Categories
Books

বই নিয়ে কথা ষোলো আনা”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৭

বুক রিভিউ

বইয়ের নামঃষোলো আনা
বইয়ের ধরনঃউপন্যাস
লেখকঃ আরিফ খন্দকার
রিভিউ লেখকঃ Shafayet Shawon
মুদ্রিত মূল্যঃ ২৫০টাকা

★চরিত্রসমূহঃ নিয়াজ চৌধুরী, রেজাউল চৌধুরী, রিয়াজ চৌধুরী, আমিনা বেগম,রাশিদা বানু, আজিজ মাস্টার,
আরো অনেক উল্লেখযোগ্য চরিত্র রয়েছে যা একটা গল্পকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তুরতে সাহায্য করছে।

★গঞ্জে নিয়াজ চৌধুরীর পুরোনো একটা চালের আড়ত আছে। বাব দাদার আমলের আড়ত।এর মাধ্যমেই তিনি রাজার হালে চলেন। তার ছোট ছেলে রিয়াজ মদ,সিগারেট, গাঁজা এবং জুয়া খেলে তার বাবার রাজার হালকে ভিক্ষুকের হাল বানিয়ে দিয়েছে। রিয়াজ চৌধুরী প্রতিদিন জুয়া খেলে আর প্রতিদিন তার বাবার কেশ থেকে টাকা চুরি করে। জুয়া খেলে সে কোনদিন জিততে পারে নি। আর এভাবেই সে তার বাবার আড়তটিকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দেয়।

রিয়াজ চৌধুরী তিন তিনবার এসএসসি পরিক্ষা দেয় এবং কোনোবারই পাশ করতে পারে নি। অন্যদিকে তার ছোটবোন প্রথমবারেই তাকে টপকে পাশ করে যায়।তার বড়ো ভাই রেজাউল ছিলেন সেই স্কুলের শিক্ষক।রিয়াজ তার বড়ো ভাইয়ের জমানো টাকা দিয়েও সে জুয়া খেলে শেষ করে দেয়।

আমেনা বেগমের তথা নিয়াজ চৌধুরীর স্ত্রীর ক্যান্সার দেখা দেয়। তার চিকিৎসা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। যার জন্য নিয়াজ চৌধুরী তার মাছের আড়ত বিক্রি করে দেন। তারপরও তাকে বাঁচাতে পারলেন না। আমেনা বেগমের মৃত্যুর পর নিয়াজ চৌধুরী একা হয়ে যান এবং কিছুদিন পর তিনিও মারা যান।

রিয়াজ চৌধুরী তার বড়ো ভাই রেজাউল চৌধুরীকে স্ত্রী সহ বাড়ি থেকে বের করে দেন। তারা বাড়ি ছেড়ে দিয়ে গিয়ে উঠেন আজিজ মাস্টারের বাড়িতে। কিছুদিন পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। সন্তান জন্ম দেবার পরপরই রাশিদা বানু মারা যায়। সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানকে আজিজ মাস্টারের কাছে তুলে দিয়ে রেজাউল চৌধুরী কোথায় যেনো চলে যায়।

কন্যা বড়ো হবার পর তার বিয়ের ব্যাবস্থা করেন আজিজ মাস্টার এবং বিয়ের আগেই বরকে সব সত্যি কথা খুলে বলেন তিনি। এই সব কথাই শুনতে পায় তার মেয়ে এবং এসব কথা শুনে সে বাড়ি ছেলে বের হয়ে যায় বাবার খুজে।

গল্পের শেষে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় হামিদা কি তার বাবাকে আদোও খুঁজে পাবে না কি?
আসলে মানব জীবনে কখনো কেউ কোনো দিক দিয়ে পূর্ণতা পায় না কোথাও না কোথাও অপূর্ণ থেকেই যায়।
ষোলো আনা কখনোই পূর্ণ হয় না।

★ উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তিঃ

★ যে মানুষ নিজেকে পড়তে পারে না সে মানুষকে পড়তে পারে না
★মনের সম্পর্ক মনের সাথে হয়, আর কায়ার সম্পর্ক হয় কায়ার সাথে।
★এই জগতে কখনো ঘরের অভাব হয় না, মানুষের অভাব হয় না কিন্তু অভাব হয় মনের।
★ নারীর মন হলো জলের মতো আর পুরুষের মন পাথরের মতো।

★ পাঠকদের উদ্দেশ্য করে বলছি যে, বইটা আপনারাও পড়তে পারেন। আশা করি বইটা পরে আপনাদেরও ভালো লাগবে।

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই নিয়ে আলোচনা “প্রিয়তমেষু”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৬

বই: প্রিয়তমেষু
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
প্রকাশনী: মাওলা ব্রাদার্স
পৃষ্ঠা: ৮৮
মুদ্রিত মূল্য: ১৬০ টাকা
প্রথম প্রকাশ: জুন ১৯৮৮

“ফাগুনের ফুল যায় ঝরিয়া ফাগুনের অবসানে,
ক্ষনিকের মুঠি দেয় ভরিয়া, আর কিছু নাহি জানে” ৷

#কাহিনী_সংক্ষেপ: গল্পটা পুষ্প নামের এক ধর্ষিতা নারীর কাহিনী ৷ স্বামী রাকিব একমাত্র ছেলে পল্টুকে নিয়ে তার সংসার ৷ রাকিবের বন্ধু মিজান অসময়ে যখন রাকিব থাকতো না তখনই আসতো ৷ রাকিব তাকে কখনোই বাধা দিতো না কারণ প্রায় সময়ই তাকে জানিয়ে মিজান বাসায় আসতো ৷ এমনি একদিন নির্জন দুপুরে মিজান পুষ্পের কাছে যায় আর তখনই সে সমস্ত শক্তি হারিয়ে জ্ঞান হারায় ৷
পুষ্পের স্বামী রাকিব সব জেনেও লোক লজ্জার ভয়ে তাকে থানায় নিতে রাজি হয়না ৷ তাকে বুদ্ধি দেয় কেস করে কোনো লাভ নেই ৷ শুধু লোক জানাজানি ৷ তোমারই সম্মানহানি হবে ইত্যাদি ৷
এদিকে পাশের ফ্ল্যাটের নিশাতের সাথে খুব অল্প দিনে বেশ সখ্যতা তৈরি করে নেয় পুষ্প ৷ তারই হাত ধরে সে থানায় যায় ৷ অপরদিকে নিশাতের স্বামী আর বাবা তাকে এসবে জড়াতে না করে ৷ কিন্তু সে এই না কে উপেক্ষা করে থানা পুলিশ মামলা আদলত সবকিছুতেই নিজেকে ইনভলবড করে ৷
শেষ পর্যন্ত কি হয়? মিজান কি তার পাপের শাস্তি পায়? আর কেনইবা অল্প দিনের পরিচয় নিশাত নিজেকে এসবে এতটা ইনভলবড করলো? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে পড়ে ফেলুন কথার যাদুকর হুমায়ূন স্যারের অসাধারণ বই প্রিয়তমেষু ৷

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: স্যারের বইয়ের রিভিউ লেখার দুঃসাহস করিনি কখনো ৷ তাই এই দুঃসাহসকে সাহসে পরিনত করতে লিখে ফেললাম ছোট্ট করে কিছু কথা ৷
এখনো পর্যন্ত স্যারের কোনো বইয়ে বিরক্তি আসেনি ৷ আশা করি কখনো আসবে না ৷ যিনি কথা দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করেন তার বইয়ে কখনো বিরক্তি আসবে না বলেই আমার ধারনা ৷ যাকে এক কথায় বলা হয় কথার যাদুকর ৷ প্রিয়তমেষু বইটিও বিরক্তি, ক্লান্তি ছাড়াই এক নিঃশ্বাষে পড়ে ফেলার মত একটি বই ৷ যেখানে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের সমাজের নির্মম এক বাস্তব ঘটনা ৷
স্যারের বইতে সর্বপ্রথম আকৃষ্ট হই উৎসর্গ পত্রে ৷ এরপর আকৃষ্ট করে প্রতিটা বইয়ের শুরুর লাইন ৷ এরপর যেটাতে আকৃষ্ট হই তা হলো স্যারের প্রতিটা বইয়ে বেশ কিছু ভালোলাগার উক্তি/লাইন থাকে ৷ তেমনি একটা ভালোলাগার উক্তি/লাইন তুলে ধরলাম:
★ অন্ধকারে একটা সুন্দরী মেয়েও যেমন অসুন্দরী মেয়েও তেমন ৷ পার্থক্যটা হচ্ছে আলোতে ৷

#বইয়ের_রেটিং: ৫/৫

রিভিউয়েঃ Milon Islam (বন্ধু)

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

বিঃদ্রঃ- নিজে ব্যাস্ত থাকার কারেনে লিখতে পারছি।

Categories
Books

#borsha

প্রতিযোগিতার জন্য এর থেকে ভালো ছবি হয়তো আমি আর পাব না!

Categories
Books

#borsha

জীবনী থেকে নেওয়া

Categories
Books

বই পর্যালোচনা “আর কতদিন”

রিভিউ নাম্বারঃ ১৫

বইয়ের নামঃ আর কতদিন
লেখকঃ জহির রায়হান
ভাষাঃ বাংলা
ঘরনাঃ চিরায়ত উপন্যাস
বইয়ের পৃষ্ঠাঃ ২৮
মূল্যঃ ৫৪ টাকা
প্রকাশনীঃ অনুপম
ব্যক্তিগত অনুযোগ (রেটিং): ৪.৬/৫

“বাতি নিভে গেলো।
কাচের টুকরোগুলো ছিটকে গেলো নিচে।
আরেকটা বাতি নিভে গেলো।
এক নতুন খেলায় মেতেছে ওরা।”

লেখক হিসেবে সার্থকতা তখন ই আসে যখন সেই লেখাটি পাঠকদের মস্তিষ্কে কয়েক ঘন্টা খেলতে থাকে, ভাবনার রাজ্যে সেই গল্পকে নিয়ে খুঁটিনাঁটি করে, মননে স্বপ্ন বুনতে থাকে।

আঠাশ পৃষ্ঠার এক বই আপনাকে কতখানি ভাবাতে পারে, কতটুকু গভীর দাগ দিতে পারে হৃদয়ে…. প্রিয় লেখক, ব্যক্তিত্ব জহির রায়হানের আর কতদিন উপন্যাস এটির একমাত্র উদাহরণ। উপরের লেখাগুলো লেখকের আর কতদিন উপন্যাস থেকে সংগৃহীত।

আর কতদিন জহির রায়হানের একটি বড় গল্প, এক অর্থে উপন্যাসিকাও। এর প্রেক্ষাপট যে ঠিক কি তা বলে মুশকিল। আপাত দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বলা গল্প বলে মনে হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের গল্পে চির চেনা যেসব চিত্র আমরা ফুটে উঠতে দেখি, সেসবের উপস্থিতি আছে এই গল্পেও।

এই গল্পটি শুধু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেনি, শুধু একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরে নি। এই গল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যে যুদ্ধ বিগ্রহ হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে সেটিকে তুলে ধরেছে।

তোমার আমার দেশ আলাদা, চল তবে যুদ্ধ করি। ধর্ম আলাদা, চল দাঙ্গায় নামি। বর্ণ আলাদা, তোমার রক্ষে নেই। যুগে যুগে, দেশে দেশে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম, বর্ণ, জাতের নামে যত অন্যায়, খুনোখুনি হয়েছে তার একটা সামগ্রিক চেহারা উঠে এসেছে এই বইটিতে।

একটা বাক্সে বন্দী কতগুলো মানুষকে ছেলেমেয়ের বাধা তুচ্ছ করে দিনের পর দিন বাঁচিয়ে রাখেন এক মা, খুঁজে ফেরেন তাঁর হারিয়ে যাওয়া ছেলে তপুকে। এখানটায় মনে হবে, আপনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোন গল্প পড়ছেন। কিন্তু তাড়া খেয়ে পাগলের মত ছোটা তপুর সাথে যখন একই ভাবে তাড়া খেয়ে পালানো লোকদের দেখা হয়ে যায়, আর তাদের বলতে শোনা যায়, “ওরা আমার ছেলেটাকে হত্যা করেছে হিরোশিমায়। ওরা আমার মাকে খুন করেছে জেরুজালেমের রাস্তায়। আমার বোনটাকে ধর্ষণ করে মেরেছে আফ্রিকাতে। আমার বাবাকে মেরেছে বুখেনওয়াল্ডে গুলি করে।”

ভুল ভেঙ্গে যায়।

খুনি, ধর্ষকের আলাদা কোন চেহারা, দেশ, ধর্ম, জাত নেই।
তবুও মানুষ ভুলে যায়, ভুল করে।

আর, তাই তপুর মা ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মূহুর্তে বদলে যান। ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাক্সবন্দী মানুষগুলোর উপর চড়াও হতে যান দা, ছুরি, লোহার শিক নিয়ে। কারণ? যারা তপুকে খুন করেছে তাদের আর এদের আশ্রয়ে নির্ভয়ে ঘুমন্ত মানুষগুলোর ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, ভাষা এক। অতএব, প্রতিশোধ অনিবার্য!

নিজের ব্যক্তিগত পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়ে ভরাক্রান্ত মন হয়ে উঠেছিলো! এই গল্পের মাধ্যমে খোঁজা হয়েছে সেই প্রশ্নের উত্তর যে পৃথিবীব্যাপি হয়ে চলা এই যুদ্ধ থামবে কবে, আর কতদিন নিরীহ মানবপ্রেমী মানুষেরা নির্যাতিত হতে থাকবে।

কিন্তু, অপেক্ষার পালা যেন আর শেষ ই হয় না! সেই সাথে গড়ে ওঠা ধর্ষিত আর খুন হয়ে যাওয়া মানুষগুলো, তাড়া খেয়ে পালানো মানুষগুলোরও আলাদা কোন জাত নেই। মনে হয়, যেন দুটো জাত আছে। একটা জাত মার খায়, আরেকটা জাত মার দেয়!

জীবন কি এভাবে চলে যাবে নাকি একসময় থমকে যাবে?

জানার কৌতূহলে মিটিয়ে দেবার জন্য পাঠককে বুকলিস্টে বইটি পড়ার আহবান জানাচ্ছি…..

রিভিউয়েঃ Nubaisa Nill

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

বই কথা

রিভিউ নাম্বারঃ ১৪

📚 বই নিয়ে আলোচনা
বই – মেমসাহেব
লেখক – নিমাই ভট্টাচার্য
জনরা – রোমান্টিক/ফিকশন
ধরন – হার্ডকভার
পৃষ্ঠা – ২০৮
প্রকাশনী – দে’জ পাবলিকেশন
মূল্য – ২৮৮৳

❇ কাহিনী সম্পর্কে ধারণা ও আলোচনা

❇❇

“যারা কাছে আছে তারা কাছে থাক
তারা তো পারে না জানিতে
তাহাদের চেয়ে তুমি কাছে আছো
আমার হৃদয়খানিতে!”

বাচ্চু তার দোলাবৌদির কাছে কিছুদিন পর পর চিঠি লিখে। আর সে চিঠিতে লিখা থাকতো তার মেমসাহেবের কথা।

হ্যা সম্পূর্ণ বইটিতে বাচ্চুর চিঠি গুলোই দেয়া থাকে।
তার সংগ্রামী জীবন, তার পেশা, প্রেমে পরা, আর তার মেমসাহেবের কথা। সব কিছু।

‘মেমসাহেব’ নামটা শুনলেই মনে হয় কোনো বিদেশী মেয়ে বুঝি। কিন্তু না, শ্যামবর্ণের, কালো লম্বা চুল, টানা টানা চিরজন্মা কাজল কালো চোখের অধিকারীনি এই মেমসাহেব।

একজন মৃৎশিল্পী যেমন করে তার হাতের নরম স্পর্শে মূর্তি নিখুঁত করে তৈরী করে, তৈরী করে মূর্তির শরীরে প্রতিটা বাঁক। তেমন করেই একজন ছাপোষা পত্রিকার রিপোর্টারকে পরিনত করে তুলেছিলো মেমসাহেব সনামধন্য রিপোর্টারে। কি আদর কি ভালোবাসা তাদের মাঝে।

আজ সব কিছুই চিঠিতে লিখছে বাচ্চু তার দোলাবৌদিকে।

প্রেম মানেই শুধু শরীর নয়। প্রেম মানে বিশ্বাস, প্রেম মানে শ্রদ্ধা। আর এটাই বইটাতে প্রকট ভাবে ফুটে উঠেছে।
ভালোবাসার শক্তি কত, মেমসাহেব আর বাচ্চুকে দেখলে বুঝা যায়। কি না করতে পারে ভালোবাসা মানুষকে।

কত মেয়ে আসে বাচ্চুর জীবনে, কিন্তু কেউই মেমসাহেবের স্থান নিতে পারেনা। আর সে স্থান দিতে পারেনা বাচ্চুও।

প্রেমের বই হলেও, বইটিতে এসেছে দেশ ভাগের কথাও। এসেছে একজন রিপোর্টারের সাংবাদিকতার ধরন।

সর্বোপরি আমার কাছে যথেষ্ঠ উপভোগ্য ছিলো বইটি।
এযেন আমারি জীবনের একটু অংশ😁

❇❇

“কালো? তা সে যতই কালো হোক
দেখেছি তার কালো হরিণ চোখ।
কৃষ্ণ কলি আমি তারেই বলি
আর যা বলে বলুক অন্য লোক
দেখেছিলেম ময়না পাড়ার মাঠে
কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখ।”

আমি আবার সেই চোখের প্রেমে পড়তে চাই

মজার ব্যবপার হচ্ছে বইতে কোথাও ‘মেমসাহেবের’ আসল নাম বলা নেই। লেখক সারা বইতে তাকে মেমসাহেব বলেই সম্মোধন করেছেন। তবে একবার মেমসাহেবকে তার এক বান্ধবী (–) নামে ডেকেছিলো। (বই পড়ে জেনে নিন )

বিঃদ্রঃ ১/ যারা প্রেম করেননি তারা বইটি থেকে দুরে থাকুন।
২/ যারা প্রেম করে কঠিন ছ্যাক খাইছেন তারাও দুরে থাকুন।😂

ব্যাক্তিগত মতামতঃ আমি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে পাঁচশতর মত উপন্যাস পড়েছি। তারমধ্যে যদি top 10 লিস্ট করি তাহলে মেমসাহেব top 2 এর মধ্যে থাকবে। বইটির যদি আইএমডিবি রেটিং দিই তাহলে 10/10.(ব্যাক্তিগত)।
বইটা আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৮০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম।
পরে আবার বইটা কিনেছিলাম একজনকে উপহার দেওয়ার জন্য গাজীপুরের (জয়দেবপুর) একটা পাবলিক লাইব্রেরি থেকে। সেখানেও বইটির দাম নিয়েছিল ৮০ টাকা মাত্র।

📚বই হোক আপনা, আপনি বইয়ের📚

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ১৩

বই রিভিউ

বই: আঙ্গুল কাটা জগলু
লেখক:হুমায়ুন আহমেদ
প্রকাশনী: কাকলী প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
মূল্য: ১৬০ টাকা
পৃষ্ঠা:১১১

#লেখক_পরিচিতি: হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর ১৯৪৮–১৯ জুলাই ২০১২) ছিলেন একজন বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক বলে গণ্য করা হয়। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। অন্য দিকে তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত।

#সংক্ষিপ্ত_কাহিনী: হিমুর কাজ হলো হাটাহাটি করা কোনো কারন ছাড়াই।হাটাহাটি করতে গিয়ে আঙুল কাটা জগলুর সাথে তার কয়েকবার দেখা হয়েছে।যদিও হিমু তাকে চিনে না।জগলু হিমুকে ধরে আনতে বলে কারন সে ভাবে হয় হিমু পুলিশ এর ইনফরমার অথবা সে মজিদ এর লোক।তাই তাকে ধরে আনতে বলে।হিমুর সাথে জগলুর কথা হয়।হিমু তাকে বলে কারই ইনফরমার না।জগলু তার কথা বিশ্বাস করে না।তার জন্য চৈাবাচ্চায় পানি ভর্তে বলে কারন তারা হিমুকে ১মিনিট সেখানে ডুবিয়ে রাখতে চায়।তাদের ধারণা এতে কথা বের করা যায়।সেখানে গিয়ে দেখে মনসুর খান নামেও একজনকেও তারা ধরেছে।যদিও তাকে ধরেছে টাকার জন্য।২০লাখ টাকা দিলেই তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।টাকার দেওয়ার সময় হয় সমস্যা।তার মেয়ে টাকা না দিয়ে পুলিশকে জানায়।ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।মনসুর সাহেবের মেয়ের নাম হলো মিতু।মিতুর সাথে পরে টাকা নিয়ে কথা বলে হিমু।যদিও একাজ হিমু নিজের ইচ্ছায় নিয়েছে।হিমু মিতুর সাথে কথা বলার সময় তাকে জানায় সে যে কাজ করেছে তার জন্য টাকার পরিমাণ বেড়ে গেছে।এখন ২৫লাখ দেয়া লাগবে।টাকা না দিলে মনসুর সাহেবের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।মিতু রাজি হয়ে যায়।টাকা আনতে পাঠানো হয় হিমুকে।হিমু একা যেতে কিছুতেই রাজি হয় না।সে মনসুর সাহেবকে সাথে করে নিয়ে যেতে চায়।তার কথা হলো তাকে বাসায় দিয়ে আসবে এবং টাকা নিয়ে আসবে।হিমু তাদের বাড়ি গিয়ে টাকা নিয়ে আসে।তখনই জগলু ভাই ফোন দিয়ে বলে টাকা তার কাছে রাখতে সে এখন একটা সমস্যায় পরেছে।সে টাকা নিয়ে হাজির হয় তার খালাদের বাসায়।সেখানে বাদলের ঘরে সে টাকার ব্যাগটা রাখে।হিমু মিতুকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে যদিও মিতু চায় না হিমু তার সাথে কথা বলুক।এ দিকে জগলু ভাইয়ের বাচ্চার সাথে তার কথা হয়।সে তার বাবাকে অনেক খুজতেছে কারন তার বাবা তাকে বলেছে জন্মদিন উপলক্ষে সে যা চায় তার বাবা তাকে তাই দিবে।সে একটা ভুতের বাচ্চা চায়।তা তার বাবাকে জানানো দরকার।হিমু মিতুদের বাড়িতে উপস্থিত হয় সে ব্যাগ নিয়ে সাথে টাকাও থাকে কারন সে এখনো টাকা গুলো জগলুকে দিতে পারে নি।তাই সে চায় টাকা গুলো আপাতত এখানেই থাকুক তারা যাওয়ার সময় হিমু গিয়ে নিয়ে আসবে টাকা।জগলু ভাই টাকা নিতে আসে রমনা পার্কে।সেখানে সে তার বাচ্চার উপহারের কথা বলে যে সে ভুতের বাচ্চা চায়।সে তখন টাকা দিতে পারে না কারন টাকা মিতুদের বাসায়।হিমু ভুতের বাচ্চা তার ছেলেকে দিয়ে আসে।যদিও সে ভুয়া একটা ভুত বানিয়ে তাকে বুঝেয়েছে যে এটি আসলেই ভুতের বাচ্চা।এর মাঝে জগলুর বিশেষ লোক মতিকে পুলিশে ধরে।তাকে মেরে ফেলে। হিমু তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসে কবর দেয়ার জন্য।মতিকে নিয়ে তারা সবাই তখন অনেক বিপদে পরে।মিতুরা কানাডায় চলে যায়।হিমুকে চিঠি লেখে মিতু প্রতি মাসে।সাংকেতিক চিঠির মাধ্যমে বুঝাতে চায় সে হিমুকে ভালোবাসে।জগলু পুলিশের হাতে ধরা পরে।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: গল্পটা পড়ে আসলেই ভালো লেগেছে।হিমু পাঠক হওয়ায় আরো বেশি মজা পেয়েছি।গল্পটার মধ্যে মতির ডেডবডির কাহিনি প্রথমেে কষ্টদায়ক হলেও পরের অংশ পরে অনেক মজালেগেছে।এর কারন সেনাকি জীবন্ত হয়ে গিয়েছে আবার।মিতুর শেষের কাজগুলোতে ভালোই মজা পেয়েছি।জগলুর বাচ্চার কাহিনিও অনেকমজার ছিল। লেখক খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পেরেছেন বলেই গল্পটা এত ভালো লেগেছে।

#মন্দলাগা: হিমু সিরিজ পড়তে নিলে মনে হয় হিমু টাইপ কেউ সামনে পড়লে মাইর খাবে…মাঝে মাঝে এর কাজ কাম দেখলে রাগো লাগে😣

চমৎকার এই বইটি পড়ার নিমন্ত্রণ রইলো 😊
ধন্যবাদ 😊

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ১৩

বুক রিভিউ
বই : শেষ বিকেলের মেয়ে
লেখক : জহির রায়হান

একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে কাসেদ। পেশায় একজন কেরানি। তার মা এবং খালাতো বোন নাহার কে নিয়ে ছোট পরিবার। নাহারের বাবা মারা যাওয়ার পর নাহার কে কাসেদের মা নিজের মেয়ের মত আগলে রাখে। তার মেয়ে না হওয়ার দুঃখ ঘুচলো। কাসেদের বাবা কখনো ইহকালে আল্লাহর ইবাদত করে নি , পরকালে ভয় তার ছিলো না,কাসেদের মা তাকে নামাজ পড়ার কথা বললেই রাগান্বিত হয়ে যেত। কাসেদের বাবা এখন মৃত । কাসেদের মা সারাদিন কোরআন শরীফ,নামাজ,দোয়া দূরদ পড়ে, তার স্বামীর গুনাহ মাফের জন্য। কাসেদের সঙ্গে জাহানারার পরিচয় দীর্ঘদিন । জাহানারার সঙ্গে অনেক কথা খুনসুটি, রাগ , আবার বন্ধুত্ব হয়। জাহানারাকে কাসেদে যেইজাবে উপলদ্ধি করে, তাকে নিয়ে কাসেদ যত জল্পনা কল্পনা থাকে, জাহানারা কি কাসেদ কে সেইভাবে উপলদ্ধি করে? একদিন বিকেলে কাসেদের বাসায় জাহানারা বসে ছিল অনেকক্ষন, কাসেদের মায়ের সঙ্গে কথা বার্তা হলো, কাসেদের বাসায় ফিরতেও দেরি হলো এতক্ষনে জাহানারা তার নিজ বাসায় চলে গেছে। কাসেদ বাসায় ফিরতেই শুনলো জাহানারা এসেছিল একটা দরকারী কথা বলতে। কি এমন কথা তা নিয়ে কাসেদের কল্পনার শেষ নেই । সে একটা কাগজে লিখে রেেখ গেছে তার বাসায় যেতে। কাসেদ ঠিক করে তার কাজ শেষে জাহানারার বাসায় যাবে, যাওয়ার পথে তাকে নিয়ে কাসেদ ভালবাসার কথা কল্পনা করে, হয়তো জাহানারা বলবে তোমাকে আমি ভালোবাসি, তোমাকে আমার অনেক ভালো লাগে । ভাবতে ভাবতে কাসেদ জাহানারারর বাসায় পৌছে যায়, সেখানে তার কাজিন শিউলি আর মিলির সাথে পরিচয় হয়, সেদিনই শিউলি কাসেদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে সহৈ ভাবে মিশতে শুরু করে। শিউলি কাসেদের বাসায় যায়, কাসেদের সাথে রিকশায় মাঝে মাঝে যাওয়া আসা করে, এদিকে কাসেদের ছোটবেলার বন্ধবী সালমার সাথে দেখা করে, সালমা আগে থেকেই কাসেদকে পছন্দ করতো, তবে সালমাকে কখনো এরকম উপলদ্ধি কাসেদ করে নি,ওদের মধ্যে সবসময় বাচ্চামি় ঝগড়া বেশি হতো। সলমা মা হয়েছে শুনে কাসেদ দেখতে আসে সেখানে মিলির সাথে কাসেদের দেখা হয় । এদিকে জাহানারা কে নিয়ে কাসেদের ভাবতে ভালো লাগে । জাহানারা ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারে না।

একসময় কাসেদ জানতে পারে সেতার মাস্টারের সাথে জাহানারার মন আদান প্রদান চলছে, কাসেদের বুকে চিনচিন ব্যথা হয়, যেন দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গড়িয়ে পড়তে চায় মাটিতে। তার দেহ কাপতে থাকে। তার দেহটা ক্লান্তি অবসাদে ভেঙে পড়ছে।

এদিকে মকবুল সাহেবের বাসায় গিয়ে কাসেদ দেখতে পারে জানালার ওপাশে মেজো মেয়ে দেখতে শ্যামলা, চুলগুলো পিঠ ছড়িয়ে উকুন খূঁজছে, সে কোনো পুরুষের সাথে সহজে কথা বলে না , যেনো তাকে বার বার দেখছিলো, কাসেদের মেয়েটাকে দেখার আগ্রহ বেড়ে যায়। কিছুদিন পরে কাসেদের ম্যানেজার এর সাথে তার স্ত্রীর
ডিভোর্স হয়ে যায়,তাই তিনি মকবুল সাহেবের সাথে বেশ খাতির করে চার মেজো মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে। কাসেদ এই খবর শুনে কল্পনা করে আজ যদি মেয়ে তার বউ হতো তাহলে বাসায় ফিরলে দেরি হলো কোনো আদর করে জিজ্ঞেস করতো। একি এসব কি ভাবছে কাসেদ,হটাৎ চমকে উঠে সে।

জাহানারার কষ্টে কাসেদ শিউলিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দেয় , শিউলি তাকে বন্ধু হিসেবে ভাবতো, সে এই প্রস্তাবে চমকে উঠে। মন খারাপ করে শিউলি চলে যায়। কাসেদ জাহানারাকে নিয়ে বেশি ভাবতো, তাকে ভালবাসতো, তাকেই বউ হিসেবে কল্পনা করতো। কাসেদ নিজে একা সময় থাকার জন্য এক সপ্তাহ ছুটি নেয় , শুধু বাসায় থাকবে আর জাহানারা কেন এমন করলো তা ভাববে।

কাসেদ ছুটি নেয় তার মা ভীষন অসুস্থ বলে। যদিও এটা মিথ্যা নয়। মাঝরাতে নাহারের ডাকে চমকে ওঠে কাসেদ , নাহারের কন্ঠস্বর উৎকন্ঠা হয়ে উঠেছে , মা কেমন করছে দেখে যান। সেদিন তার মা মারা যায়। নাহারের জন্য কাসেদের মা পাত্র ঠিক করে রেখেছিল,নাহারের কোনো আপত্তি ছিলো না,কাসেদেরও না। মা মরা যাওয়ার পর নাহার মন খারাপ করে বসে থাকে,কান্নাকাটি করে, কিছুদিন পরে নাহার বিয়ের প্রস্তুতির জন্য নিজের বাড়িতে ফিরে যায়। কাসেদের বাসায় এখন শুধু কাসেদ আছে , বাসাটা থমথমে হয়ে আছে। এখন শেষ বিকেল। লাল সূর্যের শেষ আভা টুকু আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। বাতাস বইছে জোরে। আরো দূরেরে আকাশে একটা চিল একা একা উড়ছে। হটাৎ দরজায় কড়া নাড়লো কেউ নয়। এসময় তো কেউ আসার কথা না। কাসেদ দরজা খুলে দেখে নাহার। কাসেদ বললো একি তুমি!!! কাল না তোমার বিয়ে ? নাহার নিঃশব্দে ভেতরে এসে বলল তাকে ছেড়ে থাকতে পারলাম না বলে এসেছি, যেতে বলেন তো আবার চলে যাই, কাসেদ বিমূঢ় স্বরে বলল কাল তোমার বিয়ে আজ হটাৎ এখানে চলে আসার মানে?? বিয়ে আমার হয়ে গিয়েছে ।কার সাথে?? যার সাথে হয়েছে তার কাছেই তো এসছি। কাসেদ কিছুতেই ভেবে পেলো না,সেই চাপা মেয়েটা আজ হটাৎ মুখরা হয়ে উঠলো কেমন করে?? নাহার মৃদু গলায় বলল ,চলো, ও – ঘরে চলো।

পাঠ প্রতিক্রিয়া : শেষ পৃষ্ঠা পড়ে আমি অবাক হয়ে গেছি, আমি বলি এটা কি হল??? নাহারেরে সাথে কাসেদের শেষ পর্যন্ত !!! আমি তো পুরাই চমকে গেলাম, চোখ বড় বড় হয়ে গেল, কিছূক্ষন মুর্তির মতো ছিলাম।
এই বই থেকে কিছু কথা ভালো লাগলো –

১. সুখ জিনিসটা হচ্ছে মনের ব্যাপার , ওটা যদি বাইরের হতো তাহলে সাদা চোখে দেখা যেতো।
২. জীবনের পথ যত কঠিন আর দূর্যোগময় হোক না কেন, তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ হয় না ।ওটা কাপুরুষতার লক্ষন।
৩. যে গাছে প্রাণ নেই,তার গোড়ায় পানি ঢেলে কি হবে?
8. আশ্চর্য মানুষের মন। সে যে কখন কি চায় তা নিজেও বলতে পারে না,কিসে তার সুখ আর কিসে অসুখ এর সত্যিকার জবাব সে নিজেও দিতে পারে না কোনোদিন।

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ১২

বই রিভিউ

বই : আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না
লেখক। : ইফতেখার হোছাইন নূর
ধরণ : কথাসাহিত্য
প্রকাশনী: বায়ান্ন(৫২)
প্রচ্ছদ : তৃত
প্রকাশকাল: ২০২০ বইমেলা
মলাট মূল্য: ২৯০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১

একটি সাধারণ মধ্যবিত্তের গল্প,খুব সাদামাটা কিছু চরিত্র অসাধারণ রূপে প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাসটিতে।
মনা নামের একজন ব্যক্তিত্ত্ববান পুরুষের জবানীতে উপন্যাসটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

কি পেতে পারি বইটিতে?
মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন যেখানে “সংসারের আয় রোজগারের অসম হিসেবের কাছে কত ক্ষুদ্র চাহিদাও নিতান্ত বিলাসিতা হয়ে যায়!”
ভাইবোনের অটুট ভালোবাসার বন্ধন, বাবাদের শাসনের আড়ালে নীরব ভালোবাসা, সাজু নামের আপাতদৃষ্টিতে একজন বেকার অকর্মক যুবক ও যে কতটা ভালোবেসে বুক আগলে নীরবে রক্ষা করে পরিবারকে , সমাজকে! রয়েছে এখানে বন্ধুত্বের গল্প,হাহাকারের গল্প আর ভালোবাসার গল্প।
অঙ্গনা নামের একজন গভীর ব্যক্তিত্ত্ববান নারীর প্রেম কে পেলো সেটা একটা টুইস্ট।তবে পাঠকদের জন্য আরেকটা আকর্ষণীয় এবং রহস্যময় চরিত্র হলো সাইমুম বারী। মালতি নামের এক যুবতীর দীর্ঘশ্বাস রয়েছে।আরেকটি শিক্ষণীয় বিষয় হিন্দু মুসলিমের খুব সুন্দর বন্ধন দেখিয়েছেন লেখক। দিনশেষে এটি আমাদের গল্প , আমাদের জীবনের অংশ।

বইটির কিছু ইতিবাচক দিক:
সামাজিক ঘরানার লেখা।যেকোনো বয়সী পাঠকদের জন্যই মানসম্মত একটি বই। পাশাপাশি সামাজিক কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন লেখক। লেখনীতে গভীর জীবন দর্শন ফুটে উঠেছে।আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয় অক্ষরের ফন্ট সাইজ একটু ছোট করে এক পৃষ্ঠার মধ্যে অনেক লাইন নিয়ে আসা হয়েছে । কাজেই পাঠক এক পৃষ্ঠায় অনেক ইনফরমেশন পাবে এবং বইটি যথেষ্ট সাশ্রয়ী মূল্যে আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রকাশনী,লেখক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।

বইটির কিছু নেতিবাচক দিক:
বইটির নেতিবাচক দিক নেই বললেই চলে তবে দুই একটা বানান ভুল চোখে পড়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃতক ভুল হিসেবেই ধরে নেয়া যায়।
আর পাঠক হিসেবে আমি এখনো তৃষ্ণার্ত।উপন্যাসের মূল নায়িকা চরিত্র অঙ্গনাকে আরো জানার আগ্রহ রয়েই গেলো। উপন্যাসটি যেনো শেষ হয়েও হইলো না শেষ…..

ব্যক্তিগত অনুভূতি:
আমি বেশ সময় নিয়ে বইটি পড়েছি কেননা মনে হচ্ছিলো এই বুঝি শেষ হয়ে গেলো! শেষটায় এসে কেমন একটা শূন্যতা, হাহাকার জেগে উঠেছিলো।কোথাও করুণ বাঁশি বেজেই চলেছিলো…..

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার১১

বই কাহিনী :

প্রতিটা সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হলো বাবা মা।যেখানে থেকেই নির্ভয়ে আস্তে আস্তে করে বেড়ে উঠে সদ্য জন্মানো শিশুটি।জানতে শিখে নিজেকে, বুঝতে শিখে পৃথিবীকে। আর এই জানা বুঝার সময়টাতে মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকে বাবা-মা!

কিন্তু যে শিশুটি জন্মাতে না জন্মাতেই নিজের মা’কে হারিয়ে ফেলে চিরতরে, সে শিশুটির অবস্থা ঠিক কেমন হয়???

তেমনি একটি চরিত্রের নাম হলো আরশি।আহামরি সুন্দরী নই,শ্যামবর্ণ! যা নিয়ে মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের এক করুণ আক্ষেপ। সে তো থাকবেনা, কালো বলে যদি মেয়েটিকে অবহেলা পেতে হয়!!
আচ্ছা কালো বলে কি মেয়েটির কোনো জায়গা হবেনা এই অদ্ভুত জগত সংসারে???

তবে মেয়েটির চোখ বড় সুন্দর, একেবারে আয়নার মতো স্বচ্ছ। তাই তো মরে যাবার আগে নিলুফা বানু তার শাশুড়ি আম্বরি বেগমকে বলে যায়, মেয়েটির নাম যেনো আরশি রাখা হয়।ব্যস জন্ম আর নাম দিয়েই চলে যায় সব দায়িত্ব আম্বরি বেগমের কাঁধে ফেলে।
একদিকে বন্যার পানিতে ঘর ছুঁইছুঁই, অন্যদিকে সদ্য জন্মানো মেয়ে আরশি!মজিবর মিয়া যেনো চোখে অন্ধকার দেখছেন।গোয়ালে গাভীন দুটো গাঁই, চারদিক পানিতে থইথই করছে!
কি আছে এরপর???

বছর চারেকের মাথায় মজিবর মিয়াঁ বেশ উন্নত করলেন,বড়সড় এক ট্রলার কিনলেন,ঘড় তুললেন,জমিজিরাত করলেন। ঘরে নতুন বউ ও এলো।বেশ গোছালো হয়ে উঠলো তার সংসার তবুও সবটা সাথে অস্পষ্ট ভাবে মিশে রইলেন নিলুফা বানু, হয়তো আরশি হয়ে!

সবটা সুন্দর চলার মাঝে অশান্তি হয়ে এলো মজিবর মিয়াঁর নতুন বউ লাইলি বেগম।প্রথমটায় আরশিকে খুব ভালোবাসলেও গর্ভবতী হবার পর থেকে অনেকটা বদলে গেলেন।বদলে গেলো মজিবর মিয়াঁর অবস্থা,শত্রুতার শিকার হয়ে কাটা গেলো পা,ভেঙে গেলো শরীরের হাড়।বন্ধ হয়ে গেলো মুখের ভাষা।সাথে সাথে বদলে গেলো ছোট আরশির জীবন।শিখে গেলো জীবন যে কত বেশী অসহায়!!

এই সময়টাকে আরো বেশী অসহায়ত্ব করতে আরশিকে একা করে চলে গেলেন আম্বরি বেগমও।নিরব,অস্পষ্ট ভাষী মেয়েটা নির্বিকার হয়ে পরে রইলো।

আচ্ছা এরপর কি হবে???কি হবে আরশি মেয়েটার ভাগ্য?নতুন কি অপেক্ষা করছে এই আরশিনগরে??

অনেক অনেক প্রশ্ন!! জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে সাদাত হোসাইনের আরশিনগর।

ব্যক্তিগত মতামত :

এর আগেও সাদাত হোসাইনের নির্বাসন আর নিঃসঙ্গ নক্ষত্র পড়েছি।দুটো বইই দারুণ লেগেছে,তবেঁ এই বইটার প্রথম দিকটা আমার ভাল্লাগেনা নাই।মনে হয়েছে অযথাই টেনে টেনে বড় করেছে।তাছাড়া একটা শব্দ বারবার আমার কাছে কটু লেগেছে,লেখক প্রায় বাক্যেই”মানবজীবন”শব্দটা ব্যবহার করেছেন।তাছাড়া বাকি সবটা দারুণ ছিলো।অসাধারণ ভাবে একটা শিশুর অসহায় জীবনকে শেষ অব্ধি বর্ণনা করে গেছেন।নিয়ে গেছেন পাঠকের ভাবনাকে রুপকথার আরশিনগরে।

বই বিবরণ :
নাম:আরশিনগর
লেখক:সাদাত হোসাইন
প্রকাশক :খন্দকার মনিরুল ইসলাম
প্রচ্ছদ :মোস্তাফিজ কারিগর
প্রকাশনী :ভাষাচিত্র
মুদ্রিত মূল্য:৪৫০টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা:২৭১
রেটিং পয়েন্ট ৪.৭/৫(ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে)

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ১০

এবং হিমু – হুমায়ূন আহমেদ

বইয়ের নামঃ এবং হিমু
লেখকের নামঃ হুমায়ূন আহমেদ
বইয়ের ধরনঃ বাংলা উপন্যাস

পাঠ পরিচিতিঃহিমু হচ্ছে বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় ও কাল্পনিক চরিত্র। হিমু একজন বেকার যুবক যার আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক।নব্বইশের দশকে হিমুর প্রথম উপন্যাস ময়ূরাক্ষী প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক সাফল্যের পর হিমু চরিত্র বিচ্ছিন্নভাবে হুমায়ুন আহমেদের বিভিন্ন উপন্যাসে প্রকাশিত হতে থাকে। হিমু ও মিসির আলি হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট সর্বাধিক জনপ্রিয় দুইটি কাল্পনিক চরিত্র। হিমু চরিত্রের আসল নাম হিমালয়। এ নামটি রেখেছিলেন তার বাবা। লেখক হিমুর বাবাকে বর্ণনা করেছেন একজন বিকারগ্রস্ত মানুষ হিসেবে; যার বিশ্বাস ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার যদি প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা যায় তবে একইভাবে মহাপুরুষও তৈরি করা সম্ভব। তার মহাপুরুষ তৈরির বিদ্যালয় ছিল যার একমাত্র ছাত্র ছিল তার সন্তান হিমু। হিমুর পোশাক হল পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী। ঢাকা শহরের পথে-পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে অন্যতম। উপন্যাসে প্রায়ই তার মধ্যে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার প্রকাশ দেখা যায়। যদিও হিমু নিজে তার কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা স্বীকার করে না। হিমুর আচার-আচরণ বিভ্রান্তিকর। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার প্রতিক্রিয়া অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করে, এবং এই বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা হিমুর অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ। হিমু উপন্যাসে সাধারণত হিমুর কিছু ভক্তশ্রেণীর মানুষ থাকে যারা হিমুকে মহাপুরুষ মনে করে। এদের মধ্যে হিমুর খালাতো ভাই বাদল অন্যতম। মেস ম্যানেজার বা হোটেল মালিক- এরকম আরও কিছু ভক্ত চরিত্র প্রায় সব উপন্যাসেই দেখা যায়। এছাড়াও কিছু বইয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী ও খুনি ব্যক্তিদের সাথেও তার সু-সম্পর্ক ঘটতে দেখা যায়। হিমুর একজন বান্ধবী রয়েছে, যার নাম রূপা; যাকে ঘিরে হিমুর প্রায় উপন্যাসে রহস্য আবর্তিত হয়। নিরপরাধী হওয়া সত্ত্বেও সন্দেহ�

বুক রিভিউ
হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্মগুলোর মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয় হিমু সিরিজের বইগুলোর রিভিউ লেখা। সে হিসেবে আমার জন্য এটি একটি কঠিন কাজ বটে। তবে যেহেতু এটি একটি প্রিয় বই তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি রিভিউ লেখার জন্য!

হিমুকে কয়েকদিন ধরে গরু খোঁজার মতো খোঁজা হচ্ছে। না তা গরু খুজেঁ দেওয়ার জন্য না। সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু বাদল! কিভাবে যেন মাছ খেতে গিয়ে গলায় কাঁটা বেঁধিয়ে বসে আছে। কয়েকদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ! এমনকি ঢোক পর্যন্ত গিলতে পারছে না। অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে। কেউ কিছু করতে পারেনি। কিন্তু বাদলের বিশ্বাস এই কাজ হিমু ভাই ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। সেজন্যই হিমুকে গরু খোঁজা খোঁজা হচ্ছে…

এক রাতে হাঁটতে হাঁটতে খিদে লাগায় হিমু হাজির হয় মাজেদা খালার বাসায়! সে রাতে খাবার সময় নেমে যায় বাদলের গলার কাঁটা। হিমু হয়ে যায় খালা খালুর প্রিয়পাত্র। সবাই মনে করে আধ্মাত্বিক ক্ষমতার দ্বারা হিমু বাদলের কাঁটা নামিয়ে দিয়েছে। শুধু একজন বাদে… সে হচ্ছে ইরা!

ইরা! বাদলদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। সামনে পরীক্ষা তাই বিশেষ একটা কারণে তাকে এখানে থেকে পড়াশোনা করতে ইচ্ছে। ইরা কখনোই হিমুকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি! তার মনে হতে থাকে এসব বুজরকি শুধুমাত্র মানুষকে ঠকানোর জন্য। বাদলের কাঁটা নামিয়ে চলে আসার পর ইরার সাথে হিমুর কয়েকবার দেখা হয়! বাদলের সন্ন্যাসব্রত যেন তাদের দেখা করার উপায় ছিলো মাত্র!

এ গল্পে হিমু, ইরা, বাদল, মাজেদা খালা, খালু বাদেও আরো কয়েকটি চরিত্র রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান দুটি চরিত্র হলো, রেশমা খালা আর বদরুল সাহেব।

বদরুল সাহেব এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র। অত্যন্ত দুঃখী অথচ গোবেচারা ধরনের মানুষ নিতান্তই খেয়ালবশত হিমুকে প্রচন্ড পছন্দ করেন…

এছাড়া রয়েছেন রেশমা খালা! স্বামীর মৃত্যুর পর যিনি রাতে ঘুমের সময় স্বামীকে প্রতিরাতে বাসায় দেখতে পান এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি হিমুকে তার কাছে নিয়ে আসেন! এ গল্পে রেশমা খালা না থাকলে নিঃসন্দেহে গল্পটি সাদামাটা রূপ ধারণ করতো।

এবং হিমু বইটি হিমু সিরিজের আমার পড়া অন্যতম সেরা এবং পছন্দনীয় বই। আমার এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার পড়া হয়েছে! এখনও মাঝে মাঝে পড়ি। বিশেষ করে শেষের দিকে ইরা আর হিমুর মধ্যকার কথোপকথন এক ধরনের অন্যরকম শিহরনের জন্ম দেয়। আর রূপা চরিত্রটি… যেন প্রতিটি গল্পেই নিজের মতো! পছন্দনীয় অথচ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য!

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ৯

বই: আমি তপু
লেখক :মুহাম্মদ জাফর ইকবাল
প্রচ্ছদ :ধ্রুব এষ
পাবলিকেশন: পার্ল পাবলিকেশন্স
প্রথম প্রকাশ:একুশে বইমেলা ২০০৫
মূল্য: ১৫০
পৃষ্ঠা:১২৩

#লেখক_পরিচিতি:মুহম্মদ জাফর ইকবাল (জন্ম: ২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২) হলেন একজন বাংলাদেশী লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ। তাকে বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখা ও জনপ্রিয়করণের পথিকৃৎ হিসাবে গণ্য করা হয়। এছাড়াও তিনি একজন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক। তার লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়েছে। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েকম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং তড়িৎ কৌশল বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন।

#সংক্ষিপ্ত_বিবরণ : বালকটির পুরো নাম আরিফুল ইসলাম তপু। সকলে ‘তপু’ নামেই ডাকেন। মা-বাবা এবং ভাই-বোনের স্বচ্ছল পরিবার তপুদের। হেসেখেলে ভালোই পেরিয়ে যাচ্ছিল জীবন। কিন্তু একটা সড়ক দুর্ঘটনা এই সুখী পরিবারটাকে দুঃখের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। সড়ক দুর্ঘটনায় তপুর বাবা মারা যান। দূর্ঘটনার পর থেকেই তপুর জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহতা। তপুর বাবার মৃত্যুর জন্য তপুর মা তপুকে দোষারোপ করতে শুরু করে। তপু যেন তার মায়ের চোখের বিষ হয়ে ওঠে। তপুর নিজ ভাই-বোনের থেকে তার মধ্যে বিশাল পার্থক্যের দেয়াল তৈরি করে দেয় তার মা। তপুর ভাইবোন যখন দামি খাদ্য গ্রহণে ব্যস্ত তখন তপু বাসি ভাত নিয়ে বসে থাকে। মায়ের অত্যাচারে তপুর পড়ালেখায় মরীচিকা ধরতে শুরু করে। তপুর মানষিক পরিস্থিতি সাময়িক ভাবে লেখাপড়া থেকে দূরে সরে আসে। ক্লাসে সবসময় প্রথম হওয়া তপুর পাশ করা নিয়ে টানাটানি শুরু হতে থাকে। তপুর বসবাসের জন্য স্থান হয় রান্নাঘরের পাশে স্টোর রুমে। নিঃসঙ্গ জীবনে এই স্টোর রুমে তার বন্ধু হয় একটি ইঁদুর। তপুর মনে হতে থাকে, এই গোটা দুনিয়াতে ইঁদুর আর কাজের বুয়া ছাড়া কেউ তাকে ভালোবাসে না। কাজের বুয়া তপুর মায়ের অগোচরে তাকে টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। তপু স্টোর রুমে থেকেও তার মায়ের অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তপু আবেগের বশবর্তী হয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু তখনই স্কুলে তার ‘প্রিয়াংকা’ নামে একটা মেয়ের সাথে পরিচয় হয়। প্রিয়াংকা তপুর মধ্যে গণিত বিদ্যার বিশালতা আবিষ্কার করে। যার কারণে নিয়মিত চর্চাতে তপু গণিতে আরো পারদর্শী হয়ে ওঠে এবং গণিত অলিম্পয়াডে অংশগ্রহণ করে। অলিম্পয়াডে প্রথম হয়ে তপুর আনন্দের বাঁধ ভেঙে যায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তপুর ছবি এবং নাম উঠে আসে। কিন্তু এমন খবরেও খুশি হতে পারেনি তপুর পরিবার। গল্পের শেষাংশটুকু লেখক মর্মাহত করেছেন। তপুর মা ক্যান্সারের কবলে পড়ে হাসপাতালের বিছানায় জীবনযাত্রা করতে থাকেন। কয়েক বছর পরে তপু তার মায়ের সামনে গিয়ে দাড়ালে তপুর মা আপ্লুত হয়ে কাঁদতে থাকেন। তপুও মাকে জড়িয়ে ধরে চোখের জল ফেলতে থাকেন। ঠিক তখনই তপুর মা পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে বিদায় নেন।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: বইটা পড়ার পরে থমকে থেকে থেকে কেঁদেছি।এক কিশোরের জীবনের করুন দশা পড়তে গিয়ে আমার চোখ ভিজে উঠেছে বার বার।আর লেখক তার শব্দ গুলো এত সুন্দর করে সাজিয়েছেন যে আপনি মন্ত্র মুগ্ধের মতো আটকে যাবেন বই এর সাথে।

#ভালোলাগা: মূল চরিত্র তপু হলেও প্রিয়াংকা চরিত্রটি আমার খুব ভালো লাগছে।পরোপকারী মিস্টি স্বাধীন একটা মেয়ে।বলতে গেলে তপুর নিজেকে খুঁজে
পাওয়ার মূল কারণ হলো প্রিয়াংকা।

#ব্যাক্তিগত_মতামত:কিশোর উপন্যাসের স্বাদ পেতে চাইলে বইটি পড়তে পারেন।ভালো সব কিশোর উপন্যাস এর মধ্যে এই বইটি অন্যতম।

সুন্দর এই বইটি পড়ার নিমন্ত্রণ রইলো 😊

রিভিউয়েঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)
ধন্যবাদ😊

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ৮

বইঃ শেষের কবিতা
লেখকঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্রকাশকঃএ কে নাসির আহমেদ সেলিম
প্রকাশনীঃকাকলী প্রকাশনী
মূল্যঃ ৭০ টাকা
পৃষ্ঠাঃ৮০

#লেখক_পরিচিতঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (৭ই মে, ১৮৬১ – ৭ই আগস্ট, ১৯৪১) (২৫শে বৈশাখ, ১২৬৮ – ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক।তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ,৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাসও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত। এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

#পাঠ_পূর্ব_প্রতিক্রিয়াঃ শেষের কবিতা পড়ার আগ্রহ জাগছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি ভালোবাসা থেকে…আমি তার উপন্যাস এর চেয়ে কবিতা বেশি পড়ছি…..😊৷

#কাহিনী_সংক্ষেপঃ-শিলং পাহাড়ের পথে বিপরীতমুখী দুটি গাড়ির পরস্পর আকস্মিক দুর্ঘটনায় পরিচয় হয় বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার অমিত রায় ও লাবণ্যর। নির্জন পাহাড়ের সবুজ অরণ্য ঘেরা দুর্লভ অবসরে দু’জন দু’জনকে দেখে মুগ্ধ হয়। যার পরিণতি দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত ভালোবাসায়। যেখানে নির্ধারিত ছিল যে লাবণ্য বই পড়বে আর পাশ করবে, এমনি করেই তাঁর জীবন কাটবে। সে হঠাৎ দেখতে পেল সে-ও ভালোবাসতে পারে। আর অমিত যেখানে মেয়েদের কাছে সোনার রঙের দিগন্ত রেখা- ধরা দিয়েই আছে, তবু ধরা দেয় না। রুচির তৃঞ্চা মিটিয়ে কত সুন্দরী মেয়েদের পাশ কাটিয়ে এসেছে এতকাল। সেই বন্দি হলো লাবণ্য প্রেমে।শিলংয়ের পাহাড়ি পথে ঘুরে ঘুরে ওদের বেশ ভালোই সময় কাটে- গান গেয়ে, আবৃত্তি শুনে, পাখি দেখে। প্রকৃতি যেন ওদের ভালোবাসার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। এমন সময় অমিত লাবণ্যকে বিয়ে করতে অস্থির হয়ে উঠে। কিন্তু লাবণ্যর মন তাতে সায় দেয় না। লাবণ্য ও অমিতের মধ্যে তখন শুরু হয় ব্যক্তিত্বের সংঘাত। অনেক তর্ক-বিতর্ক, মান-অভিমানের পর অমিত লাবণ্যর ভালোবাসা যখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলছে হঠাৎ করেই তখন ওদের বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। এবং সেই সময় অমিতের বোন সিসি ও তাঁর বন্ধু কেতকী শিলং এসে উপস্থিত হয়।কেতকীর সঙ্গে বিলেতে থাকার সময় অমিতের একটা গভীর মুগ্ধতার সম্পর্ক ছিল। এবং সে সময়টাতে অমিত কেতকীকে ভালোবেসে যে আংটি পরিয়েছিল, লাবণ্যর সঙ্গে অমিতের বিয়ের খবর শুনে কেতকী সে আংটি খুলে অশ্রুসিক্ত নয়নে শিলং ছেড়ে চেরাপুঞ্জি চলে যায়। অমিত যে আংটিটি লাবণ্যকে পরিয়ে ছিল সেটিও সে খুলে দেয় অমিতের হাতে। অমিত কি করবে ভেবে পায় না।লাবণ্যর পরামর্শে অমিত চেরাপুঞ্জি যায় কেতকীদের ওখানে। কদিন পর ফিরে এসে দেখে লাবণ্য চলে গেছে শিলং ছেড়ে। কোনো ঠিকানা রেখে যায়নি। এক সময় অমিত ফিরে যায় কলকাতায়। তারও কিছুকাল পরে অমিতের সঙ্গে বিয়ে হয় কেতকীর। এর মধ্যে লাবণ্যর একটি চিঠি আসে অমিতের কাছে। সে চিঠিতে লেখা- ছয়মাস পর রামগড় পর্বতের শিখরে শোভনলালের সঙ্গে লাবণ্যর বিয়ে। প্রথম যৌবনে শোভনলাল লাবণ্যকে ভালোবেসে ছিল; কিন্তু লাবণ্যর অবজ্ঞা ও অপমানে শোভন দূরে চলে যায়। এক সময় শোভনলালকে বরদান করবে বলেই লাবণ্য নিজের অগোচরে অপেক্ষা করে বসে ছিল এতকাল, আর এখন সেই শোভনলালই শেষ পর্যন্ত এলো তাঁর জীবনে।

#প্রিয়_উক্তিঃ শেষের কবিতা উপন্যাসে রবি ঠাকুরের অসাধারণ কিছু উক্তি আছে, আছে কিছু অসাধারণ চিত্র বর্নণা…
১. ” অমিত বলে, ফ্যাশানটা হল মুখোশ, স্টাইলটা হল মুখশ্রী। ওর মতে, যারা সাহিত্যের ওমরাও দলের, যারা নিজের মন রেখে চলে, স্টাইল তাদেরই। আর যারা আমলা দলের, দশের মন রাখা যাদের ব্যবসা, ফ্যাশান তাদেরই। … কানাত হল ফ্যাশানের, বেনারসি হল স্টাইলের – বিশেষের মুখ বিশেষ রঙের ছায়ায় দেখবার জন্যে।”
২. ” কমল-হীরের পাথরটাকে বলে বিদ্যে , আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে ,তাকে বলে কালচার।পাথরের ভার আছে, আলোর আছে দীপ্তি।”
৩. ” সায়াহ্নের এই পৃথিবী যেমন অস্ত-রশ্মি-উদ্ভাসিত আকাশের দিকে নি:শব্দে আপন মুখ তুলে ধরেছে, তেমনি নীরবে, তেমনি শান্ত দীপ্তিতে লাবণ্য আপন মুখ তুলে ধরলে অমিতের নতমুখের দিকে।”
৪. ” সেইখানে পশ্চিমের দিকে মুখ করে দুজনে দাঁড়ালো। অমিত লাবণ্যের মাথা বুকে টেনে নিয়ে তার মুখটি উপরে তুলে ধরল। লাবণ্যের চোখ অর্ধেক বোজা, কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।”

#পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ রবীন্দ্রনাথ তাঁর অধিকাংশ উপন্যাসেই নিষদ্ধ প্রেমটা বেশ ফলাও করে এনেছেন। চোখের বালি, ঘরে-বাইরে, নৌকাডুবি… নিষিদ্ধ প্রেম ছাড়া কোন কথা নেই। “শেষের কবিতা” সেরকম কিছু না। এটি বলতে গেলে এক ধরণের নির্ভেজাল প্রেমের উপন্যাস। এবং সেটি যেমন তেমন প্রেম না, গভীর আবেগ মিশ্রিত হৃদয় নাড়িয়ে দেবার মত প্রেম আর এক কথায় বলতে গেলে অসাধারন লেখুনী।বইটা পড়া শুরু করে শেষ না করে উঠতেই পারলাম না।অন্যরকম এক ভাল লাগা রয়েছে বইটিতে।যারা পড়েননি বলব মিস করছেন।

#ভালোলাগাঃ অমিত চরিত্র টি আর লাবণ্য চরিত্র টি খুব ভালো লেগেছে..অমিত চরিত্রে এমন কিছু গুণ দেওয়া হয়েছে যা আমাদের বাঙ্গালী সমাজের মেয়েরা চোখ বন্ধ করে পছন্দ করে ফেলবে। বলা যায় অমিত অনেকটা মেয়েদের স্বপ্নের পুরুষের মত। যেমন চেহারা, তেমন স্টাইলিস্ট, তেমন পড়াশোনা আর ঠিক তেমনই পয়সাওয়ালা উচ্চ রুচিবান ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলে। আর লাবন্য অনেকটা সাধাসিধে জীবনের অধিকারিণী। স্বল্পভাষী, লাজুক, পরিষ্কার মনের মেয়ে সে। তবে সেই সাথে খুব বাস্তববাদী। যা অমিত নয়।

রবীন্দ্রনাথের বই নিয়ে প্রথম লিখলাম ভুলত্রুটি নিজ গুনে মাফ করবেন
বইটি পড়ার নিমন্ত্রণ রইলো 😊
ধন্যবাদ

রিভিউঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

ছবিঃ সংগৃহীত

Categories
Books

রিভিউ নাম্বার ৭

বই:পুফি

হুমায়ুন আহমেদ কে চেনেন আর মিসির আলীর সাথে পরিচয় নেই এমন মানুষ পাওয়া যাবেনা ꫰পুফি বইটি মিসির আলি সিরিজ এর ই একটা বই꫰ প্রথমেই যেটা বলব বইটির নাম শুনে বাচ্চাদের বই মনে হলেও আসলে এটি শিশুতোষ বই না꫰ এমনকি লেখক বইএর ভূমিকায় অভিভাবক দের বলেছেন শিশুদের এর থেকে ১০০ হাত দূরে রাখতে ꫰
আসলে ব্যখ্যার অতীত জগৎ যাদের আকৃষ্ট করে তাদের এই বই টি খুব ভালো লাগবে এটুকু বলতে পারি꫰ এ বই এ scr(self created reality) এর অল্প বিস্তর ব্যখ্যা করেছেন লেখক ꫰ অন্যান্য গল্পে মিসির আলীর আগমন প্রথমে হলেও এখানে মধ্যভাগে তাই শুরুতে এটি সাধারণ উপন্যাস মনে হতে পারে ꫰কিন্তু জোয়ারদার এর মৃত মানুষের সাথে যোগাযোগ, পুফির অদ্ভুত কান্ডকারখানা আর শায়লার একই সাথে দুইটা আলাদা জগৎ এ ভ্রমন করার রহস্য পড়তে পড়তে আমিও চরিত্র গুলোর সাথে ঘুরপাক খেয়েছি꫰ সর্বপরি ধীরে ধীরে একটা আলাদা জগৎ এ পাঠক নিজেকে আবিষ্কার করবে꫰ কিন্তু সেই আলাদা জগৎ টা আসলে কার?
শায়লা? জোয়ারদার? নাকি পুফির? জানতে হলে অবশ্যই বইটি পড়তে হবে….

ধন্যবাদ #ñùbãísã ñìll
এতো সুন্দর একটা রিভিউ করে দেওয়ার জন্য
বই রিভিউঃñùbãísã ñìll

উপস্থাপনায়ঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

Categories
Books

#রিভিউ নাম্বার ৬

বইয়ের নাম:শঙ্খনীল কারাগার
লেখক: হুমায়ন অাহমদ
প্রকাশক: অন্য প্রকাশ
প্রথম প্রকাশ:২০০৯,বই মেলা।
পৃষ্ঠা : ৮৫
মূল্য : ১২০

দাম্পত্য মানে কখনোই একজন আর এজনের মাঝে বিলীন হয়ে যাওয়া নয়, বরং নিজেদের নিজস্বতা বজায় রেখে এক সঙ্গে চলা। সেখানে দুজনেরই নিজস্ব স্পেস থাকা দরকার যা দুজনকেই আত্মউন্নয়নে সাহায্য করবে, কিন্তু একজনকে আর একজনের নিজস্ব হৃদয়োপলব্ধিতে দখলদারি কখনোই কাম্য নয়। যখন দখলদারি মনোভাব নিয়ে কেউ দাম্পত্য জীবন চালাতে আসে তখনি আসে বিপত্তি। পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ যেখানে ক্ষীণ।

হুমায়ন অাহমদ বাংলা সাহিত্যের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র।তাঁর লেখায় অালো-অাঁধারের রহস্য, যুক্তি-অযুক্তির অন্যন্য সব চরিত্র, কাল্পনিক সাদৃশ্য বাস্তবতার নির্মমতা ও সরল স্বাভাবিক পাঠকে রোমাঞ্চিত, শিহরিত ও শূণ্যতায় শোকাতুর করে তোলার সামর্থ্য রাখে। যে পাঠক একবার সাহস করে তাঁর সৃষ্ট সাহিত্য জগতে পদার্পণ করেছেন, সে পাঠক অবশ্যই পছন্দ করেন তাঁর সাহিত্যকে। অন্য সাহিত্যকর্মে সে স্বাদ খুঁজে পান না।পাঠক উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যে নিজেকে খুঁজতে থাকে।

উপন্যাসের নাম শঙ্খনীল কারাগার।উপন্যাসটি পড়ার সময় উপন্যাসের প্রতিটি প্রেক্ষাপটের সাথে নামটির যথার্থতা মেলাতে পারবেন। লেখক এ উপন্যাসে তাঁর লেখনি দক্ষতার চেয়ে চিন্তা শক্তির প্রয়োগ করেছেন বেশি।
নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে কাহিনি স্বাভাবিক ভাবে তুলে ধরেছেন।

উপন্যাসের প্রথম দিকে শিরিন এক অজ্ঞাত কারণে অাবেদকে ডিভোর্স দিয়ে বাংলাদেশে চলে অাসেন।তখন তিনি একটি কন্যা সন্তানের মা এবং কাকতালীয়ভাবে অাজহার হোসেনকে বিয়ে করেন।
অাজহার হোসেন দেড়শত টাকা ভাড়ায় ঘর নিয়ে শিরিন ও তার পূর্ব স্বামীর সন্তান রাবেয়াকে নিয়ে সংসার শুরু করেন। তারপরে একে একে খোকা, রুনু, ঝুনু, মন্টু এবং সর্বশেষ নিনুর জন্ম হয়। নিনু জন্মের সময় তেইশ বছরের সংসার জীবনে ইতি টেনে শিরিন মারা যায়। এই তেইশ বছর বয়সে শিশির কখনো তার নিজ বাড়িতে যান নি। স্বামী ও সন্তানদের থেকেও নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের ব্যাথা ও নিজের স্বপ্ন ভঙ্গই হয়ত এর প্রধাণ কারণ।

অাজহার হোসেনও সবসময় চুপচাপ থেকেছেন। কখনো শিরিন সাথে স্বামীতুল্য কিংবা সন্তানদের সাথে পিতৃতুল্য অাচরণ করেন নি। সবসময়ই তার মধ্যে হীনমন্যতা কাজ করত।শিরিন ও অাজহার সাহেবের বড় ছেলে খোকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্তি করে কলেজের প্রফেসার হিসেবে কর্মরত। খোকা তার খালাতো বোন কিটকিকে মনে মনে পছন্দ করত। কিন্তু কখনো বলতে পারেন নি। কিটকিকেও হয়তো তাকে পছন্দ করতো, কিন্তু সেও তা মুখ ফুটে বলে নি। হঠাৎ কিটকির অন্য একটি ছেলের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। তার এই অব্যক্ত ভালোবাসার বুকচাপা অার্তনাদ কাউকে বলে নি সে, তবুও রাবেয়া তার কষ্ট বুঝতে পারে। রাবেয়া খোকার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তখন সে খোকাকে সান্ত্বনা দেয়।রাবেয়া খুব লক্ষ্মীমন্তর মেয়ে।মেয়েদের গায়ে রং যতটা কালো হলে হিন্দু দেবী কালীর রূপের সাথে তুলনা করে,অনেকটা তেমন গায়ের রং ছিল রাবেয়ার। বারবার পাত্র এসে ফিরে গেলো যখন ,তখন সে বুঝতে পারে তার অার বিয়ে হবে না, তখন সে রুনুর বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিছুদিন পর এক পাত্রপক্ষ রুনুকে দেখতে এসে ঝুনুকে পছন্দ করে। তখন ঐ পাত্রের সাথে ঝুনুর বিয়ে হয়। এই অপমানের পর রুনুর কথাবার্তা অাচার অাচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়। এর কিছু পর সে মারা যায়।সবকিছু মিলিয়ে পরিবারে নেমে অাসে চরম বিপর্যয়। রাবেয়া পারিবারিক এ বিপর্যয়ের পর পড়াশুনা শেষ করে ময়মনসিংহের একটি কলেজের ছাত্রী নিবাসের সুপারিন্টেনডেন্ট দায়িত্ব পান। এর অাগে একবার কলেজের ভর্তি হওয়ার পর কালো রংয়ের কারনে বিভিন্ন ভাবে অপমানিত হয়। তখন তার বাবা তাকে বিশ টাকা দিয়ে একটি বিউটি ক্রিম এনে দেয়।যেটি রাবেয়ার কাছে ছিল জীবনের সেরা উপহার। কারণ মাত্র এগারো বছর বয়স থেকেই সে জানত যে অাজহার সাহেব তার বাবা নন, তার বাবা অাবেদ হোসেন। এ নিষ্ঠুর সত্য সে সবার থেকে অাড়াল করে রাখেন।ময়মনসিংহে গিয়ে এক হৃদয়স্পর্শী চিঠি লেখেন খোকার কাছে। তাতে রাবেয়া তার অব্যক্ত ও লুকোনো কথা খোকার কাছে তোলে ধরেন এবং তার বাবা অাবেদ কর্তৃক প্রাপ্ত সকল অর্থ তার ভাই বোনদের দিয়ে দেন।
উপন্যাসের আরেকটা চরিত্র ছিল মন্টু।মন্টুর “দিতে পার একশ ফানুস এনে?আজন্ম সলজ্জ সাধ একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই” এ বাক্য দুটি যেন উপনাসের মূল বিষয়বস্তু।

হুমায়ন আহমেদ তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মত সহজ সরল ভাষায় লেখা শঙ্খনীল উপন্যাসটি লিখেছেন।
সব মিলেয়ে উপন্যাসটা বেশ ভালোই ছিল।তবে কোথায় যেন কিছুটা শূণ্যতা রয়ে গেছে।

“জানালার ওপাশের অন্ধকার থেকে আমার সঙ্গীরা আমায় ডাকেভএকদিন যাদের সঙ্গ পেয়ে আজ নি:সঙ্গতায় ডুবছি”❤️

রিভিউঃ Nazmul Islam Shohan (হিমু)

stay home
stay save……