Categories
History

বর্গী।

“খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো, বর্গি এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিব কিসে?”

বর্গির আক্রমণে তটস্থ ছিল বাংলা, সেই আঠারো শতকের মাঝামাঝিতে। বর্গী বলতে সেই মারাঠারা, লুটতরাজ আর হত্যার ধ্বংসযজ্ঞে এই বাংলাকে পরিণত করেছিল এক মৃত্যুপুরীতে। নবাব আলীবর্দি খানের সময়ে, টানা দশটা বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছে এই মারাঠারা, নবাবের বাহিনী যে ঠিক কতটা অসহায় ছিল বর্গিদের দ্রুততা ও নিষ্ঠুরতার সামনে, শেষে কিনা সন্ধি করে মেলে মুক্তি।
তো সেই বর্গীদের সময়। বাংলার ধনাঢ্য পরিবারগুলো বাড়িঘর ফেলে জানমাল নিয়ে সরে আসছে দক্ষিণে, জঙ্গলের দিকে। জঙ্গল বলতে, সুন্দরবন। আশ্রয় নিল জমিদার নীলকন্ঠের কাছে।

যশোরের চাঁচড়ার এই জমিদার দেখল, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা ছাড়া এই আপদ থেকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না আসলে। এর জন্যে ভৈরব নদের তীরে বারোটা শিবমন্দির তৈরী হল, তাও এর কৃপায় যদি মুক্তি মেলে। অথচ মেলে নি। আগ্রাসী বর্গির থাবা থেকে বাঁচে নি কেউই।

অথচ মন্দির তো রইল, বারোটা, ভৈরবের তীর ঘেঁষে। বর্গি গেলে কি হবে? প্রমত্তা ভৈরব তো আছেই, একে একে এর গর্ভে নিল এগারোটা শিবমন্দির, শুধু রইলো বাকি। ধুলগ্রামের মন্দির। আজ গেছিলাম সেখানে। খুলনা ফুলতলা থেকে নদী পার হয়ে একটু ভেতরে।
কালী আর দুর্গা মন্দির দেখলাম নতুন, আর একটা জগন্নাথ মন্দির, বেশ পুরানো, খুব সুন্দর টেরাকোটা করা। শিবমন্দির পেলাম না, তবে একখানা ভেঙে পড়া মন্দির পেলাম। সেটিই কিনা, জানি না।

টেরাকোটার সেই জগন্নাথ মন্দির এত সুন্দর, এর ছাতে শিউলির গাছ অনেকগুলো। শিউলিকে এভাবে আগাছা হতে তো দেখিনি কখনো। টেরাকোটা খুঁটিয়ে দেখলাম, উটের অবয়ব পেলাম। তখনকার এই ভাটির অঞ্চলে উটের দেখা কিভাবে পেল, জানি না। একখানে দেখে মুঘল সৈন্য মনে হল, রণতূর্য, যুদ্ধের আবহ। শিকার, হুঁকোর নলে মুখ দিয়ে বিশ্রাম রাজার, গাভী থেকে দুধ দোয়ানো, কি নেই? তখনকার পরে আর হাত পড়েনি, অনেকখানিই ক্ষয়ে গেছে, তবু কি নিখুঁত আর সুন্দর! অবাক হয়ে তাকিয়ে রই।

এভাবে একটা অখ্যাত গ্রামে পড়ে আছে এত জাঁকালো এক স্থাপত্য, বিস্ময় কাজ করে। পাশে বহমান ভৈরব, সন্ধ্যের সময় যে কাউকে মুগ্ধ করে এর পাশে টেনে আনতে কি মোহই না তার! আকাশের রঙে এর জলে কি অদ্ভুত খেলা! স্রোত আর দিগন্ত ঝাপসা হয়ে পড়ে অঘ্রাণের কুয়াশার ভেতর।

রিভিউয়ার : মাহিম।
ছবি : ফেসবুক থেকে নেয়া।

আমাদের সাথে জয়েন হতে পারেন টেলিগ্রামে.

Telegram Channel link : t.me/itihasherkotha
Telegram Group Link : t.me/itihasherkothagroup

Personal Account :
Instagram :
www.instagram.com/_vipermahim_
Kotha : https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

Categories
History

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্ত্বার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ ভারতে তৎকালীন শাসকদের অন্যায্য সিদ্ধান্তে পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতিবাদের ফসল হচ্ছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ সম্পর্কে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী গ্রন্থে লিখেছেন, “বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। লর্ড লিটন যাকে বলেছিলেন ‘স্পেল্নডিড ইম্পিরিয়াল কমপেনসেশন’।

পূর্ববঙ্গ শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল। বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর এ অবস্থার খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে। ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ইসরয়র্ড হার্ডিঞ্জ। এর মাত্র তিন দিন পূর্বে ভাইসরয় এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে ছিলেন ঢাকারনবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব করেন ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে ডি আর কুলচার, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নবাব সিরাজুল ইসলাম, ঢাকার প্রভাবশালী নাগরিক আনন্দচন্দ্র রায়, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডব্লিউ.এ.টি. আচির্বল্ড,জগন্নাথ কলেজ-এর অধ্যক্ষ ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ.এইচ.আর.জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশ্চন্দ্র আচার্য।

১৯১৩সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে ‘দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০’। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রফিকুল ইসলামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর গ্রন্থ থেকে জানা যায়, নাথান কমিটি রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল ঢাকা কলেজ, গভর্নমেন্ট হাউস, সেক্রেটারিয়েট ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ।

সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। কলকাতার তৎকালীন একটি শিক্ষিত মহল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। এ ছাড়া ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়ের কারা সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির উপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটি প্রতিবছর “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস” হিসেবে পালন করা হয়।

তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসী ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন।

প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ (ইংরেজি বিভাগ; এমএ-১৯২৩)। যে সব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার সাথে জড়িত ছিলেন তারা হলেনঃ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ,জি.এইচ.ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ.জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীনঅস্থিরতা ও ভারত বিভক্তি আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা উজ্জীবিত হয়। নতুন উদ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তৎকালীন পূর্ববাংলার ৫৫ টি কলেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৭-৭১ সময়ের মধ্যে ৫টি নতুন অনুষদ, ১৬টি নতুন বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়। এতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী সহ শহীদ হয়েছেন বহুজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের সরকার প্রবর্তিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের জন্য ষাটের দশক থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশেরজাতীয় সংসদ উক্ত অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার-১৯৭৩ জারি করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এই অর্ডার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে ।

কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। নিজে জানুন এবং সকলকে জানার সুযোগ করে দিন।

Reviewer : Nit Mahim
Photo : Collected from Google.

Join with us on Telegram

Group : t.me/itihasherkothagroup
Channel : t.me/itihasherkotha

ধন্যবাদন্তে
মাহিম ♡

Categories
History

৬ দফা। বাঙালির মুক্তির সনদ।

ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “৬ দফা দাবি” পেশ করেন।

প্রস্তাবগুলো হলো –

প্রস্তাব – ১ : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি

দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামো এমনি হতে হবে যেখানে পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেশনভিত্তিক রাষ্ট্রসংঘ এবং তার ভিত্তি হবে লাহোর প্রস্তাব। সরকার হবে পার্লামেন্টারী ধরনের। আইন পরিষদের ক্ষমতা হবে সার্বভৌম। এবং এই পরিষদও নির্বাচিত হবে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনসাধারনের সরাসরি ভোটে।

প্রস্তাব – ২ : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা

কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কেবল মাত্র দু’টি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে- যথা, দেশরক্ষা ও বৈদেশিক নীতি। অবশিষ্ট সকল বিষয়ে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির ক্ষমতা থাকবে নিরঙ্কুশ।

প্রস্তাব – ৩ : মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:

মুদ্রার ব্যাপারে নিম্নলিখিত দু’টির যে কোন একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা চলতে পারেঃ-
(ক) সমগ্র দেশের জন্যে দু’টি পৃথক, অথচ অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে। অথবা,
(খ)বর্তমান নিয়মে সমগ্র দেশের জন্যে কেবল মাত্র একটি মুদ্রাই চালু থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে শাসনতন্ত্রে এমন ফলপ্রসূ ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে করে পূর্ব-পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচারের পথ বন্ধ হয়। এক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং রিজার্ভেরও পত্তন করতে হবে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক আর্থিক বা অর্থবিষয়ক নীতি প্রবর্তন করতে হবে।

প্রস্তাব – ৪ : রাজস্ব, কর, বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা:

ফেডারেশনের অঙ্গরাজ্যগুলির কর বা শুল্ক ধার্যের ব্যাপারে সার্বভৌম ক্ষমতা থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনরূপ কর ধার্যের ক্ষমতা থাকবে না। তবে প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অঙ্গ-রাষ্ট্রীয় রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাপ্য হবে। অঙ্গরাষ্ট্রগুলির সবরকমের করের শতকরা একই হারে আদায়কৃত অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল গঠিত হবে।

প্রস্তাব – ৫ : বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা:

(ক) ফেডারেশনভুক্ত প্রতিটি রাজ্যের বহির্বাণিজ্যের পৃথক পৃথক হিসাব রক্ষা করতে হবে।

(খ) বহির্বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অঙ্গরাজ্যগুলির এখতিয়ারাধীন থাকবে।

(গ) কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা সমান হারে অথবা সর্বসম্মত কোন হারে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিই মিটাবে।

(ঘ) অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলির মধ্যে দেশজ দ্রব্য চলাচলের ক্ষেত্রে শুল্ক বা করজাতীয় কোন রকম বাধা-নিষেধ থাকবে না।

(ঙ) শাসনতন্ত্রে অঙ্গরাষ্ট্রগুলিকে বিদেশে নিজ নিজ বাণিজ্যিক প্রতিনিধি প্রেরণ এবং স্ব-স্বার্থে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা দিতে হবে।

প্রস্তাব – ৬ : আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা:

আঞ্চলিক সংহতি ও শাসনতন্ত্র রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে অঙ্গ-রাষ্ট্রগুলিকে স্বীয় কর্তৃত্বাধীনে আধা সামরিক বা আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠন ও রাখার ক্ষমতা দিতে হবে।

Reviewer : Mahim
Photo : Google

Join with us on Telegram ;

Channel : t.me/itihasherkotha
Group : t.me/itihasherkothagroup

Fb page :

https://www.facebook.com/kothon.official.24/

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

স্বাধীনতার আসল ঘোষক কে ,?

আমাদের দেশে বহুল প্রচারিত একটি বিতর্ক আছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা কে করেছেন ? দেশে বড় দুটি দল , একটি বিএনপি অপরটি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ । তাদের প্রত্যেকের দাবি তাদের নেতার পক্ষে । এমন একটি বিষয় যা স্বাধীনতার বিশেষ একটি মান মর্যাদার সাথে জড়িত, এমন একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক করা কখনই উচিত নয় । কিন্তু আমাদের দেশে অনুচিত অনেক কিছু ঘটে যা বিশ্বে আর কোন দেশে ঘটে না । যেমন, স্বাধীনতার মহান নেতাকে গালি দেয়া , দেশ নিয়ে বিতর্ক করা , রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিতর্ক করা .। ইত্যাদি .।
এর সাথে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে এই বিতর্ক কোন নূতন ঘটনা নয় । তবে আমাদের এই বিতর্কের ফলে জাতি দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে । এই পিছিয়ে পড়া জাতি কি করে মাথা তুলে দাঁড়াবে যদি কোন একতা না থাকে ? জাতি বিভাজিত ।
এখন বলতে হয় জাতিকে বিভাজিত না রেখে এই সমস্যা সমাধানের কোন পথ আছে কিনা । আমি মনে করি আছে , আর তা হল আমাদের মহামান্য হাইকোর্টের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে । এই বিভাজন দুর করতেই হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে শুনানির চেষ্টা চালায় জাতে একটি সঠিক রায় দেয়া যায়। তবে এখন প্রশ্ন হতে পারে স্বাধীনতার ঘোষক নির্ণয় কি হাইকোর্টের দায়িত্ব নাকি ঐতিহাসিকের ? আমার জবাব অবশ্যই ঐতিহাসিকদের তবে যেখানে সমস্যার সমাধান নেই সেখানেই সমাধান দেয় আদালত । পৃথিবীর বহুদেশেই এমন নজির আছে । যা হোক , ইতিহাস লেখার দায়িত্ব যেহেতু ঐতিহাসিকদের তাই হাইকোর্ট মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব এবং বড় দুই দলের রাজনৈতিক ও আইনজীবীদের হাইকোর্ট তলব করে তাদের যার যা তথ্য প্রমান আছে তা নিয়ে হাজির হতে , নি:সন্দেহে এটি ভাল উদ্যোগ । এই উদ্যোগে সাড়া পড়েছিল বলেই-না বিএনপি দলীয় নেতা মওদুদ আহম্মেদের মতো ব্যক্তিরা মামলাটি গুনাহ করে যথাসাধ্য চেষ্টা করে তাদের পক্ষে রায় পেতে , কিন্তু রায় চলে যায় সত্যের ঘরে । কখনই ঠুনকো প্রমাণ দিয়ে বৃহৎ ইতিহাস ঢেকে রাখা সম্ভব নয় ।
আমাদের এই হাইকোর্টের রায় মেনে নিতেই হবে এবং বলতেই হবে স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ।
এখন দেখি জিয়াকে কেন স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর চেষ্টা করা হল ! এর জবাব পেতে হলে আমি সর্ব প্রথম বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম মান্নান ভুঁইয়ার এটিএন বাংলাকে দেয়া সাক্ষ্যের কথা বলব । তাকে মুন্নি সাহা এমনই এক প্রশ্ন করেছিলেন , যে জিয়াউর রহমানকে কেন স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয় ? উনি (মান্নান ভুইয়া) জবাবে বল্লেন , “আমাদের এটা নিয়ে বিতর্ক করা ঠিক নয় , এর জন্য দায়ি আওয়ামী লীগ । কারণ , তারাই এই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জিয়াকে রাজাকার বলে । ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামীলীগ দলীয় এক সংসদ সদস্য জিয়া কে রাজাকার বলে গালি দেন , ঠিক তখনই আমাদের সাবেক মহাসচিব ডা বদরুদ্দোজা চৌধুরী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন জিয়াকে আপনারা রাজাকার বলছেন ? স্বাধীনতার ঘোষনা তো তিনিই দিয়েছেন , আপনারা কেন দিতে পারেন নি ? এমনই এক সময় থেকে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচার পেতে থাকে ।“
জনাব মান্নান ভুঁইয়ার এই জবাবটিতে আমরা অনেক কিছুই খুঁজে পাই,
১. জিয়া নিজে ঘোষকের দাবিদার ছিলেন না !
২. ১৯৯১ সালের পরের এই বিতর্কের সৃষ্টি ,
৩. সংসদের কুতর্কের ফলাফল হচ্ছে এই বিতর্ক ,
আসলে জিয়াকে নিয়ে বা স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্কের কোন কালেই সুজোগ ছিলনা, এখনও নেই । ১৯৯১ সালের পরে সৃষ্ট বিতর্কের জবাব ১৯৭২ সালের সংবিধানেই দেয়া হয়েছে , যেটি কিনা ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিলের ঘোষনা পত্রের মাধ্যমে । সেই ঘোষনা পত্রে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট আছে, তাই আমরা বিতর্ক করতে চাইলেও বিতর্কের কোন স্থান নেই!
এখন আসি, ঘোষনা কে দিতে পারেন , যদিও পৃথিবীতে স্বাধীনতার ঘোষক নামের কোন দেশে দাবিদার বা কৃতিত্বের অধিকারি নেই তবু আমাদের দেশে এটি দেয়া হয় । তবে এমন ঘোষনা শুধু তিনিই দিতে পারেন যার প্রতি জনগণের আস্থা আছে , আর তিনি ত পরিক্ষিত আস্থাশীল , ৭০ এর নির্বাচনের বিজেতা , জাতির আশা আকাঙ্খার প্রতিক , জনগণের ভাগ্য-বিধাতা রুপে বাংলার জনগণ যাকে আস্থা প্রদান করেছিলেন শুধু তিনিই ১৯৭১ সালের এমন ঘোষন দিতে পারেন , তার কথাতেই জনগণ বেড় হতে পারে লড়াই করতে , তিনি হলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ।
তার ইপিআর-এ দেয়া ঘোষনা পত্র ঐতিহাসিক ভাবে স্বীকৃত । যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স এজেন্সি তাদের প্রকাশিত দলিলে তুলে ধরেছেন শেখ মুজিবই ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ রাত ১২.৩০ মি: এ স্বাধীনতার ঘোষনা প্রদান করেন ! তাদের এই দলিলে বহুজন সিনেটের সাক্ষর আছে । ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২.৩০ মি: অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরেই শেখ সাহেব ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতা ঘোষনা করার কিছুক্ষন পরই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস্ তাদের বৈকালিক সংস্করণে এই ঘোষনা পত্র ছাপিয়ে লিখেছিল “ পূর্বপাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবর রহমান যুক্তরাষ্ট্র টাইম ২.৩০ মিনিট (দুপুর) এ স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন ।“ এই পত্রিকাটি এখন আমাদের কাছে একটি বড় দলিল, দলিলটির লিংক দেয়া হল : Click This Link
উল্লেখ্য , শেখ মুজিবুর রহমান গ্রপ্তার হন ৩.৩০ মি (রাত) আর তার কয়েক ঘন্টা আগে অর্থাৎ রাত ১২.৩০ মি: ঘোষনা প্রদান করেন । তার এই ঘোষনা ইপিআরের ওয়্যালেসের মাধ্যমে সারাদেশের সরকারি প্রশাসন ভবন ও ফ্যাক্সের মাধ্যমে লিখিত আকারে প্রচার করা হয় । ২৭ মার্চ সকাল থেকেই রেডিওতে বার বার এটি পরে শুনানো হয় । বঙ্গবন্ধুর ভাষনের কথা তৎকালিন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া সাহেব ক্রোধের সাথেই মিডিয়াতে তুলে ধরেছিলেন ।
তবে জিয়াউর রহমানের ভুমিকা কি ছিল ! আসুন জিয়ার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার দেখা যাক যেখানে তিনি নিজেই বলছেন তারা ২৭ মার্চ রেডিও স্টেশন দখল করে আর ঘোষনা পাঠ করে , তবে তো ২৬ মার্চ জিয়ার ঘোষনায় দেশ স্বাধীন হওয়া একটা অলীক ব্যাপার ! আসুন লিংকটি দিলাম এটি ক্লিক করুণ:

এখানে উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস আর জিয়া ঘোষনা করেছেন ২৭ মার্চ । তবে একদিন পরে ঘোষনা করে কি করে একদিন আগের স্বাধীনতা দেয়া সম্ভব ??
এখন আসা যাক জিয়া কি বলেছিলেন:

এখানে ক্লিক করলেই বেড়িয়ে আসবে জিয়া স্বকন্ঠে ভাষন , যেখানে তিনি বলছেন “ I major zia on behalf of our great national leader sheikh mujibur rahman , do hereby declare independence of Bangladesh” ভাষনটির শেষে তিনি জয় বাংলা শব্দটি উল্লেখ করেন । এই ভাষনটি ছিল ২৭ মার্চ সন্ধা ৭.৪৫ মিনি্টে ।
এখন ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকিয়ে দেখা যাক জিয়া কি করে অস্ত্র খালাস করতে গিয়ে রেডিও স্টেশনে আসলেন!
ঘটনাটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি সহায়তা নিচ্ছি কালুরঘাট বেতারের মহাপরিচালক জনাব বেলাল মোহাম্মাদের লেখা বই “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” তার সাক্ষাৎকার , শওকত ওসমান বীরপ্রতিক, মুক্তিযোদ্ধা অলির সাক্ষাৎকার (টিভিতে দেয়া) মেজর রফিকুলের সাক্ষাৎকার , বিভিন্ন ইতিহাস ও কলামিস্টের লেখার কলাম থেকে “ তুলে ধরছি ।
২৫ মার্চ পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স আক্রমণ করে, ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ ঘুমন্ত মানুষের উপরে । রাজারবাগ পুলিশ তাদের যেটুকু সম্বল ছিল তা দিয়েই পাক-আর্মিদের মোকাবেলা করে, তারা ২৫ মার্চ রাতেই বিদ্রোহ করে পাকিস্তানী আর্মিদের সাথে যুদ্ধ করে , তারা কিন্তু জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ ঘোষনা দিবে বলে বসে থাকেনি ! রাজারবাগ পুলিস যুদ্ধ করেছে তারা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষনের উপর ভিত্তি করেই কিন্তু বিদ্রোহ করেছে , কারণ সময়টা ছিল ২৫ মার্চ রাত ৯.৩০ টা , আর বঙ্গবন্ধু ঘোষনা দেন ১২.৩০ মি.এ . । তারা কিন্তু জিয়ার ঘোষনাতে বিদ্রোহ করেনি , বিএনপি যে কথা বলে তা হল “ জিয়া ঘোষনা না দিলে কেউ যুদ্ধে যেতনা , তাহলে রাজারবাগ পুলিশ কেন ২৫ মার্চই বিদ্রোহ করেছে ? প্রশ্ন তাদের কাছে যারা স্বাধীনতার বিকৃতি ঘটান । !
এর পর আসি মেজর রফিকুলের কাছে , উনারা ২৫ মার্চই বিদ্রোহ করে চট্রগ্রাম রাস্তায় রাস্তায় বেরিকেড দিয়েছিলেন যাতে কোন বাঙ্গালী অফিসার চিটাগং পোর্টে অস্ত্র খালাস করতে যেতে না পারেন ! জিয়া কিন্তু মেজর জেনারেল জাংজুয়ার নির্দেশে সেই রাতে পোর্টের দিকে জিপ নিয়ে রওনা হোন অস্ত্র খালাস করতে , তিনি তখন্ও বিদ্রোহ করেন-নি যখন মেজর রফিকূলেরা বিদ্রোহ করেছিলেন ! তাহলে জিয়াই কিভাবে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহী হলেন ??
কর্ণেল অলি আহম্মেদ টেলিফোন করে কর্ণেল শওকত কে বলেন “ আমাদের স্যার কোথায়?” (অর্থাৎ মেজর জিয়া ছিলেন কর্ণেল অলি আর শওকতদের অফিসার আর মেজর জিয়া ছিলেন পাকিস্তানী মেজর জেনারেল জাংজুয়ার অধিনস্ত একজন অফিসার ! ) শওকত সাহেব কর্ণেল অলিকে বলেছিলেন “ স্যার (জিয়া) ত মেজর জেনারেলের নির্দেশে বন্দরে গেছেন অস্ত্র খালাস করতে “ অলি বলেছিলেন “ আরে করেছে কি ? এই অস্ত্র গুলো তো আমাদেরই উপর ব্যবহার হবে ! এটা কি স্যার (জিয়া) জানেন না ?? …. আর বাঙালি আফিসার রা তো বিদ্রোহ করেছে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে , তুমি (শওকত) এক্ষুণি রওনা দেও , স্যার-কে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করো “”
এটি শওকত সাহেবের দেয়া মিডিয়াতে সাক্ষাৎকার ও কর্ণেল অলির মিডিয়াতে দেয়া সাক্ষাৎকার থেকে তুলে ধরলাম ! এখন দেখুন , জিয়াউর রহমান কিন্তু কর্ণেল অলি আর শওকত সাহেবের আগে বিদ্রোহ করেন নাই !!
এবার আসা যাক মেজর রফিকুল ইসলামেরা কি করছেন । যেসব বাঙালি অফিসার রা বিদ্রোহ করেছিলেন তাদের মধ্যে মেজর রফিকূল একজন , যিনি মেইন রোডের উপর গাছের গুড়ি ফেলে দিয়ে রাস্তায় বেরিকেট দিয়ে রেখে ছিলেন যাতে কোন বাঙালি অফিসার পোর্টে না যেতে পারে অস্ত্র খালাস করতে । মেজর রফিকুলের ভাষ্য অনুসারে উনারা রাস্তায় বেড়িকেট দিয়ে পাশেই জঙ্গলে বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন , এমন সময় একটি জিপ দেখতে পান , জিপটি রাস্তা বেড়িকেট থাকায় আর যেতে পারছিলনা , ভেতরে বসা একজন অফিসার তার পদস্থ সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছেন রাস্তার কাঠের গুড়িগুলো সড়িয়ে রাস্তা পরিস্কার করতে । তিনি আর কেউ নোন তিনিই হলেন জিয়াউর রহমান ! মেজর রফিকের একজন সাথি অনুমতি চাইলেই গুলি করতে কেননা জিয়া এবং তার সাথি সৈন্যরা নিরস্ত্র হয়ে রাস্তার কাঠ পরিস্কার করছিল , অস্ত্র ছিল জিপ গাড়িতে । মেজর রফিক বল্লেন “না”… আমরা প্রথমে তাদের কাছে গিয়ে প্রোপোজ করি , যদি তারা আমাদের দলে আসে তাহলে তো আমাদেরই শক্তি বৃদ্ধি পাবে । যাহোক , মেজর রফিকের নেতৃত্বে বাহিনীর সদস্যরা জিয়ার সৈন্যদের কাছে অস্ত্র তাক করে “হান্ডসৃ আপ বলে “ অস্ত্র ধরে তাদের গ্রেফতারের মত করে দাঁড় করিয়ে রাখলেন ! মেজর রফিক জিয়াকে প্রোপোজ করলেন বিদ্রোহ করতে , এতে জিয়া বলেছিলেন “তার নাকি জানা ছিলনা যে বাঙ্গালি অফিসার রা বিদ্রোহ করেছে , জানলে তিনিও করতেন , তাই তিনি পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে কাজ করতে সম্মতি প্রদান করলেন “ …
এবার জিয়াউর রহমান সহ মেজর রফিকূল ইসলাম কালুরঘাট এলাকাতে এসে আস্তানা গেড়েছেন । ২৬ মার্চ তারা রেডিও স্টেশনের দখল নিয়ে নেয় , এবং মেজর জিয়াকে স্টেশন পাহাড়া দিতে দিয়ে , মেজর রফিকূল ইসলামের সৈন্যরা অপারেশনে চলে যান । ঐ স্টেশনের ভেতরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান , বেলাল মোহাম্মদ সহ আরও অনেকে ছিল , কিন্তু রেডিও স্টেশনটি কার্যকর ছিলনা , কারণ সেখানে কোন ট্রান্সফরমার ছিলনা ! অবশেষে চট্টগ্রাম সরকারি স্টেশনে হামলা চালিয়ে ২৬ মার্চ দুপুর পরে সেখান থেকে ট্রান্সফরমার খুলে এনে কালুর ঘাটে প্রতিস্থাপনের চেস্টা হতে থাকে । কিন্তু দক্ষ ইন্জিনিয়ার না থাকায় ২৬ মার্চ সারারাত চেস্টা করেও কোন লাভ হয় না । অবশেষে ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে রেডিও স্টেশনে ঐ ট্রান্সফরমারটি সেট হয় এবং বেতার তরঙ্গ প্রচারিত হয় । সেই সময়ে বেতারের পাওয়ার ছিল মাত্র ১‌০ মাইল চারেদিকে প্রচার সক্ষমতা !! ২৭ মার্চ সকাল ১০ টায় আওয়ামীলীগ নেতা প্রথম স্বাধীনতা ঘোষনা পাঠ করেন , এর পর বেলাল মোহাম্মদ বারংবার বঙ্গবন্ধুর ভাষনের কপিটি পড়ে শুনান । এর পর সেখানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মাথায় একটা যুক্তি আঁটল , তা হল , যদি প্রচার করা হয় আমাদের সাথে বাঙালি সেনা অফিসাররাও যুদ্ধে যোগ দিয়েছে, তাহলে সাধারন জনতা ও বিদ্রোহীদের মনোবল চাঙা হতো ! এই সময় , একজন নেতা বলে উঠেন “এই সময়ে সেনা অফিসার কোথাই পাব ? সবাই তো যুদ্ধের ময়দানে । “ অবশেষে রনাঙ্গনে মেজর রফিকের কাছে গাড়ি পাঠানো হয় যাতে তিনি এসে একটা ঘোষনা দিয়ে যান , এতে রফিক সাহেব রাজি হোন নাই , কারণ রনাঙ্গণ ছেড়ে আসা তার পক্ষে সম্ভব নয় , তাই রফিকুল ইসলাম প্রস্তাব দিলেন ‘কোন টেপ রেকর্ডার থাকলে তিনি ভাষন বা ঘোষনা রেকর্ড করে পাঠাতে পাবেন ।“
রফিকের কথার অনুমতি চেয়ে এমএ হান্নানের কাছে বেতার কর্তৃপক্ষ যাবার পর আর মেজর রফিকের কাছে ফিরে যান নি , কারণ বেতারের কাছেই মেজর জিয়াকে তারা পেয়ে গিয়েছিলেন । মিজর জিয়াকে প্রস্তাব করা হয় একটি ঘোষনা দেবার জন্য , তাতে তিনি এক লাফেই রাজি হোন , মেজর জিয়াকে রেডিওতে ডেকে পাঠান এমএ হান্নান , তাতে দেখার আগে ঐ স্টেশনের কেউ জানতেন না তার নাম কি বা তার পদবি কি ! যেহেতু তিনি মেজর , আর নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোম পক্ষে একজন কর্ণেল গোছের অফিসার লাগবে , তাতে জিয়াউর রহমান কে কাছে পেয়ে তাকেই সুযোগটি দিয়ে দেয়া হল ।
জিয়াউর রহমান প্রথমে লিখলেন আর্মি পিফ প্রোভিশনঅল এন্ড এ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষনা করতে , এতে এমএ হান্নান খেপে গিয়ে বল্লেন “ আপনি যদি আর্মি বিদ্রোহ হিসেবে ঘোষনা দেন তবে তো জাতিসংঘের অলোচনা হবে পূর্ব পাকিস্তানে সেনা বিদ্রোহ চলছে , আর তাতে তারা বিদ্রোহ দমন কাতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষি মিশন পাঠিয়ে আমাদের স্বাধীনতা উল্টিয়ে দিবে !!” মেজর জিয়া জানান “ সারি আমি তো বুঝতে পারিনি ব্যাপারটা” । হান্নান বলেন “ আপনি কার পক্ষ্য থেকে ভাষণ দিবেন ?” জিয়া বলেন “ অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর পক্ষথেকে “ , তখন হান্নান সাহেবের নির্দেশে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ করে ভাষন প্রদান করেন । আর সেই ভাষনটি ছিল ২৭ মার্চ সন্ধা ৭.৪৫ মিনিটে । (সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ) ..
এভাবেই স্বাধীনতার ঘোষনা চলে আসে । তাই বলতে হয় ২৭ মার্চ ঘোষনা দিয়ে কখনই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস তৈরি করানো সম্ভব হয়না , তাই জিয়া নয় , বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক । আর সেটাই ১৯৭২ সালের ঘোষনা পত্রে উল্লেখিত আছে যে ২৬ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাতেই দেশ স্বাধীন বলে গণ্য করা হয়েছে । আরও উল্লেখ করার মত বিষয় , তা হল বিএনপি যেভাবে বলে জিয়ার ঘোষনার জন্য যুদ্ধ হয়েছে আর জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়েছে , দেশ স্বাধীন হয়েছে ! এগুলো একে বারেই ভুল , কেননা , এমএ হান্নান সাহেবের আশংকা তাহলে বাস্তব হতো , যদি জিয়ার ঘোষনাতেই যুদ্ধ হতো তবে , জিয়া একজন সেনা অফিসার আর তার ঘোষনাতে বিশ্ব জানতো পূর্ব পাকিস্তানের সেনা বিদ্রোহ হয়েছে , তাই জাতিসংঘ শান্তি মিশন পাঠিয়ে বাঙালি সৈন্যের বিদ্রোহ দমন করতো । কিন্তু জিয়ার কোন যুগ্যতাই নাই যে তিনি সামরিক অফিসার হয়ে এমন ঘোষনা দিতে পারেন , তাইতো তিনি একটি ভাষনেই বারংবার জনগণের মান্ডেট পাওয়া নেতা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের” নাম উচ্চারণ করে জাতিকে বুঝাতে চেয়েছেন এই দাবি জনগণের , আর আমরা সামরিক অফিসার জনগণের পক্ষে কাজ করছি । তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হচ্ছে বঙ্গবন্ধু , তারই যোগ্যতা আছে এমন সিদ্ধান্ত দেবার । তার (শেখ সাহেবের) সিদ্ধান্ত মানেই জনগণের অধিকার, আর তাতেই বিশ্ব নেতাদের স্বীকৃতি !!

Collected from Google ☆

Categories
History

স্বাধীনতার ঘোষণা।

বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে যাতে বিশ্ববাসী ঘোষণাটি বুঝতে পারেন।

স্বাধীনতা ঘোষণার বাংলা অনুবাদ: “ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহব্বান জানাইতাসি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাড়াও সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়।

(বাংলাদেশ গেজেট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ৩রা জুলাই , ২০১১)

লেখনীতে : মাহিম।

ইতিহাসের কথার সাথে জয়েন হতে পারেন টেলিগ্রামে।

Telegram Channel link :
t.me/itihasherkotha

Telegram Group link :
t.me/itihasherkothagroup

Personal Kotha Account :
https://link.kotha.app/app/user/preview/34b9f1caj

ধন্যবাদ♡

Categories
History

বাংলায় শাসন ও শাসনকাল।

দুঃখিত কথাবাসী, রিভিউ আনতে একটু দেরি হওয়াতে। ইনশাল্লাহ এখন থেকে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করবো।

বাংলায় শাসন ও শাসনকাল :

আর্য : খ্রিস্টপূর্ব যুগে।
মৌর্য : ৩ শতকে।
গুপ্ত : ৪ শতকে।
রাজা শশাঙ্ক : ৭ম শতকে।
পাল : ৮ম শতকে।
সেন : ১১ শতকে।
এখতিয়ার উদ্দিন
মোঃ বিন
বখতিয়ার খিলজি :১২০৪ -১২০৬ খ্রিস্টাব্দে।
মোঘল : ১৫৩৮ সালে।
ইংরেজ : ১৭৫৭-১৯৪৭।

Reviewer : Nit Mahim
Photo : Collected From Pinterest
( Pinterest Link : https://www.pinterest.com/its_me_nitmahim/ )

ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং কথাকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিন। আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যুক্ত হতে পারেন।

Telegram Channel : t.me/itihasherkotha
Telegram Group Link : t.me/itihasherkothagroup

Personal kotha Account :
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার।

১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তিনটি জাহাজে চড়ে আমেরিকার বাহামাস দ্বীপে পৌঁছান । সরল আদিবাসীরা তাদেরকে অতিথি হিসেবে স্বাগত জানান। কলম্বাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ মেরামতও করে দেন তারা।

অভ্যর্থনা জানাতে আসা আদিবাসীদের দেহে অলঙ্কার দেখে কলম্বাস অনুমান করেন আশেপাশের কোথাও স্বর্ণের খনি রয়েছে। আদিবাসীদের সরলতা কলম্বাসকে মুগ্ধ করে এ জন্য যে, তিনি খুবই কম পরিশ্রমে ওই ভূখণ্ডের সব কিছু নিজের দখলে নিতে পারবেন। তিনি আমেরিকার মূল মালিক আদিবাসীদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা পাকাপোক্ত করেন এবং স্পেনে গিয়ে আরও এক হাজার দুইশ’ ইউরোপীয়কে সঙ্গে নিয়ে আসেন। শুরু হয় নির্মমতা, চলে গণহত্যা। কলম্বাস বাহিনী হিস্পানিওলা দ্বীপের একটি প্রদেশে ১৪ বছরের উপরের সব আদিবাসীকে তিন মাস পরপর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বর্ণ জমা দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন। এই নির্দেশ মানতে যারাই ব্যর্থ হতো তাদেরই দুই হাত কেটে ফেলা হতো। হাত কাটার পর তারা রক্তপাতে মারা যেত। অনেকে বাঁচার জন্য পালানোর চেষ্টা করতো। তাদেরকে হিংস্র কুকুর দিয়ে খুঁজে বের করে নির্মম অত্যাচারের মাধ্যমে মেরে ফেলা হতো। হিস্পানিওলা দ্বীপে বসবাসকারীরা ছিল আরাওয়াক গোত্রের। অনেক ঐতিহাসিকের মতে,কলম্বাসের নেতৃত্বাধীন ইউরোপীয় বাহিনীর নির্মমতা সইতে না পেরে ৫০ হাজার আদিবাসী বিষ খেয়ে গণ-আত্মহত্যা করেছিলেন। মায়েরা তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতেন যাতে ইউরোপীয়রা ওই বাচ্চাদেরকে কুকুরের খাবারে পরিণত করতে না পারে। এরপরও যারা বেঁচে ছিলেন তাদেরকে দাসে পরিণত করেন কলম্বাস।

কলম্বাসের সময়ের কিছু নির্মমতার ইতিহাস উঠে এসেছে তার নিজস্ব জার্নাল ও চিঠিতে। আরও তথ্য পাওয়া যায় স্পেনের ঐতিহাসিক বার্তোলমে দা লাস কাসাস এর লেখা ‘হিস্টোরি অব দ্য ইন্ডিজ’ গ্রন্থে। তিনি লিখেছেন, কলম্বাস বাহিনী তাদের ছুরি ও তলোয়ারের ধার পরীক্ষা করার জন্যও আদিবাসীদের টুকরো টুকরো করে কাটতো, নিষ্পাপ শিশুদের শিরচ্ছেদ করতো। কলম্বাস যাদেরকে রেড ইন্ডিয়ান বলে নামকরণ করেছিলেন সেই আদিবাসীদের একটা বড় অংশকে নিশ্চিহ্ন করার পর ইউরোপীয়রা নিজেদের বিলাসী জীবন নিশ্চিত করতে একদল সেবকের প্রয়োজন বোধ করে। তারা আফ্রিকা মহাদেশে গিয়ে মানুষ ধরে আনতে শুরু করে। এভাবেই আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের আগমন। তারা স্বেচ্ছায় আমেরিকায় আসেননি, জোর করে ধরে আনা হয়েছে।

বিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ লেখক অ্যালেক্স হেলি আমেরিকায় তার নিজের প্রথম পূর্বপুরুষের অনুসন্ধানে ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছিলেন। সেই গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে লেখা ‘রুট্স: দ্য সাগা অফ এন অ্যামেরিকান ফ্যামিলি’ বইয়ে আফ্রিকা থেকে মানুষ ধরে আনার কিছু ঘটনার প্রামাণ্য বর্ণনা রয়েছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণার পর জানতে পারেন আমেরিকায় তার প্রথম পূর্বপুরুষের নাম কুন্তা কিন্তে। (দ্যা রুটস) নামে দীর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। গাম্বিয়া থেকে কুন্তা কিন্তে-কে ধরে নিয়ে আসে ইউরোপীয়রা। কুন্তা কিন্তে’র আমেরিকায় পৌঁছার খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন অ্যালেক্স হেলি। কুন্তা কিন্তে জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে ইউরোপীয়দের অনুচরদের মাধ্যমে অপহৃত হন। এরপর তার আত্মীয়-স্বজনেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। ১৭৬৭ সালে এক ইউরোপীয় দাস ব্যবসায়ী অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে গাম্বিয়ার যে ১৪০ জন মানুষকে জাহাজে করে আমেরিকায় নিয়ে এসেছিল তার মধ্যে কুন্তা কিন্তেও ছিলেন। জাহাজটি অ্যানাপোলিসের বন্দরে এসে থামে। অ্যানাপোলিস বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত। আমেরিকায় পৌঁছার আগেই পথে নির্মমতায় মারা যায় ৪২ জন গাম্বিয়ান। বেঁচে যাওয়া ৯৮ জনের একজন হলেন কুন্তা কিন্তে। তিনি ছিলেন মুসলমান।

অথচ কলম্বাসের আগেও অনেকে আমেরিকা গিয়েছিলেন। অনেক মুসলিম নাবিকও আমেরিকা গিয়েছিলেন তার প্রমান রয়েছে কিন্তু তাদের কারো চিন্তায়ই কলম্বাসের মতো এমন বর্বরতা ঢোকেনি। কিন্ত ইতিহাস কত নির্মম। ৫০০ বছর পরে হলেও ইতিহাসে মহাবীর হিসেবে জায়গা করে নেয়া কলম্বাস আজকে বর্বর, নির্মম, পাষণ্ড হিসেবে তার চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জায়গা নেয়া তার ভাষ্কর্য আজকে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। স্বৈরাচার, বর্বরদের ইতিহাস কখনো ক্ষমা করে না। আজ না হোক কাল, মৃত্যুর পরে হলেও জনগণ তাদের গলায় দড়িবেধে ইতিহাসের কাঠগড়ায় হাজির করবে। ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার জ্বলন্ত উদাহরণ।

রিভিউয়ার : মাহিম
তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া
ছবি : google

পার্সোনাল কথা একাউন্ট :
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
NIT MAHIM♡

Categories
History

সফলতার জন্য বয়স শুধুমাত্র একটা সংখ্যামাত্র।

ছোটোবেলা থেকে ইন্ডিয়ান চ্যানেল গুলোতে প্রায়শই চোখে পড়তো BIG BAZAR , FOOD BAZAR এর এডভার্টাইসমেন্ট। কিন্তু কখনোই জানা হয় নি যে কোম্পানিগুলোর সফলতার পিছনে কারণ কি। চলুন আজ জেনে আসা যাক।

কিশোর বিয়ানী। জন্ম : ০৯ই আগস্ট ১৯৬১ ভারতের রাজস্থানে। কিন্তু উনি গ্রাজুয়েশন করেন মুম্বাইয়ের HR College of Commerce থেকে। উনার পিতা চেয়েছিলেন যে কিশোর পড়াশুনা করে নিজেদের পৈতৃক ব্যবসাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

কিন্তু কিশোর যে ভারতের রিটেল ব্যাবসার এত বোরো নাম হয়ে উঠবেন …. এটা হয়তো উনার পিত কোনোদিন কল্পনা করেননি।

রিটেলিং ব্যাবসাতে নিষ্ঠা আর ভারতীয় খরিদ্দারদের চিন্তাধারার উপরে ভালো দখল রাখা কিশোর আজ ১০০ কোটি ডলার মূল্যের ” ফিউচার গ্রুপ ” এর সিইও।

উনার প্রথম রিটেল প্রজেক্ট ছিল ” প্যান্টালুন “….যেটার সূত্রপাত হয় ১৯৯৭ সালে প্রথম আউটলেট স্থাপনার মাধ্যমে হয়েছিলো । তারপর আর কিশোর কখনো পেছন ফিরে দেখেনি আর উনি গোটা দেশে এক এক করে বেশ কিছু স্টোর্স খোলেন। যেগুলো হলো :

#Big Bazar

#Food Bazar

#brand Factory Central

#Home Town

#E-Zone.

এসবের মাধ্যমে বিশেষত বিগ বাজারের মাধ্যমে তিনি বিজয়ের পতাকা উড়ান।

উনি নিজের ব্যাবসাতে ঝুঁকি উঠাতে একেবারেই ভয় পান না। উনি এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন , “ভারতে সুযোগের কোনো অভাব নেই। কিন্তু এইটা হচ্ছে ঠিক হিন্দি সিনেমার মতো … যেখানে কেও সফল হয় আর কেউ ব্যর্থ ! ”

এখন পর্যন্ত উনি দু ডজনেরও বেশি ব্যাবসায়িক ফরম্যাটস শুরু করেছেন …. যেগুলোর মধ্যে “মেলা “আর “ফ্যাশন স্টেশন ” ব্যর্থ হয়েছে। উনি তৎক্ষণাৎ সেই সব প্রজেক্ট বন্ধ করে দিয়েছেন ।

উনি এমনটা বলেন – ” ব্যর্থতার অর্থ এই নয় যে আপনি কোনো কাজের নন … বরং ব্যর্থতার অর্থ হচ্ছে এটা যে আপনার সফল হওয়া এখনো বাকি আছে। ”

অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে ব্যাবসার ক্ষেত্রে শিখরে কিভাবে পৌঁছানো যায় … সেটা কিশোর বিয়ানীর কাছে শেখা যেতে পারে।

রিভিউয়ার : মাহিম
ছবি : পিন্টারেস্ট থেকে কালেক্টেড।
তথ্যসূত্র : পাওয়ার অফ পসিটিভ থিংকিং।

পার্সোনাল কথা একাউন্ট :
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

কেমন লাগল কমেন্ট করে জানাবেন। ভালো লাগলে শেয়ার করুন। কথাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন।

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

পঞ্চাশের দশকের মেডিকেল ব্যারাক।

গত সাত পর্বের একুশে ফেব্রুয়ারী দিনটির সম্পর্কের আলোচনায় অনেকবার ব্যারাক / মেডিকেল ব্যারাক শব্দটি ব্যবহার হচ্ছে। তার জন্যই আজকে এই পোস্টটি। আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনারা ধারণা পাবেন সেই সময়কার বারাকগুলো কেমন ছিল।

পঞ্চাশের দশকে মেডিকেল ব্যারাক(হোস্টেল) দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেনিরুক্ত বিশেষ কর সংকট ও সংগ্রামের প্রধান প্রধান বিন্দুতে বিশেষ ভূমিকা নিতে পেরেছিল। সেই ইতিহাস বিস্মৃতির বালিচাপা পড়ে আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। ভাষা আন্দোলনের ইতিকথায় স্ববিস্তারে ব্যারাক প্রসঙ্গ এঁকে তোলার এটাও একটি কারণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেডিকেল ছাত্রদের জন্য ইতিহাসের কিছু রূপরেখা চিহ্নিত করে রাখা।

কিন্তু তাদের সেই গর্বিত ঐতিহ্য স্মরণ কোর্ট গিয়ে মনে হয় : মেডিকেল কলেজ ছাত্র-রাজনীতির সেই সুর যেন আগের মতো আদর্শ নিষ্ঠা নিয়ে এখন আর ফুটে উঠে না। স্বভাবত : রাজনীতি এখন ঘোলা পানি। অনেকের জন্যেই মাছ ধরার চমৎকার উৎস।

এর জন্য অবশ্য এরা দায়ী নন। দায়ী পরিবেশ, দায়ী নীরক্ত আদর্শ ও বহুধা বিভক্ত দলীয় রাজনীতির কোন্দল আর প্রভাব এবং সেই সঙ্গে লোভন ইশারা। শুদ্ধ আদর্শের প্রবল আকর্ষণ এখন বহুকেন্দ্রিক বৃত্তের টানে লক্ষভ্রষ্ট।

তবুও এদের উপরেই ভরসা করেছিলাম ,করছি আর ভবিষ্যতেও করবো।

কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করে সকলকে জানার সুযোগ করে দিন।

রিভিউয়ার : মাহিম।
ছবি : পিন্টারেস্ট থেকে নেয়া। লিংক _ : https://www.pinterest.com/its_me_nitmahim/

ইতিহাস সম্পর্কিত যেকোনো আলোচনা করতে আমাদের সাথে টেলিগ্রামে জয়েন হতে পারেন।

চ্যানেল লিংক : t.me/itihasherkotha
গ্রুপ লিংক : t.me/itihasherkothagroup

My personal kotha account :
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

একনজরে ইতিহাসের কথা।

গত সাত পর্বের আলোচনার নাম ছিল একুশে ফেব্রুয়ারী। তথ্য সমূহ কালেক্ট করা হয়েছে আহমদ রফিকের লেখা “একুশের ইতিহাস আমাদের ইতিহাস” নামক বইটি থেকে। সাত পর্বের মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চেয়েছিলাম ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী সারাদিন ঠিক কি হয়েছিল। আশা করি সকলেই আলোচনাটি পড়লে এই ব্যাপারটি সম্বন্ধে একটা পরিপূর্ণ ধারণা পাবেন।

অনেকেই হয়তো আলোচনাটি পড়েছেন, আবার অনেকে দুএকটি আলোচনা মিস করে গেছেন। যারা মিস করেছেন তাদের জন্যই আজকের এই পোস্টটি। আশা করি সবগুলো আলোচনা পড়বেন। তাহলে একদম শুরু থেকেই শুরু করি

#৩
নাম : একুশে ফেব্রুয়ারী।
পর্বের সংখ্যা : ৭

প্রথম পোস্ট টাইটেল : সূর্য বিস্ফোরণের দিন।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f2e21c133d50e0012c587dd

দ্বিতীয় পোস্ট টাইটেল : আমতলায় ছাত্রসভা।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f30c5e8c5e48a0012a96071

তৃতীয় পোস্ট টাইটেল : ওরাও প্রস্তুত।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f3366cf33d50e0012c5a3b9

চতুর্থ পোস্ট টাইটেল : চলো অ্যাসেম্বলি ভবন।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f3605f133d50e0012c5b032

পঞ্চম পোস্ট টাইটেল : এম এল এ নাজেহাল।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f3e337d41da570013fbd2d2

ষষ্ঠ পোস্ট টাইটেল : নেতৃত্বহীন লড়াই ; লড়াইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত চেহারা।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f40dde344ccff0013131ce3

সপ্তম পোস্ট টাইটেল : ব্যারাকে গুলিবর্ষণ ; অভাবিত ঘটনা।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f437bbb41da570013fbf287

এ সম্পর্কিত আরো একটি পোস্ট ;

টাইটেল : শহীদ মিনার ; স্মৃতির মিনার।
রেটিং : ৭৭
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5ef038d24e051c00125afb1b

আমাদের ইতিহাসের কথার সর্বপ্রথম পোস্ট :

টাইটেল : বন্দিদশা হতে ফিরে বঙ্গবন্ধুর চারটি অমূল্য ও চিরস্থায়ী অবদান।
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5ed32bc6dd9f770012698033

আমাদের ইতিহাসের কথার সর্বোচ্চ রেটেড পোস্ট :

টাইটেল : মিশরীয় সভ্যতার অন্যন্য নিদর্শন গিজার গ্রেট পিরামিড।
রেটিং : ৮৭
লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5eec4f7b1ef9be0012b74cfb

ইতিহাসের কথার আগের ২টি পর্বভিত্তিক আলোচনার নাম ;

#২
নাম : প্রাচীন সভ্যতা
পর্বের সংখ্যা – ৯

#১
নাম : ইতিহাসের যা কিছু সর্বপ্রথম
পর্বের সংখ্যা – ৪

ইতিহাস সম্পর্কিত যেকোনো আলোচনা করতে চাইলে আমাদের সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবো।

টেলিগ্রাম চ্যানেল লিংক : t.me/itihasherkotha
টেলিগ্রাম গ্রুপ লিংক : t.me/itihasherkothagroup

রিভিউয়ার : মাহিম।
পার্সোনাল কথা একাউন্ট লিংক : https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

ব্যারাকে গুলিবর্ষণ ; অভাবিত ঘটনা।

একুশে ফেব্রুয়ারী পর্ব – ৭ (শেষ পর্ব) || আপনি চাইলে পূর্বের পোস্টটি এই লিংকে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন।

লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f40dde344ccff0013131ce3

বেলা প্রায় সাড়ে তিনটার মধ্যে টিয়ারগ্যাস হাঁকানোর ভিতর দিয়ে ক্ষিপ্ত পুলিশ ছাত্রদের শাহেস্তা করতে ছুটে এলো। উপরতলার হুকুম তামিল করতে ঢুকে পড়লো ব্যারাকের গেট দিয়ে ভেতরকার রাস্তায়। তারপর কয়েক রাউন্ড গুলি ব্যারাকের ভেতর দিক, আর কয়েক রাউন্ড খেলার মাঠের জনতাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হলো।

এতক্ষন ধরে টিয়ারগাসের শেল ফাটছে ফটাস ফটাস শব্দে। অতি দুঃসাহসী দুএকজন ব্যারাকবাসী শেল তুলে ফের ছুঁড়ে মেরেছে পুলিশ এর দিকে। ছাত্ররা ভাবতে পারেনি, পুলিশ গুলি চালাতে পারে। তাই গুলির শব্দ শুনেও তারা ভেবেছে টিয়ারশেল ফাটছে।

কিন্তু ওসব শেল ফাটা বা ফাঁকা আওয়াজ নয় তা বোঝা গেলো চোখের সামনে একজনকে পড়ে যেতে দেখে, তাকে রক্তাক্ত হয়ে উঠতে দেখে। এরকম আরো দেখা গেলো প্রাঙ্গনের ঘাসে ও শেডের বারান্দায়। ছাত্ররা তখন শেডের ফাঁকে ফাঁকে বা গাছের আড়ালে দাঁড়ানো।

দুপুর গড়িয়ে বেলা তখন কয়টা? এ প্রশ্নের জবাব সঠিকভাবে দেওয়া যায় না, কেউ দিতে পারেনি এ পর্যন্ত। এমন উত্তেজক লড়াইয়ের ময়দানে, এমন উত্তেজক লড়াইয়ের ময়দানে, এমন হৈ-হৈ ছুটোছুটির মদদ কেউ ঘড়ির দিকে তাকায় না। তবে সময়ের হিসাব নিয়ে পরে ঠান্ডা মাথায় বিচার-বিবেচনা করে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণের সময় সম্ভবত : ঘড়ির তিনটার ঘরের কিছুটা আগে পেছনে।

একুশে ফেব্রুয়ারী পুলিশ এর গুলিবর্ষণ এবং ব্যারাক প্রাঙ্গনের বিস্ফোরক মুহূর্তটি কেন জানি হঠাৎ করেই আমাদ টেনে নিয়ে যায় এই মেডিকেল ব্যারাকের রাজনৈতিক অতীতে। সেই রাজনৈতিক অতীত বিচারে স্বভাবতই মনে হয় ব্যারাক প্রাঙ্গনে এই রক্তঝরা বিস্ফোরক পরিণতি অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ যেন অতীত রাজনীতিরই এক পরিণত রূপ যা সময়োচিত বাস্তবতার মূর্ত হয়ে উঠেছে।

কেমন লাগলো আজকের আলোচনা তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারী এর ৭ পর্বের কয়টি পড়েছেন এবং সাতটি পর্ব কেমন ছিল তাও জানাবেন। আমরা এই সাত পর্বের মাধ্যমে ২১শে ফেব্রুয়ারী দিনটিতে ঠিক কি হয়েছিল তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

Reviewer : Nit Mahim
Photo : Collected from Google

Personal Kotha Account :
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

নেতৃত্বহীন লড়াই, লড়াইয়ের স্বতস্ফূর্ত চেহারা।

একুশে ফেব্রুয়ারী || পর্ব ৬ ; আপনি চাইলে পূর্বের পোস্টটি এই লিংকে ক্লিক করে পরে আসতে পারেন।

লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f3e337d41da570013fbd2d2

দুপুর গড়িয়ে চলেছে তবু লড়াই শেষ হবার কোনই লক্ষণ নেই। টিয়ার গ্যাসের মাত্রা বোরন বেড়েই চলেছে। আর ছাত্রদের দিক থেকেও পাল্টা জবাব। বেলা গড়ানোর সাথে সাথে রাস্তায় জনসংখ্যাও বেড়ে উঠছিলো। আর পুলিশের দিক থেকে ধৈর্যচ্যুতি ঘটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিলো তাদের পক্ষ থেকে অবিরাম কাঁদানে গ্যাস বর্ষণের এবং ব্যারাকের মধ্যে ঢুকে লাঠিচার্জ করার প্রবণতা বেড়ে উঠার মধ্যে।

তা সত্ত্বেও ব্যারাকের বাইরে ও ভেতরে ছাত্রদের প্রতিবাদ প্রতিরোধ ক্রমেই জোরালো হতে থাকে। অনমনীয় ছাত্রদের প্রাণপণ চেষ্টা, যেভাবেই হোক পরিষদ ভবনে পৌঁছানো। আর পুলিশের চেষ্টা, লাঠি-টিয়ার গ্যাস ইত্যাদির সাহায্যে সেই চেষ্টায় বাধা দেয়া।

সেদিনকার এ লড়াই-প্রচেষ্টার যে একটি সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় হওয়া সত্ত্বেও এ পর্যন্ত কারো লেখায় পরিস্ফুটন হয়ে উঠেনি তা হলো সংগ্রামী ছাত্র-জনতা তথা ভাষা সৈনিকের সামনে দলপতির বা নেতৃত্বের অনুপস্থিতি। ঘন্টা বেজে চলেছে, তবু সেই বিস্ফোরক সময় কাজে লাগানোর মতো নায়ক, ছাত্র-জনতাকে সুসংবদ্ধ করে এগিয়ে নিয়ে যাবার মতো কোনো নেতাই সেখানে উপস্থিত ছিল না। ছিল না তোহায়া, মতিন, অলি, আহাদ, ইমাদুল্লাহ, সোলতান বা অন্য কেউ। ছিল না গোলাম মাহবুব বা জাহেদী। সংগঠকদের প্রধান অংশের এ ভুল অস্বীকারের উপায় নেই কোনো।

তাদের অনুপস্থিতিতে সংঘবদ্ধ মিছিল নিয়ে পরিষদ ভবন ঘেরাও এর চেষ্টা এভাবে গোড়াতেই নষ্ট হয়ে গেলো। একুশে ফেব্রুয়ারির ঐ সময়ে আমাদের চলমানতা যেমন স্বতঃস্ফূর্ত, তেমনি শৃঙ্খলার অভাবে দুর্বল। লড়াইয়ের এই বৈশিষ্ট্য জয় এর বৈশিষ্ট্য নয়। গড়ানো দুপুরে সক্রিয় ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের মতো করেই লক্ষে পৌঁছাবার চেষ্টা করেছে। সে সময় তাদের পাশে ও পেছনে ছিল কিছু সংখ্যক অছাত্রজনতা। ওরা কখন এলো, কিভাবে এলো আমরা জানি না। ফুলার রোডের গুটিকয় দোকান ও হোটেল-রেস্তোরার কর্মচারী ও বয় বাবুর্চি নিয়ে এতটা জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।

কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করুন। “একুশে ফেব্রুয়ারী” এর ৭ পর্বের আলোচনা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

রিভিউয়ার : মাহিম।
ছবি : পিন্টারেস্ট থেকে নেয়া।

ইতিহাস সম্পর্কিত যেকোনো কিছু জানতে বা জানাতে চাইলে নিম্নোক্ত লিংকে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা সর্বদা আপনাদের পাশেই থাকবো।

Telegram Channel : t.me/itihasherkotha
Telegram Group : t.me/itihasherkothagroup
Gmail : [email protected]
Instagram : www.instagram.com/_______badboy__
Facebook : https://www.facebook.com/nit.mahim
Twitter : https://mobile.twitter.com/hydrogen__boom_
Facebook Page : https://www.facebook.com/kothon.official.24/
Pinterest Account : https://www.pinterest.com/its_me_nitmahim/
Pinterest’s Pin : https://pin.it/2oUfs93
Personal Kotha : https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

এম এল এ নাজেহাল।

একুশে ফেব্রুয়ারী || পর্ব – ৫ ; আপনি চাইলে পূর্ববর্তী পোস্টটি এই লিংক এ ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন।

লিংক :

https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f3605f133d50e0012c5b032

ব্যবস্থাপক সভার বাজেট অধিবেশনের বেশ আগে থেকেই পুলিশের সাথে ছাত্র-জনতার সংঘর্ষ আবার নতুন করে শুরু হয়ে গেছে। বলা যায়, এটা খণ্ডযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়। এবার রণস্থল মেডিকেল ব্যারাক ও সামনের রাস্তা।

ব্যারাকের প্রধান গেটের সামনে একটি পাল্লা হা করে খোলা। এই মুক্ত পথে ঢেউয়ের মতো ছাত্র-জনতা একবার বেরিয়ে যাচ্ছে, পরক্ষণেই পুলিশের তাড়া ও লাঠির ঘায়ে ফিরে আসছে। কয়েকটা টিয়ারগ্যাসের শেল হাসপাতাল প্রাঙ্গনে পড়ায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ অভিযোগ জানায় পুলিশের বিরুদ্ধে।

এরই মধ্যে মেডিকেল কলেজের কিছু তরুণ ছাত্র কয়েকজন এম এল এ কে ধরে নিয়ে আসে যাদের মধ্যে একজন মানিকগঞ্জের আওলাদ হোসেন ও রাজা মিয়া।
তরুণ ছাত্রদের দাবি পূরণের কথাবার্তার ফাঁকে রাজা মিয়া এক সময় সরে পড়েন। তাই প্রৌঢ় আওলাদ হোসেনকে নিয়ে আসা হয় ব্যারাকের দক্ষিণ প্রান্তে ছয় নম্বর শেডের সামনে। ধর্মগ্রন্থের শপথ নিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে রাজি হবার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কাঁপতে কাঁপতে চলে যান আওলাদ হোসেন।

অন্য আরেক গ্রুপ ছাত্রমন্ত্রী হাসান আলীর গাড়ি আটক করে, পেছন থেকে ছোট ছোট ছেলে ঢিল ছুড়ে গাড়ির কাঁচ ভাঙে। যাত্রী সামান্য আহত হলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এমনি আরো কয়েকজন এম এল এ র পথরোধ করা হয়, দু’একজনকে ব্যারাকের ভেতরে নিয়ে আসা হয়, এবং এর মধ্যে জনা দুই তিন কংগ্রেস সদস্য ও ছিলেন। এলিস কমিশনের তদন্ত রিপোর্টে কিন্তু অন্যায়ভাবে সব দোষই ছাত্রদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়।

কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করুন। “একুশে ফেব্রুয়ারী” এর ৭ পর্বের আলোচনা জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

রিভিউয়ার : Nit Mahim
ছবি : collected from pinterest.

ইতিহাস সম্পর্কিত যেকোনো কিছু জানতে বা জানাতে নিম্নোক্ত সোশ্যাল লিংকে যোগাযোগ করতে পারেন।

Pinterest : https://www.pinterest.com/its_me_nitmahim/

Telegram channel : t.me/itihasherkotha
Telegram Group : t.me/itihasherkothagroup

Personal kotha Account :
https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

চলো অ্যাসেম্বলি ভবন।

একুশে ফেব্রুয়ারী ; পর্ব – ৪ || আপনি চাইলে পূর্বের পোস্টটি এই লিংকে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন।

লিংক :

https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f3366cf33d50e0012c5a3b9

ধুলো, ঘাম, ধোঁয়া, চিৎকার, শ্লোগান আর বাতাসে ভাসা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ এলাকার চেহারাই পাল্টে দিলো। শুরু হয়ে গেছে এক ধরণের অসম খণ্ডযুদ্ধ। ঢিল বনাম টিয়ার গ্যাস। বাইরে রাস্তায় সেই সঙ্গে লাঠিচার্জের অতিরিক্ত পাওনা। কিছুক্ষনের মধ্যেই আমতলা প্রায় শুন্য। মধুর ক্যান্টিনে তখনো দু চার জনকে দেখা যাচ্ছে। ওদিকে চেয়ে শেষ কয়েকজন ছাত্র দেয়াল টপকে ওপারে চলে গেলো। সেদিন আমতলা থেকে বেরিয়ে যাবার একই লক্ষ্য : চলো অ্যাসেম্বলি ভবন। আমতলা থেকে মেডিকেল ব্যারাক হয়ে বা না-হয়ে পরিষদ ভবনে পৌঁছানো, উদ্দেশ্য পরিষদ ভবন ঘেরাও।

কিন্তু কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। প্রতি পদক্ষেপে বাধা। তাই খণ্ডযুদ্ধ বেশ জমজমাট হয়ে উঠলো যখন বিভিন্ন পথে ছাত্ররা ব্যারাক প্রাঙ্গনে এসে জমায়েত হতে শুরু করেছে, এসে পড়েছে ফুলার রোডের বুকে হাসপাতালের গেট বরাবর। পলিসি কিন্তু চুপচাপ কলাভবনের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেনি। ওরাও দ্রুত এসে এদিকেই অবস্থান নিতে শুরু করেছে। অর্থাৎ সংঘর্ষ কলাভবনের সামনে থেকে মেডিকেল ব্যারাকের সামনের রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে টিয়ার গ্যাসের অত্যাচার জবা ফুলের মত টকটকে লাল চোখের আবেদনে সাড়া দিতে গিয়ে সেবিকাদের হাত দিয়েই ইমার্জেন্সির “লিকুইড পারফিন” এর রিসার্ভ স্টক পর্যন্ত শেষ।

কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করুন। :একুশে ফেব্রুয়ারী” র ৭ পর্বের আলোচনা জানতে আমাদের সাত থাকুন।

Reviewer : Nit Mahim
Photo : Collected from Pinterest.

Pinterest link : https://www.pinterest.com/its_me_nitmahim/

আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে টেলিগ্রামে জয়েন হতে পারেন। আমরা সর্বদা আপনার পাশে থাকবো।

Telegram Channel : t.me/itihasherkotha
Telegram Group : t.me/itihasherkothagroup

Personal Kotha Account :

https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡

Categories
History

ওরাও প্রস্তুত।

একুশে ফেব্রুয়ারী ; পর্ব – ৩ || আপনি চাইলে পূর্বের পর্বটি এই লিংকে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন।

লিংক : https://link.kotha.app/app/feed/preview/5f30c5e8c5e48a0012a96071

আমতলার সভা শেষে এবার বেরিয়ে যাবার পালা।পালা প্রাঙ্গনে সাজ সাজ রব। কে কার আগে বেরুবে সেই চিন্তা। শ্লোগানে শ্লোগানে আমপাতার ঠান্ডা মুখেও উত্তাপ।

বাইরে সুসজ্জিত পুলিশ অবস্থা সামলাতে পারছে না। এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া সবাইকে ধরতে না পারলেও অনেককেই তুলে নেয়া হচ্ছিলো অপেক্ষমান ট্রাকে।

এতক্ষন পর সত্যি শুরু হয়ে গেলো বিশৃঙ্খলা। একসঙ্গে অনেকে বেরুতে চাইছে, বেরিয়ে পড়ছে। ওরাও তাল সামলাতে না পেরে শুরু করেছে চিরাচরিত পুলিশি ব্যবস্থা লাঠিচার্জ। সেই সঙ্গে কাঁদানে গ্যাস। এদিক থেকে স্কুলের ছোট ছোট ছেলেরা পাল্টা জবাব দিচ্ছে একপাশে জমা করে রাখা খোয়ার স্তুপ থেকে ইট-পাটকেল বৃষ্টির সাহায্যে। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটছে। আরো দ্রুত। কলাভবন প্রাঙ্গন, আমতলা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। এতটা প্রতিরোধ আশা করেনি শান্তি রক্ষকের দল। তাই গ্যাসের পর গ্যাস শেল নামছে। চলছে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে মারার আর লাঠিচার্জের ধুমধাড়াক্কা। রেগেমেগে ক্রমাগত টিয়ার গ্যাস ছুঁড়ে ছুঁড়ে ওরা বাতাস বিষাক্ত করে ফেললো। ছেলেরা ছুতে নামছে বেলতলার ডোবায় রুমাল ভিজিয়ে নিতে। কেউ ছুটছে দক্ষিণ দিকে রেল লাইন ধরে। সামনে রাস্তার উপর থেকে অনেকেই সামনে এগুতে না পেরে তারের বেড়া ডিঙিয়ে একেবারে খেলার মাঠে। এরই মধ্যে বাতিব্যস্ত পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে ছোট্ট একটি দল মিছিলের মতই ছুটে চলেছে, বলা যায় ধেয়ে চলছে মেডিকেল কলেজ গেটের দিকে। মাথা ঠান্ডা কয়েকজন মধুর ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে ভাঙা পাঁচিল ডিঙিয়ে একেবারে সটান হাসপাতাল প্রাঙ্গনে।

রিভিউতে : মাহিম।
ছবি : পিন্টারেস্ট থেকে কালেক্টেড।

কেমন লাগলো আশা করি কমেন্টে জানাবেন। ৭ পর্বের “একুশে ফেব্রুয়ারী” আলোচনাটি জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

পার্সোনাল কথা একাউন্ট :

https://link.kotha.app/app/user/preview/34bjz5jf4

ধন্যবাদন্তে
Nit Mahim♡