Categories
Career

সিভি লেখার নিয়ম

চাকরি প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভালো সিভি তৈরি করা। এমন একটি সিভি যা নিয়োগদাতাদের নজর কাড়ে। যা আপনার সম্পর্কে নিয়োগদাতাদের একটি ভালো ধারণা দেয়। ব্যাপারটি খুব কঠিন কিছু নয়। এর জন্য আপনার প্রয়োজন সিভি লেখার নিয়ম ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারা।

আমাদের দেশের বহু সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী একটা ভুল করেন। সেটা হলো, কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে পাওয়া সিভি চাকরির আবেদনের সময় জমা দেয়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলোর মান ঠিক থাকে না। তাই এ ধরনের সিভি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বরং চেষ্টা করলে আপনি নিজের জন্য মানসম্মত একটি সিভি বানাতে পারবেন।

সিভি কী?

সিভি বা কারিকুলাম ভিটা (Curriculum Vitae) হলো ২ – ৩ পাতার একটি ডকুমেন্ট যেখানে আপনার কাজ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার মূল অংশগুলোর উল্লেখ থাকে। চাকরির পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক কাজেও এর ব্যবহার রয়েছে। এটি সাধারণত ইংরেজিতে লেখা হয়।

সিভিতে কী কী থাকে?

ব্যক্তিগত তথ্যঃ এ অংশে আপনার নাম, ফোন নাম্বার ও ইমেইল ঠিকানা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঠিকানা দিতে হতে পারে। তবে আপনার ছবি দেয়া আবশ্যক নয়।

সারাংশঃ এ অংশে খুব সংক্ষেপে নিজের পরিচয় দিতে হয়। এটি ইংরেজিতে ‘Personal Statement’ বা ‘Objective’ হিসাবে পরিচিত। আপনি কোন ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান ও সে ক্যারিয়ারের সাথে বর্তমান চাকরি কীভাবে সম্পর্কযুক্ত, সে ব্যাপারে ১০০ শব্দের মধ্যে লিখুন।

কাজের অভিজ্ঞতাঃ আপনি এর আগে কোন ধরনের কাজ করেছেন, তা এ অংশে বর্ণনা করুন। সাম্প্রতিক কাজের কথা সবার আগে লিখুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ সাম্প্রতিক ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে শুরু করুন। মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হলে এইচএসসি বা এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

দক্ষতা ও অর্জনঃ যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, তার সাথে সম্পর্কিত কোন দক্ষতা থাকলে এ অংশে লিখুন। প্রাসঙ্গিক হলে কোন পুরস্কার, সম্মাননা বা প্রকাশনার কথাও উল্লেখ করতে পারেন।

রেফারেন্সঃ আপনার কাজ বা দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে ভালো ধারণা রয়েছে এমন ২ – ১ জন ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের তথ্য রেফারেন্স হিসাবে দিন। তবে আগেই তাদের অনুমতি নিয়ে রাখুন। উল্লেখ্য যে, সব চাকরির জন্য রেফারেন্স অংশ থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজনে নিয়োগদাতারা আপনার কাছে এ ব্যাপারে তথ্য চাইতে পারেন।

সিভি ফরম্যাট কেমন হওয়া দরকার?

অধিকাংশ চাকরির জন্য ১ – ২ পেইজের সিভি বানানো যথেষ্ট।

‘A4’ সাইজের পেইজ ব্যবহার করুন।

‘Arial’, ‘Times New Roman’ বা ‘Calibri’ ফন্টে লিখুন।

১১/১২ ফন্টের সাইজ বেছে নিন।

১ – ২ ধরনের ফন্ট কালারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুন।

সিভির অংশগুলোকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে ১৪ – ১৬ ফন্ট সাইজের সাবহেডিং ব্যবহার করুন।

পড়ার সুবিধার জন্য বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে সারাংশের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।

দুই লাইনের মধ্যে যথেষ্ট স্পেসিং বজায় রাখুন।

বিশেষ কোন দরকার ছাড়া সিভির ডিজাইনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসা থেকে বিরত থাকুন। নিয়োগদাতার কাছে ডিজাইন দৃষ্টিকটু লাগলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা বেশি।

কোন ধরনের সিভি লিখবেন, সিভি লেখার নিয়ম কী, সিভি কীভাবে ভালো করা যায় – বাকি সব জানতে ভিজিট করুন এই লিংকে-

সিভি লেখার নিয়ম

Categories
Career

আজ আমরা জানবো কম্পিউটার অপারেটর পেশা নিয়ে।

একজন কম্পিউটার অপারেটর বা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য (ডাটা) এন্ট্রির কাজ সম্পাদন করেন। প্রতিষ্ঠানের অধীনে চাকরি ছাড়াও এ পেশায় ফ্রিল্যান্সিং করে ঘরে বসে উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।

এক নজরে একজন কম্পিউটার অপারেটর

সাধারণ পদবী: কম্পিউটার অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর
বিভাগ: অফিস সাপোর্ট
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা:কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন:৳১০,০০০ – ৳১৫,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: কাজসাপেক্ষ
মূল স্কিল: কম্পিউটারের সাধারণ ব্যবহারে দক্ষতা, মাইক্রোসফট অফিস সফটওয়্যারে দক্ষতা, স্প্রেডশিট ব্যবহারে দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: নির্ভুল টাইপিং, সময় ব্যবস্থাপনা

………..……………….……..…………………

কম্পিউটার অপারেটরের পেশা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন এই লিংকে-

কম্পিউটার অপারেটর

Categories
Career

সিভি, রেজ্যুমে ও কভার লেটার পার্থক্য কী?

চাকরির আবেদনে আমাদের সবারই কমবেশি সিভি বা রেজ্যুমে ও কভার লেটার লাগে। ইউরোপে বা ব্রিটেনে সিভির চল বেশি। অন্যদিকে আমেরিকায় রেজ্যুমের প্রাধান্য। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের দেশে সিভি-রেজ্যুমে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখা দরকার। সিভি, রেজ্যুমে ও কভার লেটার এক নয়। এদের উদ্দেশ্য, আকার ও গঠনে রয়েছে ভিন্নতা। জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে।

সিভি (Curriculum Vitae)

সিভি মূলত দুই থেকে তিন পাতার হয়। এখানে আপনার জীবনের যাবতীয় প্রায় সব কিছু লেখা থাকে – আপনার ক্যারিয়ারের লক্ষ্য, শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, অর্জন, প্রকাশনা, সম্মাননা ইত্যাদি।

সিভি সাধারণত সময়ানুক্রমিক হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক পর্যায় থেকে এর শুরু হয়। কাজের প্রয়োজন অনুসারে যত পেছনে যাওয়া যায়, ততটাই উল্লেখ করা হয়।

সিভি সাধারণত বিভিন্ন কাজের আবেদনের সময় অপরিবর্তিত থাকে। তবে নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি।

সিভি বা কারিকুলাম ভিটাই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে। এর আক্ষরিক অর্থ হলো জীবনের পথ!

রেজ্যুমে (Résumé)

রেজ্যুমে সাধারণত এক পাতার হয়ে থাকে। এতে পুরো জীবনবৃত্তান্ত থাকে না। সংক্ষিপ্ত হবার কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

সার্বজনীন কোন গঠন না থাকায় ব্যক্তি ও কাজের বা আবেদনের উপর ভিত্তি করে রেজ্যুমের গঠন ভিন্ন হয়। এখানে কেবল যে কাজের জন্য অবেদন করছেন, সে কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক তথ্য দেয়া থাকে।

রেজ্যুমের তথ্য সময়ানুক্রমিক হতে পারে। আবার কাজভিত্তিকও হতে পারে। অর্থাৎ নির্ধারিত কাজের জন্য আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে রেজ্যুমে সাজানো। অবশ্য অনেকে দুই ধরনকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন। রেজ্যুমে লেখা তাই ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভরশীল।

অনেক সময় রেজ্যুমের তথ্য বুলেট লিস্ট আকারে দেয়া থাকে। এতে চাকরিদাতা কম সময়ের মধ্যে আবেদনকারী সম্পর্কে ধারণা পান।

কভার লেটার (Cover Letter)

সিভি ও রেজ্যুমে অনেকটা এক রকম হলেও কভার লেটার কিছুটা আলাদা। এর মূল উদ্দেশ্য চাকরিপ্রার্থী হিসাবে আপনার যোগ্যতা যথাসম্ভব সংক্ষেপে তুলে ধরা।

চাকরির আবেদনের সময় কভার লেটার সাধারণত সিভি বা রেজ্যুমের সাথে লিখে দিতে হয়। নাম থেকেই বোঝা যায় যে এটি এক ধরনের চিঠি বা পত্র। এটি লিখতেও হয় চাকরিদাতা বরাবর। এতে থাকে সম্বোধন, কিছু প্যারাগ্রাফ ও সমাপ্তি।

……………….

বাকিটা পড়ুন এখানে-

সিভি, রেজ্যুমে ও কভার লেটার: পার্থক্য কী?

Categories
Career

করোনা পরিস্থিতিতে ক্যারিয়ার প্রস্তুতি

বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে আমরা সবাই অস্থির একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কয়েক দিনের ভেতর চারপাশের স্বাভাবিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আর সবকিছুর মতো চাকরিবাকরির উপরেও পড়েছে এর প্রভাব। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কাজের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে। তবে অনিশ্চিত এ সময়কে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে আপনি ভবিষ্যৎ চাকরি বা ক্যারিয়ার নিয়ে যথেষ্ট প্রস্তুত থাকতে পারবেন। এ ব্যাপারে করণীয় কী? জেনে নিন।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

এ মুহূর্তে আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা।

কীভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে যথাসম্ভব রক্ষা করা যায়, সে সম্পর্কে ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যম থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সাবান-পানি দিয়ে ঠিকভাবে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা এবং হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করা বা নাক-মুখ আড়াল করা – এ বিধিগুলো ঠিকভাবে মেনে চলুন। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

দিন-রাত ঘরে থাকতে থাকতে আর সোশ্যাল মিডিয়াতে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট দেখে মনের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে মানসিকভাবে সতর্ক থাকা জরুরি।

যত্রতত্র পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত বা আতংকিত হবেন না। বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে দরকারি তথ্য জানার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে সময় কাটান। ফোন বা অন্য কোন ডিজিটাল মাধ্যমে আত্মীয়স্বজন আর বন্ধুবান্ধবের খোঁজ নিন।

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা হয়তো সম্পূর্ণরূপে চলে যাবে না। কিন্তু সতর্কতার সাথে শারীরিক আর মানসিক স্বাস্থ্যবিধি মানলে আপনি ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হবেন। এরপরই চাকরি বা ক্যারিয়ার নিয়ে কিছু করার মনোবল পাবেন। তার আগে নয়।

সিভি আর পোর্টফোলিও আপডেট করুন।

যেকোন চাকরিতে আবেদন করার সময় আপডেটেড সিভি দরকার। অথচ কোন না কোন কারণে হয়তো গত কয়েক মাসে আপনার সিভিতে কোন পরিবর্তন আনেননি। সে কাজটাই করতে পারেন এখন।

ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও রেফারেন্স – প্রতিটি অংশ ভালোভাবে দেখুন।

সিভির ভাষা আরো ভালো করা যায় কি না, সে ব্যাপারে চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে পরিচিত কাউকে সিভি পড়তে দিন। তার পরামর্শ চান।

কোন অংশে কেমন আপডেট দরকার হতে পারে, তা জানার জন্য সিভি রিভিউ করার উপায় নিয়ে জেনে নিতে পারেন।

সিভি বানানো না থাকলে সিভি বানানোর নিয়ম দেখে নিন।

গ্রাফিক ডিজাইন বা ওয়েব ডিজাইনের মতো কাজে যেতে চাইলে প্রফেশনাল পোর্টফোলিও ঠিক করার এখনই সময়। দরকার হলে সময় নিয়ে স্যাম্পল তৈরি করুন, যা আপনার স্কিল বাড়াতে সাহায্য করবে।

….…………………………………..
আর্টিকেলের বাকিটা পড়ুন এখানে-

করোনা পরিস্থিতিতে ক্যারিয়ার প্রস্তুতি

Categories
Career

ইন্টারভিউর ১০ ভুল যা এড়িয়ে চলবেন

ইন্টারভিউতে ভালো পারফরম্যান্স আপনার চাকরি বা কাজ পাবার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। আবার ইন্টারভিউর ভুল নিয়ে আসে বিপরীত ফলাফল। একটু সতর্ক থাকলে এ ভুলগুলো আপনি এড়িয়ে চলতে পারবেন।

১. দেরিতে উপস্থিত হওয়া: যথাযথ সময়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত হওয়া আপনার সময়নিষ্ঠতার পরিচায়ক। এজন্য দেরিতে উপস্থিত হলে ইন্টারভিউ গ্রহণকারীদের কাছে প্রথমেই আপনার একটি নেতিবাচক ধারণা জন্মাতে পারে। চেষ্টা করুন হাতে একটু সময় নিয়ে যাত্রা শুরু করার, যাতে নির্ধারিত সময়ের আগে আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডে উপস্থিত থাকতে পারেন।

২. যথাযথ পোশাক না পরা: ইন্টারভিউর সময় যথাযথ ও মার্জিত পোশাক পরা খুব জরুরি একটি বিষয়। মানানসই পোশাক না পরলে আপনি নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাসী মনোভাব ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হবেন, যা পুরো ইন্টারভিউ জুড়ে আপনার দুর্বলতার প্রকাশ ঘটাবে।

৩. দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি করা: ইন্টারভিউর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্জিত, ভদ্র এবং নম্র স্বভাব বজায় রাখা। ইন্টারভিউ চলাকালীন আপনার চলাফেরা এবং অঙ্গভঙ্গি সাবলীল এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যিক। তাই ইন্টারভিউয়ের সময়ে এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করা যাবে না, যা দেখতে দৃষ্টিকটু এবং অভদ্রতার সামিল।

৪. সঠিকভাবে প্রশ্নের উত্তর না দেয়া বা আমতা আমতা করা: প্রশ্নোত্তর পর্ব চলার সময় প্রার্থী হিসেবে আপনাকে দৃঢ়তার সাথে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। আপনার উত্তর হওয়া চাই স্পষ্ট, সাবলীল এবং যুক্তিসঙ্গত। উত্তর দেয়ার সময় আমতা আমতা করা কিংবা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে না বলতে পারা আপনাকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে রাখতে পারে।

৫. প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া: প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন কখনো এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। চেষ্টা করুন সব প্রশ্নের উত্তর দেবার। প্রশ্নটি সম্পর্কে যতটুকু ধারণা আছে, তা সাবলীল ও স্পষ্টভাবে গুছিয়ে বলুন। কোন প্রশ্নের উত্তর একদমই জানা না থাকলে “Sorry, I don’t know” অথবা “দু:খিত, আমি জানি না” বলে উত্তর দিন।

……………………………..

বাকি ৫টি ভুল জানতে ভিজিট করুন এখানে-

ইন্টারভিউর ১০ ভুল: যা এড়িয়ে চলবেন

Categories
Career

চাকরি প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভালো সিভি তৈরি করা। এমন একটি সিভি যা নিয়োগদাতাদের নজর কাড়ে। যা আপনার সম্পর্কে নিয়োগদাতাদের একটি ভালো ধারণা দেয়। ব্যাপারটি খুব কঠিন কিছু নয়। এর জন্য আপনার প্রয়োজন সিভি লেখার নিয়ম ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারা।

আমাদের দেশের বহু সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী একটা ভুল করেন। সেটা হলো, কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে পাওয়া সিভি চাকরির আবেদনের সময় জমা দেয়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলোর মান ঠিক থাকে না। তাই এ ধরনের সিভি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বরং চেষ্টা করলে আপনি নিজের জন্য মানসম্মত একটি সিভি বানাতে পারবেন।

সিভি কী?

সিভি বা কারিকুলাম ভিটা (Curriculum Vitae) হলো ২ – ৩ পাতার একটি ডকুমেন্ট যেখানে আপনার কাজ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার মূল অংশগুলোর উল্লেখ থাকে। চাকরির পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক কাজেও এর ব্যবহার রয়েছে। এটি সাধারণত ইংরেজিতে লেখা হয়।

সিভিতে কী কী থাকে?

ব্যক্তিগত তথ্যঃ এ অংশে আপনার নাম, ফোন নাম্বার ও ইমেইল ঠিকানা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঠিকানা দিতে হতে পারে। তবে আপনার ছবি দেয়া আবশ্যক নয়।

সারাংশঃ এ অংশে খুব সংক্ষেপে নিজের পরিচয় দিতে হয়। এটি ইংরেজিতে ‘Personal Statement’ বা ‘Objective’ হিসাবে পরিচিত। আপনি কোন ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান ও সে ক্যারিয়ারের সাথে বর্তমান চাকরি কীভাবে সম্পর্কযুক্ত, সে ব্যাপারে ১০০ শব্দের মধ্যে লিখুন।

কাজের অভিজ্ঞতাঃ আপনি এর আগে কোন ধরনের কাজ করেছেন, তা এ অংশে বর্ণনা করুন। সাম্প্রতিক কাজের কথা সবার আগে লিখুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ সাম্প্রতিক ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দিয়ে শুরু করুন। মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হলে এইচএসসি বা এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

দক্ষতা ও অর্জনঃ যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, তার সাথে সম্পর্কিত কোন দক্ষতা থাকলে এ অংশে লিখুন। প্রাসঙ্গিক হলে কোন পুরস্কার, সম্মাননা বা প্রকাশনার কথাও উল্লেখ করতে পারেন।

রেফারেন্সঃ আপনার কাজ বা দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে ভালো ধারণা রয়েছে এমন ২ – ১ জন ব্যক্তির নাম ও যোগাযোগের তথ্য রেফারেন্স হিসাবে দিন। তবে আগেই তাদের অনুমতি নিয়ে রাখুন। উল্লেখ্য যে, সব চাকরির জন্য রেফারেন্স অংশ থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজনে নিয়োগদাতারা আপনার কাছে এ ব্যাপারে তথ্য চাইতে পারেন।

সিভি ফরম্যাট কেমন হওয়া দরকার?

অধিকাংশ চাকরির জন্য ১ – ২ পেইজের সিভি বানানো যথেষ্ট।

‘A4’ সাইজের পেইজ ব্যবহার করুন।

‘Arial’, ‘Times New Roman’ বা ‘Calibri’ ফন্টে লিখুন।

১১/১২ ফন্টের সাইজ বেছে নিন।

১ – ২ ধরনের ফন্ট কালারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুন।

সিভির অংশগুলোকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে ১৪ – ১৬ ফন্ট সাইজের সাবহেডিং ব্যবহার করুন।

পড়ার সুবিধার জন্য বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে সারাংশের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।

দুই লাইনের মধ্যে যথেষ্ট স্পেসিং বজায় রাখুন।

বিশেষ কোন দরকার ছাড়া সিভির ডিজাইনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসা থেকে বিরত থাকুন। নিয়োগদাতার কাছে ডিজাইন দৃষ্টিকটু লাগলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা বেশি।

কোন ধরনের সিভি লিখবেন?

দক্ষতাভিত্তিক সিভিঃ যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, তার সাথে সম্পর্কিত দক্ষতাগুলোর উপর জোর দিয়ে এ ধরনের সিভি লিখতে পারেন। শিক্ষার্থী ও সদ্য গ্র্যাজুয়েট হয়ে থাকলে বা এক ক্যারিয়ার থেকে অন্য ক্যারিয়ারে যেতে হলে এ ধরনের সিভি প্রযোজ্য।

কাজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক সিভিঃ বর্তমান চাকরি থেকে সিনিয়র কোন পদের চাকরিতে আবেদন করলে এ ধরনের সিভি লিখুন।

যেসব চাকরিতে কাজের নমুনা বা পোর্টফোলিও থাকা গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ক্ষেত্রেও এমন সিভি কাজে দেবে।

কী দায়িত্ব পালন করেছেন, তার বিবরণ দেয়া এ সিভির উদ্দেশ্য নয়। বরং আপনার কাজ কোন ধরনের সাফল্য পেয়েছে বা প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করেছে, তা উপস্থাপন করুন।

সিভি লেখার নিয়ম কী?

ভুলে ভরা সিভি নিয়োগদাতাদের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। তাই নির্ভুল ভাষা ও বানান নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে অন্য কারো সাহায্য নিন।

আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সে চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সিভির ভাষা ও ধরনে পরিবর্তন আনুন।

যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করছেন, সে প্রতিষ্ঠানের কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সিভিতে উল্লেখ করুন।

আপনার সিভির উপর নিয়োগদাতারা ইন্টারভিউর সময় প্রশ্ন করতে পারেন। তাই প্রতিটি অংশে কী লিখছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

যথাসম্ভব সহজ ও ছোট বাক্যের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করুন। অহেতুক কঠিন শব্দ আর জটিল ভাষার ব্যবহার বিরক্তির জন্ম দেবে।

অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক কোন কিছু লেখা থেকে বিরত থাকুন।

বহু পেশাজীবী আর চাকরিপ্রার্থী কিছু শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার করেন। যেমনঃ “Passionate” কিংবা “Leadership”। এ ধরনের শব্দ সিভিতে না রাখা শ্রেয়।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা না থাকলে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের লিংক সিভিতে দেয়া অনুচিত। প্রযোজ্য হলে নিজের লিংকডইন অ্যাকাউন্টের লিংক ব্যক্তিগত তথ্যের সেকশনে রাখতে পারেন। তবে তার আগে লিংকডইন প্রোফাইল সাজিয়ে নিন।

সিভি কীভাবে ভালো করা যায়?

যে ধরনের ক্যারিয়ার গড়তে চান, তার সাথে সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জনে সময় দিন। কোন ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে উঠলে সিভি আপডেট করে ফেলুন।

কোন কাজে যুক্ত থাকলে অগ্রগতি সম্পর্কে লিখে রাখুন। এতে করে সিভিতে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

মাঝে মাঝে সিভি রিভিউ করুন। কোন অংশে ঘাটতি থাকলে সময় নিয়ে সে অংশ গোছানো অবস্থায় নিয়ে আসুন।

সব চাকরি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের সিভি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। বরং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সিভি বানান।

ইন্টারনেটে সিভির বিভিন্ন টেমপ্লেট পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করার আগে যাচাই-বাছাই করুন।

সিভি লেখার নিয়ম