Categories
Career

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

শিল্পায়ননির্ভর এ সময়ে যে কয়েকটি পেশাকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ধরা হয়, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং তাদের মধ্যে একটি। একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রের ডিজাইন, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকেন।

এক নজরে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

সাধারণ পদবী: মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
বিভাগ: ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳৩০,০০০ – কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২৫ বছর
মূল স্কিল: যন্ত্রপাতি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান, সিস্টেম ডিজাইনে পারদর্শিতা
বিশেষ স্কিল: প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কোথায় কাজ করেন?

বিদ্যুৎ খাত থেকে শুরু করে গ্যাসকূপ খনন, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, রড-সিমেন্টের কারখানা, এমনকি পানিশোধনাগারগুলোতে পর্যন্ত একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কাজ করতে পারেন।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা মূলত বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের টারবাইন, অল্টারনেটর ও জেনারেটরের নকশা, সংযোজন, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকেন। এছাড়া তারা বিমানের ইঞ্জিন, কমবাশ্চন ইঞ্জিন, এয়ারকন্ডিশনিং মেশিন ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদন কারখানার মান নিয়ন্ত্রণ ও কমিশনিংয়ের কাজ করেন।

বড় ছাপাখানা, সমরাস্ত্র কারখানা, টাকশাল, গ্যাস ও তেল খনন কূপের জন্য নিয়োজিত কিংবা শোধনের জন্য ব্যবহৃত ভারি যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের কাজে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়া হয়।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কী ধরনের কাজ করেন?

যে কোন খাতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সাধারণ দায়িত্বের মধ্যে পড়েঃ

যন্ত্রপাতির নকশা বানানো;

কারখানার চাহিদা অনুসারে স্বল্প খরচে সর্বাধিক কর্মদক্ষতার যন্ত্রাংশ নির্মাণ করা;

ভারী যন্ত্র স্থাপন (Installation), কমিশনিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করা;

প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সময়ের হিসাব ও বাজেট প্রণয়নে সহায়তা করা।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ১-২ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

চাকরিদাতারা আশা করেন যে, একজন এন্ট্রি লেভেলের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ভালোভাবে জানবেন। সে লক্ষ্যে আপনার থার্মোডিনামিক্স, সলিড মেকানিক্স, ফ্লুইড মেকানিক্স, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এবং কন্ট্রোল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এতে আপনি সিস্টেম ডিজাইনে পারদর্শী হয়ে উঠবেন।

মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনার বেসিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যবহৃত গণিত আর পরিসংখ্যানে দক্ষতা থাকা উচিত। পাশাপাশি কিছু সফটওয়্যারের (যেমনঃ SolidWorks, AutoCAD, MATLAB) কাজ জানা থাকলে আপনি চাকরির বাজারে আরো গ্রহণযোগ্যতা পাবেন। এখানে উল্লেখ্যযোগ্য আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে, আপনি যদি ছাত্র থাকা অবস্থায় কোন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করতে পারেন, তাহলে তা চাকরিদাতাকে আপনার ব্যাপারে আরো আগ্রহী করে তুলবে। এর কারণ হলো, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কিছুটা হ্যান্ড-অন এক্সপেরিয়েন্স ব্যবহারিক কাজের জ্ঞান থাকা জরুরি।

নন-টেকনিক্যাল জ্ঞানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –

সৃজনশীল উপায়ে ও যৌক্তিকভাবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা;

বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে সাহায্য করতে পারে;

অন্যদের সাথে কাজ করার মানসিকতা থাকা;

বিভিন্ন ধরনের কাজ একসাথে সামলানোর দক্ষতা;

বড় কারখানায় ভারি যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকা।

কোথায় পড়বেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং?

বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর বিএসসি ডিগ্রি নিতে পারেন। আবার ডিপ্লোমা কোর্সেও পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া বাংলাদেশে বহু সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে, যেখানকার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু কারখানা ও শিল্পাঞ্চলে কাজ পেতে সাহায্য করবে।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয় কেমন?

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডে সহকারী প্রকৌশলীদের বেতন শুরু হয় ৳৩২,০০০ থেকে। পদোন্নতির সাথে এর পরিমাণ সাথে বাড়তে থাকে। তবে অধিকাংশ বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান সরকারি মালিকানাধীন লিমিটেড কোম্পানি হয়ে যাওয়াতে সেখানে সম্পূর্ণ নিজস্ব স্কেলে বেতন দেয়া হয়, যা ৳৫২,০০০ থেকে শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, বিনা অভিজ্ঞতায় এসব চাকরিতে যোগ দেয়া গেলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

বিনা অভিজ্ঞতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চিনি, তামাক, চামড়া, খাদ্য উৎপাদন কারখানা, ব্যাংক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৳৩৫০০০- ৳৪০,০০০ মাসিক বেতনে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ আছে।

অভিজ্ঞতা, কারিগরি যোগ্যতা আর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের বেসরকারি খাতে ২ লক্ষ টাকা আয় করারও নজির আছে। পাশাপাশি সরকারি প্রকৌশলীদের জন্য কনসাল্টেন্সি করে বৈধ পন্থায় মাসে লক্ষাধিক টাকা আয়ের সুযোগ আছে এ পেশায়।

একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলে দক্ষতা অনুসারে নির্দিষ্ট সময় পর পদোন্নতি পেয়ে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আরোহণ করা সম্ভব।

সরকারি খাতে সহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে প্রধান প্রকৌশলী কিংবা বেসরকারি খাতে হেড অফ অপারেশন বা চিফ অপারেটিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পাওয়া মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ক্যারিয়ার লক্ষ্য হতে পারে। এছাড়া বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, ব্যাংক আর সিভিল সার্ভিসেও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Categories
Career

ফটোসাংবাদিক এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

প্রিন্ট মিডিয়াতে খবর প্রচারের অন্যতম মাধ্যম স্থির চিত্র। আর এই স্থির চিত্রের কারিগর একজন ফটো সাংবাদিক।

সাধারণ পদবী:  ফটো সাংবাদিক

বিভাগ:  সাংবাদিকতা

কর্মস্থলঃ  প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল

ক্যারিয়ারের ধরন:  পার্ট টাইম/ফুল টাইম

লেভেল: এন্ট্রি/ মিড

অভিজ্ঞতা: প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা

বেতন সীমা: নিয়মিত কাজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভেদে ২৫-৪০ হাজার

বয়স সীমা:  নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। কর্মক্ষম হওয়াই যথেষ্ট

মূল স্কিল : ফটোগ্রাফি এবং ক্যামেরা পরিচলনার দক্ষতা, সাংবাদিকতার নিয়ম, শিষ্টাচার সম্পর্কে জ্ঞান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ সম্বন্ধে ধারণা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান

বিশেষ স্কিল:  সাহসিকতা, বুদ্ধিমত্তা, সততা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল

একজন ফটো সাংবাদিক কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বা শিল্পে কাজ করেন?

একজন ফটো সাংবাদিক মূলত প্রিন্ট মিডিয়াতে কাজ করেন। প্রায় সকল ধরনের পত্রিকা, ম্যাগাজিনে ফটো সাংবাদিক প্রয়োজন। এছাড়া ওয়েব পোর্টালেও একজন ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ আছে।

একজন ফটো সাংবাদিক কী ধরনের কাজ করেন?

একজন ফটো সাংবাদিকের প্রধান দায়িত্ব কোন এজেন্ডা প্রচার না করে সর্বদা নিরপেক্ষ ভাবে সাংবাদিকতা করা। একজন ফটো সাংবাদিক তার কাজের বিভাগ অনুযায়ী ছবি তোলেন। স্পোর্টস, আর্টস, ফ্যাশন, ফুড, লোকাল নিউজ সহ বিভিন্ন বিভাগে একজন ফটো সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের ইভেন্টের ছবি তোলেন। একজন ফটো সাংবাদিকের কাজের মধ্যে পরে গুরুত্বপূর্ণ যে কোন ঘটনা, সেমিনার, সভা স্থলে গিয়ে ছবি তোলা তেমনি কারোর সাক্ষাৎকার নেবার সময় ঐ ব্যক্তির পোট্রেট তুলে থাকেন। ফ্যাশন শো, রাজনৈতিক সভা, আন্দোলন, খেলা, উতসব, সংঘর্ষ সব কিছুই ফটো সাংবাদিকতার আওতায়। একজন সাংবাদিক নিজ উদ্যোগে অথবা পত্রিকা থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে কোথাও ইভেন্টের ফুটেজ আনতে যান। এ কাজে মাঝে মাঝে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। এজন্য একজন সাংবাদিককে কাজের সময় সাহসিকতা, সততা এবং বুদ্ধির পরিচয় দিতে হয়।

একজন ফটো সাংবাদিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

একজন ফটো সাংবাদিকের মূল দক্ষতা পত্রিকার জন্য উপযুক্ত ছবি তোলা। যে কোন বিষয়ে স্নাতক/স্নাতকোত্তর পাশ শিক্ষার্থীরাই ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে সাংবাদিকতা ও গণ মাধ্যম বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ফটোগ্রাফিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি বা কোন সার্টিফিকেট কোর্স সম্পূর্ণ থাকলেও কাজে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।

একজন ফটো সাংবাদিকের কী কী দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

        ফটোগ্রাফিতে অবশ্যই সৃজনশীলতা এবং দক্ষতার পরিচয় হতে হবে

        ফটোগ্রাফিক ডিভাইস চালনায় দক্ষ হতে হবে

        ফটো সাংবাদিকতার মূল্যবোধ, শিষ্টাচার সম্বন্ধে ধারণা রাখতে হবে

        প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে হবে এবং কাজে সততা ও সাহসিকতার পরিচয় দিতে হবে

        বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তির মাধ্যমে কাজ করতে হবে

        সাংবাদিকতার বিভাগ সম্পর্কে সম্যক ধ্যারণা রাখতে হবে

        চারপাশে চলমান ঘটনাবলি সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে

কোথায় পড়াশোনা করবেন ফটো সাংবাদিক হতে চাইলে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ(AIUB), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসেও(ULAB) বিষয়টি মিডিয়া স্টাডিজসহ বিভিন্ন নামে পড়ানো হচ্ছে।

জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ জার্নালিজমে ফটো সাংবাদিকতার উপর কোর্স করানো হয়। এর পাশাপাশি পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট, কাউন্টার ফটোতে ফটোগ্রাফির উপর কোর্স করানো হয়।

একজন ফটো সাংবাদিকের কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ কেমন?

বর্তমানে বাংলাদেশে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক অসংখ্য পত্রিকা বের হচ্ছে। দেশে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির সাথে সাথে পত্রিকা পাঠ করা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার ইন্টারনেট ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধির ফলে জনপ্রিয় পত্রিকা গুলোর অনলাইন ভার্সন বা স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল এখন অনেক জনপ্রিয়। আবার আকাশ সংস্কৃতির এ যুগে বাংলাদেশের মানুষও এখন ফ্যাশন সচেতন। ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইল ম্যাগাজিনগুলোর কদর বরাবরই আছে এ দেশে। এসব মিলিয়ে এখন ফটো সাংবাদিক হিসেবে বাংলাদেশে কাজের সুযোগ অনেক। আগে গুটি কয়েক মানুষ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এ পেশায় আসলেও এখন ছাত্র বয়স থেকেই অনেকেই বিভিন্ন পত্রিকার সাথে যুক্ত হচ্ছে এবং অভিজ্ঞ হয়ে ফটো সাংবাদিকতাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

একজন ফটো সাংবাদিকের মাসিক আয় কেমন?

একজন ফটো সাংবাদিক বিভিন্নভাবে পত্রিকা-ম্যাগাজিনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন। সে অনুযায়ী একজন ফটোসাংবাদিকের মাসিক আয়ও ভিন্ন ভিন্ন। তবে অধিকাংশ পত্রিকা মজুরী বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী বেতন দেয়না।

পার্ট টাইম হিসেবে কাজ করা একজন ফটো সাংবাদিক প্রতিটি ঘটনার ফুটেজ সংগ্রহের জন্য পত্রিকাভেদে ৫০০-১০০০ টাকা পান। একজন ফিচার সাংবাদিক ৭/৮ টি ছবির জন্য ৩-৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।

একজন ৪/৫ বছরের অভিজ্ঞ ফটো সাংবাদিক নিয়মিত কাজ করলে পত্রিকাভেদে মাসে ২৫-৪০ হাজার টাকা উপার্জন করতে পারেন।

ম্যাগাজিনের মধ্যে হাতে গোনা কটি লাইফস্টাইল এবং ফ্যাশন ম্যাগাজিন ব্যতীত অধিকাংশ ম্যাগাজিনে ফটো সাংবাদিকদের সম্মানি অত্যন্ত কম।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন ফটো সাংবাদিকের?

ফটো সাংবাদিকতা যত না একটি পেশা তার থেকে বেশি একটি শিল্প। কাজেই এ পেশায় খ্যাতি একটি বড় ব্যাপার। একজন ফটো সাংবাদিক তার সৃজনশীলতা এবং সাহসিকতার মাধ্যমে সমাজে আলোড়ন তোলবার ক্ষমতা রাখেন।

শুরুতে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কোন পত্রিকায় পার্ট টাইম কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তীতে যে কোন পত্রিকায় নিয়মিত ভিত্তিতে কাজ পাওয়া সম্ভব। অধিক দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং কর্মপটু হলে পত্রিকা একজন ফটো সাংবাদিকের চাকুরি স্থা্যীকরণ করে থাকে। এরপর কাজে দক্ষতার পরিচয় দিলে ধীরে ধীরে সিনিয়র ফটো জার্নালিস্ট এবং চীফ ফটো জার্নালিস্ট হওয়া সম্ভব।

Categories
Career

একজন সচিব এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

সচিবালয় দেশের গোটা প্রশাসন ও সরকারি কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। প্রধানত এখানেই সরকারের সকল নীতি নির্ধারণী সংস্থা অবস্থিত। ‘বাংলাদেশ সচিবালয়’ বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক সদর দপ্তর, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও আমলাতান্ত্রিক অফিস। এর রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রীগণ আর প্রশাসনিক প্রধান সরকারের সচিবগণ। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের নীতি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সচিবরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন।

সাধারণ পদবী: সচিব
বিভাগ: সচিবালয়     
কর্মস্থলঃ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়।
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম
লেভেল: এন্ট্রি
অভিজ্ঞতা: পুর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারে উত্তীর্ণরা সর্বোচ্চ পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন।
বেতন সীমা: জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ৳১৮০০০-৳২২,৫০০। কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে শুরুতে মাসিক বেতন ৳৩২,০০০-৳৩৭,০০০ ।
বয়স সীমা:  বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখে বয়স ২১-৩২ বছরের মধ্যে থাকতে হবে

একজন সচিব কী ধরনের সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন?

সকল মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে সচিবরা কাজ করেন।

একজন সচিব কী ধরনের কাজ করেন?  
•         সিনিয়র সচিবের কাজে সহযোগীতা করা।
•         সচিব সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও অধীনস্থ অফিসমূহসহ মন্ত্রণালয়/বিভাগের মুখ্য হিসাবরক্ষক।
•         মন্ত্রনালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে বাজেট ও প্রচলিত হিসাববিধি অনুসারে ব্যয় হয় সেটিও নিশ্চিত করেন।
•         প্রয়োজনীয় উপাত্ত, তথ্য ও উদাহরণ সংগ্রহ, পরীক্ষা, বিশ্লেষণ।
•         নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে মন্ত্রীকে মতামত দেয়া।
•         নীতিসমূহ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকি করা।
•         প্রাসঙ্গিক এবং সূক্ষ্ম বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখা।

বিএসসি পরীক্ষার ধাপ কী কী?  
শুরুতে  প্রিলিমিনারি টেস্ট হয় যেখানে ২০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি প্রশ্নে পরীক্ষা হয়। এ ধাপে উত্তীর্ণ হলে ১১০০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং লিখিত পরীক্ষায় ৫০ ভাগ নাম্বার পাওয়া পরীক্ষার্থীদের ভাইভা পরীক্ষার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  

একজন সচিবের মাসিক আয় কেমন?
জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ৳১৮০০০-৳২২,৫০০। কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া, ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে শুরুতে মাসিক বেতন ৳৩২,০০০-৳৩৭,০০০ । পদোন্নতি না হলে এ গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৳৫৩০৬০। এছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়িসহ সচিবদের আরো কিছু বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়।

Categories
Career

সাংবাদিক এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

একজন সাংবাদিক মূলত সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, রেডিও, টেলিভিশন ও ওয়েব পোর্টালের জন্য খবর জোগাড় করা, সংবাদ ও কলাম লেখা, সম্পাদনা, পরিমার্জন, পরিবেশন ও ছবি সংগ্রহের কাজ করে থাকেন। আমাদের দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সাংবাদিকদের কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্র বেশ বড় হওয়ায় অনেকেই নির্দিষ্ট বিভাগে মনোযোগ দেন। যেমন, ক্রীড়া সাংবাদিকরা শুধু খেলাধুলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন।

এক নজরে একজন সাংবাদিক

সাধারণ পদবী: সাংবাদিক
বিভাগ: গণমাধ্যম
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, ফ্রিল্যান্সিং
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা:কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳২০,০০০ – কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: কাজসাপেক্ষ
মূল স্কিল: ভাষাগত দক্ষতা, তথ্য অনুসন্ধানে দক্ষতা, উপস্থাপনার দক্ষতা, যোগাযোগের দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সৃজনশীলতা

একজন সাংবাদিক কোথায় কাজ করেন?

গণমাধ্যমঃ সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, রেডিও, টেলিভিশন, সরকারি বার্তা বাতায়ন বিভাগ, অনলাইন নিউজ পোর্টাল

বিজ্ঞাপনী সংস্থা

প্রকাশনা সংস্থা

গবেষণা প্রতিষ্ঠান

প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়াঃ বর্তমানে আমাদের দেশে বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে প্রায় ৩২টি দৈনিক খবরের কাগজ ও ৪টি স্বীকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রতিদিন প্রকাশিত হচ্ছে। এগুলোতে সাংবাদিকতা করার বড় সুযোগ রয়েছে।

নিউজ এজেন্সির মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত ইউনাইটেড নিউজ এজেন্সিতে আপনি সম্পাদক, উপ-সম্পাদক বা কলাম লেখকের কাজ পেতে পারেন।

টিভি ও রেডিওঃ সরকারি ৩টি ও বেসরকারি প্রায় ২২টি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে সম্প্রচারিত হচ্ছে। সেখানে আলোকচিত্রী, প্রতিবেদক, উপস্থাপক, সম্পাদক, প্রযোজক, বার্তাকক্ষ নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজের ক্ষেত্র রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ বেতার ছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি খাতে মোট ২৮টি এফ এম রেডিওকে লাইসেন্স ও ফ্রিকুয়েন্সি দেয়া হয়েছে। এগুলোতে মূলধারার সাংবাদিকতার পাশাপাশি সংবাদ পাঠক, উপস্থাপক, সম্পাদক, প্রতিবেদকসহ বহু পদে ইতোমধ্যে অনেকেই কাজ করছেন।

অন্যান্যঃ সরকারি ও বেসরকারি বহু কার্যালয়ে গণযোগাযোগ কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা মুদ্রণ, পরিস্ফুটন, বিপণন ও যোগাযোগের কাজ করে থাকেন। এছাড়া বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও চলচ্চিত্র বিভাগেও সাংবাদিকদের কাজের সুযোগ আছে।

অনেকে নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ না করে ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন।

একজন সাংবাদিক কী ধরনের কাজ করেন?

প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী একজন সাংবাদিকের কাজের ধরন আলাদা হয়। তবে যেকোন মাধ্যমে সাধারণ কিছু কাজ রয়েছে। যেমনঃ

সংবাদ সংগ্রহ করা;

সংবাদের সত্যতা যাচাই করা;

সংবাদ সম্পাদনা করা;

প্রয়োজনে মানুষের সাক্ষাৎকার নেয়া;

বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করা;

কলাম লেখা ও বাছাই করা;

তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করা;

প্রয়োজনীয় ছবি সংগ্রহ করা।

যেহেতু সাধারণ মানুষের জীবনে গণমাধ্যমের সরাসরি প্রভাব রয়েছে, সেহেতু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা একজন সাংবাদিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এছাড়া সংবেদনশীল খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা বাঞ্ছনীয়।

একজন সাংবাদিকের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ প্রত্যেক সাংবাদিককে প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতা বা গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়তে হবে, এমন কোন কথা নেই। বাংলা, ইংরেজি সাহিত্য, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরাও এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। তবে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে আগে থেকেই যারা নির্বাচন করে রাখেন, তাদের জন্য সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াই ভালো।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়।

অভিজ্ঞতাঃ কাজ সাপেক্ষে অভিজ্ঞতা দরকার হয়।

একজন সাংবাদিকের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

ভাষাগত দক্ষতাঃ বাংলা ও ইংরেজি – দুই ভাষাতে ভালো দখল থাকা জরুরি।

অনুসন্ধানী মনোভাবঃ কোন কিছুর ব্যাপারে অনুসন্ধান করে তথ্য সংগ্রহের মানসিকতা থাকতে হবে।

যোগাযোগের দক্ষতাঃ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে যোগাযোগের অভ্যাস থাকা প্রয়োজন।

উপস্থাপনার জ্ঞানঃ পাঠক বা দর্শক-শ্রোতার কাছে খবর উপস্থাপন করার ব্যাপারে জ্ঞান থাকতে হবে।

লেখালেখির দক্ষতাঃ বিভিন্ন ধরনের লেখালেখিতে অভ্যস্ত থাকা জরুরি এ পেশায়।

বিশ্লেষণী ক্ষমতাঃ কিছু ক্ষেত্রে শুধু তথ্য-উপাত্তের উপর নির্ভর না করে লেখায় বা সংবাদে যৌক্তিক চিন্তার প্রকাশ ঘটানো প্রয়োজন।

কারিগরি কিছু জ্ঞান থাকলে আপনি অন্য অনেকের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারবেন। যেমন, ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটরের প্রাথমিক ব্যবহার শিখে রাখলে তা কাজে দেবে। এর বাইরে ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে যুক্ত থাকলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে আসবে।

আগে থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে ঠিকভাবে জানা উচিত। যেমন, ক্রীড়া সাংবাদিক হতে চাইলে খেলাধুলা বিষয়ক বই, ম্যাগাজিন ও ওয়েবসাইট থেকে আপডেট নেবার অভ্যাস থাকা কাজে দেবে।

একজন সাংবাদিক হিসেবে কপিরাইট বিষয়ক আইনের জ্ঞান থাকা আপনার জন্য জরুরি। সর্বশেষ যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সৃজনশীলতা। তাই নিজেকে প্রতিনিয়ত সৃষ্টিশীল করে তোলার চেষ্টা থাকা চাই।

সুযোগ পেলে কোন সংবাদপত্রে ইন্টার্নশিপ করতে পারলে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। এছাড়া কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে প্রাধান্য পেতে পারেন চাকরিদাতাদের কাছে।

কোথায় পড়বেন সাংবাদিকতা?

বাংলাদেশের প্রায় সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়টি পড়ানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটির নাম নিচে দেয়া হলোঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি

মূলধারার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রেস ইন্সটিটিউট অফ বাংলাদেশ (PIB), বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া(BIJEM), পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউটসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মেয়াদে সাংবাদিকতার উপর ডিপ্লোমা কোর্স প্রদান করা হয়।

একজন সাংবাদিকের মাসিক আয় কেমন?

স্থায়ী ও অস্থায়ী মেয়াদে একজন সাংবাদিক এন্ট্রি লেভেল মাসে গড়ে ৳২০,০০০ আয় করে থাকেন। এ পেশায় অভিজ্ঞতার সাথে সাথে আয় বাড়ার সুযোগ আছে। তবে বেতন সীমা প্রতিষ্ঠান ও কাজের ধরন অনুযায়ী আলাদা হয়।

একজন সাংবাদিকের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

একজন সাংবাদিকের ক্যারিয়ার কেমন হবে, তা প্রতিষ্ঠান আর কাজের উপর নির্ভর করে।

সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিনের ক্ষেত্রে সাধারণত একজন সংবাদদাতা হিসাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হবে। ২-৩ বছরের মধ্যে কাজের মানের উপর ভিত্তি করে স্থায়ী প্রতিবেদকের পদ পাবেন। এরপর কোন নির্দিষ্ট বিভাগে উপসম্পাদনার কাজ পেতে পারেন। ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একজন সাংবাদিক পুরো পত্রিকার মূল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

টেলিভিশন চ্যানেল আর রেডিওর ক্ষেত্রে প্রতিবেদক কিংবা সংবাদ পাঠক/উপস্থাপক হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে সম্পাদক, প্রযোজক, বার্তাকক্ষ নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য সিনিয়র পদে উন্নীত হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

Categories
Career

সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসার এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

উৎপাদন ব্যবস্থার কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে পণ্য বাজারজাতকরণে একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসার বড় ভূমিকা পালন করেন। আমাদের দেশে খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে এ পদ পাওয়া যায়। তবে ধীরে ধীরে এ পেশার চাহিদা বাড়ছে।

এক নজরে একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসার

সাধারণ পদবী: সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসার
বিভাগ: লজিস্টিকস
প্রতিষ্ঠানের ধরন: প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳৩০,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২৫ – ৩৫ বছর
মূল স্কিল: উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞান, ব্যবসায়িক ধারণা, ব্যবসায়িক সমাধান দিতে পারা
বিশেষ স্কিল: যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা

একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসার কোথায় কাজ করেন?

সাধারণত বড় কোন পণ্য প্রস্তুতকারী/বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসার কী ধরনের কাজ করেন?

ব্যবসায়িক পরিকল্পনা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের জন্য মানসম্মত কাঁচামাল সংগ্রহ করা;

পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা ও রেকর্ড রাখা;

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে জড়িত কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা;

পণ্য বাজারজাতকরণের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা;

পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের পুরো প্রক্রিয়ার নির্ভুল হিসাব রাখা;

উৎপাদিত পণ্য সঠিকভাবে ক্লায়েন্টের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে তদারকি করা।

একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠান যে ধরনের পণ্য তৈরি করে, সে পণ্যের ব্যাপারে খুব ভালো জ্ঞান থাকা জরুরি। যেমন, ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো ফার্মাসির ডিগ্রিধারী কর্মী চায়।

ব্যাচেলর ডিগ্রি ন্যূনতম একটি যোগ্যতা। কেউ কেউ পণ্য ও কর্মী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে দক্ষতা অর্জনের জন্য এমবিএ ডিগ্রি নেন। বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের উপর আলাদা পড়াশোনা আশা করে।

বয়সঃ কিছু ক্ষেত্রে বয়সসীমা নির্ধারিত থাকে। তবে সাধারণত ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে আপনাকে।

অভিজ্ঞতাঃ অভিজ্ঞতা কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২ – ৩ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়।

একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

পণ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ সম্পর্কে ভালো জ্ঞান;

খুঁটিনাটি বিষয় বিশ্লেষণ করার দক্ষতা;

ব্যবসায়িক সমস্যা দ্রুততার সাথে সমাধানের দক্ষতা;

বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী ও ক্লায়েন্টের সাথে দক্ষভাবে যোগাযোগ করতে পারা;

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে পারা;

প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করার দক্ষতা।

এ দক্ষতাগুলো আপনাকে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব অনুধাবনে সাহায্য করবে।

কোথায় পড়বেন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট?

আমাদের দেশে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিষয়টি বেশ নতুন। তাই খুব সীমিতভাবে এতে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। অ্যাডভান্স সাপ্লাই চেইন সলিউশন বাংলাদেশ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠান কয়েক মেয়াদের ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করে থাকে। কোর্স সম্পন্ন করার পর পরীক্ষা দিয়ে আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন করা যায়।

একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসারের মাসিক আয় কেমন?

মাসিক আয় কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। তবে এন্ট্রি লেভেলে সাধারণত গড়ে ৳৩০,০০০ থেকে বেতন শুরু হয়। আন্তর্জাতিক সনদ থাকলে দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কয়েক লক্ষ টাকাও উপার্জন করা সম্ভব।

একজন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট অফিসারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

আমাদের দেশে সাধারণত লজিস্টিকস অফিসার বা প্রকিউরমেন্ট অফিসার হিসাবেও এ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করলে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজার হিসাবে পদোন্নতি পাবেন।

Categories
Career

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের বোর্ডিংয়ের আগে ও ফ্লাইট চলাকালে যাত্রীদের সেবা দেবার কাজ করে থাকেন একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট বা কেবিন ক্রু। এ পেশায় ভালো উপার্জনের পাশাপাশি রয়েছে দেশ-বিদেশ ঘোরার সুযোগ।

এক নজরে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট

সাধারণ পদবী: ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, কেবিন ক্রু
বিভাগ: অ্যাভিয়েশন
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা:এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳৩০,০০০ – ৳৫০,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ১৮ – ২৬ বছর
মূল স্কিল: যোগাযোগের দক্ষতা, দলগত কাজে দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামাল দেবার ক্ষমতা

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট কোথায় কাজ করেন?

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইনসে কাজ করতে পারেন।

অনেকের ধারণা, দেশীয় এয়ারলাইনস কোম্পানি ছাড়া অন্য কোথাও বাংলাদেশের কোন নাগরিক নিয়োগ পান না। ধারণাটি ভুল। সৌদি এয়ারলাইনস, থাই এয়ারলাইন্সসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইনসে বাংলাদেশ থেকে এ পেশায় নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে।

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট কী ধরনের কাজ করেন?

উড়োজাহাজে যাত্রীদের আপ্যায়ন ও অন্যান্য সেবা দেয়া;

যাত্রীরা কোন অসুবিধা বা সমস্যা বোধ করলে তার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া;

জরুরি মুহূর্তে পাইলটের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা;

ডেস্ক জবের ক্ষেত্রে রুটিন সমন্বয়সহ উড়োজাহাজের ক্রু ব্যবস্থাপনার কাজ করা;

সিনিয়র পদে উন্নীত হবার পর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণে সহায়তা করা।

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ কমপক্ষে এইচএসসি পাস।

বয়সঃ বয়সসীমা সাধারণত ২০ থেকে ২৬ বছর।ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে নিয়োগের ক্ষেত্রে তা সর্বনিম্ন ১৮ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে পারে।

অভিজ্ঞতাঃ সাধারণত কোন ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। নিয়োগের পর কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

স্বাস্থ্যগত যোগ্যতাঃ ছেলেদের জন্য সর্বনিম্ন উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি আর মেয়েদের জন্য ৫ ফুট। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে তা ছেলেদের জন্য ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং মেয়েদের জন্য ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। অন্যদিকে নভোএয়ারের নিয়োগে ছেলেদের জন্য ১৬৮ মিটার ও মেয়েদের জন্য ১৫৮ মিটার উচ্চতা চাওয়া হয়।

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের চাকরি পেতে সাঁতার জানা আবশ্যক। স্ট্যান্ডার্ড বডি ম্যাস ইনডেক্স (BMI) থাকা কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হতে পারে। এছাড়া পরিষ্কার দৃষ্টিশক্তি থাকা জরুরি। ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে ৬/৬ দৃষ্টিশক্তি থাকা বাধ্যতামূলক।

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা;

দায়িত্বশীলতা;

উপস্থিত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা;

ইংরেজিতে ভালো যোগাযোগ দক্ষতা;

ধৈর্যের সাথে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে পারা।

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের মাসিক আয় কেমন?

এন্ট্রি লেভেলে সাধারণত একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা হয়। তবে ফ্লাইটের সংখ্যার হিসাবের উপর আলাদা সম্মানীর ব্যবস্থা রয়েছে।

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের পদোন্নতি তার দক্ষতার উপর নির্ভর করে। নিয়োগের শুরুতে ইকোনমি ক্লাস থেকে ধীরে ধীরে বিজনেস ক্লাস অথবা ফার্স্ট ক্লাস হয়ে সিনিয়র ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট অথবা চেক সুপারভাইজার কিংবা ইন ফ্লাইট ম্যানেজার পর্যন্ত হতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ফ্লাইটের সংখ্যা ও সিনিয়র অফিসারদের পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করবে।

Categories
Career

বিসিএস পররাষ্ট্র সহকারী সচিব

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে এন্ট্রি লেভেলে সহকারী সচিব হিসাবে নিয়োগ পাওয়া যায়। কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করার এ পেশায় রয়েছে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ। এ কারণে প্রায় সব বিসিএস পরীক্ষার্থীর পছন্দের তালিকায় এ ক্যাডার উপরের দিকে থাকে।

এক নজরে বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডার

এন্ট্রি লেভেলে সাধারণ পদবী: সহকারী সচিব
বিভাগ: পাবলিক সার্ভিস
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ০ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য মূল বেতন:৳২২,০০০ (জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড)
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২১ – ৩০ বছর
মূল স্কিল: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞান, যোগাযোগের দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা

একজন সহকারী সচিব (পররাষ্ট্র ক্যাডার) কোথায় কাজ করেন?

নিয়োগের পর প্রত্যেক সহকারী সচিবকে দুই ধাপে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এর মধ্যে একটি পর্ব থাকে বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। অন্যটি হয় বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে (সুগন্ধা)।

প্রশিক্ষণ শেষে সহকারী সচিবদের বিশেষ জ্ঞান ও ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা উইংয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়। যেমনঃ

প্রশাসন উইং

প্রটোকল উইং

গবেষণা উইং

একজন সহকারী সচিব (পররাষ্ট্র ক্যাডার) কী ধরনের কাজ করেন?

উইংয়ের ভিত্তিতে একজন সহকারী সচিবের কাজের ধরন নির্ভর করে। অঞ্চলভিত্তিক উইংগুলোর কাজ সাধারণত একই রকম হয়। উল্লেখ্য যে, প্রশিক্ষণের সাথে সাথে কাউকে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসে নিয়োগ দেয়া হয় না।

অঞ্চলভিত্তিক উইংগুলোতে আপনার কাজ হতে পারেঃ

নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা;

গবেষণা উইংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খসড়া বানানো;

প্রটোকল উইংয়ের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের দেখভালো করা;

প্রশাসন উইংয়ের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করা।

বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারে নিয়োগ পাবার পদ্ধতি কী?

পররাষ্ট্র ক্যাডারের সহকারী সচিব হবার জন্য আপনাকেঃ

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় (২০০ নম্বরের পরীক্ষা) উত্তীর্ণ হতে হবে;

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার (৯০০ নম্বরের পরীক্ষা) জন্য বসতে হবে;

সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় (২০০ নম্বরের পরীক্ষা) ভালো ফলাফল করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ফলাফলে কোন প্রার্থী কোন ক্যাডার পেয়েছেন অথবা নন-ক্যাডার চাকরির জন্য বিবেচ্য হয়েছেন, তার উপরও এ ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া নির্ভর করে।

একজন সহকারী সচিবের (পররাষ্ট্র ক্যাডার) কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ দেশের কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা স্বীকৃত বোর্ড থেকে এইচএসসি পাশের পর ৪ বছর মেয়াদি শিক্ষা সমাপনী ডিগ্রি অথবা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে আপনার।

শিক্ষা জীবনে একাধিক ৩য় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ থাকলে বিসিএস পরীক্ষার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

বয়সঃ সাধারণ ও কোটাভুক্ত প্রার্থীদের বেলায় ২১ – ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যাদের ক্ষেত্রে ২১ – ৩২ বছর।

একজন সহকারী সচিবের (পররাষ্ট্র ক্যাডার) কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞান;

যোগাযোগের দক্ষতা (বিশেষ করে ইংরেজির উপর ভালো দখল থাকা আবশ্যক);

বিশ্লেষণী ক্ষমতা;

সমস্যা সমাধানের দক্ষতা;

অঞ্চলভিত্তিক উইংয়ে কাজ করে সে অঞ্চল নিয়ে ভালো ধারণা।

উল্লেখ্য যে, কূটনীতিক আলোচনার সময় আপনাকে সবসময় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রাখতে হবে।

একজন সহকারী সচিবের (পররাষ্ট্র ক্যাডার) মাসিক আয় কেমন?

জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ৳২২,০০০। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতাও পান।

কাজের জন্য বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আলাদা সম্মানি বরাদ্দ থাকে।

একজন সহকারী সচিবের (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

এ ক্যাডারের জন্য সরকার নির্ধারিত পদবিন্যাস হলোঃ

সহকারী সচিব

সিনিয়র সহকারী সচিব

পরিচালক

মহাপরিচালক

সচিব

চাকরির অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ সরকার চাইলে আপনাকে কোন দেশের দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ দিতে পারে।

Categories
Career

এনজিও নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন যেভাবে

ব্র্যাক, আশা কিংবা প্রশিকার মতো সংস্থাগুলোর নাম আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। এ এনজিওগুলো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। কাজের ক্ষেত্র বড় আর চ্যালেঞ্জিং হবার কারণে এ খাতে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা থাকে অনেকের। কিন্তু এনজিও নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া সময়ের ব্যাপার। এ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে এক নজরে দেখে নিই এবারের লেখায়।

এনজিওগুলোতে চাকরির ধরন কেমন হয়?

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এনজিওগুলোর কাজ করার ক্ষেত্র বিশাল। চাকরির ধরনও আলাদা হয়। যেমন, একটি এনজিও যদি মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে তাদের প্রতিনিয়ত আইনি জটিলতার সমাধান করতে হয়। এ কারণে এসব এনজিওতে আইনজীবীর পদ থাকা প্রয়োজন। আমাদের দেশে এনজিওগুলো সাধারণত যে ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কাজ করে, সেগুলো হলো:

শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা

বয়স্ক শিক্ষা

বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ

স্বাস্থ্য সেবা

পরিবার পরিকল্পনা

মা ও শিশুর টিকাদান

মাদকাসক্তি নিরাময়

শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা

নারী উন্নয়ন

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ

ক্ষুদ্র ঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন

গ্রামীণ উন্নয়ন

নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন

ত্রাণ ও পুনর্বাসন

শ্রম ও কর্মসংস্থান

কৃষি উন্নয়ন

সামাজিক বনায়ন

পরিবেশ রক্ষা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

কাজের ক্ষেত্রগুলোর ভিত্তিতে এনজিওগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন রকমের চাকরির সুযোগ। যেমন:

প্রোগ্রাম/প্রজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট

ট্রেনিং অ্যাসিস্ট্যান্ট

ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর

কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার

কিছু ক্ষেত্রে স্পেশালাইজড পদে নিয়োগ দেয়া হয়। যেমন, স্বাস্থ্য সেবার উপর কাজ করা এনজিওগুলোতে ডাক্তার।

এনজিওর চাকরিতে কোন ধরনের যোগ্যতার দরকার হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতা

এনজিও সেক্টরে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাকরির ধরনের উপর নির্ভর করে। যেমন, মাঠকর্মী হিসাবে কাজ করার জন্য সাধারণত এইচএসসি পাশ হতে হয়। কিন্তু একটু উপরের দিকের চাকরিগুলোতে ন্যূনতম ব্যাচেলরস ডিগ্রি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পড়াশোনার বিষয় সবসময় নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে দেয়া থাকে না।

কিছু বিষয়ে ডিগ্রি থাকলে আপনি এনজিওর চাকরিতে প্রাধান্য পেতে পারেন। যেমন:

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ

অর্থনীতি

উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ

পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ

সমাজবিজ্ঞান

অ্যানথ্রোপলজি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

অভিজ্ঞতা

সাধারণত এন্ট্রি লেভেলের চাকরিগুলোতে খুব বেশি অভিজ্ঞতা প্রয়োজন পড়ে না। তবে অভিজ্ঞতা থাকলে সুবিধা পাবেন। এ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এনজিওগুলোতে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এছাড়া বহু এনজিওতে রয়েছে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা।

বয়স

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের এনজিওগুলোতে এন্ট্রি লেভেলে যোগদান করার বয়সসীমা ৩২ বছর হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে এ সীমা ৩৫ বছর পর্যন্ত হয়।

বিশেষ শর্ত

কিছু কিছু পদের জন্য রয়েছে কিছু বিশেষ শর্ত। যেমন, পরিবার পরিকল্পনা খাতের কয়েকটি চাকরিতে শুধু মহিলা কর্মীরা নিয়োগ পান। অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ে শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণ বেশি থাকলে সেগুলোতে পুরুষ কর্মীদের প্রাধান্য দেয়া হয়।

এনজিওর চাকরিতে কোন ধরনের দক্ষতার দরকার হয়?

আপনি যে এনজিও বা পদে চাকরি করতে চান না কেন, কিছু সাধারণ গুণ ও দক্ষতা আপনার কাছে চাওয়া হবে। যেমন:

মানুষের সমস্যা অনুধাবন করার দক্ষতা;

আন্তরিকতা;

ধৈর্যের সাথে কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা;

মানসিক চাপ সামলানোর দক্ষতা;

ইতিবাচক মনোভাব থাকা;

যেকোন পরিস্থিতিতে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবার ক্ষমতা;

বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে যোগাযোগ করার দক্ষতা।

উল্লিখিত সাধারণ দক্ষতাগুলো ছাড়াও আপনার কিছু বিশেষ দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। যেমন: রিপোর্টিংয়ের কাজ থাকলে আপনাকে মাইক্রোসফট অফিসের ব্যবহার জানতে হবে। আবার আন্তর্জাতিক এনজিওতে কাজ পাবার জন্য ইংরেজি জানা জরুরি। একইভাবে আপনি যদি মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে চান, তাহলে আপনার থাকতে হবে যৌক্তিক ও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করার দক্ষতা।

এনজিওতে নিয়োগ পরীক্ষার ধরন কেমন হয়?

সাধারণত ঋণদানকারী এনজিওগুলোতে সিভিসহ আবেদন করার পর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। আবার আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক এনজিওগুলোতে কর্মী নিয়োগের বেলায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকে।

এনজিও নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

পছন্দের খাতে কোন ধরনের চাকরি রয়েছে, তা নিয়ে খোঁজখবর রাখুন।

যে এনজিওতে কাজ করতে চান, সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।

যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সে পদের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা দেখে নিন।

প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা যোগ্যতা না থাকলে তা অর্জনের জন্য চেষ্টা চালান।

যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ান।

এনজিওতে ভলান্টিয়ারিং বা ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পেলে গ্রহণ করুন।

দেশ-বিদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে নিজেকে আপডেটেড রাখুন।

একটা বিষয় মাথায় রাখবেন। এনজিও একটি সেবামূলক সেক্টর। কাজেই এ সেক্টরে সফল ক্যারিয়ার গড়তে মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করার মানসিকতা থাকা আবশ্যক।

Categories
Career

ডেন্টিস্ট – দাঁতের ডাক্তার এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

একজন ডেন্টিস্ট রোগীর দাঁত, মাড়ি, চোয়াল ও মুখের ক্ষয় এবং অন্যান্য রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের জন্য পরামর্শ, পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার ও খাদ্যতালিকা তৈরির কাজ করে থাকেন। দেশের চিকিৎসা খাতের সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অন্যতম সম্ভাবনাময় এ পেশার সুযোগ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও পেশাগত সুনাম অর্জন করতে পারলে সামাজিক মর্যাদার সাথে সাথে ভালো উপার্জন সম্ভব এ পেশার মাধ্যমে।

এক নজরে একজন ডেন্টিস্ট

সাধারণ পদবী: ডেন্টিস্ট
বিভাগ: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম, কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে অভিজ্ঞতা সীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳২০,০০০ – কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা: ২২ – ৩২ বছর
মূল স্কিল: সঠিকভাবে দাঁতের সমস্যা নির্ণয়ের দক্ষতা, রোগীকে দাঁতের সমস্যার উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারা, দাঁতের সমস্যার ঔষধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞান
বিশেষ স্কিল: সেবার মানসিকতা থাকা, ধৈর্য, গভীর মনোযোগ, যোগাযোগের দক্ষতা

একজন ডেন্টিস্ট কোথায় কাজ করেন?

সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে;

বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে;

আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর চিকিৎসা বিভাগে;

ব্যক্তিগত ক্লিনিকে।

বাংলাদেশের ৯টি সরকারি ও ১৮ টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের বহির্বিভাগ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ক্লিনিক বা চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ আছে একজন ডেন্টিস্টের। এছাড়াও বহু উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত ফ্রি ফ্রাইডে ডেন্টাল ক্লিনিক বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নির্মিত ভাসমান ডেন্টাল ক্লিনিক বা ডেন্টাল ভ্যানগুলোতেও প্রচুর ডেন্টিস্ট কাজ করে থাকেন।

একজন ডেন্টিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

একজন ডেন্টিস্ট মানুষের মুখ ও দাঁতের, চোয়ালের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যেমনঃ

দাঁতের ক্ষয় অপসারণ ও ক্ষত পূরণ করা;

দাঁতের পাথুরে স্তর অপসারণ, চিড় মেরামত করা ও নষ্ট দাঁত তুলে ফেলা;

সাদা, উজ্জ্বল ও মজবুত দাঁতের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ দেয়া;

দাঁত ও চোয়ালের এক্স রে পরীক্ষা করা;

দাঁতের আকার-আকৃতি পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ যন্ত্রের নকশা করা;

দাঁত ও চোয়ালের হাড়ের অস্ত্রোপচার করা;

দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে রোগীদের সচেতন করা।

একজন ডেন্টিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ যেকোন স্বীকৃত ডেন্টাল কলেজ থেকে ব্যাচেলর অফ ডেন্টাল সার্জারি ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। তবে এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে ন্যূনতম ২২-২৩ বছর হতে হবে আপনাকে।

অভিজ্ঞতাঃ প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ডেন্টিস্ট হিসাবে কাজ করতে হলে ন্যূনতম ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

একজন ডেন্টিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

চিকিৎসা জ্ঞানের পাশাপাশি আলাদা কিছু দক্ষতাও অর্জন করতে হবে আপনাকে। এর মধ্যে রয়েছেঃ

রোগীর সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা;

ধৈর্যের সাথে রোগীর দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা;

দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির ব্যবহার শেখা;

গভীর মনোযোগের সাথে নিখুঁতভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে পারা;

দাঁতের চিকিৎসার নতুন নতুন পদ্ধতি ও গবেষণা সম্পর্কে খোঁজ রাখা ও তার চর্চা করা।

কোথায় পড়বেন ডেন্টিস্ট্রি?

বাংলাদেশে ৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদে ডেন্টিস্ট্রি অধিভুক্ত আছে, যেখান থেকে বাংলাদেশের সরকারি ৯টি ও বেসরকারি ১৮টি ডেন্টাল কলেজে ডেন্টিস্ট্রি পড়ানো হয়ঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

উল্লেখ্য যে, ডেন্টাল কলেজ থেকে পাশ করার পর প্র্যাকটিস করার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে সনদ নিতে হয়। এর জন্য আপনাকে সফলভাবে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।

একজন ডেন্টিস্টের মাসিক আয় কেমন?

শুরুর দিকে একজন ডেন্টিস্ট গড়ে মাসিক ৳২০,০০০ – ৳২৫,০০০ আয় করতে পারেন। অভিজ্ঞতার সাথে আয়ও বেড়ে যাবে। সাধারণত দাঁত ও মুখের জটিল সমস্যার উন্নত চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। তাই উচ্চতর প্রশিক্ষণ থাকলে একজন অভিজ্ঞ ডেন্টিস্ট মাসে লক্ষাধিক টাকা অর্জন করতে পারেন।

একজন ডেন্টিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

বর্তমানে মানুষ দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হয়ে ওঠায় এ পেশার সম্ভাবনা বেড়েছে। সরকারি পর্যায়ে বিসিএস ক্যাডার ছাড়াও বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে দাঁতের ডাক্তারদের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হতে হলে কিংবা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে হলে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু তার আগের সময়টুকু কাজ করে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। এ অভিজ্ঞতা আপনার ক্যারিয়ার গড়তে সাহায্য করবে।

Categories
Career

আইটি সেক্টরে ক্যারিয়ার কেমন দক্ষতা প্রয়োজন আপনার?

আমাদের দেশে আইটি সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চান অনেকে। কিন্তু ঠিক কীভাবে এর প্রস্তুতি নিতে হবে, তা নির্ধারণ করা সহজ নয়। কারণ হলো, এ সেক্টরে কাজের পরিসর বিশাল। তাছাড়া, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ নির্দিষ্ট কোন খাতে সীমাবদ্ধ নয়। তাই কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা আর যোগ্যতার তালিকাও আলাদা। তবে শুধু সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজ বিবেচনায় আনা হলে একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব। সাধারণত ইঞ্জিনিয়ার বা ডেভেলপার নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব স্কিল নিয়োগদাতারা চান, তা নিয়ে এবারের লেখা।

আইটি সেক্টরে ক্যারিয়ার যে ধরনের হয়

একটা সিস্টেম দাঁড় করানোর সময় মূলত তিন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন হয়:

ব্যাকএন্ড (Backend)

ফ্রন্ট-এন্ড (Front-end)

ডেভঅপ্স (DevOps)

এগুলোর বাইরে সিস্টেম অ্যাডমিন, কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স (QA) ইঞ্জিনিয়ার আর ডাটা অ্যানালিস্টের কাজও রয়েছে।

ইদানিং প্রোডাক্ট আর প্রজেক্ট ম্যানেজার নিয়োগের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাধান্য দেয়া হয়। কারণ, কীভাবে জটিল একটা সিস্টেমকে ঠিকভাবে তৈরি করা যায়, সে ব্যাপারে নন-টেকনিক্যাল কোন ব্যক্তির চেয়ে একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার আরো পরিষ্কার ধারণা রাখেন।

আইটি সেক্টরে প্রয়োজনীয় স্কিলের ধরন

ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট: কোন সিস্টেম বা অ্যাপ্লিকেশনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রয়োজন হয়। এ কাজে Python (dJango), Node.js, Java আর ASP.NET-এর বেশ চাহিদা রয়েছে।

বর্তমানে সিস্টেমের সার্চ ইঞ্জিন তৈরিতে ‘Elasticsearch’ অনেক জনপ্রিয়। এছাড়া, ‘Algolia’-র ব্যবহারও বাড়ছে দিনদিন।

সিস্টেমের ডাটাবেইজ তৈরি ও মেইন্টেন্যান্সের জন্য মাইএসকিউএল/মাইসিক্যুয়েল (MySQL), পোস্টগ্রেএসকিউএল/পোস্টগ্রেসিক্যুয়েল (PostgreSQL) আর মঙ্গোডিবিতে (MongoDB) দক্ষতা চান নিয়োগদাতারা।

ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপমেন্ট: কোন সিস্টেম বা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সময় আমরা স্ক্রীনে যে ইন্টারফেস দেখতে পাই, সেটা ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ। এ কাজে রিঅ্যাক্ট (React), অ্যাঙ্গুলার (Angular) আর ভিউ (Vue) ব্যবহার করা হয়।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড (Android), আইওএস (iOS) আর আইওনিক (Ionic) সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিটের (SDK) ব্যবহার রয়েছে।

ডেভ-অপ্স সফটওয়্যার: ডেভেলপমেন্ট আর আইটি অপারেশনসের মধ্যে সমন্বয় করেন ডেভঅপ্স ইঞ্জিনিয়াররা। এ কাজে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS), গুগল ক্লাউড (Google Cloud) আর ডকার (Docker) কম্পিউটিং প্লাটফর্মে অভিজ্ঞতা থাকা দরকার।

সিস্টেম অ্যাডমিন আর ডাটা অ্যানালিস্টদের ক্ষেত্রে অ্যানালিটিক্স টুল – যেমন: ফায়ারবেইজ (Firebase), ফেসবুক অ্যানালিটিক্স (Facebook Analytics) আর গুগল অ্যানালিটিক্স (Google Analytics) – ব্যবহারের দক্ষতা চাওয়া হয়। এছাড়া, বিগক্যুয়েরির (BigQuery) মতো ক্লাউড প্লাটফর্মে ডাটা অ্যানালিসিসের কাজ জানা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও স্টার্টআপগুলোতে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার বা ডেভঅপ্স ইঞ্জিনিয়ার পাওয়া যায় না। এর কারণ হলো, এ কাজে যে ধরনের অভিজ্ঞ লোক প্রয়োজন, তাদেরকে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়োগ দিতে পারেনা।

অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার ভিত্তিতে আয়

সাধারণত অভিজ্ঞতা ছাড়া মাসিক ৳৩০,০০০ – ৳৩৫,০০০ বেতন দিয়ে এন্ট্রি লেভেলে যোগ দেয়া সম্ভব। ১ – ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে আয়ের সীমা গড়ে ৳৫৫,০০০ – ৳৮৫,০০০ হয়। ৩ – ৫ বছরের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা ১ লক্ষের বেশি আয় করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, অভিজ্ঞতা কিংবা দক্ষতা বাড়ার সাথে আয় বাড়ার সুযোগ অধিকাংশ দেশী কোম্পানিগুলোতে এখনো সীমিত।

আইটি সেক্টরে চাকরি পাবার ক্ষেত্রে ডিগ্রি ও সার্টিফিকেশনের গুরুত্ব

সিস্টেম বা অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য ডিগ্রি ও সার্টিফিকেশনের চেয়ে অভিজ্ঞতা আর দক্ষতা থাকা বেশি জরুরি। এজন্য আপনার নিজের কোন প্রজেক্ট বা গিটহাব রেপো (GitHub Repository) থাকলে চাকরি পাবার বেলায় কাজে আসবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার সায়েন্স/ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর ডিগ্রি ও সার্টিফিকেশন নেবার ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলোর মান ভালো হয় না। এ কারণে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আইসিটি খাতে দক্ষ কর্মীর অভাব ৪০% (মুরশিদ, ২০১৬)।

আইটি সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে আপনার করণীয়

আপনি যদি আইটি সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে আগে ঠিক করুন কোন ধরনের ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করবেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামিং স্কিল বাড়ান। এর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি যেমন নিতে পারেন, তেমনি পারেন অনলাইনের বিভিন্ন রিসোর্স থেকে নিজেকে আপডেটেড রাখতে।

Categories
Career

কার্টুনিস্ট এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

একজন কার্টুনিস্ট বা চিত্রশিল্পী বিভিন্ন মাধ্যমে চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলেন। বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগেও এই পেশার চাহিদা বহাল আছে। বইয়ের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডিজিটাল ফর্মে এই পেশার প্রসার ঘটছে। সৃজনশীল মনন ও ছবি আঁকার আগ্রহ থাকলে এই ভিন্নমাত্রার পেশায় যুক্ত হয়ে গড়তে পারেন আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার।

এক নজরে একজন কার্টুনিস্ট

সাধারণ পদবী: কার্টুনিস্ট
বিভাগ: চারু ও শিল্পকলা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ফ্রিল্যান্সিং
ক্যারিয়ারের ধরন: পার্ট-টাইম, ফুল টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড

অভিজ্ঞতা সীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
সম্ভাব্য বেতনসীমা: কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষে
সম্ভাব্য বয়সসীমা: কাজসাপেক্ষে
মূল স্কিল: সৃজনশীলতা, ছবি আঁকায় পারদর্শিতা
বিশেষ স্কিল: ছবি আঁকার সফটওয়্যারে দক্ষতা

কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে একজন কার্টুনিস্ট কাজ করেন?

বিজ্ঞাপন সংস্থা

পত্রিকা/ সংবাদপত্র

চলচ্চিত্র বা এনিমেশন ফার্ম

বই মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান

সরকারি প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ

একজন কার্টুনিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

বিজ্ঞাপনের জন্য কিংবা সংবাদপত্র/ম্যাগাজিনে কার্টুন আঁকা থেকে শুরু করে পুস্তক প্রকাশ ও মুদ্রন বিভাগে থেকে বইয়ের প্রচ্ছদের কাজ এমনকি গৃহসজ্জ্বার কাজে বা বিপণনের কৌশল হিসেবে ব্যবহারের জন্য ওয়াল কার্টুন এঁকে থাকেন।

একজন কার্টুনিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

ছবি আঁকায় পারদর্শী যে কেউই কার্টুনিস্ট হতে পারেন তবে স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ড্রয়িং এন্ড পেইন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হলে অগ্রাধিকার পাওয়া যেতে পারে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে।

একজন কার্টুনিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

সনাতনী পদ্ধতিতে কাগজে কলমে কার্টুন আঁকার সাথে সাথে বর্তমানে প্রযুক্তির সাহায্য কম্পিউটার নির্ভর সফটওয়ারের দ্বারাও বর্তমানে কার্টুন আঁকা বা ইলাস্ট্রেশনের কাজ জানা থাকা ভাল। নিচে কিছু প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়্যারের নাম দেয়া হলোঃ

Photoshop

Illustrator

MangaStudio

Indesign

Zbrush

কোথায় শিখবেন কার্টুন আঁকার কাজ?

সৃজনশীল এ পেশায় আসতে হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আঁকাআঁকির অভ্যাসের বিকল্প নেই। তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে পড়াশোনা করলে তা কাজে দিতে পারে।

একজন কার্টুনিস্টের কাজের ক্ষেত্র এবং সুযোগ কেমন?

কার্টুন আঁকায় প্রতিভা থাকলে এ পেশায় নিজের পরিচিতি গড়ে তোলার সুযোগ আছে। এছাড়াও প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিজিটাল মিডিয়ায় এই পেশার কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

একজন কার্টুনিস্টের মাসিক আয় কেমন?

সৃজনশীল পেশা হওয়ায় এই পেশায় কোন নির্দিষ্ট আয় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে প্রকাশনা বা মিডিয়ায় কাজ করে গড়ে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৭৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে প্রজেক্ট যত বেশি পাওয়া যাবে, আয় তত বাড়বে।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন কার্টুনিস্টের?

বিজ্ঞাপন-বিপননের এই যুগে পেশাদার কার্টুনিস্টদের চাহিদা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। উন্নত ও বিশেষায়িত সফটওয়ারের কাজ জানা থাকলে ডিজিটাল মার্কেটিং টিমে কাজ পাওয়া খুব সহজ, সেইসাথে সৃজনশীলতার সাক্ষর রাখতে পারলে ভাল উপার্জন ও সামাজিক স্বীকৃতি-মর্যাদা অর্জনের সুযোগ আছে। এছাড়া বইয়ের প্রচ্ছদের কাজেও কার্টুনিস্টদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন বা চলচ্চিত্রের এনিমেটর হিসেবে কাজের সু্যোগ আছে যা অনেক লাভজনক উপার্জনের উৎস। সুতরাং সৃজনশীল যে কেউ এ পেশায় তার কাংখিত ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

Categories
Career

কাস্টমার কেয়ার অফিসার এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যেকোন ব্যবসার প্রসার ও সুনামের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো গ্রাহকদের সন্তুষ্টি। গ্রাহকের আস্থা অর্জনের জন্য বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় সব বড় প্রতিষ্ঠানে কাস্টমার সাপোর্ট বিভাগ চালু রয়েছে। একজন কাস্টমারকে সেবা প্রদান করার প্রধান কাজ করে থাকেন একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসার বা কাস্টমার সাপোর্ট অফিসার। ফুল-টাইমের পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরি করার বড় সুযোগ থাকায় তরুণদের মধ্যে এ পেশা বেশ জনপ্রিয়।

এক নজরে একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসার

সাধারণ পদবী: কাস্টমার কেয়ার অফিসার, কাস্টমার সাপোর্ট অফিসার
বিভাগ: ব্যবসায়িক সেবা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ১ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳১০,০০০ – ৳২০,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২২ – ৩০ বছর
মূল স্কিল: যোগাযোগের দক্ষতা, সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করতে পারা, ধৈর্য, মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা
বিশেষ স্কিল: যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করতে পারা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা

একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসার কোথায় কাজ করেন?

সরকারি প্রতিষ্ঠানে, যেমনঃ রাজস্ব বোর্ড তাদের হটলাইন নাম্বার ১৬৫৫৫-এর মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দেয়;

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কল সেন্টারে;

মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিতে (যেমনঃ গ্রামীণফোন)।

একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসার কী ধরনের কাজ করেন?

পণ্য বা সার্ভিসের ব্যাপারে ক্লায়েন্টের কোন জিজ্ঞাসা থাকলে তার উত্তর দেয়া;

ক্লায়েন্টের সমস্যার সমাধান করা;

ক্লায়েন্টের কোন অভিযোগ থাকলে তা রেকর্ড করা;

ক্লায়েন্টের সমস্যা বা অভিযোগের তাৎক্ষণিক সমাধান করা না গেলে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া;

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য, সার্ভিস বা অফার সম্পর্কে ক্লায়েন্টকে জানানো;

প্রতিষ্ঠান ও ক্লায়েন্টের মধ্যে সুসম্পর্ক যেন বজায় থাকে, সে ব্যাপারে মনোযোগ দেয়া;

প্রতিদিনের কাজের কল লগ সংরক্ষণ করা ও রিপোর্ট লেখা।

একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ দেশের যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে কোন বিষয়ে স্নাতক (১ম ও ২য় বিভাগে পাশ) পাশদের সুযোগ রয়েছে এ সেক্টরে কাজ করার। তবে ব্যবসায় শিক্ষায় পড়াশোনা হলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায় কিছু ক্ষেত্রে।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত এ সীমা ২২ থেকে ৩০ বছর।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ১-২ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

বিশেষ শর্তঃ কিছু ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ প্রার্থীর কথা উল্লেখ করা থাকে।

একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতা;

ক্লায়েন্টের সাথে দক্ষভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা;

দ্রুত সমস্যা নির্ণয় ও তার সমাধান খুঁজে বের করতে পারা;

ধৈর্যের সাথে ক্লায়েন্টকে সেবা দেবার মানসিকতা;

মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা, যা নেতিবাচক পরিস্থিতিতে কাজে দেবে।

একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসারের মাসিক আয় কেমন?

এ পদে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আপনি মাসে ৳১০,০০০ – ৳২০,০০০ পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজের ঘণ্টার ভিত্তিতে সম্মানী দেয়। বিশেষ করে খণ্ডকালীন চাকরিতে এ ব্যাপারটি লক্ষণীয়।

একজন কাস্টমার কেয়ার অফিসারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

এন্ট্রি লেভেলে কাস্টমার কেয়ার বা সাপোর্ট অফিসার হিসাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হবে। গ্রাহককে মানসম্মত সেবা দিতে পারলে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজার পদে উন্নীত হতে পারেন।

Categories
Career

আবহাওয়াবিদ এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

একজন আবহাওয়াবিদ আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে আমাদেরকে জানান দেন। গুরুত্বপূর্ণ এ পেশায় নিয়োজিতরা ভূমি, বায়ু ও আবহাওয়া পরিমণ্ডল থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে আবহাওয়ার নির্দিষ্ট গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে নিয়মিত গবেষণা করেন।

এক নজরে একজন আবহাওয়াবিদ

সাধারণ পদবী: আবহাওয়াবিদ, মিটিওরোলজিস্ট
বিভাগ: পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ু
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳২০,০০০ – কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা: ২৫ – ৩০ বছর
মূল স্কিল: গবেষণার দক্ষতা, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা
বিশেষ স্কিল: কম্পিউটার মডেলিং সম্পর্কিত জ্ঞান, যোগাযোগের দক্ষতা

একজন আবহাওয়াবিদ কোথায় কাজ করেন?

সরকারি প্রতিষ্ঠানে, যেমনঃ বাংলাদেশে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কাজ করে, এমন কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেবার কাজ রয়েছে, এমন কোন প্রতিষ্ঠানে, যেমনঃ রেডিও-টেলিভিশন চ্যানেল।

একজন আবহাওয়াবিদ কী ধরনের কাজ করেন?

একজন আবহাওয়াবিদের কাজ দুই ধরনের হতে পারে – পূর্বাভাস ও গবেষণা।

পূর্বাভাসের কাজে স্যাটেলাইট চিত্র, রিমোট সেন্সর, রাডার ও আবহাওয়া স্টেশন থেকে তথ্য সংগ্রহ করা;

বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ইত্যাদি বিষয় পরিমাপ করা;

সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরি করা;

বিভিন্ন কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়া;

পূর্বাভাসের কাজে ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন গাণিতিক ও কম্পিউটার মডেল তৈরি করা বা আগের মডেলের উন্নয়ন ঘটানো;

জলবায়ু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা ও রেকর্ড রাখা।

একজন আবহাওয়াবিদের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ আমাদের দেশে সরাসরি আবহাওয়াবিজ্ঞানে পড়াশোনা করার সুযোগ খুব সীমিত। সাধারণত পদার্থবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, গণিত ও পরিসংখ্যানে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার উপর উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে আবহাওয়াবিদ হিসাবে কাজ করতে পারবেন।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

অভিজ্ঞতাঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে অভিজ্ঞতার সীমা নির্ধারিত হয়।

একজন আবহাওয়াবিদের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

গাণিতিক দক্ষতা;

সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা;

আবহাওয়া, জলবায়ু ও পরিবেশ সম্পর্কে ভালো টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকা;

আবহাওয়া স্টেশনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ভালো ব্যবহার জানা;

বৈজ্ঞানিক ও গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লেখার ক্ষমতা;

গভীর মনোযোগের সাথে নির্ভুল কাজ করা

দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা;

যোগাযোগের দক্ষতা।

কোথায় পড়বেন আবহাওয়াবিজ্ঞান?

বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিটিওরোলজি বিভাগের অধীনে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, গণিত ও পরিসংখ্যান, কম্পিউটার সায়েন্স/সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং আর ওশান সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে পড়েও আপনি একজন মিটিওরোলজিস্ট হতে পারেন। তবে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য আপনাকে দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে হবে।

একজন আবহাওয়াবিদের মাসিক আয় কেমন?

এ পেশায় এন্ট্রি লেভেলে ৳২০,০০০ থেকে মাসিক বেতন শুরু হতে পারে। প্রতিষ্ঠান, কাজের ধরন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আরো বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে।

একজন আবহাওয়াবিদের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরে এন্ট্রি লেভেলে সাধারণত সহকারী আবহাওয়াবিদ নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ধীরে ধীরে সিনিয়র পদে উন্নীত হবেন।

পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গবেষক হিসাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে আপনার জন্য। এছাড়া পূর্বাভাসের কাজে প্রাইভেট সেক্টরে, যেমন বিমান সংস্থা, এনভায়রনমেন্টাল কনসালটেন্সি সেবাদানকারী সংস্থা বা রেডিও-টেলিভিশন চ্যানেলে আবহাওয়াবিদ হিসাবে যোগদান করা সম্ভব।

Categories
Career

বেসরকারি স্কুল শিক্ষক এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী খাত ও কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেই বেসরকারী খাতে সবচেয়ে বেশি স্কুল গড়ে উঠেছে। উচ্চশিক্ষা সমাপ্তির পর এ সকল স্কুলে শিক্ষকতা তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় পেশা।

সাধারণ পদবীঃ  শিক্ষক/সহকারি শিক্ষক/জুনিয়র শিক্ষক

বিভাগঃ  শিক্ষকতা

প্রতিষ্ঠানের ধরনঃ বেসরকারী  

ক্যারিয়ারের ধরনঃ ফুল টাইম/পার্ট টাইম

লেভেলঃ এন্ট্রি/মিড

অভিজ্ঞতা সীমাঃ  প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। তবে যে কোন প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ২ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় 

সম্ভাব্য বেতন সীমাঃ  শুরুতে প্রতিষ্ঠান ও স্থানভেদে মাসিক বেতন ১০-৩০ হাজার টাকা হতে পারে।

সম্ভাব্য বয়স সীমাঃ অভিজ্ঞ তরুণ-তরুণীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়

মূল স্কিলঃ পাঠ্যসূচী ও শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে সক্ষমতা, শিক্ষার্থী বান্ধব আচরণ

বিশেষ স্কিলঃ  ধৈর্য্যশীল, সময়ানুবর্তী, শিক্ষার্থীদের মন ও মনন বোঝার দক্ষতা

একজন বেসরকারী স্কুল শিক্ষক কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন?

শিক্ষক হিসেবে যে কোন ধরনের বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের বিভিন্ন ধরনের স্কুল যেমন প্রি-স্কুল, কে জি স্কুল, জুনিয়র স্কুল, সিনিয়র স্কুল বা হাই স্কুলে কাজের সুযোগ আছে। বেসরকারী স্কুল সমূহ ব্যক্তিগত উদ্যোগ, এনজিও, দাতা সংস্থা বা কোন প্রতিষ্ঠানের দ্বারা গড়ে উঠতে পারে।

একজন বেসরকারী স্কুল শিক্ষক কী ধরনের কাজ করেন?

       পেশাদারী এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে একজন শ্রেণি শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব সময় সকল শিক্ষার্থীর জন্য একই রকম ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন

       কোন শিক্ষার্থী ক্লাসে পাঠ না বুঝলে ক্লাসের পর বিশেষভাবে তাকে বুঝিয়ে দিবেন

       শিক্ষার্থী উপস্থিতির তালিকা তৈরি করবেন

       যথাযথ উপকরণ ব্যবহার ও পাঠ পরিকল্পনা করে অংশগ্রহন মুলক ক্লাস নিবেন

       শিক্ষার্থীর প্রতি একজন শ্রেণি শিক্ষকের আচরণ বা দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় হবে ইতিবাচক । তিনি নেতিবাচকতা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করবেন

       নিজস্ব চিন্তা-চেতনা,ব্যক্তিত্ব,মেধা যোগ্যতা, মননশীলতা আর আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে শ্রেণির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন

       শিক্ষার্থীদেরকে স্বাস্থ্য, রাজনীতি, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ে সচেতন করে তুলবেন

       শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ গঠনে সাহায্য করা ও গণতান্ত্রিক মনোভাব গড়ে তুলবেন

       শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন করবেন এবং দিবসের তাৎপর্য সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলবেন

       পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান দিবেন

       শ্রেণিতে শিক্ষাদানের পাশাপাশি শ্রেণির বাইরে বিভিন্ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সাথে থাকবেন

        

একজন বেসরকারী স্কুল শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

স্কুলে শিক্ষকতার জন্য অবশ্যই অনার্স/মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। সাধারণত যে বিষয়ের শিক্ষক প্রয়োজন সে বিষয়েই উচ্চতর ডিগ্রি চাওয়া হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে ব্যাচেলর অফ এডুকেশন/ মাস্টার্স অফ এডুকেশন ডিগ্রিধারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষকতার জন্য ইংরেজি মাধ্যমে ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা বাঞ্ছনীয়। মানসম্মত ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষকতা করতে চাইলে অনার্স/মাস্টার্সে ভালো ফলাফল থাকতে হবে। 

একজন বেসরকারী স্কুল শিক্ষকের কী কী দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

       একজন শিক্ষক যে বিষয়টিতে শ্রেণিতে পাঠদান করবেন সে বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে

       একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীর আচরণ দেখে তার মনের ভাষা বুঝতে হবে

       একজন শিক্ষককে সময়ানুবর্তি হতে হবে

       ধৈর্যশীলতা একজন শিক্ষকের অন্যতম গুণ

       শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণে সমর্থ হতে হবে

       শিক্ষার্থীদের কাছে শ্রেণির পাঠ আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে

       ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষকতা করতে চাইলে অবশ্যই ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে

       পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ ও ব্যবহারিকে দক্ষ হতে হবে

একজন বেসরকারী স্কুল শিক্ষকের কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ কেমন?

বাংলাদেশে সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শিক্ষিত জনগোষ্ঠির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক সন্তানেরাও পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা সরকারি/আধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রিক হলেও শহরের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা বেসরকারী স্কুল কেন্দ্রিক শিক্ষা লাভ করছে। ঢাকা সহ বড় শহর গুলোয় প্রতিষ্ঠা পেয়েছে অসংখ্য মানসম্মত ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যমের স্কুল। এছাড়া শহরের আবাসিক এলাকা গুলোতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কে জি স্কুল এবং প্রি স্কুল। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার বিস্তারের সাথে সাথে সেসব অঞ্চলে বেসরকারী উদ্যোগে গড়ে উঠছে একাধিক জুনিয়র স্কুল/হাই স্কুল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে বাংলাদেশে বেসরকারী হাই স্কুলের সংখ্যা ১৫৪৮৯ টি । বস্তিবাসী এবং নিম্নবিত্তদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ব্র্যাক, আশা, প্রশিকা, জাগো ফাউন্ডেশনসহ একাধিক এনজিও কাজ করে যাচ্ছে। কাজেই এখন বেসরকারী স্কুলে শিক্ষকতার সুযোগ অনেক বেশি।

একজন বেসরকারী স্কুল শিক্ষকের মাসিক আয় কেমন?

বেসরকারী স্কুলে বেতন স্কুলের আকার, মান এবং স্থানের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। ঢাকা কিংবা বড় শহরে মানসম্মত বাংলা কিংবা ইংরেজি মাধ্যমে স্কুলে কোন রকম অভিজ্ঞতা না থাকলে বেতন সাধারণত ২০-৩০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান স্বনামধন্য হওয়াতে দক্ষ হলে বেতন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ৫/৬ বছরেই বেতন দ্বিগুণ হয়ে যায়। ছোট শহর বা বপড় শহরের ছোট স্কুল গুলোতে বেতন সাধারণত কম হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানভেদে শুরুতে বেতন ১০-১৫ হাজার টাকা হয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে বেতন অনেকাংশে কাজের চাপের উপর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাস/দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যায়।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন বেসরকারী স্কুল শিক্ষকের?

ক্যারিয়ারের শুরুতে জুনিয়র টিচার/সহকারি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করে একমাত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেই একজন সিনিয়র শিক্ষক হতে পারেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হলে স্কুলের কোন কমিটির প্রধান, ভাইস প্রিন্সিপাল এমনকি ক্যারিয়ারের শীর্ষে প্রিন্সিপাল হওয়া যায়। তবে অধিকাংশ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্কুল প্রতিষ্ঠাতার স্নেহভাজন ব্যক্তিকেই স্কুল প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অনেক সময় কর্মজীবনের শুরুতে ছোট-মাঝারি মানের স্কুলে শিক্ষকতা করে অভিজ্ঞ ও দক্ষ হলে পরবর্তিতে বড় মাপের মানসম্মত স্কুলে শিক্ষকতার সুযোগ পাওয়া যায়।

 

Categories
Career

ফার্মাসিস্ট এর ক্যারিয়ার কেমন হয়?

মানসম্মত ঔষধ সরবরাহ থেকে শুরু করে ঔষধ নিয়ে গবেষণা – একজন ফার্মাসিস্ট বহুমুখী কাজের দায়িত্বে থাকেন। ঔষধ শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশে-বিদেশে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) দেশের ৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের ঔষধ রপ্তানি হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। দেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এ আয় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি (সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ২২ এপ্রিল, ২০১৭)। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় দেশের ঔষধ শিল্পের প্রসার সম্পর্কে।

এক নজরে একজন ফার্মাসিস্ট

সাধারণ পদবী: ফার্মাসিস্ট
বিভাগ: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳১০,০০০ – ৳৩০,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা: ২২ – ৩০ বছর
মূল স্কিল: ঔষধের গুণাগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে ভালো জ্ঞান, খুঁটিনাটি বিষয়ে খেয়াল রাখার ক্ষমতা
বিশেষ স্কিল: ব্যবসায়িক ধারণা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগের দক্ষতা

একজন ফার্মাসিস্ট কোথায় কাজ করেন?

বাংলাদেশে ফার্মাসিস্টদের মূল কাজ হচ্ছে ঔষধ কারখানায়। দেশের ঔষধ চাহিদার ৯৮ ভাগই স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো পূরণ করে থাকে। পাশাপাশি বিশ্বের ১৩৩টি দেশে ঔষধ রপ্তানি করছে আমাদের দেশ (সূত্রঃ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬)। উল্লেখ্য যে, দেশে ২৬৯টির বেশি ছোট-বড় ঔষধ কারখানা আছে।

দেশের ফার্মা প্রোডাক্টের মান ঠিক রাখতে দক্ষ ফার্মাসিস্টের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এছাড়া কসমেটিকস খাতেও গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণে ফার্মাসিস্টের প্রয়োজন হয়।

উন্নত বিশ্বে প্রতিটি ভালো মানের হাসপাতালে ফার্মাসিস্টের পদ থাকলেও বাংলাদেশে এ খাত এখনো অনেক সংকুচিত। কিছু বড় হাসপাতালের নিজস্ব ফার্মাসিস্ট আছে। যেমন – ঢাকাস্থ স্কয়ার হাসপাতাল, অ্যাপোলো হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুসারে, ফার্মাসিস্টদের শতকরা ৫৫ শতাংশ কমিউনিটি ফার্মাসি, ৩০ শতাংশ হসপিটাল ফার্মাসি, ৫ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং, ৫ শতাংশ সরকারি সংস্থায় এবং ৫ শতাংশ একাডেমিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কমিউনিটি কিংবা হসপিটাল ফার্মাসিতে কোনো গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নেই। অন্যদিকে ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে ৮৫ শতাংশ ফার্মাসিস্ট কর্মরত রয়েছে।

ঔষধ কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি সরকারি খাতে ফার্মাসিস্টদের কাজের সুযোগ রয়েছে। যেমন – কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা, আর্মড ফোর্সেস, সরকারি হাসপাতাল ও ঔষধ প্রশাসন। অন্যকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ফার্মাসিস্ট, ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট, ফার্মাসি ম্যানেজার ছাড়াও প্রশাসনিক ও তথ্য বিভাগে কাজের সুযোগ রয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫০টির বেশি ঔষধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী কোম্পানি সক্রিয়। এসব কোম্পানির প্রোডাকশন, প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও ট্রেনিংসহ বিভিন্ন বিভাগে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকতা, গবেষণা এবং দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ তো আছেই।

বাংলাদেশের ফার্মাসি গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে আমেরিকা, কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ফার্মাসি কাউন্সিলের রেজিস্টার্ড ২৩০০-এর ওপর ফার্মাসি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে মাত্র ১ হাজারের মতো দেশের বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কাজ করছেন। আর বাকি প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন ফার্মাসিস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঔষধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত আছেন। এদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত। তবে বর্তমানে চাকরির জন্য সেখানে ডক্টর অফ ফার্মাসি ডিগ্রি চাওয়া হয় বলে একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ব্যাচেলর অফ ফার্মাসি প্রফেশনাল ডিগ্রি থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমাদের দেশে ৫০০০-এর অধিক ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন রয়েছে। এ চাহিদা পূরণ করতে অন্তত আরো ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লেগে যাবে।

একজন ফার্মাসিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

ঔষধ গবেষণা;

ঔষধ উৎপাদনের সামগ্রিক প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা;

ঔষধের মান পরীক্ষা করা ও উন্নয়ন ঘটানো;

আইন ও নিয়ম মোতাবেক ঔষধ তৈরি করা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে নজর রাখা;

ঔষধের বিপণনে মার্কেটিং দলকে সাহায্য করা;

ঔষধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

একজন ফার্মাসিস্টের কাজ মূলত ফুল টাইমের। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারখানার কাজ রাত বা দিন বা দুই শিফটেই হতে পারে।

ফার্মাসিস্টদের কাজের ক্ষেত্রকে বিবেচনা করে চার ভাগে ভাগ করা যায় –

রিটেইল ফার্মাসিস্টঃ রিটেইল ফার্মাসিস্টদের কাজ হলো, প্রেসক্রাইবড ও নন-প্রেসক্রাইবড ওষুধ, সার্জিক্যাল সাপ্লাই ও ওষুধের হিসাব রাখা এবং ট্রেনিং স্টাফ তৈরি করা। হেলথ কেয়ার প্রফেশনাল হিসেবেও তারা কাজ করতে পারেন।

হসপিটাল ফার্মাসিস্টঃ হসপিটাল ফার্মাসিস্টরা সাধারণত যুক্ত থাকেন কোন হাসপাতাল কিংবা নার্সিং হোমের সঙ্গে। ঔষধের মজুদ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে লেবেলিং আর প্রয়োজনীয় বাজেট প্রস্তুতির কাজ তাকে করতে হয়। তবে বাংলাদেশে নীতিমালার অভাবে এ কাজ ডাক্তাররা করে থাকেন।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মাসিস্টঃ ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে প্রোডাকশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ম্যানুফ্যাকচারিং বা সেলস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্বে থাকেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মাসিস্টরা। বাংলাদেশের মোট ৮৫ ভাগ ফার্মাসিস্ট এ খাতে কাজ করে থাকেন।

রিসার্চ ফার্মাসিস্টঃ রিসার্চ ফার্মাসিস্টরা ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সের যেকোন দিক অথবা বিশেষ কোন ঔষধ নিয়ে তারা গবেষণা করে থাকেন। আমাদের দেশে এ খাতে গবেষণা খুব কম হয়। তবে বড় কয়েকটি কোম্পানি ব্যবসায়িক স্বার্থে কিছু গবেষণার কাজ করছে।

একজন ফার্মাসিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ফার্মাসিস্ট হতে হলে যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি ফার্মাসি কোর্স ডিগ্রি নিতে হবে। এরপর এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স শেষ করে কাজে নামতে পারেন। মাস্টার্স শেষ না করেও অবশ্য চাকরি করা যায়।

ফার্মাসিতে প্রচলিত ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন ফার্মাসি (ডি. ফার্ম)

ব্যাচেলর অব ফার্মাসি(বি. ফার্ম)

ব্যাচেলর অফ ফার্মাসি প্রোফেশনাল

মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষেই ফার্মাসিতে ডিপ্লোমা কোর্স শুরু হয়। এ কোর্স বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন। এক্ষেত্রে বড় মাপের সাফল্য আনতে চাইলে অনেক পরিশ্রমী আর সৃজনশীল হওয়া চাই। এছাড়া বাংলাদেশে ডিপ্লোমা করে ব্যাচেলর ইন ফার্মাসি করার সুযোগ অনেক সীমিত। অধিকাংশ ডিপ্লোমা ডিগ্রি ৩ বছরের। তবে কোথাও কোথাও ৪ বছরের।

ব্যাচেলর অফ ফার্মাসি ডিগ্রি ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রি। অন্যদিকে ব্যাচেলর অফ ফার্মাসি প্রফেশনাল ডিগ্রি ৫ বছরের দেওয়া হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, এখন ৫ বছর মেয়াদি ডক্টর অফ ফার্মাসি ডিগ্রিকে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

৫ বছরের বি. ফার্ম প্রফেশনাল কোর্সের সঙ্গে সিলেবাসে অনেক সাদৃশ্য থাকলেও ৫ বছরের ফার্ম ডি. কোর্সে ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও হসপিটাল ফার্মাসির উপর জোর দেয়া হয় এবং এ ডিগ্রির সিলেবাস অনেক আধুনিক।

ব্যাচেলর অফ ফার্মাসির পর মাস্টার্স অফ ফার্মাসি ডিগ্রি নিতে হয়। এটি সাধারণত ১-২ বছরের হয়ে থাকে।

হাসপাতালে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে স্নাতক পাশের পর মাস্টার্স ইন ফার্মাসি উইথ হসপিটাল/কমিউনিটি ফার্মাসি অথবা পাবলিক হেলথ নিয়ে পড়াশুনা করতে পারেন। কেউ যদি ফার্মাসি পড়ে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণার দিকে আগ্রহী হন, তবে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়াশুনা করা যেতে পারে। আবার ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চাইলে ফার্মাসিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ম্যানেজমেন্ট বা মার্কেটিং নিয়ে পড়া ক্যারিয়ারের জন্য ভালো।

একজন ফার্মাসিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

একজন ফার্মাসিস্ট তার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক জ্ঞান স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থেকেই পেয়ে থাকেন। এর জন্য তাকে আলাদা কোন কোর্স করতে হয় না। তবে কোন শিল্পকারখানায় কাজ করার সময় অনেক কোম্পানি কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও ফর্মুলেশনের জন্য নিজস্ব সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে কাজের শুরুতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিতে হয়।

একজন ফার্মাসিস্টের কাজের উপর নির্ভর করে বহু মানুষের সুস্বাস্থ্য। এজন্য তাকে খুঁটিনাটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। এছাড়া নির্ভুল রেকর্ড রাখা অত্যন্ত জরুরি।

একজন হাসপাতাল ফার্মাসিস্টকে হাসপাতালে ঔষধের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ভুলভাবে সরবরাহ করতে হবে।

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মাসিস্টকে যেমন কোয়ালিটি কন্ট্রোলের কাজ করতে হয়, তেমনি সাপ্লাই চেইন নিয়েও ধারণা রাখতে হয়। এছাড়া ল্যাবরেটরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে তার। কোন বিষয়ে চিন্তা করে বিশ্লেষণ করা এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজনীয়। ওষুধের গুণাগুণ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাকে খুব ভালোভাবে জানতে হবে। পাশাপাশি ঔষধ শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহারে দক্ষতা থাকা বাঞ্ছনীয়।

কোথায় পড়বেন ফার্মাসি নিয়ে?

বর্তমানে বাংলাদেশে ১২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাসিতে স্নাতক ডিগ্রি দেয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অফ ফার্মাসি প্রফেশনাল ডিগ্রি নেবার সুযোগ রয়েছে। বাকিগুলোয় রয়েছে ৪ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অফ ফার্মাসি।

বাংলাদেশে কোথাও ডক্টর অফ ফার্মাসি ডিগ্রি দেয়া না হলেও হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হবার সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে ফার্মাসি কাউন্সিল অফ বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট ৫০টি রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ফার্মাসিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি দেওয়া হয়।

একজন ফার্মাসিস্টের মাসিক আয় কেমন?

কারিগরি ও বিপণন – একজন ফার্মাসিস্ট চাইলে এ দুই ক্ষেত্রেই কাজ পেতে পারেন। সদ্য গ্র্যাজুয়েটরা শুরুতে ৳২৫,০০০ – ৳৩০,০০০ মাসিক বেতন পান। ৬ মাসের মধ্যে বেতন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ৫০ হাজারে উন্নীত হয়। ভালো কাজ করতে পারলে ২/৩ বছরের মাথায় লাখ টাকা বেতন পাবারও সম্ভাবনা রয়েছে (দৈনিক আমাদের সময়, ২৭ জুলাই, ২০১৬)।

ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের বেলায় সুযোগ-সুবিধা অনেকাংশেই কম। তাদের বেতন সাধারণত ৳১০,০০০ থেকে শুরু হয় ও সর্বোচ্চ ৳৮০,০০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে (যুগান্তর, ৩০ এপ্রিল, ২০১৫)।

একজন ফার্মাসিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

কাজের প্রচুর সুযোগ থাকায় এন্ট্রি লেভেলের পোস্টে সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় পাশ স্নাতকদেরকে নেয়া হয়। অনেকে কিছুদিন কোন ঔষধ কোম্পানিতে শিক্ষানবিশের কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

শুরুতে একজন ফার্মাসিস্ট কোয়ালিটি কন্ট্রোলার কিংবা মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে কাজ করলেও দক্ষতা আর নেতৃত্বের গুণ থাকলে ঔষধ কোম্পানির বড় পদে উন্নীত হবার সম্ভাবনা থাকে।

ঔষধ নিয়ে বিস্তর জ্ঞান থাকায় একজন ফার্মাসিস্ট ড্রাগ কনসালট্যান্ট হিসাবে কাজ করতে পারেন। এছাড়া ধীরে ধীরে অভিজ্ঞ হয়ে গেলে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোতে গবেষণা করারও সুযোগ রয়েছে।

সরকারি পর্যায়ে একজন ফার্মাসিস্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কাজ পেতেন পারেন। ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে সরকারের বড় পর্যায়ে যাবার সুযোগ রয়েছে।