Categories
Sports

সুনীল ফিলিপ নারাইন

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা মিস্টিরিয়াস স্পিনার৷ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের হট কেক। ক্যারম বল, নাকল পুশেস বা স্কিডার্সে ২২গজে ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তোলেন এই অফ স্পিনার। একই ওভারে ছয় রকমের ডেলিভারি করতে পারেন নারাইন। এছাড়াও বাম হাতে ব্যাটিংও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন এই ক্যারিবিয়ান। বিশ্বের এখনো তাবড় তাবড় ব্যাটসম্যানরা তার বল খেলতে ভয় পান। নারাইন যে দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন টি-টোয়েন্টিতে তাদের সবসময় অ্যাডভান্টেজ তার করা চার ওভার। 

২০০৯ সালে নজর কাড়েন নারিন। একটি ট্রায়াল ম্যাচে নারিন একাই একটি ইনিংসে দশ উইকেট তুলে নেন। ওই ম্যাচে নারিনের বোলিং ফিগার ছিল ১০-৫৫। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্সের জন্যই ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগো দলে সুযোগ পান নারিন। 
২০১৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে অর্থাৎ CPL এর একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সুনীল নারিন সুপার ওভার বল করতে গিয়ে একটিও রান না দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেন। ম্যাচটি হয়েছিল রেড স্টিল বনাম গায়না আমাজন ওয়ারিয়রস এর মধ্যে।
প্রথমে রেড স্টিল ব্যাট করে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে ১১৮ রান তোলে জবাবে গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়ার্স ব্যাট করতে নেমে ম্যাচটি ড্র করে ফেলে। এরপর সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করতে নামে অ্যামাজন ওয়ারিয়রস, তারা রেড স্টিলের সামনে ১২ রানের টার্গেট রাখে।

এরপর রেড স্টিল সুপার ওভারে ব্যাট করতে নামে আর বল হাতে ছিলেন সুনীল নারিন আর ব্যাট হাতে ছিলেন নিকোলাস পুরান যিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয় সেই ওভারে। সুনীল নারিন এর প্রথম চারটি বল নিকোলাস পুরান খেলতে ব্যর্থ হন এবং কি বলের সাথে ব্যাটের সংযোগ করতেই পারেন নি।শেষ দু বলে দরকার থাকে ১২ রান, সুনীল নারিনের পঞ্চম বলে হিট করেন নিকোলাস পুরান। কিন্তু মার্টিন গাপটিল এর হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের ফিরতে হয় পুরানকে। শেষ বলেও ব্যর্থ হন রস টেইলর। এর ফলে সুনীল নারিনের দল ম্যাচটি জিতে যায়। আর সেইসাথে সুপার ওভারে মেডেন নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন এই মিস্টিরিয়াস স্পিনার। 

এরপরই টি-টোয়েন্টিতে সাড়া ফেলে দেয় নারাইন। একজন ট্যাক্সি চালকের ছেলে রাতারাতি তারকা হয়ে যায় বিশ্ব ক্রিকেটে। তাকে দলে নিতে বিশ্বের সব টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের বড় বড় দলগুলো মুখিয়ে থাকে। ২০১১ সালে ভারতের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক নারাইনের। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে এখনো পর্যন্ত ৬৫ টি ওয়ানডে ৫১টি টি-টোয়েন্টি ও ৬ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন নারাইন। ৬৫ ওয়ানডে তে মাত্র ৪.১৩ ইকোনমি তে ৯২ উইকেট ৫১ টি-টোয়েন্টি তে ৬. ০২ ইকোনমি তে ৫২ উইকেট ও টেস্টে ৬ ম্যাচে ২১ উইকেট নেন এই অফ স্পিনার। 

২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তার বোলিং একশন সন্দেহ হয়। এরপর ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেয় সুনীল নারাইন । পরে সুনীল নারাইন আইসিসির পরীক্ষাগারে বোলিং একশন শুধরে এলেও এখন তার বোলিং এ আগের মত ধার পাওয়া যায়না। তবে বোলিংয়ে ধার কমলেও ব্যাটিংয়ে ধার বাড়িয়ে এখন পুরো বিশ্বে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে বেড়ান এই ক্যারিবিয়ান। বিপিএলেও বরিশাল, কুমিল্লা ও ঢাকার হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন নারাইন। 

১৯৮৮ সালের আজকের এই দিনে রহস্যময় এই অফ স্পিনারের জন্ম হয় ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর অরিমাতে। জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো তার জন্য। 

শুভ জন্মদিন সুনীল নারাইন 🎂

Categories
Sports

গ্রীষ্মের প্রখরতার মাঝে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেবার ক্রিকেটের তীর্থভূমি ইংল্যান্ডে যাত্রা করেছিল। যাত্রাটি হয়তো অন্যসব যাত্রার মতো হয়েই রয়ে যেত যদি না লিকলিকে গড়নের, ছোটখাটো, সদা হাস্যজ্জল ১৬ বছরের বগুড়ার এক দুরন্ত কিশোর সেবার অভিযাত্রী হতো। 

দেশের হয়ে খেলা প্রতিটি প্লেয়ারের সারাজীবনের লালিত স্বপ্ন হলেও সে যাত্রায় ছেলেটি গিয়েছিল শুধু শিখতে। এত কম বয়সে জাতীয় দলের হয়ে ইংল্যান্ডের মতো প্রতিষ্ঠিত দলের বিপক্ষে তার ডেব্যু হবে সেই বিলাসী স্বপ্নে ভেসে যায়নি ছোট্টখাট যুক্তিবাদী মানুষটি। প্রস্তুতি ম্যাচে খারাপ করার পর তা তো এক প্রকার নিশ্চিতই হয়ে যায়। তবে ম্যানেজমেন্টের ভাবনা ছিল ভিন্ন মেরুতে। ম্যানেজমেন্ট হয়তো তার মধ্যে কিছু একটা দেখেছিলেন। 

তাই হয়তো সাহসিকতায় বলিয়ান হয়ে সেই সিরিজের বনিয়াদি ফর্মেটের প্রথম ম্যাচে থ্রী-লায়ানসের বিপক্ষে লর্ডসের পুণ্যভূমিতে বাংলাদেশের নতুন প্রতিনিধি ১৬ বছরের কিশোরকে নামিয়ে দেন। প্রথম ম্যাচে ১৯ রান একজন নায়কের আগমনের কথা না বললেও, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রায় দেড় ঘন্টা টিকে থাকা যেন নতুন যুগের সূচনাকারীর বার্তা দিচ্ছিল, বাংলাদেশের হয়ে লড়ে যাওয়া নতুন দিনের সৈনিকের বার্তা দিচ্ছিল, বিশ্ব ক্রিকেটে লাল-সবুজের অদম্য যুগের অন্যতম প্রতিনিধির প্রথম পদক্ষেপের বার্তা দিচ্ছিল। বিশ্ব ক্রিকেটে রাজৈসিক মঞ্চ লর্ডসে আজ সেই মহানায়কের ১৫ বছর, বিশ্ব ক্রিকেটে পদার্পণের আজ মুশফিকের ১৫ বছর।

ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ১৬ বছরের একটি ছেলেকে দলের সাথে নেয়া তখনকার বিবেচনায় সাহসিক সিদ্ধান্ত বটে, যা ১৫ বছর পর আজকের দিনে পিছনে ফিরে দেখলে সেই সিদ্ধান্তকে একটি মহা-গাঁথা লেখার প্রারম্ভ বলে মনে হয়।

১৫ বছরের একটি মহা-গাঁথা যার প্রথমপৃষ্ঠা জুড়ে ম্যানেজমেন্টের হাতের অমূল্য স্পর্শ থাকলেও বাকি প্রতিটি পৃষ্ঠা মি. ডিপেন্ডেবল তার নিজ হাতের কোমল ছোঁয়ায় অমরত্ব দিয়েছেন। স্বর্ণাক্ষরে যা ইতিহাসে লেখা। যে রাজত্বের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মুশফিকের মাহাত্ত্ব। ০৭-এ ইন্ডিয়াকে বধ করার বীরকাব্য যেমন আছে, আছে ছোট্ট ব-দ্বীপের প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে লঙ্কায় প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নিজেকে পরিচয় করে দেয়ার রাজকীয় কাব্য, কিংবা ২১৪ চেজ করার অমর গাঁথা, দেশের জন্য আরব-আমিরাতে আহত তামিমকে নিয়ে ৩২ রানের এক উপন্যাস, যে উপন্যাসের সবকটি রান তারই দখলে, এ শুধু রাজকীয় কাহিনী নয়, এ বাংলার সর্বকালের সেরা উইকেটকিপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এক রাজার গল্প।

|| প্রতিভার মাঝে লড়ে যাওয়া পরিশ্রমের ১৫ ||
|| শৃঙ্খলার ১৫ ||
|| ভরসার ১৫ ||
|| বিশ্বদরবারে বাংলাকে নতুন করে পরিচয়ের ১৫ ||
|| রাজকীয়তার ১৫ || 
|| মুশফিকের ১৫ ||

Reviewer: Argha Majumder