Categories
Sports

তারিখ ১৮-৬-২০২০ (বৃহস্পতিবার)

টেলিভিশনের পর্দায় আজ যেসব খেলা দেখবেন:

১) লা লিগা

ক) দল: আলাভেস–সোসিয়েদাদ

সময়: রাত ১১:৩০

খ) দল: রিয়াল মাদ্রিদ–ভ্যালেন্সিয়া

সময়: রাত ২টা

সরাসরি সম্প্রচার: ফেসবুক লাইভ

২) ঘোড়দৌড় 

দলঃ রয়্যাল – অ্যাসকট 

সময়ঃ সন্ধ্যা ৬–৩০ মি.

সরাসরি সম্প্রচারঃ ইউরোস্পোর্ট

৩) ২০১৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

দল: বাংলাদেশ–হংকং

পুনঃ সম্প্রচার: স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

৪) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

 ক) দল: ম্যান সিটি–আর্সেনাল

সময়: বেলা ১১–৩০ মি.

পুনঃপ্রচার: স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

খ) প্রিমিয়ার লিগ ডেইলি

সময়ঃ সন্ধ্যা ৬টা

গ) ফ্যান জোন

সময়ঃ রাত ৮টা

সম্প্রচার: স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

৫) মডার্ন মার্ভেলস

জো রুট–২৫৪

সময়: বেলা ৩–৩০ মি

সম্প্রচার: সনি সিক্স

৬) ওয়ানডে সিরিজ

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১৫)

সময়: বেলা ৩টা

পুনঃপ্রচার: গাজী টিভি

Reviewer: Argha Majumder

https://www.prothomalo.com/sports/article/1663419/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%9C-%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%96%E0%A7%87%E0

Categories
Sports

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নামে লেখা কিছু বিশ্ব রেকর্ড

১) সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান:

২০০১ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছেন ১৭ বছর ৬৮ দিন বয়সী “মোঃ আশরাফুল”। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের “মুস্তাক আহম্মেদ” এর। ১৯৬১ সালে মাত্র ১৭ বছর ৭৮ দিন বয়সে ভারতের বিপক্ষে তিনি সেঞ্চুরি করেন।

২) সেঞ্চুরি ম্যাচে হ্যাটট্রিক:

এর আগে এমন রেকর্ডের সাথে পরিচিত ছিলেন না কেউই। মূলত অফ স্পিনার হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের “সোহাগ গাজী”।
৮ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বল হাতেও পরপর তিন বলে নিয়েছেন তিনটি উইকেট। যা ক্রিকেটের ১৪৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম।

৩) ১১০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার ইতিহাস:

দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বোলার হিসেবে কিন্তু ইতিহাস গড়েছেন ব্যাট হাতে। অনেকটা অবাক হওয়ার মতোই। ২০১২ সালে ডানহাতি পেসার “আবুল হাসান রাজু” টেস্টে অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন। খুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১১৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন তিনি। এর আগে ১৯০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান “রেজি ডাফ” অভিষেক ম্যাচে ১০২ রান করেছিলেন।

৪) একটানা ফিফটির রেকর্ড:

বর্তমান টেস্ট দলপতি “মমিনুল হক” টেস্টে অভিষেক হওয়ার পর টানা ১৩ টেস্টে খেলেছেন পঞ্চাশোর্দ্ধ ইনিংস। ১৪৩ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে যা বিরল। দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৬০ ডিগ্রী খ্যাত “এ বি ডি ভিলিয়ার্স” টেস্টে একটানা ১৩ ম্যাচে পঞ্চাশোর্দ্ধ ইনিংস খেলার রেকর্ড থাকলেও অভিষেকের পর মমিনুলের রেকর্ডটিই প্রথম।

৫) ১২৯ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার ইতিহাস:

অভিষেকে চমক দেখানোর তালিকায় আরো একজন বাঙালি ক্রিকেটার রয়েছে। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের অভিষেক টেস্টে ১৯ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার “মেহেদী হাসান মিরাজ”। তিনি পেছনে ফেলেছেন ১২৯ বছরের পুরনো রেকর্ড। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার “জেমস্ ফেরিস” এর দখলে। ১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৯ টি করে উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি
বোলার।

ক্রিকেটের এত সব রেকর্ডের মাঝে এই রেকর্ডগুলোও ইতিহাসের পাতায় লিখা আছে। আশা করছি আরো নতুন নতুন রেকর্ড ইতিহাসে লিখা হবে বাংলাদেশের নামে। সেই অপেক্ষায় আছি।😊

Reviewer: Argha Majumder. https://link.kotha.app/app/user/preview/34bh5smnf

Categories
Sports

সৌম্য সরকারের এগারো ওয়ানডে ফিফটি 💗

সৌম্য সরকার বাংলাদেশের একজন সম্ভাবনাময় তরুন ক্রিকেটার! সৌম্য সরকার এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ১১টি ফিফটি করেছেন যার মধ্যে ৮ ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতেছে! সৌম্য সরকার এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪টি, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২টি করে, এছাড়াও ভারতে, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১টি করে ফিফটি করেছেন।

প্রথম ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১৩মার্চ ২০১৫, হ্যামিল্টন। 

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ৩৭তম ম্যাচে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সৌম্য সরকার তার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১ম ফিফটি করেন! টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করছিল বাংলাদেশ! শুরুতেই দুই ওপেনার তামিম-ইমরুলকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে গেছিলো বাংলাদেশ! তারপর তৃতীয় উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সাথে গড়েন ৯০ রানের চমৎকার একটি পার্টনারশিপ! রিয়াদ ওই ম্যাচে তার ক্যারিয়ার সেরা ১২৮* রানের ইনিংস খেলেছিলেন! সৌম্য সরকার ৫৮ বলে ৭টি দৃষ্টিনন্দন চারের সাহায্যে ৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন! তবে সেই ম্যাচে নাটকীয় ভাবে ৩ উইকেটে হেরে গেছিলো বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১৮জুন ২০১৫, মিরপুর। 

ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ! বাংলাদেশকে ওই ম্যাচে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার! দুইজনে মিলে গড়েছিলেন ১০২ রানের পার্টনারশিপ! সৌম্য সরকার সেদিন ৪০ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৪ রান করে তামিমের সাথে ভূল বুঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে গেছিলেন! ম্যাচটাতে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশ জিতেছিল ৭৯ রানে।

তৃতীয় ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১২জুলাই ২০১৫, মিরপুর।

দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে হারার পর মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ! টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে সফরকারীরা ৪৬ ওভারে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে যায়! ১৬৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সৌম্যর টর্নেডো ইনিংসে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের বিশাল হার পায়! সৌম্য সরকার সেদিন ৭৯ বলে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন!

৪র্থ ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১৫জুলাই ২০১৫, মিরপুর! 

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ৪০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৮ রান সংগ্রহ করে দক্ষিন আফ্রিকা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য-তামিমের ঝোড়া ফিফটিতে ৯ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ! সেদিন প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিততে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ! সৌম্য সরকার ৭৫ বলে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১২০.০ স্ট্রাইক রেটে ৯০ রান করেন!

পঞ্চম ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১৭মে ২০১৭, ডাবলিন! 

আয়ারল্যান্ডে অনুষ্টিত ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে সৌম্য-মুশফিক-রিয়াদের ফিফটিতে ২৫৭ রান করেছিল বাংলাদেশ! তবে ম্যাচটি ৪ উইকেটে হেরে গেছিলো বাংলাদেশ! সৌম্য সরকার সেদিন ৬৭ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৯১.০৪ স্ট্রাইক রেটে ৬১ রান করেছিলেন!

ষষ্ঠ ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১৯মে ২০১৭, ডাবলিন।

আয়ারল্যান্ডে অনুষ্টিত ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার সেদিন ৬৮ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কায় ১২৭.৯৪ স্ট্রাইক রেটে ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন!

৭ম ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১৪ডিসেম্বর ২০১৮, সিলেট। 

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ! জবাবে ব্যাট করতে নেমে তামিম-সৌম্যের ঝোড়া ফিফটিতে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ! সৌম্য সরকার সেদিন ৮১ বলে ৫টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৯৮.৭৬ স্ট্রাইক রেটে ৮০ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন! ওই ম্যাচটা মাঠে বসে দেখেছিলাম! সৌম্যর বিশাল ছক্কাগুলো এখনো চোখে লেগে আছে।

অষ্টম ওয়ানডে ফিফটিঃ- ৯মে ২০১৯, ডাবলিন!

ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৫৯ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬১ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ! জবাবে ব্যাট করতে নেমে তামিম-সৌম্য-সাকিবের ফিফটিতে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ! সৌম্য সরকার সেদিন ৬৮ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৭.৩৫ স্ট্রাইক রেটে ৭৩ রান করেছিলেন!

নবম ওয়ানডে ফিফটিঃ- ১৩মে ২০১৯, ডাবলিন!

ত্রিদেশীয় সিরিজের ৫ম ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ! জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুশফিক-সৌম্যের জোড়া ফিফটিতে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ! সৌম্য সরকার ৬৭ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮০.৬০ স্ট্রাইক রেটে ৫৪ রান করেছিলেন!

দশম ওয়ানডে ফিফটিঃ-১৭মে ২০১৯, ডাবলিন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে টসে হেরে ব্যাটিং করে ২৪ ওভারে ১৫২ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ! বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় ২৪ ওভারে ২১০ রান! কঠিন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সৌম্য ২৭ বলে ফিফটি শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৬০.৯৮ স্ট্রাইক রেটে ৬৬ রান করেন! সৌম্য আউট হয়ে যাওয়ার পর মুসাদ্দেকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

এগারো তম ওয়ানডে ফিফটিঃ- ৩১ জুলাই ২০১৯, কলম্বো! 

ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ২৯৫ রানের টার্গেট দিয়েছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা! জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ! ওই ম্যাচে একমাত্র সৌম্য সরকার পঞ্চাশোর্ধ রান করতে পেরেছিলেন! সৌম্য সরকার সেদিন ৮৬ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৮০.২৩ স্ট্রাইক রেটে ৬৯ রান করেন!

Reviewer: Argha Majumder.

Categories
Sports

করোনার মধ্যেই সাত সপ্তাহের সফরে ইংল্যান্ডে পৌছালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল।

করোনায় দীর্ঘদিন স্থবির থাকা ক্রীড়াঙ্গনে এবার ইংল্যান্ড সফরে গেলো উইন্ডিজ। করোনার কারণে প্রায় গত তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে আগানোতে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা প্রস্তুতিও শুরু করেছে। ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড প্রস্তুতি ক্যাম্প করছে। এবার দীর্ঘদিন অনুশীলন করার পর আজ ইংল্যান্ডে গেলো উইন্ডিজের ক্রিকেটাররা।

সফরের আগে গত সপ্তাহে সকল ক্রিকেটার-কোচ-স্টাফদের করোনা টেস্ট করানো হয়েছে, যেখানে সকলেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। দুইটি ভাড়া করা চাটার্ড প্লেনে করে নিজ নিজ এলাকা থেকে ক্রিকেটারদের নিয়ে আসা হয় এন্টিগা এয়ারপোর্টে। এরপর আরেকটি ভাড়া করা চাটার্ড প্লেনে করে সেখান থেকে তারা ম্যানচেস্টারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। প্রায় ৮ ঘন্টার সফর শেষে ঘন্টা চারেক আগে তারা ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে পৌছায়। সেখানে তাদেরকে আবারো করোনা টেস্ট করা হবে। মূল দলের ১৪ জন ক্রিকেটার এবং ১৪ জন কোচিং স্টাফ এখন ম্যানচেস্টারে। যেখানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে তারা প্রথম টেস্টের জন্য সাউদাম্পটনে যাবে। কিছুদিন পরে রিজার্ভ ১১ ক্রিকেটারকেও ইংল্যান্ডে পাঠানো হবে।

পুরো সফরেই ‘বায়ো-সিকিউরড’ আবহাওয়ায় তাদের অনুশীলন এবং ভ্রমণ করানো হবে।

৮ জুলাই থেকে স্যান্ডালস উইজডেন ট্রফির প্রথম টেস্ট শুরু হবে সাউথাম্পটনের আগাস বোলে। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে আবারো ফিরে এসে ১৬-২০ জুলাই দ্বিতীয় ও ২৪-২৮ জুলাই তৃতীয় টেস্ট খেলবে দু’দল। প্রতিটি ম্যাচই দর্শকবিহীন মাঠে খেলা হবে। করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ক্রীড়াঙ্গনে এটাই হতে পারে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ।

Reviewer: Argha Majumder

Categories
Sports

২০২৩ বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেই অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন মাশরাফি।

মাশরাফি বিন মর্তুজা কোন সন্দেহ ছাড়াই তিনি দেশ সেরা ওয়ানডে অধিনায়ক। শুধু অধিনায়কই নন মাশরাফি ছিলেন ড্রেসিরুমের প্রাণভোমরা। তার নেতৃত্ব গুনে এখন বাংলাদেশ বড় প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে শিখেছে। ২০০৯ সালে ইনজুরিতে পড়ে মাশরাফি টেস্ট ছেড়েছেন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই। ২০১৭ সালে টি-টোয়েন্টিকে বিদায় বলেছেন । ওয়ানডে ক্রিকেটকেও এই বছর হুট করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ চলাকালীন সময়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক থেকে অবসর ঘোষণা দেন। এরপর সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ এবং অধিনায়ক হিসেবে ৫০তম জয় নিয়ে অধিনায়কত্ব থেকে অবসরের যান মাশরাফি।

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বদলে দেওয়া মাশরাফি কেন হঠাৎ অধিনায়ক থেকে অবসর নিলেন? সাম্প্রতি হুট করে নেতৃত্ব ছাড়ার কারণ জানিয়ে ক্রিকবাজকে এক সাক্ষাৎকারে মাশরাফি বলেন, 
“আগামী বিশ্বকাপের এখনো তিন বছর বাকি। এখন থেকেই বিসিবি একজন অধিনায়ককে নিয়ে পরিকল্পনা সাজাক। বোর্ড সবসময় তাদের সেরা অধিনায়ককেই চাইবে। এটা ভালো একটা সুযোগ ছিল (নতুন অধিনায়ক নির্বাচনের)। তামিম (তামিম ইকবাল) ইনশাআল্লাহ্‌ ভালো করবে, আমি খুব আশাবাদী। সাকিবও (সাকিব আল হাসান) বিবেচনায় থাকবে। তামিম ভালো না করলে বোর্ড অন্য কারও কথা ভাববে। বোর্ডের হাতে তাই অনেক সুযোগ আছে। বিশ্বকাপের আগে তিন বছর সময় হাতে পাচ্ছে বোর্ড। এসব ভেবেই আমি (নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর) সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

Reviewer: Argha Majumder

Categories
Sports

আকাশ চোপড়ার সময়ের সেরা একাদশে আছেন সাকিব আল হাসান।

তর্ক সাপেক্ষে তিনি বংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান কিংবা আলোচনা সাপেক্ষে দলের সেরা বোলার কিংবা ফিল্ডার! তাহলে তিনি কে? উত্তরে দিতে কারো কপালে ভাঁজ পড়ার কথা নয় কারো! নিসন্দহে উত্তর মিলবে বাংলাদেশের জান খ্যাত সাকিব আল হাসান!

সাকিব আল হাসান; বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ক্রিকেটের ২২ গজের নবাব, যেখানে চলে নবাবের নবাবী। দিনশেষে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনেক উপরে, নিজের নামটিকে তুলেছেন রেকর্ড বুকে। যদিও ফিক্সিং ইস্যুতে বর্তমানে রয়েছেন নিষেধাজ্ঞায়। তবে আলোচনা থেমে নেই সাকিবকে নিয়ে। বর্তমান কিংবা অতীতের পারফরম্যান্স এ বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার জায়গা করে নিচ্ছেন অনেকের পছন্দের একাদশে! ধারাবাহিক ভাবে ক্রিকইনফোর ড্রিম একাদশের পর সাকিব এবার জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার সময়ের সেরা একাদশে!।

সাকিব ছাড়াও এই একাদশে জায়গা পেয়েছেন ভারতীয় ৪ জন, ইংল্যান্ডের ২ জন, নিউজিল্যান্ড এর ২ জন, ওয়েষ্ট ইন্ডিজ এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ জনে করে!

আকাশ চোপড়ার চোখে সময়ের সেরা একাদশ:
রোহিত শর্মা, শাই হোপ, বিরাট কোহলি, রস টেলর, ইয়ন মরগান (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, বেন স্টোকস, মিচেল স্টার্ক, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ শামি, লকি ফার্গুসন।

আকাশ চোপড়ার এই একাদশে ওপেনার হিসেবে তিনি নিয়েছেন রোহিত শার্মা এবং শাই হোপ! ৩ নাম্বার ব্যাটিং পজিশনের জন্যে সময়ের সেরা ভিরাট কোহলি, ৪ এ রস টেইলর এবং ৫ নাম্বারে ইয়ন মরগান কে নিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। যথাক্রমে ৬ নাম্বারে সাকিব এবং পেইস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নিয়েছেন বেন স্টোকস কে! বোলিং ইউনিটে নিয়ছেন ৩ পেসার (স্টার্ক,ফার্গুসন, মোহাম্মদ শামি) এবং ১ জন স্পেশাল স্পিনার (কুলদীপ যাদব)।

Reviewer: Argha Majumder

Categories
Sports

সৌম্য সরকারের পেরিস্কোপ শট। 😍

ভারতের মাহিন্দ্রা সিং ধোনির হেলিকপ্টার শট, শ্রীলঙ্কার থিলকারত্নে দিলশানের দিল স্কুপ আমাদের সকলেরই পরিচিত। আমাদের সৌম্য সরকারের একটা বিশেষ শট আছে সেটাও অনেকে জানি। আর সেই শটটার নাম পেরিস্কোপ। পেরিস্কোপ শট এখন আমাদের কাছে একটা খুবই পরিচিত এবং পছন্দের ক্রিকেটিং শট। পেরিস্কোপ শটের আবিষ্কারক বাংলাদেশের বা-হাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার।

সৌম্য সরকারের প্রতিটি শটই হয় দেখার মতো। কিন্তু পেরিস্কোপ শটটা একটু অন্য রকম।
পেস বোলারের শর্ট বলটিকে উইকেট কিপারের মাথার উপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করা শটটাই পেরিস্কোপ শট। ক্রিকেটের ভাষায় এটা অনেক কঠিন একটা শট। তবে এই কঠিন শটটাকে কোনো ধরনের প্রেকটিস ছাড়াই প্রথমে খেলেছিলেন সৌম্য সরকার।

সময়টা ১লা ডিসেম্বর ২০১৪ সাল। মীরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে অভিষেক হয় সৌম্যর। অভিষেক ম্যাচে ৩নাম্বারে ব্যাটিং করতে নেমে ২০ বলে ১৮ রানের একটি ইনিংস খেলেন সৌম্য। এই ছোট্ট ইনিংস দিয়েই কোটি ক্রিকেট ভক্তের নজর কাড়েন সৌম্য সরকার।

পেরিস্কোপ শট নিয়ে সৌম্য সরকার বলেন, “আমি যখন প্রথম ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলি তখন ৩নাম্বারে ব্যাটিং করতে নামি তখন অল্প রান দরকার ছিল, আমি ঐদিন ২০ রান করে আউট হয়ে যাই। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি ওরা আমাকে দেখে থার্ডম্যান উপরে নিয়ে আসছে, ফাইন-লেগ উপরে নিয়ে আসছে! সবাইকে উপরে নিয়ে এসে স্লিপ, গালি, কাভারে দাড় করায়ে রাখছে! তারপর ওরা দেখি বাউন্সার করতেছে, আমি তখন ভাবলাম পুল শটটা খেলা যাবেনা! তারপর লক্ষ্য করলাম ওদের বলের পেসটাও অতটা বেশী না, তাই চিন্তা করলাম কিপারের মাথার উপর দিয়ে তুলে দেই। ওইদিনই আমি এই শটটা প্রথম খেলি এর আগে কখনো খেলিওনি এবং প্রেকটিসও করিনি।তারপর থেকে নিয়মিত প্রেকটিস করি। সুযোগ আসলে খেলি।”

Reviewer: Argha Majumder

Categories
Sports

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল কে নিযুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

করোনা ভাইরাসের এই সময়টাতে বিপদে পড়া বাংলাদেশের ক্রিকেটার হতে শুরু করে সাধারণ মানুষকেও সাহায্য করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বর্তমান ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান। নিজের সাধ্যমত করোনায় দুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ইতিমধ্যে তামিম মন কড়েছেন অগণিত মানুষের। তার এই সাহায্যের খবর জাতিসংঘের কাছেও গোপনীয় নয়।
তাই জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক জাতিসংঘ থেকে পেলেন দারুণ একটি সুখবর। তাকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

এ বিষয়ে তামিম ইকবাল খান নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক ভিডিও বার্তায় জানান, 
“আজ আমি বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম) জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি। আমি জাতিসংঘের সংস্থা ডব্লিউএফপি এর জাতীয় গুডউইল অ্যাম্বা‌সাডর হিসেবে নিযুক্ত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি
এই সংস্থাটি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার জন্য কাজ করে চলেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় মাত্রায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবুও দারিদ্র্যের হার এখনও প্রকট, বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে। চলমান কোভিড-১৯ মহামারী অনেকের জীবনকেই আরও বেশী সংকটময় করে তুলেছে। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করার আশা রাখি যাতে ডব্লিউএফপি ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করে সহযোগিতা প্রয়োজন এমনসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারে।”

অভিনন্দন তামিম ইকবাল খান।

Reviewer: Argha Majumder

Categories
Sports

স্টিফেন অ্যান্থনি বাকনর।

৩১ মে, ১৯৪৬ সালে জ্যামাইকার মন্টেগো বে এলাকার জন্মগ্রহণকারী সাবেক ও বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আম্পায়ার। ক্রিকেট জগতে তিনি স্টিভ বাকনর নামেই সর্বাধিক পরিচিত। তিনি উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক থেকে ক্রীড়াজগতে কোচ হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবল রেফারী এবং ক্রিকেট আম্পায়ার ছিলেন। ব্যাপকভাবে সম্মানিত এই আম্পায়ার ভয়ঙ্কর আঙুল উত্থাপনের আগে আলতোভাবে মাথা ঘোরানোর বৈশিষ্ট্য’র কারণে, “স্লো ডেথ বাকনর” নিকনেইম পেয়েছিলেন। তিনি ২০০২ সালে ডিকি বার্ডের ৬৬টেস্টে আম্পায়ারিংয়ের রেকর্ড ভাঙ্গার পর ২০০৫ সালে প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ১০০ টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের রেকর্ডও নিজের করে করেন।

বাকনর আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৭৮ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে। ২২১টি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট ম্যাচে আম্পায়ারিং করার পর ১৯৮৮ সালে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে আম্পায়ারিং শুরু করেন এবং এর একবছর পর স্টিভ বাকনরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক ঘটে ১৮ মার্চ, ১৯৮৯ সালে এন্টিগায় অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা পরিচালনার মাধ্যমে। এরপর ২৮ এপ্রিল-৩ মে, ১৯৮৯ সালে জ্যামাইকার কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে টেস্ট আম্পায়ারিংয়ে অভিষিক্ত হন । মাত্র ৪টেস্ট ও ১ ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারিং করার পরই অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আম্পায়াররূপে মনোনীত হন। তেমন অভিজ্ঞতা না থাকা স্বত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের ব্রায়ান অলড্রিজকে সাথে নিয়ে মূল ম্যাচে আম্পায়ারের গুরুদায়িত্ব পালন করেন।। এছাড়াও তিনি ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আম্পায়ার ছিলেন। তন্মধ্যে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিজ দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সবকটি বিশ্বকাপের ফাইনালেই তিনি আম্পায়ারিং করেছিলেন।

২০১১ সাল অবধি অবসর নেওয়ার কথা না থাকায় তাঁর ক্যারিয়ার আরও বাড়ানো যেত, তবে তাঁর শেষ বছরগুলিতে শাস্তিযুক্ত কাজের চাপ তার অবসরের পদক্ষেপ নিতে শুরু করে এবং কয়েকটি বড় ধরনের ত্রুটির মাধ্যমে নিজের নির্দোষ খ্যাতিকে কলঙ্কিত করেছিল। ভুল ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কম নয়, যার কারণে এপ্রিল ২০০৭ এ বিশ্বকাপের ফাইনালে আম্পায়ারিং করার পর তার ক্যারিয়ার শেষের পথে এসে দাঁড়ায় এবং সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তাকে স্থগিত করে দেয় আইসিসি । পরের মাসগুলিতে বিষয়গুলি ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে দ্বিতীয় টেস্টে ভারতকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরে পার্থে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যকার তৃতীয় টেস্টে তাকে আইসিসি কর্তৃক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেন যে, মার্চ ২০০৯ থেকে স্টিভ বাকনর আম্পায়ার হিসেবে আর মাঠে উপস্থিত থাকবেন না অর্থাৎ খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করবেন। তার সর্বশেষ আম্পায়ারিং টেস্ট ম্যাচ ছিল কেপ টাউনে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ৩য় টেস্টটি। একদিনের আন্তর্জাতিকে তার সর্বশেষ পদচারণা ঘটেছে ২৯ মার্চ, ২০০৯ তারিখে বার্বাডোসে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ৪র্থ ওডিআইয়ে। এর মাধ্যমেই তার বর্ণাঢ্য ২০ বছরের আম্পায়ারিং জীবনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে। তার চূড়ান্ত আম্পায়ারিং টেস্ট খেলা শুরুর পূর্বে আইসিসি কতৃক পুরস্কার প্রদান করা হয়। খেলার শুরুতে সকল স্তরের দর্শক এবং খেলোয়াড়গণ দাঁড়িয়ে তার প্রতি সশ্রদ্ধ অভিনন্দন ও সম্মাননা প্রদান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সর্বশেষ আম্পায়ারিং ম্যাচে তার সুদীর্ঘ ২০ বছরের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের স্মরণীকা বিশাল টেলিভিশনের পর্দায় উপস্থাপন করা হয়।

ক্যারিয়ারঃ 
বাকনর ১৯৮৯ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ১২৮টি টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন। 
এই সময়ে তিনি সর্বমোট ১৮১টি ওয়ানডে ম্যাচেও আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৯২ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ৫টি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সর্বমোট ৪৪টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আম্পায়ার, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি বিশ্বকাপ ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের বিরল রেকর্ড!
আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংয়ে অভিষেকের আগে ১৯৮৮ সাল থেকে মোট ১৭২টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন তিনি৷ 
এছাড়াও ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি সর্বমোট ২২১টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে আম্পায়ারিং করেন।

এর আগে ষাটের দশকে জ্যামাইকান পারিশ লীগে ফুটবল গোলকিপিং করতেন। এছাড়াও ১৯৮৮ সালে তিনি ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের একটি ম্যাচে মূল রেফারির দায়িত্ব পালন করেন।

অর্জনসমূহঃ
স্টিভ বাকনরের রয়েছে প্রথম আম্পায়ার হিসেবে ৫টি বিশ্বকাপে আম্পায়ারিংয়ের বিরল রেকর্ড, যার মধ্যে সবকটি বিশ্বকাপেরই ফাইনালে তিনি আম্পায়ার ছিলেন!
স্টিভ বাকনর প্রথম আম্পায়ার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে শত ম্যাচ আম্পায়ারিং করার রেকর্ড করেন।
আলীম দার নিজের করে নেয়ার আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আম্পায়ার হিসেবে সর্বোচ্চ টেস্ট ম্যাচে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড তার দখলে ছিলো।
২০০২ সালে আইসিসির আম্পায়ারিং এলিট প্যানেলে জায়গা করে নেন এই আম্পায়ার। 
২০০৭ সালে, বছরের সেরা আম্পায়ার লিস্টে নাম মনোনীত হয়েছিলো বাকনরের।
১০০ ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের জন্য তিনি আইসিসির পক্ষ থেকে ‘ব্রোঞ্জ বেইলস এওয়ার্ড’ লাভ করেন।
এরপর ১০০টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের জন্য তিনি আইসিসির পক্ষ থেকে ‘গোল্ডেন বেইলস এওয়ার্ড ‘ লাভ করেন। 
এছাড়াও ২০০৭ সালের অক্টোবরে ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘কমান্ডার ক্লাসে’ ‘অর্ডার অফ জ্যামাইকা ‘ বা ‘ওজে’ পদকে ভূষিত হন।

৬ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক সফল ও প্রশ্নবিদ্ধ আম্পায়ার আজ পা দিলেন ৭৪ বছরে।
৭৪তম জন্মদিনে রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।

শুভ জন্মদিন স্টিভ বাকনর।

Reviewer : Argha Majumder.

Categories
Sports

রাজ্জাক, সাকিবের দীর্ঘ সার্ভিসের কথা চিন্তা করেই অবসর নিয়েছিলেন বলে জানালেন মোহাম্মদ রফিক। 

ক্রিকেটের পথ চলায় বাংলাদেশ অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় পেয়েছে, কিছু পেয়ে হারিয়েছে আবার কিছু কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় এর ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি বলে ক্রিকেট প্রেমীদের একটা আক্ষেপের সুর দিন শেষে থেকেই যায়৷

১৯৯৫ সালে ওয়ানডে অভিষেক হলেও, টেস্ট ক্রিকেটে রফিকের পা বাংলাদেশের টেস্ট যাত্রার শুরুর দিকেই। বাংলাদেশের হয়ে সর্বপ্রথম টেস্টে ১০০ উইকেট নেওয়া এই বোলার নিজের ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে পেরেছেন প্রায় ১ যুগ। তবে চাইলেই হয়তোবা আরো কয়েকটা বছর নিজের ফিটনেসের সাথে তাল মিলিয়ে জাতীয় দলে খেলে যেতে পারতেন। 

সম্প্রতি বিডিক্রিকটাইমের লাইভ আড্ডায় মোহাম্মদ রফিক জানিয়েছেন কেনো তার ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি। এব্যাপারে রফিক জানান, “আমার বিদায়টা ভালোভাবে হয়নি। নির্বাচকরা আমাকে বলতো অবসর নিতে। অনুশীলনে গেলে বলতো তুমি অবসর নাও। তোমার জন্য আমরা দল ঠিক করতে পারছি না। আমি বলতাম দেখো, আমি তো পারফর্ম করেই দলে আছি। তারপরেও খুব বিরক্ত করতো। তখন আমি চিন্তা করলাম যে মানুষের কথা না শুনে আমি নিজেই অবসর নিয়ে নিই। তখনই অবসর নিয়ে নিলাম।”

এব্যাপারে তিনি আরো জানান বোর্ডের সাথে বিরোধের জন্যে অবসর নেননি তিনি। তিনি অবসর নিয়েছি তরুন সাকিব এবং রাজ্জাকদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যে।

রফিক বলেন, “আসলে বিরোধ কিছু না। দেখা যায় আমার জায়গায় আমার সাকিব ভালো খেলছে, আব্দুর রাজ্জাক বসে থাকছে কিংবা কখনো সাকিব বসে থাকছে আর আমি নিয়মিত খেলছি। ওই জায়গাটা চিন্তা করে দেখলাম, সাকিব কিংবা আব্দুর রাজ্জাক যদি আমার থেকে দুই বছর বেশি খেলতে পারে ওই চিন্তাটা করেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিলাম। ওরা কিন্তু দীর্ঘ সময় খেলছে। আমি যদি খেলতাম দেখা যেত এখান থেকে যেকোন একজন বাদ পড়ত।”

মোহাম্মদ রফিক খেলোয়াড় হিসেবে যেমন বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ কে পরিচয় করিয়ে দিতে একটুও কার্পন্য করেননি তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে, ঠিক তেমনি দেশের এবং জুনিয়রদের ভালো চিন্তায় তিনি নিজ থেকেই সরে গিয়েছিলেন জাতীয় দলের লাইম লাইট থেকে। যার সুফল আমরা সাকিব-রাজ্জকের বোলিং থেকে পেয়েছি বিগত বছর সমূহে। ক্রিকেট থেকে প্রাপ্ত সম্মান না পেলেও আপনি আমাদের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সবসময় থাকেন।

Reviewer : Argha Majumder

Categories
Sports

আফগানিস্তান ও ভারতের বিরুদ্ধে সূচী চূড়ান্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। 

২১ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার পার্থে প্রথমবারের মতো মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান। আর ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে দিয়েই করোনার মধ্যেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্দা উঠবে ক্রিকেটের।

এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার আফগানিস্তান ও ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের সূচীঃ

অস্ট্রেলিয়া-আফগানিস্তান (একমাত্র টেস্ট)- ২১-২৫ নভেম্বর, পার্থ (দিবারাত্রি)

অস্ট্রেলিয়া-ভারত (১ম টেস্ট)- ৩-৭ ডিসেম্বর, গ্যাবা
অস্ট্রেলিয়া-ভারত (২য় টেস্ট)- ১১-১৫ ডিসেম্বর, অ্যাডিলেড (দিবারাত্রি)
অস্ট্রেলিয়া-ভারত (৩য় টেস্ট)- ২৬-৩০ ডিসেম্বর, মেলবোর্ন
অস্ট্রেলিয়া-ভারত (শেষ টেস্ট)- ৩-৭ জানুয়ারি, সিডনি

Categories
Sports

জাতীয় দলে তিন ফরম্যাটে নিয়মিত হতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দিকে চোখ আমিনুল ইসলাম বিল্পবের।

লেগস্পিন, এই শব্দের প্রতিচ্ছবি আপনার সামনে এলেই চোখের কোনে এক চিলতে উঁকি দিতে পারে তারকাখচিত কিছু ব্যাক্তির ২২ গজে ঘূর্নির মায়াজাল! উইকেটের দুই দিকে বিভিষিকাময় ঘূর্নির জাদুতে কিছু লেগ স্পিনাররা নিজের নামে প্রলেপ এঁকেছেন ঘূর্নি জাদুকর নামেও! স্পিন নামক শিল্প টা কে শৈল্পিক রূপে রূপান্তরিত করতে ক্রিকেট বিশ্বে একে একে আবিষ্কার হয়েছে অনেক লেগ-স্পিনার। সে অর্থে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ছিলো একজন টিপিক্যাল লেগস্পিনারের অভাব। অভাব ঘুছাতে বর্তমান আধুনিকায়নে অলক কাপালি, জোবায়ের লিখনের পর ত্রাতা হয়ে আসেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব!

সম্প্রতি বিডিক্রিকটাইমের সাথে আলাপকালে জাতীয় দলের এই লেগি জানান জাতীয় দলে নিয়মত হতে চান তিন ফরম্যাটেই। এজন্যে নিয়মিত পারফর্ম করতে হবে বলেও জানান আমিনুল!

আমিনুল বলেন, “আমি যেহেতু টি-টোয়েন্টি খেলতেছি সেখানে আমি প্রত্যেকটা ম্যাচে কি করতেছি এটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাজ নিয়মিত ভালো পারফর্ম করে যাওয়া। তখন হয়তো তারা (বোর্ড) ব্যাপারটা মাথায় নিবে, ভাববে নিয়মিত ভালো করে যাচ্ছে, তো ওকে ওয়ানডে বা টেস্টে সুযোগ দেওয়া যায়।”

আমিনুল এব্যাপারে আরো যোগ করেন, “এই জিনিসটা তাদের চিন্তা করানোর জন্য আমার যে কাজটা, নিয়মিত ভালো খেলতে হবে। আমি যখন নিয়মিত ভালো খেলতে থাকবো, তখন আমাকে নিয়ে ভাববে। আমি চেষ্টা করতেছি নিজের সেরাটা দিয়ে যেন ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি। যাতে ওয়ানডে আর টেস্ট ফরম্যাটে নিয়মিত খেলতে পারি।”

এমনকি আমিনুল এসময় আরো জানান জাতীয় দলে তিন ফরম্যাটে নিয়মিত হতে প্রিমিয়ার লিগের দিকে দৃষ্টি ছিলো আমিনুলের। করোনা পরিস্থিত শেষে লিগ শুরু হলে নজর থাকবে ভালো কিছুর দিকে বলেও জানান আমিনুল!

বিপ্লব জানান, “আমি তো জাতীয় দলে শুধু টি-টোয়েন্টি খেলি। তো আমার অন্য ফরম্যাটে খেলার সুযোগ আসে না। আসলে প্রিমিয়ার লিগেই দৃষ্টি ছিল। প্রিমিয়ার লিগ আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নির্বাচকরা আমাকে দেখছেন। ওয়ানডেতেও ঘরোয়া লিগে দেখছেন, কিন্তু এখানে দেখার আরও জায়গা আছে। লিগ আবার শুরু হলে সেখানে ভালো করার চেষ্টা করব।”

Reviewer: Argha Majumder

Categories
Sports

একজন খালেদ মাসুদ পাইলট…

বাংলাদেশ ক্রিকেটের বেশকিছু ভালো খারাপ দিন দেখেছেন পাইলট খুব কাছ থেকে। সেই ১৯৯৫ থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাথেই। ১৯৭৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী বরেন্দ্রভূমি রাজশাহীতে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটারকে অপছন্দ করে এমন লোক খুব কমই আছেন। তবে অনেকেই তার ক্রিকেটীয় জীবনের ব্যাটিং পরিসংখ্যান দেখে গড় নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। টেস্টে ১৯.০৪, ওয়ানডেতে ২১.৯০ গড়ধারী এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান বাংলাদেশের হয়ে কিছু এমন অবদান রেখেছেন যেগুলো কখনই ভুলার মত নয়।

পাইলটের ক্রিকেটে আসাটা ছিল অনেক অভাবনীয়। পাইলটের বাবারা ছিলেন ৭ ভাই। সবাই খেলতেন ফুটবল। পাইলটের বাবা শামসু মাসুদ ১৯৭৭ সালে আবাহনীকে ঢাকা লিগ জিতাতে রেখেছিলেন ভূমিকা। এসবের জন্য স্বাভাবিকভাবেই পাইলটের টান ছিল ফুটবলের প্রতিই বেশি। তবে ১৯৮৭ সালে হঠাৎই যেন বদলে গেলো সব। ১৯৮৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় রাজশাহীর জেলখানা মাঠে অনুষ্ঠিত মিঠু স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সবাইকে চমকিয়ে দিয়ে ক্লাস সেভেনে পড়া পাইলট রাজশাহী স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ পেলেন৷ এই টুর্নামেন্টটা ছিল সেসময় অনেক জনপ্রিয়। সুযোগ পেয়ে কাজেও লাগিয়েছিল সদ্য কৈশোরে পা ফেলা পাইলট। প্রথম ম্যাচেই করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। এবং সে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছিলেন। ডুমিন্ডা নামের শ্রীলঙ্কার একজন বোলার ছিলেন সেসময় জনপ্রিয়। ঢাকার ব্যাটসম্যানরা তার সামনে নাকানিচুবানি খেতো। সেই ডুমিন্ডাকেই এক ম্যাচে নাকানিচুবানি খাইয়ে ৯৪ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেছিলে পাইলট তখনই সর্বত্র উচ্চারিত হতে লাগলো তার নাম। ডাক পেলেন ঢাকা থেকে। ঢাকার ক্রিকেটে শুরুটা ওয়ারীর হয়ে করলেও পরে তিন বছর তিনি মাঠ মাতান কলাবাগানের হয়ে। সাথে খেলেছিলেন জনপ্রিয় দুই ক্লাব মোহামেডান এবং আবাহনীর হয়েও।

১৯৯৩ সালে ডাক পান অনুর্ধ ১৯ দলে। এরপর ১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ড এ দলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি তুলে নজরে আসেন জাতীয় দলের নির্বাচকদের। ১৯৯৫ সালের শারজাহ কাপে ওয়ানডেতে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় পাইলটের। এরপর ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ছোট-বড় প্রায় সব অর্জনেই নাম ছিল পাইলটের। ১৯৯৭ সালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সব থেকে বড় অর্জন আইসিসি ট্রফি জেতার পিছনেও আছে এই পাইলটের অবদান। সেই ম্যাচের লাস্ট ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। শেষ ওভারের প্রথম বলেই ৬ মেরে ম্যাচটাকে বাংলাদেশের হাতের নাগালে নিয়ে আসেন পাইলট। শেষ পর্যন্ত ৭ বলে ১৫ রান করে ঐতিহাসিক সেই ম্যাচে অপরাজিত থাকেন পাইলট। এছাড়াও সে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচে ৭০ রানের এক ইনিংস খেলে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন তিনি।

আচ্ছা কখনো কি মনে এই প্রশ্ন এসেছে যে বাংলাদেশের হয়ে সর্বপ্রথম সিরিজ সেরা হয়েছিলেন কোন খেলোয়াড়? এই প্রশ্নের উত্তরটাও হলো খালেদ মাসুদ পাইলট। ২০০২ সাল, তখন বাংলাদেশ বিশ্বক্রিকেটে নবাগত একটি দল মাত্র৷ সেই সালে দলটি গেছিলো শ্রীলঙ্কা সফরে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ তবে সে সিরিজে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছিলেন বাংলাদেশের ততকালীন কাপ্তান খালেদ মাসুদ পাইলট। তিনি সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন না, ৩ ম্যাচের একটিতেও হননি ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ। তাও সিরিজ সেরার পুরস্কার তার হাতে গেছিলো মূলত লড়াকু মানসিকতা ও অধিনায়কত্বের জন্য।

ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্টেও দেশের হয়ে অবদান রেখেছেন পাইলট। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দলীয় প্রয়োজনে সাবধানতার সাথে টুকিয়ে টুকিয়ে ব্যাটিং করছিলেন পাইলট এসময় সৌরভ গাঙ্গুলি এসে বলেন, “এত বিরক্তিকর ব্যাটিং তোমরা কোথায় থেকে শিখেছো?” জবাবে পাইলট বলেন, “তোমাদের সুনীল গাভাস্কারের কাছ থেকে। তিনি তো ৬০ ওভার মাঠে টিকে ১৭৪ বল খেলে তুলেছিলেন মাত্র ৩৬ রান! মনে নেই?”

মাঠে কেউ স্লেজিং করে অসম্মান করতে চাইলে তার উত্তর বেশ ভালোই দিতেন পাইলট।

এছাড়াও ২০০৪ সালে উইন্ডিজের বিপক্ষে উইন্ডিজের মাটিতেই সেঞ্চুরি আছে তার। সে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের অবস্থা ছিল অনেক বাজে ১২৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসেছিল বাংলাদেশ। ১০৩ রানের এক ইনিংস খেলে সে ম্যাচ ড্র করাতে ভূমিকা রাখেন পাইলট।

শুধু কি দলের জন্যই অবদান রেখেছেন পাইলট? এমন কিন্তু নয়। দলের খেলোয়াড়দের জন্য অনেক সময় অনেক কিছুই করেছেন পাইলট। বর্তমানে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ভরসার নাম মুশফিকুর রাহিমকে টেস্ট দলে জায়গা দিতে নিজে স্ব-ইচ্ছায় দলের বাহিরে বের হয়ে যান পাইলট। সে টেস্ট ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন মুশফিক। এ প্রসঙ্গে পাইলট বলেন, “শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে উইকেট যেহেতু ফ্ল্যাট, এখানে দেড়-দুই দিন ব্যাটিং করে ফেলতে পারলে টেস্ট ড্র করার একটা সুযোগ তৈরি হবে। আমার কাছে মনে হয়েছিল আমার বদলে মুশফিক ম্যাচটাতে ভালো খেলবে।”

এছাড়াও পাইলট কখনও চাইতেন না সতীর্থদের ছোট করতে। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোন এক সিরিজে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়েছিল নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে। কিন্তু টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করবেন পাইলট। তবে পাইলট সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমি খুব খুশি হব, যদি এই সিরিজে দুর্জয়কে রেখে পরের সিরিজে আমাকে অধিনায়ক করা হয়। কারণ এভাবে সিরিজের মাঝপথে কাউকে ছুড়ে ফেলাটা ভীষণ অসম্মানজনক।” তবে সেইবার পাইলটের কথা শুনেনি টিম ম্যানেজমেন্ট তাকেই করা হয়েছিল ওয়ানডে সিরিজের অধিনায়ক।

এরপর ২০০৩ এ পাকিস্তান সফরে শেষ টেস্টে খালেদ মাহমুদ সুজনের জায়গায় পাইলটকে অধিনায়কত্বের প্রস্তাব দিলে তিনি শক্তভাবে সেটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, “আমি আর নেব না। কারণ আমাকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। দুর্জয়কে বাদ দেওয়ার সময় আমার খুব খারাপ লেগেছিল। আপনাদের কাছে অনুরোধ, পারলে সুজনকে এই অসম্মানটা করবেন না।”

কিপার হিসেবেও ছিলেন পাইলট দুর্দান্ত। উইকেটের পিছন থেকে ৪৪টি টেস্ট ম্যাচে ৮৭ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন। এবং ওয়ানডেতে ১২৬ ম্যাচে ১২৬ ব্যাটসম্যানকে।

এছাড়াও খালেদ মাসুদ পাইলটের আছে নিজস্ব ক্রিকেট একাডেমি। সে একাডেমির অনেক ছাত্রই অনুর্ধ ১৯ সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেলছেন।

৪৪টি টেস্টে মাত্র ১৯.০৪ গড়ে ১৪০৯ রান এবং ওয়ানডেতে ১২৬ ম্যাচে ২১.৯ গড়ে ১৮১৮ রান করা পাইলটকে পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করাটা অনুচিত।

Reviewer: Argha Majumder

Categories
Sports

মাশরাফি, সাকিবের পর এবার ফাউন্ডেশন গড়ার ঘোষণা দিলেন মুশফিকুর রহিম।

মুশফিকের ফাউন্ডেশনের লোগো ডিজাইন করতে পারবেন ভক্তরাই। চূড়ান্ত লোগো বাছাই করবেন মুশফিক। সেরা ৫ ডিজাইনার মুশফিকের সাথে পাঁচ তারকা হোটেলে ডিনারের সুযোগ পাবেন। যার লোগো চূড়ান্ত হবে, তিনি পাবেন মুশফিকের স্বাক্ষরিত জার্সি।

নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে মুশফিক এই ঘোষণা দেন।

নীচের ধাপগুলো অনুসরন করে লোগো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন আপনিও।

প্রথম ধাপ: ‘MR15’ নিয়ে একটা লোগো তৈরী করুন আপনার পছন্দ মত। যেখানে মুশফিকুর রহিমের কোন উদযাপন, শট যে কোন কিছু থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কোন রংয়ের ব্যাপার নেই।

দ্বিতীয় ধাপ: নীচের লিংকটা দিয়ে প্রবেশ করে ইমেইল দিয়ে সাইন ইন করুন: https://forms.gle/Q2R8R7TksQ6KHNJv7

তৃতীয় ধাপ: নিজের পুরো নাম, আপনার ফোন নাম্বার, ফেসবুক আইডির ইউআরএল, ই মেইল অ্যাড্রেস লিখবেন।

চতুর্থ ধাপ: আপনার লোগোর ডিজাইনটি JPEG অথবা PNG ফরম্যাটে পাঠান।

এই প্রতিযোগিতাটি ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত চলবে।

১৫ বছর পূর্তিতে মুশফিকের ‘বিশেষ ঘোষণা’

Categories
Sports

টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে একমাত্র উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান যিনি দুইটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন।

মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক ভরসার নাম।সে তার মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য স্থানে।কখনো ব্যাট হাতে কখনো বা উইকেটের পেছনে দাড়িয়ে দলের বিপদে হাল ধরেছেন।তবে উইকেটের পেছনে দাড়িয়ে তিনি বেশ কয়েকবার ভিলেনও হয়েছেন।

যাক এসব কথা আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব মুশফিকের টেস্টের তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি।যা টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে একমাত্র উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ তিন ডাবল হান্ড্রেড করেছেন তিনি।

লকডাউনে অন্য সবার মতো বন্ধ মুশফিকুর রহিমের অনুশীলনও। বিসিবির নেট বোলারদের সাথে বাড়তি বোলাররা বল ছুঁড়ে ক্লান্ত হলেও তিনি শান্ত হতেন না। কঠোর পরিশ্রমের ফল পেতেন মাঠে। বর্তমান বাংলাদেশের সব ফরমেট মিলিয়ে সবচেয়ে ধারাবাহিক মুশফিকের ব্যাট। ২০০৫ সালের ২৬ মে টেস্টে অভিষেক হয়েছিল ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসে। নিজের দেড় দশক ক্যারিয়ারে গড়েছেন অনেক রেকর্ড। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের সাথে তুলে নেন নিজের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি।

তামিমকে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক মুশফিক। ৭০ টেস্টে ৭ সেঞ্চুরিতে মুশফিকের সংগ্রহ ৪৪১৩ এবং ৬০ টেস্টে তামিমের রান ৪৪০৫।এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট ৫টি ডাবল সেঞ্চুরি, যার তিনটিই মুশফিকের। বাকি দুই ডাবল সেঞ্চুরির মালিক সাকিব আল হাসান (২১৭) ও তামিম ইকবাল (২০৬)। ইতিহাসের একমাত্র উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিক। বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ১০ ঘণ্টা ক্রিজে থাকার রেকর্ডটিও ছোট গড়নের মুশফিকের।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে তার রান যথাক্রমে ৬১১৭ ও ১২৮২। নিজের ক্যারিয়ারে বল তালুবন্দী করেছেন মোট ৩১৮বার। আর স্ট্যাম্পিং করেছেন ৮৮বার। মুশফিকের এতো অর্জনের মধ্যেও কালিমা লেপে দিয়েছে বিগ ম্যাচের দুর্বল কিপিং।

সমালোচকদের আঙ্গুল বারবার উঠেছে তার দিকে। বাংলাদেশের সাবেক উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদ পাইলট জানান, মুশফিকের ব্যাটিং দলের জন্য জরুরী। এখন দলে যেহেতু লিটন নিয়মিত তাই কিপিং এর বাড়তি চাপ না নিয়ে নিজের ব্যাটিয়ে আরো যত্নবান হলে মুশফিক ও দল দুয়ের জন্যই ভাল হবে।

আমার দেখা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এখন অব্দি সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার মুশফিক। সেটা বলার আর অবকাশ রাখে না।আমরা যারা ক্রিকেটপ্রেমী আছি সেটা সবারই কমবেশি জানা।

আশা রাখি মুশফিক যখন তার ক্যারিয়ারের ইতি টানবে তখন আরো এমন রেকর্ডের জন্ম দেবে।শুভ কামনা রইল মুশির জন্য।❤

Reviewer: Argha Majumder