধের ১৪ বছর পরে মা মারা যান,নিঃস্ব,রিক্ত -বেশে। মুক্তিযোদ্ধারা তাঁকে কবরে শায়িত করলে আকাশ থেকে ঝিরঝির করে ঝরতে থাকে বৃষ্টি।

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এই কাহিনীর সন্ধান পেয়ে আনিসুল হক বহুজনের সাক্ষাৎকার নিয়ে,বহু দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে রচনা করেছেন অসামান্য এক উপন্যাস, জানাচ্ছেন এক অসমসাহসিকা মায়ের অবিশ্বাস্য কাহিনী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে,যতদিন স্বাধীনতা থাকবে,এই অমর মাকে ততদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে আমাদের।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক সরদার ফজলুল করিম বলেছেন, “আমি বলি দুই মা; ম্যাক্সিম গোর্কির ”মা” আর আনিসুল হকের মা : … এই দুই মা যথার্থ মা হয়ে উঠেছেন আমার কাছে ।”

মা
by আনিসুল হক
TK. 374
অর্ডারঃ ফোনঃ ১৬২৯৭ (পুরোবাংলাদেশ)

রকমারি.কম থেকে নেওয়া।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ২৯

বই- কবি
লেখক- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
পৃষ্ঠা- ১৬৭
মুদ্রিত মূল্য- ২২০ টাকা
প্রকাশনী- বইবাজার প্রকাশনী
প্রকাশকাল- নভেম্বর ২০১৭
প্রচ্ছদ- মাহফুজ আলম

#লেখক_পরিচিতিঃ
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন। তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস। তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং পদ্মভূষণ পুরস্কারে পুরস্কৃত হন।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয় ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের জুলাই ২৪ পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মায়ের নাম হ রিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রভাবতী দেবী। তাদের বাড়িতে নিয়মিত কালী ও তারা মায়ের পুজো হতো। তার বাবা মা দুজনেই ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ও আদর্শনিষ্ঠ।

তাঁর লেখায় বিশেষ ভাবে পাওয়া যায় বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। ছোট বা বড় যে ধরনের মানুষই হোক না কেন, তারাশঙ্কর তাঁর সব লেখায় মানুষের মহত্ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, যা তাঁর লেখার সবচেয়ে বড় গুণ।

#পাঠ_সংক্ষেপঃ
নিতাই চরণ নিচু বংশের ছেলে। নিতাইচরণের পারিবারিক পেশা ছিল ডাকাতি কিন্তু সে একদম অন্যরকম। সে পড়াশুনা করতেন। কারো কথাতেই তার পারিবারিক পেশাতে সে আসেননি। একসময় নিতাইচরণ গ্রামের সবাইকে চমকে দিয়ে কবি হয়ে ওঠে। সেসময় সে কবিয়ালদের দোহার হিসেবে কাজ করছিলো। বাবুরা অবাক হয়ে বললেন- ‘ডোমের ছেলে পোয়েট!

একসময় নিতাই ঘরবাড়ি ছেড়ে স্টেশনে গিয়ে থাকে। সেখানে এক ভক্ত বন্ধু জুটে যায়। নাম রাজা। রাজার স্ত্রীর বোন ‘ঠাকুরঝি’। সে দুধ বিক্রি করে। দেখতে ময়লা বলে সকলেই তাকে কথা শুনায়। ঠাকুরঝির প্রতি নিতাইয়ের মায়া হয়। একসময় তার প্রতি টান এবং গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়। কিন্তু বিষয়টি অসম্ভব। ঠাকুরঝি ছিল বিবাহিত। একসময় বিষয়টা জানাজানি হলে নিতাই গ্রামছেড়ে চলে যায়।

তারপর নিতাই অন্য জায়গায় চলে যায়। সেখানে আশ্রয় মিলে এক দলের সাথে। সে দল অশ্লীল গান-বাজনা করে তারা মূলত দেহোপজীবিনী। সেই দলে থাকা অবস্থায় নিতাই এর সাথে পরিচয় হয় বসন’র সাথে। বসনের মধ্যে সে ঠাকুরঝিকে দেখতে পায়। তাদের মধ্যে ভালোবাসা হয়ে যায়।
নিতাই কি তাহলে ভুলে যায় ঠাকুরঝি কে? বসন আর নিতাইয়ের মাঝে পরবর্তীতে কী হয়? পড়ার আমন্ত্রণ রইলো।

#পছন্দের_লাইনঃ
★কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কাঁদ কেনে?

★সংসারে সুখ ভালোবাসায়, মিষ্টি কথায়।

★তারে ভুলিব কেমনে, প্রাণ সঁপিয়াছি যারে আপন জেনে।

★সংসারে যে সহ্য করে সেই মহাশয়, ক্ষমার সমান ধর্ম কোনো ধর্ম নয়।

#পাঠ_অনুভূতিঃ
লেখক একজন নিচু জাতের লোকের কবিয়াল হিসেবে গড়ে উঠার গল্প অনেক দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন। নিচু জাত হওয়ায় তার জীবনে কত বাঁধা আসতে পরে এবং কত ধরনের মানুষের সঙ্গ লাভ করতে পারে সবই সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন। কবি উপন্যাসের মধ্যে লেখক আছেন অনেক গভীর স্নায়ুকোষে। এই কবি তারাশঙ্করের আমি অথচ আমি নয়, আবার আমি থেকে ভিন্ন নয়। লেখক একই সঙ্গে এর নায়ককে নিজের থেকে স্বতন্ত্র করে দেখেছেন এবং নিজেকে তার মধ্যে অনুভব করেছেন।

এই উপন্যাসে ঠাকুরঝি এবং বসন মূলত দুটি পৃথক পটভূমি। বসন মূলত ঝুমুর দলের আর সংশ্লিষ্ট পতিতাপল্লীর ফল। আর ঠাকুরঝির সঙ্গে নিতাইয়ের অতটা ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়নি তবে, স্থানের সঙ্গে মানুষের যেমন মামুলি যোগ থাকে তার চেয়ে অল্প বেশি। দুই নারী এবং তাদের পটভূমিতে বিপরীত জীবন। ঠাকুরঝি অনেকটাই নিতাইয়ের রচনা কিন্তু বসন তা ছিলো না।

বইটির অনেক প্রসংশা শুনেছিলাম। পড়ার লিস্টে ছিলো। তাই আগ্রহ নিয়ে পড়ে ফেলি। যতটা আগ্রহ নিয়ে শুরু করেছিলাম তার থেকেও অনেক ভালো লেগেছে বইটা।

উল্লেখ্যঃ ২০২০ বইমেলায় বায়ান্ন প্রকাশনি কবি বইটি নতুন ভাবে প্রকাশ করেন। বইটির মুল্য ১৫২৳

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ২৮

বই – শাহনাজ ও ক্যাপ্টেন ডাবলু।
লেখক – মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
ধরন – বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী।

শাহনাজ ছুটিতে সোমাদের বাড়িতে বেড়াতে গেল, সাথে বদমেজাজি ভাই ইমতিয়াজ।সেখানে শাহনাজের সাথে পরিচয় হয় খুদে বিজ্ঞানী ক্যাপ্টেন ডাবলুর।
এদিকে পাহাড়ের একটি ঝরনা হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। খতিয়ে দেখতে সেখানে গেল ইমতিয়াজ, পিছু নিল শাহনাজ ও ডাবলু।সেখানে তারা পাহাড়ের ফাটলে একটি মহাকাশযান দেখতে পায়।মহাকাশযানটির ভিতরে তারা দেখতে পেল পৃথিবীর সব প্রাণীদের নমুনা, মানুষের নমুনা হিসেবে ছিল ইমতিয়াজ।
ভিনগ্রহের প্রাণীটি তাদের তাচ্ছিল্যের সঙ্গে মহাকাশযান থেকে বের করে দেয়।মানুষ যে উন্নত প্রাণী তা বোঝাতে তারা পুনরায় মহাকাশযানের ভিতরে প্রবেশ করে এবং জোকস বলে হাসতে থাকে।
হাসি শুনে ভিনগ্রহের প্রাণীটি(ডক্টর জিজি) অবাক হয়ে যায় এবং তাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যায়।ডক্টর জিজির সাহায্যে অসুস্থ সোমা সুস্থ হয় এবং মোবারক স্যারকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়।

বইটি কোনো ভারী বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী নয় তাই বইটিকে শুধুমাত্র আনন্দের উৎস হিসেবে নিলে কিছু সময় আনন্দে কেটে যাবে।

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

|| রিভিউ ||

রিভিউ নাম্বারঃ ২৭

বইঃ কালো বরফ
লেখকঃ মাহমুদুল হক
প্রকাশকঃ সাহিত্য প্রকাশ
প্রকাশকালঃ ১৯৯২
পঞ্চম মুদ্রণঃ ২০১৬
ঘরানাঃ সমকালীন/জীবনমুখী উপন্যাস
প্রচ্ছদঃ অজানা
পৃষ্ঠাঃ ১৩০
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০ টাকা
ধরণঃ পিডিএফ

কাহিনি সংক্ষেপঃ আবদুল খালেক গ্রামের এক কলেজে শিক্ষকতা করে। স্ত্রী রেখা ও ছোট্ট একটা ছেলে টুকুকে নিয়ে তার সংসার। টেনেটুনে চলা সংসার নিয়ে রেখার অশেষ অভিযোগ। এই অভিযোগ গুলো আসলে আবদুল খালেককে স্পর্শ করেনা। বরং তার অবসর সময় কেটে যায় গ্রাম্য বাজারের নরহরি ডাক্তারের চেম্বারে আড্ডা দিয়ে ও শৈশবের স্মৃতির পুকুরে ডুব দিয়ে।

শৈশবে আবদুল খালেককে সবাই ডাকতো পোকা নামে। বাবা, মা, রানি বুবু, মনি ভাইজান ও টিপু ভাইজানকে নিয়ে দিব্যি কেটে যাচ্ছিলো ছোট্ট পোকা’র দিনগুলো। গ্রামের বৃদ্ধা মহিলা গিরিবালার সান্নিধ্যের মধ্যে পোকা খুঁজে পেতো রঙ। রঙ খুঁজে পেতো নির্দিষ্ট সময় পরপর ভিক্ষা নিতে আসা ভিখারির ঝুলিতে। রঙ লেগে ছিলো নিজের মৃত বোন কল্পনা করে নেয়া শালিক পাখিটার জন্য করা অপেক্ষার মাঝে। কতোই না রঙিন ছিলো ছোট্ট পোকা’র শৈশবটা!

আর আজ পোকা ওরফে আবদুল খালেক কেমন যেন চুপসে থাকে সারাক্ষণ। রেখার সাথেও যেন সহজ হতে পারেনা। তীব্র একটা কান্নার দমক বারবার গলা ঠেলে উপরের দিকে উঠে আসতে চায় তার। সেই যে শৈশবে ঘটে যাওয়া দেশভাগের আধো আধো স্মৃতি, সেটা কি আজও তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় আবদুল খালেককে?

একটা মানুষ সময়ের সাথে সাথে তার ফেলে আসা স্মৃতিময় দিনগুলোর সাগরে উদ্ভ্রান্তের মতো সাঁতরে চলে। সাঁতরে চলেছে সেদিনের ছোট্ট পোকা আর আজকের দিশেহারা আবদুল খালেকও। সেই সাঁতরে চলার মধ্যেও বারবার তার সামনে জেগে উঠছে হাসি, আনন্দ, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আর নিদারুন ব্যথার ডুবোচর; একের পর এক।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হকের ‘কালো বরফ’ সুবিখ্যাত একটা উপন্যাস। ক্ষণজন্মা এই লেখকের লেখনীর সাথে যাঁরা পরিচিত, তাঁরা জানেন শব্দের ওপর তাঁর দখল কতোটা চমৎকার। এর আগে লেখকের দুটো বই পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। ‘খেলাঘর’ ও ‘মাটির জাহাজ’। ‘কালো বরফ’ অনেক দেরিতে পড়লাম।

এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে বাচ্চা একটা ছেলের নিষ্পাপ শৈশব জীবনের গল্প দিয়ে। মাহমুদুল হক তাঁর জাদুময় লেখনীতে একদম জীবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন আমাদের পোকা’র ছেলেবেলা। হ্যাঁ, ‘আমাদের’ পোকাই বললাম। বইটা পড়তে গিয়ে পোকাকে নিজের অনেক কাছের একজন ভেবে নিয়েছি; ভেবে নিতে হয়েছে।

লেখক একইভাবে আবদুল খালেকের সংসার জীবন ও তার সাথে সম্পর্কিত পারিপার্শ্বিকতারও দারুন এক চিত্র তুলে এনেছেন পাঠকের সামনে। রেখার মধ্যবিত্ত জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা গুলো মূর্ত হয়ে উঠেছে এই উপন্যাসে। রেখা ও আবদুল খালেক দম্পতির দাম্পত্য সম্পর্কের মাঝে যে শুধু মান-অভিমান ও অভাব-অভিযোগই ছিলো, তাও কিন্তু না। এসব আটপৌরে টানাপোড়েনকে ছাপিয়েও ‘কালো বরফে’ মাথা উঁচু করেছে নিখাদ প্রেম। জীবনমুখী উপন্যাস বোধহয় একেই বলে।

মাহমুদুল হক সত্যিই বাংলা কথাসাহিত্যের জগতে প্রভুত্ব করার ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছিলেন। ‘কালো বরফ’ পড়লে এই ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করার কোন অবকাশ থাকেনা। দেশভাগের নিজস্ব অভিজ্ঞতাকে গভীর জীবনবোধে বেঁধে তিনি অসাধারণ একটা উপন্যাস বাংলা সাহিত্যকে উপহার দিয়ে গেছেন। চমৎকার এই উপন্যাসটা ভাবনারও খোরাক জুগিয়েছে।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৪.৩১/৫

© Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে আলোচনা “অপরাজিতা”

রিভিউ নাম্বারঃ ২৬

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া #অপরাজিতা

কদিন আগেই পড়া শেষ করলাম শুভঙ্কর ঘোষ রায়চৌধুরির কবিতার বই ‘অপরাজিতা’।
প্রকাশক “ঋত প্রকাশন”
বইটির দাম ১০০/-

কবিতার বই শুনলেই অনেক পাঠকের প্রথমেই একটু ভ্রুকুঞ্চন আসতে পারে. আমরা তো গল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা বেশি ভালবাসি,দোষ নেই তাতে.। কিন্তু সেই পাঠকদের অনুরোধ,রিভিউটি পড়ে না হয় বিচার করবেন।

আমি নিজেও এমনিতে গদ্যের পাঠক;। ‘অপরাজিতা’ সংগ্রহ করি মাস কয়েক আগে। কিছুদিন ফেলেই রেখেছিলাম।… তারপর কোনও এক ব্যক্তিগত শোকের দিন অজান্তেই বইটি নিয়ে বসি……..

রিভিউতে কাব্য করবো না। সরাসরিই বলি, বইটি থেকে আমার যা প্রাপ্তি —

1। প্রথমেই বলতে হয় কবিতাগুলির এরেনজমেন্ট নিয়ে।। বেশির ভাগ কবিতার বইতেই আজকাল কবিতা খুব দায়সারা ভাবে সাজানো থাকে….. কিন্তু ‘অপরাজিতা’র কবিতাগুলির অবস্থান এমন নিখুঁত যে একটির পর অন্যটি আপনি না পড়ে এগিয়ে যেতে পারবেন না সহজে। যাকে বলে one leads to the other.।

2। কবি শুভঙ্কর ঘোষ রায়চৌধুরির অন্য বই পড়ার সুযোগ এখনও হয়নি……. কবির ফেসবুক পেজে কিছু কবিতা পড়েছি, এবং এই বইটি। তার ভিত্তিতেই বলি, ভাষার এরকম পরিমিত ব্যবহার অনির্বচনীয় আনন্দ দেয় পাঠককে। কোনও বাতুলতা নেই, উচ্চকিত কথাবার্তার ভার নেই, জোলো রোম্যান্টিসিজম নেই, আঁতলেমো নেই…. আজকের দিনে এই বিরল লেখনী আর কোথাও পেলে জানাবেন।.

3। তাহলে কী আছে লেখায়? আছে এক তাজ্জব জিনিস, যা আজকের দিনে দুরূহ …… আশার কথা, নির্ভেজাল ভালোবাসার কথা। যে ভালোবাসা দূরত্বে, অপ্রাপ্তিতে, অসহযোগে ব্যর্থ হয় না। আজ্ঞে হ্যাঁ, এমন ভালোবাসা সম্ভব। কল্পনাতীত লাগলেও কবিতাগুলি আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে যে এমন ভালোবাসার আশা করতে দোষ নেই।…..

4। কবিতাগুলি জুড়ে এক মানুষের অপেক্ষা আরেক মানুষের জন্য। প্রতি ছত্রে হারিয়ে ফেলা, আর নতুন করে তাকে পাওয়া মিলে মিশে একাকার.। মুক্তছন্দ, ছন্দ ……. সবেতেই পারদর্শিতা দেখিয়েছেন কবি। এক অসামান্য মুখবন্ধে বইটির শুরু, “এই পৃথিবীতে যা কিছু সুন্দর, সহজ, তা হারায় না, ফুরোয় না।”
শুধুমাত্র এটুকুর উপর ভরসা করেই বইটি কিনেছিলাম। ঠকিনি। আজকের এই ক্রমশ কঠিন, বেঁচে থাকার অযোগ্য হয়ে ওঠা দুনিয়ায় ‘অপরাজিতা’ আপনাকেও বাঁচার স্বপ্ন দেখাবে।.

এখনো কবিতাগুলিতে ডুবে আছি।। হয়তো পরে আরো গুছিয়ে লিখতে পারব।

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

বিঃদ্রঃ পরবর্তী রিভিউয়ে এই বই নিয়ে আরো আলোচনা করা হবে।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা “ত্রি”

রিভিউ নাম্বারঃ ২৫

ত্রি। তিনটে সায়েন্স ফিকশন। রিটেন বাই হুমায়ুন আহমেদ। ছোটবেলায় সায়েন্স ফিকশন বলতেই জাফর ইকবাল বুঝতাম। পড়ার নেশা হয়ে গিয়েছিল। একের পর এক গোগ্রাসে গিলেছিলাম জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশন আর কিশোর উপন্যাসগুলো। যেকোনো কারণেই হোক, হুমায়ুন আহমেদকে আমি তুলনামূলক কমই পড়েছি। অন্তত জাফর ইকবালের চেয়ে কম তো বটেই। তাই প্রথমবার হুমায়ুনীয় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীপাঠের অভিজ্ঞতা কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছে বৈকি!

ত্রি। “ইমা”, “ইরিনা”, “মানবী”__ হুমায়ুন স্যারের তিনটি সায়েন্স ফিকশন গ্রন্থের সংকলন। ক্রিটিসাইজ করার ক্ষমতা বা যোগ্যতা কোনোটাই আমার নেই। ইমা’র শুরুতে লেখক নিজেই একরকম ক্রিটিসাইজ করে দিয়েছেন :

“আমার ছোটভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশে ফিরেই মহা-উৎসাহে সায়েন্স ফিকশন লেখা শুরু করেছে। বাধ্য হয়েই আমাকে এজাতীয় লেখা বন্ধ করতে হয়েছে কারণ তার মতো সুন্দর করে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আমি লিখতে পারি না। আমার সব বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী শেষপর্যন্ত মানবিক সম্পর্কের গল্প হয়ে দাঁড়ায়___ বিজ্ঞান খুঁজে পাওয়া যায় না।”

তিনটে বইই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর তিনটি কাল্পনিক সময়কে ঘিরে লেখা। যেখানে বিজ্ঞানের অস্বাভাবিক অগ্রযাত্রা মানুষের স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহে নানাবিধ পরিবর্তনের জন্ম দিয়েছে।
এম্নিতেই হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসগুলোর মূল উপাদান হয়ে থাকে কল্পনা। তার কল্পনার তৈরি জগতেই গড়ে ওঠে একেকটা গল্প, একেকটা চরিত্র। কাল্পনিক সব চরিত্র আর কাহিনীতেই বুঁদ হয়ে থাকে পাঠকেরা। আর টপিকই যখন সায়েন্স ফিকশন, কল্পনার আরো অবাধ সুযোগ। তাই হুমায়ুন আহমেদের সেই কাল্পনিক সৃষ্টির স্বাদ এখানে আরো অধিক উৎকর্ষতা লাভ করেছে।

তিনটে বইয়ের কাহিনীর একটা কমন প্লট হল, মানবসৃষ্ট শক্তিশালী মহাকম্পিউটার “সিডিসি”র উপস্থিতি আর সিডিসিকতৃক সারাবিশ্বের মানুষের জীবনব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।

“মানবী” এবং “ইরিনা” বই দুটাতেই ভবিষ্যৎ পৃথিবীর দুইরকম কাল্পনিক আইন ও সরকারব্যবস্থা দেখানো হয়েছে।

সবচে ইন্টারেস্টিং ছিল “ইরিনা” বইটা। যারা পড়েছেন বুঝে থাকবেন, তিন স্তরের শহরব্যবস্থা এবং হাতেগোণা কয়েকজন অমর বিজ্ঞানীর নিজস্ব আইনে পৃথিবীর শাসন, জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চা একটা বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমিতকরণ___ পড়ার শুরু থেকেই এই কনসেপ্ট টার রূপক বক্তব্য আমি অনুভব করছিলাম। আর বইয়ের শেষদিকে ধর্মগ্রন্থের কথা উঠে আসায় আমার ধারণা পুরোপুরি নিশ্চিত বিশ্বাসে পরিণত হয়।

সবশেষে বলব গতানুগতিক সাহিত্য সমালোচনায় হুমায়ুন আহমেদের লেখা নিয়ে বিতর্কের অন্ত না থাকলেও বাংলা সাহিত্যে তার গদ্যের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য। সাথে উপভোগ্যতা আর জনপ্রিয়তার হিসেবে হুমায়ুন আহমেদ আগে থেকেই সম্রাট।

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

#HappyReading

Categories
Books

বই নিয়ে কথা…

রিভিউ নাম্বারঃ ২৪

বই:- দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
লেখক:- হুমায়ূন আহমেদ
ধরন:- উপন্যাস
প্রকাশনি :- কাকলী
পৃষ্ঠা:- ৮৯
মুদ্রিত মূল্য:- ১৮০ টাকা
প্রচ্ছদ :- মাসুম রহমান
প্রকাশকাল :- ফেব্রুয়ারি ২০১২

” যদি ভালো না লাগে তো দিও না মন”

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র লিপি।দশম শ্রেণী পড়ুয়া লিপি লালমাটিয়া হাই স্কুলে পড়ে। ১৫ বছরের অদ্ভুত এক আবেগী তরুণী। তার মধ্যে বয়:সন্ধিকালীন জটিলতা লক্ষ করা যায়। উদ্ভট সব কর্মকান্ড করে সবসময়। অতি মেধাবী হলেও সবসময় আবেগের দ্বারা পরিচালিত হয়। লিপিদের পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। অনেকটা আশ্রিতের মত থাকে।তার বাবা তারই শৈশব বন্ধু আহসান সাহেবের অফিসের বিভিন্ন ফরমাশ খাটেন এবং অনেকটা আশ্রিতের মতো তার বাসায় ভাড়া থাকেন।

লিপি তার বাবার বন্ধু আহসান সাহেবের প্রতি ভয়ানক দূর্বল হয়ে পড়ে এবং এভাবেই গল্পের কাহিনী এগিয়ে চলে।পৌড় আহসান সাহেব নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হলেও তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যায়। নিঃসঙ্গ এই মানুষটার প্রতি লিপি গভীর মমতা অনুভব করে। সামাজিক এবং পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপারে সচেতন হলেও লিপি আহসান সাহেবের বিষয়ে অনেকটা খামখেয়ালি। বয়সের তুলনায় অনেক বেশি বুদ্ধিমতী লিপি ছোটো থেকে দুঃখ- দুর্দশার মাঝে বড় হলেও আহসান সাহেব তার জীবনে নিয়ে আসে জাঁকজমকতা। লিপির সকল চাওয়াকে বাস্তবায়ন করে।

বৃষ্টির দিনে গাড়ি পাঠিয়ে লিপিকে স্কুল থেকে নিয়ে আসা, তার বিশাল বাগান বাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া। কখনোবা লিপির ঘরের সাজসজ্জার পরিবর্তন, ঘরে এসি লাগানো, লিপির জন্মদিনে দামী গিফট দেওয়া। এভাবেই লিপির সাদামাটা জীবনে আহসান সাহেব এক গভীর ছাপ ফেলে। তাদের বয়সের মধ্যে বিস্তর ফাড়াক হলেও সৃষ্টি হয় এক অসম প্রেম। এই গল্প লিপিকে কেন্দ্র করে হলেও কাহিনীর আবর্তে আসে লিপির মমতাময়ী বাবা-মা, কাজের বুয়া, লিপির মামা। লিপির মামা একজন ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক। অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো একদিন লিপিদের বাসায় হাজির হয় এবং একটি রুম দখল করে থাকতে শুরু করে।

লিপি লক্ষকরে তার মামা তার মায়ের সকল সম্পত্তি ছলেবলে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে। চরিত্রের অধপতনে জর্জরিত তার এই মামা তাদেরই কাজের বুয়ার সাথেও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে লিপি শুরু করে তার মামাকে শায়েস্তা করার উদ্ভট সব প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় লিপিকে সাহায্য করার জন্য লিপির বাবা কখনো তার সাথে সলাপরামর্শ করে, কখনোবা আহসান সাহেব আবার কখনো লিপির সম্পর্কে স্কুলের বাথরুমে কুৎসিত সব কথাবার্তা লেখা লিপির একমাত্র প্রিয় বান্ধবী প্রতিমা এগিয়ে আসে। লিপির এসব উদ্ভট কর্মকাণ্ডে তার মামা তাকে আহসান সাহেবের রক্ষিতা বললেও তার উচ্ছেদ অভিযান চলতে থাকে।

লিপি ঠিক করেন স্কুলের গরমের ছুটিতে তার এই সব কাহিনী নিয়ে সে একটা উপন্যাস লিখবে। উপন্যাসের নাম ” দাঁড়কাকের সংসার” তার উপন্যাসের কাহিনী হবে একজন বৃদ্ধ লোক ১৬ বছরের অসম্ভব এক রূপবতীর পড়ে। তারপর তাদের প্রেম সামাজিক বাধার সম্মুখীন হয়। এভাবেই লিপি কখনো উপন্যাস লেখার জন্য আহসান সাহেবের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার জন্য দেখা করে, কখনো একসাথে দাবা খেলে, কখনো বিকালে ছাদে গল্প করে তো কখনো মামাকে উচ্ছেদ করার ব্যাপারে পরিকল্পনা আটে। আপাতদৃষ্টিতে ” দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই” হাস্য রসাত্মক ধাঁচের মনে হলেও একই সাথে রয়েছে জীবনবোধ, মধ্যবিত্ত এক পরিবারের উপর ভয়ানক বিপর্যয় , সেই সাথে এক অসম প্রেমের অনিশ্চিত দোটানা। একজন মমতাময়ী মা,য়ের তার ভাইয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। সবকিছু মিলিয়ে দারুন কিছু সময় কাটানোর জন্য বইটা বেশ উপভোগ্য।

রিভিউয়েঃ সৈকত ভাই

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ২৩

বই :-শিশুমনে ঈমানের পরিচর্যা
লেখিকা : ড. আইশা হামদান
অনুবাদক: -আবু আবদুল্লাহ
সম্পাদক:-সাজিদ ইসলাম
প্রচ্ছদ :-শরিফুল আলম
পৃষ্ঠা সজ্জা :-আবদুল্লাহ আল মারুফ
শারঈ সম্পাদক:-হাফিজ আল মুনাদি
মূল্য:-৩০০ টাকা

#লেখিকার_পরিচয়
ড. আইশা উটজ হামদান।সাবেক নাম লরা মেরি হামদান।জম্ম-মৃত্যু (১৯৬৪-২০১৯)।তিনি ছিলেন একজন রিভার্টেড আমেরিকান মুসলিমাহ ও পাচ সন্তানের জননী।১৯৮৪ সালে তিনি ইসলাম গ্রহন করেন। Clinical psychology উপর পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন west virgina university of Morganatown হতে।American open university of falls church হতে Islamic studies এর উপর ব্যাচেলর ডিগ্রি করেন।

#বইয়ের_নামকরণ
প্রতিটা মানব শিশুর মধ্যে এক ধরনের যোগ্যতা রয়েছে যার নাম ফিতরাত। ফিতরাত হলো সহজাত, জম্মগত মানবিক বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহকে চিনতে পারে, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে ও ঈমান অর্জন করতে পারে। প্রতিটি মানুষ আল্লাহ কে চিনতে পারে। প্রতিটি মানব শিশুর অন্তরে ঈমানের বীজ সৃষ্টিগত ভাবেই বপন করা থাকে। প্রয়োজন শুধু পরিচর্যা ও বিকাশ ঘটানো সেই বীজ থেকে আমরা কাংখিত ফলে –ফুলে শোভিত বৃক্ষ পেতে পারি। এই কারনে এই বইয়ের নামকরন করা হয় “শিশুমনে ঈমানের পরিচর্যা”(Nurturing Eeman in children) .

#বই_নিয়ে_কিছু_কথা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন ড.জসিম স্যার এই বইটা পড়তে বলেছিল কিন্তু স্যারের কথায় কোনো পাত্তা দেই নাই।আমার বন্ধু ওবায়দুল্লাহ দেখছি বইটা পড়ছে।তার থেকে বইটা ধার নিয়ে পড়ে ফেললাম।এই বইটি মুসলিম পিতামাতার জন্য একটি গাইড বই। ইসলামে জ্ঞান থাকা বাচ্চাদের শিক্ষিত করার পক্ষে যথেষ্ট না হলেও তাদের এমন একটি ইসলামী পরিবার সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত যা তাদের পিতামাতাকে তাদের প্রথম বয়সে ইসলামিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে সহ্য করতে হবে এবং পরিবেশগত কারণগুলি ভুলে যাবেন না। প্রায় সমস্ত বিষয় হাদীস এবং আলকুরান দ্বারা প্রশংসিত। সুতরাং এটি সত্যিই একটি ভাল অনুস্মারক।

সবশেষে একটি কথা না বললেই নয়, বইটি হতে উপকৃত হওয়া ছাড়া আর বিকল্প কিছুই থাকবে না ইনশা-আল্লাহ।

রিভিউয়েঃ মোঃ মিলন

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

ব্যাক্তিগত কারনে আগের মত আর রিভিউ আনতে পারছি না।
বিচলিত হবেন না, রিভিউ রেডি আছে শুধু পোস্ট করার সময় পাচ্ছি না।
উল্লেখ্যঃ আপনারা কি ধরনের রিভিউ চান কমেন্টে বা ইনবক্সে জানাতে পারেন।

Categories
Books

বক্সের ভিতর একজন জাদুকর ছিলেন।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা “হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম”

রিভিউ নাম্বারঃ ২২

#রিভিউ
বইঃ হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম
লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ
প্রকাশনীঃ দিব্যপ্রকাশ
প্রকাশকালঃ ১৯৯৬
মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০

ফ্ল্যাপে লিখা কিছু কথাঃ
————————-
‘যাবার আগে আপনি বলে যাবেন আপনি কে?
আমি বললাম,‘মারিয়া আমি কেউ না। I am Nobody.”
আমি আমার এক জীবনে অনেককে এই কথা বলেছি-কখনো আমার গরা ধরে যায়নি, বা চোখ ভিজে ওঠেনি। দু’টো ব্যাপারই এই প্রখম ঘটল।

First নীল পদ্মঃ
—————–
‘হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম’– বস্তুত এটি সেই উপন্যাস যেটি পড়ে আমার উপন্যাসের প্রতি আগ্রহ জন্মে ।
নন্দিত কথা সাহিত্যিক পরম শ্রদ্ধেয় হুমায়ন আহমেদের লেখা এ উপন্যাসটি আমার সবচেয়ে প্রিয়।
মূলত হুমায়ন আহমেদ এমন একজন মানুষ যিনি তাঁর প্রতিটি কর্মে সুনিপুণ দক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন, যার অন্যতম নমুনা হল হিমু।
তিনি হিমুর মাধ্যমে দেখিয়েছেন কিভাবে সমাজের বাধা-বিপত্তি, সীমাবদ্ধতা, মায়া মমতার ঊর্ধ্বে উঠে নিজের জীবন কিভাবে গঠন করা যায়,কিভাবে ভিন্ন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
আর সবচেয়ে বর কথা হল যে তিনি হিমুর মাধ্যমে আমাদেরকে জ্যোৎস্নাকে নতুনভাবে চিনতে শিখিয়েছেন।
আর তাই হিমু কে নিয়ে লেখা তাঁর প্রতিটি বই আমার অত্যন্ত প্রিয়।
কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রিয় ‘হিমুর হাতে নীল পদ্ম’ বইটি কারণ এর মাঝে হিমুর সবকিছু একীভূত হয়েছে ।।

“সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতি প্রতিটি ছেলেমেয়েকে পাঁচটি অদৃশ্য নীলপদ্ম দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান।এই নীলপদ্মগুলি হল – প্রেম-ভালবাসা।

একটি পুরনো বইয়ের দোকানে হিমুর সাথে পরিচয় হয় আসাদুল্লাহ সাহেবের। একটি বই কিনতে হিমু তাকে সাহায্য করেন।আসাদুল্লাহ সাহেবের বাড়িতে পরিচয় হয় তার ১৫ বছরের মেয়ে মারিয়ার। মারিয়া তার জীবনের ১ম প্রেমপত্র সাংকেতিক ভাষায় হিমুকে লিখে ফেলে।হিমু চিঠির মানে বের করতে পারেনি তাই তাদের সাথে আর যোগাযোগও রাখেনি।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মারিয়ার সাথে হিমুর দেখা হয়।মারিয়া তার কৈশোরের সেই ঘটনার জন্য লজ্জিত।
হিমু বাদলের সাহায্যে চিঠির অর্থ উদ্ধার করে আসগর সাহেবকে দিয়ে চিঠির উত্তর লিখে মারিয়াকে দেয়।কিন্তু মারিয়া চিঠিটা তাকে ফিরিয়ে দেয়।
আসাদুল্লাহ সাহেবের মতে মারিয়া তার সবগুলো নীলপদ্ম হিমুকে দিয়ে দিয়েছে তাই সে আর কাউকে ভালোবাসতে পারবে না।এদিকে হিমু নীলপদ্ম নিয়ে ঘুরছে কিন্তু কাউকে দিতে পারছে না।কারণ হিমুরা কাউকে নীলপদ্ম দিতে পারে না।

বই থেকে নেওয়া কিছু কথাঃ
—————————–
🍁শিশুরা জানে বয়স্ক মানুষরা ভুল করে,জেনেশুনে ভুল করে। শিশুরাই শুধু জেনেশুনে কোন ভুল করে না।
🍁কোন মেয়েকেই আসলে পাওয়া যায় না।তারা অভিনয় করে সঙ্গে আছে এই পর্যন্তই। অভিনয় শুধু যে অতি প্রিয়জনদের সঙ্গে করে তা না, নিজের সঙ্গেও করে।নিজেরা সেটা বুঝতে পারে না।
🍁যে সব মানুষ সীমাহীন আবেগ নিয়ে জন্মেছেন তাঁরা কখনো তাঁদের আবেগ প্রকাশ করেন না।তাঁদের আচার-আচরণ রোবটধর্মী। যাঁরা পৃথিবীতে এসেছেন মধ্যম শ্রেণীর আবেগ নিয়ে, তাঁদের আবেগের প্রকাশ অতি তীব্র। এঁরা প্রিয়জনদের দেখামাত্র জড়িয়ে ধরে কেঁদেকেটে হুলস্থুল বাঁধিয়ে দেন।
🍁মানুষ তার এক জীবনে যে শব্দটি সবচেয়ে বেশি শোনে তা হচ্ছে তার নিজের নাম।যতবারই শোনে ততবারই তার ভাল লাগে।পৃথিবীর মধুরতম শব্দ হচ্ছে নিজের নাম।পৃথিবীর দ্বিতীয় মধুরতম শব্দ খুব সম্ভব “ভালোবাসি”।

ছবিঃ ফেসবুক থেকে নেওয়া

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

🖐🖐
হুমায়ুন আহমের অষ্টম প্রয়াণ দিবস আজ।
আট বছর আগে এইদিনে আমাদের ছেড়ে চলে যান গল্পের জাদুকর।
বিনম্র শ্রদ্ধা
ভালোবাসা অবিরাম
ওপারে তুমি ভালো থেকো প্রিয়ো লেখক।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ২১

#রিভিউ
বইঃ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ
লেখকঃ আরিফ আজাদ
প্রকাশনীঃ গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স
প্রকাশকালঃ বইমেলা-১৭
পৃষ্ঠাঃ ১৭৬
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা

বইয়ের আলোচনাঃ
মূল চরিত্র- সাজিদ। সাজিদ প্রথমে নাস্তিক ছিল। কিন্তু যখন স্রষ্টার অস্তিত্বের এবং অদেখা জিনিসের প্রতি বিশ্বাসের প্রমাণ দেখালো, তখন বিশ্বাসের পথে ফিরে এলো। এদিকে সাজিদের প্রত্যাবর্তন নাস্তিকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো। সাজিদের এই জ্ঞান, যোগ্যতা বুদ্ধিমত্তা সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। তাঁর শিক্ষক, সহপাঠী, পরিচিত অপরিচিতদের মধ্যে যারা নাস্তিক ছিল, তাদের প্রতিটি প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উত্তর দিতো কোরআন ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে। তাঁর তত্ত্ববহুল উত্তরে নাস্তিকরা ‘থ’ হয়ে যায়। সাজিদের অভূতপূর্ব সাক্ষী নাস্তিকদের রীতিমতো গাত্রদাহ শুরু হয়।

নাস্তিকদের উত্থিত প্রশ্ন থেকে কিছু এমন-
*স্রষ্টা খারাপ কাজের দায় নেন না কেন?
*মুশরিকদের যেখানেই পাও, হত্যা করো! *কোরআনের এই আয়াত কি জঙ্গিবাদের দিকে উস্কে দেয় না?
*স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করল?
*কোরআন কি মুহাম্মদ (সা.) এর বানানো গ্রন্থ? *আয়েশা (রা.) ও মুহাম্মদ (সা.) এর বিয়ে এবং কথিত নাস্তিকদের কানাঘুষা!
*কোরআনে বিজ্ঞান- কাকতালীয় না বাস্তবতা?“
এমন আরো অনেকগুলো প্রশ্নের সাবলীল উত্তর দিয়ে অজস্র মানুষের প্রিয়ভাজন হয়েছে সাজিদ।

রাসূল (সা) আয়েশা (রা)কে ৯ বছর বয়সে বিবাহের প্রসঙ্গ নিয়ে নাস্তিকদের কানাঘুষার এক চমকপ্রদ জবাব দেয়া হয়েছে বইটিতে।
বঙ্গবন্ধুর বিয়ের সময় স্ত্রীর বয়স ছিল ৮ বছর। কিন্তু এটা নিয়ে তো মুক্তমনার কোন মুক্তচিন্তক এখন পর্যন্ত আওয়াজ তোলেনি!
তাহলে রাসূল (সা.)’র বিবাহ নিয়ে নাস্তিকদের এতো কানাঘুষা কেন?
এজাতীয় আরো প্রশ্নের উত্তর জানতে বইটি অদ্যপান্ত পড়ুন।
ভালোলাগাঃ বইয়ের প্রচ্ছদ, বাধাইয়ের প্রতি মুগ্ধ হয়েছি। পাশাপাশি অজানা অনেক বিষয় জানতে পেরেছি।
কেন পড়বেনঃ
১. অবিশ্বাসীদের বিশ্বাসের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য।
২. অবিশ্বাসীদের কতিপয় প্রশ্নের উত্তর কুরআন হাদীসের মাধ্যমে জানার জন্য।

ছবিঃ ফেসবুক থেকে নেওয়া
রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে আলোচনা “সবিনয় নিবেদন”

রিভিউ নাম্বারঃ ২০

সবসময় তো বই নিয়ে কথা বলি, তবে চলুন আজকে চিঠি নিয়ে কথা বলবো।

চিঠি। অনুভূতি, ভালোবাসা কিংবা বিষন্নতাকে কলমের কালো অন্ধকার কালিতে বন্দি করে নিজের প্রিয় কিংবা অপ্রিয় মানুষটার কাছে ডাকের মাধ্যমে পৌছে দেওয়াকেই বোধহয় চিঠি বলে। আর একটা সময় যোগাযোগের অনেকটা অংশই নির্ভর করতো সেসব চিঠির উপর৷

এই বইটাকে উপন্যাস না বলে নাহয় আমি অনেক অনেক গুলো চিঠির একটা সমষ্টি বলবো৷ একটার পর একটা চিঠি, তার উত্তরে আবার আরেকটা চিঠি৷ এভাবেই চিঠির পর চিঠি এসে বলে গেছে পুরোটা গল্প৷ চিঠির পর চিঠি যুক্ত হয়েই গড়ে উঠেছে পুরো একটা উপন্যাস৷ চিঠির মাধ্যমেই উঠে এসেছে একটা অনিন্দ্য সুন্দর প্রেমের গল্প। উঠে এসেছে পাহাড় আর অরণ্যের অনন্য সুন্দর মুগ্ধ করা বর্ণনা, যা আপনাকে এই বইয়ের পাতায় আটকে রেখেই ঘুরিয়ে আনবে পালামৌ এর পাহাড়ি জঙ্গল থেকে৷

গল্পের নায়ক রাজর্ষী সাহেব৷ যিনি কিনা পালামৌ এর বেতলার টাইগার প্রজেক্টে কর্মরত একজন৷ বেড়ে উঠার পর থেকেই যার জীবনের সবটা কেঁটেছে পাহাড়ি জঙ্গলে। নিজেকে সাক্ষাত জঙ্গলের উপযুক্ত আর সভ্যতায় ভরা শহরের থেকে দূরের মানুষ বলেই ভেবে এসেছেন৷ সেই রাজর্ষী বসুর সাথে এক রাতে হুট করেই একপলকের দেখা হয় কলকাতার মেয়ে ঋতি রায় এর।

নিজের কাকা আর কাকির সাথে পালামৌ বেড়াতে এসে হুট করেই রাতের অন্ধকারে হাতির কবলে পড়েন ঋতি’রা। তখন সেই হাতির দলের হাত থেকে রক্ষা করে তাদের বেতলা পর্যন্ত পৌছে দেন রাজর্ষী বসু৷ সেখানেই ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় এক পলক দেখে নেন ঋতি রায় রাজর্ষী বসুকে৷ তারপর অনেকটা অনুমানের উপর ভিত্তি করেই সেই রাতের জন্য ধন্যবাদ সূচক একটা চিঠি লিখে পাঠান রাজর্ষী বসুর ঠিকানায়। সেখান থেকেই শুরু৷ একটার পর একটা চিঠি আদান প্রদান হতে থাকে, আর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর গভীরতায় বাড়তে থাকে গল্প।

একদিকে ঋতি রায়ের জীবনে থাকে অশোক, যার সাথে বহু বছর ধরেই সম্পর্কে আবদ্ধ ঋতি রায়। অন্যদিকে ধীরে ধীরে রাজর্ষি বসুর সাথে সম্পর্ক বন্ধুত্ব ছাড়িয়ে জটিলতার দিকে যেতে থাকে। অনেকবার দেখা করবে করবে বলেও দেখা হয়না তাদের। চিঠির মাধ্যমেই চলতে থাকে তাদের একজন আরেকজনকে জানা শোনা। বাকিটা জানতে হলে পড়তে হবে এই পত্রোপন্যাস টি৷

আমার যখন পাহাড় কিংবা জঙ্গল নিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে তখনই আমি বুদ্ধদেব গুহের বই নিয়ে বসে যাই। পাহাড় আর জঙ্গলের এতো সুন্দর বর্ণনা তিনি তার প্রতিটা বইয়ে দেন যে আমি মুগ্ধ না হয়ে পারিনা। চিঠি নির্ভর প্রেমের গল্পের পাশাপাশি এই বইতে তিনি পাহাড় আর জঙ্গলের অনিন্দ্য সুন্দর বর্ণনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক দিক, জীবন ধারা, বিভিন্ন ইতিহাস কিংবা বিভিন্ন ঘটনাকে দারুন ভাবে তুলে এনেছেন। যার ফলে বইটি প্রেমের উপন্যাস ছাপিয়েও হয়ে উঠেছে এক দারুন সৃষ্টি। সবকিছু মিলিয়ে দারুন একটা বই৷ ইচ্ছে হলে পড়ে নিতে পারেন।

পিডিএফ লিংক লাগলে অবশ্যই বলবেন। আমি পিডিএফ পড়েছি। ছবিটা সংগৃহীত।

বইঃ- সবিনয় নিবেদন
লেখকঃ- বুদ্ধদেব গুহ
পৃষ্ঠাঃ- ১৫৫

পার্সোনাল রেটিংঃ- ৪.৫/৫

Categories
Books

বই নিয়ে কথা “বেলা ফুরাবার আগে”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৯

#বুক_রিভিউ

বেলা ফুরাবার আগে
লেখকঃআরিফ আজাদ
প্রকাশনাঃ সমকালীন প্রকাশন
পৃষ্ঠাঃ ১৮৭
মুদ্রণ মূল্যঃ২৮৭ টাকা।

লেখক আরিফ আজাদ পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে থাকছেন ঢাকায়। ২০১৭ সালে প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ দিয়ে লেখকের ‘লেখকজীবন’ শুরু। এ পর্যন্ত মৌলিক, যৌথ, সম্পাদনা, ভূমিকা মিলে লেখকের ৮টি বই বেরিয়েছে।

[ একটা জীবন অবলীলায় অবহেলায় কেটে যাবে
ভুল আর ভ্রান্তির বেড়াজালে
একটা জীবন আমগ্ন ডুবে রবে
এমনটা হতে দেওয়া যায় না।
জীবনের গতিপথ ভুলে
একটা জীবন ভীষন বেপরোয়া হয়ে
ভুল স্রোতে ভুল পথে বাঁক নেবে
এমনটা হতে দেওয়া যায় না।

বেলা ফুরাবার আগে
আজ তবে ফেরা হোক নীড়ে… ]

বইয়ের প্রথমে লেখকের দেওয়া কবিতার এ টুকরো অংশটুকু পড়লে বইটা পড়ার গুরুত্ব বাড়বে। উপলব্ধি হবে বইয়ের ভেতরের কন্টেন্ট নিয়ে। বইটা যে জীবনের কথা বলবে, সেটা কবিতাংশ থেকে প্রতীয়মাণ!

যারা বইটি পড়ার জন্য কিনেছেন, কিন্তু পড়েন নি, তারা ধীরস্থির ভাবে, সময় নিয়ে বইটা পড়ুন। হাতে সময় নিয়ে বইটা পড়ুন। নীরবে, কোলাহল মুক্ত পরিবেশে বইটা পড়ুন।পড়ার পর মনে হবে,ইশ্ আগে কেন বইটা পড়লাম না!

ছোট বেলায় কাজী নজরুল ইসলামের, ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ কবিতাটি কতশতবার পড়েছি মনে আছে?
‘আমি যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে।কিংবা সূয্যিমামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে’ কথাগুলোর মানে কি একবারও বুঝেছিলাম!
সূয্যিমামার আগে উঠে আমাদের সালাত আদায় করতে হয়।সুবহে সাদিকের আগে উঠে রাব্বুল আলামিনের দারস্থ হতে হয়।এসব আজও কেউ আমাদের মাথায় ঢুকিয়েছিল!

আরো বলেছেন আমার প্রিয়,বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র,’হুমায়ূন আহমেদ’ এর কথা।লিখেছেন নুহাশপল্লীর নিজের অভিজ্ঞতার কথা।হুমায়ূন আহমেদ যেন এক ছোটখাটো সর্গ নিজের জন্য তৈরি করে রেখে গিয়েছেন,নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী লিচু বাগানের শ্বেত পাথরের গাথায় চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। কি পান নি তিনি!
এতো সুন্দর দুনিয়ায় সর্গন্যায় নুহাশপল্লী যদি এতো সুন্দর হয়,তবে আপনার আমার মালিক,আসমান-জমিন, সমস্ত ভ্রম্মান্ডের মালিক যে জান্নাতের কথা বলেছেন, সে জান্নাত কত সুন্দর হতে পারে! ভেবেছি কি কখনো!

এসব পড়ে আমার মনে হয়েছিল,একঘেয়েমি বইগুলা যেন পড়ছিনা,আমি একসাথে বাংলা সাহিত্য,ইসলামিক ইতিহাস, আল্লাহর কথা সবটায় পড়ছি।কি নেই এই বইতে!

আরিফ ভাই ‘সাজিদ’ দিয়ে ইসলামি সাহিত্যে বিপ্লবের সূচনা করেছেন। বিপ্লবটা ছিল ইসলামের উপর আরোপিত অভিযোগ এবং ভ্রান্ত অপবাদের নিরসনে উপযুক্ত দালিলিক জবাব। এরপর সে পথে হেঁটেছেন ডা. শামছুল আরেফিন, আরিফুল ভাই, জাকারিয়া মাসূদ ভাই, শাকিল হোসাইন ভাই, মিনার ভাই সহ আরো কয়েকজন ভাই। আল্লাহ সেই পথে বারাকাহ ঢেলে দিয়েছেন। এখন তো দেশের সাহিত্যঙ্গনে রাজত্ব করছে ইসলামপন্থী লেখকরা। আল্লাহ এদের লেখনীতে বারাকাহ দান করুক, অন্তরে খুলসিয়্যাত দান করুক। (১)

আরিফ ভাইয়ের মৌলিক বইগুলো ছিল ভ্রান্ত অভিযোগ নিরসনে উপযুক্ত জবাব। কিন্তু এবারের বইটা ভিন্ন। এটা পুরোদমে প্রবন্ধ স্টাইলে ‘আত্ম উন্নয়নমূলক’ বই। কোন গল্পের বই না, ‘সাজিদ’ সিরিজের মত বই না। ‘সাজিদ’ হওয়ার খসড়া পত্র এটা। (২)

বইয়ের অধ্যায়গুলোতে প্রথমে জগতে বিদ্যমান কিছু সমস্যার উদাহরণ টানা হয়েছে, তারপর নবী জীবন, সাহাবাজীবন, তাবেঈদের জীবন এবং সালাফদের জীবন থেকে শিক্ষনীয় ঘটনা টানা হয়েছে জাগতিক সমস্যাগুলোর সাথে মিল রেখে। এরপর জাগতিক সমস্যা এবং ইতিহাস থেকে নেওয়া উদাহরণগুলোর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে আলোচনা করা হয়েছে সমস্যা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে। একজন যুবকের হতাশা থেকে বেরিয়ে, তার রবের দিকে ফিরে যাবার আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে প্রাসঙ্গিক কোরআনের আয়াত থেকে।

পুরো বই পড়ে আমার সামনে বইয়ের কিছু আলোচ্য বিষয় এসেছে। যেমন ধরুনঃ
১. বইয়ের প্রথমে ‘সাবরে জামিলের’ প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

২. হতাশ না হয়ে তওবা করা,’কেননা,বেলা এখনো ফুরিয়ে যায়নি’।

৩. ‘সালাত’ সচেতনতা এবং সালাতের গুরুত্ব উপলদ্বি। সালাতের হেয়ালিপনা থেকে জাগ্রত হবার উল্লেখ আছে।

৪. অধিকভাবে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া, তার কাছে সবসময় মিনতি করা।নবী রাসুলগণ সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন।আমরা কেন করিনা! আমরা কেন মুহুর্তেই হতাশ হয়ে পরি।কেন রাব্বুল আলামিনের কাছে মন খুলে আমরা চাইতে পারিনা।
কি কি চাইতে হবে লিস্ট করে আজকেই তার কাছে চাওয়ার যে বাসনা তা খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে।যা একটি মানুষের জন্য যথেষ্ট।

৫. শত ব্যস্ততায় আমরা বিভোর।জাগতিক সব কিছুর রুটিন আমরা করি, সকল রুটিনের মধ্যে মৃত্যুর কোন রুটিন নেই। আমাদেরকে ‘মৃত্যুপ্রস্তুতি’ এবং ‘বিচারদিবসের’ প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রস্তুতির জন্য কি কি প্রয়োজন তা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৬.এতো বছর শুনে এসেছি,আদম (আঃ) ও হাওয়া (আঃ) এর জান্নাত থেকে বের করে দেয়ার।এখানে যথাযথ তথ্য দিয়ে সে ঘটনা উল্লেখ করা আছে।

৭.আপনার জীবনে এমন এক শত্রুর সাথে,যার চাইতে বড় শত্রু আপনার জন্য আর কেউ নেই।
সেই শত্রু, ‘শয়তান’কে আপনার সামনে তুলে ধরা হয়েছে’।তার থেকে কিভাবে বাঁচবেন তা উল্যেখ করা হয়েছে।

৮. সবমিলিয়ে নিজেকে প্র্যাক্টেসিং, প্রোডাক্টিভ এবং নবী আদর্শের আলোকে নিজেকে প্রমান করাই ছিল বইয়ের মূল মেসেজ এবং লেখকের উদ্দেশ্য।

বইটা আমার কাছে সুখপাঠ্য হওয়ার আরেকটা কারন হলো, লেখক লেখাগুলোতেঃ
– বানান ভুল নেই বললেই চলে
– খুব সুন্দর,সাবলীলভাবে উপস্থাপন
– প্রমিত বানানরীতি অনুসরন
– সাধুভাষা অনুসরন এবং
– বাংলা শব্দের যথাযথ অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। যা বইটিকে অনন্য উচ্চতায় তুলে নিয়েছে।
যেখানে আজ বড় বড় কথিত লেখকদের বইয়ে বানান ভুল চোখে পড়ার মতো সেখানে,’বেলা ফুরাবার আগে’ বইটিতে বানান ভুল নেই বললেই চলে।

কিছু অধ্যায় আমার কাছে মনে হয়েছে বার বার পড়ার মতোঃ “আমার এত দুঃখ কেন, বলো সুখ কোথা পাই, জীবনের ইঁদুর-দৌড় কাহিনি,চোখের রোগ,বেলা ফুরাবার আগে, সালাতে আমার মন বসেনা,তোমায় হৃদ মাঝারে রাখবো, যুদ্ব মানে শক্রু-শত্রু খেলা, মেঘের ওপার বাড়ি, আমি হব সকাল বেলার পাখি, তুলি দুই হাত করি মোনাজাত,”।

যে একটা জিনিস খারাপ লেগেছে,
🔴বইটা ‘পেপারব্যাক’ কোয়ালিটির।বইয়ের প্রচ্ছদ ‘হার্ডকভার’ হওয়া উচিত ছিল। কারণ বইটি পাঠকদের বারবার পড়তে হবে।একবার পড়ে রেখে দেয়ার মতো বই অন্তত এটা না। পরবর্তীতে প্রকাশক এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখবেন বলে আমার আশাবাদ।

বইটা আমার কাছে লেখকের দিক থেকে পরিপূর্ণ মনে হয়েছে। লেখক নিজের শ্রমের, মেধার, গবেষণার কোন কমতি রাখেন নি। এ জন্যেই বইটি সর্বমহলে এতো প্রশংসা কুড়িয়েছে।

(নোটঃ১.২ কালেক্ট)

*আমি মনে করি,বইয়ের নামকরন ‘বেলা ফুরাবার আগে’ সার্থক হয়েছে। কেন সার্থক হয়েছে, সেটা বইটি পড়লেই আপনি বুঝতে পারবেন। আমার ইচ্ছে তো করছে পুরো বইটিই পারলে লিখে দিই। সর্বপরি,আপনি রিভিউ ও বলতে পারেন কিংবা আলোচনা!

ব্যক্তিগত রেটিং ৯.৯/১০

ব্যক্তিগত অভিমতঃ বইটি পড়ে আপনার মাঝে এক আমুল পরিবর্তন হবে তা নিশ্চিত বলে দিতে পারি। যদি না হয়,তবে আপনি সেসব মানুষদের অন্তর্ভুক্ত, যারা ‘অন্ধকার নিকষকালো এক গুহায় তলিয়ে গেছে,দূরে এক আলো ঝলমল করছে অথচ সেই আলোর দিকে যাচ্ছেনা।তারা একঘেয়েমি করে মিথ্যে সেই অন্ধকারের দিকেই যাচ্ছে।আনছে ডেকে নিজের বিপদ’।চলুন বদলায়.. আলোর দিকে ফিরে যাই।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আরিফ আজাদ ভাইকে উত্তম জাজাকাল্লাহ দান করেন। আল্লাহ যেন তাকে কবুল করেন।

হ্যাপি রিডিং!

📝 Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে কথা “ভাল্লাগে না”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৮

বইয়ের নাম : ভাল্লাগে না

লেখক : Ayman Sadiq & Antik Mahmud Ank

প্রকাশনা : আদর্শ

প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১৯

গায়ের মূল্য : ৩০০টাকা

যদি এক কথায় বইটি সম্পর্কে বলতে চাই তাহলে বলবো, এটি হচ্ছে নতুন প্রেমের সম্পর্কের মতো “যেখানে শুরুতে সব ভালো লাগে কিন্ত আস্তে আস্তে ভালোলাগা কমে যায়”।

প্রথম দিকে তো পড়তে বেশ ভালো লেগেছে সাথে অন্তিক মাহমুদের কার্টুন গুলো তো এককথায় অসাধারণ এবং সেই মজার।

বইটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে বিশেষকরে রকমারির সেরা ৫ এ থাকার কারণে তবে আমি এই বিষয়ে কিছু বলবো না, আমরা যখন বাইরের দেশের নন-ফিকশন বই পড়ি তখন দেখা যায় বইগুলো তাদের প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতি নিয়ে লিখা যার ফলে সেই লিখার সাথে রিলেট করা একটু কষ্টকর হয়ে যায় কিন্ত সেই দিক দিয়ে “ভাল্লাগে না” বইটি আমাদের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে লিখা যার ফলে পাঠকেরা খুব সহজেই বইয়ের সাথে রিলেট করতে পারবেন।

আপনার অবস্থা কিরকম আছে তা জানার জন্য বইয়ের মধ্যেই অনেক অনুশীলনী দেওয়া আছে যা পূরণ করলে আপনার নিজের বিষয়ে ভালো একটি ধারণা হবে আর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভালো ধারণা পাবেন।

বইটি থেকে আমার প্রিয় উক্তি আপনাদের জন্য পেশ করছি :

১. নিজের পরিবর্তনের জার্নিটা আজীবনের

২. শুধু মৃত মানুষ হতাশ হয় না, মৃত মানুষ কষ্ট পায় না

৩. আমাদের কথাবার্তা ও কার্যকলাপই আমাদের ব্যাক্তিত্বের নির্দেশক

৪. পৃথিবীর সবকিছুই অসম্ভব লাগে যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা কেউ করে না দেখায়

৫. স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, চেষ্টা আর পরিশ্রম

৬. আমরা যতবেশি ভাল্লাগে না-র মধ্যে থাকি আমাদের মধ্যে তত বেশি ঢিলেমি কাজ করে

৭. যে মানুষের সফলতার পেছনে যত বেশি ব্যর্থতা থাকবে এবং ধাক্কা থাকবে সে আসলে তত বেশি সফল

৮. পারব না! বলে প্রকৃত অর্থে কিছু নেই, সমস্যাটা হলো আমরা হারার আগেই হেরে বসে থাকি

৯. আত্ননির্ভরশীল হও। পরনির্ভরশীলতা সাফল্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা

১০. আমরা বাঙালিরা পাশ কাটিয়ে বা দায় এড়িয়ে গিয়ে অভিযোগ আর একে-অপরকে দোষারোপ করার বেলায় বিশেষ পারদর্শিতা রাখি

১১. দেশটা যদি আমাদের হয় তাহলে সে সমস্যাগুলোও আমাদের। আর সমস্যাগুলোকে সমাধানের দায়ও তো দিনশেষে আমাদের ওপরই বর্তায়

১২. আমাদের ছোট ছোট শখ থেকে শুরু করে আমাদের বড় বড় স্বপ্ন “লোকে কি বলবে” নামক ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে

১৩. জীবনে চলার পথে যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অন্যর পরামর্শ নিতে লজ্জার বালাই করবে না

১৪. কথিত আছে, বাঙালির নাকি তিন হাত। বাম হাত,ডান হাত আর হলো গিয়ে অজুহাত। সময়ই তো পাই না – আমাদের সবচেয়ে প্রিয় এবং ভরসাযোগ্য অজুহাত

১৫. অভ্যাসের পরিবর্তন থেকেই আমাদের জীবনের পরিবর্তন আসে এবং এই অভ্যাসের পরিবর্তনগুলোই আমাদের জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে

=> এই ছিল বইটি নিয়ে আমার মতামত..ইচ্ছা হলে পড়ে দেখতে পারেন..কিছু না কিছু তো অবশ্যই শিখবেন..

আসুন নিজে বই পড়ি অন্যকেও পড়তে বলি।
পড়বে সারা দেশ,তাহলেইতো এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

রিভিউতেঃ Nazmul Islam Shohan (💛হিমু💛)