Categories
Books

“ লা*শের দাফন কাফন শেষ হতে হতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো…..মুনার বাসায় আসতে আসতে আটটা বেজে গেলো। লাশ দেখে আসলে বাসায় এসে গোসল করতে হয়। মুনার ইচ্ছা করলো না। সারাদিনের ধকলে সে ক্লান্ত, তাই জামাকাপড় না পাল্টিয়েই সে ঘুমিয়ে পড়লো।

গভীর রাতে কলিংবেলের শব্দে মুনার ঘুম ভেঙে গেলো। দরজা খুলে দেখে বাকের ভাই দাঁড়িয়ে।

– বাকের ভাই এত রাতে কেন?

বাকের ভাই অপ্রস্তুত হয়ে বললো, “ না তুমি একা একটা মেয়ে এত রাতে, তাই দেখতে আসলাম। দেশের পরিস্থিতি তো ভালো না। বুঝো না? হাহা!”

মুনা বললো, “ দিনে আসতে পারেন না? আসুন ভেতরে আসুন। চা খেয়ে যান। “

বাকের আনন্দিত হয়ে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললো, “ বুঝলা মুনা, দিনে তো আসার নিয়ম না। আমার ফাঁসি হয়ে গেছে না? কিভাবে আসবো? “

.

মুনা আর বাকের, দুজনে নীরবে চা শেষ করলো…..বাকের ভাই বললো, “ মুনা আমি যাই। “

মুনা বললো, “ গলির মুখে চায়ের দোকানে ‘হাওয়া মে উড়তা যায়ে’ গানটা শুনে না কেউ। রিকশাওয়ালা বড় ঝামেলা করে মাঝেমাঝে ভাড়া নিয়ে। আপনি তখন আসেন না কেন? থেকে যান বাকের ভাই। আপনি না থাকলে বড় একা হয়ে যাবো। “

বাকের কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বললো, “ একজন আগে চলে যাবে, বাকিরা তার স্মৃতি নিয়ে থেকে যাবে আরো কিছুদিন। এটাই স্বাভাবিক না মুনা? হিমুও তো চলে গেলো…..হলুদ পাঞ্জাবীটা তার মেসে পড়ে আছে অনেকদিন। মাজেদা খালার বাসি পোলাওটা অমৃতের মত খায় না কেউ। তরঙ্গ স্টোর থেকে রূপাকে কেউ ফোন করে না আজ প্রায় ছয় বছর। রূপাও কোথায় যেন হারিয়ে গেছে জানো? “

মুনা বললো, “ ভুল বললেন বাকের ভাই…..কেউ হারায়নি। হাজারো ঘরের কোণে এখনো হিমু রূপা বাকের ভাইরা আছে। মন খারাপের কোন মধ্যদুপুরে এখনো বুকশেলফ থেকে হিমু পিচগলা রাস্তায় হাঁটতে বের হয়। হিমু নেই, তবে হলুদ রঙটা হিমু হয়ে আছে এখনো। “

বাকের বললো, “ মুনা আমি যাই? “

মুনা বললো, “ আবার কবে আসবেন বাকের ভাই? “

– “ যদি তোমার মন কাঁদে….চলে আসবো এক বর্ষায়। দারুচিনি দ্বীপে রূপালি রাত্রি দেখে আসবো একবার। এক জোছনা রাতে সবাই বনে গেলে অনন্ত নক্ষত্রবীথি থেকে তোমাদের এই নগরে এসে জীবনের শেষ কটাদিন শঙ্খনীল কারাগারে থাকার গল্পটা শুনাবো। “

মুনা দেখলো, বাকের চলে যাচ্ছে…… স্ট্রিট লাইটের আলোতে বাকেরের ছায়াটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে হতে একটা সময় মিলিয়ে গেলো। হঠাৎ মুনার মনে হলো, ছায়াটা বাকেরের না…..হিমুর…..কিংবা মিসির আলীর…..অথবা শুভ্ররও হতে পারে।

পরক্ষণে মুনার মনে হলো, এরা সবাই হারিয়ে গেছে দুই হাজার বারো সালের উনিশে জুলাই এক শ্রাবণে। এরপর থেকে আর কোথাও কেউ নেই। “

“উনিশে জুলাই”

সংগৃহীত

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ৩৯*

শেষ Shesh – জুনায়েদ ইভান
ব্যাক্তিগত রেটিং: ৪/৫

জুনায়েদ ইভান ভাইকে আমি নিছকই গায়ক হিসেবে চিনতাম যদিও তার গাওয়া একটা গানও আদৌ শুনিনি। সুরের মুর্ছনার পাশাপাশি কলমের খোচায় তিনি যে মানুষকে ফ্যান্টাসির গহীন অরন্যে নিয়ে যেতে পারেন সেটা জানা ছিলো না।
·
শিহাব একজন লেখক, প্রতিদিন রাতে সে বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় লিখে। পাশেই ঘুমায় হাসান, যদিও লাইটের আলোয় হাসানের কোন সমস্যা হয় না। তবে শিহাবের কিছু সমস্যা আছে সে অসমাপ্ত পান্ডুলিপি লিখতে যেয়ে কোন এক বিচিত্র কারনে খেই হারিয়ে প্রথম থেকে শুরু করে। রফিক সাহেবের সাথে তার এ নিয়ে বেশ বোঝাপড়া হয়েছে। একবার সিদ্ধান্ত নেয় সে এই পান্ডুলিপি বাদ দিয়ে কবিতার পান্ডুলিপি তৈরি করবে।
·
হাসান জম্পেশ গল্প বলতে পারে, সেটা যদি বাস্তব জীবন থেকে নেয়া হয় তাহলে কী আর বলতে! নিছক ব্যাক্তিগত আলাপের মাধ্যমে শিহাব ও হাসান প্রবেশ করে কিছু ব্যাক্তির জীবনের বিশাল অধ্যায়ে। সেখানে কখনো প্রাতের সোনালিমা রৌদ্র এসে ঝলমল করে হাসে, আবার কখনো ঢেকে যায় বিধুর আধারে ও আর্তনাদে।

তারা চলে যায় ভুল স্টেশনে নেমে যাওয়া দুজন অপরিচিত আত্মার বৃষ্টিস্নাত মূহুর্তের অনুভূতিতে, হাসানকে কবি শেলীর কবিতার বই দিয়ে দিয়ে, “আর ফেরত দিতে হবে না।” কথার কলতানে, কবি শেলীর বইয়ের ভাজে পাওয়া রৌদ্র নামক এক প্রেমিকের প্রনয়মিশ্রিত চিঠিতে, চিঠির শেষ দিকে থাকা তারাপদ রায়ের কবিতা—অনেকদিন দেখা হবে না(…), ওসমানের ওড়ানো কাল্পনিক ঘুড়িতে কিংবা রৌদ্রের বিষাদময় জীবনে। দেয়ালের সাথে তার কথাবার্তা হতো, একটা সময় অফিসের ঠিকানা ভুলে যাওয়া প্রেমিক নিতুকে চিঠি লিখে আত্নবিসর্জন দেয় এক সিলিংয়ে ঝুলে।

হাসান কি চিঠিটা নিতুর কাছে পৌছানোর ব্যাবস্থা করে দেয়? কেনই বা শিহাব তার উপন্যাসের চরিত্রের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে ফাসির দড়ি কিনতে বাজারে পাঠায়।?

~ Tanvir
07-09-2021

Categories
Books

আজ
আজ
আজ
প্রকাশিত হচ্ছে
আনিসুল হকের
উপন্যাস
রক্তে আঁকা ভোর।
প্রথমা।
মহাকাব্যিক ১৯৭১ নিয়ে উপন্যাস।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

‘প্যারালাল ওয়ার্ল্ডস’ বইটিকে বলা যায় মহাবিশ্বের রাশি রাশি রহস্যের দিকে একটা রোমাঞ্চকর অভিযান। বইটির মূল বিষয়বস্তু প্যারালাল ওয়ার্ল্ড বা সমান্তরাল মহাবিশ্ব। কিন্তু প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের তাত্ত্বিক ভিত্তিভূমি ঘাঁটতে গিয়ে কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে এসেছে সাপ। তাই অবধারিতভাবে আলোচনায় এসেছে পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোর্তিপদার্থবিজ্ঞানসহ কসমোলজির আদ্যোপ্রান্ত। সেই সঙ্গে বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে বিগ ব্যাং, ব্ল্যাকহোল, ওয়ার্মহোল, টাইম মেশিন, মাল্টিডাইমেনশনাল স্পেসসহ পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি বিষয়। সঙ্গে আছে আপেক্ষিক তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ত্ব।

আমাদের মহাবিশ্বের ভবিষ্যত পরিণতি কী? এই মহাবিশ্ব ধ্বংস হলে আমাদের ভবিষ্যত কী হবে? আদৌ কি অন্য কোন মহাবিশ্বের অস্তিত্ব আছে? সেটাই কি প্যারালাল ওয়ার্ল্ড? প্যারালাল ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলে? এমন কোন মহাবিশ্বে যাওয়ার কি কোন উপায় আছে? প্যারালাল ওয়ার্ল্ড কি শুধু বৈজ্ঞানিক ফ্যান্টাসি? আধুনিক বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের আলোকে বহুল আলোচিত এসব প্রশ্নের উত্তর যুগিয়েছেন অধ্যাপক মিচিও কাকু। বইটি লেখার সময় সব ধরনের পাঠকের কথা মাথায় রেখেছিলেন তিনি।

ঝরঝরে গদ্যে অনূদিত বইটি ইতোমধ্যেই বিজ্ঞানপ্রিয় পাঠকেরা পছন্দ করেছেন। বইটি আপনার কৌতুহল মেটাবে সেই সাথে জ্ঞানের পরিধিতেও শান দেবে।

প্যারালাল ওয়ার্ল্ডস (পেপারব্যাক)
by মিশিও কাকু , আবুল বাসার (অনুবাদক)
TK. 560

রকমারি.কমে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ৩৮

মানুষের জীবন কি চক্রের মত? চক্রের কোনো শুরু নেই শেষ নেই। মানব জীবনও কি তাই? রহস্যময় চক্রের ভেতর এই জীবন ঘুরপাক খেতে থাকে? শুরু নেই শেষ নেই। চক্র ঘুরছে। এই চক্রের ভেতর ঘুরপাক খেতে খেতে অপেক্ষা করে কেউ কেউ। কিংবা সকলেই। কিসের অপেক্ষা?

” অপেক্ষা ” হুমায়ুন আহমেদের অনবদ্য একটি জীবনের চিরন্তন সত্যের অসাধারণ উপস্থাপন।

গল্প কথন-
————-
সুরাইয়া অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলের নাম ইমন তার বয়স পাঁচ বছর তিনমাস। গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা থেকে তার শ্বাশুড়ি এসেছে। শ্বাশুড়ি পুরোনো দিনের মানুষ হওয়াই গ্রামের ভাষা ছাড়তে পারেনি। তার কথাবার্তা শুনে ইমনও গ্রামের ভাষা লব্ধ করে ফেলছে সেটা সুরাইয়ার একদম সহ্য করতে পারছে না। সুরাইয়ার স্বামী হাসানুজ্জামান অফিসে সে চাইছে তার সাথে টেলিফোনে কথা বলতে তার কারণ ইমনের দাঁত উঠেছে এবং সুরাইয়ার দেবর ফিরোজ এম এ পরীক্ষায় ড্রপ দেবে খবর গুলো দিতে তার আরও একটা কারণ স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে তার ভালো লাগে।

হাসানুজ্জামানের অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরার কথা অথচ আসছে লেট হচ্ছে শুরু হয় সুরাইয়ার অপেক্ষা।
তাদের পরিবারে নতুন সদস্য আসতে চলেছে কথাটা বলবে ভেবে অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে যাচ্ছে সুরাইয়া। রাত শেষ দিন এলো ফিরলো না হাসানুজ্জামান। হাসপাতাল, জেলখানা, বিজ্ঞান সব রকম চেষ্টা চালিয়ে গেছে ফিরোজ নিজের ভাই কে খুঁজে পেতে কিন্তু পায়নি। এক সময় সুরাইয়া একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় নাম রাখা হয় সুপ্রভা। একদিন তারা ভাড়া বাসা ছেড়ে গিয়ে উঠে জামিলুর রহমানের বাড়িতে। স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে করে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে সুরাইয়া, তার মধ্যে ছেলে মেয়ের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা ছিটেফোঁটা লক্ষ্য করা যায় না। বাস্তব জগৎ থেকে ডিপ্রেশনের অতলে হারিয়ে যেতে থাকে সুরাইয়া।

জামিলুর রহমানের বাড়িতে মোটামুটি ভালো ভাবেই কাটতে লাগে তাদের দিন, ইমন বড় হয়ে ভালো একজন ছাত্র হয়ে উঠে, সুপ্রভা পড়াশোনায় ডাব্বা মারে সেই জন্য মায়ের অনেক শাস্তি তাকে ভোগ করতে হয়। মামা জামিলুর রহমান প্রচন্ড ভালোবাসে সুপ্রভা কে৷ জামিলুর রহমানের দুই ছেলে শোভন ও টোকন মানুষ হয়নি বন বাদারে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নেশা, তার মেয়ে মিতু ছোট থেকে ইমনের পেছনে লেগে রয়েছে। একদিন সুপ্রভা পরীক্ষায় ফেল করে তার মা অচেতন ভাবে তাকে বলে ছাঁদ থেকে লাফ দিয়ে মরে যেতে সত্যি সত্যি সে ছাঁদ থেকে লাফ দিয়ে মারা যায়। সুপ্রভা মারা যাওয়ার পর তারা আবার নতুন বাসা ভাড়া নেয়। হাসানুজ্জামানের অফিস থেকে যে টাকা পেয়েছে ইমনের চাকরি হওয়ার আগ পর্যন্ত তা দিয়ে চলে যাবে এই ভেবে।

সুরাইয়া মনে প্রাণে বিশ্বাস করে হাসানুজ্জামান একদিন ঠিক ফিরে আসবে তবে কবে..? এক পীর সাহেব বলেছে ইমনের বিয়ের দিন রাতে ফিরে আসবে হাসানুজ্জামান। সুরাইয়া সেই আশা অধির আগ্রহে অপেক্ষা করে যাচ্ছে তার জন্য। এক সময় মিতুর বিয়ে ঠিক হয় কিন্তু সে সেখানে বিয়ে করবে না। তাই তার বাবা জামিলুর রহমান কে সরাসরি বলে দেয় সে ইমন কে বিয়ে করতে চায়। বিয়ে হয় ইমন এবং মিতুর। সেই রাত্রে সুরাইয়া সারা রাত ঘুমায় নি বাহিরে বসে শুধুই অপেক্ষার পালা গুনে যাচ্ছে কবে আসবে সেই মানুষ টা..?
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠেছে৷ সুরাইয়ার হাত পা জমে গেল। সেই মানুষ টা কি এসেছে? কে এসেছে? কে?

অাদৌ কি ফিরে আসবে হাসানুজ্জামান?

উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপটে ছিল সুরাইয়া। হারানো স্বামী ফিরে আসবে এই ভেবে ভেবে। স্বামী সন্তান নিয়ে সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকা স্বপ্ন দেখা মানুষ টা এক সময় স্বামীর অপেক্ষায় অপেক্ষায় বাস্তব দুনিয়া থেকে হারিয়ে যায় অনেক দূরে। প্রতিটি মুহুর্তে তিনি তাকে মনে করে গেছে। লেখক অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে সুরাইয়া কে।

প্রিয় উক্তি –
★ মৃত মানুষদের জন্য আমরা অপেক্ষা করি না, আমাদের সমস্ত অপেক্ষা জীবিতদের জন্যে।

★পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনিসগুলি বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমন জোছনা, বৃষ্টি, মানুষের ভালোবাসা।

★কেউ কারো মতো হতে পারে না, সবাই হয় তার নিজের মতো। সব মানুষই আলাদা।

★ বিলাই আর পুরুষ মানুষ এই দুই জাতের কোনো বিশ্বাস নাই৷ দুইটাই চুকচুকানি জাত।

বই পরিচিত –
বইঃ অপেক্ষা
লেখকঃ হুমায়ুন আহমেদ
প্রকাশনীঃ আফসার ব্রাদার্স
প্রকাশকালঃ ডিসেম্বর ১৯৯৭
প্রচ্ছদ মূল্যঃ ৩০০৳

রিভিউঃ Himu-হিমু

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ৩৭

বই: দেবী
লেখক: হুমায়ুন আহমেদ
ধরন: পরাবাস্তব ( প্যারানরমাল) গল্প
প্রচ্ছদ : শাহাদত চৌধুরী
প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনী

দেবী উপন্যাসটি প্রথম পড়েছিলাম যখন আমি খুব সম্ভবত ক্লাস এইটের কিশোরী। হুমায়ুন আহমেদের বেশকিছু বই ততদিনে পড়ে শেষ করেছি …. নন্দিত নরকে , শঙ্খনীল কারাগার , তোমাকে । দেবী পড়বার পরের অনুভূতি এখনও স্পষ্ট মনে আছে।
সে যে কি ভয় পেয়েছিলাম !
অশরীরি আত্মার পারলৌকিক জীবন।
এক পুরা মন্দিরের দেবী মূর্তি, রানু নামক এক ষোড়ষী কিশোরীর উপর ভর করেছিল রানুর জীবনের এক ভীষন দুর্ঘটনার দিনে। তারপর থেকে ধীরে ধীরে রানু কেমন যেন অপ্রকৃতস্থ হয়ে যেতে লাগলো। গভীর রাতে সে নিজে নিজে কথা বলে , খিল খিল করে হেসে উঠে, নুপূরের শব্দ শুনতে পায় , দূর থেকে বকুল ফুলের সুঘ্রাণ ভেসে আসে, সে ভবিষ্যতের ঘটনাগুলো দেখতে পায় । তার সাদামাটা বর , আনিস , বুঝতে পারে না তার অপ্সরী সম স্ত্রী রানুর জটিল সমস্যা ।
মিসির আলী নামক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের প্রফেসরের কাছে রানুর অসুখটার ব্যাপারে পরামর্শ নিতে যায় আনিস। মিসির আলী যৌক্তিকতার সাথে খুঁজে বের করতে চান রানুর ভৌতিক অভিজ্ঞতা গুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
রানুদের বাড়ীওয়ালার ভীষন লাজুক বড় মেয়েটি, নীলুর সাথে রানুর খুব সহজেই বন্ধুত্ব হয়ে যায়।
নীলু গোপনে এক অচেনা যুবকের সাথে প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু নীলুর সেই প্রেমিক, সাবেত, যে এক ভয়ানক মানসিক রোগী , serial killer ! নীলু একদিন সাবেতের সাথে বেড়াতে গেলে পরে সাবেত নীলুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলবার উপক্রম করে। সেই সময় রানুর উপর ভর করা দেবী , নীলুকে সাবেতের হাত থেকে বাঁচায়।
সেই রাতে রানু মারা যায়।
তারপর থেকে রানুর অদ্ভুত স্বভাবগুলো নীলুর মাঝে ক্রমশ
ধরা দিতে থাকে ।
ড: হুমায়ুন আহমেদ খুবই সাধারন ভাষায় কিছু অসাধারণ লেখা লিখেছিলেন। “দেবী” তার মাঝে একটি উপন্যাস।
“দেবী” এর পরবর্তী পর্ব “ নিশীথিনী “ ছিল আরও জটিল আর রহস্যের।
সেই বইগুলোর সাথে আমার কৈশোরের অনেক আনন্দবহ স্মৃতি সম্পৃক্ত হয়ে আছে ।
কিছুদিন আগে আবারো পড়লাম “দেবী “ বইটি।
কি আশ্চর্য , সেই একই অনুভূতি , রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারি না , অদ্ভুত শব্দ হলেই চমকে উঠি !
তবে রানুর চরিত্রের কিছু ব্যাখ্যা নিজের মত করেই চিন্তা করলাম ডাক্তারি বিদ্যার আঙিক থেকে ।
রানু খুব সম্ভবত PTSD ( post traumatic stress disorder )তে ভুগছিল মন্দিরের দুর্ঘটনার পর থেকে। সেই মন্দিরের অলৌকিক ঘটনাটি আর পরবর্তী Visual hallucination গুলো হয়তো ছিল তার defense mechanism যা অনেক ক্ষেত্রেই ঘটে যখন মানুষ জীবনে অনেক বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
মাত্র ১৪৮ পৃষ্ঠার পেপারব্যাক প্রিন্টে প্রকাশিত বইটি বাংলাভাষায়
লেখা সেরা মৌলিক রহস্যোপন্যাস গুলোর মাঝে অন্যতম।

©বিপাশা বাশার
অস্টিন, টেক্সাস

বিঃদ্রঃ- আমি ডঃ হুমায়ুন আহমেদের একজন ভক্ত পাঠক। আমার হৃদয়ে তাঁর লেখা গল্প উপন্যাসগুলো পড়বার পর ভাল লাগার রেশ এখনও কাটেনি।

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ৩৬

#পাঠ প্রতিক্রিয়া
#এতটা পথ পেরিয়ে…
দাম ৩০০ টাকা
প্রকাশক- Lalmati Prakashan
এক মুঠো আকাশ – Ek Mutho Akash –
কলমে- Himu-হিমু

মাস সাত-আট কি তারও আগে একটা ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রথম পড়েছিলাম ‘ এতটা পথ পেরিয়ে ‘। তারপর কয়েক মাস আগে সেটাকে নিজের হাতে পাই বই হিসাবে।

সামাজিক , প্রেমধর্মী উপন্যাস হলেও ‘ প্রেমের ‘ চেয়েও বেশি উপন্যাস জুড়ে বন্ধুত্বের গল্প। একটা ছোট বেলার গল্প। একটা কথা রাখার গল্প। একটা থেকে যাওয়ার গল্প। একটা ফিরে আসার গল্প। আর সব শেষে একটা ভালোবাসার গল্প !

” অভিক-মেঘনা ” …! এই দুটো ক্যারেক্টার ! সত্যি বলতে যখন গল্পটা শেষ করেছিলাম , সুখ সমাপ্তির পরও আমি খুব কেঁদেছিলাম। মানতে খুব খুব কষ্ট হচ্ছিল যে এই গুলো আসলে বাস্তবের চরিত্র না , এরা সত্যি না , এটা এদের সত্যি গল্প না।

উপন্যাস জুড়ে একটা ছোটবেলা পেয়েছিলাম। যে ছোটবেলাতে বন্ধুদের মধ্যে ওতো জটিলতা থাকে না , থাকেনা ছোঁয়া – ছুঁয়ির , এঁটো খাওয়ার বাছ-বিচার।

উপন্যাস জুড়ে নিজের স্কুল লাইফটা যেন আরও একবার এনজয় করেছি , যদিও সেটা এখনো শেষ হয়নি , কিন্তু প্রায় শেষের দিকেই। পড়তে পড়তে খালি একটা কথাই মনে হয়েছে , এটাই হয়তো জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় যেটা প্রায় কাটিয়ে ফেলেছি !

অভিক , মেঘনা , নীল , সব্য , রিতমা এরা আমার চোখে বড্ডো বেশি জীবন্ত লেগেছে। পড়তে পড়তে কখনো মনে হয়নি যে এটা একটা গল্প পড়ছি , বরং মনে হয়েছিল ওদের সব্বাই কে চোখের সামনে বড়ো হতে দেখলাম।

আর সবশেষে লেখিকার লেখা নিয়ে কোনো প্রশ্নতেই যাবো না , ওতো সাহসও আমার নেই। অত্যন্ত বলিষ্ঠ লেখনী , সেই জন্য পুরো উপন্যাসটা এক নিঃশ্বাসে পড়বার পরও টানা দু-তিন আমি ঐ গল্পের চরিত্র গুলোর মধ্যেই ডুবে বসেছিলাম।

এমনকি কম করে অন্তত ১৫-১৬ বার একই বই পড়বার পরও আজও যখন মন কেমন করে বইটা নিয়ে বসে যাই , চুপচাপ। কখনো পড়তে পড়তে পুরোনো লাগেনা , বরং প্রত্যেক বারই নতুন করে ভালো লাগে । ” অভিক-মেঘনা ” কখনো পুরনো হবেনা , “এতটা পথ পেরিয়ে ” কখনো পুরোনো হবেনা।

অসংখ্য ধন্যবাদ Tamali Pal Burman দি , এই অসাধারণ উপন্যাসটার জন্য। এরকম আরও অনেক বই উপহার পাওয়ার আশায় রইলাম।

এরকম আরও অনেক বন্ধুত্বের গল্প শোনা বাকি রইলো। এরকম আরও অনেক গল্প দুমলাটে প্রকাশের অপেক্ষায় রইলাম।❤️

Categories
Books

যে শ্রাবণে বৃষ্টি নেই সে শ্রাবণ আমাদের নয়। তোমার যাওয়ার দিনে আকাশকে কি, না কাঁদলে মানায়?

—– রুদ্র গোস্বামী.

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ৩৫

#বই_আলোচনা

বইয়ের নামঃ কল্যাণী
লেখকঃ জীবনানন্দ দাস

রূপসী বাংলার কবি নামে পরিচিত এই মানুষটির সাথে সবারই কমবেশি পরিচয় কবিতার মধ্যেই। গদ্যজগতে আমার পড়া জীবনানন্দের প্রথম উপন্যাস “কল্যাণী”।

বইটি নিয়ে সুন্দর একটা স্মৃতি আছে আমার। এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচিত হই বইটির সাথে৷ তাকে কিনে দেয়া কিছু বইয়ের লিষ্টে এটিও ছিলো। পুরো নীলক্ষেত তন্ন তন্ন করেও কোথাও এই বই পাইনি, কোনো দোকানদার এই বইয়ের সন্ধানও দিতে পারেনি। সবাই কল্যাণী নামের কোনো কবিতা সংকলনে আছে কিনা তা দেখে হতাশা ভরে বললেন এই নামে কোনো বই নেই। কোনো অনলাইন বুকশপও সন্ধান দিতে পারেনি বইটির। শেষমেষ জাবির বুকস জানালো ঐতিহ্য থেকে এই বইটি প্রকাশ হয়েছিলো, তাদের স্টকে থাকলে পেতে পারি। যোগাযোগ করলাম ঐতিহ্য তে, পেয়েও গেলাম। এজন্যেই হয়ত তারা ” ঐতিহ্য”।

এবার বইয়ের ভেতরের প্রসঙ্গে আসি। জমিদার পঙ্কজবাবু আর গুনময়ী দেবীর সংসারে তিন ছেলে বিজলি, প্রসাদ, কিশোর আর এক মেয়ে কল্যাণী। এর মধ্যে লিড চরিত্র কেবল পঙ্কজ চৌধুরী, কল্যাণী। লিড চরিত্রে আরেকজন মানুষ আছেন, চন্দ্রমোহন।

বিলেতে থাকা বড় সন্তান বিজলি আর কলকাতার আধুনিকতায় উচ্ছন্নে যাওয়া কিশোরকে নিয়ে যখন পঙ্কজবাবুর চিন্তার কোনো শেষ নেই তখন উকিল হিসেবে প্র্যাকটিস করা প্রসাদ পঙ্কজবাবুর ভরসা। মেয়ে কল্যাণীও কলকাতায় থেকে পড়াশুনা করে। থিয়েটার, বায়েস্কোপ, তাশ প্রায় সব আধুনিক নেশাই ছিলো কল্যাণীর।

চোখের সমস্যায় আইএ পরীক্ষা দেয়া হলোনা কল্যাণীর। শালিখবাড়ির তেতলা এই জমিদার বাড়িতে বাবা মায়ের সাথে কিছুদিন থেকে আবার কলকাতায় ফেরে কল্যাণী। পুজোর ছুটিতে শালিখবাড়িতে ফিরলে আগন্তুক হিসেবে সামনে আসে চন্দ্রমোহন। চন্দ্রমোহনের অতিরিক্ত চাটুকারিতা বুঝতে পারে কেবল কল্যাণী। কল্যাণীর ডায়েরী থেকে স্মৃতির পাতায় বেরিয়ে আসে অবিনাশ। দুরন্ত কিশোরীর লাগামহীন অনুভূতির এক প্রেম প্রেম খেলা। কিন্তু গত এক বছরে বাস্তবের করাঘাতে অবিনাশ অনেক কিছুই শিখে গেছে। তাই কল্যাণীর মায়াময়ী প্রেমের আকুতি অবলীলায় ফিরিয়ে দেয় অবিনাশ।

একসময় নিজের কাছে হেরেই চন্দ্রমোহনকে বিয়ে করে কল্যাণী৷ অপরূপ রূপসুধা নিয়ে পৃথিবীতে আসা কল্যাণী দেখতে অদ্ভুত অসুন্দর চন্দ্রমোহনকে বিয়ের পর হুট করেই বদলে যায়। চন্দ্রমোহনের সামনে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়ে কল্যাণী।

ব্যাক্তিগত মতামতঃ

উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৩২, বর্তমান সময়ের মতন সহজ সরল প্রাঞ্জল ভাষা এই বইতে পাবেন এমনটা আশা করা যায় না।

ফ্ল্যাপ নেই, লেখক পরিচিতি নেই, কোনো ভূমিকা নেই, সম্পাদকের কলামও নেই এমন একটা বই নিয়ে আলোচনা হবে।

জীবনানন্দের কবিতার সাথে যাদের পরিচয় আছে তারা ভালো জানবেন কত সূক্ষ্ম বর্ণনামূলক হয় এই মানুষটার লেখা, ব্যতিক্রম হয়নি এখানেও। থরে থরে সাজানো গভীরতর লেখা।

কোনো বর্ণনা না দিয়েও কল্যাণীর যে একটা ইমেজ লেখক তৈরী করেছেন তা অসাধারণ।

ডায়লগ অংশটা পড়তে বেশ বেগ পেতে হয়েছে আমাকে। অবশ্য এটা নিয়ে অভিযোগ করার মতন বেশি কিছু নেই। তখনকার রচনা আর জীবনানন্দ হিসাব করলে এটুকু করতে হবে, তবে ডায়লগের মাঝে গভীরতা অনেক। কম কথায় অনেক কিছু বুঝিয়েছেন।

লেখার মাঝে বন্ধনীর ব্যবহার যেমন লেখাকে বুঝতে সাহায্য করে, তার মাঝের সাইডনোটগুলো অনেক কিছু সহজ করে দেয় এখানে এই জিনিসটা লেখাকে আলাদা একটা মাত্রা দিয়েছে।

কল্যাণী যখন চন্দ্রমোহনের থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইছিলো তখন হুট করেই অবিনাশের একটা দিপাক্ষিক আগমন লেখার মাঝে দারুন টুইষ্ট নিয়ে আসে। টুইষ্টিং চরিত্রকে এত চমৎকার করে ব্যবহার করতে দেখিনি অনেকদিন।

মনে মনে একটা পরিনতি ভেবে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যরকম একটা মজা আছে, শেষে গিয়ে নতুন কিছুর স্বাদ পাওয়া যায়। এই ধারনাটা এখানে খাটেনি, চন্দ্রমোহনকে যেমন লোভী, স্বার্থন্বেষী ভেবে পরিনতির দিকে গিয়েছি শেষেও হলোও তাই। বিয়ের একবছরের মাথায় কল্যাণী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, শেষ চিঠির পর যখন চার পাঁচ লাইনে পরিনতি লেখা হলো তখনও ছোট্ট সন্তানকে পাশে নিয়ে শুয়ে থাকা কল্যাণীর এলোমেলো কাপড়ের শরীরে লালসায়িত হয় চন্দ্রকান্ত অপরপক্ষে কল্যাণী আবার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তবুও দমে নেই চন্দ্রনাথ, সে মিলনের জন্য রাতের অপেক্ষায়।

ওভারঅল মতামত দেবার হলে সুন্দর একটা সৃষ্টিকর্মের সাথে পরিচিত হলাম। ভাষার ব্যবহারে যে সামান্য কঠিনতা ফেস করতে হয়েছে সেটাকে মেনে নিলে সুন্দর একটা পাঠ অনুভূতি।

বই সম্পর্কিত তথ্যঃ

বইয়ের নামঃ কল্যাণী
লেখকঃ জীবনানন্দ দাস
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
মুদ্রিত মূল্যঃ ১৪০ টাকা
প্রকাশনীঃ ঐতিহ্য

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ৩৪

#বুক_রিভিউ

বইঃ বরফ গলা নদী
লেখকঃ জহির রায়হান
প্রকাশকঃ অনুপম প্রকাশনী
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণঃ ধ্রুব এষ
পৃষ্ঠাঃ ৯৬
মূল্যঃ ১৪০ টাকা

#সংক্ষিপ্ত_লেখক_পরিচিতি
জহির রায়হান প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার। বাংলা সাহিত্যের গল্প শাখায় অবদানের জন্য তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৭৭ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক এবং সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেন।

তার রচিত প্রথম উপন্যাস শেষ বিকেলের মেয়ে।অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হল হাজার বছর ধরে ও আরেক ফাল্গুন। হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য ১৯৬৪ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

#কাহিনী_সংক্ষেপণ
“বরফ গলা নদী” বইটি একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের এবং তাদেরকে ঘিরে আবির্ভূত হওয়া কিছু চরিত্রের সমন্বয়ে তৈরি দৈনন্দিন জীবন-যাত্রার গল্প। সামান্য বেতনে কেরানির চাকরি করা হাসমত আলি এবং তার স্ত্রী সালেহা বিবির ঘরে পাঁচটি সন্তান। প্রেসে কর্মরত বড় ছেলে মাহমুদ, ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা বড় মেয়ে মরিয়ম, তেরো-দোদ্দ বছরের চটপটে কিশোরী হাসিনা, সাত বছরের খোকন এবং চার বছরের মেয়ে দুলু। এদের নিয়েই হাসমত আলীর সংসার।

কেরানির চাকরি করে সামান্য উপার্জনে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খুব বেশি খরচ দিতে পারেননি হাসমত আলি। বড় ছেলে এস এস সি পরীক্ষার পর পত্রিকায় চাকরি করে নিজের চেষ্টায় বি এ পাশ করে। তার গ্রাজুয়েট হবার পিছনে নিজের কোন অবদান খুঁজে পান না হাসমত আলি। নিম্নপদস্থ কেরানিদের পক্ষে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখানো শুধু কষ্টসাধ্য নয়, দুরূহও বটে। তাই মাহমুদের নিজের ইচ্ছার উপর কোন খবরদারি করতে পারেন না তিনি।

পরিবারের বড় ছেলে মাহমুদের স্বপ্ন ছিল সে একদিন লুই ফিশার হবে। কিন্তু আশা নামক প্রবৃত্তিটি কত দুর্দমনীয়। একদিন যে ছেলেটা লুই ফিশার হওয়ার কল্পনায় বিভোর ছিল প্রাত্যহিক ঘটনার অভিজ্ঞতায় স্বপ্নগুলো খান খান হয়ে গেছে তার। সাংবাদিকতা পেশায় এসে মানুষের জোচ্চুরি, বাটপারি, মিথ্যা আর বড় লোকদের গরীবের উপর ক্ষমতার আধিপত্য দেখে তার সব স্বপ্ন বাস্তবতার কাছে হারমানে। তার মেজাজ সব সময় খিটখিটে থাকে। ভাল কথাও সহ্য হয় না । পত্রিকায় ভুয়া খবর লিখতে লিখতে অতিষ্ঠ হয়ে সে চাকরি ছেড়ে দেয়।

পরিবারের বড় মেয়ে মরিয়ম। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য সেলিনা নামে একটি মেয়েকে পড়াতে হয় তাকে। সেখান থেকে পরিচয় হয় মনসুর নামের একটি ছেলের সাথে। মনসুর সেলিনার বড় বোনের দেবর। মনসুর মাঝে মাঝে মরিয়মকে তার বাসায় এগিয়ে দিতে যায়। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা মরিয়মের ভাল না লাগলেও একসময় স্বাভাবিক হয়ে যায়। মনসুর মাঝে মাঝে মরিয়মদের বাসায় যাওয়া আসা করতে শুরু করে। সে মরিয়মকে প্রচন্ড করম ভাবে পছন্দ করত। ব্যাপারটা মরিয়মও বুঝতে পারে। কিন্তু অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য মরিয়মের এখন পুরুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে ভয় হয়। পরিবারের মেজো মেয়ে হাসিনা। প্রচন্ড রকম চঞ্চল স্বভাবের। তার এই উশৃঙখল চলাফেরা তার পরিবারের কেউ ভাল চোখে দেখে না। বিনা সংকোচে সবার সাথে মিশে যায়। কথা বলার কোন বাচ-বিচার নেই। কারও কোন কিছু পছন্দ হইলে হুট করে সেটা চেয়ে বসতেও দ্বিতীয়বার ভাবে না।

মরিয়মের বান্ধবী লিলি। একই সাথে কলেজে পড়েছে মরিয়ম আর লিলি। মাঝে মাঝে লিলি মরিয়মদের বাসায় যাওয়া আসা করত। মরিয়মের ভাইয়ের সাথেও বারকয়েক দেখা হয়েছে। কিন্তু তেমন করে কথা হয়নি। আসলে মরিয়মের ভাই একটু খিটখিটে স্বাভাবের তাই হয়ত কথা বলাটা হয়ে ওঠেনি। তবে লিলি কিন্তু মনে মনে বেশ পছন্দ করত মরিয়মের ভাই মাহমুদকে। এভাবেই এগিয়ে চলে কাহিনী। বাকিটা বই পড়েই জেনে নিন।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
পাঠ প্রতিক্রিয়ার কথা আর কি বলব। বইটা যখন হাতে পাওয়ার পর প্রথমে দুই তিন পৃষ্টা পড়ে রেখে দিয়েছিলাম। কেমন জানি ভাল লাগছিল না। কিছু দিন পর আবার পড়া শুরু করলাম। পরেরবার পড়তে ভালই লেগেছে। আসলে প্রথম দিকের তুলনায় গল্পের শেষের দিকটা যে পুরো অন্য দিকে মোড় নেবে বুঝতেই পারিনি। এক ঝটকায় যেন পুরো গল্পটায় বদলে গেলো। বইটা না পড়লে আসলে কিছুই বুঝা যাবে না।

#ভাললাগা
প্রথম পুরুষে লেখা গল্পটির ভাষা খুবই সহজ এবং সাবলীল ছিল। বুঝতে একটুও কষ্ট হয়নি। গল্পের নায়িকা মরিয়মের চরিত্রটা বেশ ভাল লেগেছে। সহজ সরল শান্ত স্বভাবের একটি মেয়ে। কিন্তু তার শেষ পরিণতি…….
এইটা বলা যাবে না। জানতে হলে অবশ্যয় বইটি পড়তে হবে।
#মন্দলাগা
প্রত্যেকটা জিনিষেরই ভাল এবং মন্দ দিক থাকে। এতগুলো ভালর মাঝে মন্দগুলো হয়ত আমাদের চোখে পড়ে না। মন্দলাগা বলতে শেষ পর্যায়ে এসে মনসুরের বদলে যাওয়াটা বেশ খারাপ লেগেছে। শেষের দিকটা একটু অন্য রকম হলেই বোধ হয় বেশি ভাল হতো।

#বইটি_কেন_পড়বেন
মাহমুদ চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর কি হয়েছিল? সে কি আবার নতুন কোন চাকরি পেয়েছিল নাকি ভবঘুরে জীবন যাপন করছিল?
আচ্ছা মনসুর যে মরিয়ম কে পছন্দ করত সে কথা মরিয়মকে কখনো বলেছিল? যদি বলেও থাকে তাহলে তাদের শেষ পরিণতি কি হয়েছিল?
আরেকটা প্রশ্ন মরিয়মের অতীতের যেই তিক্ত অভিজ্ঞাতার কথা বলা হয়েছে, কী ছিল সেই তিক্ত অভিজ্ঞাতা? এগুলো জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।

————রুবসইয়া আক্তার রুবি 🥀💛

Categories
Books

আমাদের কোন প্রেমিকা না থাকলেও একটা কেউ ছিল। যার সামনে দাড়ালে আমাদের বুক ধুপ ধুপ করে উঠত। দরজা বন্ধ করে ড্রয়িং খাতায় তাকে আঁকতাম। কপালের টিপ মাঝখান বরাবর না বসলে ‘ রাবার ‘ দিয়ে মুছে আবার আঁকতাম। সেদিন আর পড়ায় মন বসত না ! কী সব সোনালী দিন ছিল…

আহা !😕

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ৩৩
#প্রথম_বই_রিভিউ
.
বইয়ের নামঃ নিঃসঙ্গ নক্ষত্র
লেখকঃ সাদাত হোসেন
ঘরানাঃ সমকালীন উপন্যাস
প্রচ্ছদঃ খন্দকার সোহেল
প্রকাশনীঃ ভাষাচিত্র
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৭০
মুদ্রিত মূল্যঃ ৪৭০ টাকা
প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা, ২০১৮

প্রতিটা উপন্যাসই যেন কোনো না কোনো মানুষের জীবন।জীবন মানেই সাজানো দু:খ সুখের কোনো চরিত্র।প্রতিটি মানুষেরই তার চেনা জগতের বাইরে এক নিজস্ব জগত থাকে। সে জগতের সাথে কেবল ওই মানুষটি বাদে আর কারো পরিচয় থাকেনা। এ নিজস্ব জগতে মানুষ অনেক নিঃসঙ্গ থাকে। তার চারপাশে এত মানুষ, তবুও সে নিঃসঙ্গ।সবাই কেমন বুকে মধ্যে ডুবে ডুবে লুকিয়ে থাকে।তারপর বানের জলের মত সব কিছু ভাসিয়ে দেয়।

জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক সাদাত হোসাইন এমন ভাবেই মানুষের জীবনকে তুলে ধরেছেন নি:শঙ্গ নক্ষত্রে। অন্দরমহল, আরশিনগর, মানবজনম,নির্বাসনের মতই জনপ্রিয়তার শীর্ষে নি:সঙ্গ নক্ষত্র। একজন সাধারন মানুষের নিরন্তর জীবন সংগ্রাম ও নিঃসঙ্গতার গল্প এ উপন্যাসের মূল বিষয়।

এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সংগ্রামী নারী(অনু)।পরিবারে বাবা,ভাই না থাকলে কতটা অসহায় পরিবেশ তৈরি হয়,সেটায় তুলে ধরা হয়েছে।মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়ে অনু সর্বদা জীবনের পথে সংগ্রাম করে অতিক্রম করতে থাকে।সাহায্য করার তো কেউ নেই,তবে বিপদে তাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে আশে পাশের মানুষের অভাব ছিল না।গল্পের এক পর্যায়ে অনু রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়।তখন থেকে তৈরি হয় গল্পের নতুন মোড়।
উপন্যাসের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে শামীম নামের চরিত্র।শামীম মূলত একজন অসাধু ব্যবসায়ী।কিন্তু বাস্তব মানুষের জীবনের মতই শামীমের চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে।সাধারন মানুষের মত শামীম অসাধু ব্যবসায়ী হয়েও লোকচক্ষুর সামনে সাধুভাব দেখায়।প্রকাশ্যে বইয়ের ব্যবসার নামে মাদকদ্রবের ব্যবসা করতে থাকে। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের মধ্যে রয়েছে তনু, অয়ন, নুহা ও ওয়াসিম। এসব চরিত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে উপন্যাসের গল্প। কখনো রোমাঞ্চকর,কখনো মধ্যবিত্তের কুঠিরের আহাকার।
গল্প যাতে অহেতুক দীর্ঘ না হয়ে পড়ে কিংবা পাঠকের মনে বিরক্তির উদ্রেক না করে সে জন্য লেখক বরাবরই সচেষ্ট ছিলেন পুরো উপন্যাস জুড়ে। ভাষাশৈলী অন্যান্য উপন্যাসের মতই বেশ সহজ-সাবলীল ও প্রাঞ্জল ছিল। পুরো উপন্যাস জুড়েই বেশ সহজ ভাষায় লেখক উপন্যাসের গল্প বিবৃত করেছেন।
অনেকে বলে সাদাত হোসাইনে লেখা হুমায়ূন আহমেদের সাথে মিল পাওয়া যায়।আমি বেশিই হুমায়ন আহমেদের উপন্যাস পড়ি।আর এবারে সাদাত হোসাইনের উপন্যাস পড়তে গিয়ে হুমায়ন আহমেদের লেখার মত অনুভূতি পেয়েছি।সেকারনে পাঠক হিসেবে বেশ ভালো লেগেছে নি:সঙ্গ নক্ষত্র।
এ উপন্যাসের গল্প একজন পাঠককে পুরোটা সময় বইতে ধরে রাখবে এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই আর।

সাদাত হোসাইনের নির্বাসন,মানবজনম,আরশিনগর বই গুলো কাছেই আছে।নি:সঙ্গ নক্ষত্র শেষ করার পর অন্য বই গুলো পড়ার প্রতি আরো আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।

অনেক বই পড়া হলেও,এটায় আমার কোনো বইয়ের উপর প্রথম রিভিউ।
———আবরার শাহরিয়ার সাদাব

Categories
Books

একটা দুসংবাদ আছে- যারা আমাকে ভেঙেচুরে টুকরো কাচের মতো ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো, তাদের জন্য।

দুঃসংবাদটি তাদের জন্যও, যারা ভেবেছিল আমি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে আর কখনো উঠে দাঁড়াতে পারব না। মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবো গা ঘিনঘিনে কাদায়। আমাকে ছিঁড়ে কাগজের মতো কুচিকুচি করে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলে আমি হারিয়ে যাবো দিকশূন্যপুর।

যে আমাকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে নিতে চেয়েছিলো অতলান্তিক বিষাদ সমুদ্রে, ডুবিয়ে দিতে চেয়েছিলো এক পৃথিবী বিবমিষায়।
যে আমাকে অযুত রাতের কান্না লিখে দিয়ে বুকের ভেতর খুঁড়ে দিতে চেয়েছিলো শ্যাওলা জমা স্যাঁতসেঁতে এক মজা পুকুর।

যে আমাকে দুঃখ দিয়ে, পুড়িয়ে শেষে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলে ছাইয়ের মতন।

তাদের জন্য দুঃসংবাদ।

আমি এখন পাখির মতন, আমায় ছিঁড়ে কুচিকুচি ভাসিয়ে দিলে, এখন আমি ডানা মেলে আকাশজুড়ে উড়তে জানি।
কাটা যায়না, ভাঙা যায়না, আমি এখন জলের মতন।
ভেসে যেতে যেতেও হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দিতে আমিও জানি।
আমিও জানি ছড়িয়ে থাকা টুকরো কাচের শরীর থেকে, দু ফলা এক ছুরি হতে।

এই যে মানুষ দুঃখ দিতে দক্ষ ভীষণ, সেও জানুক- আমি এখন হাসতে জানি, শ্যাওলা জমা পুকুর জুড়ে আমিও এখন রোদের মতো ভাসতে জানি, প্রস্থানের গল্প লিখেও ইচ্ছে হলেই আবার ফিরে আসতে জানি।

আমি এখন পুড়ে যাওয়া ছাইয়ের ভেতর জেগে ওঠা ফিনিক্স পাখি।

আমি এখন মৃত্যু মেরে বাঁচতে জানি।

~ সাদাত হোসাইন

Categories
Books

বই নিয়ে কথা

রিভিউঃ ৩২

বইয়ের নাম: দেবী
লেখকের: হুমায়ুন আহমেদ
মূল্য:১৪০

“দেবী” হুমায়ুন আহমেদের এক অন্যতম রহস্যময় উপন্যাস। অসংখ্য কাল্পনিক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন নিয়ে সাজানো হয়েছে গল্পটি। এই উপন্যাসের মাধ‍্যমেই বাংলা সাহিত্যে আসেন মিসির আলি

মিসির আলি মানেই রহস্য। দেবী বইটি ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রহস‍্য। মিসির আলী এক তরুণীর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেন। তরুণীর নাম রানু, যে কিনা একজন বিবাহিতা স্ত্রী। রানু এমন একটি মেয়ে যে কিনা ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারে। রানুর স্বামীর নাম আনিস। গল্পের প্রথমদিকে একদিন হঠাৎ রাতে ভয় পেয়ে যায় রানু। দিন-রাত অদ্ভুত শব্দ শুনতে পেত রানু, অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে পেতো। আর এসব ঘটনার কারণেই আনিসের দেখা হয় মিসির আলীর সাথে। রানু ও আনিস যে বাসায় থাকতো, সে বাড়ির বাড়িওয়ালার দুই মেয়ে ছিল। আর তার বড় মেয়ের নাম ছিল নীলু, যে কিনা এই গল্পের আরেকটি অন্যতম চরিত্র। গল্পে রানুর শৈশব এর অনেক ঘটনা বেরিয়ে আসে এবং একজন খারাপ মানুষের ও উদয় হয় যাকে নীলু পায় এক পত্রিকার বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে। গল্পের শেষ পর্যায়ে দেখা যায়, রানু খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং আনিসকে বলতে থাকে “নীলুর খুব বিপদ, আমাকে যেতে হবে, আমাকে যেতে হবে।” আর এক পর্যায়ে সে মারা যায়। আর রানুর মারা যাওয়ার পর থেকে নীলু চেহারা একবারে রানুর মতো হয়ে যায়। কিন্তু রহস্য টা রহস‍্যই থেকে যায়।

খুবই সুন্দর ও অসম্ভব রহস্যময় একটি গল্প। গল্পটি পড়ার সময় পরবর্তী রহস্য জানার জন্য একটা উদ্দীপনা কাজ করবে। যারা রহস্য উদ্ঘাটন করতে ভালোবাসে, তাদের জন্য খুবই ভালো একটি বই।

পিক ক্রেডিট: আনিকা তাহসিন

উল্লেখ্যঃ ২০১৮ সালে চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান এবং অনিমেষ আইচ অভিনীত হুমায়ুন আহমেদ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত করেন দেবী সিনেমা।

Categories
Books

পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব আপনার…

আপনি কীভাবে বেড়ে উঠেছেন, জানি না। তবে, আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে ‘ডিভাইস প্রজন্ম’ হিসেবে না গড়তে চাইলে বাসা-বাড়িতে পারিবারিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করুন। একদিনেই তা হয়তো হবে না। তবে চেষ্টা করলে ৫/৭ বছরে একটা সমৃদ্ধ পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে উঠবে ইন শা আল্লাহ।

কল্পনা করুন তো, আপনার স্টাডি রুমে কোনো মেহমান বসলে কেমন লাগবে? আগত মেহমান আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচি সম্পর্কে এবং আপনার পরিবারের ব্যাপারে কেমন একটা পজেটিভ ধারণা নিয়ে তারা ফিরবে।

আপনার বাচ্চারা একাডেমিক এক্সিলেন্সির পাঠ পাবে লাইব্রেরিতে বসে। কোনো বাচ্চা মোবাইলে গেম খেলতে চাইলে তাকে শর্ত দিন রিডিং রুমে বসে ১০ পৃষ্ঠা পড়লে ১০ মিনিট খেলতে পারবে। বাচ্চাদের বইয়ের সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতে হবে। বাচ্চারা পৃষ্টা ছিঁড়ে ছিঁড়ে বড়ো হয়ে উঠুক।

কোনো প্ল্যানের দরকার নাই। যত দ্রুত সম্ভবত আপনার ড্রয়িং রুমেই একটা বুকসেলফ কিনে ফেলুন। কতকিছুই তো আছে! টিভি, সোফা, ফুলের টব, ওয়ালমেট। সাথে একটা বুকসেলফ কিনুন না। মনে রাখবেন, প্রথমেই বই নয় আগে একটা বুকসেলফ কিনতে হবে। বুকসেলফ থাকলে বই সেখানে ঢুকবেই।

প্রতি মাসে ৫০০ টাকার বই কিনুন। স্রেফ ৫০০ টাকা! অনেক বেশি মনে হচ্ছে? এই ৫০০ টাকা আপনার নেক্সট জেনারেশনকে এক্সিলেন্সি এনে দিবে ইন শা আল্লাহ।

সন্তানকে কত কী কিনে দিচ্ছেন। সাথে নবিজির জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, কুরআনের একটা সহজ অনুবাদ, একটা হাদিস গ্রন্থ, ইসলামি জীবন দর্শনের সহজ পাঠ, ইসলামি গল্প-উপন্যাস, ইতিহাস, মানবিক গুনাবলীর সাহিত্য সংগ্রহ করে দিন না। জাহেলিয়াতের চতুর্মুখী আক্রমণের মোকাবিলায় কেন নিশ্চুপ থাকছেন?

প্রতি পরিবারে একটা লাইব্রেরি থাকা নিশ্চিত করা দরকার। উন্নত বিশ্বে বাড়িতে স্টাডি রুম মাস্ট। আমাদের দেশে হয়তো কঠিন আবার চাইলে সহজ। চেষ্টা তো করুন, অন্তত ড্রয়িং রুমে একটা বুকসেলফে কিছু বই।

আচ্ছা, আপনি তো পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, তাই নয়? ইন্তেকালের ২০০ বছর পর আপনার কী কী স্মৃতিচিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে? উত্তর প্রজন্ম এসে আপনার অস্তিত্ব কীভাবে উপলব্ধি করবে? কখনো ভেবেছেন? আপনি কি এখন আপনার পূর্বের পঞ্চম পূরুষের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারেন?

একটা সমৃদ্ধ পারিবারিক পাঠাগার তৈরি করুন; পঞ্চম পূরুষ এসেও আপনার অস্তিত্ব অনুভব করবে ইন শা আল্লাহ। তারা ছুঁয়ে দেখবে, স্পর্শ করবে বইগুলো। তারা ভাবতে পারবে, তাদের এক পূর্বপূরুষ এই বইগুলো স্পর্শ করেছিল। ২২০০ সালের প্রজন্ম বই খুলে দেখবে বইটির প্রকাশনা সাল ২০২০-২০৫০।

-কার্টেসী